পিচ্চি স্বামী Vs বাচ্চা বউ [পর্ব-১০]

Writter: Md. Asfaqul Azom Foysal

সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে রুমে থাকা বিছানায় ফেলে দাই।
তার মুখ থেকে হিজাব সরিয়ে নাই।
আমি তো তাকে দেখে কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।এই মেয়ে আর কেউ না মমী।
কিন্তু সে আমাকে এখানে আনলো কেন,সে কি জেনে গেছে আমিই তাকে কালকে বোকা বানিয়ে কিস করে ছিলাম।
তার মতি-গতিও ভালো ঠেকছে না।

— কি ভেবেছিলি আমি কিছুই বুঝতে পারবো না। ( আমার কাছে আসতে আসতে)

— আ,আ,আপপনি আআআমার দিকে আসছেন কেন ( গলা শুকিয়ে আসছে,না জানি মেয়েটা কি করে)

–কেন চান্দু এখন বুঝি ভয় করছে,
যখন আমাকে সবার সামনে ভার্সিটিতে লিপ কিস করেছিলে তখন এতো সাহস আয়ছিলি কিভাবে?? ( আমার একে বারে কাছে)

— সরি আমার ভুল হয়ে গেছে।
আমি এখন বাসায় যাবো দরজার চাবি টা দেন
( বিছানা থেকে উঠে)

–সরি বললেই কি আমি তোকে ছেরে দিবো!( আমার টিশার্টেরর কলার ধরে)

–দেখুন আমি কিন্তু আপনাদের ভার্সিটির প্রিন্সিপাল হয়, সো সম্মান দিয়ে কথা বলবেন ( কোথায় আইসা ফাসলাম)

— তোর সম্মানের বালিশে আগুন।কিস করার সময় মনে ছিল না আমি তোর ছাত্রী।(ফের আমাকে বিছানায় ফেলে দিল,
এবার সে আমার ওপরে আমি তার নিচে)

— সরি বললাম তো।(আমি)

— সরি বললেই হলো।তুই আমার ভার্জিনিটি নষ্ট করেছিস এখন তুই আমাকে বিয়ে করবি।( তার নিশ্বাস আমার মুখে এসে পরছে)

— কিহ!একটা কিস করলে কারো ভার্জিনিটি নষ্ট হয় ( মেয়ে বলে কি)

–হুমমমম হয়।এখন আমাকে কেউ বিয়ে করবে না,তুই যেহুতু আমার সর্বনাশ করেছিস সো বিয়েটা তুই ই করবি।( আমার নাকে নাক ঠেকিয়ে)

–বিয়ে কি মামা বাড়ির আবদার? চায়লেই পাওয়া যায়।( খুব অস্তির লাগছে)

— আমার কথায় যদি রাজি না হোস তাহলে এখন আমি কি করবো জানিস ( একটা হাসি দিয়ে)

— ককককি করবেন(এখন সত্যি খুব ভয় করছে)

— তোকে ধর্ষন করবো (আমার গাল টেনে)

মেয়ে বলে কি।মাথা কি খারাপ হয়ে গেছে,আমাকে নাকি ধর্ষন করবে।
কি দিন আইলো একটা মেয়ে আমাকে বলছে আমাকে নাকি ধর্ষন করবে।
কি করবো এখন আমি, এই মেয়ের মোটেও বিশ্বাস নাই তার রূপেরমোহে ফেলে যা খুশি তাই করতে পারে।

— আমি কিন্তু চিৎকার দিবো বলে দিলাম ( আমি)

— হাহাহা কি বলবি চিৎকার দিয়ে??(মমী)

সেটায় তোঁ কি বলে চিৎকার দিবো।আমি তো পুরুষ মানুষ, আর আমাকে নাকি একটা মেয়ের অত্যাচারের জন্য চিৎকার করতে হবে,ছিঃছিঃ সবাই তো আমার পুরুষত্ব নিয়ে আঙ্গুল তুলবে।

— প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন ( করুন সুরে)

— ছেড়ে দিবো আগে বিয়ে করতে হবে।(মমী)

— পারবো না বিয়ে করতে।
চাবি দেন আমি বাহিরে যাবো।

–ঠিকাছে বিয়ে করতে হবে না।
আমি এখন তোকে ধর্ষন করবো, তারপর তোর সন্তানের মা হবো, অ্যান্ড লাস্টে তোর সব কুকর্মের কথা মিডিয়ার সামনে বলবো।( আমার বুকের ওপর তার থুথনি রেখে)

কি সাংঘাতিক মেয়ে। এর বুদ্ধিও দিশার মতো,এতো বড় হয়ে গেলাম তবুও জানতে পারলাম না মেয়েদের মাথায় এতো বুদ্ধি আসে কোথা থেকে।

মেয়েটা কিন্তু আসতে আসতে তার মায়ার জালে আটকে ফেলছে।
মন মাতাল করা এক ঘ্রান পাচ্ছি তার শরীর থেকে।

— দেখেন আমি আপনাকে কিছু বলছিনা বলে ভাববেন না আমি আপনার সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করবো।
ছাড়ুন আমাকে ( একটু ঝাড়ি দিয়ে)

— তোর তো সাহস কম নাহ!আমার রুমে থেকে আমাকেই ঝাড়ি দিস, দাড়া তোকে মজা দেখাচ্ছি।

আমাকে কোনো কিছু বুঝতে দেওয়ার আগেই তার মিষ্টি ঠোট আমার ঠোটে মিশিয়ে দাই।
আমি না চাইতেও তার ডাকে ধিরে ধিরে রেসপন্স করি।অনেক শক্ত করে তাকে আমার বাহুডোরে আবদ্ধ করে নিই।তার ঠোটের নেশায় আমি মাতাল হয়ে পরি।নিজের প্রতি কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে ডুব দিই অনুভূতির সাগরে।
তার বড় বড় নক দিয়ে আমার পিট খামছে ধরে কিন্তু সে দিকে আমার কোনো হুস নাই।
কোনো এক অদৃশ্যশক্তি আমাকে বস করে নেই।আমি পাগলের মতো মমীট শরীর নিয়ে রাশলিলায় মেতে উঠি।

নিজের হুসে আসতে দেখি সে আমার বুকে শুয়ে আছে।নিজের ওপর এখন খুব ঘৃনা হচ্ছে,এতোটা নিচ আমি,একটা মেয়ের শরীরের নেশায় অতীতের সব কিছু ভুলে গেলাম।
চোখ দিয়ে দু ফোটা পানি গাল বেয়ে বুকে এসে জমা হলো।

— কাঁদছো কেন ( মমী মাথা তুলে বললো)

আমি তার কথায় বাস্তবে ফিরলাম।এক ঝটকায় তাকে আমার বুক থেকে সরিয়ে বিছানার এক পাশে ফেলে দিলাম।
সে হয়তো এমন কিছু আশা করেনি।

— ডোরের চাবি দাও।( আমি)

–এখনি চলে যাবে (মমী)

— চাবি চাইছি………( জোর গলায়)

মমী তার রুমের দরজা খুলে দিলো।আমি সেখান থেকে বেরিয়ে বাইক নিয়ে সোজা বাড়ি চলে আসি।
কারো সাথে কোনো কথা না বলে আমার রুমে চলে এসে দরজা লাগিয়ে দিই।

দরজার সাথে হেলান দিয়ে বসে পরি।নিজের প্রতি খুব রাগ হচ্ছে,কিভাবে পারলাম আমি এটা করতে।
দিশার কাছে কি করে এই নোংরা শরীর নিয়ে যাবো।
বুক ফেটে কান্না আসছে।

আমি ওয়াশ রুমে এসে ঝড়নাটা ছেড়ে দিলাম।
ঝড়নার প্রতিটি ফোটা আমার অপবিত্র গায়ে আছড়ে আছড়ে পরছে।
হয়তো কিছুক্ষন আগের ঘটনা কেউ জানবে না।
কিন্তু আমি যে নিজের কাছে সারাজীবন অপরাধি হয়ে থাকবো।
ঝড়নার পানির সাথে আমার চোখের পানিও একসাথে বয়ে যাচ্ছে।

ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে বিছানায় চলে এলাম।
মাথ্যা আগে থেকেই ব্যাথ্যা করছিল এখন আরো বেড়ে গেছে।
রুমের লাইট অফ করে,বালিশে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে নিলাম।

ঘুম ভাংলো সকালে।মাথা এখনো ঝিম ঝিম করছে।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ৯ টা বাজতে চলেছে।
বিছানা থেকে উঠে ওয়াশ রুমে এসে হাত-মুখ ধুয়ে ভার্সিটির জন্য রেডি হয়ে নিচে চলে এলাম।
সবার সাথে সকালের নাস্তা করে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পরলাম।
আজ আর তেমন সাজগুজ করা হয়নি,খুব সাদাসিধে ভাবেই ড্রেসআপ করেছি।

ভার্সিটি এসে বাইক রেখে অফিস কক্ষের দিকে পা বাড়ালাম।তখনি কেউ আমার হাত পিছন থেকে ধরলো।

— তুমিইই ( পিছনে ঘুরে দেখি মমী)

— হুমমমম,তোমার সাথে কিছু কথা আছে।(মমী)

— কি কথা ( আমি)

— বলবো তবেঁ এখানে নাহ।অন্য কোথাও!(মমী)

— হুমমম ঐ দিকটায় চলো(আমি)

আমি মমীকে নিয়ে ক্যাম্পাসের একটা ফাকা জায়গাই নিয়ে আসি।

— কি বলবে বলো (আমি)

— তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে??? ( মমী)

— নাহ

— তাহলে কালকে আমার সাথে যেসব হয়ছে সেসবের কি???( মমী)

— তুমি আমাকে বাধ্য করেছিলে।( আমি অন্য দিকে তাকিয়ে)

— তুমি আমাকে বিয়ে না করলে আমি সমাজে মুখ দেখাবো কি করে?? ( কেঁদে দিয়ে)

— সেটা তোমার আগে ভাবা উচিৎ ছিল (আমি)

— প্লিজ এমন কথা বলো না।আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।(ফুপিয়ে উঠে)

— কিহ! দুই দিন হলো দেখা হলো আর তুমি এই দুই দিনে আমাকে ভালোবেসে ফেলেছো।( আমি)

— কে বললো দুইদিন!আর ভালো না বাসলে কি আমার সবটা তোমার কাছে বিলিয়ে দিতাম ( আমাকে জরিয়ে ধরে)

— ছাড়ো আমায়।এটা তোমার রুম না ওকে,এটা ভার্সিটি এখানে আমার একটা সম্মান আছে।( নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে)

চলে এলাম সেখান থেকে। মেয়েটার কথা শুনে সত্যি নিজের ভেতর অনুতাপ হচ্ছে।সে তো ঠিকি বলেছে তাকে আমি বিয়ে না করলে সে সমাজে মুখ দেখাবে কি করে।
!!!!!!
!!!!
!!!
সময় তার মতো করে চলতে থাকলো। কেটে গেলো তিনটি মাস।
তিন মাসে মমী সব সময় আমার পিছু পিছু ঘুরেছে।
বারবার তার ভালোবাসার কথা বলেছে।অনেক ভেবেছি তার সাথে আমার যেটা হয়েছে সেটা বুঝে হোক আর না বুঝে হোক হয়েছে তো,ভূলটা যেখানে আমিই করেছি সেটা শুধরাতে আমাকেই হবে।
মেয়েটা তো আমার জন্য কম পাগলামি করেনি।
প্রথম দিকে তার পাগলামি গুলোতে বিরক্ত হলেও এখন বেশ ইনজয় করি তার পাগলামি।
বলতে গেলে সে আমার মনে জায়গা করে নিয়েছে।
অনেক কাঁদিয়েছি মেয়েটাকে আর না এবার বলে দিবো আমি তাকে ভালোবাসি, তাকে আমার বউ করতে চাই।
!!!!!!!!
!!!!!
সকাল থেকেই ২০ বার আয়নার সামনে গেছি, সবকিছুর মধ্যেও কিছু একটা কমতি লাগছে নিজের মধ্যে।আগে কখনো কোনো মেয়েকে নিজের মুখে ভালোবাসার কথা বলিনি তো।

১ ঘন্টা ধরে নিজেকে ফিটফাট করলাম।
কাল মমীর জন্য একটা পায়েল কিনেছিলাম।
সেটা পকেটে করে বেরিয়ে পরলাম।

ভার্সিটিতে এসে মমীকে খুজতে লাগলাম।ঐ তো সে বসে আছে।

— মমী একটু এদিকে আসো তো ( আমি)

— বাহ আজ সূর্য কোন দিকে উঠেছে।( মমী)

— রোজ যেই দিকে ওঠে আজও ঐ দিকে উঠেছে।( আমি)

— হুমমম তা ডাকছো কেন।

— চলো একটু বাহির থেকে ঘুরে আসি(তার দিকে তাকিয়ে)

–কোথায় যাবে।( মমী)

আমি মমীর হাত ধরে বাইকের কাছে আনলাম।

— বাইকে উঠে বসো(আমি)

মমী বাইকে উঠে বসলো।
আমি তাকে একটা লেকের পাড়ে নিয়ে এলাম।এখানে আমি প্রায় সময় আসি। এখান কার পরিবেশ আমার খুব ভালো লাগে।

একটা বেঞ্চে আমি আর মমী বসে আছি।
কি থেকে বলা শুরু করবো বুঝতে পারছি না
আমি বেঞ্চ থেকে নেমে ঘাসে বসে পরলাম।
মমীর ডান পা নিয়ে আমার হাটুর ওপরে রেখে পায়েলটা পরিয়ে দিলাম।

— চলো বিয়ে করি ( সোজা ভাবে বললাম)

— তোমার মাথা ঠিক আছে তো ( অবাক হয়ে মমী বললো)

–হুমমম সব ঠিক আছে (আমি)

— তুমি সত্যি আমাকে বিয়ে করবে ( মমী আমাকে জরিয়ে)

–হুমমম পাগলি সত্যি বিয়ে করবো।( তার কপালে একটা ভালোবাসার পশর একে দিয়ে)

— আচ্ছা তাহলে ৩ তিন পর আমরা বিয়ে করবো ( মমী)

— হুমমম ঠিকাছে।( আমি)
!!!!!!!
!!!!!
!!!
!!
!
কাজী অফিসের সামনে ৩ ঘন্টা ধরে দাড়িয়ে আছি, মমীর আসার কোনো নাম নেই।ফোন দিচ্ছি ফোনও বন্ধ। মেয়েটার কি কোমনসেন্স বলে কিচ্ছু নাই। আচ্ছা তার কোনো বিপদআপদ হলো না তো।

আমি বাইকটা নিয়ে তার হোসটেলে চলে এলাম।
তার রুমে তো বাহির থেকে তালা দেওয়া।
তার বান্ধুবিরা বলছে সে নাকি অনেক সকালেই বেরিয়ে গেছে।।।
!!!!
!!
!
আজ ৪ দিন ধরে মমীর কোনো খোজ নাই।অনেক জায়গাই খুজেছি তাকে কোথাও পাইনি।কোথায় গেলো মেয়েটা।
সারাদিন নিজেকে ঘরে বন্ধি করে রাখি।
খাওয়া দাওয়া ঠিক মতো করিনা।

— ভাই নিচে চল কে কারা এসেছে দেখবি চল।( আপু আমার রুমে এসে বললে)

— কারা এসেছে (আমি)

— আগে নিচে চল তারপর নিজের চোখে দেখবি ( আপু)

আমি আপুর সাথে নিচে চলে এলাম।
সোফার দিকে তাকাতেই চোখ আবছা হয়ে এলো।বুকে……………..

🎬🎬🎬চলবে🎬🎬🎬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*