Ex বয়ফ্রেন্ড [Part-02]

লেখকঃ সিয়াম হোসেন

( কিছু কারনে গল্পের নায়েকার নাম পরিবর্তন । ( নিলা-রিমা,নিলিমা- রিয়া)

.
– এই সিয়াম কইরে তুই ( ভাই ডাকছে)
শালা রুমের মধ্য একটু শান্তিতে ঘুমিয়েও থাকতে দেবে না । নিজে আমার গার্লফ্রেন্ড কে বিয়ে করতে চলেছে । কোথায় একটু তাকে দেখে আসার পর মন খারাপ করে কান্না করবো কিন্তু কিছুই অনুভুতি হচ্ছে না মনের ভিতরে । পাথর হয়ে গেলাম নাকি আবার । 
– কিরে সিয়াম কই তুই ( ভাই)
– কি হয়েছে এতো ডাকছিস কেনো ( আমি রাগী কন্ঠে)
– কি হয়েছে রাগ করছিস কেনো ( ভাই)
– নিজে তো বিয়ে করে নিবি আমার কি হবে । ( আমি)
– তোরও হয়ে যাবে জানিস আমার না খুব পছন্দ হয়েছে রিমা কে ( ভাই লজ্জা পেয়ে)
– দেখ ভাই তুই সব দিক দিয়েই ঠিক আছিস কিন্তু এতো লজ্জা কোথা থেকে আসে তোর ভাবির সামনে দেখলাম লজ্জায় লাল হয়ে গিয়েছিলি । ভাবির থেকে তোরই লজ্জা বেশি । তোর লজ্জা দেখে ভাবির মুখ কেমন হয়েছিলো জানিস ( আমি)
– কেমন 
– একদম চুশে খাওয়া কমলার মতো (আমি)
ভাই কিছু না বলে মাথাটা নিচু করর ফেললো । হয়তো কিছুটা অপমান বোধ করছে 
– দেখ ভাই তোর এই লজ্জাটা একটু কমাতে হবে দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে । ( আমি)
– হুমম 
চলে গেলো ওর রুমে । ভালো লাগছে না । কেনো যে আবার রিমার সাথে দেখা হতে গেলো । ঠিক আছে এর প্রতিশোধ তো আমি নিবোই ২ বছর আগে আমাকে অনেক জ্বালিয়েছে আমার পকেটও ফাকা করছে সেটা সুদে আসলে এখন শেষ করবো দেখি কি করে । ভালো লাগছে না তাই বাইরে চলে এলাম ।

– কিরে আশিক কেমন আছিস ( আমি)
– এই ভালো তুই ( আশিক)
– এই চলছে 
– তোর ভাইয়ের জন্য মেয়ে দেখতে গেলি পছন্দ হয়েছে । ( আশিক)
– পছন্দ কি হবে তাকে তো আমি হাড়েহাড়ে চিনি ( আমি)
– মানে 
– সে আর কেউ নয় রিমা ( আমি)
– বলিস কি ( অবাক হয়ে )
– অবাক হবার দরকার নেই ২ বছর পর যেহেতু পেয়েছি প্রতিশোধ তো নিবোই ( আমি)
– মানে কি তুই না ওকে ভালোবাসিস ( অাশিক)
– সেটা দুই বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে যখন ও আমাকে ছেড়ে দিয়েছিলো ( আমি)
– তাহলে কি করবি ( আশিক)
– দেখতে থাক কি করি ( আমি)
– আচ্ছা 
-আচ্ছা থাক আমি গেলাম ভালো লাগছে না । ( আমি)
সেখান থেকে চলে এলাম । ভাবছি রিমার সাথে কি ভাবে প্রতিশোধ নেওয়া যায় । ও তো আমার সাথে ইমোশন নিয়ে খেলা করছে তাহলে কি আমিও ওর সামনে ওর বোনের সাথে প্রেম করে ইমোশন নিয়ে খেলবো । না এটা ঠিক হবে না ওর বোনকে কষ্ট দেওয়ার কোনো মানেই আমি দেখি না । কারণ কারও ইমোশন নিয়ে খেলাটা কতটা কষ্টের সেটা আমি বুঝেছি । তাহলে কিভাবে করবো আবার বেশি কিছু করলেও তো রিক্স আছে । একেতে ভাইয়ের সাথে বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে যদি আব্বু যেনে যায় কেলেঙ্কারি বেধে যাবে । তার থেকে বরং নিরবেই শাস্তি দিবো কিন্তু সেটা কিভাবে । বসে বসে এসব ভাবছো হঠাৎ সামনে দিয়ে দেখি রিমা আর ওর বোন কোথায় যেনো যাচ্ছে । 
– আরে ভাবি কোথায় যাচ্ছেন ( আমি)
রিমা অবাক চোখে আমার দিকে তাকালো কথাটা কি সত্যিই বলেছি কিনা । 
– এই ঘুরতে বের হয়েছি ছোট বোনকে নিয়ে আপনি এখানে ( রিমা)
– আপনার মতো আমারও একই অবস্থা ( আমি)
– তা তুমি একা কেনো তোমার ভাই কোথায় ( রিমা)
– ভাবি বিয়ে তো করবেনই তারপর দেখেন এখন দেখার কি দরকার নাকি ভাইয়ার প্রেমে পড়ে গিয়েছেন ( আমি)
রিমা কিছু বললো না । জানি না কি ভাবছে । রিয়া দেখি রিমার গা ঘেষে কানে কানে কি যেনো বলছে । রিয়াটাও দেখতে খারাপ না । কিন্তু কেনো জানি না ওর চিন্তা মাথায় আনতে পারছি না হয়তো সামনে থাকা লোকটাকে এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি তাই হয়তো । যাই হোক ওতো ভেবে কাজ নাই আগে প্রতিশোধ নিমু । 
– চুপ এক থাপ্পর দিয়া দাঁত ফালাই দিবো ( রিমা)
রিমার এমন কথা শুনে হচককিয়ে উঠলাম । 
– কি হয়েছে আমার ভাইয়ের শালীকে এভাবে ধমক দিচ্ছেন কেনো ভাবি ( আমি মজা করে)
– এমনি আচ্ছা আমরা এখন যাই ( রিমা)
– যাবেন কেনো ভাবি ঘুরতেই তো বেরিয়েছেন চলেন এক সাথেই ঘুরি (আমি)
রিমা কিছু বললো না । বুঝলাম সম্মতি আছে । তিন জনেই‌ রাস্তার পাশ দিয়ে হাটতেছি । কিছুদূর যেতেই দেখি একজন চটপটি ও ফুচকা বিক্রেতা । 
– আপু চলনা ফুচকা খাই ( রিয়া)
আমি জানি রিমা রাজি হবে কারণ মেয়েটা সম্পূর্ণ ফুচকা পাগলি আমার কত টাকা যেয়ে শেষ করেছে হিসাব নেই । রিমা একবার আমার দিকে তাকিয়ে সামনে হাটতে লাগলো 
– কি হলো ভাইয়া আপনি দাড়িয়ে থাকলেন কেনো আসুন ( রিয়া)
– না তোমরা খাও আমি খাবো না ( আমি)
– ভয় নেই আপনাকে বিল দিতে হবে না যা দেবার আপুই দিবে ( রিয়া)
– বলছে যখন আসুন বিলটা আমিই দিবো ( রিমা)
মনে মনে একটা পৈশাচিক হাসি দিলাম এটাই তো চেয়েছিলাম আমি । তিনজেনই ফুচকা খাচ্ছি । রিয়া অন্যদিক তাকাতেই মুখটা রিমার কানের কাছে নিয়ে গিয়ে বললাম 
– এটা আমার তোমাকে খাওয়ানো প্রথম ফুচকার টাকা উসুল হলো সামনে আরও অনেক কিছু হতে পারে । মনে রেখো পাল্টা জবাব দিবো ( আমি)
রিমা শুধু আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকালো । আমি আর কিছু বললাম না । খাওয়া শেষে ওখান থেকে আবারও হাটতে শুরু করেছি । 
– ঠিক আছে আপনারা ঘুরে বেড়ান আমি‌ আসছি বাসায় যেতে হবে ( আমি)
– ভাইয়া আপনার নাম্বা……( রিয়া)
– ঠিক আছে যা‌ন ( রিমা ওর কথা থামিয়ে দিয়ে হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো । আমিও বাসারদিকে হাটতে শুরু করলাম । রিমার চোখে আমার প্রতি কোনো প্রেম দেখতে পেলাম না হয়তো ভুলে গিয়েছে সব ভুলারই কথা কারণ যে নিজে থেকে আসে তার প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে চলে যায় এটাই প্রকৃতির নিয়ম । স্বার্থ ছাড়া তো কেউ‌ আর কাছে আসে না ।

.

সিয়াম এতোটা পরিবর্তন হলো কিভাবে । ওতো এমনটা ছিলো না সম্পূর্ণ আলাদা । আচ্ছা ও কি আমাকে একে বারেই ভুলে গিয়েছে । আর বলে কি প্রতিশোধ নিবে না ওর সামনে আর যাওয়া যাবে না । না জানি কখন কি করে । 
– আপু তুই‌ এভাবে আমাকে টেনে নিয়ে আসলি কেনো নাম্বারটা তো‌ আনতে দিতি ( রিয়াম)
– এতো নাম্বার গালবে না আর কি করবি হ্যা । (আমি)
– আমার না ওকে খুব পছন্দ হয়েছে ( রিয়া)
– আর একটা কথা বললে দাত খুইলা ফালামু ( আমি)
– এহ্ নিজে তো বিয়ে করে নিচ্ছো আমি ‌কি বসে বসে ফিডার খাবো ( রিয়া)
– দরকার পড়লে খাবি তাও ওর সাথে তোর ‌প্রেম করতে দিবো না ( আমি)
– বললেই হলো দেখা যাবে । ( রিয়া)
না এই বিয়ে করা যাবে না । সিয়ামকে সব সময় সামনে দেখতে হবে আবার না জানি কখন কি করে বসে । আজকেই বাসায় গিয়ে না করে দিবো । এই রিয়াটাও ‌হয়েছে বিয়ের পর যদি সিয়াম এর সাথে কিছু একটা করে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে । ধুর বিয়েই করবো না । 
বাসায় এসে দেখি সবাই মিলে আমার বিয়ে নিয়ে কথা বলছে ।সবার মুখেই হাসি আমার বিয়ে নিয়ে। এখন যদি বলি বিয়ে করবো না তাহলে কি তাদের এই হাসি থাকবে । না থাক তাদের হাসিটা আর নষ্ট করার দরকার নেই । দেখা যাক সিয়াম কি কি করতে পারে ।

চলবে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*