Home Login Register

সুপ্রিয় পাঠক বিশেষ কারণবসত আগামী কিছুদিন গল্প নিয়মিত আপডেট বন্ধ থাকবে, সাময়িক এই সমস্যার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি ।

অসমাপ্ত ভালবাসা


প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......
Home / জিসান আহম্মেদ / অসমাপ্ত ভালবাসা

Admin › 3 weeks ago

জিসান আহম্মেদ রাজ

“তুমি আমাকে আজ যে সুখ দিলে তা আমি কোনদিন ভুলতে পারবো না।”( অধরা )

“তাই বুঝি?

হুম আচ্ছা রাফি! আজ যা করলে সেজন্য আমি যদি প্রেগনেন্ট হয়ে যায়? “

” হবে না প্লিল খেয়ে নাও”

যাহ্ দুষ্ট যা করেছো তাতে পিলে কিছু হবে না মনে হচ্ছে।.

” আর একটু আদর করো না। তোমাকে আজ সব বিলিয়ে দিয়েছি! ( অধরা )

.

কাছে এসো, ( রাফি)

হুমমম, কাছে এসেছি ( অধরা)

.

আরো কাছে এসো, যতটা কাছে আসলে, তোমার শ্বাস-প্রশ্বাস শুনতে পারবো। ( রাফি)

.

দরজার এপাশ থেকে নিজের গালফেন্ডের মুখে নিজের বন্ধুকে নিয়ে নষ্টামির কথা শুনে পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেল!
যাকে নিজের থেকে বেশি বিশ্বাস করতাম সেই আজকে আমার পবিএ ভালবাসা নিয়ে প্রতারণা করলো। 
চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল। হাত থেকে টিউশনির জমানো টাকা দিয়ে কেনা নীল শাড়িটা পড়ে গেল। 
হাত পাঁ কাঁপছে। বুকের ভেতরটা ফেঁটে যাচ্ছে, এই কি সেই অধরা যে অধরা আমাকে একদিন না দেখলে পাগল পাগল হয়ে যেত! 
না কিছু ভাবতে পারছি না। হাতে থাকা গোলাপ গুলো ছুরে ফেলে দিলাম।

.

হঠাৎ দরজা খুলেই রাফি আমাকে দেখে বিস্মিত হলো। রাফি এভাবে আমাকে দেখবে তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। রাফির শরীর কাঁপছে।

.

এই রাফি দরজার দাঁড়িয়ে আছো কেন, আর একটু আদর করো না? রাফি কোন কথা বলছে না। অধরা বিছানা থেকে উঠে, দরজার কাছে আসতেই চমকে গেল! তুতুতুমি এখানে কেন?

.

সরি আপনাদের রোমাঞ্চকর মুহূর্তে এসে পড়ার জন্য। আগে জানলে আপনাদের, সুখের মুহূর্তে বিঘ্ন ঘটাতে কখনোই আসতাম না। ( আমি)

.

রাজ তুমি যা ভাবছো তার কিছুই হয়নি। ( অধরা)

.

হুমম, কিছুই হয়নি শার্টে শুধু লিপস্টিকের দাগ। কলঙ্কের দাগ তোমার শরীরের প্রতিটি পরতে পরতে অধরা। তোমাকে উজাড় করে ভালবাসার প্রতিদান কি এটা ছিল? সত্যি আমি মানুষ চিনতে ভুল করেছি! তুমি কি আমার সেই অধরা

.

রাজ বিশ্বাস করো, সত্যি আমি কিছু করিনি। আমি আর রাফি এখানে মুভি দেখছিলাম। তুমি তো জানো, রাফি আমার মামাতো ভাই।

.

হুমম, আচ্ছা আসি একটা কথা মনে রেখো সবসময়, পাপের ফল তোমাকে ভোগ করতেই হবে। আমার চোখের পানি তোমাকে কাঁদাবে। আমার পবিএ ভালবাসা কসম তুমি কাঁদবে খুব কাঁদবে। সন্ধ্যা আকাশের তারার মাঝে আমাকে খুঁজবে। ভোরের প্রভাত তোমাকে আমার কথা মনে করিয়ে দিবে। রংধনুর সাতরং তোমাকে আমার কথা মনে করিয়ে দিবে। আমার ভালবাসায় যে কোন স্বার্থ ছিল না, ছিলো না বাড়তি কোন আবেগ। তাই আজ হারালাম তোমায়। ভালো থেকো!

.

অধরা আমাকে ডাকতে গিয়েও থেমে গেল।

.

এদিকে বাসায় এসে, অধরা নিয়ে লেখা ডাইরিটা বের করলাম। ডাইরিটা বুকের সাথে জড়িয়ে পাগলের মতো কান্না করলাম। আগুন ধরিয়ে দিয়েও পুড়াতে পারলাম না। অধরার সমস্ত স্মৃতি আমার চোখে ভাসছে আর অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।

.

আজ দুইদিন হলো টিউশনিতেও যায় না।
ভার্সিটিতে যাওয়া হচ্ছে না। সকালে শুয়ে আছি কে যেন এসে গাঁয়ে পানি ঢেলে দিলো। এই কোন সালারে গাঁয়ে পানি ঢেলে দিল। চোখ খুলেই দেখি, একটা নীল পরি চশমার ফাঁক দিয়ে রাগি লুক নিয়ে তাঁকিয়ে আছে।

.

এই কুত্তা তুই আমাকে সালা ডাকলি কেন? আমি কি তোর সালা?

.

এই কথা তুই এখানে?

.

কেন আমি আসতে পারি না। এই তোর চেহারা একি করছিস, দেখে মনে হচ্ছে পুরাই দেবদাস। চোখের নিচে কালিও পরে গেছি দেখছি। ( কথা)

.

যাহ্ তো দৃষ্টাব করবি না। একা থাকতে দে আমায়।

.
আরেকবার একা থাকার কথা বললে, তোকে খুন করমু। হারামি ভার্সিটি যাস না! অধরার সাথে কি কিছু হয়েছে।

.

আমি মনের মাঝে চাঁপা কষ্ট রেখে, মুচকি হেসে বললাম, কই কিছু না তো!

.

তাহলে চল, আজ তুই নীল শার্ট পরবি। জোর করে রেডি করে কথা আমাকে নিয়ে ভার্সিটিতে গেল। আমার মাথাতে এখনো অধরা ঘুরছে। এতোটা ভালবাসার পরও কেউ এভাবে প্রতারণা করবে। কি অপরাধ ছিল, কাউকে হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে ভালবাসা কি অপরাধ।

.

ভার্সিটির বটগাছের নিচে বসে নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ কথা বললো।

আচ্ছা রাজ ভালবাসা মানে কী? কেন একজন ভালনাবাসলেও তার জন্যই মনটা কাঁদে। বলতে পারবি কি আমায়? ( কথা)

.

আমি নীল আকাশের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে কথার দিকে তাকালাম। কথা উৎসুক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি বলতে শুরু করলাম” ভালবাসা মানে দুটি আত্মার বন্ধন। শত বিপদের মাঝেও প্রিয় মানুষটাকে বলা, ভয় পেয়ো না আমি তো তোমার সাথে রয়েছি! ভালবাসা মানে হিম হিম কুয়াশার মাঝে ভালবাসার মানুষটাকে নিজের গায়ের চাদরটা জড়িয়ে দেওয়াকে বলে ভালবাসা। রুম ডেট করার মাঝে যা থাকে সেটা আবেগ, যা পবিএ ভালবাসাকে কলঙ্কিত করে। ভালবাসা হচ্ছে দুজন দুজনের থেকে দূরে থেকেও কেউ কাউকে ভুলে না যাওয়া। ভালবাসা হচ্ছে শত বাঁধা বিপত্তির মাঝেও হাতে হাত রেখে চলা! ভালবাসা মানে বিশ্বাসের মর্যাদা রাখা । এই কথা তুই কাঁদছিস কেনো?

.

নাহ্ তোর ভালবাসার বর্ণনা শুনে, নিজের অজান্তে চোখের কোণে জল এসে গেছে।

.

এই কথা তুর ভালবাসার মানুষের নাম তো কখনো বললি না!

.
সে সব সময় আমার সামনেই থাকে, সে না বুঝলে আমি কিভাবে বুঝাবো।

.

মানে কি বলছিস তোর সামনে মানে?

.

আরে পাগল, চোখ বন্ধ করলেই যে বাঁদরটা আমার সামনে এসে যায়।

.

হুম বুঝলাম! হঠাত বাইকের শব্দ শুনে ভার্সিটির ক্যাম্পাসের দিকে তাকালাম। চেয়েই দেখি অধরা,রাফিকে জড়িয়ে ধরে বাইকে করে কেন্টিনের দিকে যাচ্ছে। আমি কিছু না বলে তাদের পিছন পিছন গেলাম। কেন্টিনে গিয়ে দেখি, রাফি অধরাকে খাইয়ে দিচ্ছে। অধরা রাফিকে খাইয়ে দিচ্ছে। যে টেবিলে বসে অধরার মুখে খাবার তুলে দিতাম আজ সে টেবিলে, রাফি আর অধরা বসে আছে। আর সহ্য করতে পারলাম না। তাঁদের দুজনের কাছে গিয়েই, রাফিকে বললাম, তুই আর অধরার সাথে মিশবি না। অধরা আমার ভালবাসা। হঠাত ঠাস ঠাস করে অধরা আমার গালে চড় বসিয়ে দিল।

” তোর মতো ছোটলোক এর কিভাবে সাহস হয়, রাফির শার্টের কলার ধরার। আর ভালবাসা,কিসের ভালবাসা?তোর মতো ছোটলোকের সারামাসের ইনকামে আমার একদিনের হাত খরচ হবে না। 

” তোর মতো ছোটলোক এর কিভাবে সাহস হয়, রাফির শার্টের কলার ধরার। আর ভালবাসা,কিসের ভালবাসা?তোর মতো ছোটলোকের সারা মাসের ইনকামে আমার একদিনের হাত খরচ হবে না। নেক্সট টাইমে যদি তোকে আমার সামনে দেখি আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না।

.

আমার দিকে তাকিয়ে সবাই হাসছে। অধরার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। এই মায়াবী মুখটা কত প্রতিজ্ঞা করেছিল, আজ সবার সামনে এভাবে অপমান করল। ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে সোজা বাসার দিকে রওয়ানা দিলাম। পিছন থেকে কে যেন ডাকছে, পিছন তাকাতেই দেখি একটা বাইক আসছে, কিছু বুঝে উঠার আগেই পিচঢালা রাস্তায় পড়ে গেলাম। মাথাটা ফেটে রক্ত পড়ছে। কথা দৌড়ে এসে মাথাটা বুকে জড়িয়ে নিয়ে কাঁদছে। তারপর চোখটা নিজের অজান্তেই বন্ধ হয়ে এলো।

.

চোখ খুলে দেখি মাথাটা বেন্ডেজ করা। বুকটা খুব ভারী লাগছে। চেয়েই দেখি কথা বুকে শুয়ে আছে। এই কথা কি করছো, তুমি এখানে শুয়ে আছো কেন?

কথা আমার কথা শুনে বুক থেকে মাথাটা উঠিয়ে, লজ্জামাখা মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

.

হঠাৎ, নার্স এসে বলল” ম্যাডাম আপনাকে না বলেছিলাম টেনসন না করতে। মিষ্টার রাজ আপনি সত্যিই অনেক লাকি এমন একটা বউ পেয়েছেন। যে তিনটা দিন আপনার পাশ থেকে সরেনি। নামায পড়ে কেঁদেছে।

.
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে বললো” মিঃ রাজ আপনি আপাদত বিপদ মুক্ত। কিছু ওষধ লিখে দিচ্ছি, খেয়ে নিবেন।

.

ডাক্তার চলে গেলে বললাম, তুই বাসায় যাসনি কেন? আর নার্সকে কেন বলছিস তুই আমার স্ত্রী!

.

বলেছি তো বেশ করেছি, দরজ্জালি নার্স তোর কাছে আমাকে থাকতে দেয় না তাই। এদিকে মাসখানেক থাকার পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়।
একমাসের মাঝেও একটিবারো অধরাকে দেখিনি। রুমে বসে বসে, অধরার ছবিটা দেখছি। হঠাৎ কথার আগমন নীল শাড়ি পড়ে।

.

কি ব্যাপার, পরী সেজে কোথায় যাচ্ছিস?

.
আমার হৃদয়ের রাজকুমারের কাছে। 
তাই বুঝি, তোর রাজকুমারকে কখনোতো বলিস নি?

.

আমার রাজকুমার টাই তুই।

মানে কি বলছিস?

.
রাজ তুকে বলছি না, আমি একজনকে ভালবাসি, যাকে নিয়ে আমার স্বপ্নের পৃথিবী সাজিয়েছি।তাঁর ছবিটা ভালবাসার রংতুলি দিয়ে এঁকেছি, সেই মানুষটা অন্য কেউ নয় তুই। সত্যি তোকে বড্ড বেশি ভালোবাসি। আমি সব সহ্য করতে পারি, তোর কষ্ট নয়। আমি জানি তোর বুকে আমার ঠাঁয় হবে না, কারণ অধরা প্রতারণা করলেও, তুমি তাকে ভুলতে পারোনি। আমাকে কি তোমার ভালবাসা ভিক্ষা দিবে, দিবে তোমার পায়ের নিচে একটু জায়গা। কথা হাঁটু গেড়ে একদমে কথাগুলো বলে ফেলল, চোখে চিকচিক করছে পানি। কি করবো কিছু ভাবতে পারছি না। কথাকে ফিরিয়ে দিতে চেয়েও পারলাম না। মনে মনে স্থির করে নিলাম কথাকে এ সপ্তাহে বিয়ে করবো।

.

কথাকে বুকে জড়িয়ে নিলাম। মা-বাবাকে বিয়ের কথা বললে, তারা অমত করেনি। আগে থেকেই কথাকে তাঁদের পছন্দ ছিলো।

.
দেখতে দেখতে বিয়েটা হয়ে গেল। বিয়েতে অধরাকেও কথা দাওয়াত করেছিল। আমি প্রথমে না করলেও পরে জিদের কারণে আর না করেনি। অধরা এসেছিল, তবে আগের চেয়ে অনেক শুকিয়ে গেছে। ছলছল চোখে, তাকিয়ে ছিল আমার দিকে। বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। পাশে রাফিকে দেখে আরো বেশি কষ্ট হচ্ছিল।

.
ওরা দুজন কিছুক্ষণ থেকেই চলে গেছে।

.

এদিকে বিয়ের সপ্তাহ খানেক পর, রুমে বসে, গল্প পড়ছিলাম। দরজায় কে যেন বারবার লক করছে, দরজা খুলতেই দেখি রাফি দাঁড়িয়ে আছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও, বললাম কেন আসছেন?

.

রাজ ভাইয়া কথাটা কিভাবে বলি, ( কান্না জনিত কণ্ঠে)

.

কি হয়েছে বলেন?

.
অধরা আপি মারা গিয়েছে গতরাতে। আর আপনার জন্য একটা ডাইরি রেখে গেছে।

.

কথাটা শুনে পায়ের তলার মাটি সরে গেল। বসন্তের আকাশটা কাল বৈশাখী ঝড়ে কেমন যেন উলট -পালট হয়ে গেল। কেন জানি বুক ফেঁটে কান্না আসছে। অধরাতো আমার সাথে প্রতারণা করেছে, তবে কেন এতো কষ্ট হচ্ছে। এই রাফি অধরা না তোমার গফ তো, আপি ডাকছো কেন?

.

ভাইয়া ডাইরিটা পড়ে সব জেনে নিয়েন। আর অধরার জানাজা কাল সকাল ৯.টায়।

.

রাফি চলে গেলে, ডাইরির প্রথম পাতাটা খুলতেই দেখতে পেলাম,

.
আজ আমি অনেক খুশি, আল্লাহ্ তায়ালার কাছে হাজার হাজার শুকরিয়া। আমার ভালবাসার মানুষ রাজকে পেয়েছি। আল্লাহ্ আমার মোনাজাত কবুল করেছেন।

.

পরের কয়েক পাতাতে দেখলাম আমাদের দুজনের মাঝে যেসব খুনশুটি হয়েছে সে সব লিখা। ( হাসি-কান্না গুলো ডাইরির পাতায় ঝলমল করছে)

কয়েক পাতা উল্টাতেই দেখলাম তারিখ মার্ক করে লেখা” আজ আমার জীবনেে স্মরণীয় দিন, রাজকে প্রতিজ্ঞা করেছি, আমৃত্যু তাকে ভালোবেসে যাবো বেঁচে থাকলে তাকেই বিয়ে করবো!

.

তার পরের কয়েকটা পাতা নীল কালিতে লেখা ” কয়েকদিন ধরে মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করে, রাজকে জানায়নি, আমি জানি রাজের হৃদপিন্ডটাই আমি ও বড্ড বেশি কষ্ট পাবে। তাই ওকে না জানিয়ে সিটিস্ক্যান করে যা রির্পোট আসলো, তা আমার সাজানো স্বপ্নগুলো মুহূর্তেই এলোমেলো করে দিল। আমার ব্লাড ক্যান্সার, লাস্ট স্টেজে আছি, মৃত্যু আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ডাক্তার কে বললাম, আমার যে কন্ডিশন আমি কতদিন বাঁচবো? ডাক্তার বলতে চাচ্ছিল না, 
আজ আমার জীবনের, তবুও, জোর করে বলাতে বলল” আমি নাকি সর্বোচ্চ ৫০ কিংবা ৬০ দিন বাঁচতে পারি। কথাটা শুনে নিজের অজান্তেই চোখের পানি এসে গেল। আমার জন্য কষ্ট হচ্ছে না, কষ্ট হচ্ছে রাজের জন্য। বারবার ওর মায়াবি মুখটা ভেসে ওঠছে। রাজ তো আমাকে ছাড়া বাঁচবে না । আমার জন্য ওর জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে। আমি তো চাই যেন আমার ভালবাসার মানুষটার মুখে হাসি থাকুক। সে সবসময় সুখে থাকুক।

.

সারারাত চিন্তা করে সকালে ভাবলাম রাজের সুখের জন্য নিজের ভালবাসাকে নিজের বুকেই দাফন করবো। কথা রাজকে পছন্দ করে, তাই কথাকে শপথ করিয়ে বললাম আমি যে অসুস্থ রাজ যেন জানতে না পারে। রাজকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য, মামাতো ভাই রাফিকে বললাম, আমার প্ল্যানের কথা। প্রথমে না করলেও, রাফির পায়ে যখনি ধরতে যাবো তখনি রাজি হয়ে যায়। 
আচ্ছা আপু একটা কথা বলি?

হুম বল?

.
তোকে তো রাজ ভাইয়া খারাপ ভাববে?

.
হুমম ভাবুক আমার দেওয়া কষ্টই আমার ভালবাসার মানুষটাকে নতুন করে বাঁচতে শিখাবে। ওর সুখটাই যে আমার পরম পাওয়া। 
সত্যি আমি তোদের ভালবাসার কাছে পৃথিবীর সকল ভালবাসা পরাজিত।

.
রাফি রাজি হলে, রাফিকে বাসায় ঢেকে এনে রাজের আমার বাসায় আসার খবর পেয়ে নোংরামির অভিনয় করি। কিন্তু আমি ফুলের মতো পবিএ। রাজের পবিএ ভালবাসা নিয়েই, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবো।

.

আজ নিজের কলিজাকে চড় মেরেছি। কিচেনে এসে আগুনের উপর হাতটা রেখে, হাতটা পুড়ালাম। কাজের মেয়ে এসে বাঁধা দিল। সারারাত রাজের ছবিটা বুকে নিয়ে কাঁদছি। মরে গেলে তো আর বুকে নিতে পারবো না।

.
আজ আমার কলিজার টুকরার বিয়ে। আমাকে দাওয়াত করেছে। বর সাজাতে ওকে আজ খুব সুন্দর লাগছে। মন চাচ্ছে দৌড়ে রাজকে জড়িয়ে ধরে বলি, ভালবাসি নিজের জীবনের থেকেও বেশি চোখটা ছলছল করছে। আর থাকতে পারছি না, রাফিকে নিয়ে সোজা হসপিটালে চলে আসি। ডাক্তাররা আমাকে বাচানোর জন্য ব্যাস্ত। তারপর আর কিছু মনে নেই। সপ্তাহ খানেক পরে জ্ঞান ফিরলে, রাফিকে বলি রাজ কেমন আছে? রাফির কাছ থেকে ডাইরিটা নিয়ে আবারো লিখতে বসলাম। আমি বুঝে গিয়েছি, আমার সময় শেষ লিখার শক্তি নেই। তবুও নার্সের কাছ থেকে কলমটা নিয়ে, ডাইরিতে কলমটা রেখে মহান আল্লাহ্ তায়ালাকে বললাম” হে আল্লাহ্ আমাকে লেখার শক্তি দান করো “

.
প্রিয়,

রাজ, তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে। তোমাকে চাইলেও আর দু’চোখ ভরে দেখতে পারবো না। চোখ দু’টি বন্ধ হয়ে আসছে। তোমার কাঁচের ফ্রেমের ছবিটাও ভেঙে গিয়েছে। তোমাকে নিয়ে আমার দেখা স্বপ্নগুলোর মতো। তোমার ভাঙা ছবিটায় বুকে জড়িয়ে লেখছি।

আমি মারা গেলে, আমার কানের কাছে এসে বইলো” ভালবাসি তোমাকে ” তোমার মুখের এ কথাটাই শুনতে চাই। এই কাঁদছো কেনো? তোমায় না আমি বুকে নিয়েছি। এই পাগল আমার বুকেও কান্না করতে হয়।

” ভালো থেকো, সন্ধ্যা তারা হয়ে রোজ তোমাকে দেখে নিবো। কখনো আড়াল হতে দিবো না”।

ইতি,

তোমার অধরা!

চিঠিটা পড়তে পড়তর কখন যে চোখের পানিতে চিঠিটা ভিজে গেছে খেয়াল নেই। চিঠিটা পড়ে বুক ফেঁটে কান্না আসছে। বারবার অধরার মায়াবী মুখখানা ভেসে ওঠছে।

.

এদিকে অধরার লাশটা গোসল দিয়ে রাখা হয়েছে। লাশের কাছে যেতেই মনে হচ্ছে, কেউ একজন বলছে, তুমি জানো না তুমি কান্না করলে আমি কষ্ট পায়। আশে পাশে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই। অধরার লাশের কাছে গিয়ে বললাম ভালবাসি বড্ড বেশি ভালবাসি।

সমাপ্ত.

বিঃদ্রঃ পৃথিবী সব ভালবাসা পূর্ণতা পায় না। আর সব শেষে একটি কথা প্রথম দিকে অনেকে বাজে মন্তব্য করেছেন। মোটকথা কারো সম্পর্কে পুরোটা না যেন দোষারোপ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়

About Author


Administrator
Total Post: [352]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy