অরিত্রীর বিয়ে [পর্ব-২]

লেখাঃনিলয়_রসুল

৩.

‘আপনাকে আপনার ওয়াইফ খুঁজছে। কাইন্ডলি একটু যদি যেতেন ভিতরে তাহলে ভালো হতো।

উনি অস্থির হয়ে উঠেছেন। প্লিজ…’

নার্সের কথা শুনে আহানের বিস্ময়ের সাগরে ঢেউ উঠেছে মারাত্মকভাবে। অরিত্রী তাকে যে এ জীবনে আর ডাকবে এটা ওর কল্পনাতেই ছিল না।

নার্সকে অনুসরণ করে ভিতরে প্রবেশ করল আহান।

আহান কেবিনে ঢুকতেই ডাক্তার বের হয়ে চলে গেলেন।

আহান অরিত্রীর পাশের চেয়ারে বসে অরিত্রীর গালে হাত দিয়ে বলল,

‘স্যরিই…আসলে আমারই ভুল ছিল তখন। আমার আগে মনে রাখা উচিৎ ছিল তোমার এক্সিডেন্টের কথাটা। বাট কীভাবে যে ভুলে গেলাম.. ধুর্..’

অরিত্রী একটু হাসার ভঙ্গিতে বলল,

‘কৈফিয়ত দিচ্ছ কেন?’

‘না মানে আসলে রাতের ব্যপারটার জন্য আমি স্যরি…!’

‘বললাম না কৈফিয়ত দিচ্ছ কেন! তোমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে নিশ্চয়ই আমাকে এতটা কখনোই বুঝত না। তুমি যে বোঝো তাতেই আমার জন্য অনেক পাওয়া..! আর স্যরি আমিই যে আমার জন্য তোমার গতকাল ফেস লস হল..!’

আহান অরিত্রীর কথার প্রতিত্তোরে বলল,

‘এভাবে বলো না প্লিজ। দোষ তো আমার, তাই না! আমি সব জেনেও! সত্যি বলছি আমি ওদের নিষেধ করেছিলাম অনেক বাট ওরা তো শুনল না। ওদের হয়ে আমি স্যরি বলছি তোমাকে। ‘

অরিত্রী আহানের হাতটা নিজের গাল থেকে একটু নামিয়ে হাতে একটু চুমু খেয়ে বলল,

‘আমাকে বিয়ে না করলেই তো পারলে আহান। তাহলে আজ তোমার এত ফেস লস হতো না।’

আহান অরিত্রীর ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চেপে ধরে বলল,

‘আর একটা বাজে কথা বললে তোমার খবর আছে এবার। একদম চুপ থাকবে তুমি।

আমি আমার ভালোবাসাকে আমি ভালোবেসে বিয়ে করেছি তাতে কার কি এসে গেল তার ধার ধারিনা আমি।

বুঝেছ তুমি? এখন রেস্ট নাও তো।’

অরিত্রী চোখে নোনা জল আন্দোলন করছে বেরিয়ে আসার জন্য। অরিত্রী অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে তাকাল। চোখে এতক্ষণ জমে থাকা জল বের করে দিল।

মনে মনে ভাবছে ও,

‘ইশ্ আমার বাবা মা যদি আহানের মত হত! তারা যদি সেদিন…! ‘

মনের অজান্তে বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসল ওর।

‘কী গো কী হল! কী ভাবছ ওদিকে তাকিয়ে! ‘

আহানের কথায় হুশ ফিরল অরিত্রীর। অরিত্রী আহানের দিকে তাকিয়ে মাথা ঝাঁকিয়ে বলল,

‘কই না তো কী ভাবব?’

‘তুমি সুস্থ হও।বড়সড় করে আমাদের রিসিপশনের আয়োজন করব। ‘

বলেই আহান একটা মিষ্টি হাসি দিল।

অরিত্রী মুখ ভার করে বলল,

‘কিন্তু ওরা যদি আমার….’

বাকী কথা বলার আগে অরিত্রীর দিকে ঝুঁকে পড়ল আহান। অরিত্রীর মুখের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ধীর কণ্ঠে বলল,

‘ আমাদের জীবন ধ্বংস করার জন্য এই একটা শব্দ “কিন্তু ” ই যথেষ্ট। বরবাদ করে দেয় জীবনটা আমাদের এই একটা শব্দ -ই।

তাই চলো না শব্দটাকে আমরা একটু দূরে সরিয়ে রাখি। দেখবে জীবনে চাওয়া পাওয়া গুলো সব না হলেও কিছুটা খুব সুন্দর ভাবে পূর্ণ হবে।’

অরিত্রী অন্য সময় হলে কথাটার তীব্র প্রতিবাদ করত। কোনো না কোনো যুক্তি ঠিকই তুলে ধরত। কিন্তু আজ আর পারল না। অদৃশ্য শক্তি ওকে আহানের দিকে ক্রমাগত টানছে। এক অদৃশ্য বন্ধন আজ ওকে চুপ করিয়ে দিচ্ছে। একেই হয়তো বলে বৈবাহিক বন্ধন।

আহান অরিত্রীর কপালে আলতো করে চুমু খেয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

‘ অফিসে একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে এটেন্ত করতে হবে। আমি এখনই ফিরে আসব। ওকে..’

‘ওকে..’

৪.

মিরার মা মিরাকে জোর করেও খাওয়াতে পারছে না। সকাল থেকে বললে ভুল হবে। গতকাল থেকেই পারছে না।

অবস্থা বেগতিক দেখে মিরার মা আহানকে ফোন করল। আহান তখন গাড়ি থেকে নামছিল। মিরার মায়ের ফোন দেখে প্রথমে কিছুটা ভয় পেল। মিরা আর ওরা পাশাপাশি বাসায় থাকে।

আহানের মা তো প্রথম থেকেই এ মেয়েকে মেনে নিবে না। তাই আহান ভাবল ওর মা অসুস্থ হয়ে গেল কিনা!
আহান ফোন রিসিভ করতেই উনি বললেন,

‘হ্যালো আহান, মিরা না গতকাল থেকে কিছু-ই খাচ্ছে না…’

আহান চোখমুখ জড়ো করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল,

‘কেন?’

‘জানি না বাবা। তুমি একটু ওকে বুঝিয়ে বল না বাবা। যেন খেয়ে নেয়..’

‘ও কি ছোট মানুষ? যে ওকে কোলে করে দুলিয়ে দুলিয়ে নিয়ে বেড়াতে হবে আর খাওয়াতে হবে? ‘

‘বাবা আসলে ও তো..’

‘আমি আর কিছু শুনতে চাইছি না। এখন মিটিংয়ে ঢুকব আন্টি। রাখছি..’

আহান ফোন কেটে দিয়ে অফিসে ঢুকল।

৫.

মিটিং শুরু হবে সেই মুহূর্তে অরিত্রীর ফোন এসেছে দেখে আহান চমকে উঠল। এসময় তো ওর ফোন আসার কথা না।

ফোন রিসিভ করতেই অরিত্রী চিৎকার করে বলতে লাগল,

‘ওই তুই কোথায়? আমাকে এ কার হাতে থুয়ে গেছিস। কিসব ছাতা মাথা খাওয়াচ্ছে। তুই কোথায়? তারাতাড়ি আমার সামনে আয় খালি একবার…’

তারপর আর কোনো কথা শোনা গেল না। 
হয়তো আবার অজ্ঞান হয়ে গেছে অরিত্রী।

ফোনটা টেবিলের ওপর রেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল আহান। আহানের মুখটা পাণ্ডুবর্ণ ধারণ করেছে।

পাশ থেকে একজন বলল,’ইজ এনিথিং রঙ?’

আহান বিরবির করে বলল, ‘ একটু না সবটাই রঙ আমার জীবনে এখন। আদৌ কি এর সমাপ্তি ঘটবে?’

চলবে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*