Home Login Register

সুপ্রিয় পাঠক বিশেষ কারণবসত আগামী কিছুদিন গল্প নিয়মিত আপডেট বন্ধ থাকবে, সাময়িক এই সমস্যার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি ।

তোমায় আমার প্রয়োজন [৭ম অংশ]


প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......
Home / আফরোজা আক্তার / তোমায় আমার প্রয়োজন [৭ম অংশ]

Admin › 2 months ago

লেখাঃ আফরোজা আক্তার (মেঘলা)

পরদিন সকালবেলা , 
তনু প্রতিদিনের ন্যায়ে সব কাজ সেড়ে তাহুরাকে রেডি করিয়ে দেয় । রেডি হয়ে কিছুক্ষন দাদান-দিদুনের সাথে খেলা করে তাহুরা । তারপর তাওহীদের সাথে বেরিয়ে যায় স্কুলের উদ্দেশ্যে । আজ এপোয়েন্টমেন্ট নিয়েছে তাওহীদ । বিকাল ৪ টায় অফিস থেকে এসে নিয়ে যাবে তনুকে । 
আর এদিকে তনু বুকের ব্যাথায় ক্লান্ত । আর কিছু কাজ বাকি আছে তার তারপরই ছুটি । দুপুর ৩ টায় তাওহীদ বাসায় আসে । অফিসটা সাকিল সামলাচ্ছে । তাওহীদ এসেছে তনুকে নিয়ে যেতে । নিচে ডাইনিং এ খেতে বসে তনুকে খুজছে তাওহীদ । 
.
– ভাইয়া , তনু আপু উপরে রুমে 
– নিচে আসে নি ? 
– এসেছিল তো , রান্না করে দিয়ে গেল 
– ওহ , মা কোথায়
– শুয়ে আছে 
– খেয়েছে ? 
– হ্যাঁ 
– বাবা ? 
– খেয়েছে , তুই খেয়ে নে তো 
– তুই খেয়েছিস ? 
– হ্যাঁ খেয়েছি তনু আপুর সাথে 
– ওহ 
.
তাওহীদ ভাতের প্লেটে হাত তো দিয়ে আছে কিন্তু গলা দিয়ে খাবার নামছে না তার । বার বার চোখের সামনে গতকাল রাতের দৃশ্য ভেসে উঠছে । তনুর ছটফট করা তনুর বুকে চাপ দিয়ে ধরা । তাওহীদ এর চোখের সামনে অনবরত ভাসছে । অনেক ভাবাচ্ছে বিষয়টা তাওহীদকে । 
তাওহীদ দুই তিন লোকমা খেয়ে ভাতে পানি ঢেলে দেয় । তারপর উপরে যায় তনুর রুমের দিকে । রুমের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায় তাওহীদ । তনু কারো সাথে কথা বলতেছে যা তাওহীদ স্পষ্ট শুনতেছে 
.
– তুই কি পাগল হইছিস তনয়া 
– …………..
– নাহ তুই ভাবলি কি করে যে আমি আবারো , 
-……………. 
– নাহ কখনোই না , এটা কখনোই পসিবল নাহ
-…………….. 
– অবশ্যই , অবশ্যই তাওহীদ একজন ভালো বাবা , আমার কাছে সে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ বাবা তাহুরার জন্য , তাই বলে আমি আবারও , নাহ এটা হবে না 
-……………….
– আমার তাওহীদকে প্রয়োজন নেই , নেই প্রয়োজন , আমি এমনি ভালো আছি 
-…………………
– ওর বাবার প্রয়োজন তনয়া , ওর মায়ের থেকে বাবা দরকার , ওর মা ওকে যা দিতে পারবে তার তিন ডবল ওর বাবা দিতে পারবে , আমার মেয়ের সেফটি আমার মেয়ের ভালো মন্দ আমার মেয়ের শিক্ষা সব কিছুই ভালো হবে যদি সে তার বাবার কাছে থাকে । আর তাছাড়া আনফোরচুনেটলি তাওহীদ তাহুরার বায়োলজিক্যাল ফাদার । সো তাহুরার ওপর তাওহীদের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে । তাহুরার ভালোর জন্য সে তার বাবার কাছেই থাকুক , 
-…………………
– অবশ্যই , অবশ্যই আমি ওর মা , আমি মা দেখেই আমি আমার সন্তানের মঙ্গলের জন্য এমন ডিসিশন নিতে পেরেছি 
-………………..
– নাহ , আমি কোন ইমোশনাল ডিসিশন নিচ্ছি না , বরং মন কে শক্ত করেই সব ডিসিশন নিয়েছি , একবার ভাব আল্লাহ না করুক কাল তাহুরার যদি বড় কোন অসুখ হয় আমাকে তো ভিক্ষার হাত নিয়ে ওর বাবার কাছেই আসতে হবে , আমার ভাই বোনেরা হয়তো দিবে কিন্তু ওদের দিক টাও তো আমায় দেখতে হবে তাই না সেইক্ষেত্রে ওর বাবার অঢেল আছে তখন ওর বাপের কাছেই আমায় হাত ফেলতে হবে । তার থেকে বরং আমার মেয়ের ভালোর জন্য সে আমার থেকে তার বাবার কাছে অনেক বেশি কমফোর্ট ফিল করবে আর তাছাড়া এখানে সবাই ওকে আপন করে নিয়েছে । আর এই ডিসিশন আমি তাহুরার ভালোর জন্যেই নিয়েছি 
-……………………..
– নাহ তনয়া , বাড়তি আর একটা কথাও না । যখন আমার ওকে প্রয়োজন ছিল ও তো আসে নি । ৭ মাসের বাচ্চা জন্ম দিয়েছিলাম । আমার বাচ্চাটা ২ টা মাস ইনকিউবেটরে ছিল , তখন কাউকে পাশে পাই নি । এখন আমার না হোক আমার বাচ্চার তার বাবাকে প্রয়োজন আছে । এটা আমার সন্তানের আইনগত অধিকার সে তার বাপের টাকা-পয়সা পাবে , তার থেকে ভালো সে তার বাবার কাছেই থাকুক । আর কোন কথা না , রাখছি ভালো থাক । 
.
তাওহীদ এতক্ষন সব শুনেছে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে । ফোন টা যে ছুটকির ছিল সে বুঝে গেছে আর তনুশার কথাতেও বুঝা গেছে ফোনের ওপার থেকে তনয়া কি কি বলেছে । কিন্তু তনুশা যা যা বললো কিছুটা ব্রেনে আসলেও পুরোটা আসে নি এখনো । এদিকে ডক্টরের কাছে যাওয়ার টাইম পার হচ্ছে । 
তনুর কথা শুনে মনে হচ্ছে সে এভাবে যাবে না তাই অন্য পদ্ধতি আয়ত্ত করতে হবে । তাই হুড়মুড় করে রুমে ঢুকে যায় তাওহীদ । 
তাওহীদকে দেখে খানিকটা চমকে যায় তনু , 
.
– কিছু বলবেন ? 
– হ্যাঁ 
– বলুন 
– বাহিরে চলো 
– হঠাৎ এই টাইমে 
– দরকার আছে 
– আচ্ছা আপনি যান আমি আসছি 
– নাহ এক্ষুনি চলো 
– আচ্ছা চলুন 
.
তনুর হাত টা ধরে টেনে নিচে নামাচ্ছে তাওহীদ । দুপুর টাইম বলে পুরো বাড়ি স্তব্ধ হয়ে আছে৷, তাই কেউ আর ব্যাপার টা দেখে নি । তাওহীদ তনুকে টেনে নিচে নামায় তারপর গাড়িতে বসিয়ে নিয়ে যায় । তনু অনেকটা অবাক , বুকের মধ্যে এক অজানা ভয় কাজ করছে তার৷, হঠাৎ করে তাওহীদ কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তাকে 
.
– আমরা কোথায় যাচ্ছি ? 
-……….. 
– কি হলো বলুন ? কোথায় যাচ্ছি আমরা 
-…………
– চুপ করে আছেন যে , বলবেন তো কোথায় যাচ্ছি ? 
– হসপিটালে 
– কেন ? 
– এমনি 
.
তনুর বুকে কামড় দিয়ে ওঠে । হাসপাতালে কেন যাবে তাওহীদ । তাহলে কি কিছু আন্দাজ করে ফেলেছে ও ? 
না না গাড়ি থামাতেই হবে । না হয় সমস্যা হয়ে যাবে । 
.
– গাড়ি থামান 
-……….
– গাড়ি থামাতে বলছি
-……
– গাড়ি থামায়ায়ায়ান 
– চিল্লাচ্ছো তকেন তনুশা 
– আপনি গাড়ি থামাবেন নাকি আমি এই চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিব ? 
– কিহহহহহ
– হ্যাঁ গাড়ি থামান 
.
তাওহীদ গাড়িটা অনেক জোড়েই ব্রেক করে । কিসমত কানেকশন এর একটা ব্যাপার থাকে না সেটাই এখানে হলো । গাড়িটা স্ট্রেট একটক পার্কের সামনেই এসে থামে । তনুশা গাড়ি থেকে নেমে যায় 
তারপর একটা বেঞ্চের কাছে গিয়ে দাঁড়ায় । তাওহীদ এমনিতেই বদ মেজাজী । তার উপরে তনুর এমন ব্যবহার সে মানতে পারছে না । সেও নেমে গিয়ে তনুর পাশে দাঁড়ায় । 
.
– বসো 
– নাহ ঠিক আছি 
– সব সময়ই তো ঠিক থাকো 
– হ্যাঁ 
– বসো বলতেছি 
.
তনুও বসে পড়ে । পাবলিক প্লেসে এত নাটক তনুর আগেও পছন্দের ছিল না আর এখনও না । তামাশা করার আগে বসে পড়া টা ব্যাটার । 
.
– আমি তোমাকে কয়েকটা কথা জিজ্ঞাসা করতে চাই ? 
– হ্যাঁ বলুন 
– তনুশা আমি চাই,,,,,আমি চাই ,,,, আমরা আবার একসাথে থাকি 
– কিহহহহ 
– হুম , তাহুরার জন্যে হলেও কি আমরা এক সাথে থাকতে পারি না ? 
– নাহ পারি নাহ 
– কেন ? 
– কারণ , আমি চাই না আর প্রয়োজন মনে করি না 
– তোমার এত ইগো কিসের ? 
– আমার ইগো , আজকে আপনি আমায় হাসালেন 
– আমাকে কি তোমার হাসির পাত্র লাগে 
– নাহ , হাসির পাত্রী তো আমি , আগেও ছিলাম এখনও আছি 
– আমি সব কিছু ভুলে তোমাকে আবার মেনে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম আর তুমি 
– আমি চাই নি তো , আমি তো চাই নি আপনি আবার মেনে নেন আমায় , আমি কখনোই চাই নি , আর চাইবোও না 
– কেন , চাও না কেন , রাফাতের কাছে যেতে চাও যে তোমাকে লাত্থি মেরে ফেলে চলে গেছে 
– লাথি তো আপনিও মেরেছিলেন , ভুলে গেছেন 
– আমি আবার এসেছি কিন্তু তনুশা 
– আমি চাই না আর ফিরতে 
– তুমি কেমন আশ্চর্যজনক মেয়ে , আমি দেখে অবাক , যেখানে তুমি আমার কাছে এসে ক্ষমা চাইবে তা না করে আমি যেখানে বলছি আমরা আবার সব টা মেনে নিয়ে সামনে আগাবো সেখানে তুমি আমায় রিফিউজি করছো
– ক্ষমা , আমি কেন ক্ষমা চাইবো
– আলবাৎ চাইবে , তোমার চাওয়ার প্রয়োজন ছিল কারন তুমি অন্যায় করেছো 
– যে অন্যায় আমি করিই নি , তার জন্য কিসের ক্ষমা 
– তনুশা 
– আমি ডিসিশন নিয়ে ফেলেছি 
– কিসের ডিসিশন 
– তাহুরাকে আপনাকে দিয়ে আমি চলে যাবো 
– কোথায় যাবে ? 
– যেখান থেকে এসেছিলাম সেখানেই 
– তাহুরাকে সামলাবো কি করে , ও তো মাম্মাম বলতে অজ্ঞান 
– ওর মাম্মাম ওকে ছেড়ে একেবারে চলে যাচ্ছে না , শুধু ওর বাবার কাছে রেখে যাচ্ছে , আমার মাম্মাম পাখি বুঝবে 
– তনুশা , আমি নিজেকে আর আটকে রাখতে পারছি না , জীবন আরও একবার আমাকে তোমার দিকে টানছে , আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি রাফাতের সাথে তোমার অতীত নিয়ে কোন প্রশ্ন আমি করবো না , কিন্তু আমি তোমাকে ছাড়া তাহুরাকে ছাড়া থাকতে পারবো না । 
– বললাম তো আমি তাহুরাকে ছেড়ে থাকতে হবে না আপনার , আমি ওকে আপনাকে দিয়ে দিবো । প্রয়োজন পড়লে ওর কাস্টাডি আমি পুরো সজ্ঞানে আপনাকে হস্তান্তর করে দিব 
– শাস্তি দিতে চাচ্ছো আমাকে ? 
– শাস্তি তো আমিই পেয়ে আসলাম আজ এতটা বছর 
– তনুশা প্লিজ চলো সব ভুলে গিয়ে নতুন করে মেয়েটার জন্যে আমরা ভালো থাকি
– নাহ তা আর হয় না , এবার না হয় ভালো থাকার অধিকারটা আমিই আপনাদেরকে দিয়ে গেলাম । চলুন যাওয়া যাকব
– তনুশা , হসপিটালে চলো 
– দরকার নেই আমি ভালো আছি
– তুমি ভালো নেই তনুশা 
– চলুন , যাওয়া যাক তাহুরা ঘুম থেকে উঠে খুজবে আমায় , না দেখতে পেলে কাদবে অনেক 
– ও না দেখতে পেলে কান্না করবে এটা জেনেও ছেড়ে যাওয়ার কথা বলছো কি করে তনুশা 
– তখন অভ্যাস হয়ে যাবে ওর , চলুন 
.
এই বলে তাওহীদকে রেখে গাড়িতে গিয়ে বসে তনু । তাওহীদ কিছুতেই মানাতে পারলো না তনুকে । কি আর করার , ভুলের মাসুল টা হয়তো এভাবেই দিতে হবে তাকে । তাই সেও গাড়িতে গিয়ে বসে আর রওনা দেয় বাড়ির দিকে । 
.
দুদিন পর , 
সকালবেলা তাহুরাকে দেখতে না পেয়ে তাওহীদ অস্থির হয়ে ওঠে । রাতে তো তার সাথেই ছিল তাহুরা তাহলে এখন কোথায় যেতে পারে । চশমা টা চোখে লাগিয়ে রুম থেকে বের হয়ে সিড়ির কাছে যায় । নিচে সবাই আছে শুধু তাহুরা নেই তাহলে তাহুরা নিচে যায় নি । কোথায় যেতে পারে ? পরক্ষনেই মনে পড়ে তনুর রুমে আছে হয়তো । সকাল সকাল মায়ের কাছে চলে গেছে । 
তাওহীদও তনুর রুমে যায় । গিয়ে দেখে খাটের উপরে চুপ করে লাল রঙের টুকটুকি পুতুল টাকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে তাহুরা । মুখটা অনেক গম্ভীর আর কালো করে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েকে দেখে ঘাবড়ে যায় তাওহীদ । 
.
– morning বাচ্চা 
-………….
– কি হয়েছে বাচ্চাটা , মন খারাপ কেন ? 
-…………
– আম্মুন আজ এত তারাতারি উঠে গেলে যে , কি হয়েছে আম্মুন 
– পাপাই মাম্মাম কোতায় ? 
– মাম্মাম , মাম্মাম হয়তো ওয়াসরুমে সোনা
– মাম্মাম ওতাসরুমে নাই , তুমি দেতো 
.
তাওহীদ ওয়াসরুমে ঢুকে দেখে ওয়াসরুম খালি । তনু ওয়াসরুমে নেই । 
.
– দেতলে তো পাপাই , মাম্মান নেই 
– কোন ব্যাপার না আম্মুন , মাম্মাম রান্না ঘরে আছে হয়তো , তোমার জন্য নাস্তা রেডি করছে 
– নাহ পাপাই নাহ , মাম্মাম কোথাও নেই , তুমি খুতে তাও আমাল মাম্মাম কে , আমাল মাম্মাম কোতায় গেল
– আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে আম্মুন , আমি দেখছি মাম্মাম কোথায় গেল , কেমন ? 
.
এদিক ওদিক তাকাতেই তাওহীদ দেখে বিছানার পাশে রাখা ল্যাম্পসেডের সাথে আটকানো একটা কাগজ দেখা যাচ্ছে । 
তাওহীদ তাহুরাকে বসিয়ে রেখে কাগজটা তুলে নেয় । 
প্রথম লাইনের দুইটা শব্দেই বুঝে যায় এটা তনুর চিঠি , 
.
.
“” – আমি চিটাগং চলে যাচ্ছি । তাহুরার ভালো মন্দ , ওর ভালো থাকা , সুস্থ থাকা সব আপনার কাছেই পাবে ও । আমি ওকে সেইসব কিছুই দিতে পারবো না যেসব আপনি ওকে দিতে পারবেন । তাহুরার সুন্দর ভবিষ্যত আর একটা সুস্থ জীবন ও আপনার কাছে থেকেই পাবে । আমি আমার নিজের সম্পূর্ণ ইচ্ছায় এবং সজ্ঞানে তাহুরাকে আপনার কাছে রেখে গেলাম । আমি জানি আপনি তাহুরাকে অনেক অনেক ভালোবাসেন , তাহুরাও আপনাকে অনেক ভালোবাসে । আমি তাহুরাকে আপনাকে দিয়ে গেলাম , তাহুরা এখন আপনার , আমার কোন অধিকার নেই ওর উপরে । আমি জানি আপনি ওর অনেক খেয়াল রাখবেম সেই বিশ্বাস আমার আপনার উপরে আছে , আর ও আপনার সাথে অনেক খুশি থাকবে । তবে আপনি যদি অনুমতি দেন তো আমি মাঝে মধ্যে ওর সাথে মোবাইলে কথা বলে নিবো । আপনার কাছে আমার একটাই অনুরোধ , আপনি কখনো তাহুরার মনে আমার জন্য কোন খারাপ ধারণার সৃষ্টি করবেন না । ওর মা একজন খারাপ চরিত্রের মহিলা এটা শুনলে এই দুঃখ নিয়ে আমার মেয়েটা জীবনেও মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে না । আমি চাই আমার বাচ্চাটা মাথা তুলে বাঁচুক । ওর সমস্ত দ্বায়িত্ব আপনাকে সপে দিলাম । 
ওকে দেখে রাখবেন । “” 
.
.
চিঠিটা পড়ে পুরো স্তব্ধ হয়ে যায় তাওহীদ । তার মানে আজ ভোরেই তনু চলে গেছে । এখন সে তাহুরাকে কি জবাব দেবে । তাহুরা যে বড্ড কাদছে । কি বলবে বাচ্চা মেয়েটাকে । তার মা তাকে তার বাবার কাছে রেখে চলে গেছে । ছোট্ট মেয়েটা কি এইসব কিছু বুঝবে ? 
তাওহীদ এইসব ভাবছে আর অন্যদিকে তাহুরা মাম্মাম মাম্মাম বলে কাদছে । 

বাসায় সবাই জেনে গেছে যে তনু চলে গেছে । মাহবুব সাহেব ভেঙে পড়েন তবে বুঝান নি । মাইশা মনে মনে ঢুকরে কেদে মরে কিন্তু কাউকে দেখায় নি । রাবেয়া বেগম মহা খুশি তিনি তা সবাইকে বুঝিয়েছেন । 
.
– এত টেনশন করছিস কেন বাবা , আপদ গেছে ভালোই হয়েছে 
– আম্মুউউউউউ 
– কি হলো কি তুই চিৎকার দেস কেন 
– কাকে আপদ বলো তুমি ? 
– কেন আপদ কে আপদ বলছি 
– ও আমাদের তাহুরার মা , তাহুরার জন্মদাত্রী ও 
– তাহুরা আমার ছেলের অংশ 
– ভুলে যেও না মা , তোমার এই জুয়ারি ছেলের জন্যেই ওকে এনেছিলে 
– ও নিজেও কম নাটক দেখায় নাই , স্বামী থাকা সত্ত্বেও আরেক ছেলের সাথে মিশেছে 
– আম্মুউউউউ আস্তে , 
– আহহহ মাইশা তুমি চিল্লাও কেন 
– তুমি থামো সাকিল , কথা বলতে এসো না আর মা শুনো পাপ না বাপ কেও ছাড়ে না , এটা মনে রাইখো 
– আমি আমার ছেলেকে আবার বিয়ে করাবো 
– মা-য়ায়ায়ায়া , থামবা কথা বেশি বলো কেন তুমি , এই মাইশা তাহুরাকে নিয়ে আয় , ওকে স্কুলে দিয়ে আমি অফিসে যাবো 
– আচ্ছা 
.

তাহুরাকে কোন মতেই রেডি করানো যাচ্ছে না । তারপরও বুঝিয়ে শুনিয়ে রেডি করে নিয়ে আসছে মাইশা । 
.
– আম্মুন চলো , স্কুলে যাবে না 
– আমি মাম্মামের কাতে তাবো
– হ্যাঁ আম্মুন , তুমি স্কুল থেকে আসো আমি আর তুমি একসাথে মাম্মামের কাছে যাবো 
– চত্যি তো 
– হ্যাঁ মাম্মাম সত্যি 
.
তারপর তাওহীদ তাহুরাকে নিয়ে বেরিয়ে যায় । অন্যদিকে রাবেয়া বেগম রাগে গজ গজ করতে করতে উপরে চলে যায় । সাকিল ও অফিসের দিকে রওনা হয় । 
এদিকে তাওহীদ গাড়ি তো ড্রাইভ করছে ঠিকই কিন্তু মন তার তনুর দিকে । আর তনুর রেখে যাওয়া চিঠির দিকে । মেয়েটা সারাজীবন কষ্টই করে গেল । তারপর আরো কষ্টের সম্মুখীন হলো । 
.
– পাপাই লাখো লাখো 
– হ,,,হ,,,,হ্যাঁ আম্মুন , কি হয়েছে 
– পাপাই আমাল স্তুল তলে আত্তে
– ওহ , নামো আম্মুন 
– পাপাই প্লমিচ কলো স্তুল শেষে মাম্মামকে আনতে তাবো 
– প্রমিস আম্মুন , তুমি স্কুলের ভেতরে যাও , চলো 
– তলো
.
তাওহীদ তাহুরাকে নিয়ে স্কুলের ভেতরে গেল । মেয়েকে ক্লাসে দিয়ে এসে তাওহীদ বেরিয়ে আসে । গাড়ির ভেতরে যেই ঢুকতে যাবে ওমনি তাওহীদের নজরে একজন পড়ে । সে মোবাইলে কথা বলতে বলতে তার গাড়িতে উঠছিল । তার মুখে একজনের নাম শুনে তাওহীদ থমকে যায় 
.
– হ্যাঁ রে বাবা হ্যাঁ , তোমার রাজপুত্রকে ক্লাসে বসিয়ে দিয়ে তারপর আমি এখন নিজের কাজে যাচ্ছি 
-…………………….
– ওহ আফরোজ , আর পারলাম না তোমায় নিয়ে আমি । যতটা আমায় তুমি জ্বালাও তার থেকেও আমায় এত ভালোবাসো । পৃথিবীতে অক্সিজেন না হলেও চলবে কিন্তু তোমাকে আমার বড় বেশি প্রয়োজন 
-…………………….
– হা হা হা , আচ্ছা আজ দেখবো তুমি কত শক্তিশালী হয়েছো , আচ্ছা শুনো অফিসে যাচ্ছি , ড্রাইভ করবো এখন , সাবধানে থেকো কেমন ? 
বাই 
.
তাওহীদ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে । এ তো ওয়াসিম । আফরোজ এর হাজবেন্ড । এত বছর পর । তার মানে আফরোজ এখানেই থাকে মানে ঢাকাতে । তাওহীদ বুঝতে বুঝতেই ওয়াসিম গাড়িতে উঠে পড়ে । গাড়ি স্টার্ট দিবে এমন সময় ওয়াসিম দেখে কেউ একজন তার গাড়ির গ্লাসটায় টোকা দিচ্ছে । ওয়াসিম তারাতারি করে গাড়ির দরজা খুলে দেয় । আর সেই লেভেলের ধাক্কা খায় । তার কারন সে যাকে দেখলো সে আর অন্য কেউ না , তাওহীদ দাড়ানো বাহিরে । 
.
– ওয়াসিম ? 
– তাওহীদ ? 
– আপনি আফরোজ এর হাজবেন্ড ওয়াসিম না ? 
– জ্বি , কিছু বলবেন ? 
– আমাকে চিনেছেন আপনি 
– কেন চিনবো না , মাহবুব গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র মালিক মিষ্টার তাওহীদ মাহবুব , কে না চিনে ? 
– আমি কি একটু আফরোজ এর সাথে দেখা করতে পারি ? 
– কেন ? 
– প্লিজ ওয়াসিম , প্লিজ আমার খুব প্রয়োজন , 
– তনুশা কোথায় সেটা আফরোজ বা আমি আমরা কেউই জানি না , সরি আমার লেট হয়ে যাচ্ছে 
– ওয়াসিম , প্লিজ ওয়াসিম , আমার খুব প্রয়োজন 
– দেখুন , এখন আপনি গেলেই প্রবলেম হয়ে যাবে তাছাড়া আমার ওয়াইফ এমনিতেই অসুস্থ 
– প্লিজ ভাই , আমি বেশি সময় নিব না
– আচ্ছা ওয়েট তাহলে তো আমার ছেলেটাকে নিয়ে যেতে হবে , 
– আমিও আমার মেয়েকে নিয়ে নেই তাহলে 
– আপনার মেয়ে ? ওয়াও বিয়ে করে নিয়েছেন দেখছি , তনুশাকে বের করে দিয়ে ভালোই করেছেন 
– ওয়াসিম আপনি যা ভাবছেন তা নয় 
– এখন আর প্রয়োজন নেই আমার ওয়াইফের সাথে দেখা করার
– ওয়াসিম ও আমার আর তনুশার সন্তান 
– মানে , 
– হ্যাঁ , আমাদের মেয়ে ও ওয়াসিম , আমার আফরোজকে খুব প্রয়োজন , প্লিজ 
– আচ্ছা চলুন 
.
তাওহীদ তাহুরাকে নিয়ে আর ওয়াসিম আফনানকে(আফরোজ+ওয়াসিম =আফনান) নিয়ে নিয়ে ওয়াসিম এর বাসার দিকে রওনা হয় । তাওহীদ ড্রাইভার কে কল দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে বলে আর ওয়াসিম এর গাড়ি করে ওয়াসিমের বাসায় যায় । গাড়িতে বেশ কয়েকবার ওয়াসিম তাহুরাকে দেখছে , একদম মায়ের মতো হয়েছে তাহুরা । আর এদিকে বেশ ভালো ভাব জমিয়ে নিয়েছি আফনান আর তাহুরা । 
হঠাৎ করে আফনান ওয়াসিমকে বলে ওঠে 
.
– বাবাই , গত পরশুদিন তোমাকে যেই পরী মেয়েটার কথা বলেছিলাম না ? 
– হ্যাঁ তো 
– বাবাই এই তো সেই মেয়েটা 
– আমাল লাম মেয়ে নয় আমাল লাম মাম্মাম পাখি 
– এটা আবার কেমন নাম , হি হি 
– ওই অতভ্য তেলে তুপ কল , পাপাই পাপাই দেতো না 
– আহহহ আফনান , তুমি থামবে , বেশ বিরক্ত করছো তো 
– বাবাই এই পরীকেই আমি বিয়ে করবো 
– আরেহহহহ ব্যাসস , এখনো ওয়ান টপকালে না এখনি বিয়ে , তাওহীদ মেয়েকে আড়াল করে রাখো , নয়তো আমার ছেলের গ্যারান্টি নাই
– হ্যাঁ তোমার ছেলেকেই জামাই করবো 
– হা হা হা , এখন বলো তো কি হয়েছে কাহিনীটা , আমি তো জানি তনুশারা চিটাগং থাকে তাহলে তাহুরাকে পেলে কিভাবে আর তনুশা কোথায় এখন 
– বলবো রে ভাই সব বলবো 
– তবে চরম ভুল করে ফেলেছিলে ৫ বছর আগে 
– মানে
– পরে শুনো 
.
বাসায় এসে ওয়াসিম কলিংবেল দেয় । ফুলি(আফরোজ এর কাজের লোক) গিয়ে দরজাটা খুলে দেয় । বেশ ভালো পজিশনে উঠেছে ওয়াসিম । নিজের ফ্ল্যাট নিজের গাড়ি , হাই ফাই করে বাসাটা সাজানো । তবে তাওহীদের তুলনায় অনেক কম । তবুও সুখে ভরা সংসার ওয়াসিম আর আফরোজ এর । ভেতর থেকে কথা বলতে বলতে আফরোজ আসতেছে 
.
– আব্বুটা , আজকেও নিশ্চয়ই দুষ্টুমি করেছো তাই না , 
.
আফরোজ এর কন্ঠ শুনে দাঁড়িয়ে পড়ে তাওহীদ । 
.
– আর ওয়াসিম তোমাকেও বলি , ছেলেকে এতো লাই দিও না , রেগুলার কমপ্লেইন আসে , তুমিইইইইইইইইই…………….
.
একদম অবাক হয়ে যায় আফরোজ । তার সামনে তাওহীদ দাড়ানো । সে যেন নিজের চোখ কেও বিশ্বাস করতে পারছে না । এটা কে ? কাকে দেখছে সে ? তার বাসায় ইনি কে ? 
.
– আ,,,আ,,,আফ,,আফরোজ , তাওহীদ 
– আপনি , এখানে ? 
.
তাওহীদ আফরোজের দিকে তাকিয়ে আছে । বেশ সুন্দর হয়েছে আগের থেকে । ব্রাউন কালারের একটা মেক্সি পড়া । ওড়না দিয়ে সুন্দর করে আবৃত করা আছে সামনের দিক টা । দেখে মনে হচ্ছে প্রেগন্যান্ট । 
.
– কেমন আছেন আফরোজ ? 
– আলহামদুলিল্লাহ , আপনি ? 
– মরে বেঁচে আছি এক রকম 
– মানে , এ কে ? 
– আপনার তনুর মেয়ে 
– কিহহহহ , তনুশার মেয়ে 
– হুম 
– তাই , আম্মু এইদিকে আসো 
– আম্মুন , আন্টিকে হাই বলো 
– হ্যালো 
– হাই আম্মু , কেমন আছো তুমি ? 
– ভালো না 
– কেন ? 
– মাম্মাম নেই
– নেই মানে ? 
– নেই আন্তি
– মানে , কি বলে ও ? 
– কিছু কথা বলতে চাই আমি আর কিছু কথা জানতেও চাই 
– বসুন আপনি , 
.
.
– ফুলি এই ফুলি 
– জ্বি মামি 
– এদের নিয়ে ভেতরে যা , আর এখানে নাস্তা দেয়ার ব্যবস্থা কর 
– আচ্ছা মামি , আসো তোমরা , আফনান ভাইয়া চলো 
– চলো , এই ঢঙ্গী এটা আমার ফুলি আপু , এর সাথে বেয়াদবী করবা না , না হয় দিব চুল কেটে 
– আহহহহহহ আফনান কি হচ্ছে কি 
– সরি আম্মু 
– যাও বাবুটাকে নিয়ে রুমে যাও তোমার toy’s গুলো দেখাও
– আচ্ছা 
.
– কিছু মনে করবেন না , আমার ছেলেটা এমনি 
– নাহ ঠিক আছে , কোন ক্লাসে পড়ে ? 
– ওয়ানে এইবার 
– ওহ 
– বাবুর নাম কি 
– তাহুরা বিনতে রুবাইয়া 
– ওহ , তনুশা কোথায় আর ও তখন কি বলছিল 
– অনেক কিছু বলার আছে , আর অনেক কিছু জানারও আছে 
– এত বছর পর এসেছেন সব জানতে 
.
একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে গতকাল তনুর রেখে যাওয়া চিঠিটা আফরোজ এর হাতে দেয় তাওহীদ । তনু চিঠিটা নিয়ে একবার ওয়াসিমের দিকে , একবার তাওহীদের দিকে , আবার চিঠিটার দিকে তাকায় । তারপর চিঠির ভাজ খুলে চোখ বুলায় তাতে , 

চিঠিটা ভাজ করতে করতে চোখের পানি মুছে নেয় আফরোজ । আফরোজের হাত থেকে ওয়াসিম চিঠিটা নিয়ে পড়ে । এতক্ষণে সে বুঝতে পারে আফরোজের চোখের পানি পড়ার কারন । 
.
– কোথায় দেখা হয়েছিল আপনার ওর সাথে ? 
– চিটাগাং এ , 
– এইবার আটকাতে পারলেন না ? 
– সুযোগটাই তো দিল না আমায় 
– ৫ বছর আগে যখন সুযোগ ছিল তখন তো কুকুরের মতো বের করে দিয়েছিলেন 
– দেখুন , আমি সব ভুলে গিয়ে ওর হাতটা আবার ধরতে চেয়েছিলাম 
– সব ভুলে গিয়ে মানে , 
– হ্যাঁ রাফাতের সাথে ওর অতীত , সব কিছুই ভুলে গিয়ে ওকে আবার আপন করতে চেয়েছিলাম 
– আপনি এখনো সেখানেই পড়ে আছেন তাওহীদ সাহেব 
– মানে 
– সেইদিন কেন আমার সাথে যোগাযোগ করলেন না ? কারন তনুশাকে তো আপনার বাবার কাছে আমিই নিয়ে গেছিলাম । সেইদিন কেন ওকে অন্ধকারে বের করে দিলেন ? তার দুইদিন পরেই কেন আপনি বাহিরে চলে গেলেন ? সেইদিন রাতেই কেন আপনার বাবা মিষ্টার জাহিদকে বলে রুমেলকে বের করে দেয় অফিস থেকে ? পুরো একটা পরিবারকে সেইদিন কেন রাস্তায় নামিয়ে দিলেন ? 
এর উত্তর আছে আপনার কাছে ? নেই 
এইবার আমি বলি আপনি শুনতে থাকুন । তারপর নিজেই নিজেকে জার্জ করবেন , এরপর আমি দেখবো নিজেকে আপনি কোথায় লুকান ? 
.
.
ব্যাক টু ফাইভ ইয়ারস 
.
.
– আসসালামু আলাইকুম আপুউউউউউ
– তনুউউউউউ , কি হয়েছে 
– আপুরেএএএএ আমার সব শেষ আপুউউউ
– উঠ উঠ দরজার সামনে এভাবে কেউ কাদে , আয় ভেতরে আয়
– আপুউউউউরেএএএএ , 
– আস্তে , লোকজন দেখলে কি ভাববে ভেতরে আয় তুই

.

– কি হয়েছে , বল আমায়
– আপু তুমি কি কিছুই শুনো নাই ? 
– কি শুনবো ? আরে কি হয়েছে বলবি তো ? 
– আপু রুমেলকে ওরা অফিস থেকে বের করে দিছে
– কিহহহহহ , কেন ? 
– আপুউউউউরেএএএএএ রাফাত কুত্তারবাচ্চা সব উলটা করে দিছে রে আপুউউ
– কি করছে 
– আপু তাওহীদকে সব ভুল বুঝাইছে , গত পরশুদিন পার্টিতে কিভাবে যেনো একটা পিক তুলছে সেটা সবার মোবাইলে ম্যাসেঞ্জারে দিয়ে দিছে এমনকি তাওহীদকেও , তারপর সব উলটাপালটা বুঝাইছে
– তারপর , 
– গত পরশুদিনই আমাকে রাতের অন্ধকারে ওরা সবাই মিলে বের করে দিছে 
– আমায় এতদিন জানাস নি কেন
– কিভাবে জানাবো আপু , তুমি নিজেই তো অসুস্থ 
– দেখছিস এই জন্যেই বলেছিলাম , বলে দে , বলে দে , শুনিস নি তো আমার কথা , এখন বুঝ তুই 
– আপুরেএএএএএএ সে আমার সাথে সমস্ত যোগাযোগ অফ করে দিছে , বাবার অবস্থা ভালো না । শরীর একদম খারাপ , মায়ের অবস্থা শোচনীয় , আমি এখন কি করবো রে আপু 
– আচ্ছা দাড়া আমি কল করছি স্যারকে 
– নাহ আপু , থাক , তুমি কারো কাছে নত হইও না , তুমি আমার সাথে চলো 
– কোথায় ? 
– আছে এক জায়গায় , 
– ঠিকমত দাড়াতে পারছিস না তুই , আগে কিছু খেয়ে নে 
– নাহ এখন কিছুই খাবো না চলো তুমি
.
.

– আমরা কোথায় এসেছি তনু ? 
– ভেতরে চলো , 
– চল 
.
.
– আরে আরে কে আসছে আমার বাসায় 
– রাফায়ায়ায়ায়ায়াত 
তনু তুই এখানে কেন আসছিস ? 
.
সেইদিন তনু আর রাফাত মুখোমুখি দাঁড়িয়ে , 
.
– খুব মজা লাগছে তাই না ? আমার এই অবস্থা করে খুব মজায় আছো তাই না ? 
– হ্যাঁ , অনেক মজায় আছি , তনুশা আমার না তো কারো না 
– কেন এমন করলা রাফাত কেন করলা এমনটা , কি অন্যায়ের শাস্তি এইভাবে দিলা তুমি ? 
.
তনুর চিৎকারে আফরোজের চোখ দিয়ে পানির শ্রোত বেরোচ্ছে
.
– কুল ডাউন বেবি , তাওহীদ ছেড়েছে তো কি হয়েছে , আমি তো আছি তাই না ? 
– কি করবা তুমি রাফাত ? কি করবা , আমায় বিয়ে করবা , নাকি বিয়ের নামে আমায় ভোগ করবা 
– তনুশায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া
– চিৎকার আমিও করতে পারি , গলার জোড় আমারও আছে , তুমি বলো তো আমি যে তোমাকে ভালোবাসবো এমন কি আছে তোমার মাঝে যে তোমায় আমি ভালোবাসতাম 
– কি নেই আমার মাঝে 
– আমি তোমাকে ভালোবাসবো এমন কিছুই নেই তোমার মাঝে 
– তোমার মাঝে তো এমন অনেক কিছুই আছে 
– হ্যাঁ , আছে তো , আমার এই শরীরটা আছে , যাকে তুমি কাছে পেতে চেয়েছিলে 
– তোমার তাই মনে হয় ? 
– হ্যাঁ , আমার তাই মনে , 
তুমি আমায় সব দিক থেকে নিঃস্ব করে দিয়েছো , সব কেড়ে নিয়েছো আমার । এই ভালোবাসো তুমি আমায় ? 
– আহহহহহ , তনু চল তো , এর মতো জানোয়ারের কাছ থেকে কিই বা আশা করা যায় 
– দাড়াও আপু , তো রাফাত বলো , এখন কি করবা আমাকে নিয়ে ? উপরে রুম খালি আছে ? চলো আজ সারাদিন আমায় ভোগ করবা চলো 
– আহ তনু , চল 
– কেন ? এমন করলা কেন রাফাত ? একটু সংসারটাও করতে দিলে না । বার বার বলেছিলাম বাসি না আমি তোমাকে ভালো , বাসি না , বাসি না , বাসি না , তারপরও লেগে ছিলে 
আমি জানতামও না যে তুমি তাওহীদের বন্ধু । আমি তো তাওহীদকে ভালো করতে চেয়েছিলাম রাফাত , আর ভালো করতে গিয়ে ওকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম আমি । সুইজারল্যান্ডে তোমার ভয়ে ওর কাছে নিজেকে সপে দিয়েছিলাম , কেন জানো যাতে ও বুঝে আমি অসতী নই 
কিন্তু দেখ , সে বুঝলো না , আমি হেরে গেছি রাফাত আমি হেরে গেছি । আজ মিথ্যা জিতে গেছে আর সত্য মাটি চাপা পড়ে গেছে রাফাত 
– তনু চল , ও একটা জানোয়ার , ও এখন কিছুই বুঝবে না 
– রাফাত তোমাকে আমি অভিশাপ দিব না কিন্তু আমার “হায়” অবশ্যই লাগবে তোমার । আমার জীবন শেষ করে দিয়েছো তুমি , তোমার কখনো ভালো হবে না । দেইখো তুমি কখনো ভ,,,,,,ভ,,,,ভা,,,,ভা,,,,ভালোওঅঅঅঅঅ
– তনুশায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া , 
– তনু , এই তনু , কি হলো তোর , তনু 
খবরদার ওকে ধরবা না তুমি , 
– আফরোজ আপু 
– চুপ , একদম চুপ , তনু এই তনু , বোন আমার , উঠ কথা বল , এই তনু 
– আফরোজ আপু ওকে হসপিটালে নিতে হবে তো 
– তুমি ওকে ধরবা না , সরো এখান থেকে
– আপনার যা বলার আপনি পরে আমাকে বলবেন আগে ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাই , প্লিজ চলেন 
– হ্যাঁ চলো , তুলো ওকে 
.
রাফাত আর আফরোজ সেইদিন তনুকে নিয়ে হসপিটালে যায় । রাস্তায় আফরোজ তনুর ভাই রুমেলকে কল করে , আর নিজের স্বামীকে কল করে । তারা খবর পেয়ে দ্রুত হসপিটালে চলে যায় । এদিকে আফরোজও অসুস্থ , সেটা নিয়ে বেশি চিন্তিত ওয়াসিম 
.
– আফরোজ তুমি ঠিক আছো তো ? 
– হ্যাঁ , আমি ঠিক আছি কিন্তু তনু
– কি হয়েছে তনুর আফরোজ আপু 
– জানি না হঠাৎ করে মাথা ঘুরে পড়ে গেল
– ডক্টর কি বললো ? 
– চেক আপ করছে 
.
কিছুক্ষন পর ডক্টর রুম থেকে বেরিয়ে যায় । সবার মুখে চিন্তার ভাব দেখে ডক্টর হেসে দেয় 
.
– মিষ্টি নিয়ে আসুন , আপনাদের মেয়ে তো মা হবে 
.
খবরটা পেয়ে সবাই আনন্দে মেতে ওঠে । এই চরম বিপদের দিনে ও তারা সবাই খুশি । 
.
.
At present , 
.
.
– তারপর 
– তারপর আর কি , রাফাত শুনে ফেলে সেই কথা , তারপর সে চলে যায় সেখান থেকে । আমিও চাকরি টা ছেড়ে দেই । মানুষ যে এত স্বার্থপর হয় আপনাদেরকে না দেখলে বুঝতাম না আমি । আপনারা আসলেই অনেক খারাপ । তনুর সাথে রাফাতের কিছুই ছিল না । তনু আপনার মোহে এতই ছেয়ে ছিল যে সে সব জায়গায় আপনাকে ফিল করতো । তাই ওইদিন ভেবেছিল হয়তো ছাদে আপনিই ছিলেন । কিন্তু ভাগ্য যে ওর সাথে এত খারাপ করবে তা বেচারি জানতো না । 
একবার সুযোগটাও দিলেন না ওকে । ও এই ভয়ে আপনাকে কিছু বলতে গিয়েও বলে নি আর আপনি জানতে পেরে বুঝতে চেয়েও বুঝেন নি । 
.
তাওহীদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায় । সে এত বড় ভুল করে ফেলেছে । নিজের অজান্তেই গুমড়ে কেদে ওঠে । কি করে এই ভুলের মাসুল দিবে সে । আজ তার একটা ভুলের জন্য তনুকে ৫ টা বছর সাফার করতে হয়েছে৷। তাহুরাকে ৪ বছর ধরে বাবার আদর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত থাকতে হয়েছে । এইসব ভেবে কেদে ওঠে তাওহীদ । 
আর আফরোজ আবার বলা শুরু করে । 
.
– এখন কি করবেন তাওহীদ সাহেব ? 
বুঝলেন তো বুঝলেনই সব হারিয়ে বুঝলেন 
– আমি এখন কি করবো ? কি করবো আমি এখন ? আমার যে তনুকে বড় বেশি প্রয়োজন । আমি ওকে এখন কিভাবে পাবো ? 
.
তাওহীদ কান্নায় ভেঙে পড়ে । এই কি ছিল তাহলে ভাগ্য ? 

– যখন ছিল তখন বুঝেন নি , আর এখন কাদছেন 
– আমি এতই অন্ধ ছিলাম যে ওকে বুঝতেই পারলাম না আমি
– তাহলে কেমন ভালোবাসলেন ? 
– জানি না 
– একটা কথা বলি ? 
– জ্বি বলুন
– সত্যি কথা সব সময় শুনতে তেতো লাগে তবুও তা সত্যিই হয় , আপনারা প্রত্যেককেই স্বার্থপর । অনেক স্বার্থপর আপনারা 
– আফরোজ কি সব বলো তুমি 
– তুমি থামো ওয়াসিম , এরা আসলেই স্বার্থের জন্য এর বাবা-মা আমায় দিয়ে তনুকে এর সাথে বিয়ে দিল । আর এ কি করলো ? যেই মেয়েটা ২ মাসের মাঝেই একে চেঞ্জ করে দিল সেই মেয়েটাকেই একটু ভুল বুঝে বাসা থেকে বের করে দিল তাও অন্ধকারে । আরে এমন তো কেউ কোন কুকুরের সাথেও করে না । রাতের অন্ধকারে এর বাবা-মা মেয়েটাকে বাসা থেকে বের করে দিল । 
আচ্ছা তাওহীদ সাহেব , রুমেলের কি অন্যায় ছিল ? আপনার বাবা ওকে কেন বের করে দিল ? 
– আফরোজ আমি তা জানতাম না 
– হা হা , জানতেন না , নাকি জেনেও বসে ছিলেন । তনু এক বুকে পাহাড় সমান কষ্ট নিয়ে এই শহর ছেড়েছিল । সাথে ওর পরিবারও । তারপর আমার সাথেও আর যোগাযোগ রাখে নাই । হয়তোবা ওর এই চরম বিপদের জন্য ও আমাকেই দোষারোপ করে এখনও 
– বাদ দাও আফরোজ , এখন চিন্তা করো তনুশাকে ফেরাবে 
– আমিইইইই আবার , impossible কার কাছে ফিরিয়ে এনে দিব আমি ? এর কাছে , কাল অন্য একজন এসে বলবে আপনার বউ আমার কাছে এসে শাড়ি খুলে দিয়েছে তখন হয়তো মেরেই দেবে , একে আর বিশ্বাস নেই 
– আফরোজ প্লিজ , আপনিই পারেন আমার তনুশাকে আমার কাছে ফিরিয়ে এনে দিতে 
– sorry , আপনি আসতে পারেন 
– শুনো না আফরোজ , আমি বলছিলাম কি ? 
– ওয়াসিম , তুমি চুপ করবা নাকি আমি বের হয়ে যাবো
– আফরোজ প্লিজ , আমি জানি আপনার রাগের জায়েজ আছে । তবে আমাকে তো একটা সু্যোগ দেয়া যেতেই পারে আফরোজ 
– মাপ করবেন , আপনি আসতে পারেন 
.
.
আফরোজের কড়া কড়া কথায় তাওহীদের আশার শেষ প্রদীপটুকু নিভে যায় । তাহুরাকে নিয়ে তাওহীদ বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় । গাড়িতে মেয়েটা বার বার তার মাম্মামের কথা জিজ্ঞাসা করে কিন্তু কোন উত্তর নেই তাওহীদের কাছে । চুপচাপ গাড়ি ড্রাইভ করছে সে । 
তাহুরাকে বাসায় দিয়ে তাওহীদ আবার বেরিয়ে যায় । 
.

চট্টগ্রাম ,,,,,,,,,,,

.
এইদিকে তনু বুক ভাসাচ্ছে মেয়ের জন্যে । সারাদিন জার্নিতে কেদে কেদে এক সাড় আর এখন বাসায় এসেও কেদেই চলেছে সে । পুরো পরিবারে এখন নিরবতা । তনু তাহুরার খেলার জিনিসগুলোয় হাত বুলায় আর কাদে । রাত্রি , তনয়া আর মা তনুর রুমে আসে । এসে দেখে তাহুরার ছবি , জামা , খেলনাগুলো বুকে জড়িয়ে ধরে ফ্লোরে পড়ে আছে । তনুকে এইভাবে দেখে ওদের বুকে কামড় দিয়ে ওঠে । তিনজন গিয়েই তনুর পাশে বসে । 
.
– তনু , এই তনু 
– দিদি , দিদি
– হু 
– আপু উঠো , নিচে শুয়ে আছো কেন ? 
.
তনু চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে তার মা বোন ভাইয়ের বউ তার সামনে বসে আছে । তাদের দেখে আরও জোড়ে কেদে দেয় তনু । তনুর বিলাপে মনে হয় আল্লাহর আরশও কেপে উঠবে এমন উপক্রম । তার চোখে সে দুনিয়ার সব থেকে বড় অপরাধী । তনুর মা এত শোক কিভাবে সামলাবে । স্বামীর চলে যাওয়া , মেয়েটার সংসার ভাঙা দেখা , আর এখন নাতনি টারও চলে যাওয়া । তবুও নিজেকে শক্ত রেখেছেন তিনি 
.
– কিরে মা , থাকতেই যখন পারবি না তাহলে রেখে এলি কেন ? 
.
মায়ের এমন কথায় আরও ঢুকরে কেদে ওঠে তনু । 
.
– ও মা , মা , মাগো এত কষ্ট কেন হয় মা 
আমার লক্ষীসোনাকে রেখে আসছি আমি মা । আমার মাম্মাম পাখিটা আমাকে না দেখে কি করতেছে কে জানে গো মা 
– দিদিরে যখন মেয়েকে ছেড়ে থাকতেই পারবি না কেন চলে এলি 
– নিরুপায় ছিলাম রে , আমার মেয়েটা ভালো থাকবে ওর বাবার কাছে 
– তাই বলে নিজে কষ্ট পাবা আপু 
– রাত্রি বলে দাও না গো , কি করে কষ্টটা কমাবো , এই বুকটার মধ্যে অনেক যন্ত্রনা হচ্ছে । কি করে কমাবো আমি এই যন্ত্রনা 
– মেয়েটাকে নিয়ে আসি আমরা আপু ? 
– নাহহহহ , দরকার নাই , ও ওর বাবার কাছেই থাকুক , ওর বাবাটা ওকে বড় বেশি ভালোবাসে গো 
– আর তোর কষ্ট টা ? তার কি করবি রে মা 
– সেটাই তো কমাতে পারছি না গো মা , সেটাই কমাতে পারছি না আমি 
– একবার কল দিয়ে দেখবা আপু ? 
– নাহহহহ , থাক কল দিলে আবার ও বুঝে যাবে এমনি থাক 
– তাহলে আর কি , নিজেই কষ্ট পা বসে বসে

.

এদিকে,,,,,,,,,, 
সকাল গড়িয়ে দুপুর , দুপুর গড়িয়ে রাত । তাওহীদ আজ অফিসেও যায় নি । মোবাইলও অফ । মাইশা , সাকিল , মাহবুব সাহেব সহ সবাই ফোনে ট্রাই করে করে ব্যস্ত । সাকিল সব বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করে ফেলেছে কিন্তু কোন লাভ হয় নি । তাওহীদ কোথাও নেই । আর অন্যদিকে তাহুরা কান্নাকাটি করে পুরো বাড়ি মাথায় করছে । সারাদিন খায়নি আজ সে ।

.

রাত প্রায় ১২ টা , ক্লান্ত শরীরে তাওহীদ বাসায় ফিরে । সবাই চমকে যায় তাওহীদকে দেখে । চোখ মুখ একদম শুকিয়ে গেছে । কেমন দেখা যাচ্ছে । 
কারো সাথে কথা না বলে সোজা উপরে যেতে ধরে তাওহীদ । তখনই মাহবুব সাহেব ডেকে বসে , 
.
– তাওহীদ কোথায় ছিলি সারাক্ষণ ? 
-………………….
– কিরে , অফিসেও গেলি না , আমি তো সবাইকে কল করলাম , তুই তো কোথাও ছিলি না , 
– সাকিল কাল কথা বলি ? এখন ভালো লাগছে না 
– ভাইয়া তুই রুমে যা , রেষ্ট কর , আম্মু আব্বু তোমরা রুমে যাও , সাকিল চলো 
– মাইশা
– হ্যাঁ 
– তাহুরা কই
– ঘুমিয়ে গেছে , আমার কাছে রাখবো আজকে , তুই রেষ্ট কর , যা
– হুম

.
তাওহীদ রুমে এসে দরজাটা লাগিয়ে দেয় । ধুপ করে ফ্লোরে বসে পড়ে সে । রিভাইন করে ৫ বছর আগের সে রাতের কথা ।

.

“”” – সুইজারল্যান্ডে তুই রাফতের সাথে দেখাও করছিস তাই না ? 
– না না , কখনোই না , আমি রুম থেকে বেরই হই নাই । 
– ভাইয়ের চাকরি , বাবার অসুস্থতার ভালো বাহানা করে আমার গলায় ঝুলে তো পড়ছিলি , কি ভাবছিলি সারাজীবন রাজার হালে চলবি ? কিন্তু তা তো হলো না
– তাওহীদ আপনি এইসব কি বলতেছেন 
– আর কোন কথা না , সোজা বের হয়ে যাবি , এক্ষুনি এই মুহুর্তে 
– তাওহীদ , এত রাতে আমি কোথায় যাবো 
– জাহান্নামে যা , তবু এই বাড়ি থেকে বের হয়ে যা

.
চোখ থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছে তাওহীদের । আবার মনে পড়ে যায় সে রাতে তনুকে বলা তার নোংরা কথা গুলো

.
– হ্যাঁ এইবার বল , কি বলবি তুই বল 
– তা,,,,,তা,,,,,,তাও,,,,,
– কি তা তা তা করছিস , বল না কি বলবি বল , তুই না কি বলবি , বল 
– তাওহীদ সব মিথ্যা , শুধু একবার বিশ্বাস করেন 
– তোর মত মেয়েরা না কারো বউ হতে পারে না , তোদের কে শুধু বিছানাতেই মানায় তাও এক রাতের জন্যে 
– তাওহীদ ………………. 
– শুনলি না পার্টিতে সবাই কি বললো ঠিক তেমন 
– ভুল বুঝতেছেন আমাকে আপনি 
– চুপ , একদম চুপ , তুই তুই একটা বেশ……… 
– তাওহীদ , আল্লাহর দোহাই লাগে , এইসব ভাষা বের করিয়েন না , দোহাই লাগে , আমি আপনার দুইটা পায়ে পড়ি প্লিজ 
– ছাড় আমাকে ছাড় 
– প্লিজ তাওহীদ প্লিজ
– একটা উপকার কর আমার , একটা উপকার কর
– বলুন
– বেরিয়ে যা , বেরিয়ে যা , তোর এই মুখটা আমি দেখতে চাই না বেরিয়ে যা “”””

.

ঢুকরে কেদে দেয় তাওহীদ । সচরাচর ছেলেরা কাদে না । বরাবরের মতো তারা নাকি স্ট্রং কিন্তু যখন নিজের সব থেকে দামী জিনিসটা নিজের ভুলের জন্য হারিয়ে ফেলে তখন সব ছেলেই হয়তো তাওহীদ হয়ে যায় , যেমন আজ তাওহীদ নিজে তার প্রকৃত উদাহরণ । নিজের চোখের উপর থাকা কালো পর্দাটা অবশেষে সড়ে গেল । কিন্তু অনেকটা দেরি হয়ে গেল । জীবন থেকে ৫ টা বছর কেটে গেল । আনন্দে ভরা দিন গুলো অমাবস্যার কালো অন্ধকারে ঢেকে গেল ।

.
আজ বহুদিন পর তাওহীদের বার বার তনুর সেই কথাটাই কানে ভাসছে ,

.
– তাওহীদ এত রাতে আমি কোথায় যাবো

.
কলিজা ফেটে যায় তাওহীদের তবুও চিৎকার আসছে না । আজ কাদছে সে , অনেক কাদছে । নিজের কাবার্ডে তনুর সেই সাদা শাড়িটা আজও পড়ে আছে একটা ড্রয়ারে । দৌড়ে গিয়ে সেই শাড়িটা বের করে তাওহীদ । শাড়িটায় মনে হয় এখনও তনুর গায়ের গন্ধ লুকিয়ে আছে । শাড়িটা ধরে পাগলের মতো কাদছে আজ সে , কিন্তু দেখার মতো কেউ নেই ।

.
– তনুশা , আমিই হয়তো দুনিয়ার সব থেকে খারাপ স্বামী যে তার স্ত্রীকে এতটা কষ্ট দিয়েছে । কিভাবে ছিলে তনুশা তুমি ? কিভাবে ছিলে , এত কষ্ট বুকে চেপে নিয়ে কিভাবে ছিলে বলতে পারো ? গর্ভে আমার সন্তান আর বাহিরে তুমি নিঃস্ব , কিভাবে ছিলে তনুশা ? স্বামীর ত্যাগ , বাবার মৃত্যু এতো শোক কিভাবে ওই বুকে ধারণ করলে তনুশা ? এই জন্যেই হয়তো এখন পাথর হয়ে গেছ । তনুশা এসে দেখে যাও আমি তাওহীদ আজ মনের সংসারে পথের ভিখারী । আমার সব হারিয়ে গেছে তনুশা । তুমি দেখে যাও তনুশা তুমি ছাড়া তোমার মেয়েটা অস্থির । কি করে পারলে নিজের কলিজার টুকরাকে আমার কাছে সপে দিয়ে নিজে চলে যেতে ? শাস্তি দিয়ে গেলে আমায় তুমি তনুশা । যেই শাস্তির আগুনে আমি পুড়ে ছারখার । ফিরে এসো তনুশা , প্লিজ ফিরে এসো । আজ বড় বেশি প্রয়োজন তোমাকে আমার । তোমায় আমার প্রয়োজন তনুশা । তোমায় আমার প্রয়োজন ।

.
তাওহীদ আজ বড্ড একা । হ্যাঁ সে আজ বড্ড একা , বড্ড বেশি একা । আজ তার নিজেকে অনেক নিঃস্ব মনে হচ্ছে । তনুশাকে সে হারিয়ে ফেলেছে । একবার নিজ থেকে বের করে দিল , আবার বিধাতা তাদের অংশকে মিলিয়ে দিয়ে তাদের এক করার চেষ্টা করলো , কিন্তু আজ আবার সে হারিয়ে ফেলে তার তনুশাকে ।

.

তাহাজ্জুদ এর নামাজ আদায় করে ফজর নামাজ আদায় করে কোরআন নিয়ে বসে তনু । শুক্রবার দিন , তাছাড়া শেষ পাড়া । ভেবেছে খতম দিয়ে রুমেলকে বলবে মসজিদে মিলাদ পড়িয়ে দিতে আর জিলাপি বিলাতে । যেইভাবা সেই কাজ । ঢাকা যাওয়ার আগে ২৯ পাড়ার প্রথম ভাগ পড়ে রেখে গেছিল তনু । আর আজ বসে একসাথে ২৯ পাড়ার বাকি অর্ধেক সাথে ৩০ পাড়া পুরোটা পড়ে কোরআন খতম দেয় তনু । কোরআন কালিম খতম দিয়ে মোনাজাত ধরে তনু । আল্লাহ পাকের কাছে দু’হাত তুলে দোয়া চায় । 
আজ এই দু’হাত উঠেছে শুধুমাত্র নিজের পরিবারের জন্যে নিজের সন্তানের জন্য আর নিজের………… জন্য । হ্যাঁ , স্বামীর জন্য । তার সন্তানের বাবার জন্য । মনের কষ্ট মনেই থাক । কিন্তু সন্তানকে যার ভরসায় রেখে এসেছে তার ক্ষতি কিভাবে চাইবে । তাই আল্লাহর দরবারে আজ সেই মানুষটার জন্যেও হাত উঠেছে তনুর ।

.

জুমার দিন আজ । সব কাজ আগে ভাগে সেড়ে নেয় তনুশা । তারপর রুমেলকে টাকা দেয় । নিজের টাকায় সন্তানের জন্য মিলাদ দেয় তনু । ভেতরে ভেতরে মেয়েটার জন্য কলিজাটা ছিড়ে যাচ্ছে তার । কিন্তু তবুও নিজেকে ধরে রেখেছে তনু ।

.

অপরদিকে ঢাকায় ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

দুপুর ১১ টায় চোখ মেলে তাকায় তাওহীদ । নিজেকে ফ্লোরে আবিষ্কার করে তাওহীদ । তনুর শাড়িটা বুকে জড়িয়ে কাদতে কাদতে ফ্লোরেই ঘুমিয়ে পড়ে তাওহীদ । আজ শুক্রবার , সাওয়ার সেড়ে পাঞ্জাবি পড়ে মসজিদের দিকে রওনা দেয় তাওহীদ । সবাই অবাক তাওহীদকে দেখে । আজ নামাজে গিয়ে বাসার সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় । অন্যায় তো অনেক করেছে । তবুও আল্লাহ তাকে অনেক কিছু দিয়েছেন । সব থেকে বড় উপহার দিয়েছেন তনুর মাধ্যমে সে হচ্ছে তার কলিজার টুকরা তাহুরা । কিন্তু সে তার জীবনের সব থেকে মূল্যবান জিনিসটা হারিয়ে ফেলেছে । আজ সেই মূল্যবান জিনিসটার জন্য আল্লাহ দরবারে ফরিয়াদ জানাতে যাচ্ছে । আল্লাহ যাতে তার সমস্ত গুনাহ মাপ করে দিয়ে সেই মূল্যবান জিনিসটা তাকে ফেরত দেন । 
চেষ্টা তো সে করবেই কিন্তু আল্লাহর রহমতও তো লাগবে । সেই রহমতের জন্যেই আজ আল্লাহর দরবারে যাচ্ছে তাওহীদ ।

বিকেলের দিকে তনু চুপচাপ রুমে বসে আছে । ঘুরেফিরে মেয়েটার কথা মনে পড়ছে তার । মেয়েটা এখন কেমন আছে ? কি করে ? খেয়েছে কিনা ? এইসব ভেবে ভেবে অস্থির তনু । ভেবেছে একটা কল দিবে তাওহীদকে । তারপরও নিজেকে দমিয়ে রেখেছে সে । রাত্রি তনয়া রুমেল রুবেল সবাই তনুর কষ্ট টা বুঝে কিন্তু কিছুই বলে না । বলবে কি করে যা করার তনু নিজে করেছে , নিজের জ্ঞানে করেছে । তাই সবাই চুপচাপ । তবে ভাগনির জন্য তাদেরও বুক ফাঁটে ।

.
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা । ঘড়িতে ৭ টার কাটা ছুই ছুই । তখন কলিংবেল বেজে ওঠে । বিষন্ন মনে তনয়া গিয়ে , দরজা খুলে দেয় । দরজা খুলার সাথে সাথে কে যেন চিৎকার দিয়ে ডেকে উঠে

.
– মনিইইইইইইইইইইইই , আমি এতে গেতি

.
তাহুরা , হ্যাঁ তাহুরা চলে আসছে । তাহুরার গলার শুনে রাত্রি রুমেল রুবেল দৌড়ে দরজার কাছে যায় ।

.
– মিমিইইইইইই , মামা সোনায়ায়া
– মাম্মাম পাখি তুমিইইইইই
– হুম আমিই তো

.
সবাই তাহুরাকে নিয়ে মেতে উঠছে । এতই আনন্দিত যে একজনের পর একজন তাহুরাকে কোলে তুলে নিচ্ছে , চুমু দিচ্ছে কিন্তু দরজার সামনে যে আরও তিনটা মানুষ দাঁড়ানো তা তাদের খেয়ালেই নেই । হ্যাঁ , 
তাওহীদ , মাইশা আর সাকিল এসেছে । আসলে হয়েছে কি , তাওহীদ নামাজ পড়ে এসে এদের সবাইকে সত্যিটা জানিয়ে দেয় । সত্যিটা জানতে পেরে মাহবুব সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়েন । রাবেয়া বেগম লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলেন । আর মাইশার বক্তব্য – আমি জানতাম ভাবী এমন না তখন কেউ শুনলে না আমার কথা , এইবার ভালো হয়েছে তো ? 
তারপর ডিসিশন নেয় তাহুরাকে নিয়ে তাওহীদ মাইশা আর সাকিল চট্টগ্রাম যাবে । মাহবুব সাহেবের অনুরোধ , যেভাবেই হোক তনুকে নিয়েই যাতে বাসায় ফিরে প্রয়োজন পড়লে তিনি তনুশার পায়ে পড়বেন এই সেই ।

.
কিছুক্ষন পর সবার নজর দরজার কাছে যায় । পরিপাটি অবস্থায় এদের তিনজন কে দেখে অনেকটাই চমকে যায় এরা । 
রুমেল মাইশাকে দেখে অবাক হয়ে রয় । চুপচাপ নিরবতা পালন হচ্ছে মনে হচ্ছে । নিরবতা ভেঙে তাহুরা রাত্রিকে বলে ওঠে

.
– এই মিমি আমাল মাম্মাম তই
– তোমার মাম্মাম শুয়ে আছে সোনা , যাও মাম্মামের কাছে , অনেক কেদেছে তোমার মাম্মাম তোমার জন্য 
– মাম্মাম ও মাম্মাম , মাম্মাম ও মাম্মাম
– আপনারা ভেতরে আসুন

.
– ওদের ভেতরে যেতে বললে আমাদের যেতে বলবে না

.
পেছন থেকে কন্ঠটা ভেসে ওঠে । সবাই পিছনে তাকায় । পিছনে তাকিয়ে তাওহীদ হেসে দেয় । হ্যাঁ আফরোজ এবং তার হাজবেন্ড ওয়াসিম আর তার পাজি ছেলেটাও আসছে । আসলে আফরোজ আর থাকতে পারে নি । একদিকে তনুকে দেখার আকাঙ্খা অন্যদিকে তাহুরাকে তার বাবা এবং মা দুজনকেই ফিরিয়ে দিতে তার আজ এখানে আসা । তাই তাওহীদের সাথে ওরাও এসেছে । আফরোজকে দেখে রুমেল তনয়া এগিয়ে যায় ।

.
– আপুউউউউ তুমি 
– এত বেইমান কেন রে তোরা ? একটা বার খোঁজ নিলি না 
– ভুল হয়ে গেছিল আপু 
– হইছে 
– ওয়াসিম ভাই কেমন আছেন ? 
– আলহামদুলিল্লাহ ভালো 
– এটা কে ? 
– তোমাদের ভাগিনা , বড় বাটপার 
– আমার ছেলেকে খবরদার বাটপার বলবা না 
– চলেন ভেতরে আসেন সবাই ভাই 
– হ্যাঁ চলো

.
পুরো বাসায় মনে হয় আনন্দের বন্যা । কিন্তু এখনও তাওহীদের সাথে রুমেল কিংবা কেউই কথা বলে নি ।

.
– তনু কইরে রুমেল 
– আফরোজ আপু ওর শরীরটা ভালো না ভেতরে শুয়ে আছে । তাহুরা গেল তো

.
এদিকে তাহুরা চিৎকার দিতে দিতে ভেতরে যায় । মাম্মাম ও মাম্মাম , তাহুরার মাম্মাম শব্দটা সোজা তনুর কানে গিয়ে বাড়ি খায় । লাফ দিয়ে উঠে খাট থেকে নেমে যায় তনু ,

.
– মাম্মাম পাখি 
– মাম্মাম , ও মাম্মাম 
– মাম্মাম পাখি

.
তাহুরা দৌড়ে এসে তনুর বুকে ঝাপিয়ে পড়ে । তনু তার শরীরের সব টুকু শক্তি দিয়ে মেয়েকে আঁকড়ে ধরে । অজস্র চুমুতে ভরিয়ে দেয় মেয়ের গাল কপাল ।

.
– মাম্মাম পাখি , কার সাথে এসেছো
– পাপাইয়ের সাতে , জানো মাম্মাম আলো অনেতে এতেতে 
– কে মাম্মাম পাখি 
– তলো মাম্মাম তলো আমি দেতাই

.
তাহুরা তনুকে টানতে টানতে ড্রইং রুমের দিকে নিয়ে যায় ।

.

ড্রইং রুমে এসে আকাশ থেকে পড়ার মতো অবাক হয় তনু । একদিকে যেমন তাওহীদ অন্যদিকে আফরোজ বসা । সব থেকে বেশি অবাক হয় আফরোজকে দেখে । আফরোজও অবাক তনুকে দেখে । এ কি সেই তনুশা ? চেহারাটা কেমন শুকিয়ে গেছে , চোখের নিচটায় কালি পড়ে গেছে , শরীরটাও ভেঙে গেছে । কি তনুশা কি হয়ে গেছে । উঠতে কষ্ট হলেও সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে আফরোজ ।

.
– আফরোজ আপু তুমিইইইইইই
– এত স্বার্থপর কবে হলি তনু ? 
– আপু
– কে আপু ? কিসের আপু ? ৫ টা বছর তনু , ৫ টা বছর , ১৮২৫ টা দিন । এই এত গুলো দিনের মধ্যে একটা দিনও কি আমাকে তোর মনে পড়ে নাই তনু
– পড়ছে রে আপু অনেক মনে পড়েছে । শুধু পিছনে তাকাতে চাই নি , কারন পিছনের ওই কালো অন্ধকারটা আমাকে এই ৫ টা বছরে প্রতিটা দিন প্রতিটা রাত ঘ্রাস করেছে রে আপু

.
এই বলে আফরোজকে জড়িয়ে ধরে তনু । 
তারপর আফরোজ তার ছেলে আফনানকে দেখিয়ে দেয় । আফনানের কাছে গিয়ে ও-কে আদর করে দেয় , ওয়াসিমের সাথে কথা বলে তনু ।

.
অন্যদিকে তাওহীদ তনুর দিকে তাকিয়ে থাকে । দুইদিনেই ওর শরীরটা মনে হয় আরও খারাপ হয়ে গেছে । কিভাবে যে সে তনুর সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে নিজেই জানে । এদিকে তাওহীদ , মাইশা , সাকিলকে দেখে অনেকটাই অবাক হয়ে যায় তনু ।

.
– আপনারা সবাই এখানে ? 
– আমি বলি তনু ? 
– হ্যাঁ আপু বলো 
– আসলে আমি সব বলে দিয়েছি তাওহীদ সাহেবকে 
– কি সব বলে দিয়েছো আপু
– আসলে , তনু আমি তোর আর রাফাতের সব সত্যি কথা ওনাকে বলে দিয়েছি 
– ওহ আচ্ছা , সেই জন্যে ক্ষমা চাইতে এসেছেন নিশ্চয়ই , তাই না ? 
– তনুশা , 
– থামুন , ওখানেই থেমে যান , এসেছেন মেয়েকে নিয়ে , আমার কাছে থাকুক আজ রাত টা । কাল ও-কে নিয়ে চলে যাবেন । কিন্তু আমাকে নিয়ে যাওয়ার কথা মুখ দিয়েও বের করবেন না 
– তনুশায়ায়ায়া
– ভাবী ,,,,,,,, 
– আমি তোমার ভাবী নই মাইশা , তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে 
– তনু জানি কষ্ট পেয়েছিস , অনেক কষ্ট পেয়েছিস , কিন্তু মেয়েটার দিকেও তো তাকাতে হবে তাই না ? 
– তাকিয়েছি তো আপু , তাহুরাকে তো আমি ওনাকে দিয়ে দিয়েছি 
– তোর মেয়ের তো একজন দিয়ে হবে না তার মা-বাবা দুজনকেই চাই , সেটা বুঝবি না তুই 
– সব বুঝা-বুঝির পর্ব ৫ বছর আগেই চুকে গেছে আপু

.
তনুর ক্ষোভটা অনেক দিনের । কমতে সময় লেগে যাবে । মেয়েটার কষ্ট গুলো অনেক গাঢ় । সেই ছোট থেকে কষ্ট করেই আসলো মেয়েটা । তারপর স্বামীর বাড়িতে গেল । শান্তিতে ঘরটাও করতে পারলো না ঠিক মতো । রাতের অন্ধকারে স্বামীর ঘর ছাড়তে হলো তাকে । মেয়েকে গর্ভে নিয়ে বাবার অকাল মৃত্যু দেখতে হলো তাকে । সব কষ্ট গুলো তাকে একত্রে ঘ্রাস করেছে

.
তাওহীদ বুঝে গেছে তনুর অব্যক্ত কথা গুলো । তাই তো চুপ আছে । এখন শুধু তনুকে একা পাওয়ার আশা ।

 

About Author


Administrator
Total Post: [352]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy