Home Login Register

Naw Story Will Update Regularly......

বদলে যাওয়া জীবন [১ম অংশ]


প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......
Home / Story / বদলে যাওয়া জীবন [১ম অংশ]

Sanju › 2 weeks ago

লেখাঃমোঃমহিউদ্দিন

– সকালে প্রকৃতির ডাকে সকলকেই সাড়া দিতে হয়। কিন্তু আমি সাড়া দিতে পারেছি না। প্রায় তের মিনিট ধরে বাথরুমের সামনে দাড়িয়ে আছি। প্রেসারের কারণে আমার করুণ অবস্থা। সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারছি না। এতো ডাকাডাকি করার পরও মেয়েটা বের হচ্ছে না। ইচ্ছে করছে লাথি দিয়ে দরজাটা ভেঙ্গে দেই।

– এই রাত্রি জলদি বের হন না।

– তখন ভেতর থেকে আওয়াজ আসলো,, কি হলো এভাবে দরজা ধাক্কাধাক্কি করছেন কেনো। শান্তি মতো গোসলটাও করতে দিবেননা নাকি?

– আরে আমার তো ভেতরে যেতে হবে। প্লিজ জলদি বের হন। খুব আর্জেন্ট।

-ভেতর থেকে রাত্রি বললো,, পারবো না। আমার গোসল শেষ হয়নি। ওয়েট করুন। নয়তো অন্য কারো বাথরুমে চলে যান।

– নাহ আর পারা যাচ্ছে না। আর এক মিনিটও আমি সহ্য করতে পারবো না। যার আমার মতো অবস্থা হয়েছে সেই বুঝতে পারবে এই মুহুর্তে এক মিনিটও কথা বড় একটা সময়। সবার বাথরুমই তো এই মুহূর্তে রিজাব করাই থাকবে।হঠাৎই মনে পড়লো নিচে দাড়য়ানের টয়লেট আছে। এক ছুটে ওখানেই চলে গেলাম।

– ছোটবেলায় বীরবলের কাহিনীতে পড়েছিলাম যে,, টয়লেটই নাকি পৃথিবীতে সবচেয়ে শান্তির জায়গা। আজকে সেটা আমি অক্ষরে অক্ষরে বুঝতে পারছি।

– কিন্তু ঐ মেয়েটা আজকে যা করেছে তারপর ওকে ছেড়ে দেওয়া যায় না। এর প্রতিশোধ আমি নেবই।😡

#আগে যেটা হয়েছে-

• আমি মোঃ রাফিউল আলম। ডাক নাম রাফি। মা-বাবা, আমি, নিতু(ছোটবোন) ও রিফাতকে (ছোটভাই) নিয়ে আমাদের সুখের সংসার ছিলো। কিন্তু বোনটার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের একজন সদস্য কমার সাথে সাথেই এই রাত্রি এসে জুটেছে। দুইদিন হলো ওর সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। কিন্তু এই ৪৮ ঘন্টায় আমার জীবন থেকে সুখপাখি উড়িয়ে দিয়েছে।

– ব্যাপারটা একটু খোলাসা করেই বলি। ছয়মাস আগে নিতুর বিয়ে হয়। আর ও নিজের শশুড় বাড়িতে চলে যায়। তারপর থেকে মা-বাবা আমার বিয়ে নিয়ে নাচানাচি শুরু করে দিয়েছে। এতোদিন অবশ্য সবাইকে কোনোরকমে এড়িয়ে চলেছি। আসলে বিয়ে করার আমার কোনো ইচ্ছা ছিলো না। কারণটা না হয় এখন নাইবা বললাম। কিন্তু দশদিন আগে নিতু হারামীটা হঠাৎ করেই মায়ের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে। শুধু তাই নয়, মেয়েটাকে মায়ের মাথায় এমনভবে সেট করে দেয় যে আমার কোনো কথায় মা শুনতে চায়নি। তাই বাধ্য হয়ে মেয়ে দেখতে যেতো হয়। ওহ একটা কথাতো বলাই হয়নি মেয়েটা আসলে আমার বোনের ননদ ছিলো। তানি নাকি বাইরে থেকে লেখাপড়া করে আসছেন। অনেক বড় ডাক্তার ওনি। কিছুদিন পর নাকি চাকরিতেও ডুকবেন। সে যাই হোক পাত্রী দেখতে গিয়ে বুঝলাম মায়ের পাগল হওয়ার কারণ। মেয়েটার মধ্যে সবই আছে, যেগুলো মা তার বউমার মাঝে দেখতে চেয়েছিলেন। আমি অস্বীকার করবো না রাত্রি সত্যিই অনেক সুন্দরী। সেই সাথে রান্না-বান্না, লেখাপড়া সবই আছে। কিন্তু এসব কিছু আমার কাছে কোনো ম্যাটার করে না। আসলে আমি বিয়ে করে পরাধিন হতে চাই না। তবে এইবার সবাই আমার বিয়ে নিয়ে এতোটা সিরিয়াস যে বিয়েট হয়তো করতেই হবে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম,, বিয়েটা করেই ফেলবো।

– সবাই মিলে আমাকে আর রাত্রিকে একটা রুমে নিয়ে গেলো কথা বলার জন্য। রাত্রি দরজাটা বন্ধ করে এসেই…

– একি! একি! 
কি করছেনটা কি আপনি শাড়ি খুলছেন কেন? আমি চোখ বন্ধ করে দরজার দিকে দৌড় লাগালাম(ভালোছেলে বলে কথা)। কিন্তু পেছন থেকে রাত্রি আমাকে ধরে ফেললো। আর বললো,, একি আপনি কোথায় যাচ্ছেন?

– আমি পিছনে না তাকিয়েই বললাম,,আপনি এখন এটা কি করলেন? দেখুন এখনো কিন্তুু আমাদের বিয়ে হয়নি। আর আপনি…

– রাত্রি হয়তো আমার উপর কিছুটা রেগে গেছে। সে রাগী কন্ঠেই বললো,, কি বাজে বকছেন আপনি? আপনি সবটা না দেখেই এমন মন্তব্য করছেন?

– এবার আমি কিছুটা অসস্থিতে পড়ে যাই। বললাম,,, কি বলছেন আপনি? সবটা দেখবো মানে?

– আমি কথাটা বলার পর রাত্রি নিজেই আমার সামনে এসে দাড়ালো। তাকিয়ে দেখলাম রাত্রি শাড়ির নিচে একটা আজকালকার মর্ডান নামক পোশাক পড়ে আছে। আমাকে হা করে আবাক চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাত্রি বললো,, আসলে আমি শাড়িটা ঠিক পড়তে পারি না। মা জোড় করে পড়িয়ে দিয়েছিলো। খুব অসস্তি লাগছিলো। তাই খোলে ফেললাম। আচ্ছা আমাকে আপনার কেমন লেগেছে?

– রাত্রির হঠাৎ প্রশ্নে কিছুটা থমকে গিয়ে বললাম,, আসলে ব্যাপরটা হলো গিয়ে মা যখন আপনাকে পছন্দ করেছে তখন..

রাত্রিঃতারমানে আপনার আমাকে পছন্দ হয়নি তাইতো?

আমিঃ এমা না না। আমি সেটা বলিনি। আপনাকে তো যেখোনো ছেলেই পছন্দ করবে। আর আমিতো কোন ছাড়!

– রাত্রি একটা হাসি দিয়ে বললো,, সত্যি। আচ্ছা একটা প্রশ্ন করবো?

আমিঃ হুম। বলেন কি বলবেন?

রাত্রিঃ আচ্ছা আপনার কি কোনো গার্লফ্রেন্ড আছে? (রাত্রির মুখে একটা মুচকি হাসি)

– অবশ্য হাসিটার কারণ আমি তখন উদ্ধার করতে পারিনি। বিয়ের দিন বুঝতে পেরেছিলাম ওর হাসির কারণটা। যাই হোক যেহেতু আমার কেউ ছিলো না। তাই না বললাম। ইচ্ছে করছিলো রাত্রিকেও এই প্রশ্নটাই করি কিন্তু সেটা করতে পারিনি(আমি আসলে একটু বেশিই ভদ্র😊) । মেয়েদের সাথে আমি এতো তাড়াতাড়ি সহজ হতে পারি না।

– এরপর আমাদের বিয়েটা ঠিক হয়ে যায়। বিয়ের তারিখটাও খুবই কাছে রাখা হয়। কেন জানিনা সবাই এতো তাড়াহুড়ো করছে। বিয়েটাতো আমার নাকি?

– ঐদিনের পর রাত্রির সাথে সামনা-সামনি আর দেখা হয়নি। অবশ্য ফোনালাপটা চলেছে আমাদের মাঝে। এই কয়েকটা দিনেই মেয়েটার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ি। ওর কথোপকথন আমার খুবই ভালো লাগে। তবে আমার জড়তাটা এতো কম সময়ে কাটাতে পারিনি। মানে রাত্রিকে আপনি থেকে তুমি বলতে পারছি না। রাত্রিও আমাকে তুমি বলে ডাকেনি। হয়তো ওর অবস্থাটাও আমারই মতো। তবে আমি এটা বুঝতে পারি মেয়েটা খুবই ভালো। আর আমাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছে। হ্যা আমিও রাত্রিকে ভালোবেসে ফেলেছি।

– আমাদের বিয়েটা তাড়াতাড়ি হলেও বেশ জাকজমকভাবেই হয়। বিয়ের দিন রাত্রে আমি বাসরঘরে ডুকতেই রাত্রির এসে আমাকে সালাম করার কথা। কিন্তু রাত্রি আসছেনা দেখে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম রাত্রি বিছানাতে আরাম করে ঘুমিয়ে আছে। বাসর রাতে বউ স্বামীর জন্য অপেক্ষা না করে ঘুমিয়ে আছে! ব্যাপারটাকে আমার কেমন ভাবে নেওয়া উচিত। ঠিক বুঝতে পারছি না। যাই হোক আমি খাটের দিকে এগিয়ে রাত্রিকে একটা ডাক দিলাম। কিন্তু রাত্রির কোনো রিএকশনই নেই। তাই আমি খাটের উপর উঠে রাত্রিকে ডাক দিতে দিতে কয়েকবার ধাক্কা দিলাম।

– রাত্রির ঘুম ভাঙ্গতেই প্রায় লাফিয়ে উঠে বসলো। তারপর বললো,, কিহলো ডাকছেন কেন? আর আপনি এখানে কেনো?

– আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,, আরে। আজকে আমাদের বাসর রাত!

রাত্রিঃ সে যাই হোক। আমার খুবই ঘুম পেয়েছে ঘুমোতে দিন।

আমিঃ রাত্রি এইরাতটা সবার জীবনে একবারই আসে। আর আপনি কিনা…

– রাত্রি বড় একটা হাই তুলে বললো,, যা বলার কাল সকালে বলিয়েন। এখন প্লিজ আমাকে ঘুমাতে দিন।

– আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম,, ঠিক আছে। শুয়ে পড়ো তাহলে। এইবলে আমি রাত্রির পাশের বালিশটা টেনে এনে শুতে যাব। রাত্রি হঠাৎ করেই বলে উঠলো,,কি করছেন? আপনি আমার সাথে ঘুমাবেন নাকি?

আমিঃ মানে? আমরাতো এখন থেকে একসাথেই ঘুমাবো।

রাত্রিঃ না।

আমিঃ কি বলছেন আপনি? এটাইতো নিয়ম। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী একসাথে এক বিছানায়ই থাকে।

রাত্রিঃ ও বাবা। আপনি এটাও জানেন নাকি? আমিতো ভেবেছিলাম আপনি আপনার মায়ের লক্ষী ভদ্রছেলে।

আমিঃ এসব কি বলছেন আপনি?

রাত্রিঃ শুনোন আজকে আমি আপনাকে একটা কথা ভালো করে বলে দিচ্ছি। আমার উপর কখনো স্বামীর অধিকার খাটাতে আসবেন না। আর আমি আপনার সাথে এক বিছানায় থাকতেও পারবো না। আমি আপনাকে স্বামী হিসেবে মানিনা। আর সব থেকে বড় কথা আমার বয়ফ্রেন্ড আছে। আমি তাকেই ভালোবাসি। আর ছয়মাস পর ও ইউএস ফিরে আসলে। আমি ওর সাথেই চলে যাবো।

– আমি হাসতে হাসতে বললাম,, আপনি আবারও মজা করছেন তাই না।

রাত্রিঃ আমার মুখ দেখে আপনার মজা মনে হচ্ছে।

– আমার মাথায় যেন কেউ বড় একটা হাতুড়ি দিয়ে বারি মারলো। তারপর বললাম,, তাহলে আমাকে বিয়ে করার মানে কি? আপনি তো এতোদিন আপনার বয়ফ্রেন্ড নিয়ে কিছুই বলেন নি। আর আপনার কথা শুনেতো মনে হতো আপনিও আমাকে ভালোবাসেন। আর আপনি যদি আমাকে ভালো নাই বাসেন। তাহলে বিয়ে কেন করলেন?

রাত্রিঃ আসলে বাবা-মা আমার উপর বিয়ের জন্য কনটিনিউয়াস চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছিলেন। রকির (বয়ফ্রেন্ড) কথা বাবা-মাকে বলাতে সোজা না করে দেয়। কারণ রকি বিদেশী।আমার বাবা-মার কথা আমাকে দূরে কোথাও বিয়ে দিবেন না। আর রকিও আমাকে বিয়ে করতে পারছিলনা অফিসিয়াল সমস্যার করণে। নাহলে ওকে বিয়ে করে কবেই চলে যেতাম। একের পর এক ছেলে দেখাতে লাগলো সবাই। আমি জাস্ট বিরক্ত হয়ে গেছিলাম। তাই আপানকে বিয়ে করে মা-বাবার হাত থেকে বাঁচলাম। আমি আসলে খুবই দুঃখিত। আপনাকে বিয়ের আগেই বিষয়টা জানাতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু ভয় ছিলো যদি আপনি বিয়েটা না করেন।

আমিঃ সবইতো বুঝলাম। কিন্তু আমাকেই কেন বিয়ে করলেন। অন্য কাউকেও করতে পারতেন। এভাবে আমার জীবন নষ্ট করার মানে কি?

রাত্রিঃ আসলে আপনাকে দেখে কেমন যেন বোকা বোকা না মানে সহজ-সরল মানুষ মনে হয়েছিলো। আমি ভেবেছিলাম যে আপনি আমার সমস্যাটা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন। আমি ভাবির কাছে শুনেছিলাম আপনি নাকি সবাই কেই সাহায্য করেন। প্লিজ আমাকেও এই ছোট্টো সাহায্যটা করুন।

-আমি রেগে গিয়ে বললাম,, আপনি এটাকে ছোট্টো কি করে বলছেন। আরে আপনি বুঝতে পারছেন, আপনি আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছেন। আর সব থেকে বড় কথা আমার মা আপনাকে অনেক পছন্দ করে। আপনি তাকেও ঠকিয়েছেন। মা যখন এটা জানতে পারবে তখন কতোটা কষ্ট জানেন আপনি?

– রাত্রি হয়তো ভাবেনি যে আমি এইভাবে রিয়েক্ট করবো। ও নিচু গলায় বললো,, আমি সরি। আমি এতো কিছু ভাবিনি।

আমিঃ সরি। একটা সরিতেই সব কিছু শেষ হয়ে যাবে? আমাকে দেখে আপনার সহজ-সরল মনে হয় তাই না। সহজ-সরল মানুষরা যে প্রয়োজনে কতোটা কঠিন হতে পারে আপনার
কোনো ধারনাই নেই।

রাত্রিঃ মা..নে?

আমিঃ মানেটা খুবই সহজ। আমার মা আপনাকে এই বাড়িতে বউ করে এনেছে। আর আমি আমার মাকে কোনোভাবেই কষ্ট পেতে দিবো না। আপনাকে কি করে পার্মানেন্টলি এই বাড়ির বউ করতে হয় সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি।

– আমার কথা শুনে রাত্রি ভয়ে একেবারে চুপছে গেলো। ওর চোখে ভয়টা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

– সকালে প্রকৃতির ডাকে সকলকেই সাড়া দিতে হয়। কিন্তু আমি সাড়া দিতে পারেছি না। প্রায় তের মিনিট ধরে বাথরুমের সামনে দাড়িয়ে আছি। প্রেসারের কারণে আমার করুণ অবস্থা। সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারছি না। এতো ডাকাডাকি করার পরও মেয়েটা বের হচ্ছে না। ইচ্ছে করছে লাথি দিয়ে দরজাটা ভেঙ্গে দেই।

– এই রাত্রি জলদি বের হন না।

– তখন ভেতর থেকে আওয়াজ আসলো,, কি হলো এভাবে দরজা ধাক্কাধাক্কি করছেন কেনো। শান্তি মতো গোসলটাও করতে দিবেননা নাকি?

– আরে আমার তো ভেতরে যেতে হবে। প্লিজ জলদি বের হন। খুব আর্জেন্ট।

-ভেতর থেকে রাত্রি বললো,, পারবো না। আমার গোসল শেষ হয়নি। ওয়েট করুন। নয়তো অন্য কারো বাথরুমে চলে যান।

– নাহ আর পারা যাচ্ছে না। আর এক মিনিটও আমি সহ্য করতে পারবো না। যার আমার মতো অবস্থা হয়েছে সেই বুঝতে পারবে এই মুহুর্তে এক মিনিটও কথা বড় একটা সময়। সবার বাথরুমই তো এই মুহূর্তে রিজাব করাই থাকবে।হঠাৎই মনে পড়লো নিচে দাড়য়ানের টয়লেট আছে। এক ছুটে ওখানেই চলে গেলাম।

– ছোটবেলায় বীরবলের কাহিনীতে পড়েছিলাম যে,, টয়লেটই নাকি পৃথিবীতে সবচেয়ে শান্তির জায়গা। আজকে সেটা আমি অক্ষরে অক্ষরে বুঝতে পারছি।

– কিন্তু ঐ মেয়েটা আজকে যা করেছে তারপর ওকে ছেড়ে দেওয়া যায় না। এর প্রতিশোধ আমি নেবই।😡

#আগে যেটা হয়েছে-

• আমি মোঃ রাফিউল আলম। ডাক নাম রাফি। মা-বাবা, আমি, নিতু(ছোটবোন) ও রিফাতকে (ছোটভাই) নিয়ে আমাদের সুখের সংসার ছিলো। কিন্তু বোনটার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের একজন সদস্য কমার সাথে সাথেই এই রাত্রি এসে জুটেছে। দুইদিন হলো ওর সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। কিন্তু এই ৪৮ ঘন্টায় আমার জীবন থেকে সুখপাখি উড়িয়ে দিয়েছে।

– ব্যাপারটা একটু খোলাসা করেই বলি। ছয়মাস আগে নিতুর বিয়ে হয়। আর ও নিজের শশুড় বাড়িতে চলে যায়। তারপর থেকে মা-বাবা আমার বিয়ে নিয়ে নাচানাচি শুরু করে দিয়েছে। এতোদিন অবশ্য সবাইকে কোনোরকমে এড়িয়ে চলেছি। আসলে বিয়ে করার আমার কোনো ইচ্ছা ছিলো না। কারণটা না হয় এখন নাইবা বললাম। কিন্তু দশদিন আগে নিতু হারামীটা হঠাৎ করেই মায়ের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে। শুধু তাই নয়, মেয়েটাকে মায়ের মাথায় এমনভবে সেট করে দেয় যে আমার কোনো কথায় মা শুনতে চায়নি। তাই বাধ্য হয়ে মেয়ে দেখতে যেতো হয়। ওহ একটা কথাতো বলাই হয়নি মেয়েটা আসলে আমার বোনের ননদ ছিলো। তানি নাকি বাইরে থেকে লেখাপড়া করে আসছেন। অনেক বড় ডাক্তার ওনি। কিছুদিন পর নাকি চাকরিতেও ডুকবেন। সে যাই হোক পাত্রী দেখতে গিয়ে বুঝলাম মায়ের পাগল হওয়ার কারণ। মেয়েটার মধ্যে সবই আছে, যেগুলো মা তার বউমার মাঝে দেখতে চেয়েছিলেন। আমি অস্বীকার করবো না রাত্রি সত্যিই অনেক সুন্দরী। সেই সাথে রান্না-বান্না, লেখাপড়া সবই আছে। কিন্তু এসব কিছু আমার কাছে কোনো ম্যাটার করে না। আসলে আমি বিয়ে করে পরাধিন হতে চাই না। তবে এইবার সবাই আমার বিয়ে নিয়ে এতোটা সিরিয়াস যে বিয়েট হয়তো করতেই হবে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম,, বিয়েটা করেই ফেলবো।

– সবাই মিলে আমাকে আর রাত্রিকে একটা রুমে নিয়ে গেলো কথা বলার জন্য। রাত্রি দরজাটা বন্ধ করে এসেই…

– একি! একি! 
কি করছেনটা কি আপনি শাড়ি খুলছেন কেন? আমি চোখ বন্ধ করে দরজার দিকে দৌড় লাগালাম(ভালোছেলে বলে কথা)। কিন্তু পেছন থেকে রাত্রি আমাকে ধরে ফেললো। আর বললো,, একি আপনি কোথায় যাচ্ছেন?

– আমি পিছনে না তাকিয়েই বললাম,,আপনি এখন এটা কি করলেন? দেখুন এখনো কিন্তুু আমাদের বিয়ে হয়নি। আর আপনি…

– রাত্রি হয়তো আমার উপর কিছুটা রেগে গেছে। সে রাগী কন্ঠেই বললো,, কি বাজে বকছেন আপনি? আপনি সবটা না দেখেই এমন মন্তব্য করছেন?

– এবার আমি কিছুটা অসস্থিতে পড়ে যাই। বললাম,,, কি বলছেন আপনি? সবটা দেখবো মানে?

– আমি কথাটা বলার পর রাত্রি নিজেই আমার সামনে এসে দাড়ালো। তাকিয়ে দেখলাম রাত্রি শাড়ির নিচে একটা আজকালকার মর্ডান নামক পোশাক পড়ে আছে। আমাকে হা করে আবাক চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাত্রি বললো,, আসলে আমি শাড়িটা ঠিক পড়তে পারি না। মা জোড় করে পড়িয়ে দিয়েছিলো। খুব অসস্তি লাগছিলো। তাই খোলে ফেললাম। আচ্ছা আমাকে আপনার কেমন লেগেছে?

– রাত্রির হঠাৎ প্রশ্নে কিছুটা থমকে গিয়ে বললাম,, আসলে ব্যাপরটা হলো গিয়ে মা যখন আপনাকে পছন্দ করেছে তখন..

রাত্রিঃতারমানে আপনার আমাকে পছন্দ হয়নি তাইতো?

আমিঃ এমা না না। আমি সেটা বলিনি। আপনাকে তো যেখোনো ছেলেই পছন্দ করবে। আর আমিতো কোন ছাড়!

– রাত্রি একটা হাসি দিয়ে বললো,, সত্যি। আচ্ছা একটা প্রশ্ন করবো?

আমিঃ হুম। বলেন কি বলবেন?

রাত্রিঃ আচ্ছা আপনার কি কোনো গার্লফ্রেন্ড আছে? (রাত্রির মুখে একটা মুচকি হাসি)

– অবশ্য হাসিটার কারণ আমি তখন উদ্ধার করতে পারিনি। বিয়ের দিন বুঝতে পেরেছিলাম ওর হাসির কারণটা। যাই হোক যেহেতু আমার কেউ ছিলো না। তাই না বললাম। ইচ্ছে করছিলো রাত্রিকেও এই প্রশ্নটাই করি কিন্তু সেটা করতে পারিনি(আমি আসলে একটু বেশিই ভদ্র😊) । মেয়েদের সাথে আমি এতো তাড়াতাড়ি সহজ হতে পারি না।

– এরপর আমাদের বিয়েটা ঠিক হয়ে যায়। বিয়ের তারিখটাও খুবই কাছে রাখা হয়। কেন জানিনা সবাই এতো তাড়াহুড়ো করছে। বিয়েটাতো আমার নাকি?

– ঐদিনের পর রাত্রির সাথে সামনা-সামনি আর দেখা হয়নি। অবশ্য ফোনালাপটা চলেছে আমাদের মাঝে। এই কয়েকটা দিনেই মেয়েটার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ি। ওর কথোপকথন আমার খুবই ভালো লাগে। তবে আমার জড়তাটা এতো কম সময়ে কাটাতে পারিনি। মানে রাত্রিকে আপনি থেকে তুমি বলতে পারছি না। রাত্রিও আমাকে তুমি বলে ডাকেনি। হয়তো ওর অবস্থাটাও আমারই মতো। তবে আমি এটা বুঝতে পারি মেয়েটা খুবই ভালো। আর আমাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছে। হ্যা আমিও রাত্রিকে ভালোবেসে ফেলেছি।

– আমাদের বিয়েটা তাড়াতাড়ি হলেও বেশ জাকজমকভাবেই হয়। বিয়ের দিন রাত্রে আমি বাসরঘরে ডুকতেই রাত্রির এসে আমাকে সালাম করার কথা। কিন্তু রাত্রি আসছেনা দেখে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম রাত্রি বিছানাতে আরাম করে ঘুমিয়ে আছে। বাসর রাতে বউ স্বামীর জন্য অপেক্ষা না করে ঘুমিয়ে আছে! ব্যাপারটাকে আমার কেমন ভাবে নেওয়া উচিত। ঠিক বুঝতে পারছি না। যাই হোক আমি খাটের দিকে এগিয়ে রাত্রিকে একটা ডাক দিলাম। কিন্তু রাত্রির কোনো রিএকশনই নেই। তাই আমি খাটের উপর উঠে রাত্রিকে ডাক দিতে দিতে কয়েকবার ধাক্কা দিলাম।

– রাত্রির ঘুম ভাঙ্গতেই প্রায় লাফিয়ে উঠে বসলো। তারপর বললো,, কিহলো ডাকছেন কেন? আর আপনি এখানে কেনো?

– আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,, আরে। আজকে আমাদের বাসর রাত!

রাত্রিঃ সে যাই হোক। আমার খুবই ঘুম পেয়েছে ঘুমোতে দিন।

আমিঃ রাত্রি এইরাতটা সবার জীবনে একবারই আসে। আর আপনি কিনা…

– রাত্রি বড় একটা হাই তুলে বললো,, যা বলার কাল সকালে বলিয়েন। এখন প্লিজ আমাকে ঘুমাতে দিন।

– আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম,, ঠিক আছে। শুয়ে পড়ো তাহলে। এইবলে আমি রাত্রির পাশের বালিশটা টেনে এনে শুতে যাব। রাত্রি হঠাৎ করেই বলে উঠলো,,কি করছেন? আপনি আমার সাথে ঘুমাবেন নাকি?

আমিঃ মানে? আমরাতো এখন থেকে একসাথেই ঘুমাবো।

রাত্রিঃ না।

আমিঃ কি বলছেন আপনি? এটাইতো নিয়ম। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী একসাথে এক বিছানায়ই থাকে।

রাত্রিঃ ও বাবা। আপনি এটাও জানেন নাকি? আমিতো ভেবেছিলাম আপনি আপনার মায়ের লক্ষী ভদ্রছেলে।

আমিঃ এসব কি বলছেন আপনি?

রাত্রিঃ শুনোন আজকে আমি আপনাকে একটা কথা ভালো করে বলে দিচ্ছি। আমার উপর কখনো স্বামীর অধিকার খাটাতে আসবেন না। আর আমি আপনার সাথে এক বিছানায় থাকতেও পারবো না। আমি আপনাকে স্বামী হিসেবে মানিনা। আর সব থেকে বড় কথা আমার বয়ফ্রেন্ড আছে। আমি তাকেই ভালোবাসি। আর ছয়মাস পর ও ইউএস ফিরে আসলে। আমি ওর সাথেই চলে যাবো।

– আমি হাসতে হাসতে বললাম,, আপনি আবারও মজা করছেন তাই না।

রাত্রিঃ আমার মুখ দেখে আপনার মজা মনে হচ্ছে।

– আমার মাথায় যেন কেউ বড় একটা হাতুড়ি দিয়ে বারি মারলো। তারপর বললাম,, তাহলে আমাকে বিয়ে করার মানে কি? আপনি তো এতোদিন আপনার বয়ফ্রেন্ড নিয়ে কিছুই বলেন নি। আর আপনার কথা শুনেতো মনে হতো আপনিও আমাকে ভালোবাসেন। আর আপনি যদি আমাকে ভালো নাই বাসেন। তাহলে বিয়ে কেন করলেন?

রাত্রিঃ আসলে বাবা-মা আমার উপর বিয়ের জন্য কনটিনিউয়াস চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছিলেন। রকির (বয়ফ্রেন্ড) কথা বাবা-মাকে বলাতে সোজা না করে দেয়। কারণ রকি বিদেশী।আমার বাবা-মার কথা আমাকে দূরে কোথাও বিয়ে দিবেন না। আর রকিও আমাকে বিয়ে করতে পারছিলনা অফিসিয়াল সমস্যার করণে। নাহলে ওকে বিয়ে করে কবেই চলে যেতাম। একের পর এক ছেলে দেখাতে লাগলো সবাই। আমি জাস্ট বিরক্ত হয়ে গেছিলাম। তাই আপানকে বিয়ে করে মা-বাবার হাত থেকে বাঁচলাম। আমি আসলে খুবই দুঃখিত। আপনাকে বিয়ের আগেই বিষয়টা জানাতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু ভয় ছিলো যদি আপনি বিয়েটা না করেন।

আমিঃ সবইতো বুঝলাম। কিন্তু আমাকেই কেন বিয়ে করলেন। অন্য কাউকেও করতে পারতেন। এভাবে আমার জীবন নষ্ট করার মানে কি?

রাত্রিঃ আসলে আপনাকে দেখে কেমন যেন বোকা বোকা না মানে সহজ-সরল মানুষ মনে হয়েছিলো। আমি ভেবেছিলাম যে আপনি আমার সমস্যাটা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন। আমি ভাবির কাছে শুনেছিলাম আপনি নাকি সবাই কেই সাহায্য করেন। প্লিজ আমাকেও এই ছোট্টো সাহায্যটা করুন।

-আমি রেগে গিয়ে বললাম,, আপনি এটাকে ছোট্টো কি করে বলছেন। আরে আপনি বুঝতে পারছেন, আপনি আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছেন। আর সব থেকে বড় কথা আমার মা আপনাকে অনেক পছন্দ করে। আপনি তাকেও ঠকিয়েছেন। মা যখন এটা জানতে পারবে তখন কতোটা কষ্ট জানেন আপনি?

– রাত্রি হয়তো ভাবেনি যে আমি এইভাবে রিয়েক্ট করবো। ও নিচু গলায় বললো,, আমি সরি। আমি এতো কিছু ভাবিনি।

আমিঃ সরি। একটা সরিতেই সব কিছু শেষ হয়ে যাবে? আমাকে দেখে আপনার সহজ-সরল মনে হয় তাই না। সহজ-সরল মানুষরা যে প্রয়োজনে কতোটা কঠিন হতে পারে আপনার
কোনো ধারনাই নেই।

রাত্রিঃ মা..নে?

আমিঃ মানেটা খুবই সহজ। আমার মা আপনাকে এই বাড়িতে বউ করে এনেছে। আর আমি আমার মাকে কোনোভাবেই কষ্ট পেতে দিবো না। আপনাকে কি করে পার্মানেন্টলি এই বাড়ির বউ করতে হয় সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি।

– আমার কথা শুনে রাত্রি ভয়ে একেবারে চুপছে গেলো। ওর চোখে ভয়টা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

– রাত্রি ভয় পেয়ে খাটের এক কোনায় চলে গেলো। আর বললো,, মাম..মানে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন?

– আমি একটা হাসি দিয়ে বললাম,, আমি যে কি বলতে চাচ্ছি সেটা আপনি খুব ভালো করেই জানেন।

রাত্রিঃ একদম আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না। আমি কোনো সাধারণ মেয়ে নই বলে দিলাম। আমি আমার কলেজ লাইফে বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। আমার দিকে এগুলে খুব খারাপ হয়ে যাবে।

– রাত্রির ভয়মিশ্রিত কথাগুলো শুনে আমার খুবই মজা লাগছিলো। তাই বললাম,, আপনি যে কিছুই করতে পারবেন না সেটা আপনার মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে।

রাত্রিঃ আপনার লজ্জা করছে না একটা একলা, অসহায় মেয়েকে পেয়ে তার উপর জোর-জবরদস্তি করতে চাইছেন। এটা কিন্তু অনেক বড় অপরাধ।

আমিঃ অপরাধ! আরে আপনি আমার বিয়ে করা বউ। আর আজকে আমাদের বাসর রাত। আপনাকে টাচ করার সম্পূর্ণ অধিকার আমার আছে।

-এই বলে রাত্রির দিকে একটু এগিয়ে যেতেই কোথা থেকে যেন একটা ফুলের টপ হাতে নিয়ে এসেছে। আর টপটা আমার দিকে এগিয়ে বললো,, খবরদার! আমার দিকে আর এগুনোর চেষ্টা করলে এটা দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেবো।

– রাত্রির চোখ দেখে মনে হচ্ছে আমি আর কিছু করতে চাইলেই মাথা ফাটিয়ে দেবে। তাই ভাবলাম রিস্ক নিয়ে লাভ নেই। তখন খাট থেকে উঠে আসতে যাব,, ঠাস করে মাথায় বাড়িটা মেরেই দিলো। ভারী টপটা দিয়ে বাড়ি মারছে। কিছু বুঝে উঠার আগেই আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।

– সকালে ঘুম ভাঙ্গতেই মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করলাম। চোখ খুলতেই বুঝতে পারলাম আমি আমার বিছানাতেই শুয়ে আছি। মাথায় হাত দিতেই দেখলাম ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। তখন আমার কালকের রাতের কথা মনে পড়লো। মেয়েটা এতোটা ভয়ংকর! আমার মাথাটাই ফাটিয়ে দিলো।

– পাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠলো,, এইতো মা ভাইয়া চোখ খুলেছে। তাকিয়ে দেখলাম মা, নিতু দুজনেই আমার পাশে বিছানাতে বসে আছে। আর রাত্রি ওদের পাশেই দাড়িয়ে। আমি উটে বসতেই মা বলে উঠলো,, হেরে তুই আর কবে বড় হবি বলতো? তুই বাথরুমে কি করে পড়ে গেলি? ভাগ্য ভলো যে রাত্রি ছিলো। নাহলে কি হতো বলতো?

– মায়ের কথার মাথামুন্ডু আমি কিছু বুঝতে পারছি না। তাই জিজ্ঞেস করলাম,, তোমাকে এসব কে বলছে?

মাঃ কে আবার রাত্রি।

– আমি রাত্রির চোখের দিকে তাকাতেই ও মাথা নিচু করে নিয়েছে। মা আবার বলতে লাগলেন,, আমাদের ভাগ্য ভালো যে বউমা একজন ডাক্তার। নাহলে তোকে নিয়ে যে কি করতাম? এতো রাতে তোর চিকিৎসা কি করে করতাম বলতো।

– আমি আর কিছুই বললাম না। মা আমাকে নাস্তাটা খাইয়ে দিয়ে নিতুর সাথে নিচে চলে গেলো। তখন রাত্রি এগিয়ে এসে বললো,, ধন্যবাদ আর আমি সরি। আমি বুঝতে পারিনি যে এতো জোরে আঘাতটা লেগে যাবে।

আমিঃ আচ্ছা আমাকে দেখে আপানর কি মনে হয়? আমাকে কি খারাপ ছেলে মনে হয়। আমি এতোটা খারাপ নই যে একটা মেয়েকে জোর করে নিজের অধিকার আদায় করবো। আমার সঙ্গে এতোদিন কথা বলার পরও এটা বুঝতে পারলেন না।

রাত্রিঃ আসলে আমি খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম। তাই..

আমিঃ তাই আপনি আমার মাথায় মারলেন। এতেতো একটা মানুষের মৃত্যুও হতে পারতো। আর কিছু বললাম না কারণ একটু দোষ আমারও ছিলো মজা নিতে গিয়েই এমনটা হলো।

রাত্রিঃ আমিতো সরি বললাম।

আমিঃ হুম। ঠিক আছে।

রাত্রিঃ নিন এবার ঔষুধ খেয়ে নিন। দেখবেন খুব জলদিই ঠিক হয়ে যাবেন। (মুখে একটা মুচকি হাসি)

– ঔষুধটা খাওয়ার পর রাত্রি বললো,, নিন এবার কিছুক্ষণ রেস্ট নিন।তারপর আমি চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়লাম। কতক্ষন পর ঘুম ভাঙ্গতেই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ১:৩০ বেজে গেছে। মাথায় আর তেমন ব্যাথা নেই। ঘরটাতে একবার ভালো করে চোখ বুলিয়ে দেখলাম,, আমার ঘর পুরো বদলে গেছে। আমার ঘর কখনো এতোটা পরিপাটি আর সাজানো থাকে না।আমি নিজে কোনোদিন ঘর গোছগাছ কিরিনা। ঘর যেমন থাকে তেমনি আমার কাছে ঠিক। মা অথবা নিতুই মাঝেমঝে ঘর পরিষ্কার করে দিতো। তবে এতোটা যত্ন করে কেউ করেনি। নিশ্চয়ই রাত্রি আজকে ঘরটা গোছগাছ করেছে। মেয়েটার বেশ রুচিসম্মত । তারপর বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেলাম। সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে দেখলাম সবাই খাবর টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে। মা আর রাত্রি মিলে সার্ভ করছে। সবাই বলতে বাবা,রিফাত, নিতু আর ওর বর। আমাকে দেখতে পেয়ে নিতু বলে উঠলো,, ভাইয়া তুই নিচে আসতে গেলি কেন? তোরতো এখন রেস্ট নেওয়ার কথা।

আমিঃ আরে না আমি ঠিক আছি। আমি একটা চেয়ার পেতে খাবার খেতে বসে পড়লাম।

-তখনি মা বলে উঠলো,, রাফি তুই এখানে কেন কষ্ট করে আসলি? ঘরে যা বলছি। আমি রাত্রিকে দিয়ে তোর খাবার পাঠিয়ে দেবো।

আমিঃ মা আমি যখন এসেই পড়েছি তখন..

মাঃ যেটা বলেছি সেটা কর। ( মায়েদের এতোটা কেয়ারিং মাঝেমাঝে বিরক্ত লাগে)

– কি আর করা আমি আবার উপরে চলে এলাম। কিছুক্ষন পর রাত্রি খাবার নিয়ে উপরে চলে এলো। খুব খুদা লেগেছিলো তাই খাবার খাওয়া শুরু করে দিলাম। খেয়াল করে দেখলাম রাত্রি আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। আমি খাওয়া থামিয়ে বললাম,,, কিহলো? এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?

রাত্রিঃ আপনার সাথে কিছু কথা ছিলো। তবে আগে খাবারটা শেষ করে নিন।

– খাবার শেষ হতেই রাত্রি থালা-বাসন নিচে রেখে এসে ঘরে ডুকে দরজাটা বন্ধ করে এসে খাটে বসলো। আমি বললাম,, বলুন কি বলবেন।

রাত্রিঃ আপনাকে রাত্রে যে কথাগুলো বলেছিলাম মনে আছে?

আমিঃ হুম। আপনার বয়ফ্রেন্ডের কথাইতো। আমিও এই বিষয়টা নিয়ে ভেবেছি। দেখুন আমার আপনার বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে কোনে সমস্যা নেই। আর আপনি চাইলে ছয়মাস পর ওর কাছে চলে যেতে পারেন। আর আমি আপনার উপর কোনোরকম অধিকার খাটাতেও আসবো না। কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে?

– রাত্রি খুশি হয়ে বললো,, কি শর্ত। আপনি যে শর্ত বলবেন আমি সবকিছুতেই রাজি।

আমিঃ দেখুন আমার মা আপনাকে পছন্দ করে তার ছেলের বউ করে এনেছেন। আমি চাইনা আমার মা কোনোভাবে কষ্ট পাক। আর সেইজন্যই যতোদিন আপনি এই বাড়িতে থাকবেন। ততদিন আপনাকে এমনভাবে চলতে হবে যাতে মনে হয় আপনি-আমি একসাথে খুবই সুখী আছি। কেউ যাতে আসল ব্যাপারটা খুনাক্ষরেও জানতে না পারে। যদি আপনি এই শর্ত পালন করতে পারেন,, আমি কথা দিলাম ছয়মাস পূর্ণ হতেই আপনি আপনার ডিভোর্স পেপার হাতে পেয়ে যাবেন।

রাত্রিঃ সত্যি বলছেন☺। যদি এমন হয় আমি আপনার শর্তে রাজি। তবে আমারও একটা শর্ত আছে?

আমিঃ আপনারও শর্ত আছে! ঠিক আছে বলুন।

রাত্রিঃ হু। তো আমার শর্ত হলো আমি আপনার সাথে একই বিছানায় থাকতে পারবো না। কাল রাতে যদিও আমি সোফায় থেকেছি। কিন্ত প্রতিদিন সেটা আমি করতে পারবো না।

আমিঃ তারমানে আপনি বলতে চাচ্ছেন এখন থেকে আমি সোফায় থাকবো।

রাত্রিঃ একদম ঠিক😊।

আমিঃ ও হ্যালো। এটা আমার ঘর আর বিছানাটাও আমার। আপনার ঐ কথাগুলো মেনে নিয়েছি বলে এই নয় যে আপানর সব কথাই আমি মানবো। আপনি সোফাতে থাকবেন আর আমি খাটে থাকবো। না হলে একটু আগে যে কথাগুলো দিয়েছি না সব ভুলে যাবো।

– রাত্রি বাধ্য হয়েই রাজি হয়ে যায়। কি আর করবে এ ছাড়া ওর কাছে কোনো অপশনই নেই।

– সারাদিন আমি আর ঘর থেকে বের হইনি। বিছানাতেই শুয়ে ছিলাম। রাতে খাবার খাওয়ার পর আমি বিছানাতে আর রাত্রি সোফায় শুয়ে পড়ে।

– এরপর সকালে উঠে কিভাবে প্রতিশোধ নিলো আপনারাতো দেখলেনই।

– যাইহোক অনেক্ষন ধরেই টয়লেটে বসে আছি। এবার বের হতে হবে। টয়লেট থেকে বের হয়ে দরজা দিয়ে যেই ডুকতে যাবো,, মা সামনে এসে হাজির।

মাঃ কিরে এই শরীরে এতো সকালে কৈ বেরিয়েছিলি।

– ঐ একটু হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। আচ্ছা মা আমি উপরে যাচ্ছি। উপরে এসে ঘরের দরজা খুলতেই দেখি রাত্রি এইমাত্র বাথরুম থেকে বেরিয়েছে। আর ওর শরীরে কাপড় বলতে ঐ একটা তোয়ালে পেচানো। রাত্রি এখনো আমাকে দেখতে পায়নি। আমার কি এখন ঘরে ডুকা উচিত নাকি বাইরে চলে যাব। এসব ভাবার সময়টাও পেলাম না। কারণ রাত্রি তার শরীর থেকে তোয়ালেটা খুলে ফেলেছে। আর এই ঘটনা আমার মতো ভদ্রছেলের হজম করতে একটু কষ্ট হবারই কথা। আমি যেন আমার পা নড়াতেই পারছি। যেই জায়গায় ছিলাম ওখানেই পা দুটো জমে গেছে।

– রাত্রি এখন সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায় আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও রাত্রি এখনো আমায় দেখতে পায়নি। পা’টা কেমন যেন কাঁপছে।

– হাটুর কাপনিটা হয়তো হাতে চলে এসেছে। যার করণে হাতে লেগে পাশে রাখা ফুলের টপটা পড়ে গেলো। আর সেই আওয়াজে রাত্রি পেছন ফিরেই চিৎকার। আমি সাথে সাথে দরজাটা বন্ধ করে বাইরে চলে এলাম। দরজার বাইরে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ভাবছি,, এখন যেটা ঘটলো তারপরে রাত্রি আমার সম্পর্কে কি ভাববে? কিন্তু এখানেতো আমার কোনো দোষ নেই। আর আমি ইচ্ছা করেও কিছু করিনি। হ্যা এখনে যদি দোষ থাকে তাহলে সেটা রাত্রির আমার না। রাত্রির উচিত ছিলো দরজাটা বন্ধ করে নেওয়া। নয়তো বাথরুম থেকেই কাপড় পড়ে আসা।

– এসব কিছু ভেবেই মনে মনে রাত্রিকে ফেস করার জন্য নিজেকে তৈরি করছি। ঠিক তখনি হঠাৎ করে দরজা খুলে গেলো। আর রাত্রি একটা রাগান্বিত চেহারা নিয়ে দাড়িয়ে আছে। বাঁপরে.. মুখ পুরা লাল হয়ে আছে।

– আমি আ… কিছু বলার আগেই টান দিয়ে ঘরের ভিতরে নিয়ে গেলো। আর দরজাটাও সজোরে বন্ধ করে দিলো। রাত্রি রাগান্বিত কন্ঠে বললো,, আপনি নাকি খুব ভালো আর ভদ্র ছেলে?😡

আমিঃ অবশ্যই কোনো সন্দেহ?😊

রাত্রিঃ কোনেো সন্দেহ নাই। আর পাচঁটা লুচ্চা,বদমাস ছেলেদের মতো আপনার চরিত্রেরও ঠিক নেই। শুধু সবার সামনে ভালো সেজে থাকেন।

আমিঃ দেখুন আপনি না জেনে আমার চরিত্র নিয়ে বাকা কথা বলবেন না।

রাত্রিঃ ওহ তাই বুজি! আপনার চরিত্র যদি এতোই ভালো হতো তাহলে লুকিয়ে লুকিয়ে একটা মেয়ের কাপড় বদলানো দেখতেন না। বলেই,, হু হু করে কান্না জুড়ে দিলো। আর বলতে লাগলো,, আমার সব দেখে নিলো। একটা লুচ্চা, লম্পট, পেচা কোথাকার।

অামিঃ আরে আপনি কাঁদছেন কেন? আর আমাকে এতো ভালো ভালো উপাধিইবা দিচ্ছেন কেন?যেটা হয়েছে সেটতো অনিচ্ছেকৃতভাবে।

রাত্রিঃ না আপনি ইচ্ছে করে এমনটা করেছেন। আর এখন নিজের দোষ ঢাকার চেষ্টা করছেন!😡

আমিঃ দোষ! দোষ যদি কেউ করে থাকে সেটা আপনি করেছেন। আপনি বাথরুম থেকে কাপড় পড়ে পরে আসতে পারলেন না। আর যদি ঘরে এসেই কাপড় পড়ার হয় তাহলে দরজাটাতো বন্ধ করে নিতে পারতেন। আপনার মনে রাখা উচিত ছিলো ঘরটা শুধু আপনার একার নয়। আর শুনে রাখুন আপনার মতো মেয়ের প্রতি আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই😡। কথাটা বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে যাব। তখনি রাত্রি দৌড়ে এসে সামনে দাড়িয়ে আমার পথ আটকে বললো,, আমার মতো মেয়ে মানে? আপনি কি বলতে চাচ্ছেন?😡

আমিঃ কেনো আপনি.. ছাড়ুন আমি এখন আপনার সাথ ঝগড়া করতে পারবো না।আমাকে নাস্তা করে আবার তৈরি হয়ে অফিসে যেতে হবে। রাস্তা ছাড়ুন! আমি নিচে যাবো।

– তারপর রাত্রিকে পাশ কাটিয়ে নিচে এলাম। আসার সময় রাত্রির বিরক্ত হওয়া মুখটা দেখতে যা লাগছিলো না😁। আমি মায়ের থেকে একটা চা চেয়ে নিলাম। চা’টা নিয়ে খবরের কাগজটাসহ সোফায় বসে পড়লাম। কারণ মা এখনো নাস্তা বানানো শেষ করেনি।

– কিছুক্ষন পর মা ডাক দিলো নাস্তা করার জন্য। সবাই একসাথে বসে নাস্তা করলাম। নাস্তা করে উপরে অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে লাগলাম। এই বিয়ে বিয়ে করে অনেকদিন অফিসে যাওয়া হয়নি। কতোদিন আর অারেকজনের উপর ভার দিয়ে থাকা যায়। অবশ্য যে এতোদিন সব সামলিয়েছে সে আমার বেস্ট ফ্রেন্ডই। নাম হলো শান্ত। যাই হোক এবার রওনা দেওয়া দরকার।

– ঘুরে দাঁড়াতেই রাত্রি আবার সামনে এসে উপস্থিত! উফ কি ঝামেলারে বাবা। জিজ্ঞেস করলাম,, কিছু বলবেন?

রাত্রিঃ হুম। বলবো বলেইতো এসেছি।

আমিঃ যা বলার বলে ফেলুন।

রাত্রিঃ আপনি এভাবে কথা বলছেন কেন?

আমিঃ দেখুন রাত্রি আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে। তাই প্লিজ কি বলবেন বলে ফেলুন।

রাত্রিঃ হ্যা। আসলে আমার কিছু ড্রেস কিনা লাগবে।

আমিঃ কেনো? মা’তো আপনার জন্য এতোগুলো শাড়ি আনিয়ে রাখলেন। তাহলে আপনার আবার কি কেনা লাগবে?

রাত্রিঃ আপনাকেতো আমি আগেই বলেছিলাম। আমি শাড়িতে তেমন কমফোর্টেবল নই। আমার খুব অসস্থি হয়।

আমিঃ কিন্তু সব মেয়েরাতো বিয়ের পর শাড়িই পড়ে। আর তাছাড়া আপনার ঐ বিদেশী অসভ্য পোশাক মা কোনোদিন মেনে নিবেন না। আর আমিও চাইনা আপনি এখন ঐসব পড়েন।

রাত্রিঃ অসভ্য মানে? আপনি কি বলতে চাচ্ছেনটা কি?

আমিঃ আরে আপনি কথাকে এতোটা পাকাচ্ছেন কেন? সোজা কথা আপনি এই বাড়তে ঐসব কিছুই পড়তে পারবেন না।

রাত্রিঃ এইটুকু কনমসেন্স না আমারও আছে। আমি এমন কোনো ড্রেস কিনবো না যাতে আপনারদের সমস্যা হবে।

আমিঃ তা ঠিক আছে। কিন্তু মা..

– রাত্রি হাত দিয়ে আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো,, আপনার মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই এসেছি। আপনাকে টেনশন নিতে হবে না।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে। তো কখন যাবেন?

রাত্রিঃ কেন? এক্ষুনি!

আমিঃ সেটা সম্ভব না। আমাকে এখন অফিসে যেতে হবে। এক কাজ করি আপনাকে বরং আমি বিকালে নিয়ে যাবো।

রাত্রিঃ না। আমাকে এক্ষুনি যেতে হবে।

আমিঃ আপনার এতে কি জরুরি..। আচ্ছা ঠিক আছে। এই নিন কার্ড। আপনার দরকার কিনে নিয়েন। আর বাড়ির গাড়িটা করে যান তাহলে। আমি আসি।

রাত্রিঃ ওকে বাই।

– তারপর আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা অফিসে চলে এলাম। সবাই আমার বিয়ের জন্য অভিনন্দন জানাতে এগিয়ে এলো। সবার সাথে কাথা বলে নিজের কেবিনে চলে গেলাম। শান্তকে ডেকে বর্তমান পরিস্থিতি সব জানে নিলাম। তারপর দুজন মিলে আজকের মিটিং এর জন্য কাগজ-পত্র তৈরি করলাম। মিটিং শেষ করতে করতে দুপুর হয়ে গেলো। আমি বোর হয়ে কেবিনে বসে রইলাম। আর শান্ত সবাইকে বিদায় দিয়ে তারপর কেবিনে আসলো। এসেই বললো,, চল বাইরে থেকে কিছু খেয়ে আসা যাক।

আমিঃ মন্দ বলিসনি। খুব খিদে পেয়েছে। চল তাহলে পেট পূজোটা সেরেই আসি।

– এরপর দুজন মিলে পাশেই একটা রেস্টুরেন্টে চলে গেলাম। খাবার খাওয়ার মাঝে হঠাৎ আমার চোখ গেলো অন্য একটা টেবিলে।

– একি! রাত্রি এখানে?😮
– ওরতো এখন শপিং সেন্টার কিংবা বাড়িতে থাকার কথা ছিলো। কিন্ত আমার আশ্চর্য হওয়ার করণটা এটা নয়। করণটা হলো রাত্রি একটা ছেলের সাথে বসে আছে। আর বেশ খুশ মেজাজেই হাসাহাসি করে কথা বলছে। শান্তও হয়তো আমার চোখ অনুসরন করে ঐদিকে তাকিয়ে বললো,, আরে এটা ভাবি না।

আমিঃ হুম।

শান্তঃ কিন্তু ওনি এখানে কি করছেন। আর ঐ ছেলেটাই বা কে? তুইকি চিনিস?

আমিঃ না।

শান্তঃ তাহলে তুই এখনে বসে কি করছিস। ওখনে যা। গিয়ে ভাবিকে জিজ্ঞেস কর যে এসব কি?

আমিঃ না এখনে কোনো সিনক্রিয়েট করে লাভ নেই। চল এখান থেকে।

শান্তঃ আরে কিন্তু?

– শান্তকে আমি একরকম টেনেই ওখান নিয়ে চলে এলাম। অফিসে চলে আসার পর শান্ত জিজ্ঞেস করলো,, তুই তখন ওখান থেকে এইভাবে চলে এলি কেন? তোরতো উচিৎ ছিলো ভাবিকে গিয়ে সবকিছু জিজ্ঞেস করা। কিরে তুই কিছু বলছিস না কেন?

আমিঃ ওই ছেলেটা হয়তো রাত্রির বয়ফ্রেন্ড হবে।

শান্তঃ ওহ বয়ফ্রেন্ড। মানে! কি বলছিস তুই?😯

– আমি তখন শান্তকে রাত্রির সাথে আমার যা যা কথা হয়েছে সব বললাম। তখন শান্ত বললো,, তুইকি শিউর যে ঐ ছেলেটাই ভাবির বয়ফ্রেন্ড?

আমিঃ না। আমি শুধু আন্দাজ করেছি।

শান্তঃ কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না তুই এতোকিছু মেনেই বা নিলি কেন?

আমিঃ বাদ দে এসব। যা হওয়ার সেটা হয়ে গেছে। এখন কাজ করা যাক। শান্তও আর কোনে প্রশ্ন করলো। ঐদিনের মতো সব কাজ শেষ করে সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে ফিরলাম। ওয়াসরুম থেকে ফ্রেস হয়ে বেরিয়ে এসে। বিছানায় গা’টা এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজে রইলাম। কিছুক্ষণ পর রাত্রির ডাকে চোখ খুলতেই রাত্রি হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বললো,, এই নিন। আপনার কার্ড?

– আমি উঠে বসে রাত্রির হাত থেকে কার্ডটা নিয়ে বললাম,, তো আপনার সবকিছু কেনা হয়ে গেছে? তখন রাত্রি বিছানায় বসে বললো,, হ্যা কেনা হয়ে গেছে। (রাত্রির মুখ থেকে যেন আজকে হাসি সরছেই না। হবেনা এতোদিন পর নিজের ভালোবাসার মানুষের সাথে দেখা।)

আমিঃ আচ্ছা রাত্রি ঐ ছেলেটাইকি তাহলে আপনার বয়ফ্রেন্ড?

– রাত্রি আমার প্রশ্নে কিছুটা অবাক হয়ে বললো,, কোন ছেলেটার কথা বলছেন?

আমিঃ ঐ আজকে রেস্টুরেন্টে যার সাথে ছিলেন।

রাত্রিঃ আপনি কি করে জানেন যে আমি রেস্টুরেন্টে গেছিলাম।

আমিঃ না আমি আসলে শান্তর সাথে লান্চ করতে গেছিলাম। তখনি আপনাকে একটা ছেলের সাথে দেখলাম। সেইজন্যই ভাবলাম যে ঐটাই বোদহয় আপনার বয়ফ্রেন্ড।

রাত্রিঃ ওহ আচ্ছা। আপনি ঠিকই ভেবেছেন। ওই আমার..

– রাত্রি কথা শেষ করার আগেই ওর ফেনটা বেজে উঠলো। রাত্রি ফোনে তাকিয়ে বললো,, এই দেখুন ওর কথা বলতে বলতেই ফেন চলে এলো। রাত্রি ফোনটা রিসিভ করে সোজা বেলকোনিতে চলে গেলো। যদিও আমি বলেছি রাত্রিকে ছেড়ে দিবো। তারপরও কেনো যেন ঐ ছেলের সাথে রাত্রির দেখা করা, কথা বলাটাকে আমি সোজাভবে নিতে পারছিনা।

– প্রায় পনেরো মিনিটের মতো কথা বলে রাত্রি আবার ঘরে এলো। রাত্রিকে জিজ্ঞেস করলাম,, আচ্ছা রাত্রি আপানর ওনিকি জানেন যে আপানর বিয়ে হয়ে গেছে?

রাত্রিঃ হ্যা অবশ্যই জানে। ওকেতো আমি সবকিছুই বলেছি। আর আপনার সঙ্গে আমার যা যা কথা হয়েছে ওকে সবই বলে দিয়েছি। ও খুবই খুশি। ইবেন ওতো আপনাকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য আপনার সাথে একটু আগে কথাও বলতে চাইছিলো। কিন্তু ওকে কে যেন একটা ডেকে নিয়ে গেলো। যার কারণে ফোনটা রেখে দেয়।

আমিঃ ওহ। আচ্ছা তো আপনার বয়ফ্রেন্ড ঠিক কি কাজ করেন?

রাত্রিঃ ওর আসলে ইউএসএ নিজের বিজনেস আছে। নতুন দাড় করিয়েছে। বর্তমানে খুব ভালো গ্রোথ হচ্ছে। আর সেই করণেই ও আমার থেকে ছয় মাস সময় চেয়েছে।

আমিঃ রাত্রি একটা প্রশ্ন করবো? যদি কিছু মনে না করেন আরকি।

রাত্রিঃ সিউর। বলুন কি বলবেন?

আমিঃ এই আপনি আমার সাথে এতোদিন সংসার করবেন। আমার একই ঘরে থাকবেন। যদি ভবিষ্যতে আপনার বয়ফ্রেন্ড আপনাকে সন্দেহ করে। মানে…

রাত্রিঃ আমি বুঝতে পারছি। আপনি কি বলতে চাচ্ছেন। আমি জানি এরকাম কিছুই হবে না। কারণ ও আমাকে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসে। আর আমাকে বিশ্বাসও করে।

আমিঃভালো।

রাত্রিঃ হুম। আচ্ছা আপনার কি সত্যিই কেউ নেই। মানে আমি যখন চলে যাব তখন আপনি কি করবেন?

আমিঃ আমাকে নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না।

রাত্রিঃ ভববো না কেনো? আপনি আমার জন্য এতো কিছু করছেন। আপনি নিশ্চয়ই আরেকটা বিয়ে করে নিবেন তাইনা?

আমিঃ আবার বিয়ে! একবার বিয়ে করেই সব স্বাদ মিটে গেছে। আরে আমিতো এই বিয়েটাই করতে চাচ্ছিলাম না। মায়ের জোড়াজোড়িতে করতে হলো।

রাত্রিঃ কিন্তু আপনি বিয়ে করতে চাননা কেন?

– সেটা আপনার না জনলেও চলবে। চলুন নিচে চলুন। মা হয়তো এক্ষুনি খাবার খেতে ডাকবেন।

রাত্রের খবার খাওয়ার পর রুমে এসে দেখি রাত্রি কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে। কিছুক্ষন শোনার পর বুঝতে পারলাম ওনি ওনার বিএফ এর সাথেই কথা বলছে। রাত্রিকে ডাক দিলাম একবার। কিন্তু আমার ডাক হয়তো ওনি শুনতে পারেননি। ফোনেই হাসতে হাসতে কথা বলছেন। আরেকবার ডাক দিয়ে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে বিছানায় এসে শুয়ে পড়লাম। কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়লাম।

– জানিনা কতক্ষন পর কি করে যেন ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো। পানি পানের জন্য উঠে বসলাম। পানির জগের দিকে ঝুকতেই ডিমের হালকা আলোয় দেখলাম রাত্রি নিচে ফ্লুরে পড়ে আছে। রাত্রিকে হঠাৎ করে নিচে দেখে প্রথমে কিছুটা ভয় পেয়ে যাই। সাথে সাথে ঘরের লাইটটা অন করলাম। খাট থেকে নেমে রাত্রির কাছে গেলাম। রাত্রিকে ডাক দিলাম। কিন্তু উঠছেনা। তাই কয়েকটা ধাক্কাসহ কারে ডাকতেই রাত্রি হকচকিয়ে উঠে বসে পড়ে। আমাকে হঠাৎ করে দেখে ভয় পেয়ে পেছনের দিকে চলে গেলো।

– তারপর কাপড় ঠিক করতে করতে বললো,, আপনি! আপনি আমার কাছে কি করছেন?

আমিঃ আগে বলুন আপনি এভাবে নিচে পড়ে আছেন কেন?

রাত্রিঃ ওহ। আমি আজকেও নিচে পড়ে গেছি?

আমিঃ আজকেও মানে? আপনিকি এর আগেও পড়ে গেছিলেন নাকি!😆

রাত্রিঃ হাসছনে কেন? সবকিছুতো আপনার জন্যই হয়েছে। আমি এতো ছোট জায়গায় ঘুমাতে পারি নাকি। শুধু বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে। আপনি কি রকম লোক বলুনতো একটা মেয়েকে সোফায় থাকতে বাধ্য করছেন।😒

আমিঃ আমি আপনাকে কখন বাধ্য করলাম। আমিতো আর আপনাকে বিছানায় থাকতে না করিনি। আপনি চাইলে আমার সাথে বিছানা শেয়ার করতে পারেন।

– কথাটা শুনে রাত্রি আমার এমনভাবে তাকলো যে আমি অনেক বড় কোনো অপরাধ করেছি। তখন আমি সাথে সাথে বললাম,, ভয় পাবেন না, ভয় পাবেন না। আমি যখন আপনাকে একবার কথা দিয়েছি যে আমি আপনাকে ছোব না। তখন আপনি এব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। আশাকরি এই কয়দিনে আমাকে এটুকু চিনতে পেরেছেন।

রাত্রিঃ না আমার পক্ষে আপনার সাথে একখাটে শুয়া পসিবল না।

আমিঃ তার মানে আপনি আমাকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। ঠি..ইক আছে আপনার ইচ্ছা। গুড নাইট! ও..হে বাতিটা বন্ধ করে দিয়েন প্লিজ।

– আমি সোজা খাটে এসে শুয়ে পড়লাম। রাত্রি কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে বাতিটা বন্ধ করলো। আমিও চোখ বুজলাম মাত্র। তখনি রাত্রি আবার বাতিটা জ্বেলে আমার কাছে এসে বললো,, ওঠুন! ওঠুন! আমার মাথায় একটা উপায় এসেছে। আমি উঠে বসে বললাম,, বলুন কি উপায়?

রাত্রিঃ হ্যা শুনুন। আমরা পালা করে খাটে ঘুমাবো। মানে একদিন আপনি খাটে শুবেন আর আমি সোফায়। অন্যদিন আমি খাটে, আপনি সোফায়। কি কেমন?

আমিঃ একদম বাজে! আমি সোফায় শুতে পারবো না। আমার অভ্যেস নেই।

রাত্রিঃ আমার মনে হয় অনেক বছরের অভ্যেস আছে তাইনা?

আমিঃ তা আমি কি করে জানবো। তবে আমার অভ্যেস নেই।

– রাত্রি ভীষণ রেগে গেছে। নাক-চোখ লাল করে বললো,, আপনি না একটা… তুত!😡
আমি একটা মেয়ে হয়ে সোফায় থাকতে পারছি আর আপনি পুরুষ মানুষ হয়ে থাকতে পারবেন না। আমিতো শুনেছিলাম পুরুষ মানুষ নাকি সবকিছুতেই মানিয়ে নিতে পারে। আর আপনি..

আমিঃ আপনি কি বলতে চাচ্ছেন আমি পুরুষ না!

– রাত্রি একটা শয়তান মার্কা হাসি দিয়ে বললো,, দেখছেন আমি কিছু বলিনি। আপনি নিজের মুখেই বললেন।😁

– এইরে কিসের মাঝে কি বলে ফেললাম।😵 এখন কোনো উপায় নেই। রাত্রির কথা মেনে নিতে হবে নয়তো আমার পৌরুষত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। তখন নিরুপায় হয়ে বললাম,, আচ্ছা ঠিক আছে। আপনার কথাই থাকবে। রাত্রি একটা হাসি দিয়ে বললো,, সত্যি!

আমিঃ হুম।

– এরপর আমি আবার বিছানায় শুতে যেতেই রাত্রির বাঁধা।

আমিঃ আবার কি হলো?

রাত্রিঃ আপনি বিছানায় ঘুমাচ্ছেন কেন?

আমিঃ আপনার সাথে যা কথা হয়েছে সেটা কাল থেকে শুরু হবে। তাই আজকে আমি বিছানায়ই ঘুমাবো।

রাত্রিঃ না আপনি সেটা পারেন না। আপনি অর্ধেক রাত বিছানায় ঘুমিয়েছেন। এখন বাকি রাতটা আমি ঘুমাবো।

– কিরকম বাকাঁ মেয়েরে বাবা। আমার এখন আর কথা কাটাকাটি করার ইচ্ছা নেই। তাই বিছানা ছেরে সোফায় এসে শুয়ে পড়লাম। প্রথমে একটু অসস্তি হচ্ছিলো বটে। কিন্তু কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম টেরও পাইনি।

– সকালে ঘুমের মধ্যে থেকেই যেন কারো অট্য হাসির শব্দ পাচ্ছি। চোখ খুলতেই দেখি রাত্রি আমার পাশে দাঁড়িয়ে মুখ চেপে হাসি থামানোর চেষ্টা করছে। আহ.. কি অপরূপ এই হাসি। তার নির্মল চেহারা থেকে যেন ঝর্নার মতো হাসি ঝরে পড়ছে। হাসির কারণে রাত্রির গালে যে টোলটা পড়েছে, সেটা বর্ননার মতো ভাষা আমার নেই। আমি আবাক হয়ে রাত্রির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। কিছুক্ষন পর মনে পরলো,, আরে রাত্রি এভাবে হাসছে কেন?

– আমি ওঠে বসে জিজ্ঞেস করলাম,, কিহলো আপনি এভাবে পাগলের মতো হাসছেন কেন?

– রাত্রি কোনোমতে তার হাসি থামিয়ে বললো,, রাত্রেতো আমাকে দেখে হাসছিলেন। এখন একবার নিজের দিকে তাকিয়ে দেখুনতো! বলেই আবার হা হা শুরু করে দিলো।

– আমি আমার আশেপাশে তাকিয়ে দেখালম,, কোথায় সোফা আর কোথায় আমি। আশ্চর্য সোফা থেকে পড়ে গেলাম আর টেরই পেলাম না। আরে আপনি এভাবে হাসছেন কেন? আমি তো আগেই বলেছি যে আমার সোফায় ঘুমানোর অভ্যেস নেই।

রাত্রিঃ তাহলে! রাত্রে তো আমাকে দেখে আপনার খুব হাসি পাচ্ছিলো।

– আমি আর কোনো কথা না বলে সোজা ওয়াসরুমে চলে এলাম। ফ্রেস হয়ে বের হয়ে এলাম। বেরিয়েই দেখলাম রাত্রি এই সকালেও আবার বিএফ এর সাথে কথা বলতে ব্যস্থ। কেনো জানি আমার এই ব্যপারটা একদম ভালো লাগে না। আমি ঘর থেকে বেরিয়ে বাইরে চলে এলাম। কিছুক্ষন সকালের সতেজ পরিবেশে হাটাহাটির পর বাড়ি ফিরে এলাম। ঘরে এসে দেখি রাত্রি এখনো ফোনেই আছে।

– আমি ওর কাছে গিয়ে বলালম,, রাত্রি নিচে চলুন মা ডাকছে। রাত্রি ফোনটা কান থেকে নামিয়ে বললো,, হ্যা। আপনি যান আমি এক্ষুনি আসছি। কি আর করা, আমি নিচে চলে এলাম। তখন আবার মা জিজ্ঞেস করলো,, কিরে বৌমা কোথায়?

আমিঃ মা ও আসছে।

– আমর খাওয়া যখন শেষ। উঠতে যাবো তখন গিয়ে রাত্রি নিচে এলো। মা রাত্রিকে দেখে জিজ্ঞেস করলো,, রাত্রি তোামর এতোক্ষণ লাগলো কেন মা? রাত্রি কি উত্তর দিলো জানিনা।কারণ ততক্ষণে আমি রুমে চলে এসেছি। রাত্রি আর কি বলবে নিশ্চিই মিথ্যা কোনো কথা বানিয়ে বলে দিবে। আমি আর দেরী না করে তৈরি হয়ে সোজা অফিসে রওনা দিলাম। নিজের কাজ করার পর দুপুরের দিকে কি মনে করে রাত্রিকে ফোন দিলাম। কিন্ত যতোবার ট্রাই করলাম ততবার ব্যস্থ বললো। রাত্রিকি এখনো ঐ ছেলেটার সাথে কথা বলছে নাকি।

– কিন্তু আমিইবা এসব ভাবছি কেন? আমিতো রাত্রিকে ছেড়ে দিবো কিছুদিন পর। তাহলে? কোথাও আমি রাত্রির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছি নাতো। না না এমনটা হতে দেওয়া চলবে না। এইসব কিছু ভাবতে ভাবতে আর কাজে মন বসাতে পারলাম না। তাই অফিস টাইমের আগেই বাড়িতে চলে এলাম।

– বিকালে ড্রইং রুমে বসে চা খাচ্ছি। আমার সাথে মা-বাবা আর নিতু বসে আছে। রিফাত তার ভার্সিটিতে। আর রাত্রির খবর আপাতত আমি জানি না। নিতুদের সাথে বসে গল্প করছিলাম। তখনি উপর থেকে রাত্রি নেমে এলো। এসেই নিতুকে দেখে হাসি মুখে বলে উঠলো,, আরে ভবি কখন এলে? কেমন আছ তুমি? বাড়ির সবাই কেমন?

নিতুঃ হ্যা। ভাবি আমি ভলো আছি।আর বাড়ির সবাইও খুব ভালো।তোমার কি খবর?

রাত্রিঃ তুমি আমাকে ভাবি বলছো কেন?

নিতুঃ বারে.. তুমি এখন আমার ভাইয়ার বউ। তোমাকে ভাবি বলবো নাতো কাকে বলোবো।😊

– ব্যাপরটা আসলেই কেমন যেন হয়ে গেলো। দুজনেই দুজেনের ভাবি। আবার ননদও। যাইহোক রাত্রিও আমাদের আড্ডায় সামিল হয়ে গেলো। কথার মাঝে হঠাৎ করে নিতুটা বলে উঠলো,, আচ্ছা ভাইয়া তোরা হানিমুনে যাচ্ছিস কবে?

– বেছ হয়ে গেলো। এই নিতুর বাচ্চা যতোবার মুখ খুলে ততবার আমাকে কোনো না কোনো বিপদে ফেলবেই। আজকে থেকে নয়, এটা চলে আসছে সেই ছোট বেলা থেকেই। যাইহোক এখন এই হানিমুনের ব্যাপরটাকে চাপা দিতেই হবে। কারণটাতো আপনারা খুব ভালো করেই জানেন। তখন আমি বললাম,, নারে আমরা কোথাও যাচ্ছি না। এমনিতেই বিয়ে বিয়ে করে কাজের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন আর হানিমুন-টানিমুন হবে না। সময় বুজে পরে কোনো কোনো এক সময় হবে এসব। এরপর কিছু বোজুম-বাজুম দিয়ে কথাটা চাপা দিলাম।

– নিতু সন্ধ্যার আগেই পর শশুড় বাড়ি ফিরে গেলো। রাতে খবার খেয়ে রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম। কথা অনুযায়ী আজকে আমি খাটে আর রাত্রি সোফায়।

– এভবেই আমার জীবনটা চলতে লাগলো। একরকম নিরামিশ বলা চলে। বাড়ি থেকে অফিস আবার অফিস থেকে বাড়ি। সারাদিন অফিসে কাজের চাপ আর বাড়ি ফিরেও চুপচাপ। কিছু করার নেই সব মেনে নিতে হচ্ছে।

পাঁচ মাস পর..

‘আমি অফিসে বসে কাজ করছি। তখনি ফেনটা বেজে উঠলো। তাকিয়ে দেখলাম রাত্রির ফোন। ফোনটা ধরতেই ওপাশ থেকে রাত্রির কন্ঠ ভেসে এলো..

‘এই কি হলো তোমার? এখনো বুজি দুপুর হয়নি? খেতে আসবে কখন? সবাই তোামর জন্য বসে আছে, জলদি এসো।’

‘আসলে আমার অনেক কাজ ছিলোতো তাই একটু দেরী হয়ে গেছে। আমি এক্ষুনি আসছি।’ কথাটা বলে ফোনটা রেখে দিলাম।

– কি ভাবছেন? আপনি থেকে তুমি। ব্যাপারটা কি!সেটাই জানতে চাইছেন তাইতো?

‘থামুন ভাই’ আপনারা যেটা ভাবছেন সেটা নয়। আসলে এখন আমি আর রাত্রি ভালো বন্ধু মাত্র। এতোদিন দুজন একসাথে থাকলে একটা সম্পর্কতো তৈরি হবেই। আমাদের মাঝে তো আর স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কটা হয়ে উঠেনি। তাই আমরা একে-অপরের ভালো বন্ধু হয়ে গেছি। কতো আর একঘেয়েমিতে থাকা যায়।

এখন রাত্রি শুধু আমার একজন ভালো বন্ধুুই নয়। সে এখন আমার মায়ের সবচেয়ে পছন্দের পাত্রী। যাকে বলা চলে মায়ের সুযোগ্য বউমা। আসলে সবার সামনে আমারা একটা সুখী দম্পতি। মা আজকাল রাত্রিকে একটু বেশিই পছন্দ করে, একেবারে চোখে হারাবার মতো অবস্থা। বাড়িতে রাত্রি যা বলে সেটাই ফাইনাল। ও আরেকটা কথাতো বলাই হয়নি রাত্রি এখন ভালো বউমার নাটকটা করার সাথে সাথে একজন ভালো ডাক্তারও। লাস্ট চার মাস ধরে ও ডাক্তারি প্রেকটিস করছে। এই কালকেই ও একটা নামকড়া বড় হাসপাতালে ডাক্তার হিসেবে জয়েন করতে চলেছে। আর সেইজন্যই আজকে বাড়িতে সকলে সেটা সেলিব্রেট করবে। আগেই বলেছি রাত্রি এখন আমাদের পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সেইজন্য মা আজকে অনেক খাবার-দাবার রান্না করেছে। বাড়ির বউ এতো বড় হাসপাতালে ডাক্তারি করবে বলে কথা!

– আমি আর দেরী না করে বাড়িতে চলে এলাম। সবাই আমার জন্যই বসে ছিলো। বাড়ির ভেতর ডুকতেই মায়ের কথা শুনতে হলো ‘ কিরে! এখন তোর আসার সময় হলো। আজকে মেয়েটার জন্য এতো ভালো একটা দিন। তোকে আমি এতো করে বলে দিলাম। তারপরও’

‘সরি মা। আসলে কাজের চাপে..’

মাঃ হয়েছে হয়েছে। এবার খেতে বস।

– খাবারটা শেষ করে উঠতে যাবো তখনি মা বলে উঠলো ‘ রাফি শোন। আজকে তুই বউমাকে নিয়ে শপিংয়ে যাবি। রাত্রির নাকি কি কি জিনিস কেনার আছে ‘

আমিঃ কিন্ত অফিস?

মাঃ তোর কাছে কি রাত্রির থেকে অফিসটা বেশি বড় হলো।

আমিঃ না আমি সেটা বলিনি। আমিতো শুধু..

আমাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে মা বললো ‘আর কোনো কথা নয়। তুই যাচ্ছিস এটাই ফাইনাল।’

মায়ের মুখের উপর কথা বলার মতো সাহস আমার এখনো হয়ে উঠেনি। আসলে আজকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিং ছিলো। এখন শান্তকে দিয়েই কোনোমতে মেনেজ করাতে হবে। আমি উপরে এসে শান্তকে ফোন করে সবকিছু বুঝিয়ে দিলাম। তারপর একটু ওয়াসরুমে গেলাম। বেরিয়ে এসে দেখি রাত্রি সাজুগুজু করে রেডি হয়ে বসে আছে। জিজ্ঞেস করলাম ‘ কিহলো এখনি যাবে নাকি? এইমাত্রতো লান্চ করলাম। আরেকটু পরে গেলে হয়না।’

– রাত্রি হাসি মুখে বললো ‘ না এক্ষুনি যেতে হবে। তোমকে কিছু দেখানোর আছে। তারপর আমরা শপিংয়ে যাবো।’

আমিঃ কিন্তু কি?

রাত্রিঃ সেটা গেলেই দেখতে পারবে।

এরপর বাড়ি থেকে রওনা দিয়ে রাত্রির কথা অনুযায়ী গাড়ি চালিয়ে আমরা একটা রেস্টুরেন্টের সামনে গিয়ে দাড়ালাম। আমি বললাম,, এখন আবার রেস্টুরেন্টে কেনো?

রাত্রিঃ তুমি নামোই না। আমার সাথে ভেতরে চলো।

রাত্রির পিছু পিছু একটা টেবিলের সামনে গিয়ে দাড়ালাম। তখনি ওখানে চেয়ারে বসে থাকা একটা ছেলে উঠে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো ‘ হ্যালো মিঃ রাফি। হাউ আর ইউ?’
আমি কিছুক্ষণ ছেলেটার দিকে তাকিয়ে থাকার পর হাতটা মিলালাম। তখন রাত্রি বলে উঠলো,, রাফি এই হলো আমার বিএফ। তুমিতো ওকে দেখতে চেয়েছিলে তাইনা?

– ছেলটা দেখতে সুদর্শনই বটে। স্মার্টতো হবেই ইউএস থাকে বলে কথা। কিছুক্ষন কথা বলে বুঝলাম বেটা একটু বেশিই অহংকারী। নিজের গুনকির্তন এতো ভালো করে কেউ করতে পারে, সেটা আসলে জানা ছিলো না। ছেলটার ঠেস দেওয়া কথায় কিছুটা অপমানিত বোধ করছিলাম। কিন্তু রাত্রির সামনে কিছু বলতে পারছি না। তাই আমি ওর কথায় কান না দিয়ে একটু অন্যমনস্ক হয়ে কফিটা খাচ্ছিলাম। তখন রাত্রি বলে উঠলো ‘যেই কারণে তোমাকে এখানে এইসময়ে ডাকা। রাফি আসলে ওর (বিএফ) যেই কাজটা ছিলো সব হয়ে গেছে। এখন আমরা চাইছি যে আমারা খুব শীগ্রই বিয়েটা করে ফেলতে। আশাকরি তুমি বুঝতেই পারছো আমি কি বলতে চাচ্ছি।’

আমি যেন কেমন একটা ধাক্কা খেলাম কথাটা শুনার পর। তারপর বললাম ‘ ঠিক আছে। চিন্তা করো না কথা মতো তুমি তোমার ডিভোর্স পেপার পেয়ে যাবে। আমাকে একটু সময় দাও। কাগজ হতে পেলে আমি দিয়ে দিবো।

তখন ওরা দুজন মিলে একসাথে বলে উঠলো ‘থেংক ইউ সো মাচ!

আমিঃ এখানে ধন্যবাদের কিছু নেই। আমি শুধু আমার দেওয়া কথাটাই রাখতে চলেছি।

এরপর তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো। আমার নিজেকে কেমন যেন এখানে আগাছার মতো লাগছিলো। আমি উঠে ধীরে ধীরে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে এলাম। আমি যে উঠে চলে এলাম রাত্রি যেন দেখতেই পেলো না। গাড়িতে এসে বসে পড়লাম।

আসলে এতোদিন রাত্রির সাথে থাকতে থাকতে ওর প্রতি আমার দুর্বলতাটা বেরেই চলছিলো। আমি যতোই ওর থেকে দূরে যেতে চেয়েছি ততই যেন ওর আরো কাছাকাছি চলে এসেছি। রাত্রির এই কয়েকমাসের কথাবার্তা ও ব্যবহার দেখে আমার মনে হয়েছিলো সেও আমাকে ভালোবাসতে শুরু করেছে। কারণ এতোদিন রাত্রিকে আমি আর আগের মতো ফোনে কারো সাথে কথা বলতে দেখিনি। ও আমার সাথে আগের থেকে অনেক সহজ ব্যবহার করতো। আর সবসময় আমাকে অফিসের সময় ফোন করে এটা ওটা জিজ্ঞেস করতো। কিন্তু আমি ভাবতে পারিনি যে রাত্রি শুধুমাত্র বন্ধুত্ব থেকেই এগুলো করতো। নিজের ওপর খুব রাগ হচ্ছে। রাত্রিতো আমাকে আগেই সবকিছু বলে দিয়েছিলো। তারপরও কেন আমি এতোকিছু ভাবতে গেলাম। কষ্টও হচ্ছে খুব। চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসতে চাইছে, প্রকাশ করতে চাইছে চাপা কষ্টটা। কিন্তু কেন জানি হাজার কষ্ট হলেও আমি কাঁদতে পারি। ছোট বেলা থেকেই কষ্ট সহ্য করাটা আমার অভ্যাস হয়ে গেছে।

জানিনা কখন যেন গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়লাম। গাড়ির গ্লাসে কারো টোকানির আওায়জে ঘুমটা ভাঙ্গলো। চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি রাত্রি দাঁড়িয়ে আছে। আমি গ্লাসটা নামাতেই বলে উঠলো ‘ কিহলো? কখন থেকে ডাকছি। গাড়িতে কেউ এভাবে ঘুমায়। আর তুমি ওখান থেকে চলে এলে কেন?’ এইসব বলতে বলতে রাত্রি গাড়িতে এসে বসে পড়লো।

আমি ওর কোনো কথারই জবাব না দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম ‘ এখন কি শপিংয়ে যাবে? নাকি বাড়ি।’

রাত্রিঃ বাড়িতে যাব। শপিংয়ের কথাতো মাকে এমনিই বলেছিলাম।

‘হুম’ বলে গাড়ি চালিয়ে সোজা বাড়িতে চলে এলাম। রাস্তায় রাত্রি অনেক কথাই বলছিলো। ওর আর ওর বিএফ এর ফিউচার প্লেন নিয়ে। আমি শুধু নিরব শ্রোতা হয়ে সব শুনে গেছি। অবশ্য রাত্রি বারবার ধন্যবাদ দিয়ে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করছিলো। যেটা আমার সহ্য হচ্ছিলোনা। সে যাই হোক রাত্রিকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে আমি আবার গাড়ি নিয়ে শান্তর বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ওর সাথে দেখা করে সব কিছুই বললাম।

শান্ত পুরোটা শুনে বললো ‘ তার মানে তুই ভাবিকে ভালোবেসে ফেলেছিস। ‘

আমিঃ জানিনা। তবে এখন এইসব বলে কোনো লাভ নেই। আমার তকে কথাগুলো বলতে ইচ্ছা হয়েছিলো তাই বললাম।

শান্তঃ দেখ ভাই আমার মনে হয় তোর ভাবিকে তোর মনের কথাটা বলে দেওয়া উচিত।

আমিঃ পাগল নাকি। ও কি মনে করবে?

শান্তঃ যা মনে করার করবে। আর এমনিতেও তো সে চলেই যাবে। তুই একবার চেষ্টা করে দেখ। যদি ফিরিয়েও দেয়। তোর মনে একটা শান্তি থাকবে যে তুই চেষ্টা করেছিলি।

শান্তর কথাটা আমার কাছেও ভালোই লাগলো। রাত্রিকে একবার বলেই দেখি। যদি কিছু না হয়। ওকে তাহলে কথা মতো ছেড়ে দেব। আমি শান্তর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলাম। বাইরে এসে দেখি অন্ধকার নেমে গেছে। আজকে রাত্রেই রাত্রিকে কথাগুলো বলে দেবো। তাই কিছু ফুল আর চকলেট কিনে নিলাম। বাড়ি ফিরে সোজা আমার রুমে চলে এলাম। ডুকে দেখি রাত্রি ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুল আচড়াচ্ছে। আমাকে দেখে পিছন ফিরে বললো ‘ এতোক্ষন কোথায় ছিলে?’

আমিঃ ঐ একটু কাজ ছিলো।

আমি আসলে ভেবে পাচ্ছিনা যে কি করে কথাটা বলবো। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেটাই ভাবছি। রাত্রি আমাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বললো ‘কি হলো কিছু বলবে?’

‘হুম’ একটা কথা বলার ছিলো। তখন রাত্রি হেসে বললো ‘তাহলে বলে ফেলো। এতো হেসিটেট করছো কেন?’

তখন আমি রাত্রির হাতে চকলেট আর ফুলগুলো দিলাম। রাত্রি এগুলো হাতে নিয়ে খুশি হয়ে বললো ‘ আমার কখন থেকেই চকলেট খেতে ইচ্ছে করছিলো। থেংকইউ। কিন্তু তুমি আজকে হঠাৎ করে এগুলো আনলে যে। ‘

আমি বড় একটা নিশ্বাস নিয়ে বললাম ‘ তুমি ব্যপারটাকে কিভাবে নিবে আমি জানিনা। কিন্তু আমাকে আজকে বলতেই হবে। আর তোমারও জানা উচিত। আসলে রাত্রি কথাটা হলো গিয়ে আমি তোমাকে ভালোবাসি।’

রাত্রি অবাক হয়ে বললো ‘এসব কি বলছো তুমি?’

আজকে আমি সত্যিটাই বলছি। ঐদিন তোমাকে দেখতে যাওয়ার পর থেকে। ফোনে তোমার সাথে কতো কথা হয়েছিলো মনে আছে। আমি তখন থেকেই তোমাকে ভালবেসে ফেলেছিলাম। কিন্তু বাসররাতে তুমি যখন তোমার বিএফ সম্পর্কে বললে। তখন খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম। তখন আমি ভেবেছিলাম যে সবকিছু ভুলে যাবো। কিন্ত তোমার সাথে এতোদিন থাকার পর আমি তোমাকে যেন আরো প্রবলভবে ভালোবেসে ফেলেছি। বিশ্বাস করো আমি অনেক চেষ্টা করেছি তোমাকে ভুলে যাওয়ার। কিন্তু..

রাত্রি আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো ‘ রাফি আমিতো তোমাকে সবকিছুই বলেছি। তারপরও তুমি এমনকিছু কি করে ভাবতে পারো? দেখো তুমি কিন্তু আমাকে কথা দিয়েছিলে যে আমি যখন চাইবো আমার ডিভোর্স পেপার তুমি দিয়ে দিবে। তোমার কথা অনুযায়ী আমি এবাড়ির ভালো বৌমা হয়ে এতোদিন কাটিয়েছি। আর এখন শেষে এসে তুমি এমন করতে পারো না।’

আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর হেসে দিয়ে বললাম ‘ চিন্তা করো না। আমার দেওয়া কথা আমি রাখবো। আমি জাস্ট তোমাকে শুধু আমার মনের কথাটা জানালাম , কিন্তু আমি তোমাকে এর জন্য কোনোরকম জোর করবো না। আর তোমার ডিভোর্স পেপার তুমি সময়মতো পেয়ে যাবে। ‘

– তারপর আমি ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। সত্যি বলতে কি আমার তেমন কষ্ট হচ্ছে না এখন। আমিতো আগে থেকেই জানতাম এমনটাই হবে। কিন্তু রাত্রির চোখমুখ দেখে মনে হচ্ছে ওর আমার কথা বিশ্বাস হয়নি। রাত্রি হয়তো এখন আর বিশ্বাস করতে পারছেনা যে আমি আমার কথাটা রাখবো। ওর চোখের দৃষ্টিতে কেমন যেন সন্দেহ দেখতে পেলাম।

আজকে রাতের খাবার খাওয়ার সময় রাত্রি একদম চুপচাপ হয়ে আছে। ঘরে যাওয়ার পরও আমার সাথে কোনো কথাই বলছে না। তখন আমিই আগ বাড়িয়ে বললাম ‘ রাত্রি তুমিকি ভয় পাচ্ছো নাকি? আরে তোমার কাগজ তুমি পেয়ে যাবে। আমি আমার কথা রাখবো।’

‘ ধন্যবাদ’ আর কিছুই বললো না। নিজের জায়গায় শুয়ে পড়লো। আমিও শুয়ে পরলাম। কিন্তু রাত্রির ভাবগতি আমার একদম ঠিক লাগছে না। ওর মনে কিছু একটা চলছে।

সকালে ঘুমটা ভাঙ্গলো বাড়িতে হট্টগোলের আওয়াজে।

চলবে…………………………………..

About Author


Administrator
Total Post: [358]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy