অরিত্রীর বিয়ে [পর্ব-৪]

লেখাঃনিলয়_রসুল

৯.

নীহা অয়নীর দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর রাগী গলায় বলল,

‘ সাথী আপুকে জানাইছিস এসব?’

অয়নী মাথা নিচু করে বলল,

‘মনে ছিল না তো..!’.

নীহা মুখে ভেঙ্চি কেটে বলল,’মনে ছিল না তো! তা এখন আমাকে মনে আসল কেন আপনার..!’

‘নীহা..! এরকম করিস না প্লিজ। আমার ভালো লাগছে না৷ নীল এভাবে রাগের মাথায় চলে গেল। কিছু তো বল। তুই তো জানিস নাকি! ও রাগের মাথায় একটাও কাজের কাজ করে না। অকাজের রাজা সে।’

‘এতকিছু হয়ে গেছে আর তুই শেষ মুহূর্তে এসে আমাকে জানাচ্ছিস!’

অয়নী মাথা নিচু করে হুঁ বলল।

নীহা বলল, ‘ এখন তোর তাকে আটাকানোর পথ একটাই! ‘

অয়নী চোখমুখ জ্বল জ্বল করে উঠল। নীহার দিকে তাকে উৎসাহের সাথে বলল,

‘কী.. কী সে পথ বল না প্লিজ! ‘

‘সাথী আপু!’

‘কোথায়… কোথায়…? ‘ অয়নী চারিদিকে তাকিয়ে খুঁজতে লাগল।

নীহা বলল,’ওরে গাধী আসেনি সে। আমি তোকে বলছি আপু ছাড়া তোর তাকে কেউ সামলাতে পারবে না এখন। ফোন দে এখনই..’

অয়নী মাথা চুলকে বলল,’,তুই বল না একটু… আমার ভয় লাগছে। আপু নিশ্চয়ই তার ভাইকে রাগানোর জনঢ় আমাকে ছেড়ে দেবে না।’

‘ও তার মানে আমাকে ছেড়ে দিবে?’

‘,আরে তা না। ধ্যাৎ কথা প্যাচাচ্ছিস কেন? দে না আপুকে ফোন…’

‘নাহ্..’

‘মানে..’

‘তুই বুঝবি না। নীল ভাইয়ার মজা বের করছি। ‘

নীলকে ফোন দিতে নীল রিসিভ করে বলল,

‘হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম। ‘

‘ওয়ালাইকুম আসসালাম। কী করেছেন ভা-ই-য়া’

‘কে আপনি?’

‘ও। আমি…বলেন তো কে?’

‘হেয়ালি না করে বলকন, কে আপনি?’

‘আমি অয়নীর বান্ধবী’

‘ওহ্…! জি বলেন…!’

‘অয়নীকে কি ক্ষমা করা যায় না।’

‘অন্য কোনো কথা থাকলে বলুন..’

‘জি আছে একটা। সাথী আপুর সাথে কথা হল কিছুক্ষণ আগে। ‘

‘কে সাথী? আমি চিনি না এ নামে কাউকে।’

‘শুনলাম সাথী আপু নাকি শ্বশুরবাড়ি থেকে রওনা দিছে..’

‘সাথী মানে..ও হ্যাঁ…হ্যাঁ…আমার বোন তো ও! তাই বুবন রওনা হইছে! ‘

নীল কথা বলছে আর টেবিল থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে খাচ্ছে।

১০.

বিয়ে বাড়ি মনে হচ্ছে মরা বাড়ি হয়ে গেছে।

অরিত্রীর বিয়ে আর মাথার অপারেশন হয়েছে আজ দুইদিন হল। আহান বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু নীহার মুখের কাছে পারেনি৷ আহানের থেকেও নীহা অরিত্রীকে বেশি ভালোবাসে।

অরিত্রী চোখ এখনো বন্ধ। ডাক্তার কথা যদি সত্যি হয়। তাহলে আহানের পাগল হওয়া ছাড়া আর পথ থাকবে না।

অরিত্রী ঘুমিয়ে আছে। আহান ডাকার সাহস পাচ্ছে না। যদি সব সত্যি হয়ে যায় হঠাৎ করে..!!

নীহা অরিত্রীকে ডাকার জন্য চেয়ার ছেড়ে দাঁড়াল।

১১.

সাবেদ আলী শহরে নতুন এসেছে। পুলিশ কেস চার পাঁচটা আছে উনার নামে। শেষের দিকে পুলিশ বিরক্ত হয়ে কেস নিতে চাইত না আর।

শহরে এসেছে বেশিদিন হয়নি। এসেই নিজের টার্গেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিশ্রমও হচ্ছে খুব। কিন্তু যেকোনো মুল্য সে তার টার্গেটের দিকে যেতে চায়।

‘সাবেদ ভাই, বলছিলাম আজ রাতে না গেলে হয় না কাজে…’

‘কেন তোর বউরে সোহাগ করার শখ জাগছে খুব? হারামজদা তো শখ-মিটাবি সারারাত আমার সাথে কাজ করতে এসেছিস কেন? টাকাগুলো ফেরত দিয়ে তারপরে আদর সোহাগ কর গা যা..’

মুন্সি চুপ করে গেল। এ লাইনে বাজে নোংরা কথা শুনতে হবে জানার পরও আসতে বাধ্য হয়েছে। তাছাড়া যে আর পথ ছিল না তার।

‘সাবেদ ভাই..’

‘বল..’ গম্ভীর কণ্ঠে বলল সাবেদ।

‘ঝামেলা হই গেছে..! ‘

‘তোর বউ তোরে ছাড়তে চাচ্ছে না?’

মুন্সির রক্ত গরম হয়ে উঠছে ক্রমাগত। মুন্সির অনেক দিনের শখ সাবেদের মাথা রড দিয়ে মেরে থেঁতলে দেওয়া। কিন্তু তাতে ওরই ঘোর অমঙ্গল।

সাবেদ নিচু গলায় বলল,

‘সব অস্ত্র আসেনি ভাই…’

‘তো তোকে কি ছিড়তে রেখেছি? সর আমার চোখের সামনে থেকে। ‘

মুন্সি আর কথা না বাড়িয়ে বাইরে এসে সিগারেট ধরাল। সিগারেটগুলো ইদানীং বড্ড তেঁতো লাগে মুন্সির।

চলবে…



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*