Home Login Register

প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......

মৃন্ময়ী [পঞ্চম অংশ]

Home / নিলয় রসুল / মৃন্ময়ী [পঞ্চম অংশ]

Admin › 2 months ago

লেখক Niloy Rasul

শুভ্রর বুক থেকে মৃন্ময়ী মাথা তুলে শুভ্রর দিকে মায়াভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

-আগামীকালকের অপারেশনে আমাকে নিলে কী এমন ক্ষতি হতো…!

শুভ্র কী বলবে ভেবে পাচ্ছে না।

রাস্তার অপর প্রান্তে তাকিয়ে বলল,

-জানিসই তো এই কাজটা কতোটা রিস্কের! যদি কেউ একজন চেহারা দেখে ফেলে তাহলে এ জীবনে আর কারও সাথে দেখা করা লাগবে না। ওখানেই জীবনের অন্তিম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে!

-তাই বলে আমাকে ছাড়া এভাবে অপারেশন করে তুই মেন্টালি ফ্রি হতে পারবি!

-না তা পারব না। বাট এটুকু তো জানব যে আমার মৃন্ময়ী সুস্থ আছে ভালো আছে। নিরাপদে আছে!

-হা হা হা…!

-কী রে হাসছিস কেন!

মৃন্ময়ী আর শুভ্র আবার রাস্তায় হাঁটতে লাগল।

মৃন্ময়ী ক্ষণকাল পর বলল,

– হাসির জথা বললে কাঁদব বুঝি!

-কোনটা তোর কাছে হাসির কথা লাগল মৃন্ময়ী?

-ওই যে তুই ওখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করবি আর অন্তত আমি নিরাপদে নিশ্চিন্তে থাকব তাই তোর কথাটায় হাসলাম!

মৃন্ময়ী কথাগুলো বলে চুপ করে গেল। দু’জনে হেঁটে যাচ্ছে কালো পিচ ঢালা রাস্তায়।

শুভ্র ক্ষণকাল চুপ থেকে বলল,

-তুই আমাকে অনেক ভালোবাসিস তাই না..!

মৃন্ময়ী কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

-প্রমাণ দিতে হবে বুঝি!

-আর তা না৷ আমি এমনি জিজ্ঞেস করছিলাম।

-পাগল একটা.!

-হুঁ, পাগলীর পাগল..!

শুভ্র মৃন্ময়ীর হাতটা শক্ত করে নিজের হাতের দখলে নিয়ে নিলো। যেন এ পৃথিবীতে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউ ওদের আলাদা করতে পারবে না।

মৃন্ময়ীও শুভ্রর হাতটা শক্ত করে ধরে হাঁটছে।

শুভ্র হঠাৎ করে বলে উঠল,

-আচ্ছা আমি যদি আর কখনো না ফিরে আসি তাহলে কি তুই আমাকে ভুল বুঝবি মৃন্ময়ী!

মৃন্ময়ী থমকে দাঁড়াল। বুকের ভিতরে হার্টবিট চলছে খুব জোরে। 
নিঃশ্বাস ঘন ঘন পড়ছে ওর।

মৃন্ময়ী আতঙ্কিত চোখে শুভ্রর দিকে তাকাল। মুখ দিয়ে কোনো কথা বলছে না।

মৃন্ময়ীর চোখ লাল হয়ে আসছে।

আষাঢ়ে যেমন ঘন কালো মেঘ যখন জমাট বাঁধতে শুরু করে তখন ধীরে ধীরে চারিদিকে থম থম আবহাওয়া বিরাজ করে।

অপেক্ষা শুধু বৃষ্টি ঝরে পড়ার…

মৃন্ময়ীরও ঠিক একই অবস্থা!

চোখ লাল হয়ে আসছে। রক্তিম চোখে শুভ্রর চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।

শুভ্র মৃন্ময়ীর দিকে তাকিয়ে বলল,

-কী রে কী হলো!

মৃন্ময়ী হুট করে শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে। শুভ্রর বুকে মুখ লুকিয়ে ডুকরে কেঁদে ওঠে।

ঘটনার আকস্মিকতায় শুভ্র হতবাক হয়ে গেছে।

মৃন্ময়ী শুভ্রকে শক্তভাবে জড়িয়ে ধরে আছে। আর অনবরত কেঁদে চলেছে।

শুভ্র মৃন্ময়ীর চুলে বিলি কাটতে কাটতে বলল,

-এই কী হলো! কী রে…কাঁদছিস কেন এভাবে! এই পাগলী! কী হয়েছে! বল আমাকে..!

মৃন্ময়ী জবাব দিচ্ছে না। শুধু শুভ্রর বুকে মাঝে নিজের জায়গাটুকু খুঁজে নিয়ে কেঁদে চলেছে…

শুভ্র মৃন্ময়ীর মাথায় চুলে বিলি কাটতে কাটতে বলল,

-আমার মৃন্ময়ীর কী হয়েছে! এভাবে কাঁদছে কেন সে…!

মৃন্ময়ী কাঁদতে কাঁদতে শুভ্রর বুক থেকে মাথা না তুলেই বলল,

– কেন বললি তুই চলে যাবি! জানিস না তোকে ছাড়া আমি আমার অস্তিত্ব এক মুহূর্তের জন্যও কল্পনা করতে পারি না…! খুব মজা পাস না আমাকে এভাবে কাদিয়ে?

শুভ্র মৃন্ময়ীর মাথায় ভালোবাসার স্পর্শ এঁকে দিয়ে বলল,

-আরে আমি তো মজা করে বলছিলাম ওটা! আমি আমার মৃন্ময়ীকে ছেড়ে কোথায় যাব শুনি..!

মৃন্ময়ী কাঁদতে কাঁদতে বলল,

-তাহলে তখন ওমন কথা কেন বললি? তুই পঁচা খুব.!

-আমার মৃন্ময়ীর জন্য পঁচা হতে অবশ্য আপত্তি নাই.!

মৃন্ময়ী শুভ্রর বুকে কয়েকটা কিল মারল।

মৃন্ময়ীর হোস্টেলের কাছে আসতেই শুভ্র মৃন্ময়ীর হাত চেপে ধরল।

মৃন্ময়ী শুভ্রর দিকে জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকাল,

শুভ্র মৃন্ময়ীকে এক ঝটকায় কাছে টেনে নিলো।

মৃন্ময়ী এসে শুভ্রর বুকে আছড়ে পড়ল।

শুভ্রর চোখ মুখে দুষ্ট হাসির ছাপ। মৃন্ময়ী ওর চোখমুখের দিকে তাকিয়ে লজ্জা পেয়ে গেল।

শুভ্র মৃন্ময়ীকে আরো কাছে টেনে নিতেই মৃন্ময়ী লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলল।

মৃন্ময়ী হঠাৎ অনুভব করল ওর কানের কাছে গরম নিঃশ্বাস পড়ছে। মৃন্ময়ীর শরীর অজানা শিহরণে বারবার শিহরিত হচ্ছে।

শুভ্র মৃদু স্বরে বলল,

-এই যে ম্যডাম আপনি একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ভুলে যাচ্ছেন!

মৃন্ময়ী এতটাই শিহরিত যে কথা বলতে চাইলেও গলা থেকে শব্দ ওপরে উঠছে না।

শুভ্র বলল,

-আপনার মায়ের ছবিটা তখন ও বাড়িতে ভুলে ফেলে এসেছিলেন।

মৃন্ময়ী সাথে চোখ খুলে অবাক হয়ে চেয়ে রইলো শুভ্রর দিকে

শুভ্র মুচকি হেসে মৃন্ময়ীর হাতে ওর মায়ের ছবিটা দিয়ে ওকে বিদায় জানিয়ে বাসার পথে ফিরতে লাগল।

একচল্লিশ.

শুভ্র রাস্তায় হাঁটছে আর ভাবছে সন্ধ্যায় মৃন্ময়ী ওরকম রিয়্যাক্ট করল অথচ এখন কতটা ভালো ব্যবহার করল।

চিঠিটা শুভ্রর পকেটেই আছে। ও সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না, রাস্তায় দাঁড়িয়ে চিঠিটা পড়ে ফেলবে নাকি বাসায় গিয়ে পড়বে!

শেষে শুভ্র সিদ্ধান্ত নিলো বাসায় ফিরেই চিঠি পড়বে।

বাসায় ফিরে দেখল শুভ্রা শুভ্রর জন্য বসে আছে।

শুভ্র ঘরে ঢুকতেই বলল,

-বড় হয়েছিস তাও তোর বুদ্ধিসুদ্ধি হলো না রে! বাসায় কেউ তোর জন্য ওয়েট করে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সেটা বোধহয় ভুলে যাস।

শুভ্র শুভ্রার কথা শুনে ফিক করে হেসে ফেলল।

তারপর বলল,

-ওলে বাবালে আমাল ময়ূরাক্ষী..!

বলেই শুভ্র শুভ্রার কাছে যাচ্ছিল। শুভ্রা তখন বলল,

-থাক আর আদিক্ষেতা করতে হবে না। আসেন। টেবিলে খাবার আছে..!

শুভ্রা ঘরের ভিতরে চলে গেল।

খাওয়া দাওয়া শেষ করে। শুভ্রার পড়াশোনার খোঁজ নিয়ে ওকে একটু পড়াশোনা দেখিয়ে দিয়ে শুভ্র নিজের ঘরে চলে আসল।

বিছানায় হেলান দিয়ে শুভ্র চিঠিটা পড়তে শুরু করল,

“শুভ্র আমি তোমাকে ভালোবাসতাম আর এখনও বাসি৷ তুমি হয়তো কখনওই আমাকে ভালোবাসতে পারোনি।

সমস্যা নেই। পৃথিবীর সব চাওয়া পাওয়া গুলো একসাথে কেউ কখনও পায় না। তবে নিজের ভালোবাসার ওপর বিশ্বাস থাকলে নাকি পায়। কিন্তু আমি চাই না মৃন্ময়ী আমার জন্য কষ্ট পাক।

ও খুব ভালো মেয়ে।

পারলে ওকে ভালো রেখো। ওর সাথেও যেন অন্যদের মতো করো না।

ইতি
অন্তরা। “

চিঠি পড়ে শুভ্র হতবাক! কিসের ভিতরে কী হচ্ছে ও বুঝতে পারছে না।

এই অন্তরার আগমনটা কোথা হতে!
আর মৃন্ময়ীর খবরই বা ও জানলো কীভাবে !

আশ্চর্য তো!

শুভ্রর মাথা মনে হচ্ছে বন বন করে ঘুরছে!

একটা রাত তারপর শুভ্র বেঁচে থাকবে কিনা তার ঠিক নাই।

আগামীকালকের অপারেশন করে আপাতত সেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া এ জীবন থেকে ওর মুক্তি।

চিঠিটার বিষয়ে শুভ্র আর মাথা খারাপ করছে না। যার চিঠি হয় হোক গা তাতে ওর কী!

এটা ভেবেই নিজেকে ঠান্ডা করবার চেষ্টা করছে ও। তারপরও মনের ভিতরে কেমন যেন ওর করছে।

এই অপারেশন শেষ করে পরীক্ষা দিয়ে ভালো একটা চাকরী খুঁজে নিয়ে মৃন্ময়ীর সাথে এক পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হবে শুভ্র।

এসব চিন্তায় ওর মাথায় ঘুরছে!

শুভ্র জানালার ধারে জানাল খুলে বসে আছে। এ বছরের শীতকালটা কেমন করে যেন চলে গেল!

তেমন শীত পড়েনি। জানুয়ারি মাসে আগে কেউ চাদর গায়ে ছাড়া বাইরে যাওয়ার কল্পনাও করত না।

শুভ্র দেখল দূর আকাশ থেকে একটা লক্ষী পেঁচা এসে নারিকেল গাছে এসে বসল।

শুভ্রর এখন আর কারও কথা ভাবতে ভালো লাগছে না। শুধু মনে হচ্ছে মনের কল্পনায় মৃন্ময়ীকে এনে অন্তহীন চিন্তা করতে।

মৃন্ময়ীর কথা মনে হতেই শুভ্রর মন খারাপ হয়ে গেল।

থার্টি ফাস্ট নাইটে পিকনিকের রাতে মৃন্ময়ীর বলা কথাগুলো এখনো কানে ভাসে ওর।

সেদিন যখন শুভ্রর সাহায্যে মৃন্ময়ী হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক ড্রেসিং সেরে ক্যাম্পাসে ফিরে এসেছিল তখন শুভ্রকে সবাই বলেছিল নষ্ট মেয়ের সাথে নষ্টামি করতে শুভ্রর লজ্জা লাগে না!

শুভ্র তখন খেপে গিয়ছিল খুব। মৃন্ময়ীর দিকে চিৎকার করে বলেছিল

-সবাই যা বলছে সব সত্যি মৃন্ময়ী?

মৃন্ময়ী কোনো জবাব দিয়েছিল না। শুধু কেঁদে গিয়েছিল।

শুভ্র মৃন্ময়ীর কাছে গিয়ে ওর দুহাত ধরে ঝাঁকিয়ে বারবার বলেছিল

-বল মৃন্ময়ী, বল..! সত্যিটা কী বল..! বলে দে এদের তুই নষ্ট নস। তুই সবার মতই ভদ্র, সভ্য।

মৃন্ময়ী বারবার সেদিন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিল।

যখন শুভ্র শেষবারের মতো ওকে চিৎকার করে বলেছিল,

-তাহলে কি ওরাই সত্যি কথা বলছে! ওরাই কি ঠিক মৃন্ময়ী?

মৃন্ময়ী কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করে উঠে বলেছিল,

-পরিচয়হীনতার যে কী জ্বালা তা যদি তোরা জানতি তাহলে আজ আমাকে বারবার নোংরা কথাগুলোর সাথে জড়ানোর কথা ভাবতিও না।

নিজের জীবনের ভয়ংকর অতিত যদি কারও থাকত তাহলে তোরা আজ বারবার আমাকে কথাগুলো বলতিস না…

একটা মেয়ের পড়াশোনা যখন শেষের পথে তখন সে যখন জানতে পারে তার পরিবারের নোংরা ইতিহাস, যখন জানতে পারে তার বাবা একজন খুনি…!

এক নারীর দেহের প্রতি আকর্ষিত হয়ে আরেকজন নারীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়,

যখন জানতে পারে মেয়েটা নিজে একজন পরিচয়হীন মানুষ,

তখন কি সেই মেয়েটার সবার সাথে আড্ডা মেরে ঘুরে বেড়ানোর কথা?

সবাই চুপ হয়ে গেছে। কারও মুখ থেকে কোনো কথা সরছে না।

মৃন্ময়ীর বলা শেষ কথাগুলো বারবার সবার মাথার ভিতরে আঘাত করছিল।

মৃন্ময়ী কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল,

-তোরা আসলে শুধু মুখেই বলিস ফ্রেন্ডসৃ ছাড়া লাইফ অচল। এগুলো সব আবেগের কথা তোদের! তাই যদি হতো তাহলে আজ আমি তোদের চোখে নষ্ট মেয়ের সন্দেহের তালিকায় থাকতাম না রে!

কাউকে কখনো ভালোবাতে পারিস বা না পারিস অন্তত কাউকে অপবাদ দিস না, কোনোকিছু না জেনে…!


কথাগুলো ভাবতে ভাবতে শুভ্রর চোখের জল গড়িয়ে পড়ল।

শুভ্র একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ভাবতে লাগল, মৃন্ময়ীর কথা!

গভীর ভাবে ভাবতে গেলে যা দাঁড়ায় তা হলো , মৃন্ময়ীর পৃথিবীতে কেউ নেই!

মৃন্ময়ীর কাছ থেকে শুভ্র যতদূর শুনেছিল তাতে সে জানতে পেরেছে মৃন্ময়ীর বাবা মৃন্ময়ীর মাকে মেরে ফেলে। আর বর্তমানে যে মহিলার সাথে থাকেন তাকে বিয়ে করেন।

শুভ্রর বাবা আগে ঢাকার বেড়িবাঁধ অঞ্চলে থাকতেন। নিম্ন রোজগারের মানুষদের আবাস স্থল এটা। 
খুব কষ্ট করে দিনযাপন করতেন।

মৃন্ময়ীর মা, বাবা আর ছোট্ট অবুঝ ও। ভালোই কেটে যাচ্ছিল ওদের সংসার।

শুধু খাওয়া দাওয়া, ঘুরাঘুরি আর শরীরের সব জৈবিক চাহিদা পুরোণ হওয়াকে সুখী পরিবার বলে না। মনের সুখ তো সব থেকে বড় সুখ.!

শুভ্রর কেন যেন বিশ্বাস করতে হচ্ছে মৃন্ময়ীর বাবা ওর মাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছে!

শুভ্র উঠে দাঁড়াল। আগামীকাল বৃহস্পতিবার। ওকে এখনই রেডি হতে হবে।

হঠাৎ নিহারিকার কথা মনে হলো। ওকে একবার বলার দরকার ওই নোংরা শিক্ষকের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেয় শুভ্র। নয়তো অপারেশন থেকে ফিরতে পারলে ওকে শেষ করবে।

তেতাল্লিশ.

নিহারিকা “শারমিন আক্তার সাথী” এর ২০১৯ বইমেলায় প্রকাশিত হতে চলা “সমীকরণের মিশ্রণ” বইটার অর্ডার করছিল ফোনে।

নিহারিকা বইটার দুইটা কপি অর্ডার করেছে। একটা নিজের জন্য। আরেকটা শুভ্রর জন্য।

লেখিকাটা নিহারিকার খুব প্রিয়। তাই নিহারিকার ইচ্ছা প্রিয় লেখিকার বই প্রিয় মানুষকে আগে দিবে।

নিহারিকার ইচ্ছা নিজের হাতে শুভ্রকে বইটা গিফট করবে।

আজকাল তো সবাই গার্লফ্রেন্ডকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে হাজার হাজার টাকার খাওয়াতে ভালো লাগে অথচ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দিয়ে বই কিনতে গেলেই যত অক্ষমতা সামনে এসে হাজির হয়।

নিজের ক্ষতি যেনেও শত শত টাকার সিগারেট প্রতিদিন খাওয়ার সামর্থ্য থাকে অথচ একটা বই কিনতে গেলেই যত সমস্যা হাজির হয়।

জাতিতে ভদ্র সভ্য হলেও মানসিকতায় আমরা খুব নিচু।

অপরকে অপদস্থ করে আনন্দ পায়।

রাত বারোটা দশ মিনিটে ফোনে বইয়ের অর্ডার করে ফোন রেখে দিতে না দিতেই আবার নিহারিকার ফোন বেজে উঠল।

নিহারিকা তাকিয়ে দেখে শুভ্র ফোন করেছে!

নিহারিকার মনে হলো যেন চোখে ভুল দেখছে। কয়েকবার জোরে জোরে মাথা নাড়িয়ে দেখল ঠিক দেখছে কিনা!

ফোন রিসিভ করতেই শুভ্র বলে উঠল,

-খুব বিজি নাকি! কতক্ষণ ধরে ফোন করে চলেছ বারবার নাম্বারটি ব্যস্ত বলছিল!

-ওই ফোনে একজনের সাথে কথা বলছিলাম।

-ওও! স্পেশাল কেউ বুঝি!

নিহারিকা বিছানায় শোয়া থেকে উঠে বসল। ফোনটা ডান কান থেকে বাম কানে এনে বলল,

-আরে না না! তা নয়। আসলে একটা বইয়ের অর্ডার করছিলাম!

-ওহ্ আচ্ছা..!

-তা আপনি হঠাৎ এ নাম্বারে কী মনে করে! ভুলে ডায়াল হয়নি তো!

-হা হা হা। না না ভুলে না। আপনার সাথে একটা বিষয়ে আলাপ করার ছিল।

-জি বলুন।

-শুভ্রার বিষয়ে। জানেনই তো আমার বোন আমার জীবনে কী! ওকে ছোঁয়া তো দূরের কথা ওর দিকে কেউ তাকালেও তার চোখ তুলে নিতে আমি দ্বিধা করি না।

ওদের স্কুলের “শারিরীক শিক্ষা ” এর শিক্ষকের একটা বিহিত আপনাকে করতে হবে।

-জি আমি আগামীকাল ব্যস্ত থাকব তো। পরশু দিনই প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে কথা বলে উনার ব্যবস্থা করব।

-প্লিজ পরশু দিন না। আগামীকাল সকালের ভিতরে।

-কিন্তু আগামীকাল…

-প্লিজজজ…!

-আমি ট্রাই করব..

-ট্রাই নয়। আগামীকাল সকালে করবেন প্লিজ! আমি কী বলতে চাইছি আশা করি বুঝতে পারছেন!

-জি পারছি।

চুয়াল্লিশ.

সকাল সকাল শুভ্র বাসা থেকে বের হয়েছিল মৃন্ময়ীকে ওর হোস্টেলের কাছে গিয়ে সারপ্রাইজ দিবে বলে। যেহেতু আজকে ওদের দেখা হওয়ারও কথা না। আর তাছাড়া মৃন্ময়ীও অনেক খুশি হবে।

কিন্তু গিয়ে ও নিজেই সারপ্রাইজড!

মৃন্ময়ী অপারেশনের জন্য পুরো তৈরি!
শুভ্র হতবাক! মৃন্ময়ীকে ও গতকাল বারবার করে নিষেধ করে বলেছিল যেন অপারেশনে যাওয়ার জন্য বারবার ঝুল না ধরে।

কিন্তু মৃন্ময়ী তৈরি হয়ে হাতে কালো গ্লাভস্ মুখে মাস্ক পরে তৈরি হয়ে গাড়ির ভিতর বসে আছে।

সব থেকে বড় কথা ওদের অপারেশনের জন্য ঠিক করা গাড়ি মৃন্ময়ীর হোস্টেলের সামনে দাঁড়িয়ে!

শুভ্র অবাক না হয়ে পারল না। ও এতক্ষণ খেয়ালই করেনি যে ওর সামনে গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল এবং মৃন্ময়ী ওর ভিতরে বসে।

শুভ্র মৃন্ময়ীর হোস্টেলের দিকে ধীর পায়ে হাঁটছিল। হাতে ফোন ছিল মৃন্ময়ীকে ফোন করার জন্য।

হঠাৎ খেয়াল করল পিছন থেকে কে যেন ওট নাম ধরে ডাকছে। ওইদিকে শুভ্র তাকাতেই দেখে মৃন্ময়ী মুখে মাস্ক পরে বসে আছে। ওর চোখ দেখে শুভ্র বুঝতে পারল যে মৃন্ময়ী শুভ্রর দিকে তাকিয়ে হাসছে।

শুভ্র বোকা বনে গিয়েছে। অপারেশনের গাড়ি এখানে মানে ওর বসও জানে যে মৃন্ময়ী অপারেশনে যাচ্ছে!

শুভ্র গাড়ির কাছে গিয়ে পৌঁছাতেই মৃন্ময়ী ইশারায় চুপ করতে বলে গাড়িতে উঠতে বলল।

শুভ্র গাড়িতে উঠে বসে কিছু বলতেই মৃন্ময়ী শুভ্রর ঠোঁটের ওপর হাত রেখে বলল,

-একদম চুপ। শুভ্রর আরেক নাম মৃন্ময়ী। ভুলে যাস না এটা কেমন।

-কিন্তু মৃন্ময়ী.!

-চুপ করতে বললাম না।

শুভ্র চুপ করে গেল। গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। এগিয়ে চলেছে ওদের টার্গেট প্লেসের দিকে।

পয়তাল্লিশ.

মোনালিসাকে আজ কয়েকদিন পর একটা শুকনা রুটি খেতে দেওয়া হয়েছে। বদ্ধ ঘরে আটকে রাখায় মোনালিসার প্রাণ যায় যায় অবস্থা।

শরীর একবারে দূর্বল হয়ে গেছে ওর। সামনে রুটি আছে অথচ ও খাচ্ছে না।

বারবার মৃন্ময়ীর বাবার দিকে করুণ চোখে তাকাচ্ছে ও। চোখের কোণে বাঁচার জন্য আঁকুতি.!

মৃন্ময়ীর বাবা খসখসে গলায় বলল,

-কেন করলে এমন মোনালিসা!

-আমি কিছু করিনি। করেছে মৃন্ময়ীর ভাগ্য

-তুমি না বললে মৃন্ময়ী কখনো কিছুই জানতে পারত না।

-আমি না জানালেও ওর কাছে তথ্যগুলো পোঁছে দেওয়ার অনেকে যে আছে আশা করি তুমি সেটা জানো।

-রহিমার মা ছাড়া কেউ নেই!

-ও ই বা কম কিসের.!

-ও কখনোই বলত না।

– না বলার তো কোনো কারণ নেই। তোমরা ওকে যে ভয়টা দেখিয়ে আটকে রেখেছিলে তা তো আর নেই। এখন অবিশ্বাস করতে শুরু করেছে! তাহলে ও কেন চুপ করে থাকবে?

-কারণ সত্যিটা ও জানে না।

-মানেহ্!

-হ্যাঁ। পুরোটা তো তুমি নিজেও জানো না মোনালিসা!

মোনালিসা বিস্মিত নয়নে মৃন্ময়ীর বাবার দিকে তাকাল।

-আমি জানি না মানে! সঠিক টা তাহলে কী!

মৃন্ময়ীর বাবা চেয়ারে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন। অন্ধকার বদ্ধ ঘরটাশ কিছুক্ষণ ধীর পায়ে হাঁটা শুরু করলন। তারপর ধীরে ধীরে বলতে লাগলেন,

-কিছুক্ষণ পর তো চলেই যাবে পৃথিবী ছেড়ে। কিছু সত্যি না হয় জেনেই যাও!

তোমরা সবাই জানো তোমরা বলতে তুমি শুধু জানো রহিমা মাকে আমরা ভয় দেখিয়ে যে রহিমার বাবাকে আমি আটকে রেখেছি।

এবং এতদিনে যখন কোনো খোঁজ নেই তারমানে সে মারা গেছে তাই তো.?

মোনালিসা ধীরে মাথা একবার উপর নীচ করল।

মৃন্ময়ীর বাবা আবার বলা শুরু করলেন,

-তোমরা ভুল জানো। আসলে রহিমার বাবাকে আমি কোথাও আটকে রাখিনি।

মোনালিসা অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করল তাকিয়ে আছে মৃন্ময়ীর বাবার দিকে।

মৃন্ময়ীর বাবা বললেন,

-হুঁ। রহিমার বাবা আসলে বিদেশে ছিলেন প্রায় বিশ বছর। মৃন্ময়ীর মা মারা যাওয়ার পর আমি ওকে টাকার লোভ দেখায় যেন কোথাও কোথাও না বলে। কারণ ওরা তখন খুব কষ্টে দিনযাপন করত।

পরে আমার বর্তমান স্ত্রী বুদ্ধি দেয় রহিমার বাবাকে বিদেশ পাঠিয়ে দিতে। সেখানে তাকে একটা কাজ খুঁজে দিই। ও ওখানে কাজ করতে থাকে।

রহিমা আর ওর মাকে কাজে নিই আমাদের বাড়িতে৷ দায়িত্ব দিই মৃন্ময়ীকে মানুষ করবার। কারণ তখন আমার আর কিছুই করার ছিল না।

আমি তখন কাঠের পুতুল। আমার নামে কেস চলছে থানায় যে মৃন্ময়ীর মাকে আমি খুন করেছি।

মৃন্ময়ী বাবা একবার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তারপর হাঁটতে হাঁটতে ঘরের এক জায়গায় ভাঙা টেবিলের ওপর বসে বলতে লাগলেন,

– আমার তখন যা ইনকাম তাতে দু’বেলা ঠিকমতো খাওয়া দাওয়াও করতে পারতাম না। আর কেস চালানো মানে তো চাঁদে বেড়াতে যাবার মতো অনেকটা।

ঠিকমত উকিল না ঠিক করলে আমাকে জেলে পঁচে মরতে হতো।

আর আমার মৃন্ময়ী মা কোথায় বড় হতো ও ? কোথায় থাকত? কী খেতো? কী করত? বস্তির ওই নোংরা পরিবেশে মৃন্ময়ী বড় হবে সেটা আমি বা মৃন্ময়ীর মা কেউই কোনোদিন চাইনি।

মোনালিসা বলে উঠল,

-সেইজন্য মৃন্ময়ীর কাছে সত্যিটা গোপন করে একে বিয়ে করে ফেললে!

-কী ই বা করতাম তখন! নিজের চলার পয়সা নেই, সেখানে ওকে কীভাবে মানুষ করতাম!

-তাই বলে একটা চরিত্রহীন মেয়েকে!

মৃন্ময়ীর বাবা চুপ করে গেলেন। তার আর ভালো লাগছে না। মনে হচ্ছে পৃথিবী থেকে অন্য কোথাও গিয়ে ঘুরে আসার সুযোগ থাকলে ঘুরে আসতেন।

মৃন্ময়ীর বাবা আস্তে করে বললেন,

-বড় লোকের মেয়েদের কখন কাকে ভালে লাগে তা তো বলা মুশকিল। আর যাকে ওদের ভালো লাগে তাকে পেতেই ওরা মরিয়া হয়ে ওঠে। প্রয়োজনে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে! আমি তো শুধু এক ভুক্তভোগী…!

-তুমিই বা কম কিসে! মৃন্ময়ীকে মানুষ করার জন্য বিয়ে করলে আদৌ ও শান্তিতে মানুষ হয়েছে তো!

– অবশ্যই হয়েছে! রহিমার মা সম্পর্কে ওর নানী হয়। তাই সারাক্ষণ আপামনি বলে ডাকে!

-তাহলে তো আপাকে মেরে ফেলে ভালোই সুখে আছ তুমি!

-হুঁ, আছি বৈকি! সুখে আছি আরও সুখের থাকের ব্যবস্থা করেছি!

-মানে.!

-এই যে এখন তোমাকেও এবার পাঠিয়ে দিই ওপরে!

মৃন্ময়ীর বাবা বন্দুক মোনালিসার কপাল বরাবর তাক করে ট্রিগারে আঙুল ঠেকালেন।

ট্রিগারের দিকে ইশারা করে বললেন,

-কত শক্তি তাই না এটার! ছোট্ট একটা চাপ আর একজনকে সারাজীবনের মতো চুপ করিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট আবার কাউকে সারাজীবনের জন্য জ্বালিয়ে মারার জন্য যথেষ্ট…!

-নিশ্চয়ই সৃষ্টিকর্তার থেকে বেশি শক্তি নয়…!

ট্রিগারে আঙুলের চাপের আওয়াজ হলো আর সাথে সাথে একটা বিকট জোরে শব্দ হলো বদ্ধ রুমের ভিতরে!

ক্ষণকাল পরেই বাইরে একটা গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার আওয়াজ হলো। এবং সেটা চলে গেল৷

ধীরে ধীরে গাড়িটার আওয়াজ মিলিয়ে গেল।

মৃন্ময়ীর বাবা মোনালিসার চেয়ারের কাছে এসে ভীত গলায় বলল,

-বিশ্বাস করো মোনালিসা সেদিন আমি তোমার বোনকে মারিনি।

আমি কাউকে খুন করিনি..! আমার তো সব শেষ! আমি নিঃস্ব!

মৃন্ময়ীর বাবা টলতে টলতে বাইরে চলে গেলেন।

মোনালিসা এখনো থর থর করে কাঁপছে। হাত পা মনে হচ্ছে অবশ হয়ে যাচ্ছে!

ঠোঁট কাঁপছে ওর। ভয়ে গলা শুকিয়ে গিয়েছে। বারবার ভাবছে গুলিটা যদি আর দু তিন সেন্টিমিটার কাছ দিয়ে যেত তবে মোনালিসার খুলি উড়ে যেত এতক্ষণ।

মোনালিসা সিদ্ধান্ত নিলো বেড়িবাঁধের সেই বাড়িটায় যেতে হবে ওকে। অনেক কিছু সামনে আসা এখনো বাকি। আর সব কিছু না জেনেই মৃন্ময়ীকে সবটা বলা তার উচিৎ হয়নি এখন তা ভালোভাবে বুঝতে পারছে!

ছেচল্লিশ.

গাড়ি ছুটে চলেছে টার্গেট প্লেসের দিকে৷ মৃন্ময়ী শুভ্রর কাঁধে মাথা রেখে বসে আছে গাড়ির ভিতরে।

আর ভাবছে পূর্বের দিনগুলোর কথা। অন্যদের মতো মৃন্ময়ীও ভাবতো শুভ্র কী এমন কাজে যায় যে কাউকে বলা যায় না।

কিন্তু যেদিন মৃন্ময়ী শুভ্রর কাছ থেকে সব শুনল ওর মাথায় মনে হচ্ছিল বাজ পড়েছিল।

নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়জনই বা এরকম কাজ এখন করে। তা আবার সম্পুর্ণ বিনা স্বার্থে!

শুভ্রর কাছ থেকে সব যেদিন ও শুনেছিল সেদিন থেকে শুভ্রর প্রতি ওর আলাদা শ্রদ্ধা বোধ জন্মেছে।

আগে শুভ্রকে ভালোবাসতো ও কিন্তু কখনো বলে ওঠা হয়নি। কিন্তু যখন জানতে পারল ওর ভালোবাসার মানুষটা ঠিক কতটা উদার মনের সেদিন থেকে আর মনের গহীনের লুকানো ভালোবাসা আবেগ মৃন্ময়ী লুকিয়ে রাখতে পারল না। প্রকাশ করে দিলো নিজের ভালোবাসাকে। আর জড়িয়ে পড়ল দু’জন দু’জনের প্রণয়ের জালে।

শুভ্রর ধাক্কাতে মৃন্ময়ী হুশ ফিরল। শুভ্র বলল,

-আমরা চলে এসেছি।

মৃন্ময়ী নামার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বাইরের দিকে তাকাতেই দেখে একজন দাঁড়িয়ে আছে।

মৃন্ময়ী অবাক হয়ে তাকে দেখছে। 
মৃন্ময়ী একবার ওই দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার শুভ্রর দিকে তাকাচ্ছে।

শুভ্র হেসে মাথা দু’বার নাড়ল। মৃন্ময়ীর আর বিস্ময়ের সীমা রইল না!

বেড়িবাঁধের বাড়ির সামনে অনেক্ষণ হলো মোনালিসা দাঁড়িয়ে আছে। পঁচিশ বছর আগে এই জায়গাটা কতই না আপন ছিল!

আর আজ! চেনা রূপগুলো আজ অচেনা হয়ে গেছে মোনালিসার কাছে। চোখের সামনে সব থেকেও সব কিছু ঝাপসা এখন।

মোনালিসার কাছে মনে হচ্ছে সবাই যেন একটা রং দ্বারা নিজেকে আবৃত করে রেখেছে। মৃন্ময়ীর মা, মৃন্ময়ীর বাবা, রহিমার মা সবাই!

স্বার্থের জন্য মানুষ যে কেমন হতে পারে তা মোনালিসা আজ কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারছে!

মোনালিসা আগে ভাবত রহিমার মা কত ভালে যে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে মৃন্ময়ীকে মানুষ করেছে। কিন্তু আজকে মৃন্ময়ীর বাবা যা বলল তারপর মোনালিসার মনে হচ্ছে রহিমার মায়ের ওপর তীব্র ঘৃণা জন্মে গেছে।

রহিমার মা এতদিন পড়ে ছিল ও বাড়িতে
মৃন্ময়ীকে ভালোবেসে! অথচ সে পড়ে ছিল তার নিজ স্বার্থে! তার স্বামী বিদেশে ছিল মৃন্ময়ীর বাবার সহযোগিতায় আর এজন্য রহিমার মাও কখনো কিছু বলেনি।

মোনালিসা মাটির দিকে তাকিয়ে একবার থুতু ফেলল। তারপর তাকাল বেড়িবাঁধের সেই বাড়িটার দিকে।

ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে মোনালিসা বাড়িটার দিকে। বাড়িটার দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে বাড়িটা আরও অনেক কিছুর সাক্ষী হয়ে অপেক্ষা করে আছে কাউকে বলার অপেক্ষায়।

মোনালিসা একবার ভাবল মৃন্ময়ীকে ফোন করবে কিনা।

অনেক ভেবে মৃন্ময়ী ফোন করল। কিন্তু মৃন্ময়ীর ফোনে রিং ঢুকল না। বার বার বলছে, এই মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব না।

মোনালিসা ভাবল, সময়কালে কাউকেই পাওয়া যায় না। এটাই স্বাভাবিক।

অনেক কিছু ভাবতে ভাবতে মোনালিসা বাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।

ঘরের কাছে এসে অনেকদিন কারও না আসায় যে পুরোনো একটা গন্ধ থাকে তা পেল ও।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চারিদিকে তাকিয়ে দেখলে কেউ দেখছে কিনা ওকে। তারপর ধীরে ধীরে ভাঙা দরজা ঠেলতে গিয়ে পুরোনো কাঠের দরজা খুলতে গেলে যেমন একটা ভৌতিক শব্দ হয় এবারও তেমনই হলো।

মোনালিসা ঘরের ভিতরে ঢুকে সামনে তাকাতেই ভয়ে চিৎকার করে উঠল…!

সাতচল্লিশ.

শুভ্রাকে নিয়ে ওর মা পড়াতে বসেছে। শুভ্রা পড়া ফাঁকি দিতেও পারছে না। ওর ভাই থাকলে ঠিক ওকে বাঁচিয়ে দিত এখন। মনে মনে ওর ভাইকে শুভ্রা খুব মিস করছে।

শুভ্রা বীজগণিতের অংক শিখেছে গতকাল ক্লাসে সেটাই বারবার প্র্যাকটিস করছে। আর ওর মা বারবার সেটা মিলিয়ে দেখছে ঠিক আছে কিনা।

এমন সময় বাসার কলিংবেল বেজে উঠল,

শুভ্রা সুযোগ পেয়েছে পড়া ফাঁকি দেওয়ার। আর কে আটকায় ওকে। উঠে সোজা চলে গেল দরজা খুলতে। শুভ্রার মাও শুভ্রার পিছন পিছন গেল। আজ যেহেতু বৃস্পতিবার তাই শুভ্রর তো থাকার কথা নয়। বা আসারও কথা নয়। তাহলে কে আসলো!

শুভ্রা দরজা খুলে দিতেই একটা মেয়েকে দেখতে পেল শুভ্রার মা।

জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওই দিকে।

মেয়েটি শুভ্রার মাকে সালাম দিলো। শুভ্রার মা সালামের উত্তর নিলো সঙ্গে সঙ্গে।

শুভ্রার মা জিজ্ঞেস করল,

– মা তুমি…

-আন্টি আমি অন্তরা….

শুভ্রার মা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। তার মনে হচ্ছে মেয়েটা নাম বলছে এক কিন্তু চেহারা বলছে অন্য কিছু।

আটচল্লিশ.

মৃন্ময়ী অবাক হয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার দিকে তাকিয়ে আছে!

শুভ্র মৃন্ময়ীর মাথায় টোকা দিয়ে বলল

-কী রে তাকিয়ে থাকবি নাকি গাড়ি থেকে নামবি!

-আঁ..!

-তোর দেখা শেষ হলে নেমে পড়। অপারেশন শুরু করতে হবে। মনে রাখিস ওদের কাছে অস্ত্র আছে কিন্তু আমাদের কাছে কিন্তু কিছু নাই।

দ্রত নেমে পড়।

মৃন্ময়ী গাড়ি থেকে নেমে সোজা দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার দিকে চলে গেল।

শুভ্রও গাড়ি থেকে নেমে মৃন্ময়ীর পিছন পিছন চলে গেল।

মৃন্ময়ী দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার কাছে গিয়ে বলল,

-তুমি…!

-উঁহু, তুমি নয়, আপনি হবে…

মৃন্ময়ী নিজেই নিজের কপালে সামান্য টোকা দিয়ে বলল,

-ওপস্ স্যরি ভুলে গিয়েছিলাম।

-কেন থাকতে পারি না বুঝি!

মৃন্ময়ী অবাক হয়ে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে দেখে শুভ্র হাসছে।

মৃন্ময়ী আবারি দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলে,

-আপনিও আমাদের সাথে এই দলে আছেন!

-হুঁ!

-কৈ আগে তো বলেননি!

-আমাদের টিমের নিয়মই এটা। এখানকার পরিচিত কেউ কাউকে বাইরে চিনতে পারব না বলতে পারেন না চেনার ভান করতে হবে। শুধু শুভ্রর রিকুয়েস্টই বস আপনাকে আমাদের সাথে যোগদান করার অনুমতি দিয়েছেন!

-আমার না এখনো নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছে না।

-হা হা হা! বিশ্বাস করলে ভালো না করলে নাই!

সবাই হেসে উঠল।

শুভ্র বলল,

-আচ্ছা সামনে এগোনো যাক।… কী রে মৃন্ময়ী কী হলো.!

মৃন্ময়ীর ঘোর এখনো কাটেনি। সব আবার মনে হচ্ছে উল্টাপাল্টা হয়ে যাচ্ছে। কোনো কিছুর সাথে মিল খুঁজে পাচ্ছে না।

মৃন্ময়ী বলল,

– আমি না এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না, নিহারিকা আমাদের সাথে কাজ করছে এবং আজকের অপারেশনে আছে!

শুভ্র একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে টার্গেট প্লেসের দিকে এগোতে লাগল।

 

.

হঠাৎ করে ঘরের দরজা খুলে গেল। একটা যুবতী মেয়ে চৌকিতে পড়ে রয়েছে আর একটা ছেলে দরজা খুলে টলতে টলতে ঘর থেকে বের হচ্ছে।

শুভ্র দরজার এপাশে দাঁড়িয়ে আছে আর শুভ্রকে কাভার দেওয়ার জন্য নিহারিকা শুভ্রর পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। আর দরজার অপর দিকে মানে যেদিক থেকে সহজেই দেখা যাবে যে দরজা দিয়ে কেউ ঢুকছে বা বের হচ্ছে কিনা সেখানে মৃন্ময়ীকে দাঁড়িয়ে আছে।

সবাই নিজ নিজ অবস্থানে খুবই সতর্কতার সাথে দাঁড়িয়ে আছে। ওরা নিজেদের মাঝে পজিশন গুলো এমন ভাবে সেট করেছে যেন অতর্কিত হামলা হলে সবাই সবাইকে কাভার দিতে পারে।

শুভ্র দাঁড়িয়ে আছে এ্যাটাক পজিশনে আর ওকে কাভার দিবে নিহারিকা। শুভ্রর ঠিক অপজিটে দাঁড়িয়ে আছে মৃন্ময়ী ।

মেরুদন্ডহীনরা সবসময় পিছন থেকে ছোরা মারে সেজন্য শুভ্র গভীর ভাবে মৃন্ময়ীর দিকে লক্ষ্য রাখছে যাতে কেউ আসলে সতর্ক করার সময় না পেলেও ও নিজে গিয়েই মৃন্ময়ীকে কাভার করতে পারে।

আর নিহারিকা শুভ্রর পিছনে দাঁড়িয়েছে। যাতে শুভ্রকে কেউ পিছন থেকে আঘাত হানতে আসলে সে কাভার দিতে পারে। এতে যদি ওখানে নিহারিকাকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হয় তবুও নিহারিকা রাজি।

যেকোন মুল্যে অপারেশনটা সফল হওয়ায়ই চায়।

শুভ্র প্রথমে রাজি ছিল না। ও চাচ্ছিল নিহারিকা আর মৃন্ময়ী যেন একসাথে থাকে এবং যেকোন হামলায় পরস্পর পরস্পরকে কাভার দিতে পারে।

কিন্তু ঝামেলা করে বসে মৃন্ময়ী। তার একটাই কথা সে শুভ্রকে কাভার দিবে।

কোনো ভাবেই তাকে বোঝানো যাচ্ছিল না। মৃন্ময়ী ক্রমাগত জেদি হয়ে উঠছিল।

এদিকে সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। টার্গেট প্লেসের প্রথম লোকটা ঘরের ভিতর থেকে বেরিয়ে ওদের হেড কোয়ার্টারে গিয়ে রিপোর্ট করবে যে মেয়েগুলোকে কিডন্যাপ করা হয়েছে তাদেরকে বিক্রি করলে আদৌ লাভ হবে কিনা। মেয়েগুলোকে কি বিক্রি করবে নাকি নিজস্ব পতিতালয়ে পাঠাবে তা এই লোকটার রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে।

আর শুভ্রদের ফাস্ট টার্গেটও এই লোকটা। কোনোভাবে যদি লোকটা মিস হয়ে যায় তাহলে আজকের অপারেশন পুরো ব্যর্থ হয়ে যাবে৷

আর কোনো ভাবে যদি আজকের অপারেশন ব্যর্থ হয় তাহলে প্রায় ১৩৫ জন তরুণী নিক্ষিপ্ত হবে এক অন্ধকার জগতে যেখানে সমাজের কুকুর গুলো তাদের নিষ্পাপ দেহকে ক্রমাগত ভোগ করবে।

শুভ্রদর পাওয়া তথ্য অনুযায়ী অধিকাংশ তরুণীকে পাঠানো হবে বাইরের দেশে। উচ্চ মুল্যে তাদের বিক্রি করা হবে। দেহব্যবসার জন্য বাইরের দেশে বাংলার মেয়েদের চাহিদা বেশি। কথাটা শোনার পর মৃন্ময়ী চোখ বড় বড় করে তাকিয়েছিল শুভ্রর দিকে।

দেহব্যবসা শব্দটা শুনে তার লজ্জা লেগেছিল খুব। চোখ মুখ লালা হয়ে গেছিল। কান মনে হচ্ছিল গরম হয়ে গেছিল তখন।

কিন্তু পরক্ষনেই যখন মনে হলো শব্দটা শুনেই সে লজ্জা পেল আর যারা প্রতিনিয়ত স্বীকার হচ্ছে এই নিম্ন মানসিকতার লোকদের অত্যচারের! তাদের কী হচ্ছে! তারা তো প্রতিনিয়ত অত্যচার ভোগ করছে আর শুভ্ররা ঠিক ওদের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করছে কোনোরকম স্বার্থ ছাড়াই।

মৃন্ময়ী যেদিন প্রথম শোনে শুভ্র এই কাজ করার জন্য প্রতি সপ্তাহে এই দিন কাউকে না বলে চলে আসে সেদিন থেকে শুভ্রর ওপর আলাদা সম্মান বোধ জন্মায় ওর। 
মৃন্ময়ী ওয়েল ট্রেইন্ড না সাথে অভিজ্ঞতাও কম এটা বলে শুভ্র ওকে নিজের সাথে না রেখে অপজিটে পজিশন দিলো যাতে সে সবসময় মৃন্ময়ীর ওপর নজর রাখতে পারে কেউ যেন হামালা৷ না চালায় ওর ওপর।

নিহারিকাকেও নিষেধ করেছিল বারবার কিন্তু লাভ হয়নি আর হতোও না তা শুভ্র ভালো করেই জানে কারণ এর আগের অপারেশনে যখন একটা অনাথাশ্রমে অপারেশন করেছিল মেয়েদের উদ্ধার করতে সেখানে নিহারিকাকে তার কথা অনুযায়ী প্লেস না দেওয়ায় নিজেই আশ্রমে ঢুকে গিয়েছিল।

কিন্তু আজকেরটা সব থেকে হার্ড অপারেশন। শহরে সবথেকে ভয়ানক এই স্ম্যাগলার টিম৷ কোনোরকমে অস্ত্র ছাড়াই শুধু বুদ্ধি দিয়ে যুদ্ধ করা অনেক কঠিন। তাই শুরুতেই ঝামেলা হোক তা শুভ্র চায়নি। তাছাড়া এখানে তিনজনের প্রাণের ঝুঁকি আছে। আদৌ ওরা বেঁচে ফিরতে পারবে কিনা তা এখনো ঠিক নায়।

শুভ্রর চোখের সামনে বারবার ওর বোন শুভ্রার চেহারা ভেসে উঠছে৷ শুভ্র মনে মনে ভাবছে,

– আচ্ছা আমি যদি আর কখনো ফিরে না যেতে পারি তবে কি ময়ূরাক্ষী আমার ওপর অভিমান করবে? আমাকে কি ও ভুল বুঝবে? আমার জন্য আর কি রাত এগারোটা পর্যন্ত টেবিলে ভাত নিয়ে মুখ ফুলিয়ে বসে থাকবে বারান্দায় গেটের কাছে!

আমার ঘরে গিয়ে সব বই খাতা কি ও আর এলোমেলো করে আসবে! আমার অনুপস্থিতিতে কি আমার খাতায় কি আর লেখে আসবে ও, “শুভ্রর শুভ্রা আইসক্রিম খেতে চেয়েছে, দয়া করে পাঁচ টাকা দামের দুইটা আইসক্রিম আনবেন । শুভ্রা আর ওর ভাই দু’জনে একসাথে বসে খাবে। ” আর কি লিখবে ও এসব! আমার বোনটার চাওয়া পাওয়ায় তো খুব বেশি না! খুবই অল্প! কখনো দামি কিছু নিতে চায় না আমার পাগলী বোনটা!

পাগলীটা তো আমাকে ছাড়া একবেলাও সহজে খেতে চায় না। পাগলীটার তো সব অভিমান, অভিযোগ, আবদার আমার কাছেই! আমারও তো সবকিছু ওই পাগলীটাই জুড়ে আছে। আমার ময়ূরাক্ষী আমার জীবন আমার নিঃশ্বাস!

ও কি সত্যি সময়ের সাথে আমাকেও ভুলে যাবে!

শুভ্রর চোখের কোণ থেকে জল গড়িয়ে পড়ল।

মৃন্ময়ী দরজার দিকে তাকিয়ে আছে। ঘর থেকে ওই লোকটা টলতে টলতে আসছে মনে হয় রাতে মদ খেয়েছে প্রচুর। লোকটা এখনো ওদের টার্গেট প্লেসের কাছে আসেনি তাই মৃন্ময়ীও কোনোরকম সংকেত দিতে পারছে না।

আগত সময়ের জন্য তিনজন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে। তারা যেকোন কিছু বরণ করে নিতে প্রস্তুত.!

উনপঞ্চাশ.

-তোমাকে তো চিনতে পারলাম না মা…

-আমি অন্তরা আন্টি… শুভ্র আছে বাসায়.

-না। কেন..

-ও! না আন্টি তেমন কিছু না। একটু দেখা করতে চাচ্ছিলাম।

-ও বাসায় নেই এখন। তুমি চাইলে ভিতরে এসে বাসতে পারো। তোমাকে তুমি করে বললাম কিছু মনে করো না আবার।

-না না আন্টি সমস্যা নাই! কী মনে করব।

-ভেতরে এসো মা…

-শুভ্র কখন আসবে আন্টি?

শুভ্র অন্তরার দিকে তাকিয়ে বলল,

-ও কাজে গেছে। এখন ফিরবে না৷ কী হয়েছে আমাকে বলেন আমি বলে দিবোনি!

-তুমি শুভ্রা, রাইট?

শুভ্রা চোখ ওপরে তুলে আড় চোখে তাকিয়ে বলল,

-শুভ্রা রাইট না আমি শুধু শুভ্রা..!

অন্তরা হেসে ফেলল শুভ্রার কথা শুনে।

অন্তরাকে ভিতরে বসতে দিয়ে শুভ্রর মা ঘরের ভিতর থেকে নাস্তা নিয়ে এসে বসল।

শুভ্রর মা সোফায় বসে বলল,

-মা তুমি কি অসুস্থ কোনো কারণে!

অন্তরা চোখ তুলে তাকাল শুভ্রর মায়ের দিকে। তারপর একটু হাসার চেষ্টা করে বলল,

-ক.ক.কই না তো আন্টি! অ অসুস্থ না ত তো..!

অন্তরা পরিবেশ ঠিক করার জন্য হাসার চেষ্টা করছিল। 
অন্তরার চোখ শুধু বাড়ির একোণ থেকে ওকোণ শুভ্রকে খুঁজে চলেছে।

শুভ্রা বলে উঠল,

-এ কী! আপনারা হাত থেকে ক্রমাগত রক্ত পড়ছে! হাতে ব্যন্ডেজ কেন আপনার! কী হয়েছে আপনার…

অন্তরা ঢোক গিলল। তারপর মেকি হাসি হেসে বলল,

– না তো বাবু কিছু হয়নি তো!

শুভ্রর মা অন্তরার হাতের দিকে তাকিয়ে বলল,

-তাই তো! আগে খেয়াল করিনি তো! মা তোমার চোখ মুখ কেমন হয়ে যাচ্ছে! কিছু হয়েছে তোমার! আমাকে বলতে পারো তুমি!

অন্তরা মেয়েটি হাতে গুজে রাখা একটা চিঠি শুভ্রার হাতে দিয়ে বলল,

-আন্টি শুভ্র বাড়ি ফিরলে এটা ওকে দিয়েন। আমি এখন চললাম…

অন্তরা মাথায় দু’হাত চেপে ধরে দাঁড়িয়ে কাঁপতে কাঁপতে হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

শুভ্রর মা বলে উঠলেন,

-তুমি তো অসুস্থ! কোথায় যাবে এখন! বসো এখানে আমি ডাক্তার ডাকছি..

-ন না ডাক্তার ডা ডাকা লাগবে ন না.!

অন্তরা তোতালাচ্ছে আর মাথায় হাত দিয়ে চেপে ধরে সামনে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করতেই সোফার ওপর পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারালো..!

চলবে,

About Author


Administrator
Total Post: [337]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy
Copyrighted.com Registered & Protected