গড়াওয়ালিতে একদিন [পর্ব-৫]

গড়াওয়ালিতে একদিন

লেখকঃ মাহমুদা জান্নাত মৌ

পর্বঃ ৫

নিয়াশা জানালার কার্নিশে হাত দিয়ে দাড়িয়ে বাইরের দিকে চেয়ে আছে, জানালা দিয়ে বাতাস এসে ওর শরীর ছুয়ে যাচ্ছে বেশ ভালোই লাগছে, সকাল থেকে মাহির একবারও আসেনি এ ঘরে ওর জন্য মন টা কেমন জানি করছে, কাওকে কিছু জিজ্ঞেস করাও যাচ্ছে না, ওই তো সাইব ওখান দিয়ে যাচ্ছে ওকে জিজ্ঞেস করে দেখি। ও কিছু বলার আগেই সাইব এলো ওর জানালার সামনে।
– নিয়াশা আপু কেমন আছো?
– হ্যা ভালো আছি, তুমি কোথায় যাচ্ছো।
– কোথাও না তোমার কাছেই আসছিলাম মাহির তোমার খবর নিতে পাঠালো।
– মাহির কোথায়, ও নিজে আসতে পরলো না?অভিমানী কন্ঠে বললো নিয়াশা।
– আসলে কাল তোমার আর গরাওবির অভিষেক ও তো সেনাপতি ওর অনেক দায়িত্ব সেই সব কিছুতেই ব্যস্ত আছে, মাহির পরে যখন সময় পাবে তখন আসবে, তার আগে আমাকে পাঠালো তোমার খবর নিতে।
– এই কথায় নিয়াশার মন খারাপ হয়ে গেলো, কাল রাতের কথা মনে পড়ে গেলো ওর,তাহলে কি ও সত্যিই আটকা পরে গেলো এই গড়াওয়ালিতে।
– কি হলো আপু মন খারাপ হয়ে গেলো কেনো?
– নিয়াশা মুখে জোর করে একটু হাসির রেখা টেনে বললো না তো কিছু না।
– আচ্ছা আমি গিয়ে মাহির কে আসতে বলবো এখনি,।
– আরে না ও ব্যস্ত আছে ওকে কিছু বলার দরকার নেই।
– আচ্ছা সে আমি দেখবো এখন গেলাম আমি ভালো থেকো আপু,
– ওকে….

একটু পর মাহির এসে হাজির….
– কি ব্যাপার ম্যাডাম এর মন খারাপ কেনো?
– তুমি কেনো আসলে যাও ব্যস্ত মানুষ তুমি না না ভুল হলো ব্যস্ত রাক্ষস তুমি।
– হ্যা ঠিকই আমি ব্যস্ত রাক্ষস, কিন্তু এতো অভিমান কেনো করেছে রানী টা হ্যা।
– কে বললো তোমাকে আমি অভিমান করেছি আর খবরদার আমাকে রানী বলবা না বলে দিলাম।
– আমি কিন্তু মনের কথা বুঝতে পারি ম্যাডাম আর সাইব ও পারে সো লুকিয়ে লাভ নেই।
– মাহির আমি এখানে থাকতে চায় না বাড়ি ফিরে যেতে চায় প্লিজ আমাকে হেল্প করো।
– আমি কি করে তোমাকে হেল্প করবো সেই রকম কোনো অপশনই নেই নিয়াশা।
– নিয়াশার চোখ ভিজে উঠলো, আব্বু আম্মু তোমাদের কে আর দেখতে পাবো না আমি।
– এই শোন তুমি না আমার মায়ের সাথে দেখা করতে চায়লে আমি এখন যাচ্ছি যাবে আমার সাথে?
– আমার এখন কিছু ভালো লাগছে না মাহির।
– প্লিজ নিয়াশা এমন করো না,আমি বুঝতে পারছি তোমার খারাপ লাগছে কেনো, আমার সাথে চলো দেখবে মন ভালো হয় এ যাবে তোমার।
– ওকে চলো।

নিয়াশা অনেক বড় একটা ঘর দেখতে পেলো, খুব সুন্দর করে সাজানো চারিদিক একদম পরিপাটি সব কিছু….
– এটা তোমার মায়ের ঘর?
– হ্যা এটা মায়ের ঘর কিন্তু মা কোথায় গেলো দেখছি না তো…..ওই তো মা।
– নিয়াশ দেখলো হোয়াইট গাউন পরা অতি রূপবতী একজন মধ্য বয়স্কা মহিলা তার সাথে পিংক গাউন পরা ডানা ওলা আরো একটি সুন্দরী মহিলা।
– নিয়াশা এটা আমার পরী মা আর এইটা আমার মা।
– এই বুঝি নিয়াশা বাহ খুব সুন্দর তো, আরো একটা মেয়ের জীবন নষ্ট হতে চলেছে ঠিক আমারই মতো। ভালো আছো মা
– জ্বী আন্টি ভালো আছি আপনি কেমন আছেন?
– এই তো কোনো রকম বেঁচে আছি, কাল মুক্তি পাবো চিরো তরে।
– মা তুমি এমন করে বললে কেনো কিভাবে তুমি মুক্তি পাচ্ছো?
– ও কিছু না তুই বোস আমি আসছি। বলে অন্য ঘরে গেলো মাহির এর আম্মা সোহানি।
– তোমার এখানে কেমন লাগছে মা, বললো মুসকান (পরী মা)
– একদম ভালো না আব্বু আম্মুর কথা খুব মনে পরছে, বলে কেদে ফেললো নিয়াশা, কেদে কোনো লাভ নেই মা,কি আর করবে বাকী জিবন টা এখানেই থাকার অভ্যাস করতে হবে বলে নিয়াশার চোখ মুছে দিলো।
– কি ব্যাপার তোমার গা এতো গরম কেনো?
– কই দেখি তো বলে মাহির নিয়াশার মাথায় হাত রাখলো হন্তদন্ত হয়ে।
– মুসকান তীক্ষ্ম চোখে মাহির এর দিকে তাকালো, তাতে যা বুঝার বুঝে গেলো, সামনে অনেক বড় ঝড় আসতে চলেছে, নিয়াশার প্রতি মাহির এর ফিলিংস টা অন্যরকম, আর নিয়াশাও কি মাহির কে…. না না অনেক বড় বিপদ আসছে সামনে।
– পরী মা কিছু একটা করো সত্যিই ওর অনেক জ্বর তো।
– আমার কিছু হয়নি তোমার এতো চিন্তা করতে হবে না।
– তুমি চুপ থাকো…. তুমি তো বেশিই বোঝ একটু। পরী মা জানো কাল কি হয়েছিলো, তারপর রাতের ঘটনা খুলে বললো।
– ওহ এবার বুঝেছি নখের বিষ এর কারণে এমন জ্বর এসেছে সমস্যা নেই আমি ঠিক করে দিচ্ছি বলে ম্যাজিক স্টিক দিয়ে ঠিক করে দিলো, কিন্তু দাগ গুলো থেকেই গেলো, দাগ গুলা যেতে একটু সময় লাগবে চিন্তা করো না ঠিক হয়ে যাবে।

– মাহির তোমাকে একটা কথা জানানোর আছে, যদিও তোমার মা বলতে নিষেধ করেছে কিন্তু আমার মনে হলো বিষয় টা তোমার জানা দরকার।
– কি ব্যাপার পরী মা তুমি এভাবে কথা বলছো কেনো?
– বলবো কিন্তু শোনার পর তোমাকে ধর্য্য রাখতে হবে ঠাণ্ডা মাথায় বুঝে শুনে সব করবে কোনো রকম হঠকারিতা নয় কথা দাও।
– আমার মাথা ঠাণ্ডায় থাকে সব সময় এটা তুমি খুব ভালো করেই জানো পরী মা তুমি বলো আমি হঠকারিতা করবো না।
– তোমার মা কে কাল বলি দেওয়া হবে আর সেই রক্তে গাওয়াবি কে স্নান করিয়ে তার অভিষেক করা হবে।
এটা শুনে যেনো মাহির এর পায়ের নিচের মাটি সরে গেলো মাথা টা ঘুরে উঠলো গলাটা শুকিয়ে আসছে একটু পানি হলে ভালো হতো।
ও ওখানেই বসে পরলো।
মুসকান ওকে পানি দিলো, ঢক ঢক করে ও পুরো গ্লাস টা শেষ করে ফেললো এক নিমিষে।
– পরী মা তুমি মজা করছো তাই না?
– না রে এটাই নিয়ম বহু কাল থেকে এমনটাই হয়ে আসছে। মায়ের রক্তে ছেলের অভিষেক।
– কিন্তু এই কথা টা আগে তো কেও আমাকে বলেনি।
– হ্যা ইচ্ছা করেই তোর কাছ থেকে লুকানো হয়েছে কারণ তুই মা বলে পাগল তাই এটা গোপনে করা হচ্ছিলো।
– কিন্তু আমি তো এটা হতে দিবো না পরী মা তার জন্য আপনাকে যা যা করা লাগবে আমি তাই করবো।
মাহির এর আম্মা সোহানি একটা মিষ্টির প্লেট হতে নিয়ে রুমে ঢুকলো।
মাহির মিষ্টির প্লেট হাত থেকে নিয়ে পাশে রেখে মা কে জড়িয়ে ধরলো।
– মা আমি তোমার কিচ্ছু হতে দিবো না, তোমাকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাবো, আমি প্রয়োজনে সব কিছু ধ্বংস করে দিবো তবুও তোমার কিছু হতে দিবো না।
– সোহানি ছেলে কে ছাড়িয়ে পালঙ্কে বসিয়ে নিজে দাড়িয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো মুসকান তোকে না নিষেধ করেছিলাম এই পাগল টাকে কিছু জানাস না, আমার নিষেধ ও শুনলি না তুই।
– ওর জানার দরকার ছিলো সোহানি, তাই ওকে বললাম।
মা তুমি থাকো আমি আসছি আর নিয়াশা তুমি মায়ের কাছে থাকো, পরী মা আমার সাথে চলো তুমি।
– কোথায় যাব
– আর কথা বাড়িয়ো না আমার সাথে চলো অনেক কাজ বাকি সময় খুব কম। ওরা চলে গেলো।
– এই জন্য ওকে জানতে চায়নি আমি, জানি কি করবে পাগল টা।
– আন্টি আপনার ছেলে যা করবে আপনার ভালোর জন্যই করবে ও আপনাকে অনেক ভালোবাসে।
– আমি জানি ও শুধু আমাকে না তোমাকেও ভালোবাসে সে আমি ওর গত কাল ওর কথা আর আজকে তোমার প্রতি ওর দৃষ্টি দেখেই বুঝেছি। কিন্তু ও এত বড় ভুল কি করে করলো আমার ছেলে। কালকেই তুমি রানী হবে এ রাজ্যের।
– আন্টি আমি রানী হতে চায় না আমি সাধারন ভাবে বাঁচতে চায়, এসব কি হচ্ছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
– আমিও বুঝতে পারিনি প্রথমে রে মা, তখন আমি কেবল মাত্র লেখাপড়া শেষ করে ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রভাষক হিসেবে জয়েন করেছিলাম বাবা মার একমাত্র আদরের মেয়ে ছিলাম, হঠাৎ মাথায় ভূত চাপলো ঘুরতে যাবো নন্দীগ্রামে চলেও আসলাম একাই, এখানে আসার পরে বুঝতে পারলাম এরাই আমাকে নিয়ে এসেছে আমি ইচ্ছে করে আসিনি, তারপর তো তুমি জানোই, কিছু দিন পরে মাহির আর গাড়াওবি জন্ম নিলো গরাওবি কে ওরা নিয়ে গেলো আর মাহির কে নিয়ে আমি আমার পৃথিবী সাজাতে শুরু করলাম ওকে আমি সমস্ত শিক্ষা মানুষের মতো দিয়েছি, লেখাপড়া শিখিয়েছি। কিন্তু কিছু দিন আগে ওরা মাহির কেও কেরে নিলো আমার থেকে বলতে বলতে কেদে ফেললো সোহানি।
– আন্টি কাদবেন না সব ঠিক হয়ে যাবে আমার মন বলছে।

একটু পর সাইব সহ মাহির আর মুসকান ঘরে এলো।
– সাইব তুই আমার সাথে চল আর পরী মা তুমি মাকে নিয়ে যেখানে বললাম সেখানে চলে যাও।
– তুই সব ভেবে করছিস তো মাহির?
– হ্যা পরী মা আমি সব কিছু ভেবেই করছি, এ ছাড়া আর কোনো পথ নেই আমার কাছ, আমি আমার মায়ের জন্য সব করতে পারি।
– তোরা কি বলছিস আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
– তোমার এতো কিছু বুঝা লাগবে না মা তুমি পরী মার সাথে যাও আর নিয়াশা আমার সাথে চলো তোমাকে বাসায় পৌঁছে দিবো।
– কি বললি…. তুই ঠিক আছিস মাহির, এই কাজ করলে ওরা তোকে মেরে ফেলবে, মা তুমি চিন্তা করো না এখন যা করার আমিই করবো, ওরা কিচ্ছু করতে পারবে না, আমাকে না জানিয়ে ওরা আমার মা কে মারতে চেয়েছিলো তার শাস্তিই ওরা সবাই পাবে।
– সত্যিই বলছো আমাকে দিয়ে আসবে?
– হ্যা নিয়াশা সত্যিই বলছি, কিন্তু এখন দ্রুত যেতে হবে নইলে দেরী হয়ে যাবে সাইব চল।

ওরা নিয়াশা কে নিয়ে একটা নদীর পারে এসে থামলো, তারপর মাহির ওকে বলল এর পর আমি আর যেতে পারবো না,, সাইব তোমাকে নিয়ে যাবে, আর হয় তো কখনো দেখা হবে না তোমার সাথে, সব সময় ভালো থেকো।
নিয়াশা মাহির এর দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে আচমকা ওর পায়ের উপর পা রেখে কাধে হাত রেখে ওকে কিস করে বসলো।
মাহির একদম প্রস্তুত ছিলো না এর জন্য, ও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো।
– এটা কি করছো নিয়াশা,ঠিক আছো তুমি ?
-নিয়াশা জড়িয়ে ধরেই বললো আমি ঠিক আছি…. আই লাভ ইউ মাহির, আই লাভ ইউ সো মাচ।
– মাহির একটু চুপ করে থেকে নিজেও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো… আই লাভ ইউ টু নিয়াশা।
কিন্তু ভাগ্যের এমন পরিহাস যে আজকের পর থেকে তোমার সাথে আমার আর কোনো দিন দেখাইয় হবে না। হয় তো আমি বেঁচেই থাকবো না।
নিয়াশা মাহির এর মুখ চেপে ধরে বললো প্লিজ মাহির এভাবে বলো না চলো না তুমিও আমার সাথে, আমরা পালিয়ে যায়।
– চাইলেই কি সব কিছু সম্ভব, আর আমার এখানে এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। তুমি যাও এতক্ষণ মনে হয় ওরা সবাই জেনে গেছে যে তুমি পালাচ্ছো ওরা চলে আসবে খুঁজতে খুঁজতে এখানে।
– আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না মাহির আমি তোমার সাথে থাকতে চায়।
– মাহির একটু হেসে একহাতে জড়িয়ে ধরে অন্য হাতে মুখটা উচু করে ধরে বললো এই পাগলী একটু আগে বাসায় যাওয়ার জন্যই তো কান্না করছিলে তাই না।
– তখন তো আর তুমি আমাকে ভালবাসতে না।
– কে বললো ভালবাসতাম না, আমি তো তোমাকে সেই প্রথম যেদিন দেখেছি সেদিন থেকেই ভালোবাসি কিন্তু প্রকাশ করিনি।
– হ্যা আমি তো আর জানতাম না তখন।
– আচ্ছা দেরী হয়ে যাচ্ছে কিন্তু এখন যেতে হবে।
– নীয়শা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বললো সত্যিই তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে।
– উপায় যে আর নেই, কেদো না প্লিজ সাইব কিন্তু দেখছে সব এবার একটু শান্ত হও।
– না না আমি কিছুই দেখিনি আমি উলটো দিকে মুখ ফিরে আছি, তোমরা যা ইচ্ছা করো।
– এটা শুনে নিয়াশা ছেড়ে দিলো মাহির কে।
– সাইব ওকে নিয়ে যা পৌঁছে দিয়ে আয়।
– বিদায় নিয়াশা।
– নিয়াশা দুপা এগিয়ে আবার ফিরে এসে ওকে জড়িয়ে ধরে বললো ভালো থাকবে সব সময়।
সাইব নিয়াশার হাত ধরে উধাও হয়ে গেলো, শেষ মুহূর্তে নিয়াশা শুধু এই টুকুই দেখতে পেলো মাহির আঙ্গুল দিয়ে চোখের জল মুছলো।

কি রে নিয়াশা উঠ আর কতো ঘুমাবি, অফিসের সময় হয়ে যাচ্ছে তো।
– প্লিজ মা খুব ক্লান্ত লাগছে আর একটু ঘুমাতে দাও।
– তোর সম্পাদক স্যার কতো বার ফোন দিয়েছে জানিস?
– নিয়াশা তড়িঘড়ি করে উঠে বসলো এটা শুনে।
– এই নে ফোন কথা বল।আর আমি টেবিলে নাস্তা দিচ্ছি, এখনোও সেই রাতের পার্টি ড্রেস পরে শুয়ে আছে পাগলী কোথাকার, কথা বলে ফ্রেশ হয়ে নিচে আয় দ্রুত।
– হ্যা স্যার বলুন।
– নিয়াশা তোমাকে যে আজ গরাওয়ালিতে যাওয়ার কথা ছিলো ওটা ক্যানসেল করা হয়েছে ওখানে আর যাওয়া লাগবে না, নতুন একটা বিষয় এর উপর নিউজ করতে হবে তুমি অফিসে এসো আমি তোমাকে বুঝিয়ে দিবো সব।
– নিয়াশা এতটা অবাক হয়েছে যে কিছুই বলতে পারলো না। শুধু ওকে বলে ফোন রেখে দিলো।
তার মানে সব স্বপ্ন ছিলো, আর মাহির ….. মাহির ও কি আমার স্বপ্ন, কিন্তু ওকে আমি এমন ভাবে ফীল করছি কেনো মনে হচ্ছে সব সত্যি, কেনো এতো মিস করছি ওকে, এই তো এখনো ওর মিষ্টি গন্ধ পাচ্ছি আমি, আমার সারা শরীরে লেগে আছে ওর গায়ের গন্ধ,এটা আমার স্বপ্ন হতে পারে না ও আমার বাস্তব, ভাবতে ভাবতে নিয়াশা আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো, একি এটা তো গারাওয়ালিতে যে ড্রেস পড়েছিলাম সেইটাই এটা কি করে আমার গায়ে এলো কিন্তু মা তো বললো এইটা পার্টি ড্রেস কিন্তু পার্টি কখন হলো, তাহলে এই যে বুকের সেই দাগ গুলা এই গুলা তো আগে ছিলো না আমার, এটা কী করে হলো, আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না সব গুলিয়ে যাচ্ছে, এটা কি হচ্ছে আমার সাথে।
– নিয়াশা নিচে আয় নাস্তা রেডি।
– আসছি মা……

চলবে…….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*