কলঙ্কিনী [শেষ পর্ব]

লেখা: রওনাক ইফাত জিনিয়া

আজ পাঁচমাস কম ছয়বছর পর মানুষটাকে আমি দেখলাম।নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে আমি সত্যিই তাকে দেখছি।চেহারায় আর আগের সেই সৌন্দর্য্য নেই অনেকটাই সাদামাটা আজ সে।সময়ের সাথে সাথে বয়সেরও একটা ছাপ পড়েছে চেহারাটাতে।তাকে দেখে কি বলব আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না যেন বোবা হয়ে গিয়েছিলাম আমি।এতগুলো বছর পর আজ কেন সে এখানে এসেছে?সে কি আমার নাহিনটাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে চায়?ইত্যাদি বিভিন্ন প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে আমার সাথে একটা ভয়ও কাজ করছে।ভয়টা আমার একমাত্র অবলম্বন নাহিনকে হারানোর ভয়।পৃথিবীতে যাইহোক না কেন আমি কোন মতেই আমার ছেলেটাকে হারাতে পারবোনা।নাহিনকে ছাড়া আমার পক্ষে একটাদিনও বেঁচে থাকা অসম্ভব।

–জানো আব্বু তুমি যে আসছো মা তো বিশ্বাসই করেনা।কি মা এখন বিশ্বাস হয়ছে?(নাহিন)

ছেলের কথার কোন জবাব আমি দিতে পারিনি তাই চুপ করেছিলাম।আমাকে চুপ থাকতে দেখে হাসিব মুখ খুলল-

–কেমন আছো নিশি?

–যতটা খারাপ থাকব ভেবেছিলেন ততটা খারাপ আমি নেই বরং আমি খুব ভাল আছি আর ছেলেটাকে নিয়ে সুখেও আছি।যাইহোক আজ এতগুলো বছর পর আমি কেমন আছি তা জানার জন্য নিশ্চয় আপনি এখানে আসেননি?সত্যিই যদি আমি কেমন আছি বা আমার ছেলেটা কেমন আছে তা জানার কোন ইচ্ছে আপনার থাকত তবে আজ না বরং ছয়বছর আগেই তা জানতে চাইতেন।।থাক পুরাতন কথা সত্যি করে বলেন তো কেন এসেছেন?

–তোমাদের দেখতে।

–হা হা হা।আপনি আমায় হাসালেন।যাইহোক মিথ্যে না বলে সত্যিটা বলুন।

–আসলেই আমি নাহিনকে দেখতে আসছি।

–তাই নাকি?তা আপনার বউ আর বাচ্চা এখানে আসতে দিল আপনাকে?আর নাহিনকে দেখতে এসেছেন মানে?

–তোমার কথার মানে কি নিশি?আমি আমার ছেলেকে দেখতে এসেছি এখানে মানে আসছে কেন?আমি কি আমার ছেলেকে দেখতে আসতে পারিনা?

–আপনার ছেলে?কে আপনার ছেলে?

–কে আবার নাহিন।

–হা হা হা।তাই নাকি?তা এতবছর আপনি কোথায় ছিলেন আপনি আর কোথায় ছিল আপনার এই পিতৃত্ব?এতগুলো বছর পর কোন মুখে নাহিনের উপর অধিকার ফলাতে এসেছেন শুনি?ওই কে আপনার?

–দেখ নিশি আমি নাহিনের সম্পর্কে কিছু জানতাম না মাস কয়েক আগেই জানতে পারি।

–আপনি জানতেন না?আজও দেখি মিথ্যে বলাটা ছাড়েননি ছাড়বেনই বা কিভাবে মিথ্যে বলাটা যে রক্তে মিশে আছে আপনার।তা হাসিব আপনি ভুলে গেলে আমি আপনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি আমার ভাই আপনাকে আমার pragnancy র কথা জানিয়ে ছিল তখন আপনি আমার গর্ভের বাচ্চাকে নিজের বাচ্চা হিসেবে অস্বীকার করেছিলেন সাথে এও বলেছিলেন এই বাচ্চা কার না কার পাপ।তা এখন অন্যকারো পাপকে নিজের বাচ্চা বলতে লজ্জ্বা হচ্ছেনা আপনার?এই বাচ্চা আমার আর এই বাচ্চার বাবা আপনি নন তাই আপনি এখন আসতে পারেন।

–দেখ নিশি আমার ছেলেকে আমার কাছ থেকে দূর করতে পারনা তুমি।নাহিনকে ওর বাবার আদর থেকে বঞ্চিত করার অধিকার তোমার নাই।

–তাই বুঝি?তা এই পাঁচবছর আপনার পিতৃত্ব কোথায় ছিল শুনি?

–বললাম তো আমি জানতাম না আমার একটা ছেলে আছে কমাস আগেই জানতে পারলাম নাহিন আমার ছেলে।

–আপনি কি জানতেন আর কি জানতেন না তা আমি খুব ভালভাবেই জানি নতুন করে কিছু জানতে চাইনা।আজকেই শেষ আর কোনদিন যেন আমার আর আমার ছেলের আশপাশে আপনার ছায়াও না দেখি।এই নিশির ছয়বছর আগের সেই অবলা রূপ দেখে ভুল করবেন না।একটা কথা ভালভাবে বুঝে নিন আমার ও আমার ছেলের মাঝে আজ যেই আসতে চাইবে তাকে আমি শেষ করতেও আজ দুবার ভাবব না।আমার সাথে অনেকেই অনেক খেলা খেলেছে আর না।ভালভাবে আপনি এখান থেকে যাবেন না আমাকে বটির প্রয়োগ করতে হবে?

–তুমি কি খুব বাড়াবাড়ি করছ না নিশি? ভুলে যেওনা নাহিন আমারও ছেলে আর আমাকেও আমার ছেলের কাছ থেকে কেউ দুরে রাখতে পারবেনা।এমন করলে আমিও কিন্তু ছেড়ে কথা বলবা না।

–তাই নাকি?আপনি কি ভেবেছেন আপনি হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসবেন আর আমি আপনার কথাগুলো মেনে নিব?ভুল।আপনার যা ইচ্ছে করতে পারেন আজ আর আমি কোন সমাজের ভয় পাইনা।

আমাদের মাঝে আরো অনেক ধরনের কথাবার্তা হওয়ার পর হাসিব চলে গেল।ভাগ্য আরো একবার আমার সাথে খেলায় মেতে উঠতে চায়।হাসিব চলে যাওয়ার পর থেকে নাহিনকে আমি একমুহূর্তের জন্য নিজের কাছ ছাড়া করতে পারছিলাম না।নাহিন একটু চোখের আড়াল হলেই মনে হচ্ছে এই বুঝি হাসিব ওকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিল।ভাই বাড়িতে ছিল না একটা কাজে বাইরে গিয়েছিল রাতে ফিরল।বাড়ি ফিরে এসব শুনে প্রথমেই আমার ঘরে এল।নাহিন তখন ঘুমাচ্ছিল আর আমি ওর পাশে বসে ছিলাম।

–কিরে নিশি ওই কুত্তার বাচ্চাটা নাকি আজ এই বাড়িতে এসেছিল?(ভাই)

এতক্ষন পর আপন কাউকে দেখে আমি আর নিজেকে শান্ত রাখতে পারিনি ভাইকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম।বহুবছর পর আজ আবার আমার এইরকম কাঁন্না দেখে ভাই নিজেও চুপ থাকতে পারেনি আমার সাথে নিজেও চোখের পানি ফেলছে।কিছুক্ষন কাঁদার পর ভাই আমাকে শান্ত করে বলল-

–আরে তুই কাঁদছিস কেন আমি আছিতো।আমি থাকতে তোর আর কোন ক্ষতি হতে দিবনা।

–ভাই ওই আমার কাছ থেকে আমার ছেলেটাকেও কেড়ে নিবে।নাহিনকে ছাড়া আমি মরে যাব ভাই।নাহিনকে ওই নিয়ে যাওয়ার আগেই তুমি আমাকে একটু বিষ এনে দাও ভাই আমি খেয়ে মরে যাই কারন আমি ঐ দৃশ্য দেখতে পারব না।

–চুপ।একদম চুপ।ভুলেও যদি এসব কথা মুখে এনেছিস।আমি কখনই ঐ হারামিকে তোর কাছ থেকে নাহিনকে নিতে দিবনা।হারামিটা এতকাল কই ছিল?আজ যখন নিজের পাপের শাস্তি পেয়েছে তখন এসেছে তোর কাছে নাহিনকে নিতে।আজ যখন তার বাচ্চা হবেনা জেনেছে তখন এই বাচ্চার কথা মনে পড়ছে তার।

–এসব তুমি কি বলছ ভাই হাসিবের বাচ্চা হবেনা মানে?

–ঠিকই বলেছি।ঐ হারামিকে আল্লাহ্ ওর পাপের শাস্তি দিছে।একদিন তোর গর্ভে থাকা ওর নিজের বাচ্চাকে ওই অস্বীকার করেছিল না? আজ ওই সন্তান জন্মের ক্ষমতা হারিয়েছে।ওই আর কখনও বাবা হতে পারবেনা।তাইতো ওই হারামি ছুটে এসেছে নাহিনকে নিতে।

–ভাই ওই কি তবে আমার কাছ থেকে আমার ছেলেটাকে কেড়ে নিবে?

–বললেই হল নাকি?তুই চিন্তা করিস না নিশি আমি বেঁচে থাকতে নাহিনকে কখনও কেউ তোর থেকে আলাদা করতে পারবেনা।

–আমার খুব ভয় হচ্ছে ভাই।

–আমি যতদিন বেঁচে আছি তোর কোন ভয় নেই বোন।

এরপর কয়েকবারই হাসিব আমার বাড়িতে এসেছে কিন্তু ভাই আমার আর নাহিনের সাথে ওকে দেখা করতে দেয়নি।হাসিবের বাবা-মাও এসেছিল।বলেছে নাহিন তাদের বংশধর তাই আমি নাকি নাহিনকে তাদের থেকে আলাদা করতে পারিনা।আমি শুধু একটা প্রশ্নই করেছিলাম যে পাঁচবছর আগে যখন হাসিব এই বাচ্চাকে নিজের বলে অস্বীকার করেছিল,অন্য কারো পাপ বলেছিল,আমাকে কলঙ্কিনী অখ্যায়িত করেছিল তখন তারা কোথায় ছিলেন তখন কি তাদের মনে হয়নি বাচ্চাটা তাদের বংশের?আজ যখন তারা বুঝতে পেরেছে তাদের ছেলে বাবা হওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছে তখন তাদের নাহিনের কথা মনে হয়েছে?আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলেও তারা আমাকে হুমকি দিতে ভুলেনি যে নাহিনকে তারা নিয়ে যাবেই।

অবশেষে কেইস করল হাসিব ও তার পরিবার নাহিনকে নেয়ার জন্য।পুরো একটা বছর আমি আর ভাই আদালতে দৌড়াদৌড়ি করেছি।কিন্তু ভাগ্য আরো একবার খেলা খেলল আমার সাথে।হাসিব ওর টাকা দিয়ে আইন কিনে নিল আর রায় এল নাহিন ওদের কাছেই থাকবে।আমি সিঙ্গেল মা হয়ে নাকি নিজের ছেলেকে মানুষ করতে পারব না তার উপর আমার চরিত্র ভাল না তাই নাহিনের আমার কাছে বেড়ে উঠাটা নাকি নাহিনের জন্য ঠিক হবেনা।ভাই চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখেনি কিন্তু আমার ভাগ্য আমার সহায় হয়নি।আজ সত্যিই আমার আল্লাহ্ কে একটা প্রশ্ন করতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে “কি এমন পাপ আমি করেছিলাম যার শাস্তিস্বরূপ সারাটা জীবন আমাকে এভাবে ভোগ করতে হল?কি এমন অন্যায় আমার দ্বারা হয়েছিল যার শাস্তি হিসেবে আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বনটাকেও আমার কাছ ছাড়া করতে হচ্ছে?” ছেলেটা আমার এমনিতে আব্বু বলতে অস্থির হলেও যখন বুঝতে পারলো আমাকে ছাড়া ওর আব্বুর সাথে শুধু থাকতে হবে তখন থেকে ওর কান্না দেখে কে।বারবার শুধু একটা কথাই বলেছে-

-আমার আব্বু চাইনা মা আমি শুধু তোমাকে চাই।আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবনা মা।মা আমাকে নিয়ে যেতে দিওনা।তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারব না।

ছোট ছেলেটার কথাগুলো শুনে আমি কিছুতেই নিজের চোখের পানিকে ধরে রাখতে পারিনি।ছেলেটাকে জড়িয়ে ধরে পাগলের মত কেঁদেছিলাম কিন্তু আমার চোখের পানি এই সমাজের মানুষগুলোর মনকে নরম করতে পারেনি।আমি জানিনা পাঁচ বছরের ছোট্ট ছেলেটাকে রেখে আমি কিভাবে থাকব?আমি জানিনা মরন যন্ত্রণা কি তবে সেই যন্ত্রণাও হয়ত আমার আজকের যন্ত্রণার কাছে কিছুই না।একটা মা বলতে পারবে যখন তার সন্তানকে তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয় তখন তার ঠিক কেমন লাগে?মা ব্যতীত এই কষ্ট আর কেউ অনুভব করতে পারবেনা।আমার ছেলেটাকে জোর করে আমার কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হল বেঁচে থেকেও আজ মৃত আমি কারন আমি ব্যর্থ মা।আমি নিজের সন্তানটাকেও নিজের কাছে ধরে রাখতে পারিনি।ছেলেটাকে যখন নিয়ে যাচ্ছিল ছেলেটা বারবার একটা কথাই বলছিল-

-আমাকে নিয়ে যেতে দিওনা মা।আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না মা।আমি মরে যাব মা।আমার কোন আব্বু চাইনা।আমাকে ছেড়ে দাও আমি ছাড়া আমার মা মরে যাবে।মা তুমি আমাকে লুকিয়ে রাখ আমি যেতে চাইনা।

ছোট্ট ছেলেটার কথা কারো কান ভেদ করতে পারেনি।আজ আমার সব শেষ।আর কিছুই নেই আমার জীবনে।আজ আমি একেবারে শূণ্য,ব্যর্থ।আজ সত্যিই আমি হেরে গেছি।আজ সত্যিই শুভ জিতে গেছে।জিতে গেছে এই তথাকথিত সমাজ।আজ সত্যিই আমি কলঙ্কিনী।আমি এমন এক কলঙ্কিনী যার জীবনে কিছুই নেই।

এই সমাজ আর সমাজের মানুষগুলোর কাছে আজ আমার একটা কথাই চিৎকার করে জানতে ইচ্ছে হচ্ছে “কোন কলঙ্কে আজ আমি কলঙ্কিনী হলাম?” শুভ জোর করে ধর্ষন করতে চাইলেও সেদিন আমি বেঁচে গিয়েছিলাম এটাই কি আমার দোষ ছিল?নাকি সুমন অন্য একজনকে ভালোবাসে বলে আমার তালাক হয়েছিল এটা আমার দোষ ছিল? আর নাকি হাসিব একাধিক পরনারীতে আসক্ত ছিল বলে দ্বিতীয়বারের মত আমি তালাকপাপ্ত হয়েছিলাম এটা আমার দোষ ছিল?আসলে আমার দোষটা কি ছিল?কোন দোষে আমি কলঙ্কিনী?একবার শুধু একবার যদি কেউ আমায় বলত আমার দোষটা কি তবে সত্যি বলছি আল্লাহ্ সাক্ষী আমার শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত আমি চেষ্টা করতাম সেই দোষ খন্ডানো।আসলে আমি নারী আর এটাই আমার প্রধান দোষ।এই পৃথিবিতে অপরাধ পুরুষ করলেও দোষটা নারীর কাঁধেই যায় আর ঠিক তেমনি অপরাধে অপরাধী আমি।

আজ দুদিন নাহিন আমার থেকে দূরে।এই দুদিন অনেক চেষ্টা করেছি আমি নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকার কিন্তু দুদিন পর আজ আমি ভালোভাবে বুঝে গেছি আমার জীবনে আর কিছুই নেই।এমন কিছু নেই যার দ্বারা আমি বেঁচে থাকার আগ্রহটা ফিরে পাবো।আমার এই জীবনের আর কোন উদ্দেশ্য নেই তাই উদ্দেশ্যহীন হয়ে বেঁচে থাকাও সম্ভব না।এখন আমি নদীতে ধীরে ধীরে নদীর গভীর পানির দিকে এগুচ্ছি।একপা দুপা করে এগুতে এগুতে এখন আমি মাঝ নদীর কাছেই চলে এসেছি আর একটু আগালেই এই নদী আমাকে নিজের করে নিবে।জীবনের সব মায়া কেটে গেছে আমার আর কোন পিছুটান নেই আমার।বেঁচে থেকে কি হবে?কেন বাঁচব আমি আর কার জন্যেই বা বাঁচব?আর মাত্র কয়েক পা এগুলেই এই কলঙ্কিনী জীবনের পরিসমাপ্তি হবে আমার কিন্তু বিবেকের কাছে বারবার পরাজিত হচ্ছি আমি।জানিনা আজও কি আগের কয়েকবারের মত বিবেকের কাছে পরাজিত হয়ে পাড়ে উঠে যাব আমি নাকি আজ আমার বিবেক পরাজিত হবে আমার মনে কাছে।।।।।

______ ___সমাপ্ত_____ ______

লেখকের কথা
.
.
[আসলে এই গল্পের শেষটা কিভাবে করব তা নিয়ে বেশ দ্বিধায় ছিলাম।শেষে অনেক ভেবে এইভাবেই শেষ করলাম।আসলে বাস্তব জীবনের কোন গল্পের কখনও শেষ হয়না।শেষ মনে হলেও তাতে কোন নতুন সূচনার ইঙ্গিত রয়ে যায়।এই গল্পটাও তাই এমন ভাবে শেষ করেছি যেখানে সবকিছুর শেষ মনে হলেও প্রকৃত পক্ষে শেষ হয়নি।আসলে এই গল্পে যে ঘটনার বর্ণনা দেয়া হয়েছে তা আমার জন্মেরও অনেক আগে ঘটেছিল।তাই তখনকার প্রকৃত কাহিনী আমার দ্বারা বর্ণনা করা সম্ভব না বলে আমি বর্তমান প্রেক্ষিতে ঘটনাটা নিজের মত করে বর্ণনা করেছি।তবে মূল ঘটনা হুবহু এক রেখেছি কোন পরিবর্তন আনিনাই মূল ঘটনাটাতে।গল্পটা যখন প্রথম শুনেছিলাম খুব কষ্ট পেয়েছিলাম আর সেই কষ্ট থেকেই মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিলাম ঘটনাটা গল্পের মাধ্যমে লেখার।যাইহোক এতদিন ধৈর্য্য ধরে পড়ার জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।ব্যস্ততার জন্য কয়েকটা পর্ব দিতে দেরী হয়েছে তারজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*