Home Login Register

সুপ্রিয় পাঠক বিশেষ কারণবসত আগামী কিছুদিন গল্প নিয়মিত আপডেট বন্ধ থাকবে, সাময়িক এই সমস্যার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি ।

অ‌বৈধ [৫ম পর্ব]


প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......
Home / শার‌মিন আক্তার (সাথী) / অ‌বৈধ [৫ম পর্ব]

Admin › 3 months ago

লেখাঃ শারমিন আক্তার সাথী

তনয়া আয়া‌তের দি‌কে তাকা‌তেই ওর হৃদয়টা যে‌নো কেঁ‌পে ওঠে। চোখ দু‌টো দি‌য়ে নি‌জের অজা‌ন্তেই টপ টপ ক‌রে জল পর‌তে থা‌কে

‌সেই হার্টথ্রব আয়াত। যা‌কে প্রথম দেখ‌লে যে কোন মে‌য়ে প্রে‌মে প‌রে যে‌তো। দেখ‌তে প্রচন্ড সুন্দর সে আগের মত সুন্দর নাই। আয়া‌তের ফর্সা মুখটা আগের থে‌কে অনেকটা কা‌লো হ‌য়ে গে‌ছে। চোখ দু‌টো ভিত‌রে ডু‌কে গে‌ছে। চো‌খের নি‌চে অনেক কালী জ‌মে গে‌ছে। আগের থে‌কে অনেক শু‌কি‌য়ে গে‌ছে। দে‌খে ম‌নে হ‌চ্ছে প্রচন্ড দুর্বল।

তনয়া আয়া‌তের দি‌কে অপলক দৃ‌ষ্টি‌তে তা‌কি‌য়ে আছে। আয়াত তনয়ার কা‌ছে আসল। তনয়ার দি‌কে তা‌কি‌য়ে বল‌লো।

আয়াতঃ ক্যান আই হাগ ইউ?

তনয়া কিছু বল‌তে পার‌ছে না। চুপ ক‌রে শুধু কান্না কর‌ছে।

আয়াত তনয়াকে জ‌ড়ি‌য়ে ধ‌রে বল‌লো

আই ওলা‌য়েজ লাভ ইউ এভার এন্ড ফরএভার।

ধী‌রে ধী‌রে আয়াত তার শরী‌রের সব ভার যে‌নো তনয়ার ওপর ছে‌ড়ে দি‌চ্ছে। কিন্তু তনয়া ওকে সামলাতে পা‌রে না। আয়াতকে কোন ম‌তে নি‌চে বসায়।

আয়া‌তের দি‌কে তা‌কি‌য়ে দে‌খে আয়া‌তের মুখ নীল বর্ন ধারন ক‌রে‌ছে। মুখ থে‌কে ফেনা বের হ‌চ্ছে ম‌নে হ‌চ্ছে কোন বিষ‌ক্রিয়ার শিকার হ‌য়ে‌ছে আয়াত।

তনয়া আয়াত ব‌লে একটা চিৎকার দি‌লো। আশে পা‌শের লোকজ‌নের সাহা‌য্যে আয়াত‌কে হাসপা‌তা‌লে নি‌য়ে গে‌লো। হাসপাতা‌লে আয়া‌তের ডাক্তার বন্ধু ছি‌লো। যার ফ‌লে চি‌কিৎসা কর‌তে বে‌শি সময় নেয়‌নি।

তনয়া বা‌ড়ি‌তে ফোন ক‌রে সব ব‌লে। তারাও হাসপাতা‌লে চ‌লে আস‌লো। কিছুক্ষন পর ডাক্তারা অপা‌রেশন থি‌য়েটার থে‌কে বের হ‌লো।

তনয়াঃ কি খবর আয়া‌তের?

রা‌ফি (আয়া‌তের বন্ধু)ঃভা‌বি ম‌নে হ‌চ্ছে আল্লাহ নি‌জে নি‌চে নে‌মে আয়াত‌কে বাঁ‌চি‌য়ে‌ছে।

তনয়াঃ কি হ‌য়ে‌ছি‌লো ওর?

রা‌ফিঃ আমি পু‌লিশ‌কে ফোন দি‌য়ে‌ছি।

তনয়াঃ পু‌লিশ কেন?

রা‌ফিঃ ভা‌বি কেউ ওকে বিষ দি‌য়ে‌ছি‌লো। আর সব থে‌কে হতভ‌ম্বের বিষয় কি জা‌নেন? আয়া‌তের শরী‌রের ভিটা‌মিন ডি এর অভা‌বে ওর স্কি‌নে আজব ধর‌নের রোগ ছ‌ড়ি‌য়ে‌ছি‌লো। এটা সাধারনত তখন হয় যখন একটা মানুষ দীর্ঘ‌দিন যাবত সূ‌র্যের র‌শ্নি ও বাই‌রের হাওয়া বাতাস থেকে দূ‌রে থা‌কে।

আয়াত‌কে দে‌খে ম‌নে হয়। অনেক দিন পর্যন্ত ওকে কেউ কোন বদ্ধ রু‌মে আট‌কে রে‌খে‌ছি‌লো। ওর শরী‌রের ভিটা‌মিন ডি এর অভাব, শরী‌রের আয়রন এবং সা‌থে সা‌থে ভিটা‌মিন সি এর ও অনেক ঘাট‌তি হয়ে‌ছে।

তনয়া রা‌ফির কথা শু‌নে হতভম্ব হ‌য়ে গে‌লো।

তনয়াঃ কি বল‌ছেন এসব?

রা‌ফিঃ আমি যা দে‌খে‌ছি তাই বলে‌ছি। বাট চিন্তা কর‌বেন না। ক‌য়েক‌দিন রেস্ট নি‌লে, খোলা প‌রি‌বে‌শে থাক‌লে আর ঠিকমত খে‌লে সব ঠিক হ‌য়ে যা‌বে। আর বা‌কিটা আপনা‌কে না দেখা‌লে বুঝ‌তে পার‌বেন না। কিছুক্ষ‌নের ম‌ধ্যে ওর জ্ঞন ফির‌বে।

ডাক্তা‌রের কথা শু‌নে বা‌ড়ির সবাই হতভম্ব হ‌য়ে গে‌লো। সবার ম‌নে হাজা‌রো প্রশ্ন? কিন্তু যে উত্তর দি‌বে সে এখ‌নো অজ্ঞান।

ডাক্তার এসে বল‌লো আয়া‌তের জ্ঞান ফি‌রে‌ছে। আর শুধু তনয়ার সা‌থে দেখা কর‌তে চায়।

তনয়া আয়া‌তের কা‌ছে যায়।

রা‌ফিঃ ভা‌বি ব‌ললাম না আপনা‌কে না দেখ‌লে বুঝা‌তে পার‌বো না। এই ব‌লে আয়া‌তের শার্টটা খু‌লে দি‌লো।

আয়া‌তের শরী‌রের দি‌কে তা‌কি‌য়ে তনয়া ডুক‌রে কেঁ‌দে ওঠে । কারন আয়া‌তের শরী‌রে অসংখ্য মারের দাগ। কিছু দাগ কা‌লো হ‌য়ে গে‌ছে। কিছু নীল বর্ন ধারন ক‌রে‌ছে।

তনয়া কাঁপা কাঁপা হা‌তে আয়া‌তের শরী‌রে হাত দি‌তে যায়। তখন আয়াত তনয়ার হাতটা ধ‌রে ব‌লে আমি ঠিক আছি তনয়া।

তনয়া আয়াত‌কে জ‌ড়ি‌য়ে ধ‌রে কান্না কর‌তে থা‌কে।

আয়াতঃ এই পাগ‌লি আমি ঠিক আছি। প্লিজ কান্না ক‌রো না। আমি বেঁ‌চে আছি আর তোমার কা‌ছেই আছি। জা‌নো তনয়া—-

আয়াত কিছু বল‌তে যা‌বে এর ম‌ধ্যেই পু‌লিশ ওর জবান ব‌ন্দি নেয়ার জন্য আয়া‌তের কা‌ছে এলো।

আয়াত শুধু তনয়ার দি‌কে তা‌কি‌য়ে আছে। কিন্তু হঠাৎ কাউকে দে‌খে আয়া‌তের চো‌খে যে‌নো ভয় নে‌মে এলো।

‌আয়া‌তের চো‌খের ভাষা হয়‌তো তনয়া বুঝ‌তে পে‌রে‌ছে। তাই আয়া‌তের পা‌শে গি‌য়ে ব‌সে আয়া‌তের হা‌তে হাত রাখ‌লো। তারপর চোখ দি‌য়ে ভরশা দি‌লো।

পু‌লিশঃ বলুন মিঃ আয়াত। এত দিন কোথায় ছি‌লেন আপ‌নি? আর আপনা‌কে বিষ দি‌য়ে‌ছি‌লো কারা?

আয়াতঃ প্রায় সাত মাস আগে আমি তনয়ার সা‌থে দেখ‌া কর‌তে তনয়া‌দের বাসায় যা‌চ্ছিলাম। প‌থে একটা মে‌য়ে আমার কা‌ছে লিফট চায়। মে‌য়েটা বোরকা পরা ছি‌লো মুখ বাধা ছি‌লো। আমি মে‌য়ে‌টি‌কে লিফট দিলাম। কিন্তু কিছুদূর যে‌তেই মে‌য়ে‌টি আমার মু‌খে কি যে‌নো ‌স্প্রে কর‌লো। তারপর আর কিছু ম‌নে নাই।

যখন জ্ঞান ফির‌লো তখন নি‌জে‌কে একটা রু‌মে চেয়া‌রের সা‌থে বাঁধা পেলাম। তারপর কিছু লোক আস‌লো।

তা‌দের কা‌ছে জান‌তে চাইলাম আমা‌কে কেন কিডনাপ করা হ‌য়ে‌ছে? কিন্তু তারা কোন জবাব দেই‌নি।

তা‌দের মধ্যে একজন লোক বল‌লো। এখন থে‌কে আমরা যা বল‌বো তাই কর‌বি না কর‌লে তোর মা বাবা, বোন ,আর তোর প্রে‌মিকা সবাই‌কে মে‌রে ফেল‌বো।

ওদের কা‌ছে আমার ফ্যা‌মি‌লির পু‌রো ডি‌টেলস ছি‌লো। তাই বাধ্য হ‌য়ে ওদের কথা ম‌তো তনয়া‌কে ফোন ক‌রে ব‌লি যে আমি অন্য কাউ‌কে ভা‌লোবা‌সি আর তা‌কে নি‌য়ে শহর ছে‌ড়ে চ‌লে যা‌চ্ছি। আ‌রো অনেক কিছু।

এরপর ক‌য়েকবার পালা‌নোর চেষ্টা ক‌রে‌ছিলাম কিন্তু পা‌রি‌নি। ওরা আমা‌কে প্রায় মার‌তো। আর ওদের কথ‌া ম‌তো বা‌ড়িতে দুবার কথা ব‌লে‌ছিলাম।

সাত মাস ধ‌রে ওরা আমা‌কে একটা রু‌মে আট‌কে রে‌খে‌ছি‌লো। এই সাত মাস ঠিক কিভা‌বে কে‌টে‌ছে তা শুধু আমি আর আল্লাহ জা‌নে।

তারপর গতকাল‌কে আমি পালা‌তে সক্ষম হই। কিন্তু ওরা আমার পিছু নেয়। বা‌ড়ি আসি কিন্তু আমা‌দের বা‌ড়ির চারপা‌শে ঐ লোকগু‌লো‌কে দেখলাম। তাই তনয়া‌কে ফোন ক‌রে দেখা কর‌তে বললাম।

‌কিন্তু কপাল খারাপ থাক‌লে যা হয় আর‌কি। ওরা আমা‌কে ধ‌রে ফেল‌লো। কিন্তু এবার ওরা আমাকে একবা‌রে মে‌রে ফেল‌তে চে‌য়ে‌ছি‌লো। তাই আমার শরী‌রে বিষাক্ত ইন‌জেকসন দেয়।

কিছুটা সময় আমি ওদের সামনে মরার মত প‌রে থা‌কি। তারপর ওরা আমায় মৃত ভে‌বে চ‌লে যায়। তারপর তনয়ার সা‌থে দেখা হয়। আর আল্লাহর অশেষ রহম‌তে বে‌ঁচে গেলাম।

আয়া‌তের কথা শু‌নে সবাই ভিষন স্ত‌ম্ভিত হ‌য়ে গে‌লো। কারন একটা মানুষ‌কে সাত মাস আট‌কে কেউ কিভা‌বে রাখ‌তে পা‌রে?

আয়া‌তের বাবা মা, অনু, তনয়া, ওর বাবা মা সবার চো‌খে জল। আজ‌কের চো‌খের জ‌লে তা‌দের মন থে‌কে মু‌ছে গে‌লো আয়া‌তের উপর জ‌মে থাকা সকল রাগ, ঘৃনা আর অভিমান।

তনয়াঃ আ‌মি তোমা‌দের ব‌লে‌ছিলাম আমার আয়াত এমন কর‌তে পা‌রে না? ওর নিশ্চয় কোন বিপদ হ‌য়ে‌ছে। কিন্তু তোমরা কেউ আমার কথা মান‌লে না।

আয়া‌তের বাবাঃ মাফ ক‌রে দে আয়াত। সে‌দিন তনয়ার কথা মে‌নে তো‌কে আমা‌দের খোজা উচিৎ ছি‌লো। তাহ‌লে তো‌কে এতটা কষ্ট পে‌তে হ‌তো না।

আয়াতঃ নাহ বাবা এতে তোমা‌দের কোন দোষ নেই। আমি তোমা‌দের যেভা‌বে ব‌লে‌ছি তা‌তে তোমরা‌ কেন সবাই আমার কথা বিস্বাস কর‌তো।

পু‌লিশঃ আচ্ছা আপ‌নি কি ঐ লোক গু‌লো‌কে চে‌নেন?

আয়াতঃ একজন‌কে চি‌নি?

পু‌লিশঃ কে?

আয়াতঃ তনয়া‌কে কিছু ছে‌লে বিরক্ত কর‌তো ব‌লে সেসব ছে‌লে‌দের আমি পু‌লি‌শে দি‌য়ে‌ছিলাম তা‌দের লিডার।

তনয়াঃ কে সাদাফ?

আয়াতঃ হুমমম। কিন্তু ও নি‌জেও এসব কর‌তো না। ওদের কেউ ফো‌নে এসব কর‌তে বল‌তো।

পু‌লিশঃ আপ‌নি কি জা‌নেন সে কে?

আয়াতঃ কিছুটা চুপ থে‌কে নাহ।

পু‌লিশ আয়া‌তের কাছ থেকে আরো কিছু বিষয় জি‌গেস ক‌রে চ‌লে গে‌লো।

রা‌ফিঃ দেখুন আয়া‌তের এখন বিশ্রাম করা দরকার। আপনারা যে‌কোন একজন এখা‌নে থাকুন। বা‌কি সবাই বাই‌রে যান।

অনুঃ তনয়া থাকুক।

তনয়ার দি‌কে তা‌কি‌য়ে দুষ্ট‌মি একটা হা‌সি দি‌য়ে অনু চ‌লে গে‌লো।

সবাই চ‌লে যাবার পর তনয়া আয়া‌তের পা‌শে থে‌কে উঠে যে‌তে চাই‌লে আয়াত তনয়ার হাত ধ‌রে ফে‌লে।

এত দিন পর দুজনার দেখা হ‌লো। ম‌নের ভিতর জ‌মে আছে হাজা‌রো কথা। কিন্তু কা‌রো মু‌খে কোন কথা নাই। কথা গু‌লো যে‌নো কোথায় হা‌রি‌য়ে গে‌ছে। লজ্জা, ভয় আর ভা‌লোবাসার শিহরন মি‌লে একাকার।

আয়াতঃ তনয়া! একটা কথা বল‌বো?

তনয়াঃ হ্যা ব‌লো?

আয়াতঃ can i toch your womb?

তনয়া মৃদ্যু হা‌সি দি‌য়ে আয়া‌তের হাতটা ধ‌রে নি‌জের পে‌টের উপর রাখ‌লো।

আয়াতঃ জা‌নো তনয়া আমি ভে‌বেছিলাম লো‌কের কথায় তু‌মি হয়‌তো ওকে পৃ‌থিবী‌তে আস‌তে দি‌বে না। তখন আমি নি‌জেও চাইতাম যে তু‌মি আমা‌কে ভু‌লে সাম‌নের দি‌কে আগাও। কারন আমি যে বেঁ‌চে ফির‌বো তার আশা ছি‌লো না আমার।

আর তাছাড়া যখন একটা মে‌য়ে বি‌য়ের আগে প্রেগ‌নেন্ট হয় তখন আমা‌দের সমাজ তার কি অবস্থা ক‌রে ত‌া ভে‌বেই কষ্ট হ‌চ্ছিল। আর আমা‌দের বি‌য়ের কথা‌তো কেউ জান‌তোই না।

আই এ্যাম স্য‌রি।

তনয়াঃ আয়া‌তের হাতটা ধ‌রে। প্লিজ আয়াত এভা‌বে ব‌লো না। তু‌মি কি করে ভাব‌লে আমি আমার আয়া‌তের ভা‌লোবাসাটা‌কে মেরে ফেল‌বো! আমার ম‌নে দৃঢ় বিশ্বাস ছি‌লো তু‌মি কখ‌নো আমা‌কে ধোকা‌ দি‌তে পারো না। আর সারা পৃ‌থিবীর লোক ওকে অবৈধ ভাব‌লেও আমি জা‌নি তু‌মি জা‌নো ও আমা‌দের ভা‌লোবাসার প‌বিত্র চিন্হ।

স্য‌রি ব‌লে তু‌মি আমা‌কে আর দোষী ক‌রো না। এই সাত মাস তু‌মি যে কষ্ট পে‌য়ে‌ছো তার তুলনায় আমার কষ্ট নগন্য।

আয়াতঃ হ্যা তু‌মি ঠিক ব‌লে‌ছো ও আমা‌দের ভা‌লোবাসার পবিত্র ‌চিন্হ। কষ্ট আমরা দুজ‌নেই সমান পে‌য়ে‌ছি। কারন আমরা শরীর দু‌টো হ‌লেও আত্না‌তো একই। তাই না বিউ‌টিফুল।

তনয়াঃ (চোখ বন্ধ ক‌রে) কত দিন পর তোমার মুখ থে‌কে এই ডাকটা শুনলাম।

আয়াতঃ জা‌নো তনয়া খুব ইচ্ছা ছি‌লো আমা‌দের বে‌বি তোমার ‌ভিত‌রে ঠিক কিভা‌বে বে‌ড়ে ওঠে তা তোমার পাশে থে‌কে অনুভব কর‌বো। অনুভব কর‌বো ওর একটু একটু ক‌রে বে‌ড়ে ওঠা।

কিন্তু নিয়‌তির সা‌থে কে বা পে‌রে ওঠে ব‌লো? যে সময়টা আমার তোমার কা‌ছে থাকা সব‌চে‌য়ে বে‌শি দরকার ছি‌লো সেই সময়টাই।

তনয়াঃ যা হ‌য়ে‌ছে তা ভু‌লে যাও।

আয়াত আবার তনয়ার পে‌টে হাত রে‌খে বল‌লো কত দিন পর আস‌বে প্রিন্সেস?

তনয়াঃ এক মাস নেই।

আয়াতঃ ওয়ে‌টিং ফর ইউ বে‌বি।

তনয়াঃ আয়াত?

আয়াতঃ হুম?

তনয়াঃ একটা কথা বল‌বো? স‌ঠিক উত্তর দিবা?

আয়াতঃ তোমার সা‌থে কখ‌নো মিথ্যা ব‌লে‌ছি?

তনয়াঃ আয়াত কে তোমা‌কে এত‌দিন আট‌কে রে‌খে‌ছি‌লো? এমন কে যে তোমা‌কে এতটা ঘৃনা ক‌রে? যে তোমা‌কে সাত মাস এভা‌বে আট‌কে রে‌খে‌ছে?

আয়াতঃ (কিছুটা তুত‌লি‌য়ে) আমিতো বললাম যে জা‌নি না।

তনয়াঃ আয়াত তোমার মুখ আমার থে‌কে কথা লুকা‌লেও তোমার চোখদু‌টো তা পার‌বে না।

আয়াত চুপ ক‌রে আছে

তনয়া আয়া‌তের হাতটা নি‌জের পে‌টের উপর চে‌পে ধ‌রে বল‌লো এখন ব‌লো তু‌মি তা‌কে চে‌নো না?

আয়াতঃ হাতটা সরি‌য়ে নি‌য়ে।
তার উদ্দেশ্য আমা‌কে না তোমা‌কে কষ্ট দেয়া ছি‌লো। আর সে তা‌তে সফল হ‌য়ে‌ছে।

তনয়াঃ কে? ক‌লে‌জের ছে‌লেগু‌লো।

আয়াতঃ নাহ বাই‌রের কেউ নয়। আমা‌দের ঘ‌রেরও কেউ নয়। তোমার খুব কা‌ছের সে।

তনয়াঃ কে সে?

আয়াতঃ ————

চল‌বে———

আগামীকাল শেষ পর্ব পা‌বেন।



About Author


Administrator
Total Post: [352]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy