অভিমান [শেষ পর্ব]

লেখাঃ রাকিবুল হাসান

তারপর আমরা অফিস থেকে বের হয়ে গেলাম। সেটা অবশ্য ইলার কথাতেই। ও কোথায় যেনো আমায় নিয়ে যাবে। আমিও আর প্রশ্ন না করে ওর সাথে এসে পড়লাম। গাড়িতে চলে আসলাম। গাড়িটা থামার পরে আমি নামতেই অবাক হয়ে গেলাম।

কেন? এটাই প্রশ্ন তো? হুম এটা হল ইলাদের বাসা। ওকে নিয়ে যেদিন পালিয়ে যাবো সেদিন আমি এসেছিলাম এখানে। ওদের বাড়ির সামনের কাঁঠাল গাছা টার আড়ালে দাঁড়িয়ে ভয় দেখিয়েছিলাম ইলাকে। মেয়েটা ভয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেই দিয়েছিলো। পুরাতন, এই স্মৃতি গুলো মনে করে আনমনে হেসে উঠছিলাম (!) তখনই, ইলা বলে উঠলো,

– হাসছো কেনো রাকিব? (ইলা)
– এমনিই। কিন্তু এখানে আসলাম কেনো? (আমি)
– বাসায় নিয়ে যাবো তোমায়! আব্বু কথা বলবে তোমার সাথে!! (মাথা নিচু করে বলল)

ইলা মাথা নিচু করে কেনো বলল জানেন? শুনুন তাহলে, ইলাকে আর আমি পালাচ্ছিলাম। চলেও গিয়েছিলাম। আমাদের খুব ছোট একটা সংসার হয়েছিল। একটা চাকরীও জোগাড় করে ফেলেছিলাম। ভালোই চলছিলো। কিন্তু একদিন হুট করে রাতে বাসায় আসতেই দেখি ইলার বাবা আর সাথে আরও কিছু লোকজন, আমাদের বাসার সামনে।

ইলা ওর বাবার সাথে বসে বসে কান্না করছে। আমি ওর বাবাকে দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। লোকটা মারাত্নক একজন! তারপর উনি কি ইশারা করলেন জানি না। ইলাকে নিয়ে গাড়িতে বসিয়ে দিলো। আমি বাধা দিয়েছিলা। আর তখন ই ওরা সবাই আমাকে অনেক মারলো। আর ওদের মারের কারনেই আমি ২ বছর ধরে কোমায় ছিলাম।।।

– রাকিব? তুমি যাবে না? (ইলা)
– হুম। তবে আগের বার এর মত হবে না তো? তোমায় আবার হারাতে হবে না তো? (আমি)
– না। বাবাকে এবার যা বলেছি। তা শুনেই তো তোমায় ডেকে পাঠালো। (লজ্জ্বা রাঙ্গা মুখ নিয়ে)
– কি বলেছো তুমি? 
– সেটা পরে বলবো। এখন চল তো। 
– আচ্ছা চল।

কিছু দ্বী’ধা আর ভয় নিয়ে ইলার সাথে ভিতরে গেলাম। ভিতরে যেতেই দেখি ইলার বাবা ইজি চেয়ারে বসে পেপাড় পড়ছে। ইলা আশার আওয়াজ পেয়ে তিনি আমাদের দিকে তাকালেন। ইলার বাবা উঠে সোজা আমার কাছে এসে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন।

আমি অবাক হলাম। কারন আমি ভেবেছিলাম তিনি আবার আমাকে থাপ্পড় দিবেন। ইলার বাবা আমাকে বলল,

– আমাকে মাফ করে দিয়ো বাবা…… (ইলার বাবা)
– না.. বাবা। আপনি কি বলছেন এই সব? আপনি আমার গুরুজন। (আমি)
– তবুও…
– না..! বাবা ঠিক আছে। আমার ও তো বাবা নেই। আপনি নাহয় আমার বাবা? কি হবেন না?
– হবো না মানে। আলবাদ হব।

তারপর আরও অনেক কথা বললাম। আসলেই লোকটা উপরে ভয়ংকর হলেও ভিতরে ভিতরে আসলেই ভালো। তারপর ইলা আমাকে তার ঘরে নিয়ে আসলো। অনেক সুন্দর করে সাজানো ঘর টা। দেয়ালের একাংশে পুরোটা জুড়ে আমার আর ইলার কিছু দুষ্টু মিষ্টি ছবি দিয়ে সাজানো। পুরোটা পিরামিড আকারে।

সাজানোতে বরাবরই বেষ্ট ইলা। এটা বলতে আমার কোন আপত্তি নেই। ইলা আমায় বলল,

– আব্বুকে কি বলেছি জানো? (ইলা)
– কি বলেছো? (আমি)
– ইয়ে…মানে বলেছি যে…
– কি বলেছো?
– বলছি যে আমি মা’ হতে চলেছি। আর তুমি বাবা হতে চলেছো। (চোখ বন্ধ করে বলল ইলা)
– কিহ? কিভাবে? (মজা করে বললাম)
– চুপ.. শয়তান। আমি তো আব্বুকে মিথ্যা বলছি। কিন্তু সেটাকে পূরন করার দায়িত্ব তোমার। 
– আমি কিছু করতে পারমু না। 
– মেরে ফেলমু তোমায়। কুত্তা। (আমার একদম কাছে এসে)
– একটু দূরে সরে যাও কন্যা। আমার অনেক কিছু ফিল হয় তুমি কাছে আসলে। (চোখ মারলাম)
– সেটার জন্যই তো আপনার কাছে আসি কবিরাজ মশাই! (আমাকে চোখ মারলো)

আমি হা’ হয়ে গেলাম। কোথায় ও রাগ করবে সেটার জন্য চোখ মারলাম। আর ও উল্টা আমাকেই মারলো? মেয়েটা পারেও বটে…….

রাত ১০ টা ১২ মিনিট,

ইলা আর আমি ছাদের দোলনায় বসে আছি। বসে আছি যদি বলি ভুল হবে। আমি ইলার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছি। আর ইলা বসে বসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।

আজকের পরিবেশটা যেনো প্রাণ ফিরে পেয়েছে। জোকানি পোকা গুলো বার বার আলোকিত করছে ইলাকে আমার সামনে। আর ইলার সামনে আমাকে। এ এক অপূরূপ দৃশ্য। রুপকথার কোন একজায়গায় হয়তো লিখা আছে এরকম দৃশ্যের, ” চন্দ্রবিলাশ এর ” কথা। তবে আজ সে রুপকথা আমার সামনে এসে আজ ধরা দিচ্ছে! ইলার প্রতিটা স্পর্শ আমাকে জেনো জানান দিচ্ছে,

” তোমার প্রতিটা অভিমান আমি এভাবেই পুশিয়ে দিবো ভালোবাসা আর এই রুপকথার চন্দ্রবিলাস দিয়ে”

(সমাপ্ত)

সম্পূর্ণ গল্প নিয়ে মতামত টা জানাবেন সকলে। 
ধন্যবাদ..!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*