Home Login Register

সুপ্রিয় পাঠক বিশেষ কারণবসত আগামী কিছুদিন গল্প নিয়মিত আপডেট বন্ধ থাকবে, সাময়িক এই সমস্যার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি ।

সব গল্পের নাম হয় না [৩য় অংশ]


প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......
Home / আফরোজা আক্তার / সব গল্পের নাম হয় না [৩য় অংশ]

Admin › 3 weeks ago

লেখিকা : আফরোজা 

 আপনারা…………?
– হ্যাঁ , কেমন আছো অয়ন ? 
– ভালো তুমি ? 
– ভালো । 
– এরা কারা ? 
– ইনি আমার বাবা আর ইনি আমার বোনেত হাজবেন্ড । 
– তা আমার অফিসে এইভাবে হঠাৎ ? 
– হ্যালো ইয়াংম্যান , আমরা বসে কথা বলি ? 
– জ্বি অবশ্যই , বসুন । 
– অয়ন , কিছু ভেবেছো কি ? 
– কি ব্যাপারে ? 
– কেন তুমি জানো না ? 
– নাহ , বলো তো কি ব্যাপারে ? 
– দেখো অয়ন , ভনিতা করো না আমি তোমায় ভালোবাসি । আর তা তোমাকে এক হাজার বলেও লাভ হয় নি , তাই বাবা আর ভাইয়া কে নিয়ে এলাম । বাবা এখানেই তোমার সাথে কথা সেড়ে নেবে । 
– ওয়েট ওয়েট , এক মিনিট , সাজি আর ইউ ম্যাড ? 
– হোয়াট ? 
– হ্যাঁ , তুমি কি পাগল হয়ে গেছো , তুমি ভাবলে কি করে যে আমি এখানে বসে এইসব ম্যাটার ডিসকাস করবো , আর হ্যাঁ আংকেল আপনাকে বলি , আমি কোন এতিম কিংবা অনাথ না , আমার বাবা মা বোন সবাই আছে , এইসব ব্যাপার আমি একা একা হ্যান্ডেল করবো না । সো এটা আমার অফিস , আপনি আসতে পারেন ।

.

সাজি , নাম নূরে সাজি । অয়নের ভার্সিটির দুইবছরের জুনিয়র সে । সে ভার্সিটি লাইফ থেকেই অয়নের পিছনে পড়ে আছে । বড়লোকের আদরের দুলারি মেয়ে । তাই জেদ টাও বেশি । যা চায় তাই পায় এবং তা জোড় করেই হোক না কেন ।

.

– ইয়াংম্যান , আমার তোমার ভালো লেগেছে । আমার সাজির জন্য তুমিই পারফ্যাক্ট । তাই তোমার কত টাকা চাই বলো আমি তোমায় সব দিব কিন্তু সাজিকে তোমায় বিয়ে করতে হবে । 
– দেখুন আংকেল আপনি বয়সে আমার বেশ বড় । আমার বাবার মতো । আমি চাইনা আপনার সাথে কোন খারাপ ব্যবহারে যেতে । আর সাজি আপনাকে বলে নি যে , আমি সাজিকে কখনোই ভালোবাসার কথা পর্যন্ত বলি নি ইনফ্যাক্ট আমি তো ওকে ওই নজরে দেখিই নাই কখনো । 
– অয়ন,,,,,,,,,,,,,,,,,, 
– আস্তে সাজি , দিস ইজ মাই অফিস , ওকে ? ভুলে যেও না । 
– তোমার অফিসের জি এম জাফর সাহেব , রাইট ? 
– বাহ বেশ ভালো তো আংকেল , জি এম পর্যন্ত চলে গেছেন । কি বলুন তো আংকেল আমি না এত স্বস্তা ভয় পাই না । আর আপনাদেরকে তো একদমই না । জি এম কে বলে চাকরি নেয়ার হুমকি দিবেন আর আমি চাকরির ভয়ে রাজি হয়ে যাবো তা একদমই ভুল ধারণা । আপনার চিন্তা ধারা সেখানে গিয়ে শেষ হয় যেখান থেকে আমার চিন্তা ধারার উদ্ভব ঘটে । আমি জানতাম , সাজি এমন কিছু একটা করবে । যার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম আমি । আশা করি আমার অবস্থান টা কোথায় আপনারা হয়তো বুঝতে পেরেছেন , সো নাও দয়া করে আসতে পারেন । 
– এক্সকিউজ মি , মিষ্টার অয়ন , আমি কি দুইটা কথা বলতে পারি ? 
– দুলাভাই , রাইট ? 
– জ্বি 
– দেখুন ভাইয়া কিছুই বলার নাই আমার । এইসব সাজির পাগলামি মাত্র আর কিছুই না । ও কে নিয়ে যান , প্রয়োজন পড়লে ডক্টর দেখান । 
– হাউ ডেয়ার ইউ অয়ন ? তুমি কি বলতে চাও , আমি পাগল ? 
– বলতে চাইছি না , তোমার কার্যকলাপে তাই মনে হচ্ছে । শুনো সাজি আমি বার বার এক কথা বলে ক্লান্তু হয়ে গেছি । প্লিজ ফর গড সেইক , এইবার থামো । 
– দেখলে বাবা দেখলে , ও কিভাবে বললো , তুমি দেখলে বাবা । ও আমায় পাগল বললো । 
– আহহহহহহ সাজি স্টপ ইট । এটা অফিস , অয়নের বাসা নয় । এমন করছো কেন ? 
– তুমি আবার কি বলো , ভাইয়া । আমি কি করেছি । আমি অয়নকেই বিয়ে করবো মানে অয়নকেই বিয়ে করবো 
– আহহব সাজি , মাই ডিয়ার , কুল ডাউন বাবা । আমি দেখছি ব্যাপারটা । 
– আংকেল , ভাইয়া , আপনারা এখন আসতে পারেন । 
– বাবা ও ঠিকই বলছে । চলুন আপাতত আমরা এখন উঠি । পরে এ নিয়ে কথা বলবো । 
– পরে না , কোন পরে না ভাইয়া । যা হওয়ার এখনই হবে এই মুহুর্তেই হবে । অয়ন কান খুলে শুনে রাখো বিয়ে তো আমি তোমাকেই করবো 
মাইন্ড ইট 
– ভাইয়া একে নিয়ে যান প্লিজ । 
– বাবা আপনি কিছু বলুন । 
– সাজি মা , চলো আমরা আগে বাসায় যাই । কথা বলি , তারপর ডিসিশন নিবো যে কি করা যায় । 
– শুনো অয়ন , বউ হয়ে আমি তোমার ঘরেই যাবো । কথাটা মনে রেখো তুমি ।

.

এই বলে ওরা অয়নের কেবিন থেকে বের হয়ে যায় । মেয়েটা বদ্ধ উন্মাদ , অয়ন বলতে অজ্ঞান । এর আগে তিনবার সুইসাইড এট্যাম্পড করেছিল । শুধু মাত্র অয়ন অয়ন করে । আর আজ ডিরেক্ট অফিসে চলে আসছে । অয়নের সব জুড়ে এখন মাহির অবস্থান । এমতাবস্থায় এইসব কিছুই বিষের মতো লাগছে অয়নের । মেয়েটাকে ইচ্ছামতো থাপড়াতে পাড়লে অয়নের জ্বালা মিটতো এখন । কিন্তু উপায় নেই । সব ভাবনার জলাঞ্জলি দিয়ে কাজে মন দেয় বেচারা ।

.

অন্যদিকে , অয়নন্দিতা ভাবছে মাহির কথা । ভাবছে মাশফিকের কথা । সেইদিন হাসপাতালে খুব বেশি বলে ফেলেছে কি মাশফিককে সে ? নাহ কিচ্ছু বেশি বলে নি সে , যা বলেছে ঠিক বলেছে । ওনার কথাটা শুনা উচিত ছিল । সব কিছু না শিনে এইভাবে ধুমধাম করে অয়নের কলার ধরার দরকার ছিল না । এইসব ভাবছে আর টেনশন করছে অয়নন্দিতা । কিন্তু মাহি , ওর তো কোন দোষ নেই ও কে কেন শাস্তি পেতে হবে । সাথে সাথে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ডকে ফোন দিয়ে বসে অয়নন্দিতা ।

দুই থেকে তিন বার রিং হওয়ার পরে ফোন টা রিসিভ করা হয় ।

.

– হ্যালো মাহি । 
– হু , 
– কেমন আছিস ? 
– ভালোই , 
– রেগে আছিস ? 
– উহু , 
– কি হয়েছে ? 
– রাখি , ভালো থাক । 
– শুন , হ্যালো মাহি , হ্যা,,,,,,,,,,,
– টু…….ট 
– লাইন কেটে দিল । কি ব্যাপার , বাসায় কিছু হয়েছে নাকি ? মাশফিক সাহেব কি তাহলে ওনার বাবাকে সব বলে দিয়েছে ?

.

টেনশন আরও দ্বিগুণ বেড়ে গেছে অয়নন্দিতার । অয়নন্দিতা ভেবে চিন্তে ফোন দেয় স্বর্নালিকে । স্বর্নালি তার আরেক ফ্রেন্ড ।

.

– হ্যালো স্বর্নালি , 
– হ্যাঁ বল , কিরে কেমন আছিস ? 
– হ্যাঁ ভালো আছি , শুন না একটা হ্যাল্প করতে পারবি ? 
– হ্যাঁ বল না , কি হয়েছে ? 
– শুন না , পিয়াল ভাইয়ার নাম্বারটা দিবি একটু ? 
– পিয়ালের নাম্বার ? 
– হ্যাঁ , 
– আচ্ছা , কিন্ত কি হয়েছে , কোন সমস্যা ? 
– পরে বলবো , তুই ভাইয়ার নাম্বার টা ম্যাসেঞ্জারে সেন্ড করে দে , কেমন ? 
– আচ্ছা ।

.

পিয়ালের নাম্বার এর অপেক্ষায় আছে অয়নন্দিতা । একবার নাম্বারটা পেলেই কাজ করতে পারবে । 
এমন সময় ম্যাসেঞ্জারের টোন টা বেজে ওঠে । অয়নন্দিতা ম্যাসেঞ্জার অন করে দেখে পিয়ালের নাম্বার । 
চটজলদি ফোন দিয়ে বসে পিয়ালকে ।

.

প্রায় ৩৫ মিনিট কথা বলে কাজ সেড়ে নেয় অয়নন্দিতা । এখন একটু শান্ত হতে পেরেছে সে ।

কিন্তু সন্ধ্যা থেকে অয়নের মুড অফ । অফিস থেকে এসে নিজের রুমে ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে সে । ল্যাপটপ সামনে ঠিকই আছে কিন্তু কাজে মন নেই তার । মাথায় সাজির কার্যক্রম চলছে । কি করেছে মেয়েটা আজ । আরেকটু হলে অফিসে সবার সামনে মান সম্মান যেতে বসেছে । বাবাও যেমন এই মেয়ের । মেয়ে বললো আর ঢ্যাং ঢ্যাং করে চলে এলো । মাথায় কিছুই আসছে না অয়নের ।

.

চারটি মানুষ চারদিকে কষ্ট পাচ্ছে , একদিকে অয়নন্দিতা অন্যদিকে মাশফিক । একদিকে মাহি তো অন্যদিকে অয়ন । অয়নের মাহিকে না পাওয়ার কষ্ট তেমনি সাজির পাগলামির টেনশন । দুইয়ে মিলে অয়নের জীবন বিষের ন্যায়ে হয়ে গেছে ।

কয়েকদিন পর ,

– ভাইয়া কাল তো ফ্রী আছিস তাই না ? 
– হ্যাঁ কাল অফ ডে , কেন ? 
– ভাইয়া , কাল আমার সাথে এক জায়গায় যেতে পারবি ? 
– কোথায় যাবি । 
– যাবো এক জায়গায় , একা যাবো না । তাই বলছিলাম যদি তুইও সাথে নিতি , ভালো হতো । 
– আচ্ছা একা যাওয়ার দরকার নাই , আমি যাবো । কিন্তু যাবি কোথায় ? 
– যেতে যেতে বলবো । 
– আচ্ছা ।

.

ভাইকে রাজি করিয়ে অয়নন্দিতা রুম ছেড়ে চলে যাবে কিন্তু সেই মুহুর্তেই ভাইয়ের চেহারায় চিন্তার আভাস দেখতে পায় অয়নন্দিতা । এতটা চিন্তিত সে আগে দেখে নাই অয়নকে । ধীর পায়ে ভাইয়ের দিকে এগিয়ে যায় অয়নন্দিতা ।

.

– ভাইয়া , এই ভাইয়া । 
– হু , 
– কি হয়েছে রে ? 
– কোথায় ? কোথায় কি হবে ? 
– এত চিন্তিত লাগছে যে তোকে । 
– কই , নাহ আমি ঠিকাছি । 
– মুচকি হাসির নিচে চিন্তাটাকে ধামাচাপা দেয়াটা তোর থেকে ভালো মনে হয় আর কেউ পারে না ভাইয়া । 
– আরে নাহ বাবুইপাখি , আমি ভালো আছি । 
– ওহ , সত্যিটা বলবি না , তাই তো ? 
– কি বলবো , কিছুই তো নেই রে । 
– বলবি না তো ? 
– সত্যিই কিছুই হয় নাই । 
– যা ভালো বুঝিস তুই । 
– হু , তুই অনেক পেঁকে গেছিস রে । 
– হ্যাঁ , তোর বোন তো তাই । 
– ভাগ এইখান থেকে ।

.

বোনকে আড়াল করে গেছে অয়ন । কিন্তু ওর মনের কথা ওই জানে । সাজির ব্যাপারটা বার বার ভাবাচ্ছে অয়নকে ।

.

যথারীতি পরদিন ,

অয়নকে নিয়ে অয়নন্দিতা বেরিয়ে যায় । রিক্সায় দুই ভাই বোনের কিছুক্ষনের খুনসুঁটিও চলে । ভাই বোন হলেও তারা মিশেছে বন্ধুর মতো । দুইজন দুইজনের সুখ দুঃখ ভাগ করে নিয়েছে । অয়ন যাচ্ছে তো অয়নন্দিতার সাথে কিন্তু কোথায় যাচ্ছে তা ই অজানা তার কাছে ।

.

– হ্যাঁ রে বললি না তো , 
– কি বলবো ? 
– কোথায় যাচ্ছি আমরা ? 
– যাদুর বাক্স খুলতে যাচ্ছি । 
– কিহহহহহ , 
– হ্যাঁ যাদুর বাক্স খুলতে যাচ্ছি আমি আর তুই । 
– ধুর , মজা করিস না তো , বল না প্লিজ কোথায় যাচ্ছি আমরা । 
– যাচ্ছি এক রেস্টুরেন্টে । 
– কোন রেস্টুরেন্টে ? 
– KFD তে , 
– ওহ , তার মানে আজকে সব টাকা শেষ আমার । 
– তুই যে জনম কিপটা , তা আমি জানি । 
– হুর ,
– ওই কিপটা নাম তুই , চলে আসছি । 
– শুন আল্লাহ সইবে না আমাকে কিপটা বলিস , গত মাসে ১ ভরি দিয়ে চেইন দিছি তাও লকেট দিয়ে তারপরও বলস আমি জনম কিপটা । দূরে থাক তুই 
– সর সর , তোর চেইন তোর বউকেই দিয়ে দিব । 
– দেখা যাবে , নাম ফাযিল । 
– আফামনি আর ভাইয়া ভাইবোইনে ঝগড়া পরে কইরেন আগে নামেন আর আমার ভাড়াডা দেন আমি যাইগা ।

.

রিক্সাওয়ালার কথা শুনে ওরা ঝগড়ার দিক থেকে মুখ ঘুরালো । মিটিয়ে অয়ন আর অয়নন্দিতা রেস্টুরেন্টের ভেতরে যায় । সেখানে গিয়ে অয়নের চোখ চড়কগাছ । 
সামনের টেবিলে দুজন বসা । যাদের দেখে অয়ন অনেকটাই অবাক হয়ে যায় ।

.

– মাহি…………

.
মুচকি হেসে মাহি দাঁড়িয়ে যায় । আর তার পাশে মাশফিকও হেসে দাঁড়িয়ে যায় । অয়ন কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না । অয়নন্দিতার দিকে তাকিয়ে আছে অয়ন । অয়নন্দিতাও মুচকি মুচকি হাসছে ।

অবাকের অনেক দূর অবদি পৌঁছে যায় অয়ন । এইভাবে চোখের সামনে মাহি আর তার ভাইকে দেখে অনেকটাই অবাক অয়ন । আবার পাশে নিজের বোনও হাসছে । সব মিলিয়ে অনেকটাই অবাক সে । এমতাবস্থায় বোন হাত ধরে টেনে দিয়ে বলে ,

.

– কিরে চল । 
-…………… 
– ওই ভাইয়া , আরে ভূত দেখলি নাকি । আরে এরা ভূত না , তোর ভালোবাসার মানুষ তোর সামনে দাঁড়িয়ে আছে । চল চল । 
– বাবুইপাখি , এইসব কখন , কিভাবে করলি , কিছুই বুঝতে পারছি না আপনি । 
– তোকে বুঝতে হবে না । ভালো যখন বাসিস তাহলে আলাদা থাকবি কেন, চল

.

অয়নন্দিতা অয়নের হাত ধরে টেনে মাহির সামনে নিয়ে গিয়ে দাড় করায় ।

.

– নেহ তোর ভালোবাসার মানুষকে তোর কাছে ফিরিয়ে দিলাম । 
– থ্যাংকস অয়নি , তুই না থাকলে এইসব কিছুই সম্ভব হতো না 
– ধুর , তোর ভালোবাসার মানুষ আমায় খুব জ্বালায় একবার আমাদের বাসায় আয় সব সুদে আসলে শোধ তুলবো আমি হ্যাঁ ,,,

.

ওদের নিছক দুষ্টামিতে অনেকটাই অভিভূত হয়ে আছে মাশফিক । অয়নন্দিতাকে আড়চোখে দেখছে সে । একটা মেয়ে কতটা নিষ্পাপ হতে পারে । গত দুইদিন আগে পিয়ালের কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে যোগাযোগ করে অয়নন্দিতা মাশফিকের সাথে ।

.

দুইদিন আগে ,

.

– আসসালামু আলাইকুম ,
– ওয়ালাইকুম আসসালাম , বসো । 
– ধন্যবাদ , অনেক্ষন বসে আছেন বুঝি ? 
– নাহ ঠিকাছে ব্যাপার না । 
– আসলে বাসা থেকে এইভাবে তো বের হওয়া যায় না তাই প্ল্যানিং করে বের হওয়া লাগে , তাই লেট হলো । 
– তা কি বাহানায় বের হলে ? 
– বলেছি লাইব্রেরিতে যাচ্ছি । 
– ওহ আচ্ছা , তো বলো , কেন ডেকেছিলে এখানে ? 
– কিছু বলার জন্য । 
– হুম শুরু করো , 
– আসলে হাসপাতালে যা কিছু হয়েছে তার জন্য আই এম সরি । আপনি যখন আমার ভাইয়ের কলার ধরেছিলেন আমি সহ্য করতে পারি নি তাই উলটাপালটা অনেক কথাই বলে ফেলেছিলাম । যা আমার বলা উচিত হয় নি । দেখুন মাহি আমার ভাইকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করতো 
প্রথম প্রথম আমায় বললে আমি ভাবতাম ও হয়তো মজা করে বলে পরে আস্তে আস্তে বুঝলাম যে ও আসলেই আমার ভাইকে ভালোবাসে । আর মাহির এক্সিডেন্ট এর দিন বিকেলে মাহি আমার আর ভাইয়ের সাথে দেখা করতে এসেছিল । সেখানে তাদের দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয় আর মাহি রেগে চলে যায় । আর তারপরই আমরা মাহির এক্সিডেন্ট এর খবর পাই । হয়তো আমার ভাইয়ের মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত ভালোবাসাটা তখনই জেগে ওঠে । যেই ভালোবাসা শুধুই মাহির জন্য । 
মাশফিক সাহেব আমি আপনাকে কথা দিতে পারি আমার ভাই মাহিকে খারাপ রাখবে না । হয়তো অঢেল টাকার বিছানায় আপনার বোনকে শোয়াতে পারবে না কিন্তু সুখের কমতি থাকবে না আপনার বোনের । 
– আমি কি করে বিশ্বাস করবো অয়ন আমার বোনকে সুখে রাখবে ? 
– বিশ্বাস তো আপনাকেও করা যায় না আপনি অন্য কোন মেয়েকে যদি বিয়ে করেন তাহলে কি গ্যারান্টি যে তাকে আপনি সুখে রাখবেন ? 
– মানে ? 
– মানে এই যে মিষ্টার মাশফিক , সুখ দুঃখ সব হচ্ছে আল্লাহর হুকুম । আল্লাহর হুকুম থাকলে সুখ হবে না হলে আপনিও দেখবেন আমিও দেখবো । তবে বিশ্বাস রাখতে পারেন আপনার বোন কষ্টের মধ্যে থাকবে না ইনশাআল্লাহ । 
– কি করতে চাচ্ছো বলো । 
– কিছুই না , আমি চাইলে তো হবে না আপনারও চাইতে হবে । 
– আচ্ছা বলো , কি করতে হবে বলো । 
-…………………..

.

গত দুইদিন আগের কথা গুলো এক মুহুর্তেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাশফিকের । মাশফিক আর অয়নন্দিতা মিলেই সব ঠিকঠাক করে ।

.

মাশফিক সেইদিনের ব্যবহারের জন্য খুব লজ্জিত হয়ে আছে । অয়নের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে পর্যন্ত লজ্জা হচ্ছে তার ।

.

– অয়ন , 
– হ্যাঁ 
– আই এম সরি , 
– কিসের জন্যে ? 
– ওইদিনের ব্যবহারটা আসলেই করা উচিত হয় নি আমার । 
– ইটস ওকে , আমার বোন হলেও আমি তাই করতাম হয়তো । সরির প্রয়োজন নেই । বসো 
– হ্যাঁ হ্যাঁ সবাই বসো আজকে এই জনম কিপটা ট্রীট দিবে , তাই না ভাইয়া ? 
– তোর মাথা , ফাযিল 
– তুই ফাযিল । 
– কেমন আছো মাহি ? 
– ভালো , আপনি ? 
– দেখছোই তো কেমন আছি ।

.

ওরা চারজন বসে গল্প করছে , হঠাৎ অয়নের ফোন বেজে ওঠে ।

.

– এক্সকিউজ মি , আসতেছি একটু

.

অয়ন সাইডে এসে মোবাইল দেখে আর তখনই দেখতে পায় ফোন টা আর অন্য কেউ নয় সাজিই করেছে । অসময়ে সাজির ফোনটা একটু বেশিই প্রবলেম করে । তাই লাইন কেটে দিয়ে মোবাইলের ফ্লাইট মুড টা অন করে দিয়েছে ।

.

কোন নতুন খেলায় মত্ত্ব আছে সাজি । তা কারোই জানা ছিল না । বিরাট বড় ঝড় নিয়ে আসতে শুরু করে দিয়েছিল । সাজি নামের ঝড় টা খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছিল অয়ন-মাহি , অয়নন্দিতা-মাশফিকের জীবনে ।

সব কিছুই মোটামুটি ঠিকঠাক । কিন্তু কোথাও যেন সব কিছু ঠিক হয়েও ঠিক নেই । অয়ন মাহির জীবনে তো সুখের রঙ লেগেছে কিন্তু মাশফিকের জীবনে সব রঙ ফিকে হয়ে আছে । মনের কথা মনেই রয়ে গেছে তার । এখন অবদি মনের কথা তার মনেই থেকে গেছে মুখে আর আসে নাই । 
এইদিকে অয়ন মাহি মেতে উঠেছে তাদের প্রেমে । দিন ভালোই কাটছে তাদের । রাত জেগে মোবাইলে কথা বলা । ছুটির দিন গুলোতে আড্ডা দেয়া সব কিছুই ভালো চলছে ।

এরইমাঝে একটা বড় রকমের ঝড় চলে আসে মাহির জীবনে । একদিন হঠাৎ করেই মাহির ফোনে একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসে । কয়েকবার ফোন বেজে যাওয়ার পর মাহি ফোন রিসিভ করে ,

.

– হ্যালো , কে বলছেন ? 
– তুমি কি মাহি ? 
– হ্যাঁ মাহি বলছি , কে আপনি ? 
– আমি কে তা না জানলেও চলবে , আপাতত একটা কথা বলি মন দিয়ে শুনো । অয়নকে ছেড়ে দেও ? 
– কিহহহহহহ , 
– চিল্লাও কম , যা বলছি তাই করো , অয়নকে ভুলে যাও । 
– আপনি কোথাকার কে ? যার কথায় আমি অয়নকে ছাড়বো । 
– আমি সাজি , এইবার অয়নকে জিজ্ঞেস করে দেখবে কে আমি ? ওকে 
– হ্যালো , হ্যালো , হ্যা,,,,,,,,,,,
– টুট,,,,,,টুট,,,,,,,,টুট………….

.

মাহির মাথা খারাপ হয়ে যায় এই ভেবে যে সাজি টা কে ? আর অয়নের মুখে তো একবারের জন্যেও সাজি নাম টা শুনে নি মাহি । তাহলে এই সাজি কোন সাজি । আর তার নাম্বারই বা পেল কিভাবে ?

.
.

– সাজি কে অয়ন ?

.

পার্কে মুখোমুখি বসে মাহি অয়নকে প্রশ্ন করে । আর মাহির মুখে সাজি নামটা শুনে বিস্ময়ের চরম পর্যায়ে চলে যায় অয়ন । কি উত্তর দিবে মাহিকে সে এখন ।

.

– কি হলো অয়ন ? উত্তর দাও , সাজি কে 
– হঠাৎ ওই প্রশ্ন করছো ? 
– অয়ন উত্তর চাইছি , প্রশ্নের বদলে পালটা প্রশ্ন শুনতে চাই না । 
– বলো কি জানতে চাও , 
– সাজি কে ? 
– সাজির কথা শুনলে কোথা থেকে ? 
– আমায় কল করেছিল কাল কে। 
– কিহহহ , 
– হ্যাঁ , কাল কথা হয়েছে । বলা নেই কওয়া নেই , ডিরেক্ট বলে অয়নকে ছেড়ে দেও , অয়নকে ভুলে যাও । মগের মুল্লুক নাই এইসব । এখন বলো কে ইনি ? 
– সত্যিটা শুনতে পারবে তো ? 
– হ্যাঁ , পারবো না কেন ? বলো 
– তাহলে কথা শেষ হওয়া না অবদি একদম অগ্রিম কথা বলবে না । আমি শেষ দিব তারপর তোমক্র যা ইচ্ছা বলবে , ওকে ? 
– ওকে । 
– সাজি হচ্ছে সেই মেয়ে যে আমায় পাগলের মতো ভালোবাসে । সেই ভার্সিটি থেকে । ভার্সিটিতে আমার টু ইয়ার জুনিয়র ছিল মেয়েটা । সেখান থেকেই লাইন মারতো ও কে যাস্ট আমার বিরক্ত লাগতো বলে এড়িয়ে চলতাম । একচুয়ালি আমার কাছে এই মেয়েকে মানসিক রোগী বলে মনে হয় কারণ , এ যে কখন কি করে বুঝা বড় দায় । বহু কোটি টাকার সম্পদের মালিক এর মেয়ে সে তার উপরে ছোট মেয়ে তাই বাপ দুলাভাই ধরে আমার অফিসে চলে আসে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে । 
– আমার বাবার থেকেও বড়লোক ওর বাবা ? 
– বলেছিনা কথার মাঝে কথ বলতে না , আর তোমার বাপ বড়লোক কিংবা ভিখারী হোক আমি তোমাকে ভালোবাসি তোমার বাপ কে না ওকে ? 
যাই হোক আই থিংক সে কোন রকম টের পাইছে , যে তুমি আমার লাভার তাই এতো দূর অবদি গেল । 
– এখন কি করবে ? 
– কি করবো ? ওর চৌদ্দ গুষ্ঠি এক করবো , ও আমার মাহিকে কল দিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলছে , ওয়েট এন্ড ওয়াচ ।

.

পকেট থেকে মোবাইল টা বের করে সাজির নাম্বারে ডায়াল করে অয়ন । ওপাশ থেকে ফোন বাজার কেউ একজন ফোন রিসিভ করে ,

.

– হ্যাঁ অয়ন বলো , 
– বাহ হ্যালো না বলতেই নাম চিনে ফেলছো । 
– আমি তোমাকে ভালোবাসি অয়ন । 
– কিন্তু আমি তো তোমাকে ভালোবাসি না সাজি । 
– বাসো না বাসবে , ব্যাপার না , 
– সাজি জোড় করে কি ভালোবাসা পাওয়া যায় ? 
– আমি জোড় করেই আদায় করতে ভালোবাসি । 
– মাহিকে কল দিয়েছো কেন ? 
– ও কে সাবধান করে দিয়েছি । 
– তোমার কি মনে হয় , ও তোমার কথা শুনবে ? 
– ও কে শুনতেই হবে । 
– ওয়েট সাজি , মাহি এ যুগের মেয়ে , তুমি বললে আর ও আমায় সুর সুর করে ছেড়ে দিবে এটা তুমি ভাবলে কি করে সাজি ? 
– মানে কি ? 
– মানে মাহি আমায় ছাড়া তো দূরে থাক ওর কল্পনা থেকেও আমায় কেউ সরাতে পারবে না , শুধু শুধু বৃথা চেষ্টা করো না । 
– অয়ন ,,,,,,,,,,,,,, 
– আস্তে সাজি আস্তে , তেতো হলেও এটাই সত্যি । ভালো থাকো ।

.

এই বলে অয়ন লাইন কেটে দেয় । মাহি এক নজরে তার ভালোবাসার মানুষটার দিকে তাকিয়ে আছে । এক নাগারে সাজিকে এত গুলো কথা বলে দিলো । আসলেই অয়ন তাকে অনেক ভালোবাসে । হয়তো ক্ষনিকের জন্য তার বিশ্বাস টা নড়বড়ে হয়ে গেছিলো , কিন্তু এখন আবার সব ঠিকঠাক । কিন্তু এভাবে সে বসে থাকবে না । সাজি একবার করবে দুইবার করবে তিনবারের সময় ঠিকই ছুড়ি বসাবে তার কারণ মাহি গতকালকেই বুঝে গেছিলো , সাজি কেমন হতে পারে । অয়নের সামনে নিজেকে স্ট্রং রাখলেও এমনিতে ভেতর থেকে সে অনেকটাই দুর্বল । এই ব্যাপার টা নিয়ে অয়নন্দিতার সাথে কথা বলতে হবে তার । যদি এখন অয়নকে বলে সে অয়নন্দিতার সাথে কথা বলবে , তাহলে অয়ন তাকে মানা করে দিবে তাই এখন চুপচাপ থাকাটাই শ্রেয় । রাতে অয়নন্দিতাকে কল দিয়ে সব বলবে সেই প্ল্যানিং করে ফেলে মাহি ।

.

কয়েকদিন পর ,

অয়নন্দিতা বিরাট বড় একটা বাড়িতে বসে আছে , ডুপ্লেক্স বাড়ি , সুন্দর সাজানো গোছানো । ব্যাগ থেকে মোবাইল টা বের করে বার বার ঘড়ি দেখছে অয়নন্দিতা । বিকেল ৫ টা বেজে গেছে । এমন সময় , কেউ একজন উপর থেকে ডেকে বলে ,

.

– বিল্লাল , এই বিল্লাল , ড্রইং রুমে চা পানি দেও ।

.

অয়নন্দিতা সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে যায় । লোকটা ধির পায়ে সিড়ি দিয়ে নামছে । অয়নন্দিতাকে দেখে বলে ,

.

– দাঁড়িয়ে কেন , বসো । 
– জ্বি ধন্যবাদ । 
– নাম কি ? 
– আসসালামু আলাইকুম , আমি অয়নন্দিতা । অয়নের বোন আমি । 
– ওহ আচ্ছা , অয়নের বোন । তা এইখানে , কি মনে করে । 
– আংকেল কিছু কথা বলার জন্য আসছি আমি । 
– হ্যাঁ বলো , কি বলবে ? 
– আংকেল সাজি যা করছে তা কি ঠিক ?

.

ভদ্রলোক সেই বড়লোক যে কিনা সাজির বাবা । রমজান সাহেব নিজের মেয়ের নাম অয়নন্দিতার মুখে শুনে কিছুক্ষন অয়নন্দিতার দিকে তাকিয়ে আছেন ।

.

– দেখুন আংকেল , আপনি সাজির বাবা । তাই কথা গুলো আপনার শুনা টাই শ্রেয় । আংকেল আমার ভাই আপনার মেয়েকে ভালোবাসে না । আর তাছাড়া আমার বাবা মায়েরও বয়স হয়েছে । তারা এইসব ঝামেলায় জড়াক আমি চাই না । এমনকি আমি নিজেও চাচ্ছি না এইসবে আমাত ভাই জড়াক । তাই আমি নিজেই এসেছি আংকেল দুইটা কথা বলতে । 
– কি ব্যাপারে কথা বলতে এসেছো ? 
– আংকেল আপনি হয়তো আন্দাজ করতে পেরেছেন আমি কি বলতে এসেছি । আংকেল সাজিকে মানা করে দিবেন যাতে সে এমন কিছু না করে , যাতে আমাদের অন্য পথ দেখতে হয় । 
– How dare you ? …………….

.

উপর থেকে কেউ একজন চিৎকার করে ওঠে । অয়নন্দিতা আর রমজান সাহেব উপরের দিকে তাকিয়ে থাকে । মেয়েকে এইভাবে দেখে রমজান সাহেব অনেকটাই অবাক ।

.

– সাজি মা ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

তোমার সাহস হয় কিভাবে ? আমার বাসায় এসে আমার সোফায় বসে আমারই বাবাকে আমারই নামে এই কথা বলার ৷

.

সাজি প্রচন্ড ক্ষীপ্রতার সাথে উপর থেকে নামছে আর কথাগুলো বলছে । অয়নন্দিতাও দেখছে সাজিকে । মাহি যেমনটা বলেছিল তার থেকেও তাড়ছিড়া লাগছে সাজিকে এই মুহুর্তে । মনে হয় কোন এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সে । তার পিছন পিছন বিষন্ন মুখে তার মাও নামছে ।

.

– এই তোমার সাহস হয় কিভাবে আমার বাসায় আসার । 
– যেমন করে তোমার সাহস হয়েছে আমার ভাইয়ের সাথে এমন করার । 
– ওহ তাহলে ভাই পিছনে থেকে বোনকে সামনে এগিয়ে দিয়েছে । 
– আমার ভাই কাপুরুষ না যে এমন করবে , লিসেন সাজি ডোন্ট ক্রস ইউর লিমিট । যেই জায়গায় আছো সেখানেই স্টপ হয়ে থাকো । 
– লিসেন তোমার ভাইয়ের বাবুইপাখি , বেশি উড়ো না । ডানা কেটে ঝেড়ে ফেলে দিতে আমার এক মিনিটও লাগবে না ।

.

মেয়ের এমন পাগলামি তে অতিষ্ঠ হয়ে আছে রমজান সাহেব । কারো সাথে এর কোন বনিবনা হয় না । সবার সাথেই এই মেয়ে খারাপ আচরণ করে ।

.

– আহহহ , সাজি কি হচ্ছে কি ? 
– কি হচ্ছে মানে , যা হচ্ছে বেশ হচ্ছে । এই মেয়ের সাহস হয় কি করে আমাদের বাসায় আসার । 
– দেখো সাজি ও হয়তো আমাদের বাসায় কিছু বলার জন্য এসেছে । আমরা আগে তার কথা শুনি , কেমন মা ? 
– আম্মু খবর দার মাখন লাগাবা না । বাবা তোমার বউকে বারণ করো , একদম কাহিনী যাতে না করে আমার সাথে । 
– আহহহহ সাজি স্টপ । 
– বাবা , 
– দেখুন আংকেল আপনাদের পারিবারিক ব্যাপারে আমি থাকতে চাই না । শুধু এটাই বলবো , সাজিকে সামলে রাখবেন । আমার ভাইয়ের আশেপাশে যাতে তাকে না দেখি । 
– তুমি বাসায় যাও মা , আমরা ও কে বুঝাবো । 
– কি বাল বুঝাবা আমাকে তোমরা । আমি এত বুঝতে চাই না । আমার অয়নকেই চাই , চাই চাই চাই 
– সাট আপ সাজি , গালিগালাজ কোথা থেকে শিখেছো তুমি । এক থাপ্পড়ে গালের সব দাত ফেলে দিব বেয়াদব মেয়ে । 
– দেখেন আংকেল নিজের চোখেই দেখেন আর আন্টি আপনিও দেখেন , কি মেয়ে আপনাদের যে কিনা আপনাদের সামনেই গালিগালাজ করে ছি । যাই হোক আংকেল আমি আসছি , আসসালামু আলাইকুম । 
– এসো মা , ভালো থাকো । আর নিশ্চিন্তে থাকো ।

.

এই কথা বলে অয়নন্দিতা পিছন ফিরে দুই কদম ফেলতেই সাজি জোড়ে চিৎকার দিয়ে ওঠে ,

.

– অয়নন্দিতা,,,,,,,,,,,, তোমার জীবন আমি নড়ক করে দিব , জাহান্নামের কষ্ট তুমি এই ইহকালেই পাবা । মনে রেখো , তুমি শেষ । 
– দেখা যাবে সাজি দেখা যাবে । কতটা নড়ক করতে পারো আমার জীবন তুমি । আমার না তোমার বাবা মাকে দেখে অনেক আফসোস হচ্ছে তারা কি আর তুমি কি । সাজি তুমি একটা বদ্ধ উন্মাদ । পাগল হয়ে গেছো তুমি । নিজেকে চিকিৎসা করাও । গুড বাই ,,,,,,,

.

অয়নন্দিতা কথা গুলো বলে নির্বাস নিবাসের চৌকাঠের বাহিরে এক পা দিয়ে দেয় । আর তার ঠিক অপর পাশ দিয়ে অন্য আরেকজন সেই একই চৌকাঠের ভেতরে তার এক পা ফেলে ঘরে প্রবেশ করে । পা ফেলতে ফেলতে সে একবার অয়নন্দিতার দিকে তাকায় ।

.

দিন কাল ভালোই কাটছে সবার । ইতোমধ্যে দুই পরিবার মিলিত হয়ে অয়ন-মাহির বিয়ের ডেট টাও ফিক্সড করে ফেলে । আগামী মাসের ১৮ তারিখ বিয়ে । প্রথম প্রথম মাহির বাবা আপত্তি করলেও পরে অবশ্য মেয়ের কথা চিন্তা করে রাজি হয়ে যান তিনি । সবাই খুব খুশি । বিশেষ করে অয়নন্দিতা । তার সব থেকে কাছের বান্ধবী তার ভাবী হয়ে তারই ঘরে আসছে ।

.

অন্যদিকে মাশফিক নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করে ফেলে এইবার মনের কথাটুকু অয়নন্দিতাকে বলবেই । তারপর মাহির বিয়ের পর নিজের বিয়েটাও সেড়ে ফেলবে সে । 
আস্তে আস্তে সময় পার হচ্ছে । দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক টাও আরও মজবুত হচ্ছে । বিয়ের কেনাকাটাও চলছে জোড়ে সোড়ে । একমাত্র ছেলের বিয়েতে কোন কমতি রাখবে না মজিব সাহেব এবং রাহেলা বেগম । সাধ্যের মধ্যে সব টুকু দিয়ে চেষ্টা করবে বিয়েটা ভালো করে সম্পন্ন করার । অন্যদিকে আশরাফ চৌধুরীও কমতি রাখতে চান না মেয়ের বিয়েতে ।

.

দুইদিন পর ,

ওরা চারজন মিলে শপিং এ যায় । সেখানে অয়ন মাহি এক সাইডে চলে যায় আর অয়নন্দিতা টুকিটাকি কিছু কেনাকাটা করে । এমন সময় মাশফিক পিছন থেকে এসে একটা প্যাকেট সমেত তার হাত টা অয়নন্দিতার দিকে বাড়িয়ে দেয় । অবাক চোখে অয়নন্দিতা মাশফিকের দিকে তাকিয়ে থাকে ।

.
.

তাহলে কি ভালোবাসার শুভ সূচনা হতে চলেছে অয়নন্দিতা মাশফিকের মধ্যে ।

.
.
.

চলবে…………..

About Author


Administrator
Total Post: [352]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy