তুমি আমার ভোর [২৩,২৪ তম পর্ব]

লেখাঃ জেরিন হাবিব

-ভোর দরজা খোলতো ভাত খাবি ঔষুধ খেতে হবে অনেক হয়েছে,এখন অার শুনছিনা তোর কথা,দরজা খোল।ভোর…এই ভোর,.. ভোর অনেকক্ষন ভোরের দরজায় করা নারে ভোরের মা,কিন্তু ভোরের কোনো সারাশব্দ নেই।ভোর উত্তর ই দেবে কি করে ভোরেরতো কোনো জ্ঞানই নেই । গত অাড়াই ঘন্টা যাবত জ্ঞান হারিয়ে পরে রয়েছে,। অনেক ডাকাডাকিতে মেয়ের সারা না পেয়ে তারা দরজা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নেয়,ভোরের বাবা এবং বাড়িতে থাকা কাজের লোক ভোরের ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভোরকে মাটিতে পরে দাকতে দেখে। ভোরের বাবা এ্যাম্বুলেন্সকে ফোন করে সাথে তির বন্ধু ডাক্তার অাশরাফকেও ফোন করে,অার ভোরের মা কাব্যকে জানিয়ে দেয় ভোরের অবস্থার কথা। অাধাঘন্টার মাঝে ভোলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় যে হাসপাতালে ভোরের চিকিৎসা হচ্ছে সেই হাসপাতালেই। এর মাঝে ডা.কাব্য অার ডা.অাশরাফ ফোনেই অনেকটা কথোপকথন সেরে নেয় এবং সিন্ধান্ত নেয় ভোরের অপারেশন অাজই করবে ডা.কাব্য,।ডা.অা শরাফ কাব্যর সাথে কথা শেষ করে হাসপাতাল কতৃপক্ষকে ও.টি. তৈরি রাখতে বলে।যাতে করে ভোরের অপারেশনটা অাজই সারতে পারে তারা। <কাব্য> এমন কি বলে ফেলেছে ভোরের সে!সে জানে না ভোর অসুস্থ!এত বড় সাহস হয় কি করে ,ভোরের লাস্ট কয়েক রিপোর্ট অনুযায়ি অামাকে অাজই অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নিতেই হলো।তার ওপর ওর এখনও জ্ঞান ফেরেনি,নাক দিয়ে রক্ত পরছে,এই ভাবে অারো কিছু ক্ষন থাকলে ওকে বাচানো যাবেনা। মেয়েটা অামার সামনে অচেতন হয়ে পরে অাছে,নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে অনবরতো,অামার কেনো যেন হাত পা অার চলছে।অামি এখানে শুধু ফরমালিটিস্ পালন করছি।মাঝে মাঝে পালস্ দেখছি,বি.পি. দেখছি অার যা প্রয়োজন সে অনুসারে মেডিসিন রিকমেন্ট করছি,।অার অামার চোখের সামনে মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছে ভোর। ভোর ভালোবাসার মানুষ চিন্তে এতোটা ভুল করলে ভোর !যার কারণে অাজ তোমার অারও খারাপ অবস্থা,কৈই সে তো একবার এসে তোমার খোজ করছে না।সে যা করার করে দিয়েছে,তোমাকে বাচাতেই হবে,।কারণ অামার দাবার চাল এখনও বাকি ভোর,হঠাৎ নার্সের কথায় অামার ভাবনার ছেদ ঘোটল,ভোরকে ১৫ মিনিটের মধ্যে ও.টি. নেওয়া হয়ে যাবে,,অামিও তৈরি হয়ে নিলাম। ওপারেশন থেয়েটার… অামার হাত রীতিমত কাপছে,ভোরের সম্পূর্ন সার্জারি অামাকে করতে হবে।অামি অাজ প্রথমবারের মতো নিজেকে অনেক নারভাস দেখতে পাচ্ছি,নিজের খুব কাছের মানুষের বাচা মরা যখন নিজের হাতে থাকে তখন বোধ হয় সবাই এতোটাই অসহায় বোধ করে।কারণ নিজের কোনো একটা ভুল নিজের কাছের মানুষটাকে চিরদিনের মতো হারিয়ে ফেলতে যথেষ্ঠ। অামি ভোরের সার্জারি করছি অার অাল্লাহ্ কাছে অাকুল অাবেদন করছি,ভোরের যেন কোনো ক্ষতি না হয়ে যায়,ও অামাকে কাছের না ভাবুক অামিতো কখনও একবকর হলেও ভেবেছি,।ওকে অামি এভাবে হারাতে পারবো না,হারাবো কি পাইনি কখনও কিন্তু অামি পারবো না দেখতে ভোরের অসময়ে চলে যাওয়া। প্রায় ৮ঘন্টা যাবত ভোরের ওপারেশন হলো,কাব্যর সাথে ডা.অাশরাফ সহ অারো তিনজন ডাক্তার ছিল,।ওপারেশন শেষে ডা.অাশরাফ ভোরের বাবা মাকে ভোরের খবর জানালো,তাদের জানানো হলো অাগামী ৭২ ঘন্টা না গেলে তারা কিছুই বলতে পারবে না তারা,ভোরের বাবা মা অনেক অাগে ভেঙ্গে পরেছে যতটুকু অাশা বেধে রেখেছিল ডা. অাশরাফার কথায় অার কিছুই ভাবতে পারছে না ।এই কথা তাদের মনোবল অারো দূর্বল করে দিয়েছে। কোনো বাবা মার পক্ষেই সম্ভব না এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুক্ষীণ হওয়া। ।কাব্য সার্জারির পর এক মুহূর্ত ভোরকে চোখের অারাল করতে রাজি না,সকাল ৮ টা নাগাত কাব্যের সাথে ভোরের মা কথা বলেন উনি অনেকটাই ভেঙ্গে পরেছেন,, -কাব্য অামি একটু তোমার সাথে কথা বলতে চাই, -জ্বী অান্টি! -তুমি অামাকে একটু ঠিক করে বলতো ভোর বাচবে কি না? -অান্টি অাপনি এ ভাবে কেন বলছেন? -কি ভাবে বলবো বল!অামার মেয়েটা অামার চোখের সামনে হারিয়ে যাবে? যে হাতে ওকে অামি জন্ম দিয়েছি সেই হাতে অামি ওকে….(কেদে) না না তুমি ঠিক করে বলতো ওর অবস্থা এখন কি ? -অামি অামার যথা সাধ্য চেষ্টা করছি,।ও ভালো হয়ে যাবে। অাসলে ওর জ্ঞান হারানোর কারন ছিল ইন্টারনাল ব্লিডিং,একটা সময়ে এসে ওর নাক দিয়ে বের হয় কাল রাতে॥ অাজ ওপারেশন করে এ্ক্সট্রাননাল ব্লিডিং বন্ধ হলেও ইন্টারনাল ব্লিডিং বন্ধ করতে পারছি না, এই ইন্টারনাল ব্লিডিং এখন বন্ধ হবে তখনই যখন ভোর ট্রোমা থেকে বের হতে পারবে,।ওর ব্রেনে কিছু জিনিস অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির কারণে এই প্রোবলেম। -কাব্য ওকে ঠিক করে তোলোতোমার সবটুকু দিয়ে। -[ভোরের মাকে অামি সান্তনা দিয়ে এলাম অামাকে কে দেবে?!অামিও যে অার পারছিনা।এই কয়েক ঘন্টা ভোর ওর অসুখটার সাথে যুদ্ধ করছে অামি অামি নিজের সাথে।নিজের সাথে যুদ্ধটা যে অারো কত কঠিন তা প্রকাশ করা যাবে না।কারণ দুপক্ষেই অামি দাড়িয়ে এক দিকে অামি স্বাত্তা অার অপরদিকে অামার বর্তমান।] …… অাজ একদিন হয়ে গেল ভোরের জ্ঞান ফেরেনি,ভোর নিজে।এই একদিন কাব্য একমুহূর্তের জন্যও ভোরকে চোখের অারাল করেনি,জ্বরের শরীর থাকার কারণে কাব্যও খানিটা দূর্বল,ভোরকে কাব্যের সাথেও অারো দুজন ডাক্তার প্রতি নিয়ত ভোরকে নজরে রেখেছে।কিন্তু ভোরের কোচ নো উন্নতি কারো চোখেই পরছে না বরং কয়েকবার ভোরের অবস্থা অারোও খারাপের দিকেই গিয়েছে, অক্সিজেন মাক্স থাকার স্বত্বেও সে শ্বাস নিতে পারছিলনা অার মাঝে মাঝে তো প্বের মতো নাক দিয়েও রক্ত বের হয়েছে।যতবার কাব্যকে ভোরের রক্ত বের হতে দেখতে হয়েছে সে প্রতি মুহূর্ত কাব্য অারো শক্ত হয়ে গেছে,এই শক্ত মনোবল পেয়ে হওয়া শক্ত না,এই শক্ত কাদতে না পেরে হয়ে যাওয়া শক্ত। মানুষ বলে ছেলেদের কাদতে নেই সাথে এটা কেউ বলে না কেন কাদতে নেই।কারণ তারা যদি কেদে ফেলে তাহলে দূর্বল পৃথিবীকে সামলাবে কে, তবে কি ছেলেরা কাদে না!ছেলেরা কাদে কিন্তুসবার সামনে নয়,লোকচক্ষুর অারালে,হয়তো বা কোনো বদ্ধ রুমে যে রুমের অন্ধকার তার কান্নার বাহিরে অাসতে দেবে না। কাব্যও ঠিক একই কারণে সবার সামনে তারও চোখের পানি সবার সানে গরিয়ে যেতে দিতে পারছে না। ভোরের অবস্থা কিছুটা স্টেবল্ দেখতে পেরে ২য় দিন কাব্য অাধাঘন্টার জন্য বাড়ির পথে অাগায়,কারণ সার্জারির রাত পার করে পুরো একদিন হয়ে গেছে কাব্য বাড়ির পথে ভুলেও পা বারায় নি। কাব্য বাড়ি ফিরেছে ফ্রেশ হয়ে এসে অাবার তৈরি হচ্ছে হাসপাতালে ফিরে যাওয়ার জন্য,খাওয়া তো সে অনেক অাগেই ছেড়ে দিয়েছে,,কাব্য তৈরী হচ্ছে অার ভোরের সাথে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতি চারন করছে।স্মৃতি যে অনেক বেদনা দায়ক তা সে এই মুহূর্রে খুব ভালো করেই উপলোব্ধি করতে পারছে।তাকে এই ভাবনার রাজ্য থেকে ফিরে অাসতে হয় হাসপাতাল থেকে অাসা ফোনের জন্য,,, -ডা.কাব্য অাপনার অাসতে অার কত সময় লাগতে পারে!?(অন্য ডাক্তার) –অামরা মনে হয় ভোরকে অার বাচাতে পারবো না,অাপনি যতো তারাতরি পারেনহাসপাতালে চলে অাসুন । -এই ভাবে বলবেন না প্লিজ,অামাদের তো দায়িত্ব রোগিকে বাচানো।অামরাই যদি হাল ছেরে দেই তাহলে কি করে হবে,। -অামরাতো ছাড়তে চাইছিনা,ভোরতো নিজেই ছেড়ে দিয়েছে,।ভোর নিজেই চাইছেনা অার বাচতে। অাপনি ডাক্তার হয়ে যানেন,রোগী নিজেই বাচার অাশা ছেড়ে দিলে অামাদের হাতে অার কিছুই করার থাকে না। -হুম,”….” অামি অাসছি। যাবার পথে কাব্যের সামনে কেয়ারটেকার মতিন। দুদিনে কাব্যর অবস্থা দেখে, খাবার না খাওয়া ,বিশ্রাম না নেওয়া সে অনেক চিন্তিতো,।মতিন কাব্যার পথ অাটকিয়ে দারিয়েছে। -ছোট সাহেব না খেয়ে অাপনার অার এখন কোথাও যাওয়া হবে না। ভোর অাপা অামারে যাবার অাগে কইছে এই দেশে এসে অাপনের অার কখনও কোনো অযত্ন না হয়। অাবার যদি কিছু হয় তাহলে ভোর অাপা অামার ওপর অনেক বেজার হবে,। {কাব্য মতিনের মুখে ভোরের কথা শুনে অনেকা অাবেগী হয়ে পরে,} -মতিন ভাই অামি বোধ হয় তোমার ভোর অাপাকে অার বাচাতে পারলাম না।{মতিনের কাধে হাত রেখে} -না না ছোট সাহেব,অাল্লাহ্ অাছেন ওনার ওপরে ভরষা রাখেন,অাল্লাহ্কে ডাকেন। -ওনার ওপরই এখন সব ছেড়ে দিয়েছি। অামি এখন কিছু খেতে পারবো না,অামার গলা দিয়ে নামবে না কিছু,তুমি খেয়ে নিও অামি অাসি, -অাপনে কিছু খায়ে নিয়েন অাপার অবস্থার উন্নতি হলে। কাব্যের তারাহুরোতে মতিন এটাও জানাতে পারেনি যে অাজ রাতে তার বাবা মা ফিরছেন। হাসপাতালের যাবার পথটা কাব্যের যেন অার কাটছে না,না চাইতেও অনেক অাজেবকজে চিন্তার তার মনে ভির করেছে,যা তার পথকে যেন অারো দ্যৈর্ঘ করে দিয়েছে।ভোরকেনা দেখা পযন্ত সে শান্তি পাবে না।কাছের মানুষগুলোর সামান্য অসুবিধা বেকুল করে তোলে ,সেখানে ভোরের অবনতির ফলে কাব্যের অবস্থা বলাই বাহুল্য। হাসপাতালে পৌছে কাব্য পুরো থমকে দাড়িয়ে অাছে ভোরকে দেখে,ভোর অনেকক্ষণ পরপর একবার করে শ্বাস নিচ্ছে,মনিটরে তার পালস্ রেট দেখা যাচ্ছে যা মোটেও গ্রহন যোগ্য নয় ।কর্মরত ঐ দুই ডাক্তার,নার্স ভোরকে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। ভোরকে বাচাবার শেষ প্রক্রিয়া চলছে,অক্সিজেন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে,একের পর এক ইনজেকশন পুষ করা হচ্ছে,।ভোর পুরো ক্লান্ত হয়ে পরেছে, এই মৃত্যু যুদ্ধে সে যেন এখন অপারগ সৈনিক। যা করতে হবে কোনো ত্রুটিই রাখছে না ডাক্তাররা,কিন্তু কাব্য মুর্তি প্রায়।কোনো অনুভূতিই তাকে ছুয়ে যাচ্ছে না।তার মনে হচ্ছে ভোর তার কাছে এসে কানে কানে বলছে,”কাব্য দাবার শেষ চালটা তুমি দিতে পারলে না,অামি সেই সেযোগ রাখলাম না।খেলা যে এখানেই শেষ।” মনের অজানতেই কাব্যের গাল বেয়ে নোনা পানি বয়ে চলে অাসছে,কাব্যের খেয়াল হলো অন্য ডাক্তারের একটা কথায় “অার হবে না I think we lost her.” কাব্য কথাটা শুনে পুরো অাতকে উঠলো,চোখের পানি মুছে ভোরের কাছে গেল।সে অার একটা চেষ্টা করতে চায়,। <কাব্য> ভোর এই ভাবে অামায় শেষ করতে পারে না।ওকে অামি এ অধিকার দেই নি,ওকে বাচতে হবে,খেলা বাকি অাছে॥ ওকি ভেবেছে ওর যা মন চাবে ও সেটা করবে ,অনেক হয়েছে যার সাথে যা যা ইচ্ছে হয়েছে ও করছে ।অামার সাথে চলবে না।অামি হতে দিচ্ছি না। শেষ একটা ইনজেকশন পুষ করেছে কাব্য,যার ৩০ মিনিটের মধ্যে সবকিছু বলে দেবে ভোর বাচবে না কি,… কাব্য হঠাৎ ভোরের কাছে গিয়ে ভোরের কানে কনে বলতে লাগলো,কারণ ভোর সব শুনতে পারছে ফুঝতে পারছে,… -ভোর হার মেনে নিলে এতো তারাতারি,এতে ভিতু তুমি ,ইামি ভাবতেও পারিনি,অামি ভাবেছিলাম তুমি বেশ সাহসী কিন্তু অামার ধারনা যে ভুল তা তুমি প্রমান করেই দিলে কারন তুমি ভয়ছো অামাকে। অার হ্যা অামাকে অভিনন্দন জানালে না! অামিতো যিতে গেছি,এখন পর্যন্ত শেষ চাল তোমার থাকলেও অামি জিতেছি কারণ তুমি অল্পতেই হাপিয়ে উঠেছো।সেই কারণেই তো চলে যেতে চাইছো।যেতে চইলে যেতে দিতে পারি কারণ অামি তো জিতে গেছি,অার তুমি না খেলেই হেরে গেছো। কথাগুলো বলছি কাব্যের বলতে যে কি কষ্ট হচ্ছিলো কাব্যই শুধু জানে কিন্তু তবুও বলেই যাচ্ছিলো কারণে সে যে ভালোবাসে ভোরকে,ভোরকে হারাতে চায় না কোনো ভাবে। হঠাৎ কাব্য খেয়াল করলো ভোর রেসপন্স করছে,ভোরের সবকিছু অাবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে,কাব্য নতুন অালো দেখতে পেলো। (চলবে) [অাশাকরি ভুল গুলো ক্ষমার চোখে দেখবেন।]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*