অরিত্রীর বিয়ে [পর্ব-৩]

লেখাঃনিলয়_রসুল

৬.

‘অপারেশনটা কি না করলেই নয় ডাক্তার?’ আহান উত্তরের অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে ডাক্তারের দিকে।

ডাক্তার মাথা নেড়ে না বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বলল,

‘অপারেশন না করলে বারবার এরকম হবে। এখন আপনি দেখেন কী করবেন। যদি অপারেশন না করেন তো সমস্যা বাড়বে। আর ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে। ‘

আহান চোখমুখ ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হয়ে গেল। ডাক্তারের দিকে না তাকিয়েই বলল,

‘অপারেশন করলেই ঠিক হয়ে যাবে তার কি গ্যারান্টি?’

‘কোনো গ্যারান্টি নাই তো। ইভেন অপারেশন টেবিল থেকে বেঁচে ফিরবে কিনা তাও জানি না আমরা।’

‘তাহলে অপারেশন করার জন্য লাফাচ্ছেন কেন এত?’

‘ভাষা ভালোভাবে ব্যবহার করুন মি.আহান। আমরা লাফাচ্ছি না। আপনাকে মুক্তি দিতে চাইছি। ফিফটি ফিফটি চান্স ওর ফেরার।’

‘আমি কি একবারও মুক্তি চেয়েছি? বলেছি কি আমাকে মুক্তি দিতে আমার অরিত্রীকে মেরে ফেলেন? বলেন বলেছি?’

শেষের কথাগুলো বেশ জোরেই বলল আহান। দু একটা ডাক্তার এদিকে তাকাল কয়েকবার।

ডাক্তার বলল,

‘আপনি ভুল ব্যাখা করছেন আহান। আমি ওভাবে কিছু বলতে চাইনি। আমি বুঝতে পারছি আপনার অবস্থাটা…’

আহান আর কথা বাড়াল না। সবকিছু ওর বিরক্ত লাগছে। ডাক্তারের কথা শুনে মাথার ওপরের দিকটা জ্বলছে রাগে।

৭.

মিরার মা কিছুক্ষণ হল আহানের বাড়িতে এসেছে। এসে আহানের মাকে অনেক কথা শুনিয়ে গেছে। কথাগুলো পাঠকদের না শোনায় ভালো। বিচ্ছিরি সব ভাষা।

আহানের মা একা একাই তখন থেকে বকে যাচ্ছে অরিত্রীকে উদ্দেশ্য করে। সেইসাথে আলেয়া তালে তাল দিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ ক্রমাগত উত্তপ্ত হয়ে চলেছে।

নীহা ওদের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বলল,’নেই কাজ তো খৈ বাছ…’ বলেই কানে ইয়ারফোন ঢোকাতে না ঢোকাতেই আলেয়া তেড়ে আসল,

‘কিছু বললি?’

নীহা ভ্রু জরো করে বলল,

‘কাকে?’

‘আমাকে?’

‘হুঁ, তোদের যা স্বভাব তাই বলেছি। যত্তসব… ‘ মনে মনে এটা বললেও মুখে বলল,

‘না…’

‘ও! মনে হল তো!’

‘মনে হয়েছে যখন তখন মনেতেই রাখবা আপু। আমাকে বলতে আসছ কেন?’

‘সে জবাব আমি তোকে দেব না।’

‘যাওনা ওখানে গিয়ে মায়ের সাথে গিল্লা করতে বসো। এখানে সময় নষ্ট করছ কেন?’

‘কী? কী বললি তুই?’

‘কেন তোমরা সমালোচনা করছ না? ভিত্তিহীন সমালোচনা। ‘

‘নীহা তুই কিন্তু… ‘

‘ধ্যাৎ…’

নীহা উঠে চলে গেল।

বারান্দায় আসতেই দেখে অয়নীর ফোন। রিসিভ করা মাত্রই অয়নী বলল,

‘হ্যাঁ, নীহা তুই কোথায়? একটু ক্যাম্পাসে আসতে পারবি? প্লিজ!’

‘এখন! এখন ক্যাম্পাসে কেন?’

‘না মানে…’

‘ও বুজছি! নীল ভাইয়ের সাথে ঝগড়া লাগছে তোর, তাই না? ঠিক হয়েছে। বোঝ এবার মজা কাকে বলে। খুব তো তখন বড় বড় করে কথা… আঁ! তোকে কথা শোনালাম কখন আমি! আজব তো!’

‘তুই এরকম করে বলতে পারলি! কত আশা নিয়ে তোকে ফোন করলাম আর তুই! আচ্ছা থাক আসতে হবে না তোকে।’

‘ওলে বাবালে! আমার সন্টু মনু, তা আমি না আসলে তোমার ঝামেলা কে মিটাবে আজ?’

ওপাশ থেকে আর কোনো উত্তর নেই।

নীহা হাসতে হাসতে বলল,

‘আসছি আমি। আপনাকে কাঁদতে হবে না ম্যাম।’

নীহা ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্য রওনা দিল।

৮.

‘আচ্ছা আহান সাহেব আপনার কেন মনে হচ্ছে যে অয়নীকে আমরা মেরে ফেলব! ‘

‘আমার ডাক্তারদের ওপর বিশ্বাস নেই তাই। 
আর ওর সাথে সেদিন ওই ঘটনাটা না ঘটলে আমি এত কিছু বলতাম না।’

ডাক্তারের কথার জবাবে আহান এটা বলল।
ডাক্তার বলল,

‘কোন ঘটনাটা বলুন তো?’

‘হুঁ, বলছি…’

পুরো ঘটনা শুনে ডাক্তার থ মেরে বসে রইলেন।

চলবে



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*