বৃষ্টিস্নাত জন্মদিন

– এই শুনছো…?? (মুন) -…… ( কোন সাড়া নেই)….. – এই জামিল? শোন না একটু… (গায়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে) – হু..হু..ম… কি হল? এতরাতে..?? ( একটু রাগ নিয়ে বললাম) – আজ না বৃষ্টি হচ্ছে। চল না বৃষ্টিতে ভিজে আসি….. – না। একদম না। কাল সকালে আমার অফিস আছে। আর এখন বৃষ্টিতে ভিজে যদি জ্বর চলে আসে? তখন কিভাবে কি হবে? হুম..?? (ইচ্ছে করে একটু জোড়ে বললাম) – ওহ.. তাই তো। আচ্ছা সরি… ঘুমাও তুমি!! এই বলে, মুন মন খারাপ করে উল্টো দিক এ ঘুড়ে শুয়ে পড়লো। জামিল জানে ও কিসের জন্য বলেছে।। জামিল এর ও ইচ্ছা করছে। কিন্তু ওকে একটু ইচ্ছে করে রাগালো।। মুন এর রাগী মুখ, চোখ জোড়ার কাঁপা আর ঠোঁট জোড়ার সেই থরথর কাঁপনি বার বার দেখতে ইচ্ছে হয় বলে, জামিল প্রায়সই এ কাজ টা করে।। মুন রেগে গেলে চোখ দুটু বড় বড় করে তাকিয়ে থাকবে, নাহয় করুন একটা চাহনী নিক্ষেপ করে কাঁদতে শুরু করে দিবে।৷ জামিলে বোকার মত হা’ হয়ে তাকিয়ে থাকবে মুন এর দিকে।। কিছু একটা বলতে যেয়েও থমকে যায় তখন।। নেহাত জামিল কবি নয়।। নাহলে প্রেয়সীর এই রাগী আর মায়াবী চাহনী নিয়ে, যদি লিখতে শুরু করতো তাহলে হয়তো ২ থেকে ৩ টা বই শেষ হয়ে যেতো। তবুও মুন এর বর্ণনা করা শেষ হতো না। আজকে মুন কে একটু ইচ্ছে করে রাগিয়েছে জামিল।। আজ মুন এর জন্য কিছু একটা সারপ্রাইজ আছে। তাই ইচ্ছে করে রাগিয়ে দিলো।। জামিল মুন এর দিকে তাকাতেই দেখে মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছে মেয়েটা। নিশ্চয়ই কাঁদছে। ধুর জামিল… তুই ও না! কি দরকার ছিলো মেয়েটাকে কাঁদানোর….??? জামিল আর দেরী করলো না।। বিছানা থেকে নেমে মুন এর সামনে নিয়ে হাটু গেড়ে বসে মুন এর সমান সমান হয়ে নিলো। মুন ঘুড়ে যেতে চাইলে জামিল আটকে দিয়ে বলল, – কি হলো? বৃষ্টিবিলাসে যাবে না? (জামিল) -…….. ( চোখের পানি মুছে নিলো, তবে উত্তর দিলো না)….. – মুন… উত্তর দিচ্ছো না কেনো..?? – আমি যাবো না।। আর গিয়ে কি হবে? বৃষ্টি তো শেষ! – তো কি হয়েছে? গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে তো। – না। এই বৃষ্টিতে হবে না আমার। খুব জোড়ে বৃষ্টি হবে। দু’জন দু’জনাকে জড়িয়ে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজবো।। আর মাঝে মাঝে বিদুৎ চমকাবে।। আর আমি ভয়ে তোমায় জড়িয়ে ধরবো।। আর তখন তুমি আমাকে সাহস জোগাতে বলবে, ‘ ভয় নেই।। আমি আছি তো।। ‘ -………… (মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনছে জামিল)…….. – আর এখন কি তা হবে? ঠান্ডাই লাগবে না ভালো করে। – ওই.. কি বল এইগুলা? ঠান্ডা লাগবে মানে? – হুম। লাগাবোই তো। তারপর আমার জ্বর আসবে। আর তুমি বাসায় থাকবে। আমার পাশে সবসময়। – বাব্বাহ! সব তো তোমারই লাভ¿ আমার লাভ কি হবে বৃষ্টি আসলে।। – কি বলতে চাইতেছো তুমি? ( অন্যভাবে তাকিয়ে বলল) – নাহ! কিছু না। এখন একটু ছাদে চল। – না। এখন আর যাবো না। বৃষ্টি তো শেষ। – আরেহ! চল তো। – আচ্ছা। চল। তারপর মুন আর জামিল ছাদ এ যাবার জন্য বেড় হল। মুন আগে যাচ্ছে। আর জামিল মুন এর পিছনে।। মুন ছাদে উঠতেই কিসের সাথে যেনো পা লাগলো। আর তখন সাথে সাথেই পুরো’ ছাদ আলোকিত হয়ে গেলো। সামনে বড় বড় করে লিখা ‘ Happy Birthday Moon ‘ মুন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আছে ছাদের দিকে। ওর কাছে মনে হচ্ছে ও স্বপ্ন দেখছে। মুন এর নিজের ও মনে ছিলো না যে আজ ওর জন্মদিন।। ………….. মুন সোজা জামিল এর সামনে দৌঁড়ে গিয়ে দাঁড়ালো। জামিল ঠোটের কোনে সুক্ষ একটা হাসি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জামিল অনেক খুশি। কারণ মুন খুশি হয়েছে। জামিল এর কাছে তার মুন খুশি মানে, জামিল খুশি (!)……… মুন চোখের কোন পানি নিয়ে জামিল কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। জামিল ও জড়িয়ে নিলো মুন কে। মুন জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল, – Thank you Jamil…… জামিল মুন কে ছাড়িয়ে চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বলল, – হয়েছে। আর কাঁদতে হবে না। এখন কেক কেটে নাও। – হুম চল। তারপর কেক কেটে একে অপর কে লাগিয়ে দিলো। জামিল ক্যান্ডেল সাজিয়ে রেখেছিলো আর সাথে ছিলো মুন আর জামিলের প্রিয় বিরিয়ানি।। একপ্লেটে ছিলো।। দু’জন দু’জনাকে খাইয়ে দিয়ে খাওয়া – দাওয়ার পালা শেষ করলো।। এখন ঘরে যেতে হবে। মুন আর জামিল নামছে এমন সময় মুন বলে উঠলো, – বৃষ্টি হলে ভালো হতো না? ( মুন) – বিদুৎ চমকানো ছাড়া বৃষ্টি হলে হবে? ( জামিল) – মানে? – কিছু না। দাড়াও বৃষ্টিকে ডাকি….. – বৃষ্টিকে ডাকবা। আর বৃষ্টি আসবে? আমাকে বাচ্চা পাইছো তুমি? – চেষ্টা করতে দাও? – আচ্ছা। করেন চেষ্টা….. জামিল একটু সামনে গিয়ে জোড়ে বলল, বৃষ্টি পড়ুক প্রবল বেগে, ভিজিয়ে নিক দু’জনাকে। সাথে সাথে বৃষ্টি পড়া শুরু হলো। মুন অবাক হতে গিয়েছে। আর সাথে খুশিও।। কি করে হলো এটা? বৃষ্টিরা কি ওর ভাষা বুঝে? নাকি অন্য কিছু? – এটা আসল নকল বিদুৎ ছাড়া বৃষ্টি…….. (জামিল) – মানে? – পিছনে তাকাও। মুন পিছনে ঘুড়ে দেখে কয়েকজন লোক, দুটু পাইব উপর দিকে নিয়ে করে দাঁড়িয়ে আছে।। আর দুটো পাইব এর পানি একসাথে হওয়ার কারনে এক কৃত্রিম বৃষ্টি এর সৃষ্টি হয়েছে।। মুন জামিল এর দিকে তাকিয়ে ভাবছে, ‘ পাগল একটা।। একটু খুশির জন্য কত্তো কিছু করলো।। ‘ দু’জন ভিজছে একসাথে। হটাৎ করে মুন বলে উঠলো, – ধন্যবাদ, জামিল।। এ রকম বৃষ্টিস্নাত জন্মদিন উপহার দেওয়ার জন্য………….!!! (সমাপ্ত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*