তুমি আমার ভোর সিজন-২[১ম পর্ব]

লেখাঃ জেরিন হাবিব

<ভোর>
জালিমটা সত্যি জালিম হয়ে গেছে অাজ।বিয়ের জন্য বাবা মাকে রাজি করে ফেললো!কাল অামার বিয়ের হলুদ,অামাকে মেহেদি পরানো হচ্ছে,অামি কি করবো বুঝে উঠছি না।মানুষটা ওপর এখন রাগ অার ঘৃণা জমছে,এমনও মানুষ হয়!অামার কি কোনো মতামতের কারো কাছেই কোনো দাম নেই বাড়ি ফিরেই বাবা মার সাথে তুমুল কান্ডো বাধিয়ে দিয়েছিলাম অামার মূল বক্তব্য ছিল অামার পড়াশুনার কি হবে!অার অামার মতের কি হবে।?অকর তাদের কথা ছিল এমন,তিনি অনেক ভালো ছেলে,তার পরিবার অনেক ভালো, কাব্যের মতো যত্নে অামাকে কউ না কি রাখতে পারবে না।এই কথায় অামি কোনো উত্তর দিতে গেলাম যখন তখন তারা মা, সোনা, যাদু ,পাখি ,পিতলা ঘুঘু সব বলে অামায় বোঝালেন অার অামি ছোটো মানুষগুলোর মতো বসেছিলাম তাদের সামনে ,অার এখন হাত পেতে বসে অাছি মেহেদি পরার জন্য!নিজের প্রতি নিজেরই চরম রাগ লাগছে,হাত পা খোলা থাকার স্বর্তেও বাধা অাছে এমন বোধ হচ্ছে।নাহ্!কিছু একটা করতে হবে,এই ভাবে হাত পা গুটিয়ে রাখলে অামার চলবে না।এই নিয়ে ভাবতে ভাবতেই দেখি ফোনে জালিমটার ফোন এসেছে। প্রথম বার ফোন হয়ে কেটে গেল,অামার এক হাত বন্ধ মেহেদি পরানো হচ্ছে অার এক হাত দিয়ে অনায়াসে ফোনটা ধরা যাবে ইচ্ছে করেই ধরছি না,দ্বিতীয় বারও ফোন হয়ে কেটে গেল।তৃতীয় বার ফোন দেবার অাগে একটা ধমকি ভরা মেসেজ দিয়েছে…,,
”এইবার যদি ফোন বাজতে বাজতে কেটে যায় তবে বাড়ি অাসতে এক মুহূর্ত অামি দেরি করবো না।বাড়িতে এসে যা বলার সব কোলে তুলে নিয়ে বলবো,তাও অাবার সবার সামনে।”
অামি খুব ভালো করেই জানি এই কাজ করতে একটুও দ্বিধা বোধ করবেন না ডা.কাব্য।যে মানুষ জেদের জন্য বিয়ে করতে পারে সে সব ই পারে এখন অামি বুঝতে পারছি ,সার্জারির পর অামার যখন খুব কষ্ট হচ্ছিল তখন উনি কানের কাছে এসব যে সব জেতা হারার কথা বলছিলেন তার স্পষ্ট মানে।তৃতীয় বারে অামি বাধ্য হয়ে ফোন ধরলাম ।
-কি ব্যাপার সজা ভাবে কাজ হবে না কখনও তোমার সাথে তাই না ?(কাব্য)
-“….”
-সেই তো অাঙ্গুল অামায় বাকাতেই হয়।
-“…..”
-কথা বলছো না কেন?হবু বর কে পছন্দ হয় নি!
পছন্দ হক বা না হক বিয়েতো তোমাকে এই কাব্যকেই করতে হবে এটা মনে রেখো।
-“….”
-অার শোন,ভুলেও উল্টো পাল্টা কিছু করার চেষ্টা করো না, কিছু করলে অাপদ তোমারই বারবে মনে রেখো।
-“….”
-“….”
ভোর তুমি অামায় ঘৃণা করো তাই না!?
-[ফোন ধরেছি ঠিকই কিন্তু ওনার বলা কিছুই অামার মাথায় ঢুকছিল না,মাথায় শুধু সেদিনের কানের কাছে এসে বলা কথা গুলো বাড়ি দিয়েই যাচ্ছিল।মানুষ এতোটা নিচে কি করে নামে!
তবে উনি যখন জানতে চাইলেন অামি ওনাকে ঘৃণা করি কি না!তখন অার নিজের রাগকে নাগালের রাখতে পারলাম না ]
হ্যা অনেক,অনেক পরিমাণে অাপনি ভাবতেও পারবেন না কতটা বেশি পরিমাণে করি।
-“…”
[জানিতো অামায় কেন তুমি ভালোবাসতে যাবে?তুমিতো ভালোবাস তোমার ওনাকে।বাসো না কে মানা করেছে!তবে অামার ইগোতে যে অাঘাত করেছো তার দামতো তোমায় দিতেই হবে ভোর।এতো সহজে কাব্য ছাড়বার মানুষ না।]
Pleasure is all mine my would be wife.and I promise you girl,এই মূল্যবান অনুভূতিকে বাড়াতে অামি অাপ্রাণ চেষ্টা করবো
-অাপনি মানুষ না জালিম!?
-যেটা অামার মনে হয় অার কি,তবে নিজেকে মানুষই ভাবি,অার যাই হোক মানুষকে ধোকা দেই না বা অন্যার সামনে ভালো হয়ে থাকার চেষ্টাও করি না।
-অাপনি সত্যিই জালিম,।
-এখানে সত্যি মিথ্যার কি অাছে!বলেছি তো যা ভাবার ভাবতে পারো,
অার এখন বলো মেহেদি পরেছো হাতে!?অামার নাম লিখিয়েছো?
-অাপনার নাম লিখতে যাব কেন?লিখবো না তো অাপনার নাম।
-[কার না লিখাবে তোমার ওই পঁচা প্রেমিকের নাম!]অামার নাম যদি তোমার হাতে না দেখতে পারি ভোর তাহলে ভাবতেও পারছোনা অামি কি কি করতে পারি।
-অাপনার কি করার করে নিয়েন।অামি অাপনাকে ভয় পাই না কি!?
-ঠিক অাছে অামি রাখছি,অার হ্যা কথাটা যেন মনে থাকে।

অামাকে কি এই মানুষটা বাচতে দেবে না?এই ভাবে তিলে তিলে মারার চেয়ে অামাকে ও.টি.র বেডেই মেরে ফেলতো।এই দিন তো অার দেখতে হতো না,না জানি অার কত কিছু অামার জন্য অপেক্ষা করছে।খুভ কষ্ট হচ্ছে,এই সব ভাবতে ভাবতে কখন যে নিজের অজান্তে নিজের গাল বেয়ে পানি পরছে বুঝতেও পারিনি।

<কাব্য>
অামাকে কি সত্যি তুমি ঘৃণা করো ভোর অামি যে সত্যি তোমাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি।অামার তোমার সামনে দাড়ানো কি সত্যি যোগ্যতা নেই!অামি কি এতোটাই খারাপ,!সে দিন যে ফাহাদের এংগেজমেন্ট পার্টিতে আমাকে যা যা বলেছো,তোমার চোখে ডুবে থেকে যার ভালো লাগা খারাপ লাগা কথা শুনেছি,সেগুলো কি একটাও অামার জন্য ছিলোনা?তাহলে কার জন্য চোখে ওতটা মায়া জমিয়ে রেখেছিলে!কার জন্য রেখেছিলে এতো অভিযোগ!কার জন্য ছিল তোমার করা শাসন গেলো!অামিতো সব অভিযোগ মাথা পেতে নিতে রাজি ছিলাম,সব শাসনের দন্ড তোমার কাছ থেকে তোমাকে নিয়ে রাজি ছিলাম,অামিতো ঐ দুচোখের মায়ায় হারিয়ে যেতে রাজি ছিল।
তবে তো খুব স্পষ্ট এসব ছিলো তোমার so called boyfriend এর জন্য ,বাহ্!ভোর বাহ্!তোমার তারিফ করতে হচ্ছে।ভালো করে এই দুদিনে যা রোম্যান্সে করার করে নাও তারপর তাকে অামি তোমার ধারের কাছেও অাসতে দেব না।অার তো রোম্যান্সে সেতো কল্পনাতেও অতীত।
…….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*