বজ্জাত স্যার[ শেষ অংশ]

বজ্জাত স্যার

লেখাঃ অদ্রিতা শ্রেয়া

আমি::আপনাদের দারোয়ান উনাকে ডুকিয়েছে,উনাকে পুলিশে দেন বলে(ইশারায় জিহাদকে দেখালাম)
!

জিহাদের বাবা:: এই মেয়ে ও কেনো চোর হবে!! জিহাদ তো আমার ছেলে!! আমার বাসায় আমার ছেলে কি আসবে না!!তোমাকে এসব আজগুবি কথা কে বলেছে!! আর তোমার সাহসের তারিফ করতে হয়,আমার বাসায় ডুকে আমার ছেলেকে চোর বলো!!
!
আমি:: ????এটা আপনার ছেলে!!!(মনে মনপ বলছি এবার মনে হয় আমাকেই বেধে রাখবে??)আমি তো আর জানি না! আর উনিও আমায় বলে নি তাই ভাবছি হয়তো উনি চুরি করতে আসছে! আর আমি এখানে আসতে চাই নি জোর করে নিয়ে আসছে!
!
জিহাদের বাবা:: জিহাদ এসব কি!! এমন পাগল মেয়ে কে কোথা থেকে এনেছে!! তুমিও সাথে পাগল হলে নাকি!!
!

জিহাদ:: না এনে তো আর উপায় নেই!! তোমার গুনবতী ভাতিজি পুরো ভার্সিটি ছড়িয়েছে আমরা নাকি প্রেমলীলায় জড়িয়েছি!! আর আমি তো এভাবে একজন মেয়ের জীবন নষ্ট করতে পারি না!!তাই তেমাকে দেখাতে এনেছি।
!

জিহাদের বাবা:: তুমি কি বলতে চাচ্ছো ক্লিয়ার করে বলো!! আর কার জীবন নষ্ট হবে!!
!

জিহাদ:: ঝিনুকের নামে যে খারাপ কথা রটিয়েছে ওর ফ্যামিলি জানলে কি হবে!! কে বিয়ে করবে ওকে!য় আর ও হলো ঝিনুক যার কথা গতকাল তুসা বলেছে!! সো আমি চাচ্ছি দুদিন পর যে এঙ্গেজমেন্টের কথা বলেছো না বাবা, সেটা তুসার সাথে হবে না ঝিনুকের সাথে হবে!
!

জিহাদের বাবা:: জাস্ট সেট আপ!! অনেক বড় হয়ে গেছো তাই না!মুখে মুখে তর্ক করো!!তোমার তুসার সাথেই বিয়ে হবে!!
!

আমি:: (এতো জোরে ধমক দিছে মনে হয় পুরো বাড়ি কেপে উঠছে,আর আমার কলিজা ফেটেই যাবে)??
জিহাদ:: বাবা তুমি যাই বলো বিয়ে আমি(তখনই তুসা বাসায় আসে)
!
তুসা:: জিহাদ আমি তেমাকে ভালোবাসি!! আমি তোমাকে বিয়ে করবো।আমাকে ছাড়া ঝিনুককে বিয়ে করতে পারবে না(চিল্লিয়ে বলছে)
!

আমি::(পিছনে ঘুরে দেখি ডাইনিটা চিল্লাচ্ছে,তোর চিল্লানি কামচ্ছি)এই চুন্নি, তোর কাজ নেই হ্যা আমাকে যেদিকে দেখোস এদিকেই দৌড় পারতে পারতে আসিছ!! এক কাজ আমার জামার সাথে তোর জামা বেধে রাখি তাহলে আমি যেদিকে যাবো ঔ দিকে তুই ও যেতে পারবি!! এতো কষ্ট করে খুজা খুজি করতে হবে না!! লুচ্চি একটা!!
!

তুসা:: ঝিনুকককককককককক মুখ সামলে কথা বল!! আমি তোর বড়!! আর এটা তোর বাড়ি না, আমাদের বাড়ি!! আমি যা খুশি বলবো তোর কি!!
!

জিহাদের বাবা:: হচ্ছেটা কি!! হ্যা!! যার যা খুশি করতে থাকো!! আমাকে এ ব্যাপারো কেউ ডাকবে না।(বলেই উপরে চলে গেলো)
!

তুসা:: জিহাদ, ঝিনুককে এই বাসায় ডেকে আনার মানে টা কি!
!

জিহাদ:: আমি তো ডেকে আনতাম নাহ!! কিন্তু তোরই সহ্য হচ্ছিলো না!!
!

তুসা:::হ্যা সহ্য হচ্ছিলো না!! তোমার সাথে অন্য কেউ কিভাবে সহ্যা হবে!
!
আমি;;(দূর এদের ঝগড়া এরা করক বলে আশে পাশে তাকালাম,দেখি কয়েকটা এ্যাকুরিয়াম) ওয়াও এতো সুন্দর!! বাহ!! ( বলে দৌড়িয়ে এ্যাকুরিয়ামের কাছে গেলাম! আর হাত দিয়ে বাহির থেকে গ্লাস টোকা দিতেই মাছ এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে!!আমার তো মন চাইছে সবই বাসায় নিয়ে যাই!!
!

জিহাদ:: শোন এসব ফালতু কথা নিয়ে আমার কাছে আসবি না, ওকে!! যা নিজের রুমে গিয়ে ঘুমা,( বলে তাকিয়ে দেখি আমার এ্যাকুরিয়ামের দিকে তাকিয়ে আছে,আর নিজের মনেই হাসছে!! ওর হাসির উপরে ক্রাস খেলাম??)মাছ গুলোর সাথে এমন ধস্তাধস্তি করছো কেনো!!
!

আমি:: কিহ!! এমন জিছুই না বুঝছেন!! আচ্ছা বলেনতো এই এ্যাকুরিয়াম গুলো কোথা থেকে আনছেন!!
!
জিহাদ:: কেনো!! দোকানে গেলে সবই কিনতে পাওয়া যায়, খাকি বউ বাদে!!(বলেই চোখ টিপ মারলাম)
!

আমি:: ধ্যাত!! আমার এ্যাকুরিয়ামগুলো চয়েজ হয়েছে!! একটা কথা বলবো!
!

জিহাদ: হ্যা বলো! একটা কেন বলা, সেই কখন থেকে তো বলেই যাচ্ছো,আর আমি না চোর আমাকে পুলিশে দিবা!!
!

আমি:: আমি কি জানি নাকি এটা আপনার বাসা!! আপনিও তো ভেজা বিড়াল সেজে ছিলেন!!
!

জিহাদ:: হুম তুমি তো আমার কথাই শুনলে না! না শুনেই চিৎকার চেচামেচি করেছো!! তো আপনার কি এ্যাকুরিয়াম লাগবে!!
!

আমি:: আআরেরে না না এম মনি বলেছি!! (আমার তো সবই নিয়ে যেতে মন চাচ্ছে,এই বাড়ি এতো সুন্দর কেন!!মনে মনে)
!

জিহাদ:: হুম,তুতলাতে হবে না!! বুঝছি আমি!!দেখো কোন এ্যাকুরিয়ামের মাছ গুলো সুন্দর!
!

আমি:: হুমমমমমমম ঐ যে নীল পানি যেটায় ঐটাই ভালো লাগছে!!আমি কখনো তারা মাছ দেখি নি ঐ তায় আছে তাই!!
!

জিহাদ:: ঠিক আছে, পরে নিয়ে যেও!! আমার সাথে উপরে চলো!!
!

আমি:: আমি এখানেই থাকি আপনি যান!! দি আপনার বাবা কিছু বলে!!
!

জিহাদ:: নাহ কি বলবে চলো(বলেই হাত ধরে টেনে উপরে নিয়ে যাচ্ছি তখনই আম্মু বলে কিরো আমার সাথে তো পরিচয় করিয়ে দিবি)
!

মা:: এই মেয়ে তুমি এতো বোকা কেন!! কিভাবে “চোর” “চোর” বলছিলে!।
!

আমি:: আন্টি আপনার ছেলে তো আর বলে নি আরেকতো আমাকে টেনে টেনে নিয়ে আসছে!! আমি কি করবো!!
!

জিহাদ:: মা,পরে পরিচিত হইয়ো!! এই ঝিনুক উপরে চলো।
!
মা:: হাহাহা নিয়ে যা!!
!

(আমাকে টেনে উপরে নিয়ে গেলো।ও গড!! বাড়ি নাকি রাজপ্রাসাদ,আর রুমটা তো দেখার মতো,,এতো সুন্দর বাড়ি শুধু কল্পনাতেই সম্ভব)
!

জিহাদ::(অকে নিয়ে আমার রুমে নিয়ে আসলাম)দেখো তো পছন্দ হলো কিনা!!
!

আমি:: হ্যা স্যার পছন্দ হবে না কেনো অনেক সুন্দরতো বাড়ি!! বলে বেলকুনিতে গিয়ে তো চক্ষু চড়ক গাছ??কালো গোলাপ গাছ!! এখানে!
!

জিহাদ:: কি হলো!!চুপসে গেলে কেনো!!
!

আমি:: স্যার আমার এই ফুল গাছটা লাগবে!! এটা ছাড়া আমি বাসায় যাবো না!!
!

জিহাদ:: আরে নিয়ে যেও!! এখনই নিতে পারো!!
আমি::ইয়া হু!!! বলেই ঘুরে স্যারের গালে একটা কিস দিয়ে দিলাম।
!

স্যার::??? কি হলো!! কিস দিলে আমায়!!
!

আমি::(যাহ এটা কি করলাম,স্যারের গালে কিস দিয়ে দিলাম?? আল্লাহ আমি কোথায় আছি) স্যার,মেনে নিবেন এটা দূর্ঘটনা!! স্যার আমি আর থাকবো না!!আমি বাসায় চলে যাই!!
!

জিহাদ:হুম!সব টবগুলো নিয়ে যাও।
!

আমি:: এতো গুলো দিয়ে কি করবো!!
!

জিহাদ:: মাথায় লেপ দিও!! রকি, রকি
!

রকি:: হ্যা স্যার বলেন।
!

জিহাদ::সব টব প্যাক করে নিচে নিয়ে আসো!
!

আমি:: হায় হায়, আমার সব লাগবে নাতো!!
!

জিহাদ:: চুপ একদম চুপ!! আমি দিচ্ছি তোমার কোনো সমস্যা!!এবার নিচে চলো।
আমি::হ্যার স্যার আপমি আগে আগে নামেন পরে আমি যাচ্ছি(পিছনে পিছনে যাচ্ছি,আর তো আসা হবে না হয়তো, শেষ বারের মতো দেখে যাই,শেষে নিচে নামলাম।দেখি এ্যাকুরিয়ামও লোকটা নিয়ে যাচ্ছি,আমি তাড়াতাড়ি নেমে ধরলাম)এই এই আপনি আমার এ্যাকুরিয়ামে হত দিছেন কেনো!!আমারটা দিন আমাকে!! কি ডং আমার জিনিস হাত দিছেন কেনো!! হাত কেটে মাগুর মাছকে দিয়ে দিবো।
!

জিহাদ::(অখানে এতো কিসের চিল্লানির আওয়াজ আসে)দেখি ঝওনুক কেন যেনো রকির সাথে চিল্লাচ্ছে।
!

রকি::ম্যাম আগে তো আমার কথা শুনেন!! স্যার বলছে…
!

আমি:: স্যার বললেই কি ধরতে হবে!! এটা এখন আমার জিনিস!!
!

জিহাদ:: আরে আমি বলেছি,(রকি যা তুই)তুমি ওর সাথে চিল্লাচ্ছো কেনো!!এতো বড় এ্যাকুরিয়াম কিভাবে নিবে।।
!

আমি:: কেন হাত আল্লাহ কেনো দিছে!! গুটিয়ে বসে থাকার জন্যা! হতে করে নিয়ে যাবো!!
জিহাদ:: ওকে, গুড নিয়ে যাও!!
(বলেই স্যার আমাকে এগিয়ে দিতে গেলো সাথেই, হঠাৎ মনে হলো,উনার আম্মুর থেকে বিদায় নেওয়া হলো না!! স্যারের হাতে এ্যাকুরিয়াম দিয়ে,আবার ব্যাক করে বাসায় গেলাম,আন্টি বাই,আবার দেখা হবে, ভালো থাকবেন)
!

আন্টি:: ঠিক আছে,মা! তুমিও ভালো থেকো!!আবার এসো!
!

জিহাদ:: কোথায় গেলে হুম!!
!

আমি:: আন্টির থেকে বিদায় নেওয়া হই নি তো তাই!!
(বলেই গাড়িতে উঠিয়ে দিলো স্যার আমাকে!! আমিও খুশি মনে বাসায় গেলাম)
!

[[[বাসায় গিয়ে তো আম্মুর এতো জেরো সাথে ঝরা তো আছেই!! আর ভালো লাগেনা]]] !

আম্মু: কিরে এগুলা কোথা থেকে এনেছিস!!
!
ঝরা:: আপি এ্যাকুরিয়াম আর টব গুলো কিন্তু জাস্ট ওয়াও!! আমাকে এক্যকুরিয়ামটা হাতে দাও না!!
!

আমি::দেখ অমেক ভারি!! নিতে পারবি না!!
!

ঝরা:: পারবো দাও তুমি!!
!

আমি:: নে তাহলে (ওর হাতে দিলাম) মা খাবার রেডি করে!! খেয়ে নিবো!! এমনি আজ অনেক হ্যাপি!!
!

ঝরা:: রিয়েলি আপি!! তাহলে চলো আজকে নাগিন ডান্স হবে!! ??
!

আমি:হ্যা ডান! যা তুই!
!

আম্মু:: খেয়ে নিয়ে যা খুশি কর!!
আমি :: যাও তুমি আমি আসছি!! বলে ফ্রেস হতে গেলাম!!
!

(ফ্রেস হয়ে এসে দেখি রুমে ঝরা বসে আছে))
!

আমি:: গান ছাড় ??? নাচবো আজ উরা ধুরা,!!??
ঝরা:হুরররররে। দাড়াও গান ছাড়তেছি,বলেই দিলবার দিলবার গান ছাড়ছে, পুরো ফুল সাউন্ডে..
!

??Chadha jo muj hai
Suroor hai
Asar tera yeh zaroor hai..
TeRi nazarr hai
[Dilber..dilber]??
!

(আমি আর ঝরা উরাধুরা নাচতেছি,এমন ভাবে লাফাচ্ছি নিচ তালায় মনে হবে হয়তো পুরো বিল্ডিং ভাঙতেছে, একবার খাটের উপর উঠি আবার নিচে নামি, আবার ঝরা উঠে আমি নামি। বালিশ ছুড়া ছুড়ি,টানারানি করতে করতে বালিশই ছিড়ে ফেলছি)

 

(বালিশ টানাটানি করতে করতে ছিড়ে ফেলি)
আমি:: ঝরা আর পারবো না নাচতে,, আই এম টায়ার্ড!!
!
ঝরা:: তুমি তো দিন দিন মটু হয়ে যাচ্ছো! তাই অল্পতেই হাফিয়ে যাও।
!
আমি:: দেখ, ঝরা ভালো হচ্ছেনা ! আমার সামনে থেকে সর না হয় উস্টা মেরে নিচে ফেলে দিবো।
!
ঝরা:: ওকে ওকে,এতো রাগ করো কেন যাচ্ছি আমি।
!
আমি:: হুম যা ঘুমাবো। গুড নাইট!
!
____________
(আর এদিকে জিহাদ বেলকুনিতে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কপি খাচ্ছে আর ঝিনুকের কথা ভাবছে।আর আপন মনেই হাসছে।কি পাগলি!! আমার বাড়িতে আমাকেই চোর বানায়, ওর কথা বার্তা, চাল চলন, সব দিক দিয়েই পারফেক্ট!! কিন্তু এক নাম্বার ফাযিল!! একে সোজা করতেই হবে!! আর আজ থেকে আরো কড়া হতে হবে অন্যথায় আজ ভালো ব্যবহার করেছি কাল ঘাড়ে চড়ে বসবে ভাবতেছে এসব,হঠাৎ ভাবনার ছেদ ঘটায় তুসা এসে____)
!
তুসা:: আসবো!!
!
জিহাদ:: ওখান থেকেই বল কি বলবি!! আমার কান আছে শুনতে পারবো!
!
তুসা:: চলো না, আগামীকাল কোথাও ঘুড়তে যাই!!
!
জিহাদ:: কাল আমার ভার্সিটি আছে, ঘুমাবো!! তোর ফ্রেন্ডের সাথে যা! আর তোকে বলেছি আমাকে আপনি করে বলবি,ফাইজলামি পেয়েছিস!!(বলে গেট লাগিয়ে দিলাম)
!
তুসা:: আসলে___ দূর আমার কথাই শুনলো না!এতটাই খারাপ মনে হয়,ঝিনুকের জন্যই সব হয়েছে।ওকে আমি ছাড়বো না!
[[ আর এদিকে,, অসহ্য একটা মেয়ে, দিনরাত লেগেই থাকে,এতো ইগনর করি গায়ে মাখেই না।]] _______পরের দিন সকালে উঠে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে খেয়ে ভার্সিটি চলে আসলাম।দেখি মুক্তাসহ আরো অনেকে ক্যাম্পাসে বসে আছে।আমিও তাদের সাথে বসলাম___
!
মুক্তা:: কিরে গতকাল স্যার কোথায় নিয়ে গেলো রে টানতে টানতে!!
!
আমি:: তাদের বাসায় নিয়ে গেছে,আর কোথায় বা নিয়ে যাবে!!
!
মুক্তা:: ওহ ভালোই তো।স্যারের সাথে ভাব লাগিয়েছিস!
!
আমি:: কি বলতে চাস তুই!!ধ্যাত খেয়েদেয়ে কাজ নেই! ওই বুড্ডার
সাথে আমি কখনোই না!! দেশে কি ছেলের অভাব পড়ছে নাকি!! ( আর তখনই পিছন থেকে কে যেনো হায় বললো,ঘুরে দেখি আরেক আপদ)
!
পিয়াস:: হায় গাইস!!কেমন আছো তোমরা!
!
আমি:: বাই পিয়াজ!!আপনি ছাড়া সবাই ভালো আছে!
!
পিয়াস:: আচ্ছা তুমি এমন কেনো!!
!
আমি:: কেমন!!
!
পিয়াস:: আমার সুন্দর নামটা এভাবে ভেঙ্গিয়ে বলো কেনো!!
!
আমি:: আপনার নামতো পিয়াজই!! পিয়াজ না বলে কি বলবো রসুন!!
!
মুক্তা:: ঝিনুক,,তোর ঝগড়া ছাড়া আর কিছু ভালো লাগে না!!আর উনি আমাদের সিনিউর!!
!
পিয়াস:: ওহ আপনি মিস ঝিনুক? সরি
শামুক!!
!
আমি:: কিহ!! আমি শামুক!! কে বলছে আপনাকে আমি শামুক!! (রেগে বললাম)
!
পিয়াস:: ওহ বুঝছি,শামুক খাদ্যসংকটে পড়ে ডাঙ্গায় চলে আসছে!! থাক থাক (আরো বলতে যাব তখনই মনে হলো কে জেনো আমার চুল ধরে ঝাকড়াচ্ছে)
!
আমি::আমি শামুক তাই না!! আমার নাম উল্টিয়ে বলা নাহ আজ দেখবো কে বাচায় তোকে!! (বলে পিয়াসের চুল ধরে ইচ্ছা মতো ঝাকড়াচ্ছি)
!
পিয়াস:: আরে আরে ছারো!! আমার চুল ছিড়ে যাচ্ছে,,আচ্ছা আচ্ছা আর বলবো না!!
!
[[এদিকে জিহাদ মাত্রই গাড়ি থেকে নেমে অফিসরুমের দিকে যাবে, দেখে ক্যাম্পাসের দিকে চিল্লাচিল্লির আওয়াজ।মনে হচ্ছে ঝিনুক চিল্লাচ্ছে,হা তার ধারনাই ঠিক।পিয়াসের সাথে হাসাহাসি করছে আবার চুলও ধরছে কি পরিমান সাহস ওর!! আজ ক্লাসে যাক পুরে ক্লাস দাড় করিয়ে রাখবো!!আর শাস্তি তো আছেই।জিহাদ জিদে হাত মুঠি করে চলে যায়??]] !
আর এখানে পিয়াসের মাথা ব্যাথা হয়ে গেছে এতো ঝাকুনি খেয়ে।
আমি:: আর কোনোদিন বলবি!! আমি শামুক তাহলে তোকে আমি……
!
মুক্তা:: আরে ছাড় এবার!! ফান করেছে তাই বলে এমন করবি!! ছাড়া, ছাড় চুল!!
!
আমি:: (মুক্তা আমার হাত ছাড়িয়ে নিলো) আজ বেচে গেলি আবার কোনো দিন বললে সব চুল ছিড়ে বলবো।
!
পিয়াস:: আহ কি গুন্ডি মাইয়া!! আমার ঘাড়ের বারোটা বাজিয়ে দিছে!!
!
মুক্তা:: চল চল,ক্লাসের টাইম হয়ে গেছে!!
!
আমি:: হুম চল,(ভেঙ্চি দিয়ে) মি.পিয়াজ আবার আমার সাথে ঝগড়া করতে এসো ঘাড় মটকিয়ে দিবো!!(বলে চলে আসলাম)
!
পিয়াস::(মনে মনে ঘাড় মটকাও বা চুল ছিড়ে তোমাকে যে ভালোবেসেছি ঝিনুক!! আর আজকের এমন আচরন কখনোই ভুলবো না!! তোমাকে আমার করেই নিবো,বড্ড বেশি ভালোবেসেছি)
[[বলেই মুচকি একটা হাসি দিলো]] !
[[আমি, মু্ক্তা, আরো কয়েকজন মিলে ক্লাসে আসলাম,চুপচাপ বসে আছি বাট স্যার আসার নাম নেই।এর মধ্যে একজন বলে উঠলো]] !
দিয়া:: ভাই,তোদের এক্সাম প্রিপারেশন কেমন!!কয়েকদিন পরই তো ফাইনাল এক্সাম!
!
আমি:: ( বেন্চের উপড় উঠে বসে) শোন এতো লেখাপড়া করে কি হবে!! কয়েকদিন পরতো বাবা মা বিয়েই দিয়ে দিবে!!
!
মুক্তা:: এই বলে লেখাপড়া বাদ!! পাগল টাগল হলি নাকি!
!
আমি::এতো পড়া পড়া করিস না তো!!অনেক পড়ছি এবার ঘুরবো ফিরবো শুধু!!
!
দিয়া:: তোদের ইংরেজি প্রিপারেশন কেমন রে!!
!
মুক্তা:: আছে মোটামুটি!!
!
আমি:: আর বলিশ না।ঔ প্যারা মার্কা স্যারের পড়া মাথায় তো ডুকেই না, সব উপ্পে দিয়ে যাই!! এবার তো আমি ইংলিশে ইতিহাস গড়বো।(পিছনে যে স্যার দাড়িয়ে আছে আমি জানিই না)
!
মুক্তা:: হুসস পিছনে দেখ!!
!
আমি:: পিছনে কি দেখবো!! তোর জামাই আসছে হে!! এবার ইংরেজী এক্সামে নকল আনবো সাথে করে।তোর বেশি কিছু করতে হবে না,আমিই সব সেটিং করবো তুই জাস্ট বলবি কোন কোন টপিক থেকে আসবে!!
!
মুক্তা:: ঝি ঝি নুনুকক…তুই
!
আমি:: তুতলাচ্ছিস কেন!! ভালো বুদ্ধি দিলাম ভালো লাগলো না!! যা তোদের লাগবে না।আমি একাই একশ(বলে ঘুরে দাড়ালাম এখন বসবো দেখি স্যার পিছনে দাড়িয়ে আছে)
!
আমি::???
!
জিহাদ: এবার ইতিহাস গড়বে তাইনা!! ভালে বুদ্ধি দিচ্ছো, এবার নকল করবে!! তাই না। স্টান্ড আপ!!!! (দাতে দত চেপে বললাম,একে তো সকালের যা করছে মেজাজটাই খারাপ, এখন আবার নকল করার বুদ্ধি আটছে,))
!
আমি:: স্যার আসলে আমি তো ফান কর…
!
জিহাদ: স্টাপ আপ!! একটা কথা বলবে না তুমি। কান ধরো আর বেন্চের উপর দাড়াও,আর দাড়িয়ে দাড়িয়ে পড়া বলবে, আর না পারলে এর শাস্তি দ্বিগুন হবে_

 

জিহাদ::পড়া না পারলে শাস্তি দ্বিগুন হবে তোমার।বলো আজ কি পড়া ছিলো,আর এখনো দাড়িয়ে আছো কেন কান ধরো আর বেন্চের উপর দাড়াও!
!

আমি:: স্যার আজকে মাফ করে দেন,, প্লিজ বেচে থাকতে আর আপনার নাম মুখে আনবো না।।
!

জিহাদ:: চুপপপ.. আমি তোমার কোনো কথা শুনতে চাই না।দাড়াও (চিল্লিয়ে)
!
আমি:: হ্যা ধরতেছি কান( বলেই বেন্চের উপর দাড়িয়েছি আর সবাই হাসতেছে আমাকে দেখে, খাটাশ, মুরগী চোর, গরু চোর,মরা বাদূড়,চিকা,পচা গাব আমি দেখে নিবো)
!

জিহাদ: এবার বলো পড়া কমপ্লিট হয়েছে!!মনে তো হয় না!
!

আমি::স্যার কান ধরে দাড়িয়েছি না!! পড়া কেনো বলবো!!
!

জিহাদ:: ওকে গুড! দাড়িয়ে থাকো!!আর ছুটির পর আমার সাথে দেখা করবে।
!

[[[এদিকে দেখি সবাই হাসাহাসি করছে,একটা ধমক দিলাম।এখানে কি কমেডি চলছে যে হাসাহাসি করতে হবে।সবাই চুপ হয়ে গেলো।এবার পড়া শুরু করলাম]]] !

আমি:: কান ধরে দাড় করিয়ে রাখছে,এখনো শখ মিটে নি,আবার ছুটির পর দেখা!! করবো ভালো করে করবো বদমাইশ,পচা মাছ,শুটকি, কালো পিপড়া,বাদর,উল্লুক!! তোর ১২টা আমি বাজিয়েই ছাড়বো!!
!

জিহাদ:: পড়াচ্ছি আর আড় চোখে দেখছি পিন পিন করে কি যেনো বলছে আর রাগে ফুসছো!! তোমার শাস্তি তো এখনো বাকি মিস ঝিনুক।এটা তো ক্লাস দেখানো ছিলো!! ছেলেদের সাথে ঘেষাঘেষি এই শাস্তি তো রয়েই গেছে!!
!

আমি:: কি বদমাইশ আবার আমার দিকে তাকিয়ে মিটমিট হাসে!! আজ হাসি বের করবো!! ??
পুরোটা ক্লাস দাড় করিয়ে রাখছে।
!

জিহাদ:: ওকে স্টুডেন্ট আজ ক্লাস এই পর্যন্ত। সবাই ভালো থেকো
আর পড়া কমপ্লিট করে আনবে।এই যে কান ছাড়েন,আর যাওয়ার আগে আমার সাথে দেখা করবেন।আর নয়তো আগামীকাল এক পায়ে দাড় করিয়ে রাখবো।(বলেই বের হলাম)
!

আমি:: হু যাচ্ছি। পুরো ক্লাস আমাকে দাড় করানো আবার শাষিয়ে যাওয়া!!
!

মুক্তা::অনেক তো দাড়িয়ে থাকলি এবার বস!! তোকে তো আমার কত ইশারা দিলাম বুঝলিই না আমার কথা।।
!

আমি:: চুপ তুই একটা কথাও বলবি না!! মাথা গরম আছে এমনি!!
!
মুক্তা:: ??? চুইংগাম খাবি!! চাপার শক্তি বেড়ে যাবে।
!

আমি:: তোকে টিপস দিতে বলিনি। চুইলগাম দে।আর চল হাটতে থাকি আবার তো দেখা করতে হবে আমার তুই সামনে হাটতে থাক আমি আসতেছি!( খচ্চর আজ তোরে কি যে করনো বদমাইশগিরী জীবনের তরে ছুটবো,বলে অফিসরুমে গেলাম)
!

আমি:: স্যার আসবো!
!

জিহাদ:: জি আসেন,আসেন আপনার জন্যই ওয়েট করছিলাম!!
আমি::( ক্লাসের ভেতরে ডুকে)আমাকে কেন ডাকছেন এটা বলেন!
!

জিহাদ:: পিয়াসের সাথে তোমার এতো কিসের ভাব! কি হয় তোমার!!(দাতে দাত চেপে)
!

আমি:: শুনেন আপনি আমার পারসেনাল লাইফ নিয়ে গাটাগাটি করার কে!! আমার যা ইচ্ছা তাই করবো এনি প্রবলেম!!
!

জিহাদ:: হ্যা আমার প্রবলেম!! তুমি কোনো ছেলের সাথে কথা বলতে পারবে না।আর নয়তো ___
!

আমি:: কি করবেন আপনি হুমম!! এতো ছেচ্ছর কেন!! গা ঘেষে ঘেষে কথা বলতে আসেন!! আপনি কি আমার জামাই যে আপনার কথা শুবো!!
!

জিহাদ:: ওহ জামাই হতে হবে তাহলে!! আর মুখে মুখে তর্ক করো!! ( বলে ওর দিকে এগুচ্ছি আর ও পিচাচ্ছে)
আমি:: তো আপনি আমার কে হন!! স্যার সামনে আসবেন না ভালো হবে না কিন্তু!!
!

জিহাদ:: কি করবে তুমি করো!! সামনেই তো আছি!! এতো সাহস তাহলে পিচুচ্ছো কেনো!(ঝাঝালো কন্ঠে বললাম)
!

আমি::(আল্লাহ এবার তুমি বাচাও, বজ্জাত টা আমার সামনে আসে কেন) পিছুতে পিছুতে একবারে দেয়ালের সাথে মিশে গেছি!!
!

জিহাদ:: হুম করো কি করবে!! তুমি তো আমার কথা শুনতে বাধ্য নও তাই না!!আজ থেকে বাধ্য হবে কথা শুনতে(বলেই ওর গাল দুটো চেপে ধরে নিজের ঠোট দুটো ওর ঠোটে মিশিয়ে দিলাম)
!

আমি:: উমমমমম (কিছু বলতেও পারছি না)
!

জিহাদ::( টানা ১০মিনিট পর ছাড়লাম,দেখি ঠোট লাল হয়ে গেছে, আর হাফাচ্ছে সাথে আমিও হাফাচ্ছি)
!

আমি:: (বদমাইশ, ইতর আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো, মনে হয়েছে এই বুঝি মরে যাবো।চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গেছে)ফাইজলামি পেয়েছেন!! আপনি স্যার না গুন্ডা!! আমি প্রিন্সিপাল স্যারে কাছে বিচার দিবো আপনার কাছে!! যেনো আপনাকে রিজাইন নিতে বলে??
!

জিহাদ::((বিচার যেহেতু দিবে তাহলে কিস কম পড়ে গেলো না,বলেই দেয়ালের সাথে আরো শক্ত করে চেপে ধরে।আবার ওর ঠোট দুটো নিজের করে নিছি,বার বার ছাড়ানোর ট্রাই করছে আরো শক্ত করে ধরে চুমো খেয়েই যাচ্ছি,এক তো নেশা ধরে যাচ্ছে আবার ও ছুটাছুটি করছে।এবার ১৫ মিনিট পর ছাড়লাম আর ছাড়ার আগে ঠোটে কামড় বসিয়ে দিলাম)
!

আমি:: আহহহ ??? এটা কি করলেন!! আমি আর ভার্সিটিতেই আসবো না!একে তো এটো টাইম আবার কামড় বসিয়ে দিলেন।(ঠোটে হাত দিয়ে দেখি রক্ত বের হয়ে গেছে)
!

জিহাদ:: দূর এটা কি করলাম!! অনেক জোরেই কামড় দিয়ে দিছি!! সিট!!!!! না জানি কত ব্যাথা পেয়েছে(পকেট থেকে টিস্যুটা বের করে দিলাম)
!

আমি:: নো নিড!! আপনার টিস্যু আপনার কাছেই রাখেন!! (বলে চলে আসলাম)
!

জিহাদ:: আসলে এতোটা রাগা ঠিক হয় নি!! একে তো নেশা ধরানো ঠোট আর একটা কথাও শুনে না শুধু জিদ করে!! উফফ!! নিজের রাগটাই কন্ট্রোলে আনতে পারি না।(বলেই বেন্চের মধ্য একটা বারি দিলাম)
!

[[আর এদিকে আমার রাগে হাত পা কাপতেছে।কি পেয়েছে উনি! একে তো পিছ ছাড়েই না আজ কি করলো!! আর ভার্সিটিতেই আসবো না,দেখি কি করে!]] !

মুক্তা:: কিরে এতো টাইম কি করলি!! সেই কখন থেকে ওয়েট করছি! ১আওয়ারস আপ হয়ে গেছে!! কি বললো রে তোরে!! নাকি সাজেশন দিলো!!
!

আমি:: সাজেশন না তোর মাথা দিছে!! কোনো প্রশ্ন করবি না!! বাসায় যাবো এখন(চিল্লিয়ে বললাম)
!

মুক্তা:: আরে বাবা!! রিলাক্স! আমিও কি এখানে থাকবো নাকি বাসায় তো যাবো!! ভালো মোডে গেলি খারাপ মোড নিয়ে বের হলি!! বুঝলাম না কিছু!! আর তোর ঠোট কি____
!

আমি::: চুপ,, চুপ তুই!! আমার ঠোট জাহান্নামে যাক(বলে ওকে রেখেই বাসায় চলে আসলাম)
!

[[আর এদিকে জিহাদ বের হয়ে দেখে ঝিনুক নাই,তাই সে আর বেশিক্ষন না থেকে গাড়িতে চড়ে বাসার দিকে যায়,গিয়ে গাড়িটা রেখে বাসার ভিতরে ডুকে তখনই মা ডাক দেয়….]] !

মা: আজ সকাল সকাল আসলি যে!!তাড়াতাড়ি ছুটি দিয়েছে!
!

জিহাদ:: হুম বলতে পারো তাড়াতাড়ি।কেনো!! কোনো কাজ আছে নাকি বলতে পারো!!(মা আমার পাশেই সোফায় বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর বলছে।আর আমি জুতো খুলছি বসে বসে))
!

মা:: কি রে জিহাদ!!! তোর মাথায় আঠালো এগুলা কি!!
!

জিহাদ:: আঠালো মানে!! আঠালো কি আসবে!!
!
মা:: হ্যা তুই আয়নায় গিয়ে দেখ পুরো মাথায় ছেয়ে আছে!!
!

আমি:: ওয়েট মা,দেখছি!!!(আয়নার সামনে গিয়ে দেখি পুরো মাথায় চুইংগাম লাগানো,এটা দেখে মাথায় রক্ত চড়ে গেছে জিদে))
!

মা:: আমার মনে হয় চুইংগাম হবে। আর চুইংগাম কিভাবে উঠাবি ন্যাড়া হতে হবে!!(বলেই মা মিট মিট করে হাসছে) আর চুইংগাম কিভাবে মাথায় গেলো!! মনে হয় কেউ ঘষে দিছে!!
!

জিহাদ:: মা…বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু!! আর কোনো উপায় নেই উঠানোর!! (অসহায় ভঙ্গিতে)
!

মা:: অল্প হলে তেল দিয়ে উঠানো যেতো!! পুরো মাথায় এটা ন্যারা ছাড়া উপায় নেই!!
!

জিহাদ::(এটা ঝিনুকের কাজ কারন কিস দেওয়ার সময় ও আমার চুল ধরেছিলো।কাল ভার্সিটিতে গেলে কষে চারটা চড় দিবো,এতো ফাজিল আর বদমাইশ কিভাবে হয়) মা চুল না কাটলে হয় না!!
!

মা:: এতো কথা না বলে চল ন্যাড়া করে দেই!! ______

চলবে___

 

মা::বাবা চল তোকে ন্যাড়া করে দেই!!
!
জিহাদ:: মা বেশি বাড়াবাড়ি হচ্ছে,আমি সেলুনে যাচ্ছি তোমার এতো ভালো টিপস লাগবে না।।(বলেই বের হয়ে গেলাম)
!
মা:: যা যা,সেলুন ব্যটাও ন্যাড়া করবো দেখিস!কই গেছিলো আল্লাহ জানে,চুইংগাম মনে হয় খায় নি মাথায় দিছে!?
!
!
_____এদিকে আমি বাসায় গেলাম,এমনি মেজাজ খারাপ। ভালোই লাগছে না!! ফাজিল,
# বজ্জাত,মরা ইদুর, চিকা,লাল পিপড়া,সজারু একটা,মন চায় চিবিয়ে খেয়ে ফেলি,, এবার ভার্সিটিতেই যাবো না।দেখি পরে কার সাথে কি করে!! আর আমার সাথে পাঙ্গা লড়ো
দিছি চুইংগাম লাগিয়ে এবার বুঝবে ঠ্যালা।ভাবতেছি তখনই আম্মুর ডাক পড়ে___
!
আম্মু:: কিরে ফেস এমন বিকট করে রেখেছিস কেনো!! কি হয়েছে।
!
আমি:: আর ভার্সিটিতে যাবো না!! টিসি নিয়ে অন্য ভার্সিটিতে এডমিট নিবো।।
!
আম্মু:: কেন!! এই ভার্সিটিতে কি সমস্যা! আর কেউ কি ভার্সিটিতে পড়ে না।কলেজেও তুই দুবার চেন্জ করেছিস!! আবার ভার্সিটিতেও!! কোনো দরকার নেই এটায় পরবি তুই!!
!
আমি:: মা,তুমি সবসময় বেশি বুঝো!! ভার্সিটিতে কিছুই পড়ায় না!! অন্য ভার্সিটিতে রেগুলার ক্লাস হয় আবার ভালো পড়ায়!এই ভার্সিটিতে শুধু ইটিস পিটিস হয়।(কোথা থেকে যেনো ঝরা এসে হুট করে জ্ঞিগাসা করে)
!
ঝরা:: আপি আপি ইটিস পিটিস কি! আমায় একটু বলো না!! আমিও করবো।।
!
আমি:: শুন,ছোট আছিস ছোটোই থাক!! বড় হওয়ার চেষ্টা করতে আসবি না!! নাক টিপলে দুধ বের হবে সে আসছে ইটিস পিটিস জানতে!!
!
ঝরা:: এখনো আমি ছোটো না বুঝছো!! এখন রাস্তায় গিয়ে চোখ টিপ মারলেই সব ছেলেরা হুরমুর করে এসে পড়বে??!! আর তোমার যে ফেস!! কাকও উকি দিবে না!!
!
আমি:: তুই আমাকে কাকের সাথে তুলনা করলি!!!আজ তোর কোনো ছাড় নেই!! (বলে ঝরাকে মারতে গেলাম)
!
আম্মু:: শুরু হয়ে গেলো!! তোরা কি বড় হয়েছিস নাকি এখনো ছোটো আছিস!!কোনো শান্তি নাই ঘরে!! থামবি তোরা!! রেডি হো একটু পরে গ্রামে যাবো!! তোর দাদী অসুস্থ!!
(এবার আমি আর ঝরা ঝগড়া থামিয়ে একসাথে বললাম)
!
ঝরা ও আমি:: (চিৎকার দিয়ে)রিয়েলি আম্মু!!আমরা গ্রামে যাবো! বাট দাদীর কি হয়েছে!!
!
আম্মু:: হুম,শরীরটা নাকি ভালো না দেখতে চায় বলে যদি মরে যাই, শেষ দেখা দেখতে চায়!!তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে রেডি হো।
(বলে চলে গেলো আম্মু!! আর আমরা দুজন তো খুশিতে গদগদ, হে হে জিকা ভাইরাস আই মিন জিহাদ টাকলা ??এবার আমাকে কই পাবে!!! ৭দিনেও আমাকে ধরতে পারবে না!! তাড়াতাড়ি ফ্রেস হতে চলে গেলাম দুজনই।কারন প্রায় ২দু বছর পর গ্রামে যাবো)
!
____আর এদিকে জিহাদ সেলুনে গিয়ে পড়ে মহাবিপদে।চুল কাটতে সেলুনে বসছে__
!
নাপিত:: ভাই একটা কথা জিগাই?
!
জিহাদ:: কি কথা বলেন!!
!
নাপিত:: আপনি কয় বাচ্চার বাপ??
!
জিহাদ::(রেগে গিয়ে বললাম)কেন আমাকে দেখে কি মনে হয় ১০বাচ্চার বাপ!!
!
নাপিত:: না ভাই আসলে!! আপনার মাথায় এমন ভাবে চুইংগাম লাগিয়ে দিছে মনে হইছে আপনি ঘুমে বিভোর ছিলেন, আপনার পোলামান আরামসে চুইংগাম লাগিয়ে দিছে লেপে লেপে!! আপনার বাচ্ছা কয়টা!!
!
জিহাদ::চুপ করুন!! আপনি চুল কাটবেন নাকি ফালতু কথা বলবেন!আপনাকে কি বিনা পয়সায় কেউ রাখছে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য!!এখনো বিয়েই করিনি, আর আপনি তিন ধাপ এগিয়ে বললেন, কয় বাচ্চার বাপ!!!!
!
নাপিত::না ভাই এটা কেন হবে!! আপনার চুল দেখে যে কেউ বলবে!
!
জিহাদ:: আপনি চুল কাটবেন না উঠে চলে যাবো।।
!
নাপিত:: না বহেন,ভাই এতো রাগেন ক্যান!!আপনার চুলের যে অবস্থা আর্মি কাট দিতে হবে নয়তো ন্যাড়া হতে হবে!!
!
জিহাদ::(এবার চেয়ার থেকে উঠেই বললাম কিসের ন্যাড়া হে বলছি চুল কাটতে ন্যাড়া করতে বলছি নাকি)কাটেন চুল, আর চুপ থাকেন!!
!
নাপিত: ভাই বহেন,আর কিছু কমু না!! কাটতেছি।।
!
(এরপর চুল কেটে দিলো।কিন্তু কি কাট দিলো মনে হয় কোথাও চুরি করতে গেছি,ধরা পড়ায় সবাই ধরে কেটে দিছে,আয়নায় নিজেকে এলিয়েন মনে হচ্ছে)
!
নাওিত:: ভাই হয়ে গেছে,কি চুল না নিয়ে আসছিলেন!!এখন ভালো মানুষ মনে হচ্ছে!!
!
জাহিদ:: এমনি তো রাগে মাথা গরম হচ্ছে, আবার এখন বলে ভালো মানুষের মতো লাগছে!! আমাকে কি আগে খারাপ মনে হতো!! না আপনার বাসায় চুরি ডাকাতি করতে গেছিলাম!!
!
নাপিত:: না আসলে…
!
জিহাদ:: আসলে করতে হবে না এই নেন টাকা।ননসেন্স!! (বলে চলে আসলাম বাসায়,আমার স্বাদের চুল গুলা কাটতে হলো ফাজিল মেয়েটার জন্য কাল ভার্সিটিতে গিয়ে নেই চড় দিয়ে বত্রিশটা দাত ফেলে দিবো)
!
—–বাসায় ডুকে গেট লক করে ডুকবো তখনই বাবা ডাক দেয়…
বাবা:: বাবা,জিহাদ তুমি কি চুরি করতে গেছিলা??
!
জিহাদ:: হোয়াট!! কিসের চুরি করতে যাবো!! আমাকে কি চোর মনে হয়??
!
বাবা:: তাহলে এমন চোর কাট দিয়ে আসছো যে,,না আর্মিতে জয়েন করবা।।
!
জিহাদ:: না আসলে মাথায় চুল বেশি হয়ে গেছে তাই উপচে ফেলে আসছি
??(দেখি সবাই মুখ চেপে হাসছে!! মনে হয় পৃথিবীর শ্রেষ্ট জোকার আমি,তুসা তো এবার জোরেই হেসে দিলো)
!
তুসা:: তোমাকে তো সেই লাগছে!! জাস্ট ওয়াও!! বিয়ের সময় তো কাটতে হতোই এখন না হয় কেটে ফেললে।তুমি যে কাটই দাও জাস্ট ওয়াও লাগে।
!
জিহাদ:: মুখ সামলে কথা বল,না হয় একটা থাপ্পরই দিবো!! মজা করিস আমাকে নিয়ে!! কি পেয়েছিসটা কি টা কি তোরা!!যার যা মন চাইছে তাই বলছো!! আরেকবার চুল নিয়ে কেই কিছু বললে বাসা থেকেই চলে যাবো [[বলেই নিজের রুমে চলে আসলাম]] !
(আমার চুলে চুইংগাম লাগানো না সুদে আসলে শাস্তি পাবে তুমি,অনেক বেশি সাহস হয়ে গেছে তোমার তাই না!! সাহস বের করবো,সামনেই তো এক্সাম,))
!
____(আর এদিকে আমরা রেডি হয়ে বের হলাম সবাই মিলে গ্রামে যাবো আজ রাতের ট্রেনে।অনেক দিন পর যাওয়া হচ্ছে,, গ্রামের পরিবেশটা আমার অনেক ভালো লাগে,গাছপালা,নদী, পাখি আহ ওসাম একটা পরিবেশ,গাড়িতে চড়ে সবাই মিলে রেলস্টেশনে গেলাম যেতে যেতে রাত ১০টা বেজে যায়।তারপর রাত ১০.৩০এর ট্রেনে উঠে গেলাম।যেহেতু রাতের ট্রেন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যেতে পারবো)
_____পরেরদিন সকালে জিহাদ,তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে ভার্সিটিতে যায়, বাট ভার্সিটি গিয়ে শকড যে ঝিনুক নেই যতটা রাগ নিয়ে যায়, সেকেন্ডেই রাগ পানি হয়ে যায়!! তাহলে সত্যি কি রাগ করে ঝিনুক ভার্সিটিতে আসবে না _____

 

জিহাদ:তাহলে সত্যি কি ঝিনুক আসবে না!! মু্ক্তা দাড়াও, ঝিনুকের নাম্বার দিয়ে যাও।
!
!
মুক্তা:: স্যার ওর নাম্বার তো ওকে না জ্ঞিগাসা করে দেওয়া নিষেধ।আমি পারবো না স্যার,প্লিজ??
!
জিহাদ:: চুপপপ,আমি টিচার হই!! একজন স্টুডেন্টের নাম্বার চেয়েছি তাতে আরেকজনের পারমিশন লাগবে!! নাম্বার দিবে কিনা সেটা বলো??
!
মুক্তা:(আমার হাত পা কাপুনি শুরু হয়ে গেছে)স্যার ওকে দিচ্ছি।এই নেন ০১৯৫******আমি যাই স্যার।
!
জিহাদ: ওকে যাও।দাড়াও,, তোমরা তো সবসময় এক সাথেই আসো, আজ গিয়েছিলে ওদের বাসায়?
!
মুক্তা:: হ্যা হ্যা স্যার কি!!
!
জিহাদ: এই মেয়ে তুমি কি বয়রা! কি বললাম শুনতে পাও নি।
!
মুক্তা:স্যার আসলে আমি আমি তো আজ যাই নি, আমাকে যেতে না বলছে! আর ওর ফোনও বন্ধ (এক নিঃশ্বাসে বলে ফেললাম)
!
জিহাদ: ওহ,এবার যেতে পারো।
!
মুক্তা:: ওকে স্যার(বলেই তাড়াতাড়ি চলে আসলাম)
__________এদিকে সকাল হয়ে গেছে গ্রামে পৌছাতে পৌছাতে।সকালের মিষ্টি রোদ চোখে পড়তেই ঘুম ভেঙ্গে যায় আমার। চোখ ঢলতে ঢলতে সিটে ভালো করে বসি আর ঘুম ঘুম চোখে চারপাশ তাকিয়ে দেখি আব্বু আম্মু ব্যাগ গোচাচ্ছে পরবর্তী স্টেপে নামবে।এবার দাড়াবো তখনই জামায় টান লাগে,দেখি ঝরাআমার জামার উপর বসে ঘুমুচ্ছে,আমার জামা ধরেই ,এক টান দেওয়ায়___
!
ঝরা:: কি হয়েছে!হয়েছে টা কি!!??
!
আমি:: কি হবে!! এখনো কি রাত আছে!! হা করে যে ঘুমাচ্ছিস এটা কি তোর বাসা পেয়েছিস!?
!
ঝরা:’ ভালো করে ডাক দিলেও হতো নাকি।এভাবে টান দেয়,আমার বুক এখনো ধুক ধুক করছে। ভয় পেয়ে গেছি আমি।
!
আমি: হইছে নটাঙ্গি কম কর! উঠ আরেকটু পরেই নামবো।
!
[[পরবর্তী স্টেপে সবাই নেমে যাই।গাড়ি থেকে নেমে পুরোই স্তব্ধ হয়ে যাই,আর নিজের কাছেই মনে হয় যেনো কোনো অচেনা কোথাও চলে আসছি,যে গ্রামের আনাচে কানাচে আমার চেনা এখন মনে হয় পুরোটাই নতুন।গাছ আর নেই আগের মতো, গ্রামের রাস্তা পিচ দিয়ে তৈরী! এসব ভাবছি___
!
আম্মু:: কিরে এখানেই কি দাড়িয়েই থাকবি, চল।।
!
আমি: হ্যা মা যাচ্ছি।কিন্তু আগে পিছে তাকিয়ে দেখি ঝরা নেই।আম্মু,ঝরা কোথায়?
!
আম্মু: ও তোর মতো লুলা! যেখানে যাস সেখানেই পড়ে থাকিস! ও হাটা শুরু করছে সেই কখন!
!
আমি: এই সামান্য বিষয় নিয়ে লুলা বললা!! বাসায় গিয়ে ওরে গাড়ামু ওর জন্য আমি কথা শুনলাম।
!
আম্মু: এটাই পারিস সারাদিন মারামারি! বিয়ে হোক দেখা যাবে,এতো কথা কই থাকে।
!
আমি: হুম দেইখো।এখন চুপ থাকো।
!
( বলে হাটতে লাগলাম।যেতে যেতে ৫মিনিট লাগলো।বাড়িতে ডুকে দেখি দাদী, ফুফি,ফুফা,চাচা,চাচী, কাজিন সবাই।ডুকা মাত্র হই হুল্লোর শুরু করে দিছে,আর জড়িয়ে ধরছো।সবার এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে আমি অস্থির হয়ে গেছি, এর ভিতরে সবার ছেট বোন আখি ৩ বছর বয়স। ও এসে আমার পা জরিয়ে ধরে আদো আদো কন্ঠে বলছে__
!
আখি:: তিনু(ঝিনুক)আপু, তিনু আপু, তোমাল লগে কথা না নাই।তু তু মিমি পচা..
!
আমি:: ওরে আমার সুইট, কুউট,লাবলি আপুটা কি আমার সাথে লাগ করছে!! হুমম
!
আখি:: হুমম আমি লাগ করছি,তোমাল সাথে আরি!! যাও তোমাল সাথে আমাল পুতুল বিয়ি দিমু না
!
আমি:: আচ্ছা বাবা সরি!! এই দেখো তোমার আপি কান ধরেছে তাকাও!! তোমার পুতুলের বিয়ে দিবে না,এতো রাগ আপির উপর।ঠিক আছে আমি চলে যাই।(বলে যেই ঘুরবো,ওমনি সুরসুর করে কেদে দেয়)
!
আখি: থুৃমি আমায় নেখে কই যাচ্ছো! আমি বিয়ে দিবো তো।আগে আমার গালে চুমু দাও তালে বিয়ে দিবো।
!
আমি:: ইসসস কত পেকে গেছে রে।ঠিক আছে দিচ্ছি (বলে গালে একটা চুমু খেলাম)
!
আখি: আমার আপু কত্ত আলো(ভালো)
!
[[এবার আসছে দাদী,আখির সাথে কথা বলছি উঠানে দাড়িয়ে দাড়িয়ে,লাঠি ভর দিয়ে দিয়ে আসছে..
!
দাদী:: ওরে আমার ঝিনুক নি গো।কত্ত বড় হইছে গো।চিনবারই পারি নাই।
!
আমি:: হ দাদী চিনবা, কিভাবে তুমি তো চোখে বেশি দেখো।
দাদী:: মাইয়া একখান হইছো রে,আগে তো এতো চটপট ছিলো নাগো!! শহরে গিয়া কত্ত চন্চল হইয়া গেছে।আগে কথাই বলতে পারতো না।
!
আমি:: আমি কি এখনো ছোট আছি নাকি!!হো ভাবতেছি তোমারেও নিয়া যাবো শহরে, তুমিও চন্চল হবা।(ওমনি কানের সামনে এসে ফিসফিস করে বলে দাদী)
!
দাদী: ওই জামাই আছে নাকি রে প্রেম ভালোবাসা করোছ না।
!
আমি:: এবার ভ্রু কুচকে, দাদীর দিকে তাকিয়ে বলে, আইছে বুড়াতি কালে প্রেম ভালোবাসা বলতে।শোন তোমার প্রেম ভালোবাসা লাগলে কও জামাই আছে একটা তোমারে দিমু।
!
দাদী:: আরে আস্তে কো, থাম থাম তোর বাপ হুনলে রাগে যাইবো।বুঝছি তো প্রেম ভালোবাসা করোছ, আমারে কইতে শরম পাস বুঝি বুঝি, ঝটপট কইয়া লা।আমার কত দিনের শক তোর জামাইয়ের লগে প্রেম করার।
!
আমি:: দূর তুমি যাও তো। কোথায় ভালো মন্দ দুটা কথা বলবা তা না,আসছে প্রেম ভালোবাসা বলতে।দাড়াও আব্বুরে বলতোছি(বলেই হাসতেছি)
!
দাদী: না না বলিস নারে।আমি তো মজা করছি।আমার কি প্রেম ভালেবাসা করার সময় আছে!!
!
আমি:: থাকো তোমার মজা নিয়া।আমি আখিরে নিয়ে রুমে গেলাম।
!
(বলে রুমে চলে আসলাম, আর আখিরে খাটের উপর বসিয়ে ব্যাগ থেকে কাপড় বের করছি, হঠাৎ ফোনটাও বের হয়, ভাবলাম মুক্তারে কল দিয়ে বলি যে আমি গ্রামে,ফোন হাতে নিয়া দেখি আন নোন নাম্বার থেকে ১০০+ কল আসছে,আবার মেসেজও দিছে)
!
!
……..: plz call recv koro,i am waiting for you.
………:: kthy tumi call reciv kro na kn.ajb ato ber call dissi reciv to korbe,
……….: onk tension hosse, plz call reciv koro.
!
!
(মেসেজ দেখতে দেখতে আবারও কল আসে,এতো গুলো কল আবার রং নাম্বার মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেছে,, কি আমার ইষ্টি কুটুম আসছে ওর কল ধরতে হবে,এবার উত্তম-মধ্যেম দিবো।এতো কথা বলার ইচ্ছা,কল রিসিব করেই)
!
আমি:: ওই তুই কেরে হে!! এতো কল দিছোস আবার মেসেজও, তোরে সামনে পাইলে কাইট্টা কিমাকিমা বানিয়ে শুটকি করবো,আগুনে পুরাবো, শিক কাবাব বানাবো।ছাগল কোথাকার! আমার নাম্বার তুই কোথা থেকে পাইছিস।আরেকবার কল দিলে চড় দিয়ে সব দাত ফেলে দিবো।খবিশ কোথাকার।বলেই কেটে দিলাম।(আবারও কল দিছে)
!
!
আমি:: এ কোন পাগলের পাল্লায় পড়লাম,এবার তো তরে আমি(রিসিভ করলাম(ঐ তুই কি লুলা থুক্কু বয়রা কানে বাতাস ডুকে নাকি, কান পরিষ্কার করোছ নাই আজকে।কল দিতে না করছি না!! এটা রং নাম্বার। এতো মেয়েদের সাথে লুতুপুতু করতে মন চায় কেন!! একটা বিয়ে করে বউ রে ফোন দিয়া জালাবি।আমি তো ঘরের বউ না।বার বার কল দিবি, আরেকবার কল দিলি তোর বাসার উপর বোম ফালাবো বলে দিলাম!! বদমাইশ, ছাগল, কাউয়া।কাট কল, আবার আমার কথা শুনতেছোস।লজ্জা করে না।তুই কে হে?? কোন জান্টুস ম্যান এতো টাকা হয়ে গেছে ফোনে!! আমার ফোনে ২০০টাকা দে। দেখি তোর এতো টাকা হইছে,রাখার জায়গা পাস না,তাই মেয়েদের ফোন দিয়া দিয়া কথা বলতে মন চায়,গলা কেটে মন্ডু হাতে ধরিয়ে দিবো।আরেকবার কল দিলে তোর খবর আছে।(বলে কেটে দিছি, নাহ আর কল দেয় নি)
!
!
উফ যত্তসব আবাল কোথ থেকে আসে,মাথায় ধরে না্এগুলা পাবনায় যায় না কেন। এরই মাঝে আখি বলে..
!
আখি:: এতো গুনি বোকা কাকে দিনা(দিলে) আপি
!
আমি:: ঐ তো আমার এক ফ্রেন্ডে,ওহ তোমার জন্য কিটকেট আনছি,দাড়াও বের করছি(ব্যাগে থেকে বের করে ওর হাতে দিলাম,ও আপন মনে খাচ্ছে।আর রাজ্য জয়ের এক হাসি দিচ্ছে।হঠাৎ টুং করে আওয়াজ আসে, মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি ২০০টাকা আসছে, চোখ তো পুরাই চড়ক গাছ!!! এ কোন পাগল! আমি বললাম আর দিয়ে দিলো।এবার আমিই কল দিলাম,সাথে সাথে রিসিব হলো)
!
!
আমি:: এই মিয়া তোর কি কাজ কাম নাই,বললাম আর দিয়ে দিলি আমি কি তোর থেকে চাইছি হনুমান তুই কে?? বল!! ফাইজলামি পেয়েছিস!!তোরে তাল গাছের আগায় বেধে এক শর্ট দিয়ে উড়িয়ে দিবো।তোর পরিচয় কো নয়তো এবার তোর চৌদ্দ ঘুস্টি উদ্ধার করবো(এবার ও পাশ থেকে বলে)
!
……..:আমি জিহাদ,
!
আমি::????? আয়াআআআআআআআআআআআআ
আআআআআআআআআআআআআআআ

 

আমি::: আআআআআআআআআআআআআ আপনি আপনি আমার নাম্বার কোথায় পেলেন??আপনাকে তো আমি নাম্বার দেই নি, আর আমি যখন বললাম আপনি চুপ ছিলেন কেনো!! এতো কিছু বলে ফেললাম না জানি কপালে কি আছে
!
জিহাদ::তোমার দ্বারা এগুলাই সম্ভব।ভার্সিটিতে আসোনি কেনো! এতো গুলো কল দিছি রিসিভ করলে না কেনো!! এনসার মি(দাতে দাত চেপে তাও বলতে পারছি না,এতোটাই রাগ হচ্ছে)কি হলো চুপ কেন, এতো ক্ষন তো মুখে খই ফুটছিলো,
!
আমি::(আমাকে বকা দিচ্ছো, দ্বারা মজা নেই)আর ভার্সিটিতে পরবো না।আর ভার্সিটিতে যাবো না, দেখাও হবে না।বায় বায়(বলেই কল কেটে দিয়ে সুইচ অফ করলাম )
!
জিহাদ: হ্যালো, হ্যালো ধ্যাত কেটেই দিলো,কত বড় ফাজিল হলে এই কাজ করতে পারে।আমার থেকে দূরে থাকা না এবার পুরো নিজের করেই আনবো তারপর দেখবো মিস ঝিনুক কোথায় যাও তুমি। বলে আবার কল দিলাম,নাহ সুইচ অফ করে রাখছে।আর নিজেকে ভাবেটা কি ও যা ইচ্ছে তাই করবে!! সব ইচ্ছে বের করবো??
!
____
(আর এদিকে আমি, ভালো হয়েছে এবার বুঝো!! নিজেকে কি মনে হয়, অস্কার প্রাপ্ত গুনবান ব্যাক্তি! এতো মানুষের পিছে কিভাবে লেগে থাকতে পারে খচ্চর, উল্লুক একটা, বলে আখিকে চাচীর কাছে রেখে আসলাম)
!
[[এভাবে হই হুল্লোর করতে করতে তিনদিন গেলো,রুমে বসে আছি হঠাৎ বাবা আসছে..
!
আব্বু:: তোর পরিক্ষা কবে থেকে??
!
আমি:: বাবা আসলে ১সপ্তাহ পর হওয়ার কথা ছিলো আর ৪ দিন বাকি(কাপাকাপা কন্ঠে বললাম)
!
আব্বু: তোর যে এক্সাম,এখানে এখনো পড়ে আছিস কেনো,আর বলিস নি কেনো তোর যে এক্সাম
!
,
আমি:: বাবা আসলে আমি বলবো বলবো ভেবেছি,,
!
আব্বু: আজ রাতের ট্রেনে তোর মা আর তুই চলে যাবি, এর পর আমি এক্সামের দিন তোর সাথে ভার্সিটিতে যাবো।
!
আমি:: বাবা,এটা কেমন কথা, আমি তো বড় হয়েছি একাই যেতে পারবো!তোমার না গেলে হয় না,
!
আব্বু: চুপ থাক,তোর নামে কমপ্লেন আসছে, এতো বড় হয়েছিস যেখানে ঝরার নামে কমপ্লেন আসার কথা,সেখানে তোর নামে আসে, আর কথা বলবি না তুই!
!
আমি::এ্যাাাাাাাা বাবা?? তুমি আমার কোনো কথাই শুনো না,আর বিচার কে দিছে আগে সেটা বলো??
!
আব্বু:তোদের টিচার জিহাদ না কি নাম বললো।আর আমাকে দেখা করতে বললো।
!
আমি:: হা আমি তো জানি এই ডাইনাসোরের কাজই এটা,ছাগলটার জন্য আমার বাসায় ব্যাক করতে হলো না, আগামিকাল কলেজ গিয়ে নেই সব চুল উপড়ে ফেলে দিবো
!
আব্বু: মিনমিন করে না বলে ডিরেক্ট বল,কি বলবি।।
!
আমি: না বাবা,কিছু না।(আব্বু চলে গেলো,আর আমার উপর ঝেড়ে গেলো সব রাগ)
!
[[ বলে সব কাপড় চোপড় রেডি করতে লাগলাম, এসব কি সহ্য হয়,ইচ্ছা করছে জ্যান্ত আগুনে ফেলে দেই,আসতে আনা আসতেই আবার ব্যাক করতে হচ্ছে।ব্যাগ, কাপড় গুছিয়ে দাদীর কাছে গেলাম,
!
আমি:: দাদী চলে যাবো, আজ রাতে।একটা কথা তোমাদের এখানে কি বিচুটি পাতার গাছ আছে????
!
দাদী:: কেন কি করবি?? আছে তো অনেক,,
!
আমি:: আমার কিছু লাগবে,এনে দিতে পারবে!!
!
দাদী: আয় আমার সাথে, বাড়ির পিছনের দিকে থাকতে পারে।আর শোন সাবধান থাকবি,গায়ে লাগলে কিন্তু চুলকাবে…
!
আমি:: আরে তুমি এটা নিয়ে ভেবে নাতো, আগে চলো।
!
((পিছনের দিকে গিয়ে দেখি অমেকগুলো গাছ,তার থেকে কিছু পাতা নিয়ে ছিড়ে নিলাম।ব্যাস,, আর লাগবে না।এবার তুই কই যাবি,আমাকে গ্রাম থেকে ঢাকা ব্যাক করাচ্ছিস নাহ আবার আব্বুর বকাও শুনতে হলো।একটা পাতা গায়ে লাগবে লাফাতে লাফাতে আর চুলকাতে চুলকাতে জীবন বের হয়ে যাবে।আর আমি সব তোর গায়ে দিয়ে দিবো।যেনো দুই সপ্তাহও তোর পোড়া মুখ দেখা না লাগে,তোর আরাম ছুটাচ্ছি))
!
আম্মু: ঝিনুক, এই ঝিনুক কোথায় গেলি,তাড়াতাড়ি আয়।
!
আমি: আরে মা, আমি কি দেশ ছেড়ে পালাচ্ছি যে এমন চিল্লাচ্ছো।
!
দাদী:: ঝিনুক বল তো তুই এই পাতা গুলো কি করবি? আরে কি ভেবে মিট মিট করে হাসছিস!
!
আমি:: এই পাতা দিয়ে কি করে বলোতো?? এই পাতা একজন কে গিফট করবো মনে করো স্পেশিয়াল গিফট। হিহিহি
!
দাদী: স্পেশিয়াল কি রে?? কোনো খাওয়োনের নাম বুঝি? আর ভুলেও কাউকে দিস না,
!
আমি: শোনো বুড়ি এসব বুঝতে আইসো না,যাও গিয়ে ফিটার খাও।আখির সাথে,,,?
!
দাদী:: এমনি এমনি কি বলি, বহুত পেকে গেছিস তুই!! তোর বাপকে বলবো তোর জন্য একটা বজ্জাত জামাই এর লগে বিয়া দেয়,তাইলে ঠিক হবি।
!
আমি: তোমার বিয়ের ইচ্ছা হলে তুমি যাও, খালি বিয়া বিয়া।উফফ
!
(রুমে চলে আসলাম,সবার সাথে দেখা সাক্ষাত করে বের হতে হতে ৯টা বেজে গেলো।আব্বু সাথেই ছিলো ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে চলে গেলো।আমার মনটাই খারাপ হয়ে গেলো,আবার রাগও হচ্ছে আমাকে গ্রাম থেকে ঢাকা আনিয়ে ছাড়লো।আর নাম্বার কোথায় পাবে মুক্তার কাছে ছাড়া আর কাছে নেই আব্বুর নাম্বার, এই মুক্তার বাচ্চা দিছে না গিয়ে নেই দেয়ালের সাথে মাথা বাড়ি দিয়ে আলু বানিয়ে ফেলবো,ওকে দিতে কে বলছে!! সব জায়গায় আগে আগে পাকনামি,সব চুল টেনে ছিড়ে ফেলবো।?))
!
_______
এদিকে জিহাদ খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে ম্যাগাজিন পড়ছে,হুট করপ তুসা রুমে ডুকেই ম্যাগাজিন ধরে টান দেয়।আর বলে…
!
তুসা: সারাদিন বিজি থাকো, একটু তো সময় দিতে পারো??বিয়ের পর কিন্তু আর বিজি থাকতে পারবে না,অলয়েজ আমাকে সময়,দিতে হবে।
!
জিহাদ:( এটা কে সহ্যই হয় না,আবার কি সব বলে, লো সোসাইটির মেয়ে।লজ্জা শরম বলতে কিচ্ছু নেই)তুই কার অনুমতি নিয়ে আমার ডুকেছিস আর ম্যাগাজিন ধরে টান দিলি কেনো?
!
তুসা:তোমার রুমে আসতে পারমিশন লাগবে মনে হয়!! এটা তো আমারই ঘর।তোমার সব আমার!
!
জিহাদ: (গায়ের সাথে ঘেসে ঘেসে বলছে, যা আমার একদম বিরক্তি লাগে)দাড়া, দাড়া বলছি।
!
তুসা:(এভাবে কেউ ধমক দেয়,এর কি মন বলতে কিছু নাই নাকি পাথর দিয়ে তৈরী)দাড়ালাম বলো কি (সাহস করেই বললাম)
!
জিহাদ: যেহেতু আমার সব তোর,আমার তাহলে একটা কথা রাখ,৫০০ বার কান ধরে উঠবস করবি।কান ধর,,
!
তুসা:: আমাকে কি শাস্তি দিচ্ছো!না এটা কি করে হয়,আর আমার দোষ কোথায়?আমি আআআ আমি পারবো না
!
জিহাদ:: কেন পারবি না, তাড়াতাড়ি কর নয়তো আরো বাড়বে।আমার সববকিছুই তোর, তাহলে আমার কথা শুনবি না!! কুইক স্টার্ট
!
তুসা:: যদি কান ধরে উঠবস করি আমাকে ভালোবাসবে তো?
বাট এতো বার যদি না পারি।
!
জিহাদ: (আরে ৫০বার উঠবস করলে খুজে পাওয়া যাবে না,আবার ভালেবাসা আবদার) হুম ৫০০বার করতেন পারলে,তারপর ভেবে দেখবো। আর যদি না পারিস তাহলে তোকে শর্ত দিবো ঐ শর্ত তোর মানতে হবে(অনেক জালিয়েছিস, আমার কথা কানে যায় না,এবার ভালো করে কান দিয়ে ডুকবে,আর এটাই সুবর্ন সুযোগ তোকে ফাসানোর)
!
তুসা: কি শর্ত??বলো

 

তুসা: কি শর্ত?বলো।
.
জিহাদ:যদি তুই হেরে যাস একেবারের জন্য বাসা ছেড়ে চলে যাবি,আর আমি হারলে তুই যা বলবি তাই হবে।
.
তুসা: শোন তোমার এসব আজগুবি কান্ড তুমি নিয়ে থাকো।আমি কিছুদিন পর এমনি চলে যাব,বাট এটা মনে রেখো তোমার সুখ কেড়ে নিয়েই যাবো।জাস্ট ওয়েট এন্ড সি…
.
(বলেই হনহন করে চলে গেলো)
জিহাদ:ওহহ!! লো ক্লাসের মেয়ে হলে যা হয়, এসব ফালতু ফাপর আমাকে দিয়ে লাভ নেই।যত্তসব বলে বলে বিছানা ঘুছিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
!
______পরেরদিন সকালে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে ভার্সিটিতে চলে যাই।গিয়ে দেখি ঝিনুক বসে আছে একা একা, কি হলো মেয়েটার মন খারাপ কেনো??সেদিন ওর বাবাকে এতো কিছু না বললেও পারতাম,বেশি কিছু বলেছি,,ধ্যাত, আর আজ এতো আগে আসছে!! বাসায় কি বকা দিছে নাকি!! নাহ এভাবে আর ভেবে লাভ নেই গিয়ে দেখি…
.
আমি যে অর সামনে দাড়িয়ে আছি ওর হুসই নেই,মনে হয় কোনো গভীর চিন্তা করছে।হালকা ধাক্কা দিয়ে বললাম..
!
জিহাদ: ঝিনুক এনি প্রবলেম??কি হয়েছে,,এতো চুপচাপ।
.
আমি:: না,স্যার।
.
জিহাদ: মিথ্যা বলবে না,কি হয়েছে সেটা বলো।
.
আমি::স্যার ছুটির পর দেখা করতে পারবেন?কথা ছিলো।
.
জিহাদ:কি এমন কথা,এতো টাই নিশ্চুপ হয়ে গেলো মেয়েটা!! আচ্ছা দেখা করবো।তুমি ক্লাসে যাও।
.
আমি:ওকে, স্যার।
(কি হলো মেয়েটার।আজ চটপটে ভাবটা একদম নেই,একপবারে চুপ হয়ে গেছে,যাই হোক দেখি কি করে)
!
———ক্লাসে গিয়েই এক লাফ দিয়ে দৌড়ে গিয়ে মুক্তা কে জড়িয়ে ধরলাম।হুররেেে আই এম সাকসেস,ইয়ার।এবার বুঝবা কত ধানে কত চাল!!!
.
মুক্তা:: আরে আরে কি হয়েছো, এতো লাফাচ্ছিস কেনো! আর আমায় উপরে আসতে বললি কেনো?তুই নিচে থাকলি একাই।
.
আমি: হুম হুম! বুঝবি না।কি করেছি?আজ বিকালে স্যারের সাথে দেখা করবো।
মুক্তা: কিহ! দেখা করবি মানে?
.
আমি:: বিকালেই বুঝতে পারবি কি ঘটে,অনেক বেড়ে গেছে এবার পাখনা কেটে বলার আগেই..
.
তুসা:: বাহ আজ ঝিনুককে এতো হ্যাপি লাগছে।ব্যাপার কি!! বলেই ঝিনুককে জরিয়ে ধরলাম,(তুমিই তো রাঘব বোয়াল তোমাকে বশে আনতে পারলেই তো আমি জিতবো মনে মনে বললাম,,)
.
আমি::উফপ অসহ্য এই মেয়েটার ঘা ঘেষাঘেষি না করলে মনে হয় ভালোই লাগে না।তুসা সরোতো, গা ছেড়ে একটু দূরে দাড়াও।আমার গরম লাগে।
.
তুসা’:ওপস সরি,তো কার পাখনা কাটতে চাচ্ছো বলো তো?
.
আমি:: আর বলো না কার হবে, তোমার ভালো ভাইটার।মেজাজটাই খারাপ করে দিছে,যানো তুমি আমাকে গ্রাম থেকে টেনে ভার্সিটিতে আনছে,আমি তো ওরে…
.
তুসা: আরে আরে থাম থাম।এভাবে রাগলে হবে?তো কোনো প্লান আছে নাকও তোমার।
.
আমি:হ্যা,আছে তো।
তুসা: ওহ।কি বলা যাবে?
আমি: হুম গ্রাম থেকে বিচুটি পাতা আনছি,স্যারকে বশ করার জন্য।
.
তুসা: হোয়াট ইজ বিচুটি পাতা??এটা কি?
.
আমি: যে তোমার বশ হবে না তাকে এই পাতা লাগিয়ে দিলে ব্যাগ থেকে বের দেখো,ভালো করে দেখো, তুমি যা বলবে তাই শুনবে??লাগবে নাকি তোমার(মজা করে বললাম)
.
তুসা: সিরিয়াসলি,, আমাকে কিছু দাও আমার লাগবে প্লিজইই,,
.
আমি: না, পরে নিয়ও।আমি আগে স্যারকে লাগাবো!
.
তুসা::না তোমার লাগাতে হবে না,আমিই জিহাদকে লাগিয়ে দিবো।তুমি শুধু দেখবে,প্লিজই ঝিনুক,প্লিজইই
.
আমি::ওকে তুমি হলে তো আরো ভালো।এগুলো গায়ে লাগলেই হয় বাট হালকা ঘষে দিলে আরও ভালো কাজ করে।এই নাও বলে সবগুলো পাতা ওর হাতে দিলাম
.
তুসা:Thank you thank you so much..you are a very intelligent girl.
.
আমি: হুম,আরেকটা কথা মনে রেখো লাগানোর আগে নিজে সাবধানে থেকো,,
.
তুসা:Dont worry,,i am serious বলে ওর গালে গালটা হালকা ঘষে,বললাম চলো ক্লাসে যাই লেট হচ্ছে(হাহাহা কি ভাবো তুমি হুম,এতো সহজ জিহাদ কে আমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার।তাই পাতা নিয়ে আসছো ওকে বশ করার,তা কি আমি স্বজ্ঞানে করতে দিবো!!আমার জিহাদ ওনলি আমার,হালকা ঘষতে বলেছো তুমি, আমি পুরো গায়ে মেখে দিবো,আমার না হয়ে কই যাবে তুমি)
.
আমি:হ্যা যাচ্ছি তুমি যাও আগে,আমাদের লেট হবে।
.
মু্ক্তা: আমার মাথায় ধরছে না তোদের কথা,
.
আমি:হাহাহাহা দেখ তুসা পাগল রে,বললাম আর বিলিব করলো।থাক আমার কষ্ট কমলো।
.
মুক্তা: আমি বাবা কিছু বুঝতেছি না,আমি এসবে নাই।তোর যা খুশি কর।
.
আমি: ক্লাসে চল আগে হাহাহা
.
মুক্তা:হাসবি না এমন করে,শয়তানের মতো লাগে
!
(ক্লাসে গেলাম, স্যার আজ কিছু বলে নি এমন ভাবে থাকলাম যেনো ভাবে আমার কিছু একটা হয়েছে,ক্লাস শেষ করে বের হলাম সবাই, দেখি স্যার দাড়িয়ে আছে,মুক্তাকে ইশারা,দিয়ে চলে যেতে বললাম।আর আমি স্যারের কাছে গেলাম)
.
আমি:স্যার চলেন,যাওয়া যাক।
.
জিহাদ:কোথায় যাবে?
.
আমি: ঔ সামনে রেস্টুরেন্টে যাই।কেমন!
.
জিহাদ: চলো
.
(রেস্টুরেন্টের ভিতরে গিয়ে বসলাম,বাট আমার উনার কথা ভাবলে আর ফেসের দিকে তাকালে হাসি চলে আসে।না জানি কি ঘটে বেচারার)
!
আমি:স্যার একটা কথা বলি
.
জিহাদ:বলো,
.
আমি:আপনাকে এই ভার্সিটিতে আসতে কে বলছে?আই মিন টিচারগিরি করতে।আপনাদের তো টাকা -পয়সার অভাব নাই।
.
জিহাদ:তুমি কি এটার বলার জন্য এখানে এনেছো!!
আমি:না না তা কেনো হবে,,আপনাকে অনেকদিন ধরে দেখি না তাই মন খারাপ।এখন খুশি লাগছে।
.
জিহাদ: ওহ,কি খাবে??(আমাকে নিয়ে তুমি আবার ভাবো)
.
আমি:না স্যার,কিছু খাবো না।
.
জিহাদ: চুপ করে বসো,ওয়েটার ওয়েটার বলে ডাকদিলাম।
.
ওয়পটার: জি স্যার,
.
জিহাদ: বার্গার,চিকেন ফ্রাই, কোল্ড ড্রিংকস প্যাক করো।
.
ওয়েটার: ওকে স্যার,
.
জিহাদ: আর শুনে সবগুলো ২টো করে দিবে।
.
আমি:(এই যে শুরু হলো রাক্ষসের মতো কথা,এমনি কি খচ্চর বলি) দরকার নেই নিবো না আমি।
.
জিহাদ: তুমি নিবে না তোমার ঘাড় নিবে।ধরো এবার,
.
আমি:ধ্যাত হুদাই আসছিলাম।
.
(হাতে প্যাক ধরিয়ে দিলো,কি করি বাসায় গেলে কি বলবো মাথায় আসছে না)
.
জিহাদ:কি বললে তুমি,শুনতে পাই নি।আবার বলো।
.
আমি:: আপনার মাথা!গেলাম হু(শয়তান,বাদর, খচ্চর আজ বাসায় যা তোর ১২টা বাজিয়ে দিবোনে)
.
জিহাদ: জানি তো মনে মনে বকা দিচ্ছো দাও তুমি।আমার কিছু যায় আসে না।
!
_____এদিকে বাসায় গিয়ে একগাদা প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে আমি টায়ার্ড,,
.
ঝরা:এতো খাবার কে দিলো রে আপু!!
.
আমি: চুরি করে আনছি,আল্লাহ রস্তে আমায় একা থাকতে দে একটু।বাসায় আসছি রেস্ট তো নিতে দিবি!
.
ঝরা: আমি চিকেন খামু,
.
আমি:: চিকেন না,,আমারে খা,গাধা
.
ঝরা:: হুু
.
আমি: যা তো, আর ভালো লাগে না এসব যন্ত্রনা!!
!
___আর এদিকে জিহাদ ফ্রেস হয়ে খেয়ে বিছানায় গা দিয়ে শুয়ে শুয়ে বই পড়তে পড়তে কখন যে ঘুমিয়ে গেছে তার কোনো তালই নেই,হঠাৎ তার মনে হলো কি ব্যাপার শরীর চুলকায় কেন?? ও আল্লাহ যত চুলকায় আরো বেশি পরিমানে চুলকায় শরীর।কেমনটা লাগে!! লাফ দিয়ে উঠে বসে বিছানায় সোয়া থেকে বসে,,,গায়ে সেন্ডো গেন্জি পড়া ছিলো, খুলে চুলকাতে শুরু করে, হাত পা শরীর শুধু চলকাচ্ছে।তাড়াতাড়ি ওয়াস রুমে গিয়ে গোসল করে আবার বাট নাহ চুলকানি কমছে না,সারারাত ধরতে গেলে ওয়াস রুমেই ছিলো।যে জায়গা চুলকায় সে জায়গাই সাবান দিয়ে ঘষে,তার রাত একে তো চুলকানি আবার গোসল করতে করতে রাত পোহায়,পরের দিন সকালে একে তো ঠান্ডা লাগছে আবার শরীরের বিভিন্ন জায়গা ফুলে গেছে চুলকানোর ফলে ফুলে ফুলে আলু হয়ে গেছে আবার ব্যাথা করছে পুরো শরীর,,____
!
.
___রাতে তো তুসার ঘুমই হয় নি।এতো হ্যাপি লাগছে, ঝিনুক এমন হেল্পই করলো যেনো তার খুশির জোয়ার বসছে।আজ থেকে জিহাদ তার হয়ে যাবে,এরপর বিয়ে, সংসার,ওমাগো!! ভাবতেই পারছে না সে,সারারাত নির্ঘুম কাটায়।এসব চিন্তা করতে করতে আস্তে আস্তে জিহাদের রুমের দিকে অগ্রসর হয় যে , জিহাদ সজাগ কিনা,আস্তে করে গেট ধাক্কা দেয়ায় দেখে গেট খোলা।আজিব তো!! গেট খোলা কেনো।।মনে হয় তার অপেক্ষায়ই আছে!! ঝিনুকের দেওয়া পাতাটা কাজে লাগছে!! ইসসসস ঝিনুক সোনা তোমায় এত্তে এত্তো থ্যাঙ্কিউ!! বলে গেট খুলে তাকিয়ে চোখ আমার কপালে উঠে গেছে!! একি শরীরের অবস্থা!জামা ছাড়া,শরীরে শুধু গামছা পেচিঁয়ে আছে!! শরীরের বিভিন্ন জায়গা ফুলে গেছে।।আল্লাহ এটা কি হলো!! ওই ছেমরি কি দিছে এগুলো।কাল কষে থাপ্পর দিবো একটা!! না জানি কিসের পাতা দিয়ে আমাকে মিথ্যা কথা বলছে!! যদি আমাকে ধরে তাহলে তো আমি শেষ!! একটা আছাড়ই দিবে আমাকে।।।এগুলা দেখে আমার হাত পা কাপুনি শুরু হয়ে গেছে।আলগোছো সরে পরলাম…
!

 

এদিকে জিহাদের মা ব্যাপারটা চোখে পড়লো,,জিহাদ তো কখনো এতো লেট করে না।কি হলোটা কি??ডাক দিয়ে আসি, পরে আবার চিল্লাবে,,বলে জিহাদের ঘরের দরজা হালকা ধাক্কায় খুলে যায়,গিয়ে দেখে ছেলের একে তো চিত হয়ে শুয়ে আছে,আর শরীর লাল হয়ে গেছে……
জিহাদের মা::কিরে বাবা কি হয়েছে তোর,,,এমন দেখাচ্ছে কেন তোকে!!একি শরীরে কি জ্বর!
!
জিহাদ::ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি মাকে,আসলে কাল কি হলো বুঝলাম না।মাথাটা পেইনও দিচ্ছে অনেক,,
!
জিহাদের মা: আমি ডক্টরকে কল দিচ্ছি, শুয়ে থাক তুই,
!
(বলেই মা এক সেকেন্ডও দাড়ায় নি, চলে গেছে কল দেওয়ার জন্য।আমিও একটু কষ্ট করে উঠে বসার চেষ্টা করলাম,হেলান দিয়ে বসে আছি।শরীরটা ব্যাথায় ছিড়ে যাচ্ছে)
!
জিহাদের মা:বাবা,তুই শুয়ে থাক আমি জ্বলপট্টি দিচ্ছি।
!
জিহাদ: না মা,লাগবে না।তুমি বসো এখানে(একটু সরে বসলাম)
!
জিহাদের মা;;তোর শরীর খারাপ আমায় তো একবার ডাক দিতে পারতি,,আমি মা কি এতোটাই পাষান,সারাজীবন আগলে রেখেছি,আর এখন বড় গেছিস,এখন আমায় দরকার পড়ে না(বলেই ফুফিয়ে ফুফিয়ে কান্না শুরু করে দিলো)
!
জিহাদ: আরিহ মা,আমি সুস্থ, অযথা টেনশন নিচ্ছো।ডক্টর তো আছে নাকি,
!
মা::আমার কোনো কথা শুনিস না,টাইমলিও খাস না।তুই চুপ কর,আমি জ্বলপট্টি দিচ্ছি,,
!
জিহাদ:: মা লাগবে..
!
মা::তোর আর কথা শুনবো না,আমার কাছে তুই এখনো খোকা,কোথায় বড় হয়েছিস।।বড় হলে কি নিজের হাল এমন করতি,নিজের কোনো যত্ন নিস না,
!
জিহাদ;::মা,তুমি চিন্তা করো না তো,তুৃমি আছো না।
!
(এর মাঝেই ডক্টর চলে আসে)
!
ডক্টর: আরে জিহাদ তোমার এ হাল কেনো,মৌচাকে হাত দিছিলে নাকি।
!
মা:: দেখেন এগুলো কি হয়েছে আমার ছেলেটার,একটু ভালো করে দেখে ঔষুধ দেন।তাড়াতাড়ি ভালো কোনো ঔষুধ দেন যেনো সুস্থ হয়ে যায়,
!
জিহাদ::আঙ্কেল আমি মোটেও বুঝতেছি না এসব কি করে হলো,,,আমার এটা মনে আছে বিকালে বই পড়ছিলাম,এরপর ঘুৃমিয়ে গেছি।তারপর যে কি হলো,মাথাটা উচু করতেই পেইন শুরু হয়ে যায়,আঙ্কেল ভালো ঔষুধ দেন আর পেইন নিতে পারছি না।
!
ডক্টর::ইনজেকশন দিচ্ছি ১০মিনিটেই জ্বর কমে যাবে।আর এতো পরিমান জ্বর আসছে ১০২`,তাই শরীরও দুর্বল হয়ে গেছে।চিন্তা করো না ঔষুধ দিচ্ছি সুস্থ হয়ে যাবে শীঘ্রই,,তোমার শরীরে একধরনের চুলকানি পাতা লাগিয়ে কেউ তাই এমন চুলকাচ্ছে আর ফুলে গেছে,আমি মলম লিখে দিচ্ছি লাগালে ঠিক হয়ে যাবে,,
জিহাদ::হ্যা,আর শরীরটা প্রচুর ব্যাথা,,আর পাতা কে লাগিয়ে দিবে??অদ্ভূদতো
!
ডক্টর’:ঠিক হয়ে যাবে,শুধু টাইমলি সব করো।
!
জিহাদ:হঠাৎ ল্যাপটপের কথা মনে পড়লো, আমার রুমে সিসি ক্যামেরা লাগানো।একবার চেক করে দেখি তো,,মা আমার ল্যাপটপটা এনে দাও তো।
!
মা:এই শরীর নিয়ে কাজ করতে চাস,,একটু রেস্ট নে
জিহাদ:মা,কোনো কাজ না,একটু দেখবো প্লিজ,মা,দাও
!
মা:এই নে,বেশি টাইম চালাতে পারবি না
!
জিহাদ::ল্যাপটপ ওন করে,গতকালে পুরো দিনের ভিডিও দেখছি আর ডক্টরের সাথে কথা বলছি,,
!
ডক্টর:আমি আসি তাহলে,তুমি রেস্ট নাও।
!
জিহাদ:হুম,বলে হঠাৎ ল্যাপটপে চোখ পড়তেই দেখি আমার রুম থেকে তুসা বের হলো।তাড়াতাড়ি করে আবার ভিডিও ব্যাক নিয়ে যা দেখি, রাগে আমার পুরো শরীরটা থরথর করে কাপছে,মা তুসা কোথায়??
!
মা::হয়তো রেডি হচ্ছে, কেনো?
!
জিহাদ:চিৎকার দিয়ে বললাম ওকে ডেকে নিয়ে আসো
আর ডেস্ক থেকে স্কেলটা বের করে দাও আমায়।
!
মা::এই নে স্কেল আর আমি ওকে ডাকছি,আর রেগে যাচ্ছিস কেনো।কি হয়েছে?
!.
জিহাদ:তুসাকে নিয়ে আসো আর নয়তো আমি গেলে কি যে করবো ওকে,,
মা:আচ্ছা আমি যাচ্ছি,
__উফ এটা যে কি পাতা আল্লাহ জানে কেন যে দিতে গেলাম??এখন যদি আমার কথা জানে কি করবে??ঝিনুক কে বিশ্বাস করা মোটেও উচিত হয় নি, এই মেয়েটা আমাকে বোকা বানিয়ে এগুলো করলো!! ওকে তো এর শাস্তি পেতেই হবো।।
পুরো রুমে পায়চারী করছি,তখনই মামি আসে,
!
মামি::জিহাদ তোমায় ডাকছে, আসো তো।
!
তুসা:আমাকে সত্যি ডাকছে তো,ভালো করে শুনছেন,
!
মামি:আমি শুনেই আসছি,আমি যাই তুমি আসো।।
!
তুসা::না মামি, আমি একা যাবো না আপনিও আমার সাথে চলেন।
!
মামি: আচ্ছা চলো
(মামির পিছনে পিছনে গেলাম, দেখি একবার ল্যাপটপ ওন করছে আবার ওফ করছে,সাথেই স্কেল।ওরে বাবা আজ আমার কপালে শনির প্রভাব পড়লো বুঝি,রুমে ডুকে দাড়িয়ে আছি কোনো সায় শব্দ নেই)
!
জিহাদ: গতকাল আমার রুমে আসছিলি?
!
তুসা:হুম এমনি এসে চলে গেছি,
!..
জিহাদ:রাগে চিল্লিয়ে বললাম তাহলে সিসি ক্যামেরা ভুল দেখাচ্ছে ভিডিও? ভিডিওটা ওর সামনে ধরলাম,,দেখ,,? তুই এতো সত্যবাদী
!
তুসা: না না আ..স..লে আ.. মি কি..ছু জা..নি না।।
!
জিহাদ:ভালোয় ভালোয় বল না হলে স্কেল দেখেছিস, মেরে ভাঙবো।কি করে সাহস পেলি আমার ডুকে এতো কিছু করার??
!
তুসা: বলছি বলছি,গতকাল ঝিনুক আপনাকে লাগাতে চেয়েছিলো, আমি আ..মি জ্ঞিগাসা করায় বলে আপনাকে বশ করার জন্য,এতে আমার হিংসে হয়।তাই বলি আমাকে দাও আমি লাগিয়ে দিবো,এরপর তো আমি…
!
জিহাদ::ব্যস আর কোনো কথাই শুনতে চাই না,মা,মা..
!
মা: কি হয়েছে চিল্লাছিস,,শরীর ভালো লাগছে না।বললাম একটু রেস্ট নে,,
!
জিহাদ:: আমার কোনো রেস্টের দরকার নাই,আগামিকাল ঝিনুককে এই বাসায় দেখতে চাই আমার বউ হিসোবে,আর তুসার মুখ দেখতে যাই না,বের হো তুই আমার রুম থেকে,,বের হো।
!
তুসা::প্লিজ আমার কথা তো শুনে..
!
জিহাদ: তোর কোনো কথাই শুনতে চাই না,বের হো তুই আমার ঘর থেকে,
!
মা:: কি হয়েছে ওর সাথে এমন রাফ বিহেব করছিস কেনো!! আর কাকে বিয়ে করবি,সেদিন যে মেয়েটা আসছিলো?
!
জিহাদ:হুম কালকেই আমি ওকে চাই,আর কাল ওকে বিয়ে করবো এটাই শেষ কথা…..
!

 

পুরো বাড়িতে নিরবতা পালন করছে,,জিহাদের বাবা পুরো টেনশনে পরে গেছেন,,কি করবে এখন ছেলে রেগে গেছে কোথাকার কোন ঝিনুক টিনুক তার মাথায় ভর করছে,এখন তাকেই বিয়ে করবে,,
!

জিহাদের বাবা:তোমায় এমন বোকামির মতো কাজ করতে কে বলছিলো??মাথায় কি এতো টুকু বুদ্ধি নেই যে মেয়ে তোমায় সহ্য করতে পারে না সে কিভাবে তোমার ভালো চাইবে??
!
!

তুসা::আঙ্কেল আপনি জানেনই আমি বাহিরে বড় হয়েছি, এই লতা পাতা আমি কিভাবে চিনবো?
জিহাদের
!
!
বাবা;;আমাকে একবার বলার সময় পাও নি, আমার কাছে আর কোনো অপশন নেই।এবার নিজের যুদ্ধ নিজে করো।
(বলেই চলে গেলেন)
!
!

তুসার একে তো টেনে সব চুল ছিড়তে ইচ্ছা করছে নিজের এমন বোকামির জন্য,রাগে দুঃখে কষ্টে ঠেলে কান্না পাচ্ছে,,বলতে কান্না করেই দেয়,নিজের ভালোবাসার মানুষ যখন অন্য কাউকে বিয়ে করে তখন বুঝা যায় কষ্ট কি জিনিস?আবার তা স্বচোখে দেখতে হবে জিহাদের বিয়ে,জিহাদ তাকে ভালো না বাসুক সে তো তাকে ভালোবাসে,,,ভালোবসার মানুষকে কাছে নাই পেলো, এক পলক দেখার মাঝেও শান্তি রয়েছে। মাটিতে দু গাটু গেড়ে বসে মরা কান্না জুড়ে দেয়, আর পাগলের মতো চিৎকার করতে থাকে।মেয়ের এই কষ্ট আর সহ্য করতে পারছে না,তাড়াতাড়ি এসে তুসাকে তার মা টেনে উঠায়!
!
!

তুসার মা:: এভাবে কান্না করছিস কেনো??জিহাদের মাঝে কি এমন আছে??তোকে ওর থেকে ভালো ছেলের সাথে বিয়ে দিবো।দরকার নেই এমন ছেলের, যে আমার মেয়েকে কষ্ট দিবে।
!
!

তুসা:: মা আমার মাঝে কি নেই বলো তো!! আমাকে এভাবে ইগনর করে এমন! আমি অকে ছাড়া থাকতে পারবো না একটুও পারবো না,একটুও না!!
!
!

তুসার মা::পারবি, পারবি না কেনো??অর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে সেখানে তুই তৃতীয় ব্যাক্তি কেনো থাকবি??
!

তুসা:: মা তুমি বুঝবে না কতটা কষ্ট হচ্ছে,,কষ্টে বুক ছিড়ে যাচ্ছে, মনে হয় এই বুঝি মরে যাবো!!বলেই হু হু করে কেদে দেয়
!

তুসার মা:: আর কান্না করবি না, কান্না থামা!বুঝছি আমি চল আমার সাথে ঘরে চল,,
!

(মেয়ের চোখ মুখ মুছে দিয়ে ঘরো নিয়ে যায়,সে বুঝতে পারছে আসলেই মেয়েটার অনেক কষ্ট হচ্ছে।আর কষ্ট পেতে দিবো না,যা হওয়ার হয়েছে।এবার ব্যংকক ব্যাক করে। ভালো কোনো ছেলের সাথে বিয়ে দিবে,মেয়েটা যত দিন এখানে থাকবে ততই কষ্ট পাবে)
!
!

_____এদিকে ভার্সিটি বন্ধ,কয়েকদিন পর এক্সাম।ইংরেজি মোটেও পারি না কিন্তু প্রথম দিনেই ইংরেজি পরিক্ষা,কি করি।।ইংরেজি বিষয়ের সাথে আমার সাপে নেউলে সম্পর্ক,মনে হয় আমাকে সহ্য করতেই পারে না।এতো কঠিন, মনেই থাকে না??এগো পড় সব ভুলে যাই!!বই যে কোথায় রাখছি, খুজতে খুজতে বুক সেল্ফ পুরো বই দিয়ে ছড়া ছড়ি, খাটে বই, মাটিতে বই, খুজতে খুজতে হয়রান বই পাই না,অবশেষে খাটের নিচে বই পাই।উহফ দিন দিন বইয়ের পা ও গজিয়ে গেছে,, আর এদিকে ঝরার ভনভন আওয়াজ মাথাটা খেয়ে ফেলছে!! এইটার এতো কিসের পড়া, দিন রাত পড়তেই থাকে। পড়ুক আমিও পড়ি,চেয়ারে বসে Newspaper প্যারাগ্রাফ টা পড়া শুরু করলাম,
newspaper is a backbone of a nation.. nespaper is a backbone of a nation……
পরপর বলতেই আছি চোখ বন্ধ করে মুখস্থ করতেই হবে যেমনে হোক,কিছুক্ষন পর চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি ঝরা আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে,
!
!

আমি:: ওই কি হয়েছে হা করে তাকিয়ে আছিস কেন আহম্মকের মতো!! তোর নজর লাগতে লাহতে আমার আর পড়া মুখস্থই হয় না।
!
!

ঝরা:: তুমি যে গত ৪৫ মিনিট ধরে এক লাইনই বলে যাচ্ছো,এর উপর কি পিএইচডি করার নিয়ত করছো নাকি!! আমি কেন নজর লাগাতে যাবো,,
!
!

আমি’:তোকে বলছি না আমার পড়ায় ডিস্ট্রাব করবি না,আর কিসের পিএইচডি করবো!! এতো দিন পড়াশুনা করে এই শিখছোস তুই।তোর পড়া তুই পর যা,,
!
!
ঝরা:: কেমনে যে ভার্সিটিতে উঠছো আল্লাহ জানে,তোমাকে তো নার্সারিতেও জায়গা দিবে না,
!
!

আমি:: এতো বড় কথা,বলেই মাথায় একটা থাপ্পর দিছি।বেশি পাকনামি,নাহ??তুই গিয়ে ভর্তি হো
!
!

ঝরা:: আমি আম্মুর কাছে বিচার দিবো তুমি শুধু শুধু মারো!
!
!

আমি::আম্মু জানে তুমি কতটা সাধু!!
!
!

___এর মাঝেই আম্মু এসে পড়ে আর হাতে একটা ব্যাগ।।
!

মা:’ ঝিনুক তাড়াতাড়ি ব্যাগটা ধরতো, আর ভিতরে কি আছে পড়ে রেডি হয়ে আয়।
!

!

আমি:: কেনো?কোথায় যাবে?

 

ব্যাগ খুলে দেখি থ্রি-পিছ, থ্রি-পিছ বের করতে নিবো তখনই একটা কাগজ বের হয়,এই কাগজ টা পরোয়া করলাম না, থ্রি-পিছ টা পড়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাড়িয়ে কাজল লাগাচ্ছি হঠাৎ কাজল টা একটু সরে যায়,মুছবো কি দিয়ে খুজে পাই না।পরে ঐ কাগজটাই নিলাম,কাগজ টা খুলে দেখি কি যেনো লিখা,
.
“” জানা আছে কোনো গুন নাই তাই শাড়ি দেই নি,থ্রি-পিছই পড়েন””
.
এই লিখা দেখে রাগে কট মট করছে আমার শরীর,সাহস কত বড় আমাকে বলে আমার গুন নাই,আর উনার গুনের বালতি ভরা,আমি এই জামা পরবো না,আম্মুকে ডাক দিলাম, আম্মুউউউউ.. আম্মুউউউউ..আমি এই জামা পরবো না, আমাকে বলে আমার গুন নেই,আর জামা কে দিছে?
.
আম্মু:: কি হয়েছে এটো চিল্লাচ্ছিস কেনো!!পাশের রুমে মেহমান আসছে! আর এই জামা পরবি না কেন?
.
আমি:: একটা কাগজে লিখা আমার কোনো গুন নাই তাই শাড়ি দেই নি,আর এই জামা কে দিছে??
.
আম্মু:: বের হয়ে আয় তাহলে বুঝতে পারবি! আর মাথায় কাপড় দিয়ে বের হবি,আর চিল্লাবি না।
.
আমি:: হুম,যাচ্ছি,যাচ্ছি..
(মাথায় কাপড় দিয়ে বের হলাম,আম্নুর সাথে সাথে গিয়ে বসলাম,তখনই একটা মহিলা বলে উঠলো মাশাল্লাহ, মেয়ে আমাদের আগেরই পছন্দ,না আসলেও চলতো।যেহেতু আজ আংটি পরাবো তাই আনতে বললাম।)
.
আম্মু: কোনো সমস্যা নেই,মেয়ে আপনারা দেখবেন না!! আগে দেখলেই বা কি??
.
মহিলা::বাট আমার ছেলেটা আসতে পারবে না কিছু কাজ আছে তো তাই,আগামিকাল তো বিয়ে তখন হাজার কাজ থাকলেও আসতে হবে।
.
আম্মু::কাজ থাকতে পারে, আজ আসলে ভালো হতো!!
.
মহিলা:: হুম কত বললাম,শুনলো না
সমস্যা নেই আমি মেয়ের হাতে আংটি পরিয়ে দিয়ে যাই!ঝিনুক মা,কাছে আসো তো,আমার সাথে বসো!
.
আমি:যখনই আমাকে ডাক দিলো তখনই মাথাটা উচু করে তাকিয়ে ৪৮০ ভোল্টের শকড খেয়েছি,এ তো জিহাদের মা!! আর আমার বাসায়??তার মানে জিহাদের সাথে আমার বিয়ে হচ্ছে!!আমি এই বিয়ে মানি না,যখনই উঠতে নিবো তখনই আম্মু আমার হাত শক্ত করে ধরে বসিয়ে দেয়,আর ইশারা দিয়ে যেতে বলে।ইচ্ছা বা থাকা সত্বেও গেলাম,
.
জিহাদের মা::কত লক্ষি,, আমার ছেলে তোমাকে অনেক পছন্দ করে,তোমার জিহাদকে ভালো লাগে না??
.
আমি:: কিছু বলতে যাবো, তখন আম্মু বলে উঠে,,
.
আম্মু:: ছেলে আমাদের সকলের পছন্দ,ওর পছন্দ হবে না কেন!ছেলে কোন দিক দিয়েই বা খারাপ!!
.
জিহাদের মা:তাহলে তো কথাই নেই,ঝিনুক মা হাতটা দাও তো আংটিটা পড়িয়ে দেই,
.
আমি: ইচ্ছা না থাকা সত্বেও দিলাম, তিনি বলতেছে ঝিনুককে তো আমি আগেই চিনি ও আমার বাসায় গিয়েছিলো!আর তোমার এ্যকুরিয়ামটা কোথায়?তাকিয়ে দেখি মা আমার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে,,
.
আম্মু: আগে আপনাদের বাসায় গেছে মানে! আগেই পরিচিত আপনারা! ঝিনুক তো আমায় কখনো বলেনি।
.
জিহাদের মা:: আসলে পোলাপানের বুদ্ধি, হয়তো ভয়ে বলে নি।এখন তো ভয়ের কিছু নেই,
.
(সব ঘটনা বলে দিলেন,আম্মু তো আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে মনো হয় খেয়েই ফেলবে আমায়,ভয়ে আমার গলার পানি শুকিয়ে গেছে)
.
জিহাদের মা এবার বললেন, তাহলে এবসট উঠা যাক।রাতে গহনা-শাড়ি সব পাঠিয়ে দিবো,বলে আমার কপালে একটা চুমো খেয়ে চলে গেলেন আর বললেন, কাল কিন্তু আবার দেখা হচ্ছে, মিস করবো তোমায়।আর মোটেও মন খারাপ করো না, আমি থাকবো তো!
.
আমি::হুম,
(উনি চলে গেলেন আর আমি ওখানে ঠায় দাড়িয়ে আছি,কথা বলার শক্তিও মনে হয় নেই,কি থেকে কি হচ্ছে)
.
আম্মু;তুয়ি আগে উনাদের বাসায় গেছিস, আমাকে তো বলোস নি!! আবার এ্যাকুরিয়ামও নিয়ে আসছিস সম্পর্ক তো ভালোই,তাহলে তখন উঠতে চাইলি কেনো?
.
আমি:’ না তুমি যা ভাবছো তেমন কিছুই না,আর এভাবে হুট করে বিয়ে দেওয়ার মানে টা কি!!
.
আম্মু::তোর তো না জানার কথা না! আর ছেলেও খারাপ না অনেক ভালো!! শিক্ষিত,প্রতিষ্ঠিত, টাকা-পয়সার কোনো দিক দিয়ে অভাব নেই,,
.
আমি:: আমি বিয়ে করবো না,স্টাডি শেষ হোক তারপর,,
.
আম্মু::বিয়ে আগামিকাল হবে, স্টাডি করার দরকার নেই।
(বলে চলে গেলেন)
.
[[আমি ধপাস করে বসে পড়লাম,এটা কি হলো! আর আমি জানি কেনো সে আমাকে বিয়ে করবে!! মাকে কিভাবে বুঝাবো,আমার কথা তো শুনবেও না,টাকা পয়সা থাকলেই হয়, একটা বজ্জতাতের গাড্ডি আমার লাইফটা তামা তামা করে দিবে,আমার লাইফের কোনো দাম নেই, ডিসিশনেরও কোনে দাম নেই,সব উনাদের ইচ্ছায় হচ্ছে আমা ননীর পুতুল পেয়েছে।যার যা খুশি তাই করছে,আম্মুও বুঝলো না
বলেই কান্না করতে থাকলাম]] .
______আজ আমার বিয়ে, বাসর ঘরে বসে আছি।লাল কাতানের শাড়ি,আর এসব ভারী গহনা পড়ে বোর হয়ে গেছি।মেকআপ কি করছে কান্না করতে করতে এক সাইড মেকাপ আছে আরেক সাইডে নেই,বড্ড বাবা-মার কথা মনে হচ্ছে,আর ঝরার কথা ভাবতেই কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে,সারাদিন টম আর জেরির মতো লেগে থাকতাম! আর আজ ঝগড়া করার নেই,ওর কথা মনে হতে আরো জোরে কান্না করে দিলাম, আসার সময় ঝরা আমাকে ধরে কি কান্না মনে হয় আমি একবারে কোথাও চলে যাচ্ছি,আর ভাবতেই পারছি না, এতো চোখের পানি কোথা থেকে আসে,,তখনই গেট খোলার আওয়াজ হয়,বুঝতে পারলাম উনি আসছে,চোখ মুখ মুছে চুপ করে বসে আছি। তখনই জিহাদ বলে উঠে,,
.
জিহাদ:: আমার বিছানায় বসার সাহস কে দিছে তোমায়,,
.
আমি:: আমি বসি নি আমাকে এখানে রেখে গেছে,,
.
জিহাদ:: এখন নামো, নামে আমার বিছানা থেকে,,
.
আমি:’ নেমে কোথায় যাবো?
জিহাদ:: কেনো বারান্দা আছে না ওটাই তোমার জায়গা,অনেক অত্যাচার করেছো আর না!! এবার নিজে তৈরী থাকো সহ্য করার জন্য,
.
আমি;; (কথা শুনে মনে হলো কলিজার মধ্য কথাটা এসে বিধছে,তবুও সাহস নিয়ে বললাম)সেটা পাস্ট ছিলো, এখানে টেনে কেনো আনছেন?? আমার বাবা মা কত আশা নিয়ে বিয়ে দিছে আর আপনি এমন কথা বলছেন,আর আমি তো বিয়ে করতে চাই নি,আপনি জোর জোর বিয়ে করছেন,
.
জিহাদ:চুপ একদম চুপ।তোমার কথা শুনতে চাই নি।(বলে বিছানা থেকে বালিশ নিয়ে বারান্দার দিকে ছুড়ে মারলাম)
.
আমি:বালিশ ওখানে ফেললেন কেনো?
.
জিহাদ:: ওটাই তোমার জায়গা আজ থেকে,এই রুমে তোমার কোনো জায়গা নেই।আনডারস্টেন্ড,আর ভুলেও আমার বিছানায় যেনো তোমায় না দেখি।
.
(বলে উনি ঘুমিয়ে গেলেন,আর আমি পুরো জমে গেছি কথা শুনে।এভাবে কষ্ট পাওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো,চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় পানি পরছে)
.
জিহাদ;কি হলো দাড়িয়ে আছো কেনো!! কথা কানে যায় না! বার বার এক কথা বলতে হয় কেনো।
.
আমি:: যা …. চ্ছি(বলে দৌড়িয়ে বারান্দায় চলে গেলাম, অপমান আর সহ্য হচ্ছে না,বালিশ টা মাটিতে দিয়প শুয়ে পরলাম।কোনো দিন মাটিতে ঘুমায় নি,ভাগ্যের পরিহাশ আজ বারান্দায় শুতে হচ্ছে,এসব ভাবছি আর কান্না করছি।একে তো হালকা হালকা শীত পরছে, মাটিতে বিছানা, ঠান্ডা বাতাস মনে হচ্ছে ঠান্ডায় বরফ হয়ে যাচ্ছি।আর সহ্য হচ্ছে না, উঠে ঘরে গেলাম,,,দেখি ঘুমিয়ে গেছে,ভাবছি ডাক দিবো নাকি দিবো না।আর ঘুমন্ত চেহারায় কি মায়াবি লাগছে,আর তার ভিতরে কি হিংসাত্নক আচরন, ডাকই দিলাম
.
জিহাদ: সমস্যা কি তোমার,,আমার রুমে না বলে ডুকার কথা বলেছিলাম তোমায়??কেন ডুকছো বের হও,
.
আমি:: আসলে একটা চাদর….
.
জিহাদ:কিসের চাদর এভাবেই থাকবে,(বলে টেনপ বেলকুনিতে রেখে গেট লাগিয়ে দিলাম)
.
[[ঠাস করে গেটটা লাগিয়ে দিলেন, কান্না ছাড়া আর কিছুই করার নেই,ওভাবেই গুটে শুয়ে পড়লাম„এতো শীত করছে কি করবো শুধু কাপছি]] .
___পরেরদিন সকালে ঘুম থেকপ উঠে ফ্রেশ হয়ে দেখি ৯টা বাজে, কি ব্যাপার ঝিনুক এখনো উঠলো না কি হলো,,তখনই গত রাতের কথা মনে পরলো,ওহ মাই গড, কি করছে এখনো ও…
গেট খুলে দেখি থরথর করে কাপছে…….

 

তাড়াতাড়ি ওর কাছে যাই,হাটু গেড়ে বসি, কপালো হাত দিয়ে দেখি জ্বরে ফেটে যাচ্ছে আর আবোল তাবোল বলছে,অকে পাজকোলে করে নিয়ে বিছানায় শোয়ালাম,কি করবো ভেবে পাচ্ছি না এতো জ্বর আসছে কি থেকে কি করবো মাথাই আসছে না,গেট খুলে মার কাছে গেলাম,গিয়ে দেখি কিচেনে রান্না করছে,,
!
কিরে জিহাদ আমার পিছনে চুপ করে দাড়িয়ে আছিস কেনো,আর ঝিনুক কোথায় রে,,,মেয়েটা খেয়ে দেয়ে না হয় আবার ঘুমাক, এতো বেলা করে না খেয়ে ঘুমালে চলে,পরে শরীর আরো খারাপ করবে,,
!
জিহাদ:: মা, আসলে
!
মা:: বুঝতে পরছি, থাক ঘুমাক,ওর ব্রেকফাস্ট আলাদা করে রাখবো নে,আর শোন মেয়েটা কিন্তু বড্ড লক্ষি রে,,এখনো বাচ্চাই রয়ে গেছে।
!
জিহাদ:: মা ঝিনুকের আসলে,
!
মা:: কি আসলে আসলে করছিস,জলদি বল দেখছিস না কাজ করছি,
!
জিহাদ: ওর জ্বর আসছে।
!
মা:: জ্বর আসছে!! আর তুই এখনো ঠায় দাড়িয়ে আছিস!! কখন জ্বর আসছে আর কিভাবে জ্বর আসলো??
!
জিহাদ:: মা,আসলে সকালে আমি দেখি ও জ্বরে কাপছে, কখন জ্বর আসছে তা তো জানি না,তুমি একটু আমার সাথে আসো না মা,প্লিজই
!
মা:: তুই জানিস নি কখন জ্বর আসছে?তুই কোথায় ছিলি রাতে??
!
জিহাদ:: না মা কোথাও ছিলাম না, রুমে ছিলাম, এতো কথা বলো না কুইক আসো
!
মা:: চল এখুনি,,
(রুমে গিয়ে তো আম্মু বকাঝকা করতেই আছে,কেনো বললাম না জ্বর আসছে, এই সেই)
!
মা:: আল্লাহ এতো জ্বর,, আর তুই কই ছিলি!! মেয়েটা কিছুই তো চেন্জ করে নি। শাড়ি,গহনা পড়েই আছে।তুই ওকে রাতে মারছোস আর নয় বকা দিছিস তাই না,আর এই জিদে ও কিছুই খুলে নি??
!
জিহাদ:: মা আমি কেন মারতে যাবো!! আমি মারিনি।
!
মা:: এর হিসাব রাতে নিবো তোর!! তুই কি করছিস রাতে আর ঝিনুকের জ্বর কমুক।তুই ডক্টর কে কল দে আসতে বল,,
!
(আমি মোবাইলটা নিয়ে আমাদের পরিচিত ডক্টর কে কল দিলাম আসার জন্য,মাকে বললাম কিছুক্ষনের মধ্যে ডাক্টার চলে আসবে)
!
ডক্টর:: জিহাদ আসলে তুমি দিন দিন কি হচ্ছো আমি বুঝতে পারছি না!! মেয়েটার ১০৩’ জ্বর, মেবি রাতে জ্বর আসছে,জ্বরে দাতে দাত লেগে আছে আর তুমি এক রুমে থেকেও টের পাও নি কিছু!!
!
মা:: ও কি কোনোদিন মানুষ ছিলো!! মেয়েটার না জানি কত কষ্ট হচ্ছে আর ও সকাল ১০টায় আমাকে জানায়!!
!
জিহাদ:: আরে মা,আমি কি ওর সাথে ছিলাম নাকি ও তো….(বলেই থেমে গেলাম,বললে তো আমার আর বাসায় জায়গা দিবে না)আসলে আমি বেশি টায়ার্ড ছিলাম তে তাই হুস ছিলো না।
!
মা:: তোর হুস কবে হবে আর!! বড় কি হস নি!
!
ডক্টর: আমি ইনজেকশন দিছি আর ঔষুধ দিছি, জ্বর কমে যাবে,আর তোমার মতো হাসবেন্ড থাকতে ডাক্টার লাগে, বউয়ের কেয়ার নিও।এমন বেখায়ালি হলে চলে,,
!
মা:: আসলে ওরে তো বিয়ে দেওয়াই ঠিক হয় নি,পরের মেয়ে এনে যদি এর খেয়ালই রাখতে না পারে,,
(ডক্টর চলে যেতে নিয়ে আবার ঘুরে বলে)
!
ডক্টর::নতুন বউ পেয়ে মাথা ঠিক নেই,তা অবশ্য হবেই,, আপা নতুন বউ তো পেয়েছে,,
!
(এবার আমার মন চাচ্ছে ১০০০ফিট নিচে চলে যাই,লজ্জায় মাথা কাটা।। বউকে ধরলাম না,টাচও করলাম না এতো কিছু শুনতে হলো,ঠিকই আছে আমি এতো শুনারই যোগ্য। অনেক কষ্ট দিয়ে দিছি,আসলে রাগ আমি একদমই কন্ট্রোল করতে পারি না, তার মাঝে সেদিন বলেছিলো আমি নাকি ক্রেকটার লুজ,যাকে তাকে বউ বানাই,আবার বিচুটি পাতা লাগিয়ে কি না করলে!! এতো কিছু কি মানা যায়,বাট বেশি হয়ে গেলো শাস্তি তো পেতেই হবে কিন্তু এরপর থেকে অন্যরকম,)
!
মা: এতো কি ভাবছিস,খাম্বার মতো দাড়িয়ে না থেকে ঝিনুকে ড্রেস বদলিয়ে দে, আমি আসতেছি??
!
জিহাদ:: আমি??
!
মা:: না আমি,, হতচ্ছারা,বিয়ে করে কি বুদ্ধি সব গেছে,,
(বলেই চলে গেলো)
!
জিহাদ:: মা,মা, ধ্যাত।এখন আমি কি করি!! আর আমি ওর ড্রেস চেন্জ করে দিবো
!
(ধীরে ধীরে বিছানার কাছে গেলাম, যত এগুচ্ছি ততই পা কাপতেছে স্থির হতেই পারছি না,ধূর ও)
!
আবার মার কাছে গেলাম,মা আমি পারবো না ড্রেস চেন্জ করতে তুমি চলো প্লিজই..
!
মা:: তোর বউ আর আমি যাবো,যাবি আমার সামনে থেকে নয়তো এই যে এটা দেখছিস গরম করে লাগিয়ে দিবো,,যা তুই।
!
জিহাদ:: (খুন্তি দেখিয়ে বলছে)মা তুমি বুঝতে পারছো না, কি হবে।আমার গাত পা কাপে!!
!
মা:: আমার কিছু বুঝতে হবে না।কাপুক যা তুই,
!
(আবার গেলাম ঘরে বাট ত কাছে যাচ্ছি ততই বুক ধুক ধুক করছে,আর পা তো কাপছে এখন হাতও কাপছে,ওকে এতোটা কাছে কখনোই দেখা হয় নি,এতেটা নিষ্পাপ লাগছে, মনে হচ্ছে সারারাত কান্না করছপ একদিনেই চোখের নিচে কালি হয়ে গেছে, কাজল লেপটে গলছে চুল এলো মেলো, মেকআপ আধো আধো পুরোই পাগলি লাগছে,, সাহস করে ওর কাছে গেলাম,যেমনে হোক ড্রেস চেন্জ তো করাতে হবে এতো ভারি ভারি জিনিস আর কতক্ষন পরে থাকবে,ওর বিছানায় বসে হালকা করে ওর গালটা ছোয়ালাম,পাগলি একটা বলে ওর গালে একটা চুমু খেলাম।তারপর গলার হার, কানের দুল,খুললাম, একটা একটা করে চুরি খুলছি। এখন ঘুম তাই চুপ করে আছে জেগে থাকলে চিল্লিয়ে বাড়ি উঠিয়ে ফেলতো। কিছুটা ঝুকে মাথাটা হালকা উঠিয়ে ওরনাটা শরালাম,এখন শুধু
শাড়িটাই বাকি আছে,তাছাড়া এখন দেখতেও অনেকটা হালকা লাগছে এতক্ষন মনে হয়েছিল বস্তা পড়ে আছে,শাড়ির সেপটিপিন খুলছি মনে হচ্ছে নিজের ভিতর ঝড় বইছে, আচল সরিয়ে আর নিজেকে আটকিয়ে রাখতে পারলাম না, বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে গেলাম আর পিছাতে লাগলাম।এভাবে হয় না,, যাই করেছি ঝিনুক জাগ্রত অবস্থায় করেছি, এভাবে ওকে না জানিয়ে, না বলে টাচ করাটা একদমই ঠিক হবে না।একদমই ঠিক হবে না,হবে না,আমার দ্বারা এভাবে ওকে কাছে পাওয়া কখনোই সম্ভব না। যাই করবো জাগ্রত অবস্থাই করবো,যদিও ও এখন শরীয়ত মোতাবেক আমার বউ,, আমার অধিকার আছে ঠিক বাট এরপরও মতামত আছে, , প্যান্ট থেকে রুমালটা বের করে গেট লক করে, ব্যাগ থেকে ওর টি-শার্ট আর প্লাজু বের করলাম,আর চোখ বেধে নিলাম। ড্রেস চেন্জ করে দিলাম, নিজেকে যতটা সম্ভব সংযত করেছি।চোখ খুলে ওয়াস রুম থেকে পানি এনে রুমালটা ভিজিয়ে ওর হাত, গলা, মুখ মুছে দিলাম।এখন অনেকটা স্বাভাবিক লাগছে ওকে, চুল গুলো খুলো ছড়িয়ে দিলাম বালিশের মাঝে,,আর চাদরটা ওর গায়ে দিয়ে দিলাম যেনো শীত না করে, কপালে আরেকটা চুমু দিয়ে বের হয়ে গেলাম।)
!
___এবার আম্মুর কাছে গেলাম দেখি ডাইনিং টেবিলে খাবার রেডি করছে, আমাকে দেখে বললো বস।কি হলো??ঝিনুকের অবস্থা কেমন এখন??আর এভাবে লজ্জা পাওয়ার কি আছে,
!
জিহাদ:মাথা চুলকাতে থাকলাম,কি বলবো!!
!
মা:: থাক থাক মাথা চুলকাতে হবে না,
!
বাবা:: কিরে জিহাদ এতোক্ষনে উঠার নাম হলো! বউ পেয়ে কি ভুলে গেলি নাকি।তাছাড়া বউ একটা পেয়েছিস হাজারে একটা, ওকে কি আর ছাড়া যায়!!
!
জিহাদ:: বাবা কথাটা কিছু ব্যঙ্গাত্নক ভাবে বললেও কথাটা আমার নজর এড়ালো না।আসলে বাবা যার যেমন চয়েজ, তোমার চয়েজের সাথে তো আর আমারটা মিলবে না,
!
(তখনই দেখি তুসা আর ওর আম্মু ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে)
!
বাবা:: কিরে এই সাজ সকালে কোথায় যাচ্ছিস?
!
তুসাট আম্মু:: যাওয়ার জায়গা কি অভাব আছে নাকি এখানেই পড়ে থাকতে হবে!!
!
বাবা:: আমি কি সেই কথা বলছি নাকি,,তোরা তো
!
তুসা:: আমরা ব্যংকক ব্যাক করছি।
!
জিহাদ: আমি কি হেল্প করবো??
!
তুসা::কারো অনুগ্রহের প্রয়োজন নেই,মা চলো,,
(বলে চলে গেলো তুসা)
!
তুসার মা:: তোমার ভালো ছেলে আর ভালো বউ নিয়ে থাকো, আমরা নাই থাকলাম! দরকার নেই আমাদের থাকা এখানে,,
!
জিহাদ: আমরা ভালোই আছি,আপনি ভালো থাকলেই চলবে…
!
তুসার আম্মু:: বদমাইশ একটা, থাক তোরা।আর ভাইজান আপনিও ওদের সাথে তাল মিলিয়েই চললেন,আসি
!
জিহাদের বাবা:: শুন আমার কথা এভাবে ভুল বুঝিস না,
!
জিহাদ:: বেস্ট ওফ লাক।
!
জিহাদের বারা:: এবার উঠে চলে গেলো,আমার ভিসাও রেডি করো আমিও চলে যাবো
(বলে চলে গেলেন)

 

ঝিনুক এখনো ঘুমিয়ে আছে, কি করবো ভেবে পাচ্ছি না,একে তো ওর উঠার নাম নেই আবার ভয়ও হচ্ছে ঘুম থেকে উঠে কি করে বসে!!তাও রুমে গেলাম দেখি শুয়ে আছে আজ সারাদিন ও খায় নি, আমারও খাওয়া হয় নি! কি করে খাই ওকে রেখে আমার জন্য আজ ওর এই অবস্থা! ওর পাশে গিয়ে শুয়ে জড়িয়ে ধরলাম,শরীর অনেকটা ঠান্ডা হয়েছে, জ্বর কমেছে তাহলে,জড়িয়ে ধরার সাথে সাথে বলছে,,
!
ঝরা তোকে কত বার বলছি আমায় ঝরিয়ে ধরবি না, বার বার এক কথা বলতে হয় কেন। আরেকবার ধরলে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিবো,বলে ও আমার দিকে ঘুরে শোয়ায় আমার এক হাত ওর পিঠের নিচে চলে যায়,যখনই হাত টান দেই ঝিনুক সজাগ হয়ে যায়, আর আমাকে দেখে ওকে জরিয়ে ধরে আছি,দেখামাত্র সজোরে ধাক্কা দেয় একটা আর তাল সামলাতে না পেরে আমি খাটের ও পাশে পড়ে যাই,
!
আমি:: ছি ছি এতো টা নিচু আপনি, অসুস্থ ছিলাম আর এই সুযোগে আপনি……. আর ভাবতে পারছি না আমি,,,
!
জিহাদ:: ঝিনুক বিলিব করো আমি কিছু করে নি, জাস্ট..
!
আমি:: আমার আপনাকে বিলিব করা অনেক হয়ে গেছে,আমার দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে যা করেছেন আপনি ছিহ!! আপনি আমা য় বলতেন আমি নিজে সব বিলিয়ে দিতাম, বাট কেন আপনি এমন করলেন, কেন??
!
জিহাদ:: দেখো তুমি এখনো অসুস্থ,প্লিজ যা বলার পরে বইলো এখন চুপ থাকো..
!
আমি:: তুই আর একটা কথা বলবি না আমার সাথে লুফার,লুজার, ক্রেক্টারলেস,সুবিধাবাদী!! আমাকে ছোয়ার আর চেষ্টা করবি না!!
!
জিহাদ:: তুমি ভুল ভাবছো, তেমন কিছু হয় নি।প্লিজ এসব বলো না,,আমি তোমাকে কোনো টাচ করিনি,বিলিব মি..
!
আমি::তোর থেকে কুকুর ও শত গুনে ভালো, তুই যেমন চরিত্রহীন তোর মনটা ও নোংটা।
!
জিহাদ: ঝিনুক ভালো মতো কথা বলো,অসুস্থ হয়েছো তাই বলে এই না যে,যা খুশি তাই বলবে। দেখো তুমি এখন অসুস্থ, সুস্থ হও সব বলবো।
!
আমি:: সুস্থ হয়ে আর কি করবো!! আমার আর কি বাকি আছে সব শেষ! সব!সব।তুই তো চাসই সুস্থ হয়ে যেনো তোর বিছানার সঙ্গী হতে পারি তাই না আমি ডিবোর্স চাই, ডিবোর্স!!
!
ঝিনুকের এই ডিবোর্স কথাটা বার বার, জিহাদের কানে বাজছে, ডিবোর্স চাই, ডিবোর্স!!জিহাদ সজোরে একটা চড় দেয় ঝিনুকের গালে,,,
!
জিহাদ:: আর একদিন এই কথা বললে তোমার কি হাল করবো তা তুমি নিজেও ভাবতে পারবে না!!
!
আমি::চড় দেওয়ার সাথে সাথে মনে হলো আমার মাথা পুরোটা ঘুরে গেছে,তারপরও বললাম এখন তো আমাকে মারবেনই! আমার তো সব পাওয়া হয়েই গেছে আর তো কিছু বাকি নেই! আমি তো পুরান হয়ে গেছে(বলে কান্না করতে লাগলাম)
!
আর জিহাদ কি যেনো বলতে নিয়েও বললো না,ডেস্কের উপর কাচের গ্লাস ছিলো, গ্লাসটা নিয়ে ফ্লোরে ছুড়ে মেরে চলে যায়,,,
!
আমি ফ্লোরে বসে পরলাম, থাকবো না এ বাসায়, কি নিয়ে থাকবো! কে আছে আমার, দরকার নাই এমন হাসবেন্ডের,, দরকার নেই!!চোখ মুখ মুছে রুম থেকে বের হলাম, দেখি মা বসে আছে আমাকে দেখা মাত্র বললেন,
!
মা:: বস এখানে, আর তোর শরীরের অবস্থা কেমন?
!
আমি:: আছে মেটাটমুটি, আর আপনি জানলেন কিভাবে?
!
মা:: এক বাসায় পাশাপাশি ঘরে থাকি এটা কি আর বলতে হয়, জিহাদ বলছে।
!
আমি: ওহ আচ্ছা, আমি তো সারাদিন ঘুমিয়ে কাটালাম, এখন না হয় কাজ করি,,
!
মা: তোর কাজ করতে হবে না আগে সুস্থ হ, তারপর কাজ করিস,,তো এখন খেয়ে ওষুধ টা খেয়ে নে, আর রেস্ট নে।
আমি:: হুম,বলে রুটি আর কলা খেয়ে ওষুধ খেয়ে চলে আসলাম।
!
((আয়নার সামনে এসে দেখি থাপ্পরের পাচ আঙ্গুলের দাগ বসে আছে, গালে হাত দিয়ে বসে ছিলাম যেনো মা দেখতে না পায়,থাপ্পরের জসয়গায় হাত বুলালাম।আর নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে পানি পরতে লাগল।এক রাশ ঘৃনা আর রাগ নিয়ে সরে আসলাম,আর বলতে লাগলাম i hate jihad,i hate you..তোকে শুধু ঘৃনা করি আমি শুধু ঘৃনা।কেনো যে তোর সাথে বিয়ে হলো, চিন্তা করিস না তোর এমন অবস্থা করবো ঝিনুকের নাম বেচে থাকতেও ভুলবি না।
!
_____
এদিকে জিহাদ বন্ধুদের সাথে আজ অনেক দিন পর আড্ডা দিচ্ছে,তাকে আগে দেখা গেলেও এখন দেঝাই মেলে না, সাডেন জিহাদকে দেখে তো সবাই অবাক…
!
আকাশ:: দোস্ত তুই এতোদিন পর,,আমাদের কথা মনে পড়লো তাহলে!
!
রিয়াদ: তুই কিভাবে আমাদের ভুলতে পারলি! ইয়ার,
!
নিশান: আরে দেখ বেটায় বিয়ে টিয়ে করছে নাকি,, এই জন্য আমাদের ভুলে গেছে।
!
(আমি মনে মনে বললাম, আমার আবার বিয়ে, এটা তো অভিশাপ,না আছে শান্তি না আছে ভালোবাসা)
!
জিহাদ: এসব কথা রাখ, সাইড দে বসি,
!
আকাশ: সাইড তো দিমুই,কিন্তু এটা আগে বল তোর মোড অফ কেন?কি হয়েছে
!
নিশান:: আরে ইয়ার একটা বেনশন দে হালারে,খাইয়া একটু মোড ওন করুক।
!
জিহাদ: নিশান তোকে হাজার বার বলছি মুখের ভাষা ঠিক করতে,,
!
রিয়াদ:আচ্ছা বাবা রিলাক্স,ওর কথায় রাগ করিস না।জানিসই তো ও এমন,,এখন এটা বল তোর কি হয়েছে !
!
নিশান:: ছেকা খাইছে মনে হয়,চোখ মুখের অবস্থা দেখছোস,
!
রিয়াদ: চুপ থাক তুই,তেরে এক্সপ্লেন করতে বলে নি কেউ,,
!
(শুরু থেকে সব বললাম,কি হয়েছে না হয়েছে,ওরা শুনে তো অবাক)
!
সবাই একসাথে:: তুই বিয়ে করলি আমাদের জানালিও না??একা একা বিয়ে করে ফেললি,
!
রিয়াদ: ট্রিট কই আমাগো!! ট্রিট দে,,
!
নিশান: আমারে দু প্যাক বেনশন আর বোটকা খাওয়াবি, নইলে তোর এই বিয়া বাদ।
!
জিহাদ:: আমার চল্লিশার খাবার ট্রিটের সাথে একবারে খেয়ে নিস।
!
আকাশ:: তোরে বোটকা না দু বোতল বিষ খাওয়াবো।
!
নিশান:: আসলে তোরা আমার বন্ধুই ছিলি না, জিহাদ আমার বন্ধু।
!
রিয়াদ: তোরে যে দিতে পারবো ওই ভালা,তুই হালা মরোস না কে!!
!
জিহাদ:চুপ থাক,চল তোদের ট্রিট দিবো।যা খাবি তাই খাওয়াবো।
!
নিশান: চল তাহলে,
!
রিয়াদ:তুই তো আগে যাবিই, দিন দিন পেটের যে হাল করছিস বিয়ের পর তোর পোলাপান ফুটবল খেলবো তোর পেট নিয়া,
!
নিশান:আমার পেট নিয়া কোনো বাজে কথা বলবি না, এই পেটের জন্য আমার কোনো জি এফ নাই।
!
আকাশ: জিএফ জুটে না তুই আসছিস বউ নিয়া,ও তো কুমারত্বের পুরুষ্কার পাবে,
নিশান: তোরা এমন করোস,আগামি সপ্তাহে আমি বিয়া করমু দেখিস ,,
!
জিহাদ: তোরা এমন ঝগরাই করবি, চল না হয় আমি গেলাম।
!
(এরপর দেখি পিছন পিছন আসছে সব গুলো)
!
___
এদিকে আমি চিন্তায় পড়ে গেছি সেই সন্ধ্যায় বের হলো আর এখন ১২ টা বাজে আসার নাম গন্ধ নেই।আগে তো ১০টা বাজার আগে চলে আসতো।কি হলো, কোথায় আছে,কলও যাচ্ছে না ফোন ওফ।কেমন টা লাগে!কিছুক্ষন পর গেট খুলার আওয়াজ পাই দেখি আসছে বাট কেমন যেনো মাতাল মাতাল লাগছে,,,
!
জিহাদ: ঝি..ঝি..নু..ক তো..মা..য় অ..নে..ক অ..নে..ক সুন্দ..র লা..গ..ছে
!
আমি:: ছিহ আপনি মদ খেয়েছেন!
!
জিহাদ: ছি..হ ছি..হ ব..লা..র কি আ..ছে,।
!
(বলেই আমার দিকে এগুতো লাগলো,আর পিছাতে লাগলাম)
!
আমি: দেখুন মোটেও ভালো হবে না,আপনি ওখানে দাড়ান,, কাছে আসবেন না।
!
জিহাদ: আ..মি এ..ক..শ বা..র আ..স..বো।তো..মা..র কি!
!
(পিছুতে পিছুতে একেবারে ওয়ালের সাথে মিশে গেছি)
!
জিহাদ: তো..মা..র এই এ..ই থু..তনির তি..লটা অ..ন্নেক বে..শি কা..ছে টা.নে!! আ..র ঠো..টটা যেন..গোলাপের পা..প..ড়ি!!
!
আমি:: এটা বলেই উনি আমার থুতনিতে গভীর চুমু খায়,,আর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে,পুরাই স্তব্ধ হয়ে গেছি এটা কি হলো,থুতনি ছেড়ে এবার আচমকা আমার ঠোটে উনার ঠোট মিলিয়ে দেয়, পুরো শরীরে এক প্রকার আবেশের তৈরী হয়,কাপুনি দিয়ে উঠে,,আর উনি আমার ঠোটের স্বাদ নিতেই আছে,ছাড়ার নাম নেই।এক হাত দিয়ে চুলের মুঠি ধরে আছে আছে আরেক হাত দিয়ে আমায় শক্ত করে চেপে ধরে আছে,, না পারছি ছাড়তে না পারছি কিছু করতে।যত ছাড়াবার চেষ্টা করি তত শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, এদিকে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে,এক সময় দেখি উনার শরীরে ভার আমার উপর দিচ্ছি তখনই সোজরে একটা ধাক্কা দেই আর টাল সামলাতে না পেরে ফ্লোরে পড়ে যায়।আর আমি সেখানেই ঠায় দাড়িয়ে আছি।

 

পরদিন সকালে সূর্যের আলো জিহাদের চোখে পড়তেই, জিহাদ আস্তে আস্তে চোখ খোলে, উঠতে নিলে মাথায় হাত দিয়ে দেখে আলু হয়ে গেছে আর প্রচন্ড ব্যাথা করছে মাথা, রাতে কি হয়েছে আর ও নিচে কেন মরা মানুষের মতো পড়ে আছে কিছুই মনে আসছে না,,,খাট ধরে উঠে আশে পাশে তাকিয়ে দেখে ঝিনুক নেই গেটও খোলা।হয়তো আম্মুর সাথেই আছে,উঠে মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখে ৮টার উপরে,ও মাই গড!! এতো লেট!! মোবাইল রেখে চলে আসতে নিলে একটা চিরকুট রাখা মোবাইলের নিচে,,কাগজটা হাতে নিয়ে খুলে দেখে,
!
**আপনার সাথে যে আমার বিয়ে হয়েছে এটা মোটেও বাহিরের কেউ যেনো না জানে আই মিন ভার্সিটিতে, মনে থাকে যেনো**
!
ইসস আমার ঠেকা পড়ছে আমি সেধে সেধে বলতে যাবো।তোমার দরকার হলে তুমি বলেই কুল কিনারা পাবে না,হু
বলে ফ্রেস হয়ে রেডি হয়ে বের হলাম বাট ঝিনুককে দেখতে পেলাম না। মাকে ডাক দিলাম,,
জিহাদ:: মাআআআআআ,ঝিনুক কোথায়?
!
মা::ও তো আরো ১ঘন্টা আগো বাসা থেকে বের হয়েছে, কেনো তুই নাকি বলছিস যেতে তুই পরে যাবি!!
জিহাদ::(ও এই জন্যই চিঠি রেখে গেছে) আমি!কখন কি বললাম!! কিছুই তো বলিনি।
!
মা:: তোর নেকামি বন্ধ কর! আজকে ও একা গেছে কিছু বললাম না আগামীকাল যেনো ও একা না যায় তাহলে তুই বাসায় থাকতে পারবি না!!
!
জিহাদ::আমি এখন পর হয়ে গেলাম,, ধ্যাত আমি তো কিছুই জানি না,আজকে ওরে আমি!!বলেই চলে গেলাম, ফাযিলটা আমাকে তো বলেই নি উল্টো আমাকে ফাসিয়ে গেছে।
!
___এদিকে আমি ভার্সিটির ক্যাম্পাসে বসে আছি কয়েকজন মিলে,
!
মু্ক্তা:: কিরে এতো দিন কোথায় হারিয়ে গেছিলি, কল দিলেও যায় না তোরও খোজ নাই! আমি গ্রামে গেছি তাই তোদের বাসায় যেতে পারি নি নয়তো বাসায় যেতাম।
!
আমি:: আমার খোজ নিয়ে কি করবি আমি এতোদিন পিপড়ার গুহায় ছিলাম তাই পাস নি।
!
মুক্তা:: পিপড়ার গুহা!!!!
!
আমি:: ভুল বলেছি নাকি!!আচ্ছা দেখতো এই ড্রেসে আমায় কেমন লাগছে??
!
পিছন থেকে কে যেনো বলে উঠে বিউটি কুইন তোমায় পুরোই হট, সুইট,কুইট,লাগছে,
!
এবার ঘুরে তাকিয়ে দেখি পিয়াস,দেখা মাত্রই মেজাজ পুরোই গরম হয়ে গেছে!! এসব বলার সাহস কে দিছে ওকে!! ভ্রু কুচকে বললাম কি বললি তুই আমাকে!! আমি সামনের দিকে যাচ্ছি আর পিয়াস পিছাচ্ছে! আমাকে হট লাগছে তাই না!!
!
পিয়াস:: আমি আসলে ফান করেছি ঝিনুক,,(তোতলিয়ে)
!
আমি:: আজ বুঝবি ফান কি!! আমার সাথে ফান করা তাই না!
এবার দেখি মাথায় হাত দিয়ে রাখছে!!মাথা হাত দিছোস কেন,হাত সড়া নয়তো চুল টেনে ছিড়ে ফেলবো হাত সড়া,,
!
পিয়াস:: এই এই এবারের মতো মাফ করো, সরি সরি!! আর বলবো না!! তবুও চুল ধরো না, সেদিনের ঝাকানির ঘাড় ব্যাথা এখনো আছে,,
!
আমি:: আজ তো তোর কোনো মাফ নেই!!বলে ওর স্টাইল করা চুল ধরে আবারও ঝাকাচ্ছি তো ঝাকাচ্ছি,
!
পিয়াস:: আরে বাবা ছাড়ো, কি এমন বলছি এমন ঝাকাচ্ছো আমায়!!
!
আমি:: আবার কথা বলছিস, ওই মুক্তা ব্যাগ থেকে কেচি টা বের কর তো ওরে বক কাটিং করে দিই!!
!
পিয়াস: এই এই এটা মোটেও ভালো হবে না,
!
আমি:: তো আমার উপর কথা বললি কেন তুই! আর বলবি?
!
মুক্তা:: কি শুরু করলি তুই,ছাড় ছাড়।
!
আমি::তুই কোনো কথা বলবি না,আমার সাথে এতো ঘেসাঘেসি করতে আসে কেন!! তোরে কেচি বের করতে বলছি নাহ!! বেশি দরদ দেখালে তোর চুল কেটে দিবো!
!
___
এদিকে জিহাদ ক্যাম্পাসের সামনে দিয়ে যাচ্ছে হঠাৎ চিল্লা চিল্লির আওয়াজ শুনে তাকিয়ে দেখে ঝিনুক, সিনিয়র এক ছেলের চুল ধরে ঝাকড়াচ্ছে,এই মেয়েটা ফাযিল না ফাযিলের হাড্ডি একটা!! যেখানে যায় সেখানে অগ্নিকান্ড ঘটায়!! কেমন ভাবে ঝাকড়াচ্ছে!! দেখছো কান্ড কাহিনী!! ওদের ওখানে গেলাম,
কি হচ্ছে এখানে,, হচ্ছে টা কি!! আর এই মেয়ে তোমার কলিজায় এতো সাহস! একটা মেয়ে হয়ে আরেকটা ছেলের চুল ধরে টানছো!মেয়ে হলেও চলতো।ছাড়ো ছাড়ো,বলে হাত টান দিয়ে সরালাম,
!
আমি: আজ বেচে গেলি নয়তো তর মন্ডুটা নিয়ে বাসায় যেতি,আর আপনার সমস্যা কি?বলুন তো আমি যা খুশি তাই করবো আপনার কি!
!
জিহাদ: এটা তোমার বাসা পাও নি যা খুশি তাই করবে!! এটা প্রতিষ্ঠান,আর আমি একজন টিচার তোমরা যা খুশি তাই করবে আর আমি দেখবো চেয়ে চেয়ে,
!
আমি:: আইসে ডায়ালগ মারতে, এই মুক্তা চল তো!(বলে চলে আসলাম)
!
পিয়াস: আহ স্যার আমার মাথা ঝিম ধরে গেছে,এটা মেয়ে না জল্লাত!
!
জিহাদ:আর তুমি কি পেয়েছো!! এই মেয়ের পিছ লেগেছো,এর আগেও তোমায় ইনফরম করেছি গায়ে লাগাও নি,,এর পর যেনো এমন না দেখি,তাহলে আমার থেকে খারাপ কেও হবে না!
!
পিয়াস:: (আপনি বললে কি হবে, যাকে ভালোবাসা যায় তার সব কিছুই মেনে যায়,বড্ড বেশি ভালোবাসি মাই ঝিনুক সুইটহার্ট, তুমি যত কিছুই বলো তোমাকে তো আমি ছাড়ছি না,,মনে মনে বলছি)
!
___এদিকে স্যার আসার কোনো নাম নাই ক্লাসে বোরিং লাগছে কি করি,নাহ এভাবে থাকা যায় না,বেঞ্চ থেকে উঠে সোজা সামনে এসে দাড়ালাম মানে বোর্ডের সামনে দাড়ালাম,
হেলো গাইস,এটেনশন প্লিজ,,,।।
!
এবার সবাই আমার দিকে সবার দৃষ্টি কি বলবো!!
বললাম, ক্লাসের কারা আছো একই ক্লাসে যাদের রিলেশন চলছে লাভ বার্ড গুলো কই একটু হাত তুলো তো! তোমাদের নিয়ে বিশেষ কুইজ আছে! আজ স্যার আসবে না ক্লাসে, তাই ভাবলাম এভাবে সবাই বসে থাকলে বোরিং লাগবে তার থেকে মজা-মাস্তি করি সময় পাস হবে! কি বলো তোমরা??আর তোমরাও ভাল সময় কাটাতে পারবে,,
!
সবাই একসাথে বলে উঠলো,,ওয়াও রিয়েলি!! উই আর এগ্রি,,সবাই চিল্লিয়ে বললো।
!
আমি:: ওকে ডান,তাহলে যারা লাভ কাপল আছো তারা আলাদা হয়ে যাও,
(বলার সাথে সাথে ক্লাসের অর্ধেকের মতো আলাদা হয়ে গেছে)
!
এবার সবাই বলছে কি করবো এখন,
!
আমি বললাম,(মনে মনে ওরে বাবারে এতো গুলো ভিতরে ভিতরে লাইন মারে আর দেখতে পুরাই ভেজা বেড়াল লাগে)তোমরা কাপল গুলো এক সাইডে বসো আর বাকি রা এক ওাশে বসো।যারা সিঙ্গেল আছো তারা গান গাবে আর তোমরা কাপল যারা আছো তারা লটারিতে ডান্সে এটেইন করতে হবে!! এবার বলো আমার ডিসিশন কেমন হলো!!
!
সবাই চিল্লিয়ে বললো,,ওয়াও ঝিনুকে, জাস্ট ওয়াও!! আসলে তোর বুদ্ধির তারিফ করতে হয়, ডিসিশন জাস্ট ওয়াও হয়েছে ডিয়ার!
!
আমি,,আরে বাবা আস্তে আস্তে চিল্লাইস না তোরা!! তো শুরু হয়ে যাক নাকি,,
!
_____
এদিকে জিহাদ মিটিং শেষ করে উপরে আসতেই আওয়াজ শুনতে পায় যত ক্লাসের সামনে এগোয় ততই আওয়াজ বাড়তে থাকে, ক্লাসে ডুকেই দেখে একজন ছেলে আরেকজন মেয়ে ডান্স করছে, কয়েকজন গান গাইছে আর ছেলে মেয়ে একসাথে বসে আছে,আর মনে হচ্ছে ঝিনুকই মেইনটেইন করছে এসব,,,মাথাটা গরম হয়ে গেছে, পিরিতের আলাপ চলছে ক্লাসে, পড়া তো পারেই না গর্দভ গুলো!আমি নাই কোথায় গ্রুপ স্টাডি করবে তা না!! ডান্স চলছে,,,আজকে এদের সবগুলোর পানিসমেনট হবে আর ঝিনুকের হবে ডাবল,,

 

পুরো ক্লাস প্রিন্সিপ্যাল স্যারে রুমে দাড়িয়ে আছে আর আমাকে সবার সামনে দাড় করানো হয়েছে,,
!
প্রিন্সপাল:: সব শুনলাম,, এখন জিহাদ তুমি বলো কি করতে হবে?
!
জিহাদ:: আমার মতে ক্লাসরুমে ছেলে মেয়ে আলাদা করে দিন না হয় সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দিন।
!
প্রিন্সিপাল:: দেখো জিহাদ আমিও আগে চেয়েছিলাম আলাদা করবো বাট এতো গুলো ডিপার্টমেন্ট তার মাঝে জায়গা কম,তার থেকে বরং সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দেই।
!
আমি: স্যার আমার কিছু বলার আছে??
!
জিহাদ: ভ্রু কিছুটা কুচকে, তোমারও বলার আছে??
!
আমি:: শুনুন থাক কিছু বললাম না।স্যার কথা হলো, আমাদের মেইন সমস্যা হলো এই যে ইনি(জিহাদকে দেখিয়ে),,তাকে এক্সচেন্জ করে নতুন টিচার রাখুন সমস্যা সমাধান সিসি ক্যামেরা লাগবে না।
!
প্রিন্সাপাল: কেনো কেনো?? ও কোনো অপরাধ করেছে?? ঝিনুক!!
!
আমি:: আসলে স্যার বলতে নিবো (দেখি জিহাদ এমন ভাবে তাকিয়ে আছো মনে হয় চোখ দিয়ে গিলে খাবে,আর বললাম না) উনি বোধহয় আমাদের নিয়ে অতিষ্ঠ,তাছাড়া শকুনের মতো চোখ আর পেচার মতো দৃষ্টি শক্তি থাকলে সিসি ক্যামেরা লাগে না স্যার।
!
প্রিন্সিপাল:: আচ্ছা আমি দেখছি তোমরা নেক্সট টাইম আর এমন করবে না,আর ক্লাসে কারা একসাথে ছিলে তারা বসো গার্জিয়ান ডাকা হবে!!
আশেপাশে তাকিয়ে দেখি সবাই অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে,আসলে আমারই দোষ, ওদের তো বাচাতে হবে যেমনে হোক!!
!
আমি:: আসলে স্যার আমরা তো কাপল ডান্স করছিলাম মানে কুইজ ছিলো, এখন ক্লাসে ছেলে মেয়ে উভয়ই আছে,সরকার তো সবাইকে সমান অধিকার দিছে তাই না স্যার,তাহলে আমি কিভাবে তাদের অধিকারটা কেড়ে নেই? তাছাড়া ওদের রেখে আমরা একা একা কিভাবে কুইজ খেলি?? তাই ওদের ও নিছি আর একা একা তো ডান্স করা যায় না, তাছাড়া কুইজই কাপল ডান্স তাই আমিই বলেছি তোরা নিজেরা কঢা বার্তা বলে নে কে কার সাথে কিভাবে কি করবে!! তাহলে এখানে অপরাধ কোথায় আমাদের স্যার?
!
প্রিন্সপাল:: আসলেই তো কথা রাইট,বাট সত্য বলছো তো!! বাকিরা এটা কি ঠিক!!
!
সবাই একসাথে:: হ্যা স্যার রাইট,,আমরা তো শুধু কুইজের জন্য একসাথে হয়েছিলা।
!
প্রিন্সিপাল:: জিহাদ কেন তুমি এদের উপর এক্সট্রা চাপ দাও, ওরা কুইজ করছিলো তো পার্টনার লাগবে, হুট হাট করে তো কাউকে বেছে নেওয়া যায় না ,,হয়তো তোমার কোথাও ভুল আছে,
!
জিহাদ:: স্যার ভুল কোথাও না,আমি রাইট!! সব এই ঝিনুকে চাল।
!
আমি:: জিহাদ আমার দিকে তাকাতেই চোখ টিপ মারলাম, দেখে মনে হলো তেলে বেগুনে জ্বলে উঠছে।
!
প্রিন্সিপাল: আচ্ছা তোমার এখন যেতে পারো, আমি বিষয়টা দেখাছি।
(একে একে সবাই বের হয়ে গেলো শেষে আমি আর জিহাদ বের হলাম)
!
জিহাদ;: আমাকে এক্সচেন্জ করার প্লান তাই না আজ বাসায় যাও তুমি,,
আমি::(ভেঙ্চি দিয়ে বললাম) কানের সামনে মশার মতো ফুসুর ফুসুর কইরেন নাতো,
!
জিহাদ:: তেমাকে আমি দেখে নিবো,অনেক বেরে গেছো!
!
(বলেই হনহন করে চলে গেলো)
!
মুক্তা:: দিন দিন দেখি বুদ্ধি বাড়তেছে তোর,কেমনে লি করলি!!
!
আমি:: #বজ্জাত টা কি ভাবে নিজেকে!! ও যা খুশি তাই করবে আর আমি মেনে নিবো,আমিও কম জানি না।
!
মুক্তা:: তুই পারিসও বটে,
!
আমি:: চল না,অনেকদিন ধরে ফুসকা খাওয়া হয় না,আজ খেয়ে আসি
!
মুক্তা: চল তাহলে, খেতে তো ইচ্ছা করেই তুই বের হস না!
!
আমি: এখন তো বললাম দাড়িয়ে আছিস কেন।
!
(আমরা সবাই ফুসকা খেতে চলে গেলাম)
!
মুক্তা: আজকের ফুসকাটা কিন্তু সেই হয়েছে,,
!
আমি:: ইয়াম্মি ইয়ার,যদি তোর ফুসকার থেকে এখন তেলাপোকা বের হয় কেমন হবে,
!
মুক্তা:: কি কি,, তেলাপোকা!! কই কই
!
আমি:: হাহাহা মজা করলাম,খা
!
দিয়া:: আচ্ছা ঝিনুক তোর সাথে স্যারে এতো কিসের দ্বন্ধরে,,
!
আমি:: এটা তোর গোবর মাথা বুঝবি না,,
!
দিয়া: হ্যা হ্যা তুই তো বিজ্ঞানী আইনস্টাইন হয়ে গেছিস!!
!
আমি::দূর যে মরে গেছে ওকে টানিস কেন,উনার সাথে আমার পূর্বের জন্মে শত্রুতা ছিলো এই জন্মেও আমাকে ভুলতে পারে নি!!
!
_____এদিকে জিহাদ রাগে ফেটে যাচ্ছে, ভার্সিটি ৪টয়া ছুটি দিছে আর আসার কোনো খোজই নাই,এখন ৭ টা বাজবে,ফোনটাও ওফ করে রাখসে,,
!
জিহাদ:: মা তোমার জন্য ও অনেক বেড়ে গেছে!! তুমি দিন দিন ওর সাহস বাড়িয়ে দিচ্ছো,
!
মা:: এতো টেনশন করিস কেন,হয়তো ফ্রেন্ডের সাথে কোথাও গেছে বুঝিয়ে বললেই হয়,
!
জিহাদ;: আজ বুঝিয়ে বলবো নে,, আসুক শুধু!
!
মা:: তুই তো এককালে ভার্সিটি গেলে আর আসতে মন চাইতো না বাসায়! মেয়েটা একটু না হয় গেছোে এভাবে রিয়েক্ট কেন করছিস!
!
জিহাদ:: আমার সাথে ওর অনেক তপাত!আমি ছেলে মানুষ সারারাত বাহিরে থাকলেও বলার কেউ নাই ও মেয়ে মানুষ হয়ে কেন বাহিরে থাকবে??আবার মোবাইলও ওফ করে রাখছে,
!
মা:: চিন্তা করিস না, চলে আসবে।
!
____
আমি:: মুক্তা কয়টা বাজে?
!
মুক্তা: ৭টা বাজে,কেনো?
!
আমি: কি বললি ৭ টা বাজে!!!! ভালে করে দেখ
!
মুক্তা: আরে ঠিকই বলছি, তুই না হয় ঘড়ি দেখ।
!
আমি::ওরে আল্লাহ আমি গেলাম তোরা থাক, আমাকে আগে বলবি না,, বায়,
!
(একটা রিক্সা নিয়ে তাড়াতাড়ি চলে আসলাম,বাসায় ডুকে দেখি গেটখোলা।ব্যাপার কি?? সবসময় তো লক থাকে,পা টিপে টিপে যাচ্ছি হঠাৎ কান ধরে কে যেনো টান ধরে আছে,পিছনে তাকিয়ে দেখি মা কান ধরে আছে)
আমি; কান ব্যাথা করছে ছাড়ো,
!
মা:: মেডাম আপনি না বলে কোথায় গিয়েছিলেন,,আবার ফোনও ওফ রাখছেন।
!
আমি: আজকে ফুসকা পার্টি ছিলো, পরে সব বলবো।উনি কোথায়?
!
মা: দেখ ঘরে বসে আছে,যা অনেক রেগে আছে,
!
আমি:আচ্ছা,,
(রুমে ডুকে তো চোখ কপালে উঠে গেছে হায় হায় সব কাপড় আলমিরা থেকে বের করে মাটিতে ফেলে রাখছে, বিছানার চাদর, বালিশের কভার সব নিচপ ফেলে রাখছে মনে হয় ময়লার স্তুপ)
!
জিহাদ:: কোথায় গিয়েছিলে?
!
আমি: কেন সব কথা আপনাকে বলতে হবে নাকি এই টেনডার নিয়ে বসছেন?
!
জিহাদ: শাট আপ!! আবার মুখে মুখে তর্ক করো!প্রশ্ন করেছি এনসার দাও
!
আমি: ফুসকা খেতে গেছিলাম,
!
জিহাদ:: ওহ আচ্ছা, তাহলে তো ফুসকা হজম হতে হবে না,এই যে কাপড় গুলো দেখছো সব ধুবে তুমি।
!
আমি:: আমি!!! এতো কাপড় অসম্ভব, আমার দ্বারা হবে না।আমি পারবো না।
!
জিহাদ:: এই স্কেল টা দেখছো পিটিয়ে লম্বা করে ফেলবো!! সময় ২০ মিনিট সব কাপড় পরিস্কার করবে,,
!
আমি:: যত্তসব, করতেছি!! (শয়তান, বাদর উল্লুক তোর কাপড় পরিষ্কার করছি)
!
বলে সব কাপড় তুলে বাহিরে বের হলাম,, দেখি মা কোথায় যেনো যাচ্ছে।
!
মা:: কিরে এতো কাপড় নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস,
!
আমি:: দেখি কি করা যায়!! তুমি কোথায় যাচ্ছো
!
মা:: একটু পাশের ফ্লাটে ঘুরে আসি!! তুই থাক।আর খেয়ে নে, আমি আসছি!
!
আমি:: ওকে
!
(মা চলে গেলো,,আমি গিয়ে ওয়াশিং মেশিনে যত কাপড় আছে সব ডুকিয়ে দিলাম, আর যত সুইচ আছে সব একসাথে টিপলাম,সব কাপড় ধূয়ে বের হবে,আমাকে খাটাবি তা তো হবে না খবিশ কোথাকার,সব কাপড় ভিতরে দিয়ে চলে আসলাম)
!
[[ এর মাঝে দেখি বাসা থেকে কল দিছে, কল টা নিয়ে ছাদে চলে গেলাম]] !
___এদিকে জিহাদ কি ব্যাপার এতো পুড়া পুড়া গন্ধ আসছে কোথা থেকে, হয়তো বা কারো কিছু পুরছে,,কিন্তু না গন্ধ এবার ভারছে সাথে ধোয়া দিয়ে বাড়ি ঘর আন্ধার হয়ে গেছে,,,জিহাদ তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বের হয় এতো ধূয়া কিসের আর ঝিনুক কোথায়?? ওর তো কোনো আওয়াজও পাচ্ছে না,ধূয়ার দিকে যেতে যেতে দেখে ওয়াশিং মেশিন থেকে ধোয়া বের হচ্ছে,,কাপড় অনেক গুলোই পুরে গেছে।।তাড়াতাড়ি সুইচ ওফ করে ঝিনুককে খুজতে থাকে, আজ ওকে কষে কয়েকটা না মারলে হবে না,, সিড়ি দিয়ে ছাদে উঠে দেখে কার সাথে যেনো কথা বলছে,আর হাসছে আনমনে,,
!

 

জিহাদ:আচ্ছা বলো তো তোমার মাথায় কি গিলু আছে?? হ্যা এটা কেমন বোকামি, একটু বুদ্ধি টুকুও নেই, খালি শয়তানি বুদ্ধি মাথায়, ওর চেয়াহার দিকে তাকিয়ে আর কিছু বলতে পারিনি
!
!
আমি:হু, আমি কি করেছি?? আর সরি সকালের জন্য,আর এমন ভুল হবে না।
!
!
জিহাদ:: সব কিছু কি সরি বললে হয়,,যেকোনো কিছুই ভেবে চিন্তে কটতে হয়!! তুমি যেসব কাজ করো কেউ সহ্য করতে পারবে না।তাকিয়ে দেখি মনে হয় এবার কান্না করেই দিবো চোখের পানি টল মল করছে,
!
!
আমি:: বললাম তো আর এমন হবে না, সবাই শুধু আমাকে বকে,কেউ ভালোবাসে না আমায়,,
!
!
জিহাদ:: এই যে পাগলি কান্না করছো কেনো!! আমার দিকে তাকাও,তাকাও! আসলে সেদিনের জন্য সরি, রাগ কন্ট্রোল করতে পারিনি তাই এমন ব্যবহার করেছি,আমায় মাফ করে দাও
!
!
আমি:: তাকিয়ে দেখি কান ধরে আছে দেখেই ফিক করে হেসে দিলাম।আপনাকে ভালোই লাগছে কান ধরে আছেন,এভাবেই থাকেন!
!
!
জিহাদ:: (ওর চোখ মুছে দিয়ে, কান ধরলাম)ঠিক আছে এভাবেই থাকবো।হু
!
আমি:: হিহিহি থাক আর ডং করতে হবে না কান ছাড়েন,,
!
!
জিহাদ: কান ছাড়লে কিন্তু কোলে নিবো,,
!
আমি:: কেনো!! ইসস
!
জিহাদ:: হুম হুম সব কিছুর কারন থাকে না, কিছু কিছু ক্ষেত্রে অকারনও থাকে,,
!
!
আমি:: বাহ !! কবি হয়ে গেছেন।
!
জিহাদ:: কিছুটা ওর কাছে গিয়ে সব কথা মুখে বলতে হয় না কিছু কথা বুঝে নিতে হয়,,(বলে ওকে পাজকোলে নিলাম)
!
!
আমি:: এটা কিন্তু ঠিক হবে না, শয়তান, ফাযিল,বজ্জাত, কোনোদিনও ভালো হবে না।
!
জিহাদ:: ওকে নামিয়ে দিলাম,ঠিক আছে আমি যেহেতু খারাপ।আপনার সাথে কি আর আমাকে মানায়??বলেই চলে আসতে নিলাম,তখনই দেখি পিছন থেকে আমার জামা টেনে ধরে,
!
!
আমি:: আরিহ রাগ করেন কেনো আমি সত্যি সত্যি বলি নাই তো!জানি খুব অভিমান করছে,
!
!
জিহাদ:: তো কি মিথ্যা মিথ্যা বলছো!!
!
আমি:: তার সামনে গিয়ে কলারটা চেপে ধরে আমার ঠোট তার ঠোটের সাথে মিলিয়ে দিলাম,,
(কিছুক্ষন পর ছেড়ে দিয়ে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছি,আর উনি আমার দিকে তাকিয়ে আছে)
!
!
জিহাদ: এটা কি আমার ঝিনুক করলো!! বিলিবই তো করতে পারছি না
!
আমি:: উফফফ এভাবে বলতে হয়, আমার লজ্জা লাগে না বুঝি!!
!
জিহাদ:: ঠিক আছে, আজকে না হয় লজ্জা ভেঙ্গে দিবো, বলে কোলে নিয়ে চলে আসলাম নিজের রুমে,ঝিনুক একেবারে চুপ করে আছে।কিছুই বলছে না।ওকে কোল থেকে নামিয়ে বিছানায় শুয়িয়ে দিলাম।বিছানায় রেখে উঠতে নিলে তখনই ঝিনুক হাত ধরে,,
!
!
আমি:: কোথায় যাচ্ছেন?
!
জিহাদ: তুমি ঘুমাও,
!
আমি:: ঘুমানোর জন্য এখানে আনছেন??আপনি কি আমার চোখের ভাষা বুঝেন না?? তাহলে কেনো রেখে যাচ্ছেন,বলে টান দিয়ে বিছানায় ফেলে দিলাম,,আর আমি তার উপড়ে শুয়ে আবার ঠোট মিলিয়ে দিলাম যেনো আর কথা বলতে না পারে,,এবার দিয়ে তাকিয়ে আছি তার দিকে,,
!
!
জিহাদ::সব কি তুমিই করবে, বলে ঝিনুককে বিছানায় ফেলে ওর গাল, ঠোট, গলায় এলো পাথারি চুমো দিতে থাকলাম,পুরোটাই ওর মাঝে ডুবে গেলাম।।আজ আমাদের ভালোবাসার পূর্নতা পেয়েছে।
!
______________________________
!
৪ ইয়ারস পর,,,
!
জারা; বাবাই বাবাই,,
!
জিহাদ: কি আমার জারা মামুনি!!
!
জারা: মাম্মা পতা, তুদু খায় খায় বনে( শুধু খাবারের কথা বলে)
!
জিহাদ:: আচ্ছা তোমার মাম্মাকে না করে দিবো খাওয়ার কথা বলতে,কিন্তু এখন তো খেতে হবে,
!
আমি:: জারা,, জারা কোথায় গেলো এই পাজি মেয়েটা!! একটা কথাও শুনে না,হাটা শিখে আমায় পাগল বানিয়ে ছাড়ছে,,রুমে গিয়ে দেখি জিহাদের বুকে লুকিয়ে আছে,,
!
!
জিহাদ: বলোতো এভাবে কারো পিছন লাগে!! মেয়েটা লুকানোরও জায়গা পায় না, একটু বুঝিয়ে খাওয়াবে শুধু দৌড়াদোড়ি,
!
আমি:: শুনুন একটা কথা বলবেন না! আপনার জন্যে মেয়েটা কোনো কথাই শুনে না,খেতে না চাইলে কি করবো?? না খাইয়ে রাখবো।( জারা আবার এক হাত একটু উচু করে তাকিয়ে দেখে আমি কি বলি)
!
!
জিহাদ: আরে চিল্লাইয়ো না, আমার সাথে শোও, রাগ কমে যাবে।
!
আমি:: আপনার উপর সব খাবার ফেলে দিবো এবার,
!
জিহাদ:: ইসস পাগলিটা রাগ করছো, বলে হাতটা ধরে টান দিলাম।
!
আমি:: কি হয়েছে, টান দিলেন কেনো!! আমার তো মন চায় আপনার উপর প্লেটটা ভাঙ্গি!
!
(হঠাৎ আননোন নাম্বার থেকে জিহাদের মোবাইলে কল আসে, আর জিহাদ আমার দিকে জ্ঞিগাসা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে)
!
আমি; কি হলো কল রিসিব করেন?
!
জিহাদ: চিনি না তো।
!
আমি:: দেন আমি কথা বলি দেখি কে!(ফোনটা নিয়ে কল রিসিব করলাম)
!
((বাট ও পাশ থেকে কথা বলে না,আজবতো))
!
আননোন;; ঝিনুক কেমন আছো,
!
আমি:: হ্যা ভালো আছি, বাট আপনাকে তো চিনলাম না!
!
আননোন:’ আমি তুসা,,চিনছো!এবার,
!
আমি:: হ্যা হ্যা, বাট এতো দিন পর,তোমায় কত কল দিছি বাট নাম্বার ওফ।আমাদের তো ভুলেই গেছো।তোমাদের কোনো খোজই নেই,,
!
তুসা:: আগে বলো আমায় মাফ করে দিছো।।
!
আমি:: মাফ করার কি আছে, মাফ অনেক আগেই করেছি।।তুমি কেমন আছো!
!
তুসা: ভালো আছি,ভাইয়া কেমন আছে,
!
আমি::আমার সাথেই আছে কথা বলবে,
!
তুসা:দাও,
!
জিহাদ: কে কল দিছে সেটা গো বলো,
!
আমি:: আগে কথা বলেন,পরে বুঝবেন।
!
(পরে জিহাদ, আমি, জারা সবাই কঢা বললাম,জারার আদো আদো কথা শুনে তুসা অনেক হাসে সাথে তার হাসবেন্ডও, তুসা ওখানে যাওয়ার পর বিয়ে হয়ে যায়, বাংলাদেশি ছেলে বাট স্থানীয় ওখানে,এবার সুখে আছে,সুখে থাকলেই ভালো)
!
জারা: মাম্মা তলি(সরি)
!
[[ ওর কথা শুনে দুজনই হোহোহো করে হেসে দিলাম।এভাবেই চলুক তাদের তাদের সংসার।রাগ, ভালোবাসা,অভিমান, ঝগরা না থাকলে কি আর সংসারকে সংসার মনে হয়!!! মনে হয় বন্ধি কারাগার।আর হা অবশেষে জিহাদের বাবা মেনে নেয় ওদের, পিয়াস জানতে পারে যে ঝিনুক মেরিড,,যেদিন জানতে পারে তার কিছুদিন পরই বিদেশ চলে যায়]] !

 

(সমাপ্ত)

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*