Home Login Register

Naw Story Will Update Regularly......

কুয়াশার চাদর [১ম পর্ব]


প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......
Home / জিসান আহম্মেদ / কুয়াশার চাদর [১ম পর্ব]

Admin › 2 months ago

লেখাঃ জিসান আহম্মেদ রাজ

ভাগ্যের পরিহাসে তিনমাসের অন্তঃসত্ত্বা ভাবীকেই যে বিয়ে করতে হবে, এমনটা কখনো ভাবিনি! ভালবাসার মানুষকে পেতে যাচ্ছি, অযাচিত ভাবেই! ভাইয়া অগত্যা খুন হওয়ার পর-ই, বাবা-মা মিলে কথাকে এ বাড়ির বউ করেই রেখে দেয়।

– বাসর ঘরে সুন্দর করে বউ সাজিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে কথাকে। কথাকে দেখে মনে হচ্ছে ফুলদানীতে রাখা বাসী ফুল একটু হাতের স্পর্শ পেলেই ঝরে পড়বে। আমি কথার কাছে বসে যখনি, তাঁর মাথার ঘুমটা সড়াতে যাবো। তখনি কথা আমার গালে ঠাস! করে চড় বসিয়ে দিয়ে বললো” আমার স্বামীর খুনি যেন আমাকে কখনো স্পর্শ না করে! “

– কথার মুখে এমন কথা শুনে নিজের অজান্তেই চোখের কোণে জল এসে গেল! যাকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালবাসতাম, সে মানুষটা এমন কথা বলতে পারলো! খাঁটে থেকে একটা চাদর আর বালিশ ছুঁড়ে দিল। আমি কোন খুনীর সাথে থাকতে চাই না। আমি বালিশ আর চাঁদরটা নিয়ে ফ্লরে শুয়ে শুয়ে হারিয়ে গেলাম একবছর আগে সেই সোনালী দিনে । কথা আর আমি দুজন-দুজনকে প্রচন্ড ভালোবাসতাম। শিশুকাল থেকেই। কত হাজারো স্বপ্ন দেখেছিলাম দুজন-দুজনকে নিয়ে। কিন্তু যখন জানতে পারি বাবা- মা ছোট থেকেই কথাকে সজিব ভাইয়ার বউ বানাবে বলে ঠিক করে রেখেছিল। তখন নিজের ভালবাসাকে নিজের বুকেই দাফন করে দেয়। কথা অনেক কান্না করে। কিন্তু পারিনি মা-বাবার সাথে বেঈমানী করতে। না পারার পিছনে কারণও আছে, কারণ আমাকে নাকি তারা কুঁড়িয়ে পেয়ে ছেলের আদর দিয়ে এতবড় করেছে।

– কথার বিয়ে আগের দিন খুব কেঁদেছিলাম কথা আর আমি। বাশঁবাগানে বসে শেষ বার দুজন- দুজনের হাতে হাত রেখে স্বপ্নগুলো দু’চোখের জ্বলে ভাসিয়ে দিয়েছিলাম।আচ্ছা রাজ! চলো না আমরা পালিয়ে যায়?

– পালিয়ে যাবে? পালিয়ে গিয়ে হয়তো আমাদের দু’জনের ভালবাসাটা পূর্ণতা পাবে। কিন্তু ভেবে দেখেছো একবার? আমাদের দু’পরিবারের কত মানুষের ভালবাসায় ছেঁদ পড়বে। বাবা-মা কত মানুষকে দাওয়াত দিয়েছে। তাঁদের সম্মানটা ধূলোয় মিশে যাবে। জানো আমরা হাঁটতে শিখি হয়তো নিজেদের পায়ে, কিন্তু আমাদের হাতটা সবসময় দৃঢ় একজোড়া হাত ধরে রাখে। তারা হচ্ছে মা -বাবা। তাই তাদের মুখের হাসির কাছে আমাদের ভালবাসা হাজার বার কুরবাণি করতে পারি।

– রাজ আমায় একটু বুকে নিবে? কাল তো অন্য কারো হয়ে যাবো। নাওনা একটু বুকে।

– সেদিন রাতে কথাকে একাই ফেলে এসেছি। খুব করে ইচ্ছে করছিল, কথাকে জড়িয়ে ধরে বলতে” তোমাকে যে বুকেই রাখতে চায়। ” কিন্তু পারিনি, জানি কথাকে একবার বুকে নিলে আর বুক থেকে সরাতে পারবো না! কারণ কথা তো আমার নামাজের মোনাজাতেও ছিল।

– পরের দিন কথার বিয়ে। কথা আর আমাদের বাড়ি ছিল পাশা-পাশি। কথাকে বউ সাজে দেখে কলিজাটা ফেঁটে যাচ্ছিল। কথার বউ সাজার স্মৃতিগুলো আমাকেই ক্যামেরাবন্দী করতে হয়েছে।

– বাসর ঘর সাজানোর দায়িত্বটাও বাবা আমার কাঁধেই দিয়েছিল। চোখের পানি, আর গাঁধা, গোলাপ ফুলের সংমিশ্রণে বাসর ঘরটা সাজিয়েছিলাম।

আমার আর ভাইয়ার পাশাপাশি রুম ছিল। ভাইয়ার বাসরটা হয় আমার পাশের রুমেই। যাকে ছোটবেলা থেকে ভালোবাসলাম সে যখন বাসর ঘরে, নিজেকে বিলিয়ে দিতে ব্যস্ত। তখন আমি বালিশে মুখ লুকিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে ব্যস্ত ছিলাম। মাঝরাতে বুক চাপড়ে চাপড়ে বলেছিলাম’ হে আল্লাহ কি এমন অপরাধ করেছিলাম। যার জন্য এমন একটা দিন আমার জন্য রেখেছিলে! নিজের ভালবাসার মানুষকে ভাবী ডাকা কতটা কষ্টকর সে কষ্টের সম্মুখীন যেন কেউ না হয় ।

-বিয়ের তিনদিন পর, মা-বাবা নানু বাড়িতে গেলে কথা তার রুমে আমাকে ডেকে নেয়।সজিব ভাইয়া ছিল অফিসে।

– কেমন আছো?

– হুম ভাবি অনেক ভালো আছি।

– আমার মুখে কথা ভাবিটা শুনে চমকে যায়! কারণ যে মুখে সবসময় কলিজার টুকরা ডাকতাম আজ সেই মুখেই ভাবি বলে ডাকলাম।

– রাজ, প্লিজ ভাবি ডেকো না। তোমার মুখের ভাবি ডাকটা ঠিক আমার কলিজার ভেতর লেগেছে!

– প্লিজ ভাবি, এসব বলবেন না।

– আচ্ছা এসব বাদ দাও! সত্যিই কি ভালো আছো তুমি ? আমার জন্য কি তোমার মন একটু ও কাঁদে না? কত স্বপ্ন দেখেছিলাম দুজন দুজনকে নিয়ে! 
– ভাবি প্লিজ থামবে, কিছু বলার থাকলে বলো?

আমি বাসর রাতে সজিবকে স্বামীর অধিকার দেয়নি!

– মানে! কী বলছো এসব?

– হুম সত্যি বলছি। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের পথের কাঁটা সজিব কে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলতে চায়। তাহলে তোমার আর আমার মাঝে কোন বাঁধা থাকবে না।

– ছিঃ ভাবি তুমি সত্যিই কি আমায় ভালবাসতে? আমাকে ভালবাসলে তুমি এমন কথা কখনো বলতে পারতে না।

– কি করবো? আমি যে আর পারছি না। তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। সত্যি আমাকে তুমি তোমার বুকে টেনে নাও!

.
-ভাবী প্লিজ এসব কিছু বলো না।

– আচ্ছা! আমি যে তোমার ভাইয়ার বউ তোমার কষ্ট হয় না। তোমার কি আমাকে পেতে মন চায় না। আমার মন-প্রাণ সব যে তোমায় দিয়ে দিয়েছি।

– কি বলছো? থামবে ভাবী তুমি।

– হঠাৎ ভাইয়া রুমে এসে বলতে লাগল ” কিরে, আমার অর্বতমানে তোরা দেবর ভাবি কি শলা-পরামর্শ করিস?

– ভাবি অকপটে চোখের পানি মুঁছে নিল। ভাইয়া রুমে এসেই ভাবির হাতে একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে বললো ” এটা তোমার জন্য!

-আমি উঠে চলে যাচ্ছিলাম। ভাইয়া ডেকে আমার হাতে একটা চাবি ধরিয়ে দিয়ে বললো” বাহিরে দাঁড় করানো আছে। তোর পছন্দ না হলে বলিস। “আমি বাহিরে তাকিয়ে দেখি, বাহিরে একটা বাইক দাঁড় করানো। 
জানালার পাশ দিয়ে যেতেই দেখলাম কথা আমার দিকে চেয়েই ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরল। 
তোমার হঠাৎ কি হলো, যে মেয়েটা বাসর রাতে আমাকে স্পর্শ করতে দিলো না। সে মানুষটা আজ আমায় জড়িয়ে ধরলো? নাকি শাড়িটা পছন্দ হয়েছে। নীল পাড়ের তাঁতের শাড়ি।

হুম! বেশ পছন্দ হয়েছে!

– কথার ‘বেশ’ শব্দটা একদম হৃদয়ে এসে নাঁড়া দিলো। বুঝতেই পারলাম কথা আমাকে দেখানোর জন্যই ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরেছে!

– দিনগুলি ভালোই কাটতেছিল। দুপুর বেলায় ঝুম করে বৃষ্টি নামলো! কথা আমার রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিলো।

– কি ব্যাপার ভাবি দরজা লাগিয়ে দিলেন কেন?

– জানো না কি জন্য লাগিয়ে দিয়েছি? 
– ভাবী এভাবে কেউ দেখলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। আমি আমার ভাইকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালবাসি। ভাবী প্লিজ পাগলামী করো না। সব আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।

– তুমি যদি আর একটা বার কথা বল, তাহলো আমি সবাইকে বলব তুমি জোর করে রুমের দরজা লাগিয়ে দিয়ে আমার সাথে অসভ্যতামি করতে চেয়েছো!

– আমার হাত-পা ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে আসছে। কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম” ভাবী প্লিজ, এমন কিছু করো না! “

– হুম কেউ কিছু জানবে না। তবে আজ আমি যা চাইবো তা দিতে হবে। কথাটা বলেই চেপ ধরলো হাত খানা।
হঠাৎ দরজার ওপাশ থেকে ভাইয়া দরজা নর্ক করছে! ভাইয়া এভাবে দেখলে হয়তো মরেই যাবে।

চলবে???

বিঃদ্রঃ আগামী পর্বে সমাপ্ত হবে।

About Author


Administrator
Total Post: [356]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy