Home Login Register

সুপ্রিয় পাঠক বিশেষ কারণবসত আগামী কিছুদিন গল্প নিয়মিত আপডেট বন্ধ থাকবে, সাময়িক এই সমস্যার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি ।

অ‌বৈধ [অন্তিম পর্ব]


প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......
Home / শার‌মিন আক্তার (সাথী) / অ‌বৈধ [অন্তিম পর্ব]

Admin › 3 months ago

লেখাঃ শারমিন আক্তার সাথী

আয়াতঃ সে আর কেউ নয়। তোমার নি‌জের “মা”

তনয়া “মা” কথাটি শু‌নে ঠিক বিশ্বাস কর‌তে পার‌লো না। তাই আবার জি‌গেস করলো । কার নাম বললা আয়াত?

আয়াতঃ জা‌নি আমার কথাটা তু‌মি ঠিক হজম কর‌তে পার‌ছো না। কিন্তু এটা স‌ত্যি যে আমা‌কে কিডনাপ তোমার মা ই ক‌রি‌য়ে‌ছে।

তনয়াঃ আয়াত! তু‌মি কি বল‌ছো এসব? তোমার মাথা ঠিক আছে তো?

আয়াতঃ তনয়া আমি জা‌নি আমার কথা তোমার বিশ্বাস হ‌চ্ছে না। হবার কথাও না। কারন আমি জা‌নি পৃ‌থিবী‌তে তু‌মি তোমার মা‌কে সব থে‌কে বে‌শি ভরশা ক‌রো। কিন্তু আমি যেটা বল‌ছি সেটা স‌ত্যি। আমা‌দের অনাগত সন্তান‌কে ছু‌য়ে বল‌ছি (তনয়ার পে‌টে হাত রে‌খে) আমি স‌ত্যি বল‌ছি।

তনয়াঃ দে‌খো আয়াত আমি জা‌নি তু‌মি স‌ত্যি বল‌ছো। কিন্তু আমার ম‌নে হয় তু‌মি হয়‌তো ভুল দে‌খে‌ছো বা জে‌নে‌ছো? মা তোমার সা‌থে এমনটা কেন কর‌বে?

আয়াতঃ সে প্রশ্ন‌তো আমার ম‌নেও?

তনয়াঃ কিন্তু তু‌মি কি করে বুঝলা যে তোমা‌কে মা কিডনাপ ক‌রে‌ছে?

আয়াতঃ দে‌খো তনয়া এর আগেও মা‌নে তিন চার মাস আগে আমি একবার পালা‌তে সক্ষম হ‌য়ে‌ছিলাম। পা‌লি‌য়ে সোজা মেইন রো‌ডে আসলাম। ভাবলাম কোন গা‌ড়ি‌তে লিফট নি‌য়ে শহ‌রে চ‌লে আস‌বো।

আমা‌কে দেখে একটা গা‌ড়ি থাম‌লো। গা‌ড়ি‌ থে‌কে তোমার মা বে‌রো‌লেন। আমি ভাবলাম হয়‌তো আল্লাহ আমার উপর রহমত ক‌রে‌ছেন।

‌তি‌নি আমার সা‌থে খুব ভা‌লো ক‌রে কথা বল‌ছি‌লেন। গা‌ড়ি‌তে উঠে কিছু দুর আসার পর আমার মাথায় কেউ ভারী জি‌নিস দি‌য়ে আঘাত কর‌লো। আমি আবার বেহুশ হ‌য়ে গেলাম।

জ্ঞান ফি‌রে নি‌জে‌কে আবার বন্ধ ঘ‌রে বাঁধা অবস্থায় আবিষ্কার করলাম। কিন্তু চোখ খুল‌তেই দেখলাম আন্টি আমার সাম‌নে একটা চেয়া‌রে বসা। আর আমার দি‌কে তা‌কি‌য়ে হাস‌ছে। আমি আ‌ন্টির এমন রূপ দে‌খে হতভম্ব হ‌য়ে গেলাম।

আন্টি আপ‌নি এমন কর‌ছেন কেন? আর আমাকে কে এখা‌নে বেঁ‌ধে রে‌খে‌ছে?

আ‌ন্টিঃ আয়াত তু‌মি‌তো খ‌ুব বোকা? এখ‌নো বুঝ‌তে পা‌রো‌নি?

আয়াতঃ কিন্তু আন্টি আপ‌নি আমার সা‌থে এমন কেন কর‌ছেন? কি ক্ষ‌তি ক‌রে‌ছি আমি আপনার?

আ‌ন্টিঃ তু‌মি আমার কোন ক্ষ‌তি ক‌রো নি? কিন্তু তোমার তনয়া ক‌রে‌ছে।

আয়াতঃ মা‌নে? ও তো আপনার মে‌য়ে!

আ‌ন্টিঃ মা‌নেটা না হয় প‌রে এক‌দিন জান‌লে?

আয়াতঃ প্লিজ আমা‌কে ছে‌ড়ে দিন আন্টি। এখন আমার তনয়ার পা‌শে থাকা দরকার।

আ‌ন্টিঃ সেজন্যই তো তোমাকে কিডনাপ করলাম! দে‌খো আয়াত তোমার সা‌থে আমার কোন শত্রুতা নাই। কিন্তু তনয়া‌কে আমি ঘৃনা ক‌রি। প্রচন্ড ঘৃনা। তনয়া‌কে কষ্ট দেবার জন্যই তোমা‌কে আট‌কে রে‌খে‌ছি। কাজ শেষ হ‌লে তোমা‌কে ছে‌ড়ে দি‌বো। তার আগে চালা‌কি কর‌লে বেঁ‌চে ফির‌তে পার‌বে না।

আয়া‌তের কথ‌া শু‌নে তনয়া যে‌নো নি‌জে‌কে সামলা‌তে পার‌লো। মাথাটা ঘুর‌ছে। আয়াত তনয়ার হাত ধ‌রে। নি‌জে‌কে প্লিজ সামলাও তনয়া। এই জন্যই তোমা‌কে আমি বল‌তে চাই‌নি।

তনয়াঃ কিন্তু আয়াত মা কেন আমাকে ঘৃনা ক‌রে? আর তু‌মি কেন পু‌লিশ‌কে এ ব্যাপা‌রে বল‌লে না?

আয়াতঃ আমি চাই‌নি আমাদের প‌রিবা‌রের ম‌ধ্যে পু‌লিশ আসুক।

তনয়াঃ কিন্তু মা এমনটা কেন কর‌লো? তনয়া খুব কান্না কর‌তে ছি‌লো। তনয়া শত চেষ্টা ক‌রেও নি‌জে‌কে যে‌নো সামলা‌তে পার‌ছে না।

আয়াত তনয়া‌কে ঠিক কি দি‌য়ে শান্তনা দি‌বে তা ভে‌বে পা‌চ্ছে না।

তনয়াঃ আমি এখনই মা‌কে সবটা জি‌গেস কর‌বো? কেন সে এমন কর‌লো?

আয়াতঃ প্লিজ তনয়া এমনটা ক‌রো না। আর হাসপাতা‌লে ব‌সে নি‌জে‌দের ঘ‌রের কথা বলা ঠিক না। হ্যা জি‌গেস ক‌রো কিন্তু কিছু দিন পর।

তনয়াঃ কিন্তু আয়াত যতক্ষন না জান‌তে পার‌ছি আমি শা‌ন্তি পা‌বো না।

আয়াতঃ তোমাকে শা‌ন্তি দেয়ার উপায় আমার কা‌ছে আছে!

তনয়াঃ কি উপায়?

আয়াতঃ আমার কা‌ছে আসো!

তনয়াঃ আসলাম তো?

আয়াত তনয়াকে নি‌জের বু‌কের মা‌ঝে চে‌পে ধর‌লো। খুব শক্ত ক‌রে।

আয়াতঃ এখন শা‌ন্তি খু‌জে পে‌য়ে‌ছো?

তনয়াঃ পৃ‌থিবীর সব থে‌কে বে‌শি সুখ তো এখা‌নেই লু‌কি‌য়ে থা‌কে। 
জা‌নো একটার মে‌য়ের জন্য পৃ‌থিবী‌তে সব থে‌কে শা‌ন্তির এবং সুর‌ক্ষিত জায়গা হ‌চ্ছে তার স্বামীর বুক।

দু‌দিন হ‌য়ে গে‌লো। 
আয়াত এখন একটু সুস্থ। কিন্তু শরীরর খুব ক্লান্ত। পু‌রো পু‌রী সুস্থ হ‌তে বেশ কিছু দিন সময় লাগ‌েবে।

এই দু‌দিন তনয়া ওর মা‌য়ের সা‌থে একটা কথাও ব‌লে‌নি। তা‌কে আয়া‌তের কা‌ছে যে‌তে দেয়‌নি। তনয়া সবসময় আয়া‌তের পা‌শে থে‌কে‌ছে।

আজ আয়াত‌কে বা‌ড়ি নি‌য়ে যা‌চ্ছে। তনয়া আয়াত‌কে ব‌লে‌ছে বা‌ড়ি যাবার সা‌থে সা‌থে সব কিছু ফয়সালা কর‌বে।

আয়াত‌কে নি‌য়ে সবাই আয়াত‌দের বা‌ড়ি গে‌লো। তনয়ার বাবা মা ও ওদের সা‌থে গি‌য়ে‌ছে।

বা‌ড়ি গি‌য়ে বসার সা‌থে সাথে আয়াত‌দের বাসায় পু‌লিশ আসলো।

আয়া‌তের বাবাঃ কি খবর অফিসার?

অ‌ফিসারঃ মিঃ আয়াত যে ছে‌লেটার কথা ব‌লে‌ছি‌লো তা‌কে খু‌জে পে‌য়ে‌ছি। আর সে সেই লো‌কের নাম ব‌লে‌ছে যে আয়াত‌কে এত‌দিন আটকে রে‌খে‌ছি‌লো।

আয়া‌তের মাঃ কে সেই পা‌পি শয়তান?

অ‌ফিসারঃ মি‌সেস তনয়ার মা!

পু‌লি‌শের মুখ থে‌কে এ কথা শোনার পর সবার পা‌য়ের নি‌চের মা‌টি যে‌নো কে‌ঁপে উঠ‌লো।

আয়া‌তের বাবাঃ কি বল‌ছেন এসব? বেয়ান এসব কাজ কেন কর‌বে? আপনা‌দের কোথাও ভুল হ‌চ্ছে।

অ‌ফিসারঃ জ্বি না। আমরা সব কিছু জে‌নে শু‌নেই তদন্ত করেই এসে‌ছি। আর আমরা সাদাফ‌কে এরেস্ট ক‌রে‌ছি। সেই আমা‌দের সব কথা ব‌লে‌ছে।

আয়া‌তের বাবাঃ কিন্তু—–

তনয়াঃ বাবা ওনারা স‌ত্যি কথা বল‌ছেন! এসব কিছু আমার মা ই ক‌রে‌ছে।

আয়া‌তের বাবাঃ তার মা‌নে তু‌মি সব জান‌তে তনয়া?

তনয়াঃ হ্যা বাবা জানতাম। আয়াত হাসপাতা‌লে ব‌সে আমা‌কে সব ব‌লে‌ছে। কিন্তু আয়া‌তের অনু‌রো‌ধে আমি চুপ ছিলাম। কিন্তু আর না।

এবার তনয়ার মা মুখ খুল‌লেন?

তনয়ার মাঃ কি বল‌ছিস তনয়া? আমি কেন এমটা কর‌বো?

তনয়াঃ সে প্রশ্ন‌তো আমার ম‌নেও মা? কেন?

তনয়ার মাঃ আয়াত মিথ্যা বল‌ছে।

তনয়াঃ একদম চুপ মা। তোমা‌কে মা বল‌তেও নি‌জের লজ্জা হয়। মা সে তো সন্তা‌নের জন্য নি‌জের জীবন পর্যন্ত দি‌য়ে দেয়। কিন্তু তু‌মি মা হ‌য়ে নি‌জের সন্তা‌নের জীবন নষ্ট কর‌তে চাইছো? কেন? মা? ব‌লো?

তনয়ার বাবা এতক্ষন চুপ ছি‌লো কিন্তু এখন আর চুপ থাক‌তে পার‌লে না। তি‌নি বল‌লেন

তনয়ার বাব‌াঃ ও তোর নি‌জের মা না!

কথাটা শু‌নে সবাই অনেক অবাক হ‌লো।

তনয়াঃ কি? (অনেক অবাক হ‌য়ে)

তনয়ার বাবাঃ হ্যা‌রে মা। তোর জ‌ন্মের পর তোর মা মারা যায়। আর তারপর আমি ওকে বি‌য়ে ক‌রি। আমি তো‌কে তোর মা‌য়ের কথা জানাই নি কারন আমি চাই‌নি তুই ওকে সৎ মা ভা‌বিস। আমা‌কে ক্ষমা ক‌রে দে মা!

তনয়াঃ না বাবা তু‌মি কোন ভুল ক‌রো‌নি। কিন্তু মা তোমা‌কে তো আমি ছোট বেলা থে‌কে মা জে‌নে‌ছি মে‌নে‌ছি তোমার ভা‌লোবাসা পে‌য়ে‌ছি। কিন্তু কি এমন হ‌লো যে তু‌মি আমা‌র সা‌থে এমনটা কর‌লে?

তনয়ার মাঃ কারন আমি তো‌কে ঘৃনা ক‌রি প্রচন্ড ঘৃনা।

তনয়াঃ কেন মা?

তনয়ার মাঃ আমা‌কে একদম মা ডাক‌বি না। তোর কার‌নে আমি আজ মা হওয়ার সুখ থে‌কে ব‌ঞ্চিত।

তনয়াঃ কি বল‌ছো এসব মা? আমি কি ক‌রে‌ছি?

তনয়ার মাঃ বি‌য়ের পর তো‌কে আমি নি‌জের মেয়ের মতই দেখতাম। কিন্তু তোর যখন তিন বছর বয়স তখন আমি পাঁচ মা‌সের প্রেগ‌নেন্ট। তখন তুই খেল‌তে গি‌য়ে ম্যান হো‌লের পা‌শে চ‌লে যাস।

তখন দৌ‌ড়ে তো‌কে বাঁচা‌তে গি‌য়ে আমি প‌ড়ে যাই। আমার বাচ্চাটও নষ্ট হ‌য়ে যায় আর সা‌থে সা‌থে আমি মা হবার ক্ষমাতাও হারাই।

তখন থে‌কেই ভে‌বে নি‌য়ে‌ছি তুই আমাকে ঠিক যে প‌রিমান কষ্ট দি‌ছো তার তিনগুন তো‌কে আমি ফি‌রি‌য়ে দি‌বো। তো‌কে আমি একবা‌রে মার‌তে পারতাম। কিন্তু তো‌কে আমি রোজ রোজ কষ্ট পে‌য়ে তি‌লে তি‌লে মারতে চে‌য়ে‌ছিলাম।

আর তার সু‌যোগটা তুই আয়াত সামান্য একটা ভুল ক‌রে দি‌য়ে দি‌লি। ভে‌বে‌ছিলাম আয়াত হয়‌তো তো‌কে কা‌ছে পাবার পর ছে‌ড়ে দিবে কিন্তু ও তো তো‌কে পাগ‌লের মত ভা‌লোবা‌সে। তাই আমি আয়াত‌কে অপহরন করাই।

এলাকায় তোর প্রেগ‌নেন্সির খবর আমিই র‌টি‌য়ে‌ছিলাম। যা‌তে সবাই তো‌কে নষ্ট ব‌লে।

আ‌মি তোর বাচ্চাটা‌কে কখ‌নো মার‌তে চাই‌নি। সবসময় চে‌য়ে‌ছি বাচ্চাটা পৃ‌থিবী‌তে আসুক আর সবাই তা‌কে অবৈধ বলুক। অবৈধ।

যখন লোকজন তো‌কে নষ্টা আর তোর বাচ্চা‌কে অবৈধ ব‌লে তখন আমার খুব শা‌ন্তি লা‌গে। বিস্বাস কর ম‌নে হয় ২২ বছর অপেক্ষার ফল পা‌চ্ছি।

প্রথ‌মে আয়াত‌কে মার‌তে চাই‌নি প‌রে ভাবলাম ওকে মে‌রে ফেল‌লে সারা জীবন তো‌কে অবৈধ নামক বোঝা ব‌য়ে বেড়া‌তে হবে। আর আমি এটাই চাই‌ছিলাম।

তনয়া ওর মা‌য়ের কথা শু‌নে যে‌নো বোবা হ‌য়ে গে‌লো। পাথ‌রের মত দা‌ড়ি‌য়ে আছে।

‌কি বা বলার থা‌কে তখন, যখন সব থে‌কে কা‌ছের মানুষ, নি‌জের মা ধোকা দেয়। তখন কথা বলার অনুভু‌তি গু‌লো ভোতা হ‌য়ে যায়।

অ‌ফিসার তনয়ার মা‌কে এরেস্ট কর‌তে চাইলে আয়াত বাঁধা দেয়।

আয়াতঃ অফিসার ওনার প্র‌তি আমার কোন অভি‌যোগ নাই।

সবাই অবাক দৃ‌ষ্টি‌তে আয়া‌তের দি‌কে তাকা‌লো।

আয়াতঃ হ্যা আমি জা‌নি ওনি অন্যায়‌ করে‌ছে। কিন্তু তবুও ওনি তনয়ার মা। তাই ওনার উপর আমার কোন রাগ নাই।

তনয়ার বাবাঃ কিন্তু আমার আছে! তু‌মি হয়‌তো ওকে মাফ কর‌তে পা‌রো কিন্তু আমি না। কারন আমি আমার মে‌য়ে‌কে এতগু‌লো দিন অসহ্য যন্ত্রনার মধ্য দি‌য়ে কাটা‌তে দে‌খে‌ছি। তা তোমরা ভুল‌লেও আমি ভুল‌বো না।

তনয়াঃ কিন্ত‌ু বাবা?

তনয়ার বাবাঃ কোন কিন্তু নাই। আজ আমি তোর কোন কথা শুন‌বো না। ওকে আমি তোর জীব‌নে ভা‌লোবাসার পরশ দিতে এনে‌ছিলাম। কিন্তু ও তো তোর জীবনটা‌কে বি‌ষের থে‌কে বিষময় ক‌রে দি‌য়ে‌ছে।
অফিসার ওকে নি‌য়ে যে‌তে পা‌রেন।

পু‌লিশ তনয়ার মা‌কে নি‌য়ে চ‌লে গে‌লেন। সারা দিন সব‌াই অসস্থির ম‌ধ্যে ছি‌লো। কারন সবাই ভাব‌ছে এটা হয়‌তো কোন দুঃস্বপ্ন। যেটা ঘুম ভাঙার সা‌খে সা‌থে কেপে যা‌বে। কিন্তু আফসুস তা হবার নয়!

রা‌তে তনয়া জানাল দি‌য়ে বাই‌রের দি‌কে তা‌কি‌য়ে ছি‌লো। আয়াত রু‌মে ডুকে তনয়াকে পিছন থে‌কে জ‌ড়ি‌য়ে ধ‌রে।

আয়াতঃ হেই বিউ‌টিফুল। সব ভু‌লে যাও। চ‌লো নতুন ক‌রে শুরু ক‌রি আবার!

তনয়াঃ পার‌বো কি?

আয়াতঃ পার‌বে না কেন? আমি আছি না তোমার কা‌ছে, তোমার পা‌শে, তোমার হৃদ‌য়ে, তোমার অনুভু‌তি‌তে, তোমার সারাটা জু‌ড়ে। যেমনটা তু‌মি আছো আমার সারাটা জু‌ড়ে তাহ‌লে কে‌নো পার‌বো না?

তনয়াঃ হুম ঠিক বল‌ছো। তু‌মি থাক‌লে সব পার‌বো।

আয়াতঃ তনয়া!

তনয়াঃ হুমমম

আয়াতঃ আই লাভ ইউ লাইক এ ম্যাড।

তনয়াঃ আই নো। এখন ভা‌লোবাসা অনেক হই‌ছে যাও ঘুমাও। রাত কম হয়‌নি। আমি অনুর কা‌ছে যা‌চ্ছি।

আয়াতঃ অনুর কা‌ছে কেন?

তনয়াঃ ঘুমা‌তে!

আয়াতঃ কেন? আমার খ‌া‌টে কি জায়গা নাই?

তনয়াঃ বেহায়া! বেশরম!

আয়াতঃ যাহ এমন কি বললাম?

তনয়াঃ কি ব‌লে‌ছি‌লে ম‌নে নাই? যত‌দিন না পা‌রিবা‌রিক ভা‌বে বি‌য়ে হ‌বে তত‌দিন একদম ভুল কর‌বে না।

আয়াতঃ তো আমি কি ভুল কর‌তে ব‌লে‌ছি না‌কি? (দুষ্ট‌মি ক‌রে)

তনয়াঃ অসভ্য। যাও ঘুমাও।

আয়াতঃ উত্তরটা‌তো দি‌য়ে যাও।

তনয়াঃ আই ডোন্ট লাভ ইউ।

আয়াতঃ বাট আই লাভ ইউ টু বিউটিফুল।

প‌রের দিন সকা‌লে তনয়ার বাবা বল‌ছে আজ তনয়া‌কে তার বা‌ড়ি নি‌য়ে যা‌বে!

আয়াতঃ কেন ?

আয়া‌তের বাবাঃ ওরে গাধা। বা‌ড়ি না নি‌লে বৌমাকে বি‌য়ে ক‌রে ঘ‌রে নি‌য়ে আস‌বি কি ক‌রে?

আয়াতঃ ওওহহ হ্যা। তা ক‌বে নি‌য়ে আস‌বো?

আয়া‌তের বাবাঃ বেহায়া! পরশু শুক্রবার। আমি চাই আমার না‌তি পৃ‌থিবী‌তে আসার আগে ওর মাথা থে‌কে অবৈধ নামক কলঙ্কটা মু‌ছে যাক।

আয়াতঃ হ্যা বাবা। একদম ঠিক বল‌ছো

তারপর মোটামু‌টি ঘ‌রোয়া আনুষ্ঠা‌নিকভা‌বে বি‌য়েটা হ‌য়ে গে‌লো। তনয়া অসুস্থ ব‌লে বে‌শি জাকজমক করে‌নি।

অনু তনয়া‌কে আয়াতের রু‌মে দি‌য়ে আস‌লো। রুমটা খুব সুন্দর ভা‌বে সাজা‌নো।

আয়াতঃ তোমা‌কে খুব সুন্দর লাগ‌ছে বিউ‌টিফুল!

তনয়া লজ্জা পে‌য়ে মাথা নিচু ক‌রে ফেল‌লো।

আয়াতঃ লজ্জা পে‌লে কাজ হ‌বে না। আমার উত্তরটা চাই।

তনয়াঃ দি‌বো না!

আয়াতঃ তাহ‌লে কিন্তু আবার চ‌লে যা‌বো।

তনয়া আয়া‌তের মুখটা চে‌পে ধ‌রে।

তনয়াঃ ঠেং ভে‌ঙে খোরা ক‌রে ঘরে রে‌খে দি‌বো। আয়াত‌কে জ‌ড়ি‌য়ে ধ‌রে আই লাভ ইউ টু।

তারপর সারারাত মি‌লে দুজন গল্প কর‌লো। দুজনার ম‌নে যে হাজা‌রো কথা জ‌মে আছে, জ‌মে আছে অনেক ঝগরা, ভা‌লোবাসা, খুনসু‌টি।

তার ক‌য়েক‌দিন পর ওদের কোল জু‌ড়ে আস‌লো ছোট্ট‌ একটা পরী।

পরীটা‌কে এখন কেউ অবৈধ বল‌তে পার‌বে না। কারন পরীটা আয়াত আর তনয়ার ভা‌লোবাসাকে ম‌নের ডো‌রে বেঁ‌ধে দি‌য়ে‌ছে।

======সমাপ্ত======

আল্লাহর উপর আর নি‌জের ভা‌লোবাসার মানু‌ষের উপর ভরশা থাক‌লে সব মুশ‌কিল শেষ হ‌য়ে যা‌বে।

আর হ্যা ভা‌লোবাসুন কিন্ত‌ু ভা‌লোবাসার আবেশে এসে ভুল করা থে‌কে বিরত থাকুন। ভা‌লো থাক‌বেন।



About Author


Administrator
Total Post: [352]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy