Home Login Register

প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......

এলো‌কেশী

Home / শার‌মিন আক্তার (সাথী) / এলো‌কেশী

Admin › 2 months ago

লেখাঃ শারমিন আক্তার সাথী

জীব‌নে প্রথম কোন মে‌য়ের কার‌নে এত ভয় পেলাম। তাও য‌দি তার চেহারা দে‌খে বা কথা শু‌নে ভয় পেতাম? কিন্তু কিছু না ব‌লে না ক‌রেও এত এত ভয় পাই‌য়ে দি‌লো। চেহারাটা দেখ‌লে অবশ্য এত ভয় পেতাম না। কিন্তু তি‌নি‌ তো লম্বা ঘন এলো চুল দি‌য়ে নি‌জের চেহারা আর শরী‌রের অর্ধেকটা ঢে‌কে রে‌খে‌ছি‌লেন। কি রকম মে‌য়ে‌রে বাবা চেহারা দেখার আগেই বিদ্যুৎ গতি‌তে ছু‌টে পালা‌লো। আজব মে‌য়ে!

‌মে‌হেদীঃ ঠিক ব‌লে‌ছিস? এমন দুরন্ত গে‌ছো মে‌য়ে জীব‌নে দে‌খি‌নি!

আয়াতঃ কিন্তু আমি ভাব‌ছি যে মে‌য়ের চুল এত সুন্দর সে মে‌য়ে দেখ‌তে না জা‌নি কি রকম?

‌মিজানঃ ছাড়‌তো! গাইয়া গে‌ছো মে‌য়ে তা‌কে আবার দেখার কি আছে?

আয়াতঃ জা‌নি না রে? ত‌বে মে‌য়েটা‌কে খুব দেখ‌তে ইচ্ছা কর‌ছে।

এতক্ষন কথা হ‌চ্ছিল আয়াত আর ওর বন্ধু‌দের সা‌থে। আর যা‌কে নি‌য়ে কথা হ‌চ্ছিল তি‌নি হ‌চ্ছেন এ গ‌ল্পের না‌য়িকা। “রূপ‌ন্তী” ভা‌লো নাম সায়মা রহমান রূপন্তী। কেন ওকে গে‌ছো মে‌য়ে ব‌লে‌ছে? কারন কিছুক্ষন আগে রূপন্তীর কার‌নে ওরা সবাই ভয় পে‌য়ে‌ছে। কিভা‌বে? চলুন যে‌নে নেই–

আস‌লে আয়াত আর ওর কিছু বন্ধু আয়া‌দের গ্রা‌মে ঘুর‌তে এসে‌ছে। কিন্তু প‌থে ম‌ধ্যে গা‌ড়িটা খারাপ হ‌য়ে যায়। আর বা‌ড়ি যে‌তে পথও অল্প আছে তাই সবাই ভাব‌লো বা‌কিটা পথ হাটতে হাট‌তেই যাওয়‌া যাক। গ্রা‌মের নি‌রি‌বি‌লি রাস্তা। বেশ প্রশা‌ন্তিকর প‌রি‌বেশ। তাই সবাই হাট‌ছে আর গল্প কর‌ছে।

‌কিছু দুরে আসার পর দেখ‌লো সাম‌নে একটা বড় পেয়ারা আর গাছ থে‌কে টুপ টাপ পেয়ারা পড়‌ছে। কিন্তু নি‌চে তো কেউ পেয়ারা পার‌ছে না। তাই আয়াত গা‌ছের উপ‌রে তাকা‌তে যা‌বে ওম‌নি ধুপ ক‌রে এক‌টি মে‌য়ে গাছ থে‌কে লা‌ফি‌য়ে পর‌লো। তৎক্ষনাৎ অবস্থায় সবাই কিছুটা ভয় পে‌লো। আর মে‌হেদী একটু ভিতু টাই‌পের ছে‌লে তাই ভুত ভুত ব‌লে চিৎকার দি‌লো। কিন্তু আয়াত মে‌য়েটার দি‌কে তা‌কি‌য়ে আছে।

‌মে‌য়েটার চেহারা দেখা যা‌চ্ছিলো না কারন মে‌য়েটার অনেকটা চুল মে‌য়েটার চেহারাটা‌কে ঢে‌কে রে‌খে‌ছে। কিন্তু চু‌লের ফাক দি‌য়ে মে‌য়েটার একটা চোখ দেখা গে‌লো। আয়াত অবাক দৃ‌ষ্টি‌তে তা‌কি‌য়ে আছে মে‌য়েটার চো‌খের দি‌কে। কি মায়া ও চো‌খে? ম‌নে হ‌চ্ছে মে‌য়ে‌টির চো‌খের অতল গহব্ব‌রে যে কেউ ত‌লি‌য়ে যা‌বে। আয়াত নি‌জের অজা‌ন্তেই মে‌য়েটার চুল সরা‌নোর জন্য মে‌য়েটার দি‌কে হাত বাড়া‌লো। কিন্তু কিছু বু‌ঝে ওঠার আগেই মে‌য়ে‌টি দৌ‌ড়ে পা‌লি‌য়ে গে‌লো।

আয়াত অবাক হ‌য়ে মে‌য়েটার যাবার পা‌নে তা‌কি‌য়ে রই‌লো। জীব‌নে প্রথম কোন মে‌য়ে‌কে ঠিক মত না দে‌খেও ওর বু‌কের ভিতরটা কেমন মোচর দি‌য়ে উঠ‌লো। আয়াত মে‌য়েটার ঘো‌রে এতটাই বিভোর ছি‌লো যে নি‌জের অজা‌ন্তেই মুখ থে‌কে বে‌রি‌য়ে গে‌লো #এলো‌কেশী

তারপর মিজান ধাক্কা দি‌য়ে বল‌লো

‌মিজানঃ ভাই কল্পনার জগৎ থে‌কে নে‌মে আয়? তাড়াতা‌ড়ি বা‌ড়ি চল খুব খি‌দে পে‌য়ে‌ছে।

আয়াতঃ হ্যা চল।

তারপর ওরা বা‌ড়ির পা‌নে হাটা ধর‌লো। গ্রা‌মে পৈ‌ত্রিক বিশাল বা‌ড়ি আয়াত‌দের। কিন্তু সবাই শহ‌রে থা‌কে। বা‌ড়ি দেখাশুনার জন্য দু‌টো লোক রাখা আছে। আয়াতরা পাঁচ বন্ধু একসা‌থে এসে‌ছে রিয়াজ, মে‌হেদী, মিজান, রা‌কিব, আর আয়াত। কথা বল‌তে বল‌তে বা‌ড়ি পৌ‌ছে গে‌লো।

‌সে‌দিন সবাই খুব ক্লান্ত ছি‌লো তাই খে‌য়েই তাড়াতা‌ড়ি ঘু‌মি‌য়ে পড়‌লো। রাত সা‌ড়ে এগা‌রোটা বা‌জে তখন। আয়া‌তের বন্ধু যে যার রু‌মে বেঘ‌োরে ঘুমা‌চ্ছে। কিন্তু আয়া‌তের কেন যে‌নো ঘুম আস‌ছে না। তাই বারান্দায় হাটাহা‌টি কর‌ছি‌লো আর মোবাইল টিপ‌ছি‌লো। হঠাৎ ওদের বা‌ড়ির বাগা‌নের ম‌ধ্যে থে‌কে কা‌রো পা‌য়ের চলার শব্দ পে‌লো। প্রথ‌মে ভাব‌লো হয়‌তো ভুল শুনে‌ছে। কিন্তু তারপর আবার শব্দ পা‌চ্ছে এবার নুপু‌রের ছমছম শব্দও পাওয়া যা‌চ্ছে। আয়াত প্রথ‌মে ইগ‌নোর কর‌লেও প‌রে শুন‌লো শব্দটা ওদের বাগা‌নের ম‌ধ্যে বারবার হ‌চ্ছে। ম‌নে হ‌চ্ছে কেউ নুপুর পা‌য়ে বাগা‌নের ম‌ধ্যে হাট‌ছে। কিন্তু এ বা‌ড়ি‌তে কোন মে‌য়ে নেই।

আয়াত ভাব‌লো তাহ‌লে আবার ভু ভু ভুভভত নয়‌তো? আয়াত কিছু দোয়া কালাম প‌ড়ে বু‌কে ফু দি‌লো। আর নি‌জে‌কে নি‌জে বল‌লো ধুর ভুত বল‌তে কিছু আছে না‌কি? কিন্তু শব্দটা বার বার হ‌চ্ছিল এবার‌তো আরো বে‌শি শব্দ হ‌চ্ছে ম‌নে হ‌চ্ছে দু তিনজন। আয়াত ঘ‌ড়ির দি‌কে তা‌কি‌য়ে দে‌খে ১১:৪৫ বা‌জে। আয়াত ভাব‌ছে য‌দিও এটা গ্রাম ভুত পে‌ত্নি থাক‌তেই পা‌রে? ত‌বে রাত বা‌রোটার আগে তো আসার কথা না?
(এই আপনারা আবার ভাই‌বেন না যে আমি ভু‌তে ভয় পাই। ভুত বল‌তে কিছু নাই। হুহহহ। )

আয়াত বে‌শি বে‌শি ক‌রে দোয়া কালাম প‌ড়ে ধী‌রে ধী‌রে বাই‌রে নাম‌ছে। মিজান‌কে ডাক দি‌য়েছি‌লো কিন্তু তারা কুম্বকর‌নের মত ঘুমা‌চ্ছে। হা‌তে একটা টর্চ নি‌য়ে বাই‌রে নে‌মে বাগা‌নের কা‌ছে আস‌লো। তখন ফিস‌ফিস ক‌রে কথা বলার শব্দ পে‌লো। কথা গু‌লো স্পষ্ট বোঝা যা‌চ্ছি‌লো না। আয়াত সা‌থে সা‌থে জো‌ড়ে জো‌ড়ে বল‌লো কে কে?

নুপু‌রের আওয়াজ গুলো বে‌ড়ে গে‌লো মা‌নে তারা দৌ‌ড়ে পালা‌চ্ছে বোঝ‌া যাচ্ছে। এক‌টি মে‌য়ে পালা‌তে যা‌চ্ছি‌লো আয়াত খপ ক‌রে তার হাতটা ধ‌রে ফে‌ললো। মে‌য়েটা থম‌কে দা‌ড়ি‌য়ে পড়‌লো। আয়াত হাত‌টি ধ‌রে থম‌কে উঠ‌লো এত নরম কোন মানু‌ষের হাত হয় না‌কি?

আয়াতঃ কে আপ‌নি? এত রা‌তে এখা‌নে কি কর‌ছেন? আমার দি‌কে তাকান?

‌মে‌য়েটা ভ‌য়ে ভ‌য়ে আয়া‌তের দি‌কে তা‌কি‌য়ে ভয়ংকর শব্দ ক‌রে একটা হা‌সি দি‌য়ে বল‌লো আমি তোর দাদা দাদার বৌ হই রে? আমার বা‌ড়ি‌তে এসে আমা‌কে ধরা। দাড়া এখ‌নি তোর ঘার মটকা‌বো!

আয়া‌তের ভ‌য়ে হাত পা ঠান্ডা হ‌য়ে গে‌লো। কারন এত রা‌তে এত সুন্দর কোন মানুষ হ‌তে পা‌রে না? হয়‌তো পরী নয়‌তো ভুত? হঠাৎ ক‌রে মে‌য়েটা নি‌জের হা‌ত উপ‌রে ক‌রে হা‌তের তালু‌তে ফু দি‌লো। কি যে‌নো একটা আয়া‌তের চো‌খে এসে পর‌লো। আয়াত মে‌য়েটার হাতটা ছে‌ড়ে দি‌য়ে নি‌জের চোখ চুলকা‌তে লাগ‌লো। তারপর চোখ মে‌লে দে‌খে কেউ নাই। আয়াত স‌ত্যি ভুত ভে‌বে দৌ‌ড়ে রু‌মে গি‌য়ে কম্বল মু‌ড়ো দি‌য়ে শু‌য়ে পড়‌লো।

প‌রের দিন খুব সকা‌লে আয়া‌তের ঘুম ভাঙ‌লো। ফজ‌রের নামাজ প‌ড়ে কাল রা‌তের কথা ম‌নে পড়‌তেই তাড়াতা‌ড়ি বাগা‌নে গে‌লো। বাগা‌নে গি‌য়ে দে‌খে বাগা‌নের গা‌ছের ফুল গু‌লো গা‌য়েব আর দে‌খে বোঝা যা‌চ্ছে এখা‌নে মানুষ হাটাহা‌টি ক‌রে‌ছে।

আয়াত সেই জায়গায় গে‌লো যে জায়গায় সে ভুত‌নি‌কে দে‌খে‌ছি‌লো। জায়গাটা ভা‌লো ক‌রে দেখ‌তে গি‌য়ে সেখা‌নে দু‌টো জি‌নিস পে‌লো একটা চু‌লের সুন্দর ক্লিপ আর পা‌য়ের একটা নুপুর। আয়াত নুপুর আর ক্লিপটা হা‌তে নি‌য়ে বল‌লো। তা নকল ভুত‌নি দেখ‌তে তো পরীর মত কিন্তু ভুত‌নি আমার দাদার দাদার বৌ হ‌লো ক‌বে থে‌কে সেটা জান‌তে হ‌বে? আর এ যে আমার সেই এলোকেশী তাতে কোন ভুল নেই। কারন কাল রা‌তে ট‌র্চের আলোয় তার চোখ আর চুলগু‌লো‌কে খুব ভা‌লোভা‌বে দে‌খে‌ছি। কিন্তু ভুত‌নি থুক্কু এলো‌কেশী ভুত‌নির সা‌থে ফুল চোরও। দেখা‌চ্ছি মজা!

আয়াত আর ওর বন্ধুরা সেদিন সকা‌লে সবাই ঘুর‌তে ‌বের হলো। সবাই যে যার মত মজা কর‌ছে ছ‌বি তুল‌ছে গল্প কর‌ছে কিন্তু আয়াত তার এলো‌কেশী‌কে খু‌চ্ছে। আয়াত একা একা আনম‌নে হাট‌তে গি‌য়ে পুকুর পার থে‌কে কিছু মে‌য়ের হা‌সির শব্দ পে‌লো। গ্রা‌মের পুকুর পার চার‌দিকটা গাছে ঘেরা। শান বাধাঁ‌নো ঘাট। সেখা‌নে কিছু মে‌য়ে ব‌সে ব‌সে গল্প গুজব কর‌ছে। আয়াত সেটা দে‌খে ফি‌রে আস‌তে যা‌বে তখনই পুকুর পা‌রে ওর চোখ আট‌কে গে‌লো। সেই এলো‌কেশী‌কে দে‌খে। এখ‌নো ঠিকমত চেহারা দে‌খে‌নি ত‌বে চুল গু‌লো দে‌খেই চি‌ন্তে পে‌রে‌ছে।

‌মে‌য়েটার চুল অনেক লম্বা। মাথা থে‌কে কা‌লো ঝড়নার মত নে‌মে পিঠ ছু‌য়ে কোমর ছু‌য়ে সোজা হাটু পর্যন্ত ছু‌য়ে‌ছে। চুলগু‌লো সোজা না আবার পু‌রোপু‌রি কোকড়া‌নোও না। চু‌লের মা‌ঝে মা‌ঝে হালকা ঢেউ খেলা‌নো। আয়াত অপলক দৃ‌ষ্টি‌তে মে‌য়েটার চু‌লের দিকে তা‌কি‌য়ে আছে। আর মে‌য়েটা পুকু‌রের পা‌নি‌তে পা ডু‌বি‌য়ে তার স‌খি‌দের সা‌থে কথা বলছে। এর ম‌ধ্যে এক‌টি মে‌য়ে মে‌য়েটা‌কে রূপন্তী ব‌লে ডাক দি‌লো। আয়াত ভাব‌ছে তার মা‌নে মে‌য়েটার নাম রূপ‌ন্তী।

——–এই রূপান্তী আর কতক্ষন এভা‌বে মন খারাপ ক‌রে ব‌সে থাক‌বি বল‌তো?

রূপা‌ন্তীঃ ভা‌লো লাগ‌ছে না‌রে?

———আ‌রে একটা নুপুরই তো হা‌রি‌য়ে‌ছে তা‌তে এত কষ্ট কেন পা‌চ্ছিস? আরেকটা বা‌নি‌য়ে নিস।

রূপন্তীঃ ওটা আমার মা‌য়ের নুপুর। মা‌তো নেই তাই ওটা‌কে ভিষন ভা‌লো লা‌গে। অনেক স্মৃ‌তি জ‌ড়ি‌য়ে আছে নুপুরটায়।

——-মন খারাপ ক‌রিস না দে‌খিস ঠিক পে‌য়ে যা‌বি।

রূপন্তীঃ আল্লাহ ভরশা।

———চল ওদি‌কে দে‌রি হ‌য়ে যা‌চ্ছে?

রূপ‌ন্তী উঠে দা‌ড়ি‌য়ে আয়া‌তে দিক ঘুরতেই। আয়াত বড় সড় ধাক্কা খে‌লো। আর ঘো‌রের ম‌ধ্যে ভাব‌ছে কোন মে‌য়ে কিভা‌বে এত সুন্দর হয়? বিধাতার কি অপরূপ সৃ‌ষ্টি। এ মে‌য়ে‌কে দে‌খে শত যুগ পার ক‌রে দেয়া যায়। না‌মের সা‌থে ব্যা‌ক্তি‌ত্বের কি মিল? রূপন্তী*

রূপন্তীরা ওখান থে‌কে চ‌লে গে‌লো। আয়াত ওদের কথায় এটা বুঝ‌লো যে কাল রা‌তের ফুল চোর এরাই। আয়াত ন‌ুপুরটা হা‌তে নি‌য়ে নাড়াচাড়া কর‌তে কর‌তে নি‌জে নি‌জে বল‌লো এলো‌কেশী নুপুর‌তো তোমার আমি ফেরত দি‌বো কিন্তু বদ‌লে সারা জীব‌নের জন্য তোমা‌কে আমার ক‌রে নি‌বো!

‌সে‌দিন বিকা‌লে রূপন্তী আয়াত‌কে এমন নাকা‌নি চোবা‌নি খাই‌য়ে‌ছে যা‌তে বেচারা আয়া‌তের 104° জ্বড় এসে গে‌লো——— 

সে‌দিন দুপুর বেলা——

আয়াত আর ওর বন্ধুরা সহ সবাই ঘুর‌তে ঘুর‌তে সেই পুকুর পা‌ড়ে এসে পড়‌লো। সেখান থে‌কে আবার মে‌য়ে‌দের হা‌সি আর কথার শব্দ পাওয়া গে‌লো। ধী‌রে ধী‌রে ওরা সাম‌নে এগি‌য়ে দে‌খে মে‌য়েরা পুকু‌রে গোসল কর‌ছে।

আয়াত দে‌খে লজ্জা পে‌য়ে বল‌লো

আয়াতঃ চল এখান থে‌কে। দে‌খোস না গ্রা‌মের মে‌য়েরা এখা‌নে গোসল কর‌ছে।

‌রিয়াজঃ তুই যা শালা! তোর মত আমরা অত ভদ্র না। আমরা একটু দে‌খি।

আয়াতঃ আস‌বি না‌কি মে‌য়েদের ডাক দি‌বো।

রা‌কিবঃ চুপ কর। নই‌লে বানা‌নি দিমু।

‌মিজানঃ ভাই ঐ বড় চুল ওয়ালা মে‌য়েটা‌কে দেখ। (আয়াত বুঝ‌লো রূপন্তী‌কে বুঝা‌চ্ছে) একে বা‌রে জান্না‌তের হুর।

রা‌কিবঃ নজর দিস না তোদের ভা‌বি হ‌বে তো!

‌রিয়াজঃ ঠিক কই‌ছো দোস্ত ভা‌বি হ‌বে তো কিন্তু আমা‌র না তো‌দের।

ও‌দের কথা শু‌নে আয়া‌তের খুব রাগ হ‌লো তাই হন হন ক‌রে মে‌য়ে‌দের সাম‌নে চ‌লে গে‌লো। আয়াত‌কে দে‌খে সব মেয়ে গু‌লো চিৎকার দি‌য়ে ওঠ‌লো। কিন্তু আয়াত চো‌খে হাত দি‌য়ে বল‌লো

আয়াতঃ দেখুন চিৎকার কর‌বেন না আমি কিছুই দেখি‌নি। দেখ‌ুন চোখ বন্ধ। আপনারা গোসল কর‌ছেন আর ঐ তিন হারা‌মি লু‌কি‌য়ে লু‌কি‌য়ে দেখ‌ছে তাই আপনা‌দের সাবধান কর‌তে এলাম। চ‌লি।

আয়া‌তের কথা শু‌নে ওর বন্ধুরা ভো দৌ দি‌লো। আয়াত বা‌ড়ির সাম‌নে গি‌য়ে ম‌নে ম‌নে ভাব‌ছে ভিত‌রে ডুক‌লে হারা‌মিগুলা আমা‌কে আস্ত রাখ‌বে না। কি যে ক‌রি? আয়াত ভ‌য়ে ভ‌য়ে ভিত‌রে ডুকতেই ওর বন্ধুরা ওর ওপর আক্রোমন শুর‌ু কর‌লো।

‌রিয়াজঃ শালা হারা‌মি আমা‌দের সা‌থে এমন কেন কর‌লি?

আয়াতঃ তাহ‌লে তোরা রূপন্তীর দি‌কে নজড় কেন দি‌লি?

রা‌কিবঃ রূপন্তী! কে রূপা‌ন্তী?

আয়াতঃ লম্বা এলো‌কেশী মে‌য়েটা।

‌রিয়াজঃ তুই মে‌য়েটার নাম কেম‌নে জান‌লি?

আয়াতঃ সকাল থে‌কে এই একটা কাজই‌তো কর‌ছি।

‌রিয়াজঃ ওহ ত‌লে ত‌লে এত দূর। তা ভা‌বির বিষয় আর কি জা‌নো?

মিজানঃ রাখ তোর ভা‌বি? শালা তুই রূপন্তীর উপর লাইন মার‌বি ঠিক আছে তাই ব‌লে বা‌কি পরী গু‌লোর কা‌ছে আমা‌দের প্রেজ‌টি‌জের বা‌রোটা কেন বাজাই‌ছো। জা‌নিস গ্রাম মে‌য়েরা অনেক সরল সোজা আর ঘ‌রোয়া হয়? ভাব‌ছি একটাকে প‌টি‌য়ে সোজা বা‌ড়ির বৌ ক‌রে নি‌য়ে যা‌বো।

‌রিয়াজঃ একদম ঠিক বল‌ছিস। শালা তোর খবর আছে।

আয়াতঃ ভাই আর মা‌রিস না। তো‌দের আমি শহ‌রে গি‌য়ে আবার ট্রিড দি‌বো।

রা‌কিবঃ রাখ‌ তোর ট্রিট! তোর ট্রিট এর টুট টুট টুট

‌মে‌হেদীঃ ভাই এসব করা ঠিক না।
সব বন্ধু‌দের ম‌ধ্যে মে‌হেদী একটু ধা‌র্মিক প্রকৃ‌তির।

‌মিজানঃ আয়াত‌রে ছাড়। আগে মে‌হেদী শালা‌রে বানাইয়া ঠিক বে‌ঠিক বুঝাইয়া লই।

দুপু‌রে ওদের দুষ্ট‌মি শেষ ক‌রে খে‌য়ে‌দে‌য়ে কিছুক্ষন বিশ্রাম নি‌য়ে ওরা আবার ঘুর‌তে বের হ‌লো। এবার সোজা পুকুর পা‌রে। গি‌য়ে দে‌খে রূপন্তী একা ব‌সে আছে।

‌মিজান আয়াত‌কে ঠে‌লে দি‌য়ে বল‌লো

‌মিজানঃ দেখ একলা আছে। চান্স ছা‌ড়িস না। যা প‌রি‌চি‌তো হ‌য়ে নে?

আয়াতঃ স‌ত্যিই যা‌বো। ভয় কর‌ছে।

‌রিয়াজঃ যা‌বি না‌কি তোর পাছায় লা‌থি দিমু শালা!

আয়াত ভ‌য়ে ভ‌য়ে ঘা‌টের একদম কা‌ছে গি‌য়ে বল‌লো

আয়াতঃ আপ‌নি কি সবসময় পুকুর পা‌ড়ের ব‌সে থা‌কেন?

রূপান্তী চম‌কে উঠে পিছ‌নে তাকা‌লো।

আয়াতঃ উফ চো‌খের চাহ‌নী‌তে বু‌কের মা‌ঝে বান মা‌রে (ম‌নে ম‌নে)।

রূপন্তীঃ কে আপ‌নি? এখা‌নে কি কর‌ছেন?

আয়াতঃ আমতা আমতা ক‌রে আমি আয়াত।

রূপন্তীঃ তো আমি কি কর‌বো? আর এখা‌নে কি কর‌ছেন?

আয়াতঃ আপনা‌কে দেখ‌ছি

রূপন্তীঃ কিইই?

আয়াতঃ মমমম মা‌নে প্রকৃ‌তি দেখ‌ছি।

রূপা‌ন্তীঃ আপ‌নি সেই লোক না যে দুপু‌রে লু‌কি‌য়ে লু‌কি‌য়ে মে‌য়ে‌দের গোসল করা দেখ‌ছি‌লেন?

আয়াতঃ নাউযু‌বিল্লাহ! আমি এসব বা‌জে কাজ একদম ক‌রি না?

রূপন্তীঃ বে‌শি ধা‌র্মিক সাজার চেষ্টা একদম কর‌বেন না।

আয়াতঃ আপ‌নিও বে‌শি ভা‌লো সাজার চেষ্টা কর‌বে না ফুল চোর ভুত‌নি।

আয়া‌তের কথা শু‌নে রূপন্তী বড় বড় চোখ ক‌রে তাকা‌লো। আর তুত‌লি‌য়ে বল‌লো

রূপন্তীঃ মমমমম মা‌নে?

আয়াতঃ না মা‌নে কাল রা‌তে আমার দাদার দাদার বৌ আমা‌দের বাগা‌নে ফুল চু‌ড়ি কর‌ছি‌লো। আমি কাল রাত থেকে ভাব‌ছি যে তি‌নি‌তো কত‌ বছর আগে মারা গে‌ছেন। ভুত ফুল চু‌রি ক‌রে কি কর‌বে?

রূপন্তীঃ মা মা মা‌নে? আমি কি ক‌রে জান‌বো?

আয়াতঃ নাহ আস‌লে ভুত‌নি তার চু‌লের ক্লিপ ফু‌লের বাগা‌নে ফে‌লে রে‌খে গে‌ছে। (নুপু‌ড়ের কথাটা আয়াত চে‌পে গে‌লো) ভাবছি অত আগের ম‌হিলার ভুত চু‌লে ক্লিপ পড়‌তো?

রূপন্তীঃ তততত তা আমি কি ক‌রে জান‌বো?

আয়াতঃ না ম‌া‌নে গ্রামটা‌তো আপনা‌দের তাই ভাবলাম গ্রামের ভুত পে‌ত্নি‌দের চি‌নেন বোধয়।

রূপান্তী ওঠে পালা‌তে চাই‌লে আয়াত খপ ক‌রে হাতটা ধ‌রে ফেল‌লো। রূপন্তী রাগি চো‌খে আয়া‌তের দি‌কে তাকা‌লো। আয়াত আস্তে হাতটা ছে‌ড়ে দি‌লো।

রূপা‌ন্তী ম‌নে ম‌নে বল‌ছে আমার হাত ধরা হ‌চ্ছে না। দাড়া তোর হ‌চ্ছে।

রূপন্তীঃ আপনার পা‌নি কেমন লা‌গে?

আয়াতঃ আমি পা‌নি‌তে ভয় পাই। সাতার জা‌নিনা‌তো।

রূপন্তীঃ এ্যা। ছে‌লে মানুষ হ‌য়ে সাতার জা‌নেন না।

আয়াতঃ হুমমম।

রূপন্তীঃ ভাব‌লো হয়‌তো মিথ্যা কথা বল‌ছে। তাই পুকুর পার থেকে কিছু বিচু‌টি পাতা নি‌য়ে বল‌লো। এটা হা‌তে লাগা‌লে মানুষ তাড়াতা‌ড়ি সাতার শে‌খে।

আয়াতঃ স‌ত্যি!

রূপন্তীঃ লা‌গি‌য়েই দেখুন না।

আয়াত বিচ‌ু‌টি পাতার হা‌তে লাগা‌লো। বাস শুরু হ‌য়ে গে‌লো একশন। আয়াত নি‌জের হাত চুকা‌চ্ছে আর হা‌তে লে‌গে থাকার কার‌নে শরী‌রের লে‌গে শরীরও চুলকা‌চ্ছে। আয়াত চুলকা‌তে চুলকা‌তে পুকু‌রের একদম পা‌ড়ে চ‌লে গে‌লে। আর রূপন্তী ওকে ধাক্কা মে‌রে পুকু‌রে ফে‌লে দি‌য়ে ব‌লে এবার সাতার শি‌খে যা‌বেন। এসব বল‌ছে আর পা‌ড়ে দা‌ড়ি‌য়ে হাস‌ছে।

দূ‌রে দা‌ড়ি‌য়ে ওদের বন্ধুরা এসব দে‌খে মে‌হেদী বল‌লো

‌মে‌হেদীঃ আরে মে‌য়েটা‌তো ওকে ফে‌লে দি‌লো? আয়াত তো সাতার জা‌নেনা উঠ‌বে কি করে? চল ওকে বাঁচাই।

‌মিজানঃ চুপ বলদ। না‌য়িকা থাক‌তে আমরা কেন বাঁচা‌বো? কাবা‌বে হা‌ড্ডি হবার কোন দরকার নাই। চুপ চাপ দা‌ড়িয়ে সিন দেখ।

এ‌দি‌কে বেচারা আয়া‌তের অবস্থা তো বা‌রোটা বে‌জে গে‌ছে। রূপন্তী আয়া‌তের অবস্থা দে‌খে বুঝ‌তে পার‌লো ও স‌ত্যিই সাতার জা‌নে না। তাই আশে পা‌শে কাউ‌কে না দে‌খে রূপন্তী পুকু‌রে জা‌পি‌য়ে প‌রে। আয়াতকে উপ‌রে উঠা‌নোর চেষ্টা কর‌ছে। আয়াত রূপন্তী‌কে প্রায় জ‌ড়ি‌য়ে ধর‌ছে। কোন রকম রূপন্তী আয়াত‌কে উপ‌রে উঠা‌লো। দে‌খে আয়াত জ্ঞান হা‌রি‌য়ে ফে‌লেছে। রূপন্তীর খুব খারাপ লাগ‌ছে আয়া‌তের এ অবস্থা দে‌খে। ও আয়া‌তের পে‌টে ধী‌রে ধী‌রে চাপ দি‌য়ে পা‌নিটা বের ক‌রে ফেল‌লো। কিন্তু জ্ঞান ফির‌ছে না। রূপন্তী ভাব‌ছে কি কর‌বো এখ‌নোতো একে তো শ্বাস দি‌তেও পার‌বো না। কিটা ছে‌লে ব‌লে কথা? তারপর ধী‌রে ধী‌রে আয়া‌তের গা‌লে মাথায় হাত বু‌লি‌য়ে ডাক‌তে লাগ‌লো।

রূপন্তীঃ শুন‌ছেন? শুন‌ছেন?

রূপন্তী ম‌নে ম‌নে দোয় দুরুদ পড়‌ছে। ভিষন খ‌ারাপ লাগ‌ছে ওর। ধী‌রে ধী‌রে আয়াত চোখ খুল‌লো। কিন্তু ভ‌য়ে পা‌নি! পা‌নি ব‌লে চিৎকার ক‌রে রূপান্তী‌কে জড়ি‌য়ে ধরলো। রূপন্তী যে‌নো স্তম্ববি‌তো হ‌য়ে গে‌লো। তারপরও নি‌জে‌কে সাম‌লে বল‌লো—-

রূপন্তীঃ আপ‌নি এখন বিপদ মুক্ত। পা‌নি নেই এখা‌নে।

আয়াত নি‌জের স‌ন্নিধ্য ফি‌রে পে‌য়ে ওঠে দা‌ড়ি‌য়ে প‌রে। ভিষন রাগ হ‌চ্ছিল ওর রূপন্তীর ওপর। তাই রূপন্তী‌কে একটা চড় মার‌তে নি‌ছি‌লো কিন্তু হাতটা আবার না‌মিয়ে নি‌য়ে বল‌লো

আয়াতঃ এই মে‌য়ে আমি কি তোমার সা‌থে কোন বা‌জে ব্যবহার ক‌রে‌ছি যে আমার সা‌থে এমনটা কর‌লে। তু‌মি কি জা‌নো আমি পা‌নি মা‌নে পুকুর নদী এসব প্রচন্ড ভয় পাই। তোমার কা‌ছে বিষয়টা হাস্যকর মজার হ‌লেও আমার কা‌ছে তা ক‌ষ্টের। মানু‌ষের কথা গু‌লো বিশ্বাস করার চেষ্টা ক‌রো। বুঝ‌লে। এই ব‌লে আয়াত রাগ ক‌রে চ‌লে গে‌লো।

রূপন্তী হা হ‌য়ে ওর যাবার পা‌নে তা‌কি‌য়ে রই‌লো। আজ ওর স‌ত্যিই খুব খারাপ লাগ‌ছে কারন কিছু না জেনে বু‌ঝেই একজন‌কে কষ্ট দি‌য়ে ফেল‌লো। ওনি তো স‌ত্যিই ব‌লে‌ছেন? ওনি‌তো আমার সা‌থে কোন অন্যায় ক‌রে‌নি? দূর বোকার মত একটা কাজ ক‌রে ফেললাম।

রা‌তে আয়া‌তের ভিষন জ্বর আস‌লো। কারন গ্রা‌মের পুকু‌রের পা‌নি তার উপর এত ভয় পে‌য়ে‌ছে। ওর বন্ধুরা অনেক চিন্তিত হ‌য়ে পর‌লো। ওর বা‌ড়ি‌তেও জানা‌তে পার‌ছে না। তাহ‌লে তারা খুব টেনশন কর‌বে। ডাক্তার ডাকার পর ডাক্তার কিছু ঔষধ দি‌য়ে গে‌লো। আর বল‌লো দু এক দি‌নেই ঠিক হ‌য়ে যা‌বে!

পরের দিন খুব সকা‌লে রূপন্তী আয়াতদের বা‌ড়ি আস‌লো। রূপন্তী‌কে দে‌খে আয়া‌তের বন্ধু খুব রাগ দে‌খা‌লো।

রা‌কিবঃ ছে‌লেটা তোমার সা‌থে শুধু বন্ধুত্ব কর‌তে গি‌য়ে‌ছি‌লো ব‌লে ওকে এভা‌বে নাকা‌নি চোবা‌নি খাওয়া‌লে? কেন?

রূপন্তীঃ দেখুন আমার ভুল হ‌য়ে‌ছে। তারজন্য ওনার কা‌ছে ক্ষমা চাই‌তে এসে‌ছি। দয়া ক‌রে আমা‌কে একটু ওনার সা‌থে দেখা কর‌তে দি‌বেন।

‌মিজানঃ কাল রাত থেকে ছে‌লেটা ভিষন জ্ব‌রে ভুগ‌ছে।

রূপ‌ন্তীঃ কি? দয়াক‌রে আমা‌কে একটু ওনার সা‌থে দেখা কর‌তে দিন।

‌মে‌হেদীঃ ঠিক আছে বোন। ঐ উপ‌রের বাম পা‌শের রু‌মে। তু‌মি যাও।

রূপন্তী ওদের ধন্যবাদ দি‌য়ে উপ‌রে চ‌লে গে‌লো। গি‌য়ে দে‌খে আয়াত ঘুমা‌চ্ছে। রূপান্তী আয়া‌তের চেহারার দি‌কে তা‌কি‌য়ে ব‌লে ইস কোন ছে‌লের চেহারায় এতটা মায়া থাক‌তে পা‌রে? আগে জানতাম না। আস্তে ক‌রে আয়া‌তের মাথায় হাত রে‌খে চম‌কে উঠ‌লো জ্বরে গা পু‌রে পু‌ড়ে যা‌চ্ছে। তাড়াতা‌ড়ি ওর বন্ধু‌দের ব‌লে পা‌নি আর কাপড় আনি‌য়ে কখ‌নো মাথায় জলপ‌ট্টি দি‌চ্ছে আবার কখ‌নো মাথায় পা‌নি দি‌য়ে দি‌চ্ছে। ওর গাটা মু‌ছে দেয়া দরকার কিন্ত‌ু রূপন্তীর খুব লজ্জা লাগ‌ছে। কারন আয়াত তখন সজাগ। ও জ্ব‌রের ঘো‌রের বার বার চোখ মে‌লে শুধু রূপন্তী‌কেই দেখ‌তে পে‌লো। তাই মে‌হেদী‌কে ডাক দি‌য়ে বল‌লো

রূপন্তীঃ মে‌হেদী ভাইয়া দয়া ক‌রে ওনার গাটা একটু মু‌ছে দিন। আমি ততক্ষ‌নে ওনার জন্য হালকা কিছু খাবার বা‌নি‌য়ে আনি।

‌মে‌হেদী আয়া‌তের গা মু‌ছে দি‌চ্ছে। কিছুক্ষন পর রূপন্তী খাবার নি‌য়ে এসে আয়াত‌কে খাই‌য়ে দি‌লো। আয়াত লজ্জায় মাথা নিচু ক‌রে খে‌য়ে নি‌লো। তারপর রূপন্তী বল‌লো

রূপন্তীঃ কাল‌কের জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী। আর আপনার জ্বড় এখন ছে‌ড়ে গে‌ছে। কাল সকা‌লের ম‌ধ্যে ইনশাল্লাহ ঠিক হ‌য়ে যা‌বে। আমি এখন আসি।

আয়াতঃ শোন রূপন্তী? কালকে রা‌গের মাথায় তোমার সা‌থে অনেক খারাপ ব্যবহার করে‌ছি তার জন্য দু‌ঃখিত।

রূপন্তীঃ আপনার জায়গায় যে কেউই ওরকম কর‌তো । আচ্ছা আপ‌নি ছে‌লে মানুষ হ‌য়ে পা‌নি‌কে এতটা ভয় পান কেন?

প্রশ্নটা শুনে আয়াত থম‌কে যায়। মুখটা চুপ‌সে যায়। তারপর ব‌লে ।

আয়াতঃ কোন এক‌দিন বল‌বো!

রূপন্তীঃ অপেক্ষায় থাক‌বো।

প‌রের দিন আয়াত প্রায় সুস্থ তাই বিকা‌লে রূপন্তীকে ধন্যবাদ জান‌তে যা‌চ্ছি‌লো। কিন্তু প‌থে মধ্যে আয়াত একি দেখ‌লো? যা দে‌খে আয়া‌তের চোখ একেবা‌রে ছানাবড়া হ‌য়ে গে‌ছে—–

আয়াত দেখ‌লো রূপন্তী একটা ছে‌লে‌কে পিটা‌চ্ছে। আয়াত হা হ‌য়ে গে‌লো। কোন গ্রা‌মের মে‌য়ে এভা‌বে ছে‌লে‌দের পিটা‌তে পা‌রে না দেখ‌লে বিশ্বাস হ‌তো না। কিন্তু মার‌ছে কেন?

আয়াত পা‌শে থাকা একটা মে‌য়ে‌কে জি‌গেস কর‌লো আপু কি হ‌য়ে‌ছে? ওনি এভা‌বে ছে‌লেটা‌কে পিটা‌চ্ছে কেন?

——–আ‌রে ছে‌লেটা ওর পিছ‌নে প‌রে ছি‌লো। রূপন্তী অনেবার ছে‌লেটা‌কে পিছ‌নে ঘুর‌তে নি‌ষেধ কর‌ছে। কিন্তু আজ ছে‌লেটা ওকে বা‌জে কথা ব‌লে‌ছে। বাস আর কি? রূপন্তী তার সু‌শিল রূপ বদ‌লে গু‌ন্ডি মে‌য়ে হ‌য়ে গে‌লো।

আয়াত ভাব‌ছে এই ছে‌লেটার যে অবস্থা কর‌ছে সে‌ অবস্থা না আমার হয়? হা‌তের ফুল গু‌লো তাড়াতা‌ড়ি ফে‌লে দি‌লো। ছে‌লেটা‌কে তা‌ড়ি‌য়ে রূপন্তী আয়া‌তের সাম‌নে এসে দাড়া‌লো। আয়াততো ভ‌য়ে একেবা‌রে সোজা হ‌য়ে দা‌ড়ি‌য়ে আছে। আয়া‌তের অবস্থা দে‌খে রূপন্তী হে‌সে দি‌লো। আর বল‌লো

রূপন্তীঃ আরে এভা‌বে দা‌ড়ি‌য়ে আছেন কেন? ম‌নে হ‌চ্ছে আপনার সাম‌নে বাঘ এসে দা‌ড়ি‌য়ে‌ছে?

আয়াতঃ বাঘ না বা‌ঘিনী। (ম‌নে ম‌নে)

রূপন্তীঃ কিছু বল‌লেন?

আয়াতঃ কই না‌তো?

রূপন্তীঃ বাদ দেন তো। আগে ব‌লেন আপনার শরীর এখন কেমন ?

আয়াতঃ জ্বি ভা‌লো।

রূপন্তীঃ চলুন পুকুর পা‌রে ব‌সি। আর হ্যা এবার কিন্তু ফে‌লে দি‌বো না? ব‌লে হে‌সে দি‌লো। আয়াতও ওর সা‌থে হে‌সে দি‌লো।

ওরা হাট‌তে হাট‌তে পুকুর পা‌রে গি‌য়ে বস‌লো।

আয়াতঃ আপ‌নি কিন্ত‌ু আমার প্র‌শ্নের জবাব দেন‌নি?

রূপন্তীঃ কোন প্র‌শ্নের?

আয়াতঃ ঐ যে আপ‌নি বে‌শির ভাগ সময় এই পুকুর পা‌ড়ে কেন ব‌সে থা‌কেন ?

রূপন্তীঃ সবসময় না। যখন মন খারাপ হয় তখন। আর এখা‌নে বস‌তে আমার খুব ভা‌লো লা‌গে। আস‌লে এখা‌নে আমার মা‌য়ের অনেকটা স্মৃ‌তি জ‌ড়ি‌য়ে আছে। ছোট বেলায় মা ই আমা‌কে এ পুকুর সাতার শি‌য়ে‌ছি‌লেন। এখা‌নে ব‌সে মা‌য়ের সা‌থে নানা রকম ভা‌বে সময় কা‌টি‌য়ে‌ছি। পুকরের ঐ পা‌ড়ে বাধা‌ঁনো একটা কবর দেখ‌ছেন? ওটা আমার মা‌য়ের। আমার বয়স যখন এগা‌রো কি বা‌রো তখন মা আমায় ছে‌ড়ে চ‌লে গে‌ছে। জা‌নেন আমার মা‌য়ের চুল আমার থে‌কেও লম্বা আর সুন্দর ছি‌লো। কথা গু‌লো বল‌তে বল‌তে রূপন্তীর গলাটা আট‌কে আসে। চোখ থে‌কে মুক্তর দানার মত জল ঝ‌ড়ে প‌রছে।

আয়াত গি‌য়ে র রূপন্তীর পা‌শে বস‌লো। আস্তে ক‌রে রূপন্তীর হা‌তে হাত রে‌খে চো‌খের দি‌কে তা‌কি‌য়ে ভরশা দেয়। রূপন্তী অবাক চো‌খে আয়া‌তের চো‌খের দি‌কে তা‌কি‌য়ে আছে। আয়া‌তের চো‌খের ভাষায় যে‌নো নি‌জে‌কে হা‌রি‌য়ে ফেল‌ছে। আয়াত নি‌জের চোখটা না‌মি‌য়ে নি‌য়ে ম‌নে ম‌নে বল‌লো এ মে‌য়ে‌তো আমা‌কে চোখ দি‌য়েই বস ক‌রে ফেল‌বে। ‌সে‌দিন সেখা‌নে ব‌সে দুজনার মা‌ঝে হাজা‌রো কথা হ‌লো। রূপন্তী একটা কথার ঝু‌ড়ি। আয়াত ওর কথায় মায়ায় হা‌রি‌য়ে যায়।

দু‌দি‌নে ওদের মা‌ঝে বেশ ভা‌লো বন্ধুত্ব হ‌য়ে যায়। এক‌দিন বিকা‌লে আয়াত আর রূপন্তী ব‌সে গল্প কর‌ছি‌লো। হঠাৎ রূপন্তী আয়াত‌কে প্রশ্ন ক‌রে ব‌সে আয়াত আপ‌নি পা‌নি কেন এত ভয় পান?

আয়াত প্রশ্নটা শু‌নে বিষন্ন হ‌য়ে প‌ড়ে।

রূপন্তী বুঝ‌তে পে‌ড়ে ব‌লে না বল‌তে চাই‌লে জোড় ক‌রে বলার কোন দরকার নাই।

আয়াতঃ না না আজ‌কে তোমা‌কে আমি বল‌বো। আস‌লে আমি যখন আট বছর বয়‌সি তখন বাবার সা‌থে আমি আর বড় আপু নদী‌তে নৌকায় ঘুর‌তে গি‌য়ে‌ছিলাম। তখন নৌকায় আমি আর বড় আপু খুব দুষ্ট‌মি কর‌ছিলাম। আপু পা‌নি ধরার জন্য নৌকা থে‌কে নি‌চে দি‌কে হাত বাড়া‌তে গি‌য়ে অন্য হাতটা ছু‌টে পা‌নি‌তে প‌রে যায়। বাবাও সা‌থে সা‌থে আপু‌কে বাঁচা‌নোর জন্য পা‌নি‌তে ঝাপ দেয়। আমরা তখন নদীর ঠিক মাঝ খা‌নে ছিলাম। আমা‌দের চিৎকার শু‌নে আসে পা‌শে থাকা নৌকাওয়ালারাও পা‌নি‌তে না‌মে বাবা‌তো ঠিক ছি‌লো। আপু‌কেও উঠা‌নো গে‌লো কিন্তু আপুর শরীরে ছি‌লো নিঃশপ্রান।

তখন থে‌কে আমি নদী বা বড় কোন পুকুর দেখ‌লে ভ‌য়ে আত‌কে উঠি। সময় চ‌লে গে‌ছে। সময় বড় বড় শোক‌কেও কে‌টে উঠ‌তে সাহায্য ক‌রে। বড় আপুর শোকটা আমরা সবাই কা‌টি‌য়ে উঠে‌ছি কিন্তু কা‌টি‌য়ে উঠ‌তে পা‌রি‌নি আমার ভিত‌রের ভয়টা‌কে। আপুর পা‌নি‌তে ডোবার সে বিভৎস্ব স্মৃ‌তি গু‌লো‌কে।

রূপন্তীঃ দুঃখিত। আমি ম‌নে হয় আপনার ক্ষতটা‌কে আবার নতুন ক‌রে খু‌চি‌য়ে দিলাম।

আয়াতঃ না না ঠিক আছে। সে‌দিন ওরা আরো অনেক গল্প কর‌লো।

‌সে‌দিন রা‌তে আয়াত বারান্দায় ব‌সে বই পড়‌ছে। তখন আবার নুপু‌রের শব্দ পে‌লো। এ শব্দটার সা‌থে যে‌নো আয়াত খুব প‌রি‌চি‌তো। তাই ধি‌মি পা‌য়ে লাইট না জ্বালা‌য়ে বাগা‌নের ম‌ধ্যে গি‌য়ে খপ ক‌রে রূপন্তীর হাতটা ধ‌রে টান দি‌য়ে নি‌জের একদম কা‌ছে নি‌য়ে আসে। রূপন্তী কিছুটা চম‌কে উঠে।

আয়াতঃ তা দা‌দি আপ‌নি বারবার এখা‌নে ফুল চু‌রি কর‌তে আসেন কেন? আর হ্যা প‌রের বার আস‌লে আপনার নুপুড়টা খু‌লে আস‌বেন। ওটার ছমছম শ‌ব্দে মানুষ স‌ত্যিই ভয় পায়।

রূপন্তীঃ মাথা চুলকা‌তে চুলকা‌তে আস‌লে কাল‌কে কিছু ফুল দরকার। কিন্তু গ্রাম‌তো দোকা‌নে তেমন পাওয়া যায় না। তাই।

আয়াতঃ তা‌তে চু‌রি করার কি দরকার? আপ‌নি চাই‌লে বাগা‌নের মা‌লিক সহ নি‌য়ে নি‌তে পা‌রেন!

রূপন্তীঃ আচ্ছা! কিন্তু বাগা‌নের মা‌লি‌কের প্র‌তি আমার কোন আগ্রহ নাই?

আয়াতঃ তাহ‌লে আগ্রহ তৈরী কর‌তে পা‌রেন।

রূপন্তীঃ ভে‌বে দে‌খি। কিন্তু ভে‌বে দেখ‌তে হ‌লে আমার একটা শর্ত পূরন কর‌তে হ‌বে?

আয়াতঃ কি? ফুল নি‌বেন তাই‌তো?

রূপন্তীঃ জ্বি না! আমার সা‌থে পা‌শের বা‌ড়ির পেয়ারা বাগা‌নে পেয়ারা চু‌রি কর‌তে হ‌বে।

আয়াতঃ কি? চু‌রি? না না আমার ভয় ক‌রে। য‌দি ধরা প‌রে যাই?

রূপন্তীঃ তাহ‌লে পালা‌বেন? আর কি কর‌বেন?

আয়াতঃ না না ঠিক হ‌বে না।

রূপন্তীঃ আয়া‌তের হাত ধ‌রে টান দি‌য়ে চলুন তো।

‌পেয়ারা বাগা‌নে গি‌য়ে‌ছে ঠিকই কিন্তু পেয়ারা পারা যা‌চ্ছে না। কারন গাছগু‌লো বড় বড়। রূপন্তী বার বার লাফ দি‌য়ে বৃথা চেষ্টা কর‌ছে আর আয়াত দেখ‌ছে কেউ আস‌ছে কি না।

আয়াতঃ কি হ‌লো?

রূপন্তীঃ পার‌ছি না‌তো?

আয়াতঃ দেখ‌ছি কি করা যায়?

আয়াত এসে রূপন্তীর কোম‌রে হাত দি‌য়ে উপ‌রে তু‌লে ধ‌রে বল‌লো এবার চেষ্টা করুন। রূপন্তীর পু‌রো শরীর যে‌নো স্তব্ধ হ‌য়ে গে‌লো। আয়াতও বুঝ‌তে পে‌রে রূপন্তী‌কে না‌মি‌য়ে দি‌লো। দুজ‌নেই চুপ কোন কথা বল‌ছে না। তারপর চুপচাপ যে যার বা‌ড়ি চ‌লে গে‌লো।

প‌রের দু‌দিন রূপন্তী আয়া‌তের সাম‌নেও প‌ড়েনি। এদি‌কে রূপন্তী‌কে না দে‌খে‌তো আয়া‌তের মন ভিষন খারাপ হ‌য়ে আছে। আয়াত রূপন্তী‌কে অনেক খোজার পর পে‌লো। নদীর ধা‌রে একা ব‌সে ছি‌লো। আয়াত‌কে দেখ‌তেই পা‌লি‌য়ে যে‌তে চাই‌লে আয়াত রূপন্তীর হাতটা ধ‌রে কা‌ছে টে‌নে নেয়। আর ব‌লে—

আয়াতঃ এই মে‌য়ে দু‌দিন ধ‌রে কোথায় ছি‌লে ? আর আমা‌কে দেখ‌লে এভা‌বে পালাও কেন? ব‌লো? আর হ্যা সে‌দিন না বু‌ঝে তোমার—– তার জন্য দুঃ‌খি‌তো।

রূপন্তী নি‌চের দি‌কে তা‌কি‌য়ে চুপ ক‌রে আছে।

আয়াতঃ দে‌খো রূপন্তী তোমার সা‌থে আমি ওরকম কর‌তে চাই‌নি। আর আমি হয়‌তো অতটা ঘু‌ছি‌য়ে কথা বল‌তে পার‌বো না । তাই সোজা সো‌জি ব‌লে দি‌চ্ছি আমি তোমা‌কে খুব ভা‌লোবা‌সি। বি‌য়ে কর‌বে আমায় এলো‌কেশী?

রূপন্তী আয়া‌তের চো‌খের দি‌কে তা‌কি‌য়ে ঠিক কি বল‌বে ভে‌বে না পে‌য়ে দৌ‌ড়ে পা‌লি‌য়ে গে‌লো।

আয়াতরা দু‌দিন পর চ‌লে যা‌চ্ছে। কিন্তু এই দু‌দি‌নে আয়াত একবারও রূপন্তীর দেখা পায়‌নি। আয়াত গা‌ড়ি‌তে ওঠার আগেও বার বার প‌থের পা‌নে চাচ্ছি‌লো যে রূপন্তী আস‌বে কি না? কিন্তু নাহ রূপন্তী আসেনি। ওর বন্ধুরাও ওর জন্য খুব আফসুস কর‌তে লাগ‌লো।

অব‌শে‌ষে ওরা বা‌ড়ি পৌছা‌লো। ব্যস্ত জীবন যে যার মত ব্যাস্ত হ‌য়ে গে‌লো। ওরা বা‌ড়ি এসে‌ছে চার দিন হ‌লো। এই চার‌দি‌নে রূপন্তী একবারও আয়াত‌কে ফোন ক‌রে‌নি। আয়াত আসার সময় ওর ফোন নাম্বারটা রূপন্তীর এক বান্ধবীর কা‌ছে দি‌য়ে আসে। আয়াত ভে‌বে‌ছি‌লো হয়‌তো রূপন্তী ফোন কর‌বে। কিন্তু নাহ। ফোন ক‌রে‌নি। কাল আয়া‌তের অফি‌সে খ‌ুব জরু‌রি একটা মি‌টিং আছে কিন্তু রূপন্তীর টেনশ‌নে আয়াত মি‌টিং এ জন্য ভা‌লোভাবে প্রস্তু‌তি নি‌তে পার‌ছে না। ওর বারবার ম‌নে হ‌চ্ছে রূপন্তী য‌দি আমা‌কে ভা‌লো নাই বা‌সে তাহ‌লে সরাস‌রি বা একটা ফোন ক‌রে আমা‌কে জা‌নি‌য়ে দি‌লে কি খুব বে‌শি ক্ষ‌তি হ‌তো ওর।

ও আমার সা‌থে এমন কেন কর‌লো?

শত চিন্তার ম‌ধ্যেও আয়াত অফি‌সের সব কাজ গু‌ছি‌য়ে প‌রের দিন সকা‌লে অফি‌সে গে‌লো। আজ অন্য কম্পা‌নির সা‌থে কনফা‌রেন্স আছে। আয়াত গা‌ড়ি থে‌কে নে‌মে ভিত‌রে না ডু‌কে অাফ‌িসের ম্যা‌নেজা‌রের সা‌থে কথা বল‌লো। হঠাৎ একটা গা‌ড়ি এসে ওদের সাম‌নে থাম‌লো। আয়াত চোখ দু‌টো বড় বড় হ‌য়ে হয়ে গে‌লো। 
আ‌রে না না গা‌ড়ি দে‌খে চোখ বড় হ‌য়ে যায়‌নি? চোখ বড় হ‌য়ে‌ছে যে গা‌ড়ি থে‌কে নাম‌ছে তা‌কে দে‌খে।

গা‌ড়ি থে‌কে অন্য কেউ না রূপন্তী নে‌মে‌ছে। কিন্তু এ রূপন্তী আর গ্রা‌মের রূপন্তীর মা‌ঝে আকাশ পাতাল পার্থক্য। গা‌য়ের রূপন্তীর মত এ রূপন্তীর গা‌য়ে তা‌তের কাপড়, পা‌য়ে নুপ‌ুড়, না‌কে নত, চুল খোলা বা খোপা করা না। একে বা‌রে আধু‌নিক এ রূপন্তী। না কোন অশালীন ড্রেস প‌ড়ে‌নি রূপন্তী। কিন্তু শালীনতা বজায় রে‌খে যে আধু‌নিকতা তা তার মা‌ঝে দেখা যা‌চ্ছে। চুল গু‌লো স্টাইল ক‌রে বাধাঁ। চো‌খে স্টাই‌লিস চমশা, খুব সুন্দর স্টাই‌লিস একটা ড্রেস পড়া।

রূপন্তী‌কে দে‌খে আয়াত যে‌নো ঘো‌রের ম‌ধ্যে প‌রে গেলো। নি‌জের চোখ‌কে ঠিক বিশ্বাস কর‌তে পার‌ছে না। ম‌নে হ‌চ্ছে কোন ভ্রম এর ম‌ধ্যে আছে। তাই ক‌য়েক বার চোখ মুছা নি‌লো। নাহ এটা মিথ্যা না। রূপন্তী গা‌ড়ি থে‌কে নে‌মে আয়া‌তের সাম‌নে দি‌য়ে যাবার সময় মি‌ষ্টি ক‌রে একটা হা‌সি দি‌য়ে দুষ্ট ক‌রে একবার চোখ মার‌লো। আয়াত‌তো পুরাই থ।

কিছুক্ষন পর মি‌টিং শুরু হ‌লো। রূপন্তী কিছু প্রে‌জেন‌টেশন দি‌চ্ছে

রূপন্তীঃ হ্যা‌লো এভ‌রিওয়ান! আই এ্যাম সায়মা ফ্রম রূপলী গ্রুপ অব ইনড্রাস‌ট্রিস। আই দ্যা ডটর অব সি‌ইও অব রূপালী গ্রুপ মিঃ আহসান হা‌বিব। টু‌ডে হি ইস সো ইল। সো আই জ‌য়েন দিস মি‌টিং। আই হোপ ইউ ডোন্ট মাইন্ড। তারপর ইং‌রে‌জি‌তে প্রে‌জেন‌টেশন শুরু কর‌লো।

রূপন্তীর মু‌খে এমন ইং‌লিস শু‌নে আয়াত কিছ‌ু ভে‌বে পা‌চ্ছে না। কারন রূপান্তী ব‌লে‌ছি‌লো ও কেবল এস এস সি পাশ ক‌রে‌ছি‌লো।

‌মি‌টিং শে‌ষে। আয়াত ভাব‌লো রূপন্তীর সা‌থে কথা বল‌বে কিনা? এর ম‌ধ্যে আয়াত এর পি এ এসে বল‌লো স্যার মিস সাময়া আপনার সা‌থে দেখা করতে চায়!

আয়াতঃ ঠিক আছে পা‌ঠি‌য়ে দাও। আয়াত ভাব‌লো যাক কষ্ট কর‌তে হ‌লো না আর।

রূপন্তীঃ আস‌তে পা‌রি?

আয়াতঃ ইয়েস প্লিজ।

রূপন্তী এসে আয়া‌তের সাম‌নে ব‌সে মিট মিট ক‌রে দুষ্ট‌মি হা‌সি হাস‌ছে। আর আয়া‌তের চেহারা দে‌খে বোঝা যায় অনেক কন‌ফিওশ‌নে আছে।

রূপন্তীঃ কন‌ফিওশনটা ক্লিয়ার ক‌রে দি‌বো কি?

আয়াত জিগাসু দৃ‌ষ্টি‌তে রূপন্তীর দি‌কে তাকা‌লো।

রূপান্তীঃ ওভা‌বে তা‌কি‌য়ে লাভ নাই। আগে ব‌লেন রূপন্তী কেমন আছে?

আয়াতঃ মমমম মা‌নে? প্লিজ ক্লি‌লিয়ার ক‌রে বলুন আপ‌নি সায়মা না‌কি রূপন্তী?

রূপন্তীঃ দু‌টোই। ম‌া‌নে আমার পু‌রো নাম সায়মা রহমান রূপ‌ন্তী। আপ‌নি কোম্পা‌নির নাম শোনার পর আমার প‌রিচয়টা নিশ্চয়ই পে‌য়ে‌ছেন?

আয়াতঃ তাহ‌লে গ্রা‌মে?

রূপান্তীঃ ঠিক একমাস আগে আমার বি‌য়ের জন্য বাবা একটা ছে‌লে দে‌খে। ছে‌লের প‌রিবারও আমা‌কে খুব পছন্দ ক‌রে। যে‌হেতু আমার নি‌জের কোন পছন্দ ছি‌লো না তাই বাবার পছন্দেই হ্যা ক‌রে দিলাম। কিন্তু ছে‌লেটা আমা‌কে না দে‌খেই না ক‌রে দি‌লো। প্রচন্ড রাগ চে‌পে গে‌লো মাথায়। তখনই ভে‌বে‌ছি বি‌য়ে য‌দি জীব‌নে কাউ‌কে ক‌রি ত‌বে সেই ছে‌লে‌কেই কর‌বো। কিন্তু তখন আমার মাথায় খুব রাগ ছি‌লো। তাই রাগটা কমা‌তে আমি আমার গ্রা‌মে গেলাম।

‌কিন্তু বিধাতার খেল দে‌খেন কাকতা‌লিও ভা‌বে সেই ছে‌লে‌টিও আমার গ্রা‌মেরই ছে‌লে। সেও গ্রা‌মে ঘুর‌তে গে‌ছি‌লো। ‌ছে‌লেটা‌কে প্রথম দেখায় চি‌নে ফেললাম। ভাবলাম এখা‌নেই শিক্ষা দি‌বো। কিন্তু ছে‌লে‌টির মন যে এতটা সড়ল তা বুঝ‌তে পা‌রি‌নি। কারন ছে‌লে‌টি আমা‌কে ভুল প্রমান ক‌রে দি‌য়ে গ্রা‌মের সহজ সরল মধ্য‌বিত্ত একটা মে‌য়ে‌কে ভা‌লো‌বে‌সে বি‌য়ে কর‌তে চাই‌লো। তারপর আমি চিন্তা করলাম এত বড় লো‌কের শহু‌রে ছে‌লে গ্রা‌মের একটা মে‌য়ের প্রে‌মে কেন পড়লো? তাই ছে‌লেটার অতীত বর্তমান সব জে‌নে দেখলাম নাহ আমি ভুল ছিলাম। কারন ছে‌লেটা‌কে যতটা হিংসু‌টে ভে‌বে‌ছি ততটা নয়।

আয়াতঃ তা ছে‌লেটা কেমন?

রূপন্তীঃ মৃদু হে‌সে। ভিষন ভা‌লো। ছে‌লে‌টি আমা‌কে তার ম‌নের কথা জানা‌নোর পর আমি খুব কন‌ফিওশ‌নে ছিলাম। তাই তখন সেখান থে‌কে চ‌লে এসে‌ছিলাম। ভাবলাম প‌রের দিন উত্তর দি‌বো। কিন্তু সে‌দিন রা‌তে ফোন আসে আমার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে। তাই প‌রের দিন খুব সকা‌লে ছে‌লেটা‌কে না জা‌নি‌য়ে চ‌লে এসে‌ছি। আসার পর বাবা‌কে নি‌য়ে এতটা ব্যাস্ত ছিলাম যে ছে‌লেটার সা‌থে কথা বলার সময়ই হয়‌নি। আশাক‌রি আপনার সব কন‌ফিওশন দূর হ‌য়ে‌ছে। এবার আমি আসি।

রূপন্তী উঠে আস‌তে চাই‌লে আয়াত পিছন থে‌কে ওর হাতটা ধ‌রে ফে‌লে। এবং টান‌ দি‌য়ে রূপন্তী‌কে নি‌জের একদম কা‌ছে নি‌য়ে এসে ব‌লে

আয়াতঃ তা মে‌য়েটা‌তো সব কথা বল‌লো কিন্তু ছে‌লেটার প্র‌শ্নের জবাব এখ‌নো দি‌লো না কিন্তু?

রূপন্তী আয়া‌তের কাছ থে‌কে দূ‌রে যে‌তে চাই‌লে আয়াত রূপন্তীর কোম‌রে হাত দি‌য়ে আরো শক্ত ক‌রে রূপন্তী‌কে নি‌জের সা‌থে আট‌কে রা‌খে।

রূপন্তীঃ আশাক‌রি ছে‌লেটা এতটাও বোকা না যে এতক্ষ‌নেও মে‌য়েটার চো‌খের ভাষা বুঝ‌তে পা‌রে‌নি?

আয়াতঃ বুঝ‌তে তো পে‌রে‌ছে। কিন্তু এই এক সপ্তাহ ছে‌লেটা অনেক কষ্ট পে‌য়ে‌ছে সেজন্য মে‌য়েটা‌কে যে শা‌স্তি পে‌তেই হ‌বে?

রূপন্তীঃ তা কি শা‌স্তি জনাব?

আয়াতঃ মে‌য়েটার চো‌খে হা‌রি‌য়ে যে‌তে চায় আর?

ব‌লে আয়াত নি‌জের ঠোট দু‌টো‌কে রূপন্তীর ঠো‌টের একদম কা‌ছে নি‌য়ে যে‌তে থা‌কে। দুজ‌নের নিঃশ্বাস প্রচন্ড ভা‌রি হ‌তে থা‌কে। এর ম‌ধ্যেই কে যে‌নো দড়জায় টোকা দেয়। রূপন্তী নি‌জে‌কে ছা‌ড়ি‌য়ে খা‌নিকটা দূ‌রে গি‌য়ে ব‌লে

রূপন্তীঃ মে‌য়ে‌‌টি এত সহ‌জে ছে‌লে‌টির কা‌ছে ধরা দিবে না।

আয়াতঃ আজ না হয় পালা‌লে মে‌য়েটি‌কে ব‌লে দি‌ও মাত্র দশ দিন আছে তার হা‌তে। দশ দিন পর তু‌মি আমার হ‌বে এলো‌কেশী। ম‌নে রে‌খো এলো‌কেশী।

‌ঠিক দশ‌দিন পর ধুমধাম ক‌রে ওদের বি‌য়ে হ‌য়ে গে‌লো। আয়াত রু‌মে গি‌য়ে দে‌খে রূপন্তী চুপচাপ বিছানায় ব‌সে আছে। আয়াত‌কে দে‌খে সালাম ক‌রে আবার বিছানায় বস‌তে যা‌বে তখন আয়াত বল‌লো

আয়াতঃ এলো‌কেশী একটু উঠে দাড়াও‌তো

রূপন্তীঃ কেন?

আয়াতঃ রূপন্তীর পা টা ধ‌রে নি‌জের হাটুর উপর রা‌খে।

রূপন্তীঃ কি করে‌ছো কি?

আয়াতঃ হুসসস। মাশাল্লাহ। ব‌লে রূপন্তীর প‌া‌য়ে একটা চুমু খায়। রূপন্তী কে‌ঁপে উঠে। আয়াত তারপর ‌নি‌জের প‌কেট থে‌কে একটা নুপুড় বের ক‌রে রূপন্তীর পা‌য়ে প‌ড়ি‌য়ে দেয়।

রূপন্তীঃ নুপুরটা দে‌খেই চি‌নে ফে‌লে! তু‌মি এটা কোথায় পে‌লে?

আয়াতঃ তোমার ভা‌লোবাসার জি‌নিসটা তোমার ভা‌লোবাসার মানুষটা পা‌বে তো কে পা‌বে? এই ব‌লে কপা‌লে একটা ভা‌লোবাসার পরশ দি‌য়ে ব‌লে। সারা জীবন শুধু তোমা‌কে কেন তোমার ভা‌লোবাসার প্র‌ত্যেকটা জি‌নিস‌কে ভা‌লো‌বে‌সে আগ‌লে রাখ‌বো। আই লাভ ইউ।

রূপন্তীঃ চোখ বন্ধ ক‌রে শুধু আয়া‌তের ব‌ু‌কে মাথা রে‌খে ব‌লে আই লাভ ইউ টু।

খুব সুন্দর আর সুখি ভা‌বে ওদের সংসার চল‌তে থাক‌লো। তার ম‌ধ্যে সংসা‌রে নতুন অতী‌থি আস‌ছে। খু‌শি‌তো এখন ডাবল। কিন্তু কথায় আছেনা সু‌খের স্থা‌য়িত্ব বে‌শি দিন হয় না।

‌কিছুদিন ধ‌রে রূপন্তীর একটা সমস্যা হচ্ছে। রূপন্তী ঠিক ভা‌বে কিছুই ম‌নে রাখ‌তে পার‌ছে না। হঠাৎ হঠাৎ সব কিছু ভু‌লে যায়। এখন কিছ‌ু কর‌লে সেটা কিছুক্ষন পর আবার ভু‌লে যায়। বিষয়টা আয়াত রূপন্তী দুজ‌নেই খেয়াল কর‌লো। ‌ডাক্তার কা‌ছে গে‌লো ডাক্তার ঔষধ দি‌লো কিন্তু কোন তা‌তে কোন ফলাফলই পাওয়া যা‌চ্ছে না । সব থে‌কে বে‌শি সর্বনাশটা হ‌লো যখন রূপন্তী ভু‌লে গেলো ও প্রেগ‌নেন্ট। আর ভুল বস‌তো আনারস খে‌য়ে ফেল‌লো। আর ওর মিসক্যা‌রেজ হলো। তখন রূপন্তী অনেক ভে‌ঙে পর‌লো। মানু‌ষিক দিক দি‌য়ে ডি‌প্রেস‌নে দি‌কে চ‌লে যা‌চ্ছি‌লো।

বাচ্চাটা নষ্ট হওয়ায় আয়া‌তেরও ভিষন কষ্ট হচ্ছ‌েছি‌লো কিন্তু রূপন্তীর কথা ভে‌বে নি‌জে‌কে সামলে নি‌য়ে ছায়ার মত রূপন্তীর পা‌শে ছি‌লো। রূপন্তীর অবস্থা দিন দিন অবনতী হ‌চ্ছিলো। তাই আয়াত তার এক কা‌জিন সাইক্রা‌টিস আমে‌রিকায় থা‌কে তা‌কে ডে‌কে আন‌লো। তি‌নি সব শু‌নে রূপন্তীর বাবা ভাই সহ প‌রিবা‌রের সবাই‌কে একসা‌থে ডে‌কে বল‌লেন রূপন্তীর জীব‌নে আগে এমন কোন ঘটনা ঘ‌টে‌ছে যা থে‌কে ও মানু‌ষিক ভা‌বে অসুস্থ ছি‌লো।

রূপন্তীর বাবাঃ হ্যা ও যখন এগা‌রো বছর বয়স তখন ওর মা ছাদ থে‌কে পা পিছ‌লে প‌ড়ে গি‌য়ে মারা যায়। ওর মা যখন ছাদ থে‌কে প‌রে যায় তখন রূপন্তী ওর মা‌য়ের একদম কা‌ছে ছি‌লো। আর দূর্ঘটনাটা নিজের চো‌খের সাম‌নেই দে‌খে। তারপর ও মানু‌ষিক ভা‌বে অনেক ভে‌ঙে প‌ড়ে‌ছি‌লো। তখন আমরা গ্রা‌মে থাকতাম। কিন্তু ও যা‌তে নরমাল হয় তাই আমরা শহ‌রে চ‌লে আসি। ধীরে ধী‌রে ও ঠিকও হ‌য়ে যায়।

ডাক্তারঃ রি‌সেনট‌লি এমন কোন ঘটনা কি আবার ওর চো‌খের সাম‌নে ঘ‌টে‌ছে?

আয়াতঃ হ্যা। কিছু‌দিন আগে আমি আমা‌দের ফাস্ট ফ্লর থে‌কে পা স্লিপ ক‌রে প‌রে যাই। আমার তেমন চোট লা‌গে‌নি। সামান্য ব্যাথা পে‌য়ে‌ছিলাম। কিন্তু রূপন্তী তখন প্রচন্ড ভয় পে‌য়ে‌ছি‌লো।

ডাক্তারঃ হুমম বুঝলাম। আস‌লে রূপন্তী দু‌টো ঘটনার মা‌ঝে নি‌জের মাইন্ডটা‌কে বেঁ‌ধে ফে‌লে‌ছে। দু‌টো ঘনটনার মাঝামা‌ঝি সম‌য়ে আট‌কে গে‌ছে। তাই ওর সা‌থে এমনটা হচ্ছে। কারন দুজন ব্য‌ক্তি‌কেই ও প্রচন্ড রকম ভা‌লোবা‌সে।

আয়াতঃ ভাইয়া ওকে সুস্থ করার উপায়।

ডাক্তারঃ কোন উপায় নাই।

আয়াতঃ কি বল‌ছেন এসব? আচ্ছা এই ঘটনাটা আবার রি‌পিট কর‌লে?

ডাক্তারঃ এটা মু‌ভি না ব্রো। বে‌শি চাপ দি‌লে ও তোমা‌দের সব‌াই‌কে বরাব‌রের মত ভু‌লে যা‌বে।

আয়াতঃ তাহলে আমার রূপন্তী‌ কি কখ‌নো ভা‌লো হ‌বে না?

ডাক্তারঃ কেন হ‌বে না। ওর বড় ঔষধ হ‌চ্ছে তু‌মি আয়াত। ওকে সবসময় ভা‌লোবা‌সো ওর পা‌শে থা‌কে। তোমা‌দের ভা‌লো ভা‌লো স্মৃ‌তি গু‌লো ম‌নে করা‌তে থাক‌বে ত‌বে হ্যা বে‌শি জোড় দিবা না ক‌খ‌নো। তাহ‌লে হি‌তে বিপরীত হ‌বে। আর বা‌কিটা আল্লাহর ইচ্ছা।

পাঁচ বছর পর

আজ পাঁচ বছর যাবত রূপন্তীর একই অবস্থা। ত‌বে হ্যা আগে থে‌কে একটু ইমপ্রুভ ক‌রে‌ছে। এই পাঁচ বছর আয়াত ছায়ার মত ওর পা‌শে ছি‌লো। অনেক খেয়াল রা‌খে আয়াত ওর অনেক ভা‌লোবা‌সে। প‌রে বাচ্চা নেয়ার মত রিক্স রূপন্তী বা আয়াত কেউই ক‌রে‌নি।

রূপন্তী মা‌ঝে মা‌ঝে খ‌ুব কান্না ক‌রে। আয়া‌কে ব‌লে আরেকটা বি‌য়ে ক‌রে নি‌তে। আয়াত তখন অঝো‌ড়ে কাঁ‌দে আর ব‌লে য‌দি আমার এমন কিছু হ‌তো তাহ‌লে?

আয়াতঃ এলো‌কেশী আমরা একে অপ‌রের প‌রিপূরক হ‌য়ে সরা জীবন থাক‌বো।

‌তু‌মি আমায় ভু‌লে যা‌বে সেটা সহ্য কর‌তে পার‌লেও তোমার জায়গায় অন্য কাউ‌কে বসা‌নোটা সহ্য কর‌তে পার‌বো না। তু‌মি আমার এলো‌কেশী ছি‌লে আছো আছো আর সারা জীবন থাক‌বে।

রূপন্তী‌কে জ‌ড়ি‌য়ে ধ‌রে আই লাভ ইউ এলো‌কেশী।

হয়‌তো আয়া‌তের ভা‌লোবাসা রূপন্তী‌কে আবার স্বাভা‌বিক কর‌তে পার‌বে। আর বা‌কিটা আল্লাহর ইচ্ছা।

#####সমাপ্ত#####

যে‌কো‌নো প‌রি‌স্থিতি‌তে ভা‌লোবাসার মানু‌ষের পা‌শে থাকার চেষ্টা করুন। দেখ‌বেন ভা‌লোবাসা আপনা‌কে এমন কিছু দে‌বে যেট‌া আপ‌নি কল্পনাও কর‌তে পার‌বে না। ভা‌লো থাক‌বেন।

ভুলত্রু‌টি ক্ষমার চো‌খে দেখ‌বেন।

About Author


Administrator
Total Post: [337]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy
Copyrighted.com Registered & Protected