তুমি আমার ভোর [১৭,১৮ তম পর্ব]

লেখাঃ জেরিন হাবিব

-জিহাদ তুমি কিন্তু এবার বাড়িয়ে বলছো,অামার লজ্জা করছে। -না ভোর ,অামা কিছুই বাড়িয়ে বলছি না,তুমি একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবে। ও,তোমাকে একটা কথা বলতে ভুলেই গেছি,তুমি বেরিয়ে যাবার পর ,বাহিরে অামি একটা ছোটোখাটো ফর্মাল ব্যাচেলার পার্টির এরেঞ্জ করেছি।বাবার অনেক কলিগ ফ্রেন্ডস অাছেন অাজ,ওনাদের সামনে কিছু করা অসম্মানের দেখাবে,তাই অামাদের একটা পার্টি বাড়ির পিছন দিকের ফাকা জায়গাতে করেছি। -বাবা এতো সব কখন করলে,যাই হোক ভালো করেছো। ভোরকে অাজ অনেক সুন্দর লাগছে দেখতে,কাব্যও কিছু কম যায়না। হালকা অাকাশী শার্ট,নীল কোর্ট পেন্ট,তবে অাজ চশমার বদলে কন্টাক্ট লেন্স পরেছে।মৌমাছি যেমন মধুতে অার্কষিতো হয়।অাজ কাব্য সেই মধু,তার জন্য মৌমাছিরা ভীমরি খেয়ে পরছে। ওয়েটার দিয়ে ভোরকে ডেকে পাঠিয়েছে কাব্য ,কাব্যের চিন্তা শুধু ভোর কেন্দ্রিক। <কাব্য> ভোরটাকে অাজ অনেক সুন্দর লাগছে..স্বর্গের অপস্বরী বলে যদি িকছু থাকে তবে অাজ ভোর অপস্বরী।চোখের কাজলগুলো ওর চোখকে অারোও মায়বি করে তুলেছে..ভোর তুমি যে অাস্তে অাস্তে অামার নেশা থেকে প্রয়োজনে পরিনত হচ্ছো তাকি তুমি বুঝতে পারছো!ভোর এতো সুন্দর করে কেন সেজেছো!যার কারণে অামার তোমার কাছ থেকে চোখ সরিয়ে নেওয়া দায় হয়ে গেছে,কি করবো বল পারছি না তো তোমার থেকে চোখ ফিরিয়ে নিতে। অাসে একটা ভয় কাজ করছে যে অামার কি সত্যি যোগ্যতা অাছে তোমার পাশে দাড়ানোর!এতো মূল্যবান সম্পদ অামি সামলিয়ে রাখতে পারবো!-অামায় ডেকেছেন?[এবার অামার কপালে শনি অাছে,এমনিতেই মাঝে মাঝে মাথা গুরছে।কোনো ভাবে যদি বুঝতে পারে ,ভোর তোর খবর অাজ নিউজে বের হবে।](ভোর) -বস,,,তোমাকে বেশ সুন্দর….. বলছি চেকঅাপ করতাম ,কিছু যদি না মনে করো হাতটা ধরতে পারি?(কাব্য) -কেন ধরতে পারবেন না,অামি অাবার কখন বারং করলাম।[বলে হাত বাড়িয়ে দিয়ে মানুষটার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে অাছি,অস্বাভাবিক সুন্দর লগছে।অাজ চশমা কোথায়!ছেলে মানুষের চোখ এত অার্কষনীয় হয়!তবে খুব ভালো করে বোঝা যাচ্ছে যে চোখ দুটো কারো জন্য ভালোবাসা বেধে রেখেছে] অাপনি একটা কলো টিপ লাগিয়ে নিতে পারতেন। -কি?বুঝিনি।[ভোরের হাতটা ধরতে যাব ঠিক সেই মুহূতে হাত বাকাতেই হাতের ওপরের পাওয়া ব্যাথা চাড়া দিয়ে উঠলো,দিনবাড়ার সাথে সাথে যে কোনো ব্যাথাই বাড়তে থাকে ,হোক সেটা বাহিরের কিংবা ভেতরের॥ কোনো ভাবেই হাত বাকাতে পারছি না।] -অাপনি হাতে ওপর ব্যাথা পেলেন কি করে! দেখি!কার রাগ নিজের ওপর ঝেরেছেন অাবার? অাপনি বসুন অামি বরফ অানছি।[এই বলে উঠতে নিয়েছি অার মাথাটা গুরে উঠলো,না পারতে কাব্যের বাম কাধের কলারটা ডান হাত দিয়ে চেপে ধরেছি যাতে পরে না যাই,অার ভাবছি শেষ রক্ষা হলো না, কারণ ইতি মধ্যে ডা.কাব্য অামায় ধরে অাছেন।] -[এই মেয়েটার এতো শরীর খারাপের পরও অন্যর জন্য ব্যস্ত,নিজেকে কি সিনেমার নায়িকা ভাবে।] তুমি কি মরলে তবে গিয়ে অামাকে বলবে তোমার প্রব্লেম গুলো!বস এখানে ,,, তোমার পালস অনেক ধীর হয়ে গেছে ভোর। -ও কিছু না,,অাপনার হোতে বরফ লাগাতে হবে,অাপনি বসুনতো অামি বরফ অানছি। -একটা চড়ে দাতগুলো ফেলে দেব।! তুমি এখন হাসপাতালে যাবে।অামি বরফ পরে লাগিয়ে নেব [চোখে বর্ষার বন্যা নিয়ে অামার দিকে তাকিয়ে অাছে,যেটা কি না অামার দূর্বলতা।] কান্নার কি হলো? -অাপনি এখন থেকে যাযা বলবেন তাই শুনবো,কিন্তু পার্টিটা স্পয়েল করেন না।ডাক্তার অাঙ্কেল জানতে পারলে পার্টি বন্ধ করে দেবেন। প্লিজ -তাহলে এই মুহূতে একটা ইঞ্জেকশন দেবো অামি অার তুমি ৩০ মিনিট চুপ করে বসে থাকবে। -হুম -[ড্রাইভার দিয়ে মেডিসিন অানিয়েছি গাড়ি থেকে,ভোরে প্রয়োজনীয় সব অামার কাছেই রাখি,ইঞ্জেকশন দিয়ে এখন অনেকটাই ভালো ।ও বোঝেনা ওর কিছু হলে অামার ভেতরটা তোলপার হয়ে যায়। এখন জিহাদের বাড়ির পিছনে একটা ছোট পার্টিতে,এটা নাকি ব্যাচেলারদের জন্য।কম বেশি সবাই একটু একটু করে পার্টিসিপেট করছে ] -May I have your attention please,অামি ডা.কাব্যকে last ২-৩ মাস হল চিনি একটা মেডিকেল ক্যাম্প থেকে,অামি এও উনি দারুন গিটার বাজান ,গান গাইতে পারেন।এখন অামরা কাব্যের একটা গান শুনবো।[গিটার এগিয়ে দিয়ে](ডা.ফারজানা)- [এতোদিন হলো একে ওপরকে চেনেন ,ওই জন্যই ঘনিষ্ঠতা এতো বেশি। উনি গানও গাইতে পারেন।জানতাম না! কিন্তু অাজ গিটার বাজাতে কষ্ট পাবেনতো,হাতে অনেকটা ব্যাথা পেয়েছেন।যত যাই হোক ডা.ফারজানা বলেছে ,তার কথা না রাখলে হয়](ভোর) -অামিতো বাংলা গান গাইতে পারিনা,কিছু না মনে অামি ইংরেজি গাইছি। Thissong dedicated to you girl(কাব্য) -[অামার দিকে তাকিয়ে বলছে ,উনার দিকে তাকিয়ে বলুন না যে গাইতে বললো, কি ভাবেই বা তাকায় ,সবাই যে দেখছে।বুঝি বুঝি সবই বুঝি] (ভোর) I found a love for me Darling, just dive right in and follow my lead Well, I found a girl, beautiful and sweet Oh, I never knew you were the someone waiting for me ‘Cause we were just kids when we fell in love Not knowing what it was I will not give you up this time But darling, just kiss me slow Your heart is all I own And in your eyes you’re holding mine Baby, I’m dancing in the dark With you between my arms Barefoot on the grass Listening to our favourite song When you said you looked a mess I whispered underneath my breath But you heard it, Darling, you look perfect tonight Well, I found a woman, stronger than anyone I know She shares my dreams, I hope that someday I’ll share her home I found a love to carry more than just my secrets To carry love, to carry children of our own We are still kids but we’re so in love Fighting against all odds I know we’ll be alright this time Darling, just hold my hand Be my girl, I’ll be your man I see my future in your eyes Baby, I’m dancing in the dark With you between my arms Barefoot on the grass Listening to our favourite song When I saw you in that dress Looking so beautiful I don’t deserve this Darling, you look perfect tonight Baby, I’m dancing in the dark With you between my arms Barefoot on the grass Listening to our favourite song I have faith in what I see Now I know I have met an angel in person And she looks perfect I don’t deserve this You look perfect tonight <কাব্য> অামি গানটা গাইছিলাম শুধু মাএ ভোরের জন্য, অামি গাইছিলাম অার দেখছিলাম অনেকই কাপল ডান্স করছে,হঠাৎ খেয়াল করলাম তাদের মধ্যে জিহাদ অার ভোর মিলে কাপল ডান্স করছে।জিহাদের হাত ভোরকে ছুয়ে অাছে মনতো চাইছিল ওর হাতটা কেটে হাতে ধরিয়ে দেই.। কাব্যের গান গাওয়া শেষ হওয়ার অাগে ভোর একটু দূরে সরে অাসে ,ভোরকে কাব্যের গানের কথা গুলো তারা করে বেড়াচ্ছে,,গানটা অাগে শুনে থাকলেই কাব্যর মুখ থেকে শুনে ভোরে অন্য রকম খারাপ লাগা কাজ করছে। এদিকে ভোরকে এনজেক্ট করা মেডিসিন তার কাজ করা শুরু করে দিয়েছে।ভোর অনেকটাই অন্যমনোস্ক হয়ে পার্টির হৈহুল্লোর থেকে অনেকটা সরে এসেছে। এর মধ্যে কাব্যের গান শেষ,কাব্যের গানে অনেকেই প্রশংসা করছে তার কিন্তু কাব্য পুরো অন্য খেয়ালে ঢুবে অাছে,ওর চোখ দুটো শুধু ভোরের খোজে ব্যস্ত। -জিহাদ ভোর কোথায়। ?(কাব্য) -এখানেই ছিল,অামার সাথে!অামি বাবার ডাকে একটু ভেতরে। গিয়েছিলাম।(জিহাদ) -একটুক্ষণ ওর খেয়াল রাখতে পারলে না।ওর শরীরটা ভালোনা। -অামাকে অাগে জানান নি কেন?অামি খুজে দেখছি অাপনি দেখলে অামাকেও বলেন। -ঠিক অাছে।অামি দেখছি,,তুমি পার্টি সামলাও ।টেনশন করোনা ও অাসে পাশেই অাছে অামি জানি। -ধন্যবাদ, ডা.কাব্য। -[মেয়েটা অনেকটা দুরে গিয়ে দাড়িয়ে অাছে,কি জানি অাবার কি সব ভাবছে,,ভোর তোমার ভাবনার কোনো একজায়গায় কি অামি অাছি? তুমি কি অামায় নিয়ে ভাবো ভোর,তোমার কন্সালনেস দেখে অামায় প্রতি মুহূর্তে ভাবিয়ে তোলে । নাকি অামার ভাবনা ভুল।অামি এই ভুলের রাজ্যে অাজীবন বিচরন করতে চাই ভোর ,কেননা সেখানে তুমি অাছো] এই যে মিস.ভারো কি ভাবছেন এতো??(কাব্য) -[ভয়ে চমকে ]না কিছু না।filling dizzy. -এই মেয়ে এতো ভয় কিসের!অামি কাব্য,{ভোরের গালে হাত দিয়ে}[ডিজইনেস কারণটা অামি জানি,কিন্তু ভয়ের কারণটা কি?কিসের এতো ভয়!] -ভাবছিলাম অাপনার গানের কথা গুলো,কথাগুলো কম বেশি সবাই ভাবে অার কেউ বলে ,কেউ বলেনা। অার ভয় ও নিত্য দিনের সঙ্গি। -ভোর তুমি ভাবো কথা গুলো !? -দেখুন অামি অার পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতোই ,অামারও ভাবনার জগৎ কাজ করে তবে এক সময় ভাবতাম এখন অার ভাবে কি করবো বলুন! -কি করবে মানে!! কি কি ভাবতে শুনি? -বললাম অাপনার গানের কথাগুলো,ছোট্ট একটা টোনাটুনির সংসার,সেখানে টোনাটুনির দুটো টুনটুনি।টুনটুনির সংখ্যা এর চেয়ে হলেও সম্যসা নেই ,,॥ -কেন টুনটুনির ক্রিকেট টিম গরবা নাকি![কথাটায় দুজনঅভই হসে উঠলাম।হাসতে হাসতে খেয়াল করলাম ভোর চোখের পানি মুছে।] এই ভোর কাদছো কেন?কি হয়েছে। -অাপনি অামার কথা বলছে!অামার কাছে তো ওসব ভাবার সাহসই নেই। যখন প্রতিনিয়তো এটা ভাবতে হয় যে অার কিছু সময় অাছে অামার হাতে, তখন এসব সাহস হয় না। যারা অামাকে এতো ভালোবাসে,তাদেরকেই ঠাকঠাক প্রাপ্প দিতে পারছি না অার নতুন করে কাওকে ভালোবাসার মতো দুঃসাহস অামার নেই। -এমন করে কেন ভাবো ভোর ? -অাপনি বুঝবেন না কাব্য ,,যখন মৃর্ত্যর ভয় তারা করে বেড়াবে এসব না জানা অনেক ভয়ই মনে চেপে বসে। অাচ্ছা অামি অার কতদিন বাঁচবো? -অাবার শুরু করলে ভোর? একটু ভরসা অামার ওপর অার বাকি টুকু ওনার হাতে ছেড়ে দাও ।[ভোরের দুগালে হাত দিয়ে ধরে] -অাপনার গানটা কিন্তু সুন্দর হয়েছে ,অাপনি একবার বলেনও না অাপনি গান গাইতে পারেন।ডা.ফারজানার জন্যে গাইলেন সেটাতো জানি,না হলে তো অামাদের সেই সৌভাগ্য কোথায়! অামার খুব dizzy dizzy লাগছে… -[ভালোই বুজেছো ভোর,অামি কার জন্য গেয়ছি ..,তোমার জন্য না ডা.ফারজানার জন্য সেটা অামাই জানি।] ওমন লাগছে মেডিসিনের জন্য,চলে তোমিকে বাড়িতে রেখে অাসি। -বাড়িতে এখন কেউ নেই।অামি এখন যাব না। -“………..” ভোর হালকা করে গান বাজছে…. May I dance with you girl? [অাজ অামি অনেক খুশি,পৃথিবীর সব চেয়ে মূল্যবান সম্পদ এখন অামার সাথে।অামার ভোর এখন অামার সাথে।অাল্লাহ্ জেন ওকে সুস্থ রাখে এবং অামার করে রাখে। ভোরের সাথে কাপল ডান্স করতে অামার খুব ভালো লাগছে খুবই । খেয়াল করলাম মেয়েটা অাস্তে অাস্তে অামার কাছে এসে অামার বুকে মাথা রাখলো।অাহ্ কি শান্তি।!ভোর অামার হাতে হাত রেখে বুকে মাথা রেখে লক্ষী হয়ে অাছো ।হঠাৎ অামার হাতটা ঝেরে ছেড়ে দিয়ে অামাকে খুব শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।অামি একদম ভাবিনি এতো কিছু অামি একসাথে পাব।অাল্লাহ্ অাজ সবটুকু সুখ অামার করে রেখেছেন।তার দরবারে কোটি শুকরিয়াও কম কারণ ভোর প্রথম বার অামায় জরিয়ে ধরেছে। ও অামায় শক্ত করে ধরে অামার দিকে তাকিয়ে অাছে,অার বলছে…..] -তুমি অনেক পচা,অনেক।(ভোর) -কেন কি করেছি?(কাব্য) -এত্ত বড় বড় সুচ ফুটিয়ে দেও অামায় ,অামার লাগেনা?! -I am so sorry,please forgive me.what can I do!?you have to recover,not for you only.there is someone who’s following love with you. -উহুম।মাফ করা যাবেনা,তুমি এছাড়াও অামায় অনেক কষ্ট দেও,। {কলার দু হাতে টেনে ধরে}এই ছেলে অামায় এতো কষ্ট দেও কেন? -[ওর গলায় অনেক অাহ্লাদ,অনেক অভিমান,চোখ ভালো করে খুলেও তাকাতে পারছে না।খুব ভালো করে বুঝতে পারলাম ঔষুধ ভোরকে অনেকটা নিজের বসে করে নিয়েছে।কিন্তু কথাগুলো খুব মন দিয়ে শুনছি কারন কথাগুলো ওর চেপে রাখা কথা।]কার ও কষ্ট দেই!কি কি? -ওই মেয়েটার সাথে ঘোরো কেন?কথা বল কেন? -কোন মেয়ে ভোর? -এ যে এইইই মেয়েটা ,অার কখনও অামি যেন না দেখি ওর সাথে,। -ঠিক অাছে ,কিন্তু কোন মেয়ে।? -“…..” অামি অনেক রেগে অাছি,তোমার ওপর।হুম্… -ও অাচ্ছা!ভোরের রাগ ভাঙাতে কাব্যকে কি করতে হবে? -“……….”এখানে একটা চুমু খাবে! -[ওর অাবদারটার মধ্য কোনো জটিলতা ছিল না,অাবদারটা ছিল অামি যেন ওর কপালে চুমু খাই,ওর সরলতার কাছে নিজের সব টুকু হারিয়ে অাবদারটা রাখলাম,অাবদারটা রাখতে ও অামায় অাবার জড়িয়ে ধরলো….] ভোর!এই ভোর শুনছো? -“……” হুম -বাড়ি যাবে চল,, ………. (চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*