Home Login Register

Naw Story Will Update Regularly......

তুমি আমার ভোর [১১,১২তম পর্ব]


প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......
Home / জেরিন হাবিব / তুমি আমার ভোর [১১,১২তম পর্ব]

Sanju › 3 months ago

লেখাঃ জেরিন হাবিব

“ডা.কাব্য ভোরের রুমে গিয়ে সব কিছু ঠিক অাছে কি না দেখছিলেন।”
-অাচ্ছা অাপনার সমস্যা কি?
-এবার কি বাড়ি থেকে হাসপাতালে না গিয়ে মেডিকেল এসাইল্ম এ যাবার ইচ্ছে অাছে না কি?এক দিনেই এ অবস্থা!!! অামার কোনোই সমস্যা নেই।
-অাপনাকে পাঠাবো পাগলা গারতে।
– তুমি অামার যে অবস্থা করে রেখেছো,অামার ও তাই মনে হয়।ওখানেই যেতে হবে।
-এদিক ওদিক তাকিয়ে ফিসফিস করে কি বলছেন,কিছুই তো শুনিনা।অামার দিকে তাকান অার বলুন ।
-তোমার দিকে তাকাতে বলোনা ভোর ।অামি নিজেকে যে হারিয়ে ফেলি(মনে মনে)
কি বলবোটা কি ! 
-এসব কি! কি সব যে করেন মাঝে মাঝে অামার মাথায় কিছুই ঢুকতে চায় না।তখন তো মাথাই কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
-তুমি যে কি বলছো।এই মেয়ে চুপ করে বসোতো।
ঠিকঠাক চেকঅাপটাও করতে পারছিনা।
[অাজ এখানে অাসার পর থেকে ওর ডান গালের তিলটা অস্বাভাবিক ভাবে অামায় টানছে,কোনোভাবেই চোখ সরিয়ে রাখতে পারছিনা।]
-মা বলেছে অাপনাকে খেয়ে যেতে।
-না না অামি বাড়ি গিয়ে খাব ।এইতো তোমার চেকঅাপ প্রায় শেষ ,অামি উঠবো এখন।
-শুনুন হাসপাতাল অাপনাদের এরিয়া ছিলো বলে অাপনাদের সব কথা মেনেছি।এখন অাপনি অামাদের এরিয়াতে তাই অাপনি অামাদের কথা মানতে বাধ্য।
-হুম বুঝলাম।না মানলে কি করবে??
{ও হাটছে অার ভাবছে,হঠাৎ ওকে কাছে টেনে ,ওর কমরটা জরিয়ে ওর ডান গালের তিলটায় একটা চুমু এঁকে দিলাম।
নাহ্ পারলাম না নিজেকে অার সামলিয়ে রাখতে পারলাম না।}

উত্তর না ডাইনিং টেবিল এই দিও{ওকে ছেড়ে দিয়ে কানে ফিসফিস করে বললাম।
-“……..”
-মুখ টা বন্ধ কর,হাতি ঢুকে যেতে পারে।{বেড়িয়ে অাসতে অাসতে}
<ডাইনিং টেবিল >
[ভোর পুরো লজ্জা রাগে লাল হয়ে অাছে,অাহারে বেচারি কিছু বলতে ও পাচ্ছেনা।অামি অার ভোরের বাবা গল্প করছিলাম।কিন্তু ওকে দেখে বেশ মায়া হচ্ছে।](ডা.কাব্য ){মনে মনে }
-তুমি কিছু বলতে চাইছো ভোর!!(কাব্য)
-“……” 
বাবা তুমি জানোনা খেতে বসে কথা বলতে নেই।উনি না হয় অট্রেলিয়ান গরু ,ওনার পক্ষে মনে রাখা কষ্ট সাধ্যো ব্যাপার।কিন্তু তুমিও কি ভুলে গেছ?(ভোর)
-এই মেয়ে তুমি কি বললে?অামি কি?
-কেনো শুনতে পারেন নি।?কালা হলেন কবে থেকে??খাবার সময় কথা বলতে বারন করেছি।
-ও ,অাচ্ছা মনে রাখবো। যেটা বলেছো।{রেগে}
[মিস.সিভিল সার্জেন ,অাপনি অামাকে এখন চেনেন নি।তুমি অামায় অাবার রাগিয়ে দিলেতো ।এই রাগ ও তোমায় ভাঙ্গাতে হবে ,অার সেটা কালকের মধ্যেই]{মনে}
-এখন বলুন তো কাল কখন অাসবেন।অামি একটু শহরটা ঘুরে দেখবো।বেশ অনেক দিন হলো রিক্সা করে ঘুরি না।
-[তুমিতো নিজের পায়ে নিজেই কুরাল মারলে ভোর]
আঙ্কেল আপনি যদি কিছু মনে না করেন তবে কাল অামি ভোরের সাথে শহরটা ঘুরে দেখতে চাই।কাল ফ্রাইডে অাছে অামারও ছুটি ।অার বাংলাদেশে অামার প্রথম বার অাসা।
-অবশ্যই বাবা,কেনো না।ভোরের অাবদার শুনে অামি চিন্তায় পরে গেছিলা।এই অবস্থা ওকে বাহিরে….
এখন অার কোনো চিন্তাই রইলো না তুমি নিজেই যাচ্ছো ওর সাথে।(বাবা)
-না বাবা।উনি কেনো।।।অামিতো একাই….
অার অামি রিক্সাতে করে বেরাতেচাই।অার ডা.কাব্যের গাড়ি ছাড়া এক কদম চলার অভ্যেস নেই।
-তুমি যা চাও কালকে তাই হবে।
রেডি হয়ে থেকো অামি কাল সকাল ৮ টায় তোমাকে নিতে অাসবো।
-[এই সেরেছে ।কাল দিনটা ভোর তোর পুরোই মাটি। অল টি বেস্ট ফর টুমোরো ভোর]
হুম

পরের দিন,,,
“ডা.কাব্য ভোরের জন্য অপেক্ষা করছে।”
-এই মেয়ে অাসছে না কেন?…
যাক বের হচ্ছেন মহারাণী।
বাহ্।। অাজ কতো গুলে মানুষ কে পাগল করবার ইচ্ছে অাচ্ছে।!
-[বা বা অাজতো ভালোই মানজা মেরেছে ,অাজ ওনার ক্রাশনা দেখলে পুরোই হার্টফেল করতেন।হি হি হি..]
-এখানেই কি দাড়িয়ে থাকবে না যাবে।?
-অামি গাড়িতে করে যাবোনা।অাপনি গাড়ি কেন এনেছেন?
-তোমাকে ওতে চেপে যেতে হবে না।রিক্সাতেই ঘুরবো।
<ভোর>
মানুষটাকে যতই দেখি কেমন অবাক হই।মনে হচ্ছে পাশে একটা রোবট বসে অাছে,এই যে এখন পাশে বসে এদিক ওদিক ঘুরে ঘুরে দেখছে।তবে সবচেয়ে অদভুত লাগে নিজেকে যখন কাব্য অামার পাশে থাকেন ভেতরে কেমন অন্যরকম ফিলিংস হয়।বুকের মধ্যে ঢিপঢিপ করে যা কান পর্যন্ত পৌছায়।নিশ্বাস কেমন যেন ভারিভারি লাগে।এখনও হচ্ছে ওমন।ধুর অার ভাললাগে না।অার কোনো কারণে উনি যখন অামায় স্পর্শ করেন মনে হয় কেউ অামাকে ইলেক্ট্রিক শক দিচ্ছে।হোকনা কেন চেকঅাপ বা কাল রাতের মতো কোনো পাগলামী।অন্যরকম কিছু একটা কাজ করে।

-এই যে কি হয়েছে বলুনতো এত চুপচাপ কেন??!(ভোর)
-“……..”
-কারো ওপর রেগে অাছেন।!?তাহলে তো অাজ তার কিয়ামতের দিন।কিয়ামতটা কার শুনি একটু!?
-“………”{এক নজর ভোরের দিকে তাাকিয়ে}
-ওওওও।এবার বুঝলাম গার্লফ্রেইন্ড কেস ,ওনার সাথে মনোমালিন্যো হয়েছে।
-কি হয়েছে!তুমি একটু সোজা বাংলায় কথা বলোতো ।অামি বাংলায় একটু দূর্বল।
-তবে অাপনি অনেক ভালো বাংলা বলেন। 
-তোমার মুখে অামার প্রশংসা!!! I am little bit surprised.-অামি সত্যিটা বলেছি শুধু।
এখন বলুনতো গার্লফ্রেইন্ডের সাথে কি হয়েছে?
-হা হা হা….গার্লফ্রেইন্ড।!
-[সর্বনাশ,ছেলে মানুষের হাসি এতো সুন্দর হয়!অামিতো কখনও খেয়াল করিনি।করবোই বা কি করে।উনি অামার সামনে রাজ্যের সব রাগ নিয়ে উপস্থিত হন।মাকেও বলতে শুনেছি অার সেদিন ওই ইন্টার্নি ডাক্তারদের কাছেও শুনেছি,উনি না কি সবার সাথে খুব সুন্দর করে হেসে কথা বলেন।]
অামি কি হাসির মতো কিছু বলেছি।
-অামার কোনো গার্লফ্রেইন্ড নাই।
-কিহ্!!!!
-“……….”
-অাপনার মতো মানুষের ছেলের গার্লফ্রেইন্ড নাই ,ভাবাযায় ?
-কেন?অস্ট্রিলিয়াতে থাকি বলে থাকতেই হবে।?
-এসব তো নরমাল না।থাকতেই পারে।অার অাপনি চাইলে যে কোনো মেয়েকে গার্লফ্রেইন্ড বলুন লাইফ পাটনার বলুন,বনাতে পারবেন।
-যে কোনো মেয়ে!?!
-হুম যেকোনো মেয়ে।অাপনি স্মার্ট ,হ্যান্ডসাম,এলিজিয়েবল।অামি গেরান্টি দিয়ে বলতে পারি।
-উহুম কিছু মানুষ এই অস্ট্রিলিয়ানকে হয়তো পছন্দ করে না।
-হতেই পারে না।। অাপনি যে কোনো মেয়ের জন্য পারফেক্ট বলা চলে ।এ যা রাগটা একটু বেশি।।
-“………….”
-ঠিক অাছে ,যদি এমন হয় ও ।অামি বলছি অাপনি যা চাইবেন অামি দেব।প্রমিস।অামি জানি অাপনি পেয়ে যাবেন।
-“………”
ভোর অামি কি খুব খারাপ?? 
-এ মা অামি কখন বললাম অাপনি খারাপ।
এই যে অাপনার কি হয়েছে বলুন তো।
-“……”
-হঠাৎ দুই তিনটা কথা বলছেন ।অাবার সাইলেন্ট মুডে চলে যাচ্ছেন।বলুন তো।কেউ কিছু বলেছে?
“……..”
– কিছু বলবেন?
অাচ্ছা নামুন।চা খাবো।
-এখানে কফি শপ কোথায়?অাসে পাশে তো দেখছি না!
-নদীর ধারে বসে চা খেয়েছেন সাঁকোর ওপরে পানির মধ্যে পা ঢুবিয়ে।
-“……….”না।
-চলুন খাব,অার অাপনের মন খারাপের কারণটা কি জানবো

এখন বলুন ॥ কি হয়েছে।কার ওপর এমন অভিমান।
-“………..”
অামার মনে হয়না সে অামাকে কখনো বুঝবে।so let it be girl. I am nothing for her.
-অায়অাঅা,তার মানে মেয়ে ।কে বলুন না,কি করেছেন উনি?
-“……….”
-কেমন দেখতে?কি করেন?অাপনি পচন্দ করেন?কি ভাবে দেখা? কি ভাবে পরিচয়।
-হিস্স্স্স্।।। এতো প্রশ্ন ?এতো কৌতুহল কিসের?
-অাপনি তো জানেন না ,হাসপাতালে কত ডাক্তার অাপনার রুগী হতে প্রস্তুত।
-“…….”
-কাব্য সাহেব কিছু বলুননা?!
-হুম।
-জাস্ট হুম।?!
-অামি তাকে ইদানিং খুব কাছের মানুষ ভাবি।ভালো লাগে তার সাথে থাকতে।তার প্রতিটি জিনিসে ভালো লাগা তৈরি হচ্ছে প্রতিদিন।
-হুমমমমমমমম। বাঙালি!?!
-“………”
-উনি কিছু বলেছেন?
-হুম।অার যেটা অামার ভালো লাগেনি।
-হয়তো বা ওনার মুড ভালোছিল না।
হয়েছে অনেক হয়েছে।তার সাথে কথা বলে মিটমাট করে নেবেন।এখন মুড ভালো করুন।
হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,

সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে

অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে

সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;

আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,

আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,

মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর

হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা

সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,

তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’

পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন

সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;

পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন

তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;

সব পাখি ঘরে আসে — সব নদী- ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;

থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।

-বাহ্ ভোর তুমি খুব সুন্দর কবিতা আবৃতি করো !{ভোর ,হবে তুমি অামার ভোর,কোনো এক বিকেলে তোমার কলে মাথা রেখে তোমার মুখে কবিতা শুনবো
-হি হি হি ।
জানেন মন খারাপ থাকলে কবি আবৃতি করলে মনটা অনেক ভালো হয়ে জায়
-অাজ কেনো মন খারাপ ভোর?
-অাপনার মন খারাপ তাই।
অাপনার মনের ভাব ব্যাকত করলাম,অাপনার ওনাকে নিয়ে।
অামার কেন মন খারাপ হতে যাবে।
{সত্যি কি অামার মন খারাপ ?ওনার মন খারাপ অামার ভালো লাগছিলো না।তারপর উনি যখন ওনার ওনাকে নিয়ে বলছিলেন।অামার অস্থির লাগছিল।}

সন্ধ্যা,,,
সারাদিন অামি অার ডা.কাব্য ঘুরলাম ।তবে উনি বেশ চুপচাপই ছিলেন,অামার চাপে পারে দুটো তিনটা কথা বলেছেন।এখন অামি এখন ফুচকা খেতে বসেছি।অনেক দিন পর ,,,

-মামা…দু’প্লেট ফুচকা দিয়েন।অামারটা অনেকটা ঝাল দিয়ে,অার ওনারটা একদম ঝাল ছাড়া।(ভোর)
-অামাকেও ঝাল দিয়েই দেবেন।(কাব্য)
-অাপনি ঝাল খেতে পারেন না অামি কালই খেয়াল করেছি।
অাপনি সামান্য ঝাল খেতে পারেন না।অার এর এক্সট্রা ঝাল অাপনি খেতে পারবেন না।
-অামাকে অালাদা করে কিছু মরিচ দেবেন
-অাপনি কি পাগল হয়েছেন!অন্যের রাগ নিজের ওপর কেন ঝারছেন।?
দেখুন এমন করবেন না।

<কাব্য>
অামি একটা ফুচকা,অার একটা মরিচ পুরো খেয়ে যাচ্ছি ।ভোর অামার দিকে না খেয়ে দেপদেপ করে তাকিয়ে অাছে।অামি ওকে খেতে বলেছি,কিন্তু ওর কান পর্যন্ত কোনো কথাই পৌছাচ্ছেনা যেন।হা করে তাকিয়ে অাছে,
কেন ভোর তুমি এটা খেয়াল করেছো যে অামি ঝাল খেতে পারি না,এটা খেয়াল করোনি যে অামি তোমার কতটা হার্ট হয়েছি।অনেকটা ঝাল খেয়ে ফেলেছি,এখন রীতিমত কাশি হচ্ছি

-ডা.কাব্য এবার ছাড়ুন।অাপনার কাশি হচ্ছে তো।
-“…….”[এ মা এই মেয়ের তো চখে পানি টলটল করছে]
-মামা লবন দিন অার পানি দিন।
লক্ষী ছেলে একটু লবন খাও।
-“…..”
[ও কি বললো।এতো অাদর করে বললে কেউ কি অার রাগ করে থাকা যায়,না ভোর পারলাম না অার রাগকরে থাকতে।]
-না লবন না চিনি বা মিষ্টি লাগবে।
-লবন খেলে তারাতারি ঠিক হয়ে যাবে,
অাচ্ছা অাপনি পানি খান।
-[অামাকে ঝালে কষ্ট পেতে দেখে ও এবার কেদেই দিল।এই মেয়ে কেদোনা ।]
ভোর ভোর ভোর কেদোনা ।

About Author


Administrator
Total Post: [358]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy