অভিশপ্ত ভালোবাসা [২য় অংশ]

রওনাক ইফাত জিনিয়া


.কখনো কল্পনাও করিনি শোভন এমন একটা কাজ করবে ওইতো আমাকে ভালোবাসে বলে দাবী করতো তবে কিভাবে পারলো এমন একটা কাজ করতে?কিভাবে পারলো এসব মিথ্যে ছবিগুলো বানাতে?কিছু ভাবতে পারছিনা মাথা ঘুরছে।আকাশকে কি বলবো বুঝতে পারছিনা তাই চুপ করে বসে রইলাম।হঠাৎ আকাশ বলে উঠলো-
:চল নীরা পুকুর পাড়ে যাই ঘাটে বসে চাঁদ দেখবো।
–না আকাশ বাবা জানলে রাগ করবে আর আমার খুব মাথা ব্যথা করছে একটু ঘুমালে মনে হয় ভালো লাগবে।
:বাবা কিছু বলবেনা আমিতো সাথে আছি আর আমি জানি তুমি এখন ঘুমাতে পারবেনা।(কথাটা বলেই আমার হাত ধরে পুকুর পাড়ে নিয়ে এলো)
–আকাশ আমি সত্যিই তোমাকে অনেক ভালোবাসি আমার জীবনে অন্যকোন পুরুষ ছিলোনা।আমি জানি ছবিগুলো দেখে তোমার খারাপ লেগেছে কিন্তু বিশ্বাস করো আমি কখনো শোভনের সাথে কোন ছবিই তুলিনাই।আমি..
:(আমার কথা শেষ করতে না দিয়েই আকাশ বললো)জানো নীরা ছবিগুলো দেখে আর ওর কথা শুনে আমি ওর কথা বিশ্বাস করেছিলাম এটি সত্যি তাই রাগে গ্রামে চলে আসি কিন্তু এখানে আসার পর প্রতিটা মুহূর্তে আমার আমাদের একসাথে কাটানো সময়গুলো চোখে ভেসে উঠতো।মন বলতো এই সবকিছু মিথ্যে তবে চোখে দেখা বিষয়গুলোকেও অবিশ্বাস করতে পারতাম না।তুমি যখন এলে তোমাকে দেখে রাগে যা ইচ্ছে বললাম কিন্তু তুমি যখন কথাগুলো বলছিলে আর তোমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছিলো তখন আমার মনের কাছে আমি পরাজিত হই।আমি বুঝতে পারি ওর কথাগুলো শোনার পর আমার তোমার সাথে কথা বলা উচিত ছিলো।সত্যি বলছি সেদিন তুমি ছোট একটা বিষয় নিয়ে ঝগড়া করলে আমি কিছু না বললেও খুব খারাপ লেগেছিলো।যখন শোভন কথাগুলো বললো তখন কিভাবে যেন আমি ওর প্রতিটা কথাই বিশ্বাস করি।আমি স্বীকার করছি আমি ভুল করেছি।
–তোমার কোন ভুল নেই আমার ভুল আমার উচিত ছিলো তোমাকে আগেই শোভনের কথা বলা।কিন্তু কি বলবো বলতো আমিতো কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি শোভন এমন কিছু বলতে পারে।ওই আমার সংসার নিয়ে এমন খেলবে এটা কখনো ভাবিনি।
:থাকনা এসব কথা।দেখো আজকের চাঁদটা কতো সুন্দর।সবকিছু বাদ এখন আর অন্য কারো কথা নয় আজ দুজনে মিলে শুধু চাঁদ দেখবো।আমাদের মাঝে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি নয়।
–আকাশ আমাকে একটা গান শোনাবে খুব ইচ্ছে হচ্ছে তোমার গান শুনতে?জানি বাবা শুনতে পেলে রাগ করবে হয়তো আর এতো রাতে গান শোনাটাও ঠিকনা তবুও শোনাবে?
:এতো কিছু বলতে হবেনা আর বাবা কিছু বলবেনা উনি তোমাকে মেয়ের মতো ভালোবাসে আর আমি আছিতো তোমার সাথে।(আকাশ “আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে…” গানটা দিয়ে শুরু করলো ওই জানে গানটা আমার পছন্দের।বিশেষ করে মন খারাপের সময় কিছু রবীন্দ্র সংগীত আছে যেগুলো শুনলে আমার মন ভালো হয়ে যায়।আকাশ একের পর এক পছন্দের গান শোনাচ্ছে আর আমি ওর কাঁধে মাথা দিয়ে গান শুনছি।গান শুনতে শুনতে কখন যে চোখ লেগে গেলো টেরই পাইনি যখন চোখ খুললাম তখন দেখি আমি রুমে শুয়ে আছি আর আকাশ আমার পাশে বসে আমাকে দেখছে।আমি বললাম-
–কি ব্যাপার কি দেখছো এভাবে?
:তোমাকে।জানো নীরা ঘুমন্তো অবস্থায় তোমাকে অনেক সুন্দর লাগে।
–আমিতো ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম তবে রুমে আসলাম কিভাবে?
:আমি যখন গান গাইতেছিলাম হঠাৎ তাকিয়ে দেখলাম তুমি ঘুমিয়ে পড়েছো তাই তোমাকে না জাগিয়ে কোলে করে নিয়ে আসলাম।
–আমাকে জাগালেই পারতে।আচ্ছা এতো রাত হলো তুমি ঘুমাচ্ছো না যে?
:ঘুম আসছে না তাই তোমাকে দেখছি।
–আর আমাকে দেখতে হবেনা এখন ঘুমাও রাত অনেক হয়েছে আর কাল সকালে উঠতে হবে।
.
.সকালে যখন আযান দিচ্ছে তখন ঘুম ভেঙ্গে গেলো দেখি আকাশ ঘুমাচ্ছে।আমি উঠে নামায পড়ে একটু পর বের হয়ে দেখি মা রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছে।মাকে আমি রান্না করার কথা বললে প্রথমে মা রাজি হয়নি পরে জোর করে বললাম আমি রান্না করবো।শেষে মা রাজি হলো আর আমি রান্না করছি তবে মা আমাকে সাহায্য করছেন।রান্না শেষ হলে সবাই একসাথে খেতে বসলো খাওয়া শেষে যখন সবাই গল্প করছি তখন হঠাৎ ফোনে একটা কল আসলো আমি রিসিভ করতেই বললো……

হঠাৎ ফোনে একটা কল আসলো আমি রিসিভ করতেই বললো আমাকে দ্রুত অফিসে যেতে হবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যা আমাকে দেখতে হবে।তাই সবাইকে বিদায় জানিয়ে পরদিনই বাসায় ফিরে আসলাম।দিনগুলো ভালোই চলছিল তবে নিয়তির তা সহ্য হলোনা।সেদিন অফিসে বসে একটা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল দেখছি এমন সময় একটা কল আসলো রিসিভ করলাম ওপাশ থেকে-
>কেমন আছো?
–ভালো আছি।কে বলছেন?
>আমি শোভন।
–(নামটা শোনার পরই মেজাজের বারটা বেজে গেলো তারপরও শান্ত গলায় বললাম) কোন শোভন আর আমার কাছে কি দরকার?
>আমি কোন শোভন তা কি সত্যিই তুমি বুঝতে পারছোনা নাকি অন্যকিছু?
–আমার জীবনে শোভন নামে কেউ নেই আর না কখনো থাকবে।
>এতো ঘৃণা আমার উপর? শুধু মন থেকে ভালোবেসেছিলাম কখনো কল্পনা করিনি এতো ঘৃণা বিনিময়ে পেতে হবে।
–যদি সত্যিই ভালোবাসতে তবে কখনো আমার সুখের সংসারে আগুন লাগানোর চেষ্টা করতেনা।
>আমার কি দোষ ছিলো বলোতো কেন আমার জীবনটা এমন হলো?কেন আমাকে আমার জীবনটা এমন নিঃস্ব আর এলোমেলো করে দিলে?
–আমি কিছু করিনি আর না কখনো তোমার খারাপ চেয়েছি।আমি তোমার সাথে কোন কথাই বলতে চাইনা আর পারলে আমার সুখ কেড়ে নিও না।
>শুধু নিজের কথাই ভাবলে আর আমার জীবনটা যে নরকে পরিণত হয়েছে সেটার কি?
–আমি তোমার জীবন নরক বানাইনি।
>নীরা আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই বহুদিন হলো তোমাকে দেখিনা।
–আমি তোমার সাথে কেন দেখা করবো? আমি পারবোনা দেখা করতে।
>শুধু আধা ঘন্টার জন্য।
–না পারবোনা।
>তবে আমার আকাশের সাথে কথা বলতে হবে।
–কেন এমন করছো আর আকাশকে কেন জড়াচ্ছো এসবের মাঝে?কেন আমার সুখের সংসারটাকে ভেঙ্গে দিতে উঠে পড়ে লেগেছো?
>সংসার?সংসারতো আমিও করতে চেয়েছিলাম তোমার সাথে কিন্তু পেলাম কি?
–তোমাকে খুব ভালো ভাবতাম সেই তুমি কি করে পারলে এসব মিথ্যে ছবিগুলো বানাতে?
>এভাবে ফোনে কথা বলা সম্ভব না দেখা করো সরাসরি কথা হবে।
–আমি পারবোনা।
>তবে আমি আকাশকে বলতে বাধ্য হবো।
–যা ইচ্ছে করো।
.
.ওরে আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়েই ফোনটা কেটে দিলাম।কিছু ভালো লাগছেনা তাই আজ একটু দ্রুতই বাসায় চলে আসলাম।আকাশ এখনো অফিসে তাই বাসায় আমি একা।একটু ঘুমানোর জন্য শুইলাম কিন্তু ঘুম আসছেনা।আকাশকে কল দিয়ে আজ একটু দ্রুত আসতে বললাম।কালো বন্ধের দিন ভাবছি দুজনে দূরে কোথাও বেড়াতে যাবো তবে মনটা ভালো লাগবে আর শোভনের বিষয়টাও একটু ভুলে থাকবো।ছেলেটার একতরফা ভালোবাসা আমার জীবনটা এলোমেলো করে দিতে চাচ্ছে যা আমি কখনও হতে দিবোনা।একটা মেসেজ আসলো দেখি শোভনের আমাকে দেখা করার কথা বলছে আর না দেখা করলে নাকি কাল বাসায় চলে আসবে।কি করবো বুঝতে পারছিনা।কাল শোভন বাসায় থাকবে সত্যিই যদি ওই চলে আসে তখন কি হবে আর ছেলেটাকে আমি এখন একটুও বিশ্বাস করিনা।একবার ভাবছি দেখা করি আবার আরেকবার ভাবছি কেন ওর সাথে দেখা করবো আমিতো ওর সাথে কখনো খেলিনি যে এখন ওই যাই বলছে আমাকে তাই মেনে নিতে হবে?না সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি আমি কখনই ওর সাথে দেখা করবোনা।রাতে আকাশ বাসায় আসলো ওরে বেশ চিন্তিতো লাগছে কিন্তু ওই কিছুই বলছেনা।আমি আবার প্রশ্ন করলাম-
–তোমার কি হয়েছে আকাশ?অফিসে কি চাপ বেশি নাকি অন্যকোন ঝামেলা নিয়ে তুমি চিন্তিতো?
:কিছু হয়নি।
–কিছুতো একটা হয়েছে নয়তো তোমাকে এমন দেখাতোনা।বলোনা কি হয়েছে?
:আজ শোভন……

চলবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*