ভিলেন [শেষ অংশ]

লেখাঃ রাফসান সাইদুল

হঠাত করেই একদিন রাফসানের কাছে সংবাদ এলো.
“অ্যান্থনি আর নেই. মৃত্যু হয়েছে ওর”

রাফসানের মনে ধুক করে একটু শব্দ হলো.. কি হলো বুঝতে পারছিল না রাফসান। কিছুদিন আগেও তো অ্যান্থনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল হঠাৎ কি হলো বুঝতে পারেনি। ভার্সিটির ক্লাস রেখে চলে যায় হাসপাতাল এ। অ্যান্থনির মৃতদেহ পড়ে আছে মর্গে। এই দেহটার বিশ্বাস নেই, কখন যে চলে যায় বুঝা মুশকিল, যে মানুষটাকে পুরো বিশ্বের মানুষ ভয় পেত, তার কাজকে সেই মানুষটাই আজ মৃত। তবে এটা সিক্রেট ই থাকবে। যদি কেউ জানতে পারে অ্যান্থনি নেই তাহলে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। নিরবেই স্ব-সম্মান এই অ্যান্থনি লাশটা কবর দেওয়া হয়। দুদিন একদম নিরব, পুরো গ্যাং যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল কিছু সময়ের মাঝেই.

দুদিন পরে অ্যান্থনির উকিল গ্যাং এগ্রিমেন্ট নিয়ে হাজির। সেখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে, যদি অ্যান্থনির মৃত্যু হয়, পরবর্তী গ্যাং লিডার রাফসান হবে। সেটা দেখে রাফসান স্তব্ধ হয়ে আছে.! কীভাবে কি হলো বুঝতেও পারেনি, অ্যান্থনি রাফসানকেই কেনো গ্যাং লিডার করবে বুঝার বাহিরে ছিল তখন ওর কাছে সবকিছু। পুরো গ্যাং এর লোক গুলো রাফসানের সামনে অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাগতম জানায় ব্লাক-ড্রাগন কিং হিসাবে। রক্ত টগবগ করছে এখন ওর। চাওয়ার চাইতে বেশি কিছু যে পেয়ে গেছে।

টিং টং করে ফোন বাজছে রাফসানের। এখন এখানে ওর ফোন তুলে দেওয়ার জন্যও দুজন গার্ড রয়েছে, 
ফোনটা রাফসানের কাছে নিয়ে আসে একটা গার্ড। ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখে অনামিকার ফোন। ওর ফোন পেয়ে রাফসান একদম অন্যরূপে চলে আসে। 
রাফসান:- হ্যালো.. 
অনামিকা:- কোথায় তুমি.? আর আমার ফোন রিসিভ করোনি কেনো এতদিন.?
রাফসান:- আসলে আমি একটু জরুরী কাজে বাহিরে আছি.! 
অনামিকা:- আমার থেকেও তোমার কাজ বেশি ইম্পরট্যান্ট হয়ে গেলো.?
:- আরে বাবা শুনো না রাগ করো কেনো.?
:- রাগ করবো না.? কতদিন ফোন রিসিভ করোনা কথা বলোনা দেখা করোনা। 
:- আমার বাবুটার দেখি কত রাগ। 
:- ঢং করবা না একদম না। তোমার মত ছেলেদের আমার চিনা আছে। রাতে কোন মেয়ে বিছানায় ছিল বলোতো। 
:- ছিঃ অনামিকা। এসব কি বলো.? মেয়ে.? আমি তো তোমার কাছেই আশিনা আবার অন্য মেয়ে ভাবতেই ঘৃণা হচ্ছে, 
:- হয়েছে শাধু সাজতে হবে না। বলো কখন দেখা করবে.?
:- বিকালবেলা সমুদ্রতীরে.?
:- উমমম তাহলে সন্ধ্যার পরে একসাথে জোসনা দেখবো।
:- হুম। 
:- ওকে বাই..
:- ওয়েট. এই এই শুনো অনু!
:- হুম বলো. 
:- ইয়ে দেওনা একটা। 
:- আবার.? এই তুমি সরাসরি বললেই তো হয় কিস চাই তোমার। তা না বলে কোথাকার ন্যাকামো শুরু করছো.
:- আমার একটু.
:- উমম্মম্মম্মম্মমা

বলেই অনামিকা ফোন কেটে দেয়। রাফসান হারিয়ে যায় কল্পনার জগতে।

ব্লাক-ড্রাগন এর লুকায়িত আস্তানা থেকে বাহির হয়ে রাফসান সভ্য জগতে আসছে, ওর সাথে দুজন গার্ড ও আসতে চেয়েছিল ও নিয়ে আসেনি, শুধু বেষ্ট ফ্রেন্ড স্মিতকে সাথে রেখেছে। সমুদ্রতীরে জ্যোৎস্না বিলাস, রাফসানের পাশে বসা অনামিকা, রাতভর গল্প সাজানো জীবন। কথায় ই কেটে গেলো অর্ধেকটা রাত। অনামিকাকে বাসায় পৌছে দিয়ে রাফসান নিজের বাসায় এসে ঘুমিয়ে পড়ে, খুব ক্লান্ত লাগছিল ওর। স্মিত আগে থেকেই রুমের মাঝে এসে ঘুমিয়েছিল। 
সকাল ১০টা বাজে রাফসান এখনো ঘুমে, অনেক জোরাজোরি করে ঘুম থেকে টেনে তুলে স্মিত। মারামারি চলে অনেকটা সময়। স্মিত এতটাই ক্লোজ হয়ে গেছে ওর কাছে ভাই মনে হচ্ছে তখন। সময় যদি সবকিছুতে সায় দেয় তখনি এমন কিছু হয় সবকিছু মনে হয় উল্টে যায়। তেমনি রাফসানের সাথে হয়েছিল।
ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে দুজনে। নাস্তা শেষে স্মিতকে ভার্সিটি যেতে বলে রাফসান, কিন্তু স্মিত রাফসানের সাথেই যাবে, এ নিয়েও দুজনে যুদ্ধ করে। বাচ্চামি গুলো বড্ড ভালো লাগে ওদের। আর বাহিরের কেউ এটা মনে করবেই না যে এরা এতবড় একটা গ্যাং এর লিডার। 
ভার্সিটি যাওয়ার আগে রাফসান অনামিকার বাসায় গিয়ে বুঝতে পারে ওর রুমে অনামিকা ছাড়াও অন্য কেউ আছে, বাহিরে ছেলেদের জুতো রাখা। রক্ত গরম রাফসানের কোমড়ে গুজে রাখা M18 পিস্তলটা লোড করে দরজায় হাত দিয়ে ধাক্কা দেয়। আগে থেকেই দরজা খোলা ছিল তাই সহজেই খুলে যায় দরজা। রাফসান ধিরে পায়ে রুমের ভিতরে প্রবেশ করে, পিছে পিছে স্মিত ও। 
বাসার ভিতরের দৃশ্য দেখে চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিল না রাফসান। বুক ফেটে যাচ্ছে এগুলো ভাবতে, নগ্ন দেহে শুয়ে আছে অনামিকা, পাশে আশিক। ছিঃ শেষে কিনা আশিক এমনটা করলো ওর সাথে.? নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারলোনা রাফসান, উপরের দিকে ৪ টা গুলি ছুড়তেই ওদের খেয়াল আসে রাফসান দাঁড়িয়ে আছে সামনে। আশিকের মুখে ভয় আসছে, বিছানা থেকে নামতে নামতে বলতেছিল,

আশিক:- দোস্ত এমন কিছুই না বিশ্বাস কর।

আশিকের কথায় আরো রেগে যায় রাফসান, নগ্ন দেহে দুজনকে একসাথে দেখে আবার বলে তেমন কিছু না.? নিজের হাতকে কন্ট্রোল না করতে পেরেই আশিক এর মাথায় বাকি ২ টা বুলেট সুট করে।
বুলেট দুটো আশিকের দেহে প্রবেশ করতেই নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আশিক, ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝড়ছে ওর দেহ থেকে।
অনামিকার সময় ওখানেই থমকে গেছে, রাফসান নিজের সমস্ত রাগ আশেপাশের সব জিনিশপত্রের উপর দেখাচ্ছে। লাথি মেরে নিজের পায়ে ই ব্যথা পাচ্ছে, সময়টা এমন হয়েছে যে,
“যাকে জীবনের চাইতে বেশি ভালোবেসেছে তাকে অন্য কারো সাথে বিছানায় দেখাটা কতবড় পাগলামি যে দেখছে সে বুঝবে”
অনামিকার দিকে পিস্তলটা তাক করে সুট করবে তখন ই স্মিত বাধা দেয়। সুট করতে দেয়না। কিন্তু ওর শাস্তি তো পেতেই হবে। পাশে একটুকরা গ্লাসের ভাঙা টুকরো নিয়ে অনামিকার পাশে গিয়ে ওকে বিছানায় শুইয়ে দেয় রাফসান। অনামিকার উপরে উঠে হাটু দিয়ে ওর হাত দুটো চেপে রাখে, যাতে কষ্টে চিৎকার দিতে পারলেও বাধা যেন না দিতে পারে। সুন্দর করে ওর বুকের উপর, “নষ্টা বিশ্বাসঘাতক” লিখে দেয় রাফসান। ব্যাথায় চিল্লাচ্ছে অনামিকা। রাফসানের বুক ফাটছে, চলে আসছে ওখান থেকে।

সুন্দর করে অনামিকার বুকের উপর, “নষ্টা বিশ্বাসঘাতক” লিখে দেয় রাফসান। ব্যাথায় চিল্লাচ্ছে অনামিকা। রাফসানের বুক ফাটছে, চলে আসছে ওখান থেকে।

নিরবে কান্না করছে রাফসান, ভেঙে পরেছে ও। বুঝতে পারছিল না কি করবে এখন ও। যাকে ভালোবাসছে তার চরিত্র ই নষ্ট, ভুল মানুষটা ছিল যে সেই কথাটা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিল না রাফসান। তখন ওর পাশে দাঁড়ায় স্মিত। সবসময় ছায়ার মত পাশে ছিল ও। তখন বুঝিয়েছে এটা কিছুই নয় সবকিছু অভিনয় ভুলতে শিখিয়েছে স্মিত। 
যখন সবকিছু ঠিক হয়েছে, তখন ভুল বুঝছে নিজেকে রাফসান। 
ক্ষমতার দাপটে খুন করেছে নিরীহ আশিক কে। ওর তো কোনো দোষ ছিলনা তবুও খুন করেছে ওকে, সেই অপরাধবোধ মনে হচ্ছিল রাফসানের। তিলতিল করে ওর ভিতরটা শেষ হয়ে যাচ্ছিল, তখন সিদ্ধান্ত নেয় রাফসান। “গ্যাং ছেড়ে দিবে” এবং তাই করে, গ্যাং এর সকল দায়িত্ব স্মিতকে বুঝিয়ে দিয়ে রাফসান চলে আসে বাংলাদেশে ভাইয়ার কাছে। 
তারপর ই তোমার সাথে দেখ।

বলেই একটু বড় করে নিশ্বাস নিল রাফসান, পাশে মিম চুপটি করে বসে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে রাফসানের দিকে। কি বলবে বাকরুদ্ধ মিম, তবুও একটু জোর গলায় বলছে, 
মিমঃ- তাহলে অনামিকার কি হলো এখন.? তুমি কি ওর সাথে রাত কাটিয়েছ.? মানে শুয়েছ.?
রাফসানঃ- অনামিকা!! ও আছে ওর মত খোঁজ নেই। আর আমার বিয়ের আগে এসবে পছন্দ নয়। রুমডেট রোমান্স একসবে একদম সহ্য হয়না। বিয়ের আগে এসব নিষিদ্ধ। 
মিমঃ- সত্যি করে বলো,
রাফসানঃ- সত্যি বলছি বিশ্বাস করো, বাংলাদেশ এ এসে ওর সাথে যোগাযোগ নেই। অনামিকা কয়েকবার কন্টাক্ট করার চেষ্টা করে তবে ভুলেছি ওকে। 
মিমঃ- গুড ভুলে যাবা সবকিছু এখন শুধু আমি তোমার আর তুমি আমার। 
রাফসানঃ- হুম আমি তোমার, আর কারো না। 
মিমঃ- কারো না মানে.? ভবিষ্যতে কি কারো হওয়ার আশা আছে নাকি.?

মিম একটু সরে বসে রাগি চোখে রাফসানের দিকে তাকিয়ে কথাটা বললো, আবারো বললো মিম

মিমঃ- তুমি শুধু আমার। আজকের পর থেকে যদি অন্য কোনো মেয়ের দিকে তাকাও বা অন্য কোনো মেয়ের কথা তোমার মুখে শুনি তাহলে মুখ সেলাই করে দিব বলে দিলাম।
রাফসানঃ- বাব্বাহ্ মাস্তানী। 
মিমঃ- হু মাস্তান এর বউ এর মাস্তানী করা দরকার না হলে মাস্তান কে লাইনে আনা যাবেনা। 
রাফসানঃ- তাহলে মিস মাস্তান বলেন কোথায় যাবেন এখন.? 
মিমঃ- তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবো। আর আমার কিছু কথা আছে যেগুলো তোমাকে মানতে হবে তাহলে বিয়ে হবে। 
রাফসানঃ- মহারাণীর সকল আবদার মাথা পেতে নিবে এই অদম।
মিমঃ- তাহলে শুনুন, 
১/ আমাকে প্রচুর পরিমাণে ভালোবাসতে হবে, একটু কম বাসলে হবেনা।
২/ সকাল বিকাল জড়িয়ে ধরে কপালে আলতো করে ঠোঁটের স্পর্শে ছুঁয়ে দিতে হবে।
৩/ কখনো কাঁদাবে না। আর তুমিও কাঁদবে না। 
৪/ যখন চাঁদ দেখতে মন চাইবে তখন তোমার কোলে করে ছাঁদের এক কোণে তোমার কোলে মাথা রেখে আমি চাঁদ দেখবো। 
৫/ বেশি রাত করে বাসায় আসা যাবেনা। 
৬/ যখন আমার বেবি হবে পুরো ১৫ মাস তোমাকে আমার পাশে থাকতে হবে। 
৭/ আমার পাগলামি গুলো সহ্য করতে হবে। 
৮/ মাঝ রাতে আইসক্রিম খাওয়ার বায়না ধরবো, তোমার তখন আমাকে আইসক্রিম এনে দিতে হবে। 
৯/ মাঝরাতে দুজনে নিস্তব্ধ রাস্তার পারে সোডিয়াম আলোর মাঝে তুমি পড়বে পাঞ্জাবি আমি নীল শাড়ি,হাতটি ধরে হাটবো দুজনে। 
১০/ সপ্তাহে একদিন তুমি আমাকে রান্না করে খাওয়াবে, যদি সে খাবারের স্বাধ ও না থাকে তবুও অমৃত মনে হবে আমার কাছে। তোমার ভালোবাসা থাকবে যে সেই খাবারে।

রাফসান অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মিমের দিকে, আর মনে মনে ভাবছে, “মেয়েটা পাগল হইছে”
কিছু বলতে যাবে রাফসান তখনি রাফসানের ফোনের রিংটোন বেজে উঠে, স্ক্রিনে ভেসে নাম্বারটা “আদনানের” অস্ট্রেলিয়া থেকে ফোন এসেছে, রিসিভ করে রাফসান।

আদনানঃ- কেমন আছিস.?
রাফসানঃ- এইতো চলে যাচ্ছে। তোরা কেমন আছিস.?
আদনানঃ- আমরাও ভালো। ভাইয়া ভাবি কী পৌঁছে গেছে.? 
রাফসানঃ- নাহ্ পৌছায়নি এখনো। এখনো অনেক সময়। 
আদনানঃ- ওহ্! তোর জন্য সারপ্রাইজ আছে।
রাফসানঃ- কি সারপ্রাইজ রে.?
আদনানঃ- তা ভাইয়া ভাবিকেই দেখলে বুঝবি।
রাফসানঃ- বলবিনা.???

কিছুটা রাগান্বিত স্বরে বললো রাফসান। আদনান ফোন রেখে দেয়। রাফসাহ চিন্তায় মগ্ন কী এমন সারপ্রাইজ। বুঝতে পারেনি, মাথা ঘুমাচ্ছে। মিমকে নিয়ে বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে নিল, এয়ারপোর্টে যাবার জন্য। ভাইয়া ভাবির আশার সময় হয়ে এসেছে তাই দেরি না করে রাফসান বেরিয়ে পড়ে এয়ারপোর্ট এর উদ্দেশ্যে।

কিছুটা সময় পরেই এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করে ভাইয়া ভাবি, তারা বাহিরে আসতেই রাফসান তাদের দিকে হাসি মুখে গিয়ে ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরবে তখনি দেখলো ভাইয়া ভাবির পিছনে 
“অনামিকা” ভাইয়া ভাবির সাথেই এসেছে। ভাবির ট্রলি অনামিকার হাতে। 
স্তব্ধ রাফসান….

“অনামিকা” ভাইয়া ভাবির সাথেই এসেছে। ভাবির ট্রলি অনামিকার হাতে। 
স্তব্ধ রাফসান. 
ভেবে পাচ্ছেনা অনামিকা এখানে কি করে.? তবুও একটু স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে ভাইয়া ভাবির সাথে কথা বলে গাড়ির কাছে নিয়ে আসছে। অনামিকার দিকে ফিরেও তাকায়নি রাফসান।
গাড়িতে যখন বসতে যাবে তখন অনামিকা রাফসানের সাথে সামনে বসে ভাইয়া ভাবি পিছনে। গাড়ি চলছে, রাফসানের শরীরের হিংসা রাগ জড়ো হচ্ছে, এমন সময় অনামিকা বলে উঠলো।
অনামিকাঃ- কেমন আছো.?
রাফসানঃ- যেমন থাকার কথা ছিল তারচেয়ে ভালোই আছি।
ঃ- ওহ্ গুড। 
ঃ- ভাবছিলে কী.? আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবোনা.? ছেঃ তোমার মত নষ্টা মেয়ের জন্য নিজের জীবন নষ্ট করার মানেই নেই। 
ঃ- হুম আমি তো নষ্টা মেয়ে ই।
ঃ- এখানে আসলে কেনো.? আবার কি মতলব এঁটেছ.? 
ভাইয়াঃ- আরে রাফসান, অনামিকা আসছে একটু কম প্রশ্ন কর। আর শোন নাহ্ থাক পরে বলি আপাতত তোরা চুপচাপ গাড়া চালা অনেক সময় পাবি কথা বলার।

ভাইয়ার কথা শুনে চুপ হয়ে গেলো রাফসান নিরবে গাড়ি নিয়ে বাসায় পৌঁছে যে যার রুমে চলে গেলো, অনামিকা গেস্ট রুমে চলে গেলো, রাফসান নিজের রুমে এসে ভাবছে কি করা যায়। এমন সময় অনামিকা ও ওর রুমে হাজির.! 
রাফসানঃ- কি ব্যাপার তুমি আমার রুমে কেনো.?
অনামিকাঃ- একটা কথা বলার ছিল, জানিনা কীভাবে নিবে তুমি,
ঃ- দেখ অনামিকা তোর ন্যাকামো এখন ভালোলাগেনা। তুই কান্নাকাটি করে সরি বলে আমার জীবনে দ্বিতীয়বার আসতে পারবিনা।

অনামিকা বুকের পাশ থেকে একটু জামাটা সরিয়ে বলে

ঃ- দেখছিস তোর দেওয়া দাগ মুছে গেছে, 
ঃ- তাতে আমি কি করবো.? দাগের ছাপ মুছে গেছে মিথ্যে মাংসপেশির প্লাস্টিকসার্জারির মাধ্যমে, তবে মনের দাগ কি আজও মুছেছে.?
ঃ- মুছতেই তো এসেছি। 
ঃ- সম্ভব না। 
ঃ- আমার কথা শুনো.?
ঃ- তোমার কথা শোনার ইচ্ছে আমার নেই। আমি অন্য একজনকে ভালোবাসি। 
ঃ- জানি আমি, 
ঃ- তাহলে আবার আসলে কেনো.? 
ঃ- সরি বলতে, 
ঃ- সরি বলার কিছু নেই, তুমি যেতে পারো.! 
ঃ- আমাকে ক্ষমা করলে যেতে পারি।
ঃ- যাও ক্ষমা করেছি। এখন যেতে পারো!
ঃ- একটা ইচ্ছে ছিল।
ঃ- তোমার ইচ্ছে পুরন করতে আমি বাধ্য নই। 
ঃ- খুব সখ ছিল, তোমার বউ সাজবো তবে সেটা আমার নোংরামির কারনেই তার অধিকার হারিয়েছি, তবে তোমার বউ এর সাজানোর দায়ীত্বটা আমি নেই। প্লিজ কথা দিচ্ছি, সাজিয়ে ই চলে যাব। 
ঃ- তোমার ইচ্ছে, 
ঃ- থ্যাংকস।

ফ্লোর থেকে উঠে অনামিকা নিজের রুমে চলে আসলো, রাফসান ওর ভাইয়া ভাবির রুমে, 
ভয় নেই ডিরেক্ট বললো রাফসান।
রাফসানঃ- ভাইয়া আমি একটা মেয়েকে পছন্দ করি।
ভাইয়াঃ- আরে বলতে হবেনা আমরা জানি। স্মিথ বলেছে আমাদের।
রাফসান একটু চমকে গেলো, অবশ্য এতে তেমন কিছু চমকানোর বিষয় ও ছিলনা। ভাইয়া আবার বললো
ভাইয়াঃ- মিমের আব্বুর সাথে ফোনে কথা হয়েছে। সে বললো সরাসরি কথা বলতে, অবশ্য মেয়ের সুখের কথা ভেবে সেও না করতে পারেনি। তোদের সে একসাথে দেখেছিল।

রাফসান আর দাড়ালো না। নিজের রুমে গিয়ে মিমকে ফোন দিয়ে সুসংবাদ টা দিয়ে দেয়। দুজনেই সুখি আজ। এতটা সুখি বলে বোঝানো যাবেনা, সারারাত সারাদিন কথা বলছে। বিকেলবেলা ছাদের এক কোণে রাফসান বসে আছে মিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, অনামিকা দেখছিল পিছে দাড়িয়ে। ওর মনে হলো ও এখানে থাকলেই প্রবলেম তাই কাউকে কিছু না বলেই চলে গেলো অস্ট্রেলিয়া, 
রাফসান মিম এক অজানা স্বপ্নের দেশে হারিয়ে থাকে, খুনসুটি ভালোবাসায় মেতে চলছে তাদের দিন।

(সমাপ্ত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*