Home Login Register

সুপ্রিয় পাঠক বিশেষ কারণবসত আগামী কিছুদিন গল্প নিয়মিত আপডেট বন্ধ থাকবে, সাময়িক এই সমস্যার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি ।

আমার কল্পনায় তুই [ঈদ স্পেশাল গল্প]


প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......
Home / আফরোজা আক্তার / আমার কল্পনায় তুই [ঈদ স্পেশাল গল্প]

Admin › 2 weeks ago

লেখনিতে : আফরোজা আক্তার

শাড়ি পরে আমায় ভালোই লাগে । যদিও একটুও পরতে পারি না আমি তবুও ভালোই লাগে । দেখা করাতে যাবো ওর সাথে আমি , ও নিজে থেকেই বললো শাড়ি পরে যেতে । ও মানে ও , আমার বেস্ট ফ্রেন্ড । আসলে পরিচয়টা হয়েছিল একটা ফেসবুক গ্রুপে । টুকিটাকি লিখতাম তখন আমি , ও নিজেও খারাপ লিখতো না । তারপর একদিন ইনবক্সে নক , আর তারপর থেকেই কথা বলার শুরু । আমি থাকতাম ঢাকা আগারগাঁও আর ও থাকতো নারায়ণগঞ্জ । প্রতিদিন টুকটাক কথা চলতো । ও অনেক স্পেশাল ছিল ভার্চ্যুয়াল জগতে । আমার থেকেও বেশি । প্রথম প্রথম অনেক ঝগড়া হতো আমাদের , এমন ঝগড়া হতো যে মাঝে মাঝে উলটাপালটা বকাও দিতাম । এই যেমন , গরু , ছাগল ইত্যাদি ইত্যাদি । আর তার কাছে আমায় রাগানোর বেশ কিছু টোটকাও ছিল । আমাদের সম্পর্কের শুরু তুই তুই করে । একদিন কল দিয়ে বসে প্রায় অনেক্ষন কথা বলি । প্রচুর হেসেছিলাম সেইদিন ওর কথায় । সে নাকি লেডি-কিলার , আর মেয়েরাও পারতো , এক রকম গিলে খেতো একে । প্রথমদিন প্রায় ৫৯ মিনিট কথা হয়েছে আর তার পরদিন প্রায় ১ ঘন্টা ২১ মিনিট কথা হয়েছে । আর আরেকদিন ১ ঘন্টা ৬ মিনিট । খুব হাসি আসে যদি মনে পড়ে টাইমটাও মুখস্ত করে রেখে দিয়েছি বলে । নিজ থেকেই খোলা মনে সব বলে দিত আমায় । কখন কোন মেয়ের সাথে কথা বলে , কখন কোন মেয়ের সাথে ডেটে যায় সব সব । আমি ছিলাম ভার্চ্যুয়াল জগতে ওর সব থেকে কাছের মানুষটা যাকে ও নির্ভয়ে সব বলে দিত । এমন হাজারো মেয়ে ওর জন্য পাগল , আর ও মজার জন্য পাগল ।

একদিন ধুম করেই বলে ,

– কিরে পাজি দেখা করবি ?

ওর কথায় ভাবলাম দেখা করতেই পারি । বন্ধু যখন হয়েছি একটু দেখা করলে কি হবে । বলে দিলাম আচ্ছা ঠিক আছে । আমার সাথে দেখা করতে ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা এসেছিল । 
সেইদিনটা ছিল শনিবার । শনিবার দিন কলেজে ফাংশনও ছিল , এইভাবে তো আর বাসা থেকে বের হওয়া যায় না তাই ফাংশনকে উদ্দেশ্য করেই বের হয়েছি । ও একটা ঠিকানা দিয়েছে , বললো

– চলে আয় এই ঠিকানায় । 
– এইটা তো আমার কলেজ থেকে ১০ টাকার ভাড়া । এখানে দেখা করবি ? 
– হ্যাঁ , তুই তো জানিস আমার কোলাহল ভালো লাগে না । তাই নিড়িবিড়ি দেখা করবো । 
– কার বাসা এটা ? 
– এক ফ্রেন্ডের বাসা । 
– ওনারা কিছু বলবে না ? 
– তুই না অতিরিক্ত প্রশ্ন করিস , আসবি কি আসবি না বল ? 
– এমন করিস কেন ? আচ্ছা আসবো , বৃষ্টি হচ্ছে একটু কমুক । 
– আচ্ছা ।

জুনায়েদের রাগ টা বরাবরই অনেক বেশি ছিল । ওহ ওর নাম জুনায়েদ বলাই হয় নাই । আর আমি আফরা । জুনায়েদের প্রচুর রাগ আর জেদ ছিল । অনেকটা ঘাড়ত্যাড়া যাকে বলে আর কি । ওর সাথে না লাগাই ভালো । বৃষ্টি কমে গেছে , শাড়ির কুচি গুলো ধরে ধরে গেইটের কাছে এসে দাড়ালাম । একটা রিক্সা নিলাম তারপর সোজা সেই গন্তব্যের দিকে রওনা হলাম । মনের মধ্যে অস্থিরতা আর ভালো লাগা দুটোই কাজ করছিল । অচেনা জায়গায় যাওয়ার অস্থিরতা আর প্রিয় বন্ধুর সাথে দেখা হওয়ার ভালো লাগা দুটোই কাজ করছিল মনের মধ্যে । যার ছবিটাও কখনো দেখি নি তার সাথেই আজ প্রথম দেখা করতে যাচ্ছি । হঠাৎ রিক্সাওয়ালার ডাকে ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসলাম ,

– মামা , আইয়া পড়ছেন । এইবার নামেন 
– ওহ আচ্ছা । কত হয়েছে 
– ৩০ টাকা দেন 
– এতো বেশি রাখবেন মামা ? 
– বৃষ্টি বাদল তো দেখতেনই আছেন । 
– আচ্ছা এই নেন ।

ভাড়া মিটিয়ে জুনায়েদকে ফোন দেই ,

– কিরে আসছিস ? 
– হ্যাঁ , কিন্তু বিল্ডিং তো পর পর তিনটা কোনটা বাসা কিভাবে বুঝবো ? 
– অফ-হোয়াইট কালারের বিল্ডিংয়ের ২য় ফ্লোরে আয় । 
– আচ্ছা ।

শাড়ির আঁচল উঁচু করে ধরে বিল্ডিংয়ের নিচে গিয়ে দাঁড়িয়েছি । আস্তে আস্তে সিড়ি বেয়ে সেকেন্ড ফ্লোরে গিয়ে দাড়ালাম । তিনটা ফ্ল্যাট ছিল এখন আবার কনফিউজড হয়ে যাই কোন ফ্ল্যাটে জুনায়েদ আছে ? তারপর হঠাৎ করেই মাঝের ফ্ল্যাটের দরজা খুলে একজন দাঁড়ায় আমার সামনে । সিক্স-সেন্স বলছিল হয়তো ইনিই জুনায়েদ । আঙ্গুল উঁচু করে তার দিকে তাক করলাম ,

– you Junayed ?

আমার প্রশ্ন শুনে সে মিট মিট করে হাসে । তারপর নিজেই বলে ,

– পাগলী ভেতরে আয় ।

অবশেষে জুনায়েদের সাথে দেখা টা হয়েই গেল আমার । ফ্ল্যাটের ভেতরে গিয়ে বসলাম । বেশ সাজানো গোছানো ঘর ।

– কিরে এটা কার বাসা ? 
– ফ্রেন্ডের বাসা , গত কাল এসে এখানেই উঠলাম । 
– ওহ , 
– তোকে একটা কথা বলি ? 
– বল না , কি বলবি 
– তোকে নীল শাড়িতে দারুণ লাগছে রে । 
– থ্যাংকস , 
– কি খাবি বল ? 
– কিছু খাবো না , খেয়ে আসছি রে । 
– আয় আমি যেই রুমে থাকি সেই রুম টা দেখবি । 
– চল ,

রুমে গিয়ে দেখি , ওয়াক থু । একদিন থেকে রুম টার কি অবস্থা করেছে । জামা কাপড় সব ছড়ানো ছিটানো , পানির গ্লাস , ক্যান সব ওলট পালট করে রাখা ।

– কিরে এই অবস্থা কেন ? 
– এটাই আমার কাছে গুছানো । 
– হুর , 
– এই রুমটা গুছানোর জন্য একটু তোকে চাই । 
– বিয়ে করে বউ ঘরে আনলেই তো পারিস , 
– বউ টউ বাদ , বিয়েই করবো না আমি । 
– এহহহহ দেখা যাবে , 
– হ দেখিস , এখন রুম টা গুছিয়ে দে । 
– এই নাকি এটাই তোর গুছানো , 
– তোর হাতের স্পর্শ লেগে থাকুক , 
– এহহহহহ ন্যাকা 
– শুন 
– হু বল 
– আমার শার্ট গুলায় একটু তোর হাত টা লাগিয়ে দিস তো 
– কোন দুঃখে 
– যা বলছি করে দিস ,

আকাশে তুমুল গর্জন , সাথে অত্যন্ত ভারী বর্ষণ । এমন সময় মোবাইলের সাউন্ড । মায়ের ফোন ।

– হ্যালো আম্মু , 
– কই তুই কলেজে গেছিস ? 
– হ্যাঁ মা আসছি 
– আচ্ছা , শুন যেই বৃষ্টি হচ্ছে সাবধানে থাকিস , আর হ্যাঁ বৃষ্টি কমলে আমি একটু তোর খালামনির বাসায় যাবো 
– আচ্ছা

খুব খারাপ লাগছিল মা কে মিথ্যা বললাম বলে । না বললেও পারতাম , কিন্তু আবার যদি বলেও ফেলি তখন তো আসতেও দিতো না । তাই মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়েছে । মায়ের ফোন রেখে পিছন দিকে তাকাতেই দেখি জুনায়েদ দাঁড়ানো । তাকিয়ে আছে আমার দিকে । চোখে অন্য রকম অনুভূতি । এ চোখ যেন অন্য কিছু চায় । কথা এড়ানোর জন্য বললাম ,

– তোর ফ্রেন্ড আর তার পরিবার কইরে ? 
-………………..
– কিরে চুপ যে ?

জুনায়েদ আমার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেয় । এইভাবে হাত ধরায় অনেক অবাক হয়ে যাই আমি । তাকিয়ে আছে এক ভাবে আমার দিকে । ওর চোখে নেশা , কিসের নেশায় যেন ও জর্জরিত ।

– চ,,,চ,,,,ল চল বাহিরে গিয়ে বসি 
– দাড়া 
– কি

কোন কিছু বুঝতে না দিয়েই আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে । আমি অনেকটা অবাক হয়ে যাই ওর কার্যক্রম দেখে । বার বার ছাড়ানোর চেষ্টা করতেছি কিন্তু পারতেছি না । খুব প্রবলেম হচ্ছিলো আমার , তবুও ও ছাড়ছে না ।

– কি করছিস কি , ছাড় আমায় 
– হুসসসসস
– জুনায়েদ স্টপ 
– প্লিজ আফরা , প্লিজ 
– কিসের প্লিজ , জুনায়েদ ছাড় আমায় 
– নাহ 
– উফফফ জুনায়েদ এমন কথা ছিল না 
– ছাড়তে বলছি কিন্তু 
– একটু প্লিজ , একটা বার 
– নাহ , এটা অসম্ভব 
– তুই চাইলেই সম্ভব 
– প্লিজ , জুনায়েদ 
– কথা ঘুরাইস না , কেউ নাই , আজকের জন্য প্লিজ 
– কি আজকের জন্য , তুই ছাড় আমায় 
– প্লিজ আফরা প্লিজ , এমন করিস না , আমায় ছোট করে দিস না 
– তুই আমায় ছোট করিস না , তুই ছাড় আমায়
– প্লিজ আফরা , আমি কখনো কাউকে প্লিজ বলি নাই । প্লিজ বলছি
– আহহহহ ছাড় আমায় 
– আমি কিন্তু এখন জোড় করবো 
– তুই ছাড় আমায় জুনায়েদ 
– নাহ 
– জুনায়েদ তোর নেশা লাগছে
– হ্যাঁ লাগছে , আমার নেশা কাটা এখন 
– আমি কিভাবে কাটাবো 
– হ্যাঁ তুই কাটাবি , তুই ই আমার নেশা কাটানোর খোড়াক 
– জুনায়েদ ছাড় , জুনায়েদ , জু,,,,,জু,,,,,

শেষ রক্ষা আর হয় নি সেইদিন । জুনায়েদ জোড় করে আমার সাথে ফিজিক্যালি ইনভোলভ হয় । ওর নখের আঁচড় গুলো আমার শরীরে লাগিয়ে দেয় । দাগ লাগিয়ে দেয় আমার শরীরে । বিছানার চাঁদর আঁকড়ে ধরি । যন্ত্রনায় চোখের পানি চলে আসে । তবু ওর ছাড়ার নাম নাই । জোড় করে কেড়ে নেয় আমার সব কিছু । শেষ করে দেয় আমায় একেবারে । ছোট করে দেয় আমায় নিজের কাছে । নষ্ট করে দেয় আমার সব কিছু । এলোমেলো করে রেখে দেয় আমার জীবন । প্রায় দেড় ঘন্টা পর ও ক্ষান্ত হয় । ওর ভার ছাড়ে আমার উপর । মরার মতো কতক্ষণ পড়েছিলাম মনে নেই । চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি আমি বিছানায় । পুরো শরীর ব্যাথা , বিশেষ করে পেটে অনেক ব্যাথা । শাড়িটাও পাশে পড়ে আছে , বাম হাত থেকে রক্ত পড়ে রক্ত শুকিয়েও গেছে । বুঝতে পারলাম ধস্তাধস্তি করার সময় হয়তো চুড়ি ভেঙে ঢুকে গেছে হাতে । মাথাটা ঘুরছে , জানালার দিকে তাকিয়ে দেখি বৃষ্টি কমে গেছে । উঠে শাড়ি টা পড়ে আয়নার সামনে যাই , চোখের নিচে কালি হয়ে গেছে । টিস্যু দিয়ে কালি মুছে দিয়ে নিজেকে একটু ঠিকঠাক করে ওয়াসরুমে যাই । গিয়ে দেখি ব্লিডিং হচ্ছে , চোখের পানি গুলো যেন বাধ মানছে না । চিৎকার করে কাদতে ইচ্ছা হচ্ছে কিন্তু উপায় নেই ।ওয়াসরুম থেকে বেড়িয়ে বিছানায় নজর যায় । বিছানার অবস্থা দেখে বুকটা আরও ভেঙে যায় । কোন রকম বেড়িয়ে ড্রইং রুমে গেলাম , জুনায়েদ মাথা নিচু করে বসে আছে । জুনায়েদের দিকে তাকানোর শক্তি এবং সাহস কিছুই ছিলো না আমার । তবুও বললাম ,

– জুনায়েদ আসি । 
– তোর হাত থেকে ব্লাড বের হচ্ছে , মলম দিয়ে দেই ? 
– কত জায়গার ব্লাড অফ করবি , আসি

আমার দিকে তাকিয়ে আছে সে । লজ্জায় মাথা নিচু আমার৷। ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে রিক্সা নিলাম । বাসায় যাবো বলে , মাকে কল দিলাম , মা বাসায় নাই , বাসা খালি
কোন রকম বাসায় পৌছে ওয়াসরুমে ঢুকে গেলাম , ঝরনা ছেড়ে চিৎকার করে কাদতে থাকি আমি । শুনার মতো কেউ নাই । মাথা ঘুরে বমিও হয়ে গেছে একবার । প্রায় ২ ঘন্টা পর বের হয়েছি , আয়নায় নিজেকে দেখছিলাম , বুকের সাইডে কামড়ের দাগ , পেটে দাগ , পিঠে দাগ । নিজেকে সব থেকে নিন্মস্তরের মনে হচ্ছিল । মরার মতো পড়ে আছি বিছানায় । ম্যাসেজের টুংটাং শব্দে হুস আসে । জুনায়েদ ম্যাসেজ দিয়েছে ,

– এন্টিবায়োটিক খেয়ে নে , ব্যাথা কমে যাবে ।

সিন করে রেখে দিছি । পরে আবার ফোন করতে থাকে । রিসিভ করে কথা বলার মতো ভাষা নাই । কি বলতাম আমি যে ধর্ষিতা । র‍্যাপ করা হয়েছে আমায় । কে করেছে যাকে সব থেকে বেশি বিশ্বাস করেছি সে নিজেই । যাকে রক্ষক ভেবেছিলাম সে ভক্ষক হয়ে দাড়িয়েছে । চোখের পানি বাধ মানছে না । সেইদিন আর কিছু মনে নেই ।

জুনায়েদ বার বার ক্ষমা চাইছে , দেখা করতে চাইছে , মোবাইলে কত রকম ম্যাসেজ দিয়েছে । একদিন দেখলাম ও লিখতেছে ,

– প্লিজ মাপ কর , 
– প্লিজ ভুল হইছে আমার , আমি জানি নাই আমার কি হইছিল সেইদিন 
– প্লিজ ক্ষমা কর 
– অনেক পাপ করছি , কিন্তু কখনো পাপী মনে হয় নাই আজকে বড় পাপী মনে হচ্ছ আমায় । প্লিজ আফরা 
– আফরা কথা বল , কথা বল প্লিজ 
– আফরা চুপ থাকিস না , কথা বল 
– প্লিজ , সরি আমায় ক্ষমা করে দে

ওর একটা ম্যাসেজেরও উত্তর আমার কাছে নাই । কি বলতাম আমি । বহুত কষ্টে আমি ম্যাসেজের রিপ্লাই করি ,

– ভুলে যা আমায় , আমি নষ্ট হয়ে গেছি 
– কি বলস এইসব 
– হ্যাঁ ভুলে যা 
– নষ্ট তো আমিই করেছি , 
– আমি নোংরা , পচে গেছি মি । ভুলে যা

১ মাস ১৫ দিন হয়ে যায় । খুব একটা কথা হতো না ওর সাথে । ও নিজে থেকে নক দিত । আমিই বলতাম না । হঠাৎ করেই খেয়াল আসে আমার ডেট মিস হয়ে গেছে । কলিজার মধ্যে কাপ ধরে যায় । ডেট মিস হলো কেন ? আমার তো ডেট মিস হয় না । এখন কি করবো কি করবো । ভাবতে ভাবতে ইউটিউবে সার্চ দিয়ে রিজেন দেখলাম । মনে মনে ঝড় উঠে গেছে । ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় ফার্মেসি থেকে স্টিক নিয়ে আসছি । পরদিন সকাল বেলা টেস্ট করে দেখি ,,,,,, হ্যাঁ যা ভেবেছিলাম তাই , আমি প্রেগন্যান্ট । জুনায়েদের অংশ আমার শরীরে । সেইদিনের সেই দেড়/দুই ঘন্টার ঘটনার সারাংশ এখন আমার শরীরে । পরদিন নার্সিংহোমে গেলাম । আবার টেস্ট করালাম , ৫ সপ্তাহ ৭ দিন হয়ে গেছে । কি করবো না করবো মাথায় কিছুই আসছিল না । পাগল পাগল লাগতেছিল , মাথায় পেইন হচ্ছে , বমি আসছে । অসহ্য কর ফিলিংস । একদিকে মা-বাবার মান-সম্মান , অন্যদিকে নিজের ইজ্জত । অথচ নিজের ইজ্জত তো দেড় ঘন্টার কাছে বিকিয়ে দিয়ে এসেছিলাম সেইদিন । আমার নিজের সব কিছু এক দিকে আর আমার বাবা-মায়ের সম্মান একদিকে । একদিন বিষ খেয়ে সুইসাইড করবো বলে ভেবেছিলাম কিন্তু সাহসে কুলায় নাই । একমাত্র ভরসা তাসফিয়া । 
তাসফিয়া আমার বান্ধবী কম বোন বেশি । ক্লাসের পর ওর কাছে গেলাম । সব খুলে বললাম ও কে । শুনে পুরাই অবাক সে , সে হয়তো ভাবেই নি যে তার ফ্রেন্ড এমন কাজও করতে পারে । ও কে নিয়ে ছুটলাম নার্সিংহোমে । এখন একমাত্র উপায় abortion . এত কিছু আমার মাঝে হচ্ছিলো কিন্তু এক ১% ও জুনায়েদ জানতো না । আমি জানতেই দেই নাই তাকে । নার্সিংহোমের রিসিপশানে বসে আছি । ৮ নাম্বারে আমার সিরিয়াল । তাসফিয়ার কথায় নিজেকে কারো বউয়ের রূপে রূপান্তরিত করলাম । ওর ভাস্যমতে , এইভাবে আনম্যারেড হিয়ে abortion এর জন্য গেলে অনেক প্রশ্ন করবে , তাই একজোড়া লম্বাটে দুল আর দুইহাতে ৪ টা চুড়ি , নাকের ফুল নিয়ে ডক্টরের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করলাম । ৭ জনের পরে আমার ডাক আসে , গেলাম ভেতরে । সব কথা শেষ করি । আল্ট্রা করে ডাক্তার বললেন ,

– সবেমাত্র বেবি স্ট্যাবল করতেছে , এখনই abortion করিয়ে দিবেন । 
– জ্বি , 
– আপনার হাজবেন্ড ? 
– বিজনেসের জন্য ইন্ডিয়া গেছেন । 
– ইনি কে হয় আপনার ? 
– আমার বোন লাগে ও । 
– আরেকবার ভেবে দেখুন , অনেক সময় রিস্কি হয়ে যায় । 
– ভেবে এসেছি ডক্টর । 
– তাহলে করাবেনই ? 
– জ্বি

.

তাসফিয়ার কাছে মোবাইল পার্স দিয়ে O.T রুমে গেলাম । হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেছে আমার । ছুরি কাচি দেখে রুহ-মালিক উলটে যাচ্ছে আমার । অনেক ভয় লাগছে , তবুও নিজেকে শক্ত রাখতে হবে । এই বাচ্চার কোন ফিউচার নেই । আমি একে কোথায় কিভাবে জন্ম দিবো । কিভাবে ও কে নিয়ে বাচবো । পেটে হাত দিয়ে চোখের পানি যেনো থামছেই না । তবুও চুপ করে আছি । একটু পরে নার্স এসে বললো আমার O.T টা ২০ মিনিট পর করাবে , কারণ জানতে চাইলে বললো আরেকটা O.T আছে । বসে আছি রুমের টেবিলের মধ্যে । বার বার পেটের মধ্যে হাত চলে যায় । জুনায়েদ জোড় করে সব কিছু শেষ করে দিয়েছিল কিন্তু এই বাচ্চা তো কোন অন্যায় করে নাই । তাহলে ও কে কিভাবে নষ্ট করি । আবার ও কে রাখবোই বা কিভাবে । উফফফ ১৫ মিনিট আপ হয়ে গেছে , কেউই তো আসছে না । বাসায়ও যেতে হবে । ভেবেছিলাম এখান থেকে তাসফিয়ার বাসায় যাবো রেস্ট করবো । কিন্তু লেট হবে মনে হচ্ছে

অনেকটাই দেরি হচ্ছে , প্রায় ৩০ মিনিট আপ হয়ে গেছে । আর সহ্য হচ্ছিল না , রুম থেকে বের হওয়ার জন্য দাড়িয়েছি এমন সময় কে যেন O.T রুমের দরজা ধাক্কিয়ে ভেতরে ঢুকল । ভূত দেখার মতো চমকে যাই । আমার সামনে এ কে দাঁড়ানো ? জুনায়েদ দাঁড়িয়ে আছে আমার সামনে । আমি যেন স্বপ্নের মধ্যে আছি । হাত পা অসার হয়ে আসছে আমার । তারপর আর কিছু মনে নেই ।

যখন চোখ মেলে তাকাই পাশে তাসফিয়াকে দেখলাম আর তার সাথে জুনায়েদকেও । জুনায়েদকে দেখে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে মাটি তুই ফাঁক হ আমি ভেতরে ঢুকে যাই । জুনায়েদকে দেখলেই আমার ওইদিন এর পুরো ঘটনা চোখে ভেসে ওঠে । ইচ্ছা করে নিজের শরীরের মাংস নিজে কামড়িয়ে খেয়ে ফেলি ।

– তাসফু,,,,,,, 
– হ্যাঁ বল 
– হয়ে গেছে ? 
– কি হয়ে যাবে 
– abortion 
– নাহ 
– করায় নাই 
– নাহ 
– তাসফু কখন করাবে ?

এমন সময় জুনায়েদ পাশে থাকা গ্লাস টা ঠাস করে ফেলে দেয় ।

– তাসফিয়া , তুমি বাহিরে যাও । আমি একটু ওর সাথে কথা বলবো 
– ভাইয়া , এইখানে সিনক্রিয়েট না করে অন্য জায়গায় চলেন । আমার বাসায় আসেন । 
– তুমি একটু বাহিরে যাও বোন 
– আচ্ছা , আফরা আমি বাহিরে আছি

তাসফিয়ার উপরে প্রচুর রাগ হচ্ছিল । এতক্ষণে ব্যাপার টা বুঝলাম । জুনায়েদকে খবর টা ও দিয়েছিল । তাসফিয়া রুমের বাহিরে গেলে আমি চোখ বুজে শুয়ে থাকি । জুনায়েদ ঝড়ের বেগে এসে আমার দুইবাহুতে হাত দিয়ে ধরে জোড়ে টান দেয় ।

– উঠে বস , চোখ বুজে আছিস কেন ? 
-………………
– তুই কার কথায় এইখানে আসছস ? 
-……………….
– কার পারমিশনে abortion এর কথা ভাবছস ? 
-……………..
– কথা বল না হয় এক থাপ্পড় খাবি এখন । উত্তর দে , 
– তুই চলে যা , আমায় আমার কাজ করতে দে 
– আজকে তাসফিয়া খবর না দিলে তো সব শেষ করে দিতি । ভাগ্যিস আমিও ঢাকায় ছিলাম । 
– তুই চলে যা 
– থাম তুই । অভিনয় করস আমার সাথে তুই । ভাব নেস , নাটক করস তুই আমার সাথে । 
– তুই চলে যা 
– সারারাত রহিম-রুব্বানের কাহিনী শুনে এখন বলে রুব্বান ছেলে না মেয়ে । দেখ আফরা এইটা আমার বাচ্চা , এর উপরে আমার সব অধিকার আছে । 
– এটা আমার শরীর , এর উপরে আমারও অধিকার ছিল , কি করেছিলি তুই 
– ওইটার জন্য মাপ চেয়েছি বার বার চেয়েছি । দরকার পড়লে সারাজীবন চাইবো , আর নয়তো তোর পায়ের জুতা খুজে মার আমায় তবুও এইসব করিস না
– এর কি ফিউচার আছে , কি ফিউচার আছে এর ? একে আমি কিভাবে জন্ম দিবো ? কিভাবে বড় করবো ? 
– কেন আমি কি মরে গেছি নাকি ? 
– হেহহহহহ , তুই নিবি ওর দ্বায়িত্ব , তুই নাম দিবি ও কে 
– ও আমার সন্তান । আমার অংশ ও । ওর বাবা আমি । আমার পরিচয়েই ও পরিচিত হবে । ওঠ তুই , ওঠ

আমায় এক প্রকার টেনে হিচড়ে নামায় বেড থেকে । তারপর আমাকে নিয়ে সোজা কাজী অফিস চলে যায় । সেইদিন যেমন জোড় করে আমার আব কেড়ে নিয়েছিল ঠিক তেমনি আজকেও জোড় করে আমায় ওর করে নিলো । তাসফিয়া আর ওর আরও দুই একজন বন্ধু ছিল বিয়েতে । কাজী অফিস থেকে বেরিয়ে তাসফু আমায় জড়িয়ে ধরে

– তুই আমার বান্ধবী কম বোন বেশি । এইভাবে তোকে আর তোর অনাগত বাচ্চাটাকে শেষ হতে দেই কি করে । এই দুইদিন শুধু ভেবেছি কি করা যায় কি করা যায় । অবশেষে আজকে সাহস করে করেই ফেললাম ভাগ্য টা ভালো ছিল আইয়া ঢাকাতেই ছিলেন । কাল এসেছেন উনি । তুই আমার উপরে রেগে থাকতেই পারিস কিন্তু এছাড়া আমার কিছুই করার ছিল না রে আফরা । 
– আমি কি করবো কিছুই বুঝতেছিনা ।

এমন সময় জুনায়েদ হুংকার ছেড়ে বলে ,

– তাসফিয়া ও কে ভলে দেও ওর কলিজা আমি হাতে ধরিয়ে দিব যদি আমার বাচ্চার কিছু হয় তো ? ও কে বলো ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করতে৷, যা করার আমি করবো ।

ওর কথা শুনে আমার কলিজার আনি শুকাই যায় । খুব ভয় পাই আমি ও কে । কিন্তু গা গুলিয়ে হঠাৎ কাজী অফিসের সামনেই বমি চলে আসে । আটকে রাখতে পারি নাই । আমার বমি দেখে জুনায়েদ পানি কিনে আনে । পানি খাবিয়ে তাসফিয়াকে দিয়ে আমায় বাসায় পাঠিয়ে দেয় । রিক্সায় উঠে তাসফিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলে ,

– তাসফিয়া ও কে বলে দিও রাতে যাতে ফোন ধরে না হয় ওর বাসায় গিয়ে ও কে পা থেকে মাথা অবদি কেচবো আমি

বিয়ে তো করে নিয়েছে কিন্তু বাসায় কিভাবে বলবো । তাই ভেবে আমার শরীর আরও খারাপ হয়ে যাওয়ার উপক্রম । এদিকে কিছু খেতেও ভালো লাগে না , দেখলেই বমি আসে খাবো কি ।

৩ দিন পর জুনায়েদ তার পরিবার নিয়ে আমার বাসায় হাজির । কেমন যেনো হঠাৎ করেই সব হয়ে গেলো । মা-বাবা যে এইভাবে রাজি হয়ে যাবে জানতাম না । তবে এনগেজমেন্টের দিন রাতেই মা বুঝে যায় আমি মা হতে চলেছি । বমি দেখে মা সন্দেহ করে ফেলে তারপর সব সত্যি বলতে বাধ্য হই । মা অনেক কষ্ট পান , জড়িয়ে ধরে অনেক্ষণ কান্নাও করেন । তার একটাই অভিযোগ কেন আমি তাকে কিছুই বলি নি ।

জুনায়েদ খুব তাড়াতাড়ি করেই ৫ দিনের মধ্যেই হালকা পাতলা আয়োজন করে বিয়ে করে নেয় আমায় । নারায়ণগঞ্জ জুনায়েদের বাসায় ওর রুমে আমি বসে আছি আমি । খুব ভয় করছে । অফিসিয়ালি জুনায়েদের ওয়াইফ আমি । তবুও ভয় হচ্ছে কি হবে ।

এমন সময় জুনায়েদ রুমে আসে । মা বলেছিল পা ধরে সালাম করতে । নেমে গেলাম ওর কাছে । পা ধরে সালাম করলাম । মাথায় হাত দিয়ে বলেছিল ভালো থাক । স্বামী স্ত্রী পরে এর আগে আমরা বন্ধু ছিলাম ।

– বস এইখানে ।

ওর কথায় বিছানায় গিয়ে বসলাম । তারপর ওর বলা শুরু ।

– ওইদিন ম্যাসেজে কি বলেছিলি মনে পড়ে ? 
– কোন দিন 
– ওইদিন , ভুলে গেলি । আমি কা-পুরুষ । আমি শুধু মেয়েদের নিয়ে পড়ে থাকি আরও অনেক কিছু ।

ওর কথা শুনে মনে পড়ে । আসলেই ওইদিন ও কে খুব খারাপ ভাবে বলেছিলাম কথা গুলো ।

– দেখাতে পেরেছি তো যে আমি কা-পুরুষ নই । আজ আমি তোকে আমার বউ করে ঘরে এনেছি । কয়দিন পর আমার বাবুর মা হবি তুই । এত রাগ ছিল আমার উপরে তোর , একবার বলে দেখতি ? দেখতি কি করি আমি অথচ তুই একা একা সব করতে গেলি । আমার সাথে আজীবন থাকতে হবে তোকে , সো নেক্সট টাইম এমন বাল-পাকনামি করিস না । এটাই তোর জন্য ভালো হবে । যতদিন অবদি তুই নিজ থেকে ন আসবি আমি তোর হাতও ধরবো না কথা দিলাম ।

সেই থেকে আমার আর জুনায়েদের পথ চলা আজ অবদি । মাঝে অনেক খারাপ সময় পার করেছি একা একা । কত রাত কেদেছি তবুও এখন কার সময়ের দিকে তাকালে সেই কষ্ট গুলোকে কষ্ট মনে হয় না । জুনায়েদকে আমি প্রচুর ভয় পাই । তবে , সে আমার অনেক খেয়াল রাখে । বাসরে করা তার প্রমিস টা সে আজও বদলায় নাই । কারণ ছাতামার গায়েও হাত দেয় না সে এখন আর । কিন্তু জুনায়েদের সাথে থাকতে থাকতে ও কে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি । আমি ভালো আছি , আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি ।

৮ মাস পর ,

আফরার ডায়েরিটাতে এই পর্যন্ত আফরার লেখা প্রত্যেকটা লাইন জুনায়েদ পড়েছে এতক্ষণ সময় ধরে । আফরা তখন ঘুমাচ্ছিল । ৯ মাস ৫ দিনের প্রেগন্যান্ট আফরা এখন । বিকেলে আফরার ড্র‍্যারে থাকা ডায়েরিটা জুনায়েদের হাতে লাগে । সেই থেকে পড়া শুরু করে জুনায়েদ । কেদেছে ককয়েকবার । কষ্ট পেয়েছে অনেক । আফরাকে না চাইতেও অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলছে সে ।

এমন সময় কেউ একজন জুনায়েদের কাধ স্পর্শ করে । জুনায়েদ সিগারেটটা ফেলে দিয়ে সাইড হয়ে তাকায় । আফরা দাঁড়িয়ে আছে । মেক্সি পড়া ফুলা ফুলা হাত পা নিয়ে আফরা দাঁড়িয়ে আছে জুনায়েদের সামনে । মাশা-আল্লাহ আফরাকে অনেক সুন্দর লাগছিল । মেয়ের মা হবে সে তাই হয়তো এতো সুন্দর ফুটে উঠেছে ।

– ঘুম শেষ ? 
– ঘুমাতে আর পারলাম কই ? 
– কেন শরীর ভালো না ? 
– খারাপ লাগে অনেক । 
– ডক্টরের কাছে যাবি ? 
– নাহ থাক , একটু বসি । 
– বস 
– শুন না 
– হ্যাঁ বল 
– O.T কবে করাবি ? 
– এই মাসের ২৩ তারিখ । 
– ওহ 
– কেন ? 
– নাহ এমনি , শুন না 
– হ্যাঁ বল 
– একটা কবিতা শুনা 
– এখন ? 
– হ্যাঁ শুনি , তোর কবিতাই তো আমার নেশা কাটানোর খোড়াক আজকাল ,

আফরার কথায় জুনায়েদ কবিতা বলা শুরু করে

” আমার কল্পনায় তুই
আমার ভাবনায় তুই 
আমার জ্বলন্ত সিগারেটে তুই 
আমার নিঃশ্বাসে মিশে তুই 
তোর শহরের গলিতে আমার বসবাস 
তোর নগরীতে হয়েছি আমি কৃতদাস 
আমার ভালোবাসায় লেখা আছে শুধুই 
তোর নাম 
তুই থাকবি ভালো হয়ে আমার 
শেষ শিরোনাম “

আফরা হা হয়ে জুনায়েদকে দেখছে । জুনায়েদ কয়েকবার ডাকার পরে আফরার হুস আসে ।

– কিরে চুপ কেন 
– অনেক সুন্দর ছিল কবিতাটা 
– তোর ভালো লাগছে 
– হ্যাঁ , অনেক সুন্দর ছিল 
– আফরা 
– হু 
– তুই ভালো আছিস তো 
– হ্যাঁ 
– আর আমার জুনিয়র 
– তাকেই আস্ক কর 
– কিরে সোনা কেমন আছিস

পড়ন্ত বিকেলে বারান্দার এক পাশে আফরা জুনায়েদের গল্পে মেতে থাকাটা আজীবন থাকুক৷ ভালোবাসা ভরে উঠুক তাদের জীবন । সুখের হোক তাদের সংসার । ছোট সোনামনিকে কোলে নিয়ে ঘর আলো করে থাকুক তারা । 
ভালোবাসায় বেধে থাকুক তিন তিন টি তাজা প্রাণ ।

ভালো থাকুক ভালোবাসারা 
ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষরা 
সুখের হোক আফরা-জুনায়েদ এবং তাদের অনাগত সন্তানের ভবিষ্যত ।



সমাপ্ত

About Author


Administrator
Total Post: [352]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy