Home Login Register

Naw Story Will Update Regularly......

অবহেলিত জীবন [Last পর্ব]


প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......
Home / Story / অবহেলিত জীবন [Last পর্ব]

Sanju › 1 month ago

লেখকঃ মেহেদী হাসান

ছোটকাল থেকে মা বাবার আদর পাইনি ৷ শুধু অবহেলা পেয়েছি ৷ কি কারনে তোমরা আমার সাথে এমন ব্যাবহার করতে বলতে পার তোমরা ৷ কি অন্যায় করেছিলাম আমি ৷ যে আমার শিশুকাল তোমারা নিজের হাতে খুন করে মাটিচাপা দিলা ৷ বাবাঃ তুই আমাদের ক্ষমা করে দে বাবা তোর সাথে আমরা অনেক বড় অন্যায় করছি ৷ আমাদের তুই ক্ষমা করে দে বাবা ৸ আমিঃ আমি জানতাম বাবা এই প্রশ্নের কোন উত্তর তোমাদের কাছে নেই ৷ বিনা অপরাধে আমার শিশুকাল তোমরা জাহান্নাম তৈরি করে দিয়েছিলে ৷ রাস্তার কুকুরের মত ব্যাবহার করছো তোমরা আমার সাথে ৷ আর সেই আমি তোমাদের একটু আদর ভালবাসা পাওয়ার জন্য বারবার কুকুরের মত ছুটে যেতাম তোমাদের কাছে ৷ 【হালকা কান্না করে বললাম】 আমিঃ আচ্ছা আপনার ছেলের পুরো ডিটেলস এখানে দিয়ে যান যদি সে বেচে থাকে তাহলে নিশ্চয় খজে পাবেন ৷ আর যদি তার মা বাবা তাকে মেরে ফেলে তাহলে আর তাকে খুজে পাবেন না ৷ তাই বলে আমি চলে আসলাম ওখান থেকে ৷ আজ আর অফিস করতে ভাল লাগছেনা ৷ তাই রুমে চলে আসলাম ৷ এসে কিছু খেয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম ৷ সকালে হঠাং কলিংবেলের আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল ৷ আমি ঘুম ঘুম চোখে দড়জা খুলে রিতিমত অবাক হয়ে গেলাম ৷ দড়জা খুলে দেখি অনিকা দাড়িয়ে আছে ৷ আমার আর একটা বোন ৷ যা আমার সাথে তার কোন রক্তের সম্পর্ক নেই ৷ কিন্তু নিজের থেকেও আমাকে বেশি ভালবাসে ৷ অনিকাঃ ভাইয়া…….. বলে আমাকে জড়য়ে ধরল ৷ 【চিৎকার করে বলল】 আমিঃ কী ব্যাপার আপু তুমি আমাকে না বলে চলে আসলা ৷ যদি রাস্তায় তোমার কিছু হয়ে যেত তাহলে কি হত বলোকো ৷ অনিকাঃ আমার আবার কি হবে আমিতো এখন বড় হয়ে গেছি ৷ আমিঃ এমন পাগলামি আর কোনদিন করবে না ৷ আমাকে বলবে আমি নিয়ে আসব ৷ অনিকাঃ হু জানিতো সেই কবে এসেছো আর একদিনো আসলেনা ৷ কিরকম ভালবাস তা জানা হয়ে গেছে ৷ 【কিছুটা অভীমানি সুরে】 আমিঃ দূয পাগলি তোকে আমি অনেক ভালবাসিরে ৷ কিন্তু কাজের চাপে যাওয়া হয়নি ৷ এখন বল মা কেমন আছে ৷ অনিকাঃ তার একমাত্ত ছেলেকে ছাড়া কীভাবে ভাল থাকে বলো ৷ আমিঃ হুমমমম জানিতো ৷ চল ভিতরে চল আগে ফ্রেশ হয়ে নে তারপর বাইরে নাস্তা করতে বের হব ৷ তারপর ফ্রেশ হয়ে দুই ভাই বোন চলে আসলাম নাস্তা করতে ৷ নাস্তা করে আমি আর অনিকা রিয়ার কলেজে চলে আসলাম ৷ আমি আর অনিকা ক্যান্টিনে বসে রিয়ার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম ৷ কিছুক্ষন পর রিয়া আসলো ৷ রিয়াঃ ভাইয়া কখন এসেছিস তুই আর সাথে এই মেয়ে কে ৷ আমিঃ এইতো এইমাত্ত হলো আসলাম ৷ আর এ হচ্ছে আমার আর একটা বোন তুই যেমন আমাকে ভালবাসিস ৷ তেমনি এই পিচ্চি পাগলিটা আমাকে ভালবাসে ৷ রিয়াঃ ঠিক বুঝলাম না ভাইয়া আমি ছাড়া তোর আবার বোন কোথা থেকে আসলো ৷ তারপর আমি রিয়াকে সংক্ষেপে সব কিছু বললাম ৷ রিয়া অনিকাকে আপু বলে জড়িয়ে ধরল ৷ তারপর তাদের বেশ ভাব জমে গেল ৷ আমি ভাবতে লাগলাম ৷ এখন আমার সবকিছু আছে ৷ দুইটা পাগলি বোন আছে যারা নিজের থেকেও আমাকে বেশি ভালবাসে ৷ ভাল একটা চাকরি আছে ৷ রক্তের সম্পর্ক না হওয়া সত্বেও মা বাবা আছে ৷ কিন্তু নিজের মা বাবা না থাকলে কেমন একটা শুন্যতা কাজ করছে ৷ মনে হচ্ছে আমার কোন একটা দামি জিনিস নাই ৷ যা সব থেকে আমি বেশি অসহায় বোধ কাজ করছে আমার মধ্যে ৷ রিয়াঃ ভাইয়া তোরা বস আমি প্রথম ক্লাস করে চলে আসছি ৷ তারপর আমরা তিন ভাইবোন মিলে আজ সারাদিন ঘুরব ৷ প্রথম ক্লাস মিস দেওয়া যাবেনা খুব জরুরি একটা ক্লাস ৷ তারপর রিয়া চলে গেল ৷ আমি অনিকা বসে বসে কফি পান করছি আর হেসে হেসে কথা বলছি ৷ একটু পাশে তাকাতেই দেখি রিমি চোখমুখ লাল করে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে ৷ মনে হয় ভীষন রেগে গেছে ৷ আমি একটা মেয়ের সাথে বসে বসে কফি পান করথি তাই ৷ রিমি সোজা আমাদের সামনে চলে আসলো ৷ আর রাগি কন্ঠে বলতে লাগল ৷ রিমিঃ কি হচ্ছে এখানে এত হাসাহাসি হচ্ছে কেন ৷ সোজা আমার কলার ধরে বলল ৷ তোমাকে না বলছি কোন মেয়ের সাথে কথা না বলতে ৷ তাও কেন কথা বলছো তাও আবার হেসে হেসে ৷ এই মেয়ে তোর কোন লজ্জা সরম নেই একটা ছেলের সঙ্গে এভাবে হেসে হেসে কথা বলতে ৷ ছেলে দেখলেই গায়ে পড়তে ইচ্ছা হয় না ৷ যত্তসব ফালতু মেয়ে কোথাকার মা বাবা শিক্ষা দেয়নি তোর ৷ যে কোন ছেলের সাথে কথা না বলতে ৷ লুজ ক্যারেক্টার মেয়ে যত্তসব ৷ ঠাসসসসসসসসস, ঠাসসসসসসসযযয আমি এবার রাগ সামলাতে পারলাম রিমির গালে কষে দুইটা চড় মারলাম ৷ আমিঃ কি সমস্য কি তোমার হুমমমম এভাবে আমার পিছনে লেগে আছো কেন ৷ আর তুমি না জেনেশুনে কাউকে এভাবে দোষারপ করছো কেন ৷ আর আমি কার সাথে কথা বলব কি না বলব সেটা আমার একান্তো ব্যাক্তিগত ব্যাপার বুঝলে ৷ আর আমি অন্য মেয়েদের সাথে কথা বললে তোমার এত জ্বলে কেন ৷ 【কিছুটা রেগে বললাম】 রিমিঃ কারন আমি তোমাকে ভালবাসি ৷ অনেক বেশি ভালবাসি ৷ তুমি কেন বুঝনা অন্য মেয়েদের সাথে তোমাকে দেখলে আমার অনেক কষ্ট হয় ৷ তোমার পাশে আমি কোন মেয়েকে সহ্য করতে পারিনা ৷ একটা ভুলের জন্য আমি তোমাকে হারিয়েছি ৷ আমি আর কোন ভুল করতে চাইনা ৷ আর তোমাকে হারাতে চাইনা ৷ প্লিজ তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিও না ৷ তোমাকে ছাড়া প্রতিটা রাত খুব কষ্টে কাটে ৷ মনে হয় তোমাকে ছাড়া এজীবন একেবারে অসম্পুর্ন ৷ তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার যে আর সহ্য হচ্ছে না তোমার এই অবহেলা গুলো ৷ তুমি যা বলবে আমি তাই করব ৷ তোমাকে আমার ভালবাসতে হবেনা শুধু সারাজীবন তোমার পাশে থাকার একটু জায়গা দিও ৷ কথা দিচ্ছি কোনদিন তোমার বিশ্বাস ভঙ্গ করব না ৷ খুব ভালবাসি তোমায় ৷ 【চিৎকার করে কান্না করে বলল】 আমিঃ তোমার এসব ন্যাকামি কান্না ভাল লাগছেনা ৷ আর কত নাটক করবে বলোতো ৷ একবার নাটক করে তুমি আমার জীবন থেকে 11 টা বছর শেষ করে ফেলছো ৷ আবার কি চাও তুমি ৷ আবার কোন শাস্তি দিতে চাচ্ছো তুমি ৷ তবে এবার নাটক করার দরকার নেই ৷ তুমি বললে আমি আবার এ শহর থেকে চলে যাব ৷ তবুও প্লিজ আর কোন নাটক করনা ৷ রিমিঃ আমি কোন নাটক করছি না আমি সত্যি তোমাকে অনেক ভালবাসি ৷ তোমাকে ছাড়া আমি বাচব না মেহেদী ৷ আমিঃ তাহলে মরে যাও তোমাকে বাচতে কে বলছে ৷ তবুও তুমি আমার সামনে থেকে চলে যাও ৷ তোমাকে আমার সহ্য হয় না ৷ তোমাকে দেখলে আমার ভীতরটা রাগে জ্বলে যায় ৷ আর কোনদিন আমার সামনে যেন তোমাকে না দেখি ৷ রিমি হয়তো আমার এই কথাটা আশা করেনি ৷ কেন অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমারদিকে ৷ আর চোখ দিয়ে টপটপ করে নোনা জল পড়ছে ৷ রিমিঃ ঠিক আছে তুমি যখন আমার মরনে শান্তি পাও তাহলে আমি তাই করব ৷ আমি মরে গিয়ে তোমাকে চিরদিনের জন্য মুক্তি দিয়ে যাব ৷ তখন আর কেউ তোমাকে ভালবাসার কথা বলে ডিস্টার্ব করবে না ৷ আমাকে দেখে আর কোনদিন তোমাকে অসহ্য হকে হবে না ৷ চলে যাব আমি অনেকদূড়ে যেখান থেকে কেউ চাইলেও আর কেউ ফিরে আসতে পারবেনা ৷ চিরদিনের জন্য হারিয়ে যাব ৷ তখন আর কেউ তোমাকে ডিস্টার্ব করবে না ৷ আমি এমনিতে তোমাকে না পাওয়ার জন্য অর্ধেক প্রাই মৃত হয়ে গেছি ৷ আর না হয় তোমার সুখের জন্য আমি চিরতরে চলে যাব না ফেরার দেশে ৷ তবে শুনে রাখ আমার ভালবাসায় কোনদিন নাটক ছিল না ৷ কোমার বুকে মাথা রেখে সারাদীবন কাটাতে চেয়েতিলাম ৷ কিন্তু তা আর মনে হয় আমার কপালে নেই ৷ যাওয়ার আগে একটা কথা বলতে চাই তোমাকে প্রচন্ড ভালবাসি আমি ৷পাগলের মত ভালবাসি আমি ৷ চলে যাচ্ছি আমি পারলে এই বিশ্বাসঘাতক কে ক্ষমা করে দিও ৷ 【 চিৎকরার করে বলল】 তাই বলে রিমি কান্না করতে করতে চলে গেল কলেজের গেট দিয়ে বাইরে চলে গেল ৷ অনিকাঃ ভাইয়া এই সে রিমি আপু যার জন্য তুমি বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছিলে ৷ আমিঃ হুমমমমম আপু অনিকাঃ তবে যাই বলো ভাইয়া অাপুটা তোকে ভীষন ভালবাসে ৷ নইলে তোর সুখের জন্য এভাবে বলতে পারত না ৷ রিমি আপু যেভাবে কান্না করতে করতে চলে গেল ৷ দেখ আবার তোর সুখের জন্য নিজের আবার কোন ক্ষতি না করে ৷ আপুটা মনে হয় তোকে অনেক ভাল বাসে ৷ সে ভীষন কষ্ট পেয়েছে তোর কথায় ৷ দেখলিনা তুই যখন ওই কথাটা বললি চোখমুখ কেমন কষ্টের ছাপ দেখা গেল ৷ হঠাং করে কলেজের সবাই দৌড়াতে লাগলো ৷ কলেজের সামনে নাকি কোন মেয়ে এক্সিডেন্ট করেতে ৷ তাই বলতে বলতে সবাই কলেজের গেট দিয়ে দৌড়িয়ে চলে গেল ৷ এবার আমার মনে ভয় ডুকে গেল ৷ একটা মেয়ে এক্সিডেন্ট করেছে ৷ তারমানে ওই মেয়েটা রিমি নয়ত ৷ রিমি তো এই মাত্ত বলল সে চিরদিনের জন্য চলে যাবে না ফেরার দেশে ৷ এবার আমি দাড়িয়ে থাকতে পারলাম না ৷ আমিও সবার সাথে দৌড়াতে লাগলাম ৷ ভীড় ঠেলে যা দেখি তা আমি কোনদিন ভাবতে পারিনি রিমি এমন কাজ করবে ৷ হ্যা এইটা রিমি ছিল পুরো শরীরে রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল ৷ কেউ কেউ বলছে নিদের ইচ্ছায় ট্রাকের সামনে চলে আসে ৷ আমি রিমি কে তুলে তাড়াতাড়ি একটা হাসপাতালে নিয়ে আসি ৷ তারপর রিমিকে আইসিউতে নিয়ে গেল ৷ ভীষন কান্না পাচ্ছে আমার রিমি সত্যি সত্যি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে ৷ আমিতো রাগের মাথাই বলে দিছি ৷ তাই বলে পাগলিটা সত্যি সত্যি এমন কাজ করবে ৷ নিজেকে খুব অপরাধি মনে হচ্ছে ৷ আজ যদি রিমির কিছু হয়ে যায় তাহলে আমি নিজেকে কোনদিন ক্ষমা করব না ৷ একটা চেয়ারে বসে কান্না করতে লাগলাম ৷ রিমি আমার কথা শুনে সত্যি সত্যি মরতে গিয়েছিল ৷ এত ভালবাসে পাগলিটা আমায় আর আমি কিনা সেই ভালবাসাকে অবহেলা করলাম ৷ এখন নিজেরি মরে যেতে ইচ্ছা করছে আমায় ৷ প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে আমায় ৷ কিছুক্ষন পর দেখি রিয়া আর অনিকা আসলো আর আমি তাদের দেখে কান্না থামাতে পারলাম না ৷ হু হু হু করে কেদে দিলাম তাদের জড়িয়ে ধরে ৷ রিয়াঃ ভাইয়া কাদিস না দেখিস রিমি আপুর কিছু হবে না ৷ সব ঠিক হয়ে যাবে দেখিস ৷ প্রাই দুই ঘন্টা পর ডাক্তার সাহেব বের হলেন ৷ আমি ডাক্তারের কাছে গিয়ে বললাম ৷ডাক্তার সাহেব আমার রিমি এখন কেমন আছে ৷ ডাক্তারঃ আপনি রোগীর কি হন ৷ আমিঃ আমি তার হাজবেন্ট হই বলেন কি অবস্থা আমার রিমির ৷ ডাক্তারঃ দেখুন রোগীর অনেক রক্ত ক্ষরন হয়েছে ৷ এখুনি তিন ব্যাগ o+ রক্তের ব্যাবস্থা করুন ৷ আমিঃ আমার রক্তের গ্রুপ O+ প্লিজ আমার শরীর থেকে তিন ব্যাগ রক্ত নেন ৷ তবুও আমার রিমিকে বাচিয়ে দিন ৷ ডাক্তারঃ আপানার শরীর থেকে কেবল দুই ব্যাহ রক্ত নেওয়া সম্ভব ৷ আপনি আর এক ব্যগ রক্ত জোগার করুন ৷ রিয়াঃ আমি দেব একব্যাগ রক্ত আমার রক্তের গ্রুপ O+ ৷ ডাক্তারঃ আসেন আমারসাথে ৷ তারপর আমরা দুই ভাই বোন মিলে কিন ব্যাগ রক্ত দিলাম ৷ শরীর টা ভীষন ক্লান্ত লাগছে মাথা ঘুরছে তাই একটা চেয়ারে বসে পড়লাম ৷ আর অনিকা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে ৷ আর রিয়া বেডে শুয়ে আছে ৷ কয়েক ঘন্টা পর ডাক্তার বেরিয়ে আসলো ৷ আর বলল আর চিন্তার কোন কারন নেই রোগী এখন অাশংঙ্কামুক্ত 6 ঘন্টা পর রোগীকে কেবিনে দেওয়া হবে তখন দেখ করবেন ৷ তবে বেশি কথা বলবেন না ৷ আমি ডাক্তারের কথা শুনে চেয়ারে বসে পড়লাম ৷ আর শুকরিয়া আদায় করলাম ৷ ছয় ঘন্টা পর রিমির জ্ঞান ফিরলো আর কেবিনে দেওয়া হল ৷ সবার প্রথমে আমি প্রবেশ করলাম কেবিনে ৷ দেখি রিমি চোখ বুজে শুয়ে আছে ৷ অনেক মায়াবী লাগছে আমার পাগলিটাকে ৷ মনে হচ্ছে সারাজীন বুকের মাঝে আগলিয়ে রাখি ৷ যাতে কেউ কোনদিন কষ্ট না দিতে পারে ৷ আমি আস্তে গিয়ে রিমির একটা হাত আলতো করে ধরলাম ৷ রিমি সাথে সাথে চোখ মেলে তাকালো ৷ আমিঃ কেন এমন পাগলামি করলে ৷ আমি না হয় রাগের মাথায় কি সবৱবলে দিয়েছি ৷ তাই বলে রাগ করে আমাকে একা রেখে চলে যেতে চেয়েছিলে ৷ তুমি যাকে আমার সাথে দেখেছিলে সে আমার বোন হয় ৷ তুমি তাকে বাজে কথা বলেছিলে তাই তোমাকে চড় আর ওসব কথা বলেছিলাম ৷ তাই বলে আমাকে রেখে চলে যাবে ৷ একবারো ভাবলেনা তুমি চলে গেলে আমার কি হবে ৷ কাকে নিয়ে সারাজীবন কাটাব ৷ ছোটবেলা থেকে মা বাবার আদর পাইনি ৷ এখন যদি তুমি চলে যাও তাহলে কে আমায় আদর করবে কে আমায় ভালবাসবে ৷ 【 হালকা কান্না করে বললাম】 রিমি কোন কথা বলছেনা শুধু চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে ৷ আমিঃ থাক আর কান্না করতে হবেনা ৷ তোমাকে ছাড়া আমিও আর কোথায় যাবনা ৷ কথা দিচ্ছি সারাজীবন পাগলিটাকে ভালবাসব ৷ কিছুক্ষন পর রিয়া আর অনিকা আসলো রুমে ৷ রিয়াঃ রিমি আপু আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও তোমাকে আমি অনেক অপমান করেছি ৷ ছোটবোন মনে করে এবারের মত মাপ করে দাও ৷ অনিকাঃ রিয়া আপু তুমি অপু বলছো কাকে ৷ এখন তো রিমি আমাদের ভাবি হয় ৷ আর তুমি আপু বলছো ৷ অনিকার কথা শুনে সবাই হেসে দিলাম আর রিমি লজ্জায় চোখ বন্ধ করে দিছে ৷ আমিঃ তুমি রেস্ট নাও আমি তোমার মা বাবাকে খবর দিই ৷ তারপর রিয়া আর অনিকা আগে রুম থেকে বের হয়ে গেল ৷ আমি রিমির কাছে গিয়ে রিমি কপালে একটা চুমু দিলাম ৷ আর শুয়ে থাকতে বললাম ৷ আমি বাইরে এসে প্রথমে অফিস থেকে 7 দিনের ছুটি নিলাম ৷ তারপর রিমির মা বাবা কে খবর দিলাম ৷ রিমির মা বাবা এসে রিমির সাথে দেখা করল ৷ তারপর আমার কাছে এসে আমার পরিচয় জানতে চাইলো ৷ আমি পরিচয় দিলাম ৷ তারপর রিমির বাবা আমার কাছে ক্ষমা চাইলো ৷ আমি মাপ করে দিলাম ৷ 【 এখন আপনারা ভাবছেন রিমি বাবা কে মাপ করলাম কিন্ত কেন আমার মা বাবাকে মাপ করছি না ৷ আরে রিমির বাবা তো কিছুই জানত না রিমি যা বলেছিল 11 বছর আগে ৷ তিনি সেইটায় বুঝেছেন ৷ কিন্তু আমার মা বাবা তো সবজানতেন তবুও তারা আমাকে ছাড়েনি ৷】 এভাবে চলে গেল 7 দিন রিমি এখন অনক টা সুস্থ তাই রিমি বাসায় চলে গেছে ৷ আর এদিকে রিয়া আর অনিকা সবসময় একসাথে থাকে যেন নিজের আপন বোন ৷ অনিকা এই সাতদিন রিয়ার সাথে বাসাই চলে যেত ৷ আর রিয়ার রুমে ঘুমাত ৷ আজ অনিকা চলে যাচ্ছে চাদপুর তার মা বাবার কাছে ৷ পাগলিটা যাওয়ার সময় আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্না করছিল ৷ তারপর তাকে বাসে উঠিয়ে দিলাম ৷ এভাবে চলে গেল আরো সাতদিন ৷ রিমি এখন পুরো সুস্থ হয়ে গেছে ৷ এই সাতদিনে আমি প্রাই সবসময় রিমির পাশে থাকতাম ৷ তাকে খাইয়ে দিতাম ঔষুধ খাইয়ে দিতাম ৷ আজ অফিস থেকে এসে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানায় যেই শুয়ে পড়লাম তখনি ৷ হঠাং করে কলিং বেল বেজে উঠল ৷ আমি দড়জা খুলে দেখি রিমি দাড়িয়ে আছে আর একটা শাড়ি পড়ে এসেছে কাল শাড়ি খুব সুন্দ লাগছে রিমিকে ৷ রিমির হাতে দেখি একটা টিফিনবাটি ৷ রিমি আমাকে সরিয়ে দিয়ে ভিতরে ডুকে পড়ল ৷ আর টিফিনবাটিটা খুলতে লাগল ৷ তারপর রিমি আমাকে সুন্দর করে খাওয়ে দিলাম ৷ আমি রিমিকে খাইয়ে দিলাম৷ আচ্ছা এতরাতে তুমি একা এসেছো ভয় করেনি তোমার ৷ না আমার বাবা পৌছায়ে দিয়ে চলে গেছে ৷ চলে গেছে মানে তুমি ফিরে যাবে কার সাথে ৷ চল আমি তোমাকে বাড়ি পৌছায়ে দিয়ে আসি ৷ রিমিঃ না যাবনা আজ তোমার সাথে থাকব 【 আল্হাদী সুরে বলল】 আমিঃ কিহহহহহ পাগল হলে নাকি একটা ব্যাচেলার ছেলের সাথে রাত থাকবা তোমার ভয় করেনা ৷ রিমিঃ ভয় করবে কেন আমি অন্য পুরুষের সাথে থাকছি নাকি ৷ আমি তো আমার বরের সাথে থাকব ৷ আমিঃ না এটা সম্ভব না তুমি বাড়ি যাবে এটাই ফাইনাল ওকে ৷ আর যেদিন আমি তোমার বর হব সেদিন যত খুশি থাকো ৷ এখোন যাও বাড়ি যাও ৷ রিমিঃ না আমি যাবনা আমি এখানে তোমার সাথে থাকবো মানে থাকবো ৷ যদি তুমি আমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দাও তাহলে কিন্তু আমি আবার রাস্তার মাঝখানে গিয়ে দাড়িয়ে থাকব ৷ আমি রিমির কথা শুনে রিমিকে জড়িয়ে ধরলাম ৷ চুপপপপ আর একবার ওই কথা বললে আমি তোমাকে মেরে ফেলব ৷ চল তবে মাঝখানে কোল বালিশ থাকবে ৷ রিমিঃ ঠিক আছে চল তাই হবে 【মনেমনে বলল কোলবালিশ কেন একটা কাপড়ো থাকবেনা আমাদের মাঝখানে】 তারপর মাঝখানে বালিশ রেখে দুইজন দুইদিকে ফিরে শুয়ে পড়লাম ৷ কিছুক্ষন পর দেখি রিমি কোলবালিশ ফেলে দিল ৷ আর আমাকে কাছে টেনে আমাকে জড়িয়ে ধরল ৷ আমার বুকে মাথা গুজে শুয়ে থাকলো ৷ মনে হচ্ছে আমার বুকের মধ্যে ডুকে যাবে এমন ভাবে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ৷ রিমিঃ আমার কত আশা যান তোমার বুকে মাথা রেখে শন্তিতে ঘুমাব ৷ কোনদিন আমাকে ছেড়ে চলে যাবেনা তো ৷ এবার চলে গেলে সত্য সত্যি মারা যাব আমি ৷ আমিঃ নারে পাগলি কোনদিন তোমাকে ছেড়ে চলে যাবনা ৷ সারাজীবন এভাবে বুকের মাঝে জড়িয়ে রেখে দেব ৷ তারপর আমি রিমির কপালে একটা চুমু খেলাম ৷ আর রিমি মাথা উচু করে সোজা আমার ঠোটে ঠোট রাখল ৷ আমিও রিমির তালে তাল মিলামলাম ৷ কিস করতে করতে রিমি কখন যে আমার উপরে উঠে গেছে টের পাইনি ৷ প্রাই 6 মিনিট কিস করার পর রিমি আমাকে ছেড়ে দিল ৷ রিমি এখনো আমার শরীরের উপর শুয়ে আছে ৷ তারপর রিমি আমার দিকে অনেক্ষন তাকিয়ে থাকলো ৷ তারপর রিমি আমার কপালে দুই চোখে দুই গালে নাকে সব জাইগায় চুমু খেল ৷ তারপর আমার উপরে থাকা অবস্থায় আমাকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ল ৷ কিছুক্ষন পর দেখি রিমি কোলবালিশ ফেলে দিল ৷ আর আমাকে কাছে টেনে আমাকে জড়িয়ে ধরল ৷ আমার বুকে মাথা গুজে শুয়ে থাকলো ৷ মনে হচ্ছে আমার বুকের মধ্যে ডুকে যাবে এমন ভাবে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ৷ রিমিঃ আমার কত আশা যান তোমার বুকে মাথা রেখে শন্তিতে ঘুমাব ৷ কোনদিন আমাকে ছেড়ে চলে যাবেনা তো ৷ এবার চলে গেলে সত্য সত্যি মারা যাব আমি ৷ আমিঃ নারে পাগলি কোনদিন তোমাকে ছেড়ে চলে যাবনা ৷ সারাজীবন এভাবে বুকের মাঝে জড়িয়ে রেখে দেব ৷ তারপর আমি রিমির কপালে একটা চুমু খেলাম ৷ আর রিমি মাথা উচু করে সোজা আমার ঠোটে ঠোট রাখল ৷ আমিও রিমির তালে তাল মিলালাম ৷ কিস করতে করতে রিমি কখন যে আমার উপরে উঠে গেছে টের পাইনি ৷ প্রাই 6 মিনিট কিস করার পর রিমি আমাকে ছেড়ে দিল ৷ রিমি এখনো আমার শরীরের উপর শুয়ে আছে ৷ তারপর রিমি আমার দিকে অনেক্ষন তাকিয়ে থাকলো ৷ তারপর রিমি আমার কপালে দুই চোখে দুই গালে নাকে সব জাইগায় চুমু খেল ৷ তারপর আমার উপরে থাকা অবস্থায় আমাকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ল ৷ সকালে আমার আগে ঘুম ভাঙলো ৷ দেখি রিমি এখনো আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে ৷ রিমির মুখটা খুব মায়াবী লাগছে মনে হচ্ছে আস্তে আস্তে তার গভীর মায়াভরা চেয়ারাতে হাবুডুবু খেতে লাগলাম ৷ হঠাং করে চোখ গেল রিমির ঠোটের দিকে ৷ ঠোট টা কেমন লাল হয়ে আছে ৷ আমাকে ক্রমশে টানছে রিমির ঠোট দুইঠা ৷ আমি আস্তে আস্তে আমার ঠোট টা রিমির ঠোটের কাছে নিয়ে আসলাম ৷ তারপর রিমির ঠোটের সাথে আমার ঠোট চেপে ধরলাম ৷ অন্যরকম ফিলিংস কাজ করছে আমার মধ্যে কিন্তু নিজেকে কন্টোল করে নিলাম ৷ কিছুক্ষন পর রিমি কে ছেড়ে দিলাম ৷ রিমিকে ছেড়ে দিয়ে রিমির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি ৷ মনে হচ্ছে রিমিকে এভাবে সারাজীবন দেখে যায় ৷ আমি যখন রিমির দিকে তাকিয়ে আছি তখন হঠাং করে রিমি বলল ৷ রিমিঃ কি মিঃ এভাবে কেউ কিস করে এখনি আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল ৷ আর আমাকে না বলে তুমি আমাকে কিস করলে কেন ৷ আমিঃ তাই তাহলে তুমি শিখিয়ে দাও কীভাবে কিস করতে হয় ৷ আর তোমাকে বলে কিস করতে হবে কেন ৷ তুমি মানেই আমি আর আমি মানেই তুমি বুঝলে সুইট হার্ট ৷ 【রিমিকে জড়িয়ে ধরে বললাম】 রিমিঃ তাহলে আস কীভাবে কিস করতে হয় শিখিয়ে দিই তোমাকে ৷ তাই বলে রিমি আমার গলা জড়িয়ে ধরে আমার ঠোটের সাথে তার ঠোট মিলিয়ে দিয়ে আমার ঠোট চুষতে লাগল ৷ 【ভাই কিস করা যে কি এক অন্যরকম অনুভুতি যারা করেছেন শুধু তারাই বুঝবেন ৷ সেই অনুভূতি আমিও পেয়েছি তাই বললাম আর কি হা হা হা】 আমিঃ আচ্ছা রিমি তুমি এখানে কাল রাতে আমার সাথে থাকবে তা তোমার বাবা জানতো ৷ রিমিঃ হুমমমম জানে আর আমি বলেছিলাম আজ রাতে বাসাই যাবনা তোমার জামাইয়ের সাথে থাকবো ৷ আমিঃ তোমার বাবা কি বলল ৷ কিছু বলেনি তোমায় বিয়ের আগে জামাই ৷ রিমিঃ বাবা সব জানে যে আমি এতদিন বিয়ে করিনি শুধু তোমার জন্য ৷ তাই বাবা কিছু বলেনি ৷ আমিঃ আচ্ছা আমি যদি কোনদিন না আসতাম আর এই শহরে ৷ তাহলে তুমি তখন কি করতে ৷ রিমিঃ সারাজীবন তোমার জন্য অপেক্ষা করতাম ৷ যদি তু্মি কোনদিন ফিরে আস সেই আশাই ৷ আমিঃ আচ্ছা চল ফ্রেশ হয়ে নাও আমাকে আবার অফিসে যেতে হবে ৷ রিমিঃ না আমি উঠবনা আজ সারাদিন তুমি আমাকে বুকে জড়িয়ে রাখবে ৷ তোমাকে অনেক কষ্টে পেয়েছি তোমাকে হারাতে তাইনা ৷ তাই আজ সারাদিন তোমার বুকে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে থাকবো ৷ আমিঃ প্লিজ পাগলামি করনা আমার অফিস মিস দেওয়া যাবেনা ৷ আর চল তোমাকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে রিয়ার সাথে দেখা করে আমাকে অফিসে চলে আসব ৷ রিমিঃ হুমমমমম চল আমাকে ভালবাসলে ঠিকই আমাকে সময় দিতে ৷ কিন্তু আমার ভাগ্যটায় খারাফ ৷ আমিঃ আসো কাছে আস তোমাকে একটু আদর করে দিই ৷ তাই বলে রিমিকে জড়িয়ে ধরে রিমির কপালে একটা ভালবাসার স্পর্শ একে দিলাম ৷ হুমমমম হয়েছে এবার চল আমার আবার দেড়ি হয়ে যাবে ৷ তাই বলে আমি আর রিমি রিয়ার কলেজে চলে আসলাম ৷ এসে দেখি রিয়া আগে থেকে চলে এসেছে ৷ রিয়া আমাদের কাছে আসলো ৷ রিয়াঃ ভাইয়া তুই ভাবি কে পেয়ে নিজের বোন কে ভুলে গেলি ৷ যাহহহহহ তোর সাথে আর কোন কথা নেই ৷ 【হালকা অভীমানি সুরে】 আমিঃ তোকে কি করে ভুলে যায় বল তুই যে আমার কলিজার টুকরা একমাত্ত বোন তোকে কি করে ভুলে যায় বল ৷ রিয়াঃ হুমমমম জানিতো কিরকম ভালবাসিস আমায় ৷ এখন আর সেই ভালবাসা পাব না রে ৷ আমিঃ কেন পাবিনা আমিতো তোকে আগের মতই ভালবাসব রে পাগলি ৷ রিয়াঃ এখন থেকে অর্ধেক ভলবাসা তুমি ভাবিকে দিয়ে দেবা আমি জানি ৷ রিমিঃ শোন পাগলির কথা ৷ তোমাদের ভাই বোনের ভালবাসার ভাগ আমি নিতে আসবনা ৷ আমার শুধু বরের ভালবাসা পেলেই হবে ৷ আরো কিছুক্ষন কথা বলে আমি অফিসে চলে আসলাম ৷ অফিসে বসে কিছু কাজ করছি মাথা নিচু করে ৷ তখনি হঠাং করে কেউ আমার নাম ধরে ডাকলো ৷ আমি মাথা উচু করে দেখি মা বাবা আর ভাইয়া দাড়িয়ে আছে ৷ মাঃ কেমন আছিস বাবা তুই ৷ 【 কান্না কন্ঠে 】 আমিঃ হু্ৃমমমমমম অনেক ভাল আছি আমি ৷ নিজের মত নিজে থাকি ৷ এখন আর কেউ অবহেলা করেনা না করে কেউ অপমান ৷ 11 বছর আগের দিনগুলি থেকে এখন হাজার গুন ভাল আছি ৷ বাবাঃ এমন ভাবে বলিস না বাবা আমারা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি বাবা ৷ আমাদের সবাইকে তুই মাপ করে দে বাবা ৷ আমিঃ আচ্ছা তোমরা বলতে পার তোমরা কি ভুল করেছিলে ৷ মানুষ একবার ভুল করে দুই বার ভল করে ৷ কিন্তু আমার বেলাই যে তোমরা পুরো ছোটবেলা ভুল দিয়ে আমার শিশু কাল নষ্ট করে দিয়েছো ৷ তোমরা একবারো ভাবনি যে ছেলের এখন মা বাবার ভালবাসা দরকার সেই ছেলে জীবনে কি পেয়েছে তোমাদের কাছে ৷ আমি এতটায় পর ছিলাম যে তোমাদের কাছে কোনদিন ভালবেসে আমার নাম ধরে ডাক দাও নি ৷ এমনকি ওই বাড়িতে আমার জন্য রান্না প্রর্যন্ত তোমরা করনি ৷ আমারাতো ইচ্ছা হত যে মা বাবা বোন ভাইয়ার সাথে এক টেবিলে বসে খাবার খাব ৷ কিন্তু তোমার কি মনে আছে আমাকে খাবার টেবিল থেকে দূড় দূড় করে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন ৷ সেই সময় যখন আমাকে ছেলে হিসাবে মেনে নেন নি তাহলে কেন এখন আবার আমাকে ফিরিয়ে নিতে আসছেন ৷ আর আপনি যেদিন রিয়ার জন্য আমাকে মেরেছিলেন সেদিন আমার জন্য কি আপনার একটু মায়া হয়নি ৷ আমি মারা গেছি কি বেচে আছি আপনারা একটু খোজ নেন নি ৷ তবে সেদিন আমি যদি মারা যেতাম তাহলে সবচেয়ে বেশি খুশি মনে আপনারা হতেন ৷ সেই মারের কারনে আমার শরীরে প্রচুর ব্যাথা ছিল ৷ তারকিছুদিন পর আবার আপনি বিনা অন্যায়ে আমাকে মেরেছিলেন ৷ সেদিন আমি আপনার পা ধরে ছটপট করছিলাম কেন জানেন ৷ আপনার আগের মারের কারনে শরীরে প্রচুর ব্যথা ছিল ৷ তাই সেদিন আমি সহ্য করতে পারছিলাম না ৷ আর মা আমি তো তোমার ছেলে তাই না ৷ ছেলে যতবড় অন্যায় করুক না কে ছেলের কষ্ট মা কোনদিন সহ্য করতে পারেনা ৷ আর তুমি ছেলের হাজার কষ্টে তোমার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হয় নি ৷ এমনকি আমার কোন খোজ প্রর্যন্ত নাওলনি ৷ আমি নিজের মত নিজে অনেক ভাল আছি ৷ আমার কোন পরিবার লাগবেনা ৷ আর এমন পরিবার আমি কোনদিন চাইবনা যে তারা নিজের সন্তান কে মেরে ফেলতে একটু ও ভাবেনা ৷ বাবাঃ বাবা তুই আমাদের ক্ষমা করে দে বাবা ৷ তুই চলে যাওয়ার পর তোর মা এমন কোন দিন নেই তোর জন্য কাদেনি ৷ তোর তো সব রাগ অভীমান আমার তাইনা ৷ আচ্ছা ঠিক আছে তুই না হয় তোর মায়ের জন্য তুই ফিরে চল বাবা ৷ আমিঃ হা হা হা মা কেন আমার জন্য কান্না করবে ৷ আমিতো তোমাদের কাছে অসহ্য আর বিরক্তের কারন ছিলাম ৷আমি চলে যাওয়াতে তো তোমাদের খুশি হওয়ার কথা ৷ তাহলে কেন প্রতিদিন কেন কান্না করছো ৷ আচ্ছ মা বলতো যদি রিয়া না থাকতো তাহলে আমার কি হত ৷ কি আর হবে কোনদিন ঘরে পড়ে মরে থাকতাম যখন আমার দেহটা পচে গন্ধ বের হত ৷ তখন তোমরা হয়ত ঠিক পাইতে ৷ তার আগে তোমরা কোনদিন আমার খোজ নিতেনা তাই না মা ৷ আমি যদি সেদিন বাড়ি থেকে চলে না আসতাম তাহলে হয়তো আমি বেচে থাকতাম না ৷ তোমাদের অবহেলা আর অত্যাচারে আমি হয়তো বেশিদিন বেচে থাকতে পারতাম না ৷ আর একটা কথা আমি আপনদের ছেলে না ৷ আমার কাছে আর কোনদিন ছেলের দাবি নিয়ে আসবেন না ৷ আপনাদের ছেলেকে আপনারা সবাই মেরে ফেলছেন ৷ আমি আপনাদের ছেলে না বুঝলেন ৷ তাই বলে আমি চলে আসলাম বাইরে ৷ এই কয়দিনে আমার অফিসের অন্যান্য পুলিশ গুলো জেনে গেছে আমার পুরানো জীবন কাহীনী ৷ আমি একটা চায়ের দোকানে বসে আছি ৷ একটা মানুষ এসে আমার পাশে বসলো ৷ খুব চেনা চেনা লাগছে মানুষ টাকে ৷ হ্যা মনে পড়েছে আমার স্কুলের টিচার তিনি ৷ ইনি সেদিন যদি চিঠির বিষয় টা একটু ভাল করে পরীক্ষা করত তাহলে হয়ত সেদিন অন্যরকম কিছু হত ৷ যা হবার হয়ে গেছে এখন আর পুরানো কথা তুলে লাভ নাই ৷ আমিঃ আসসালামু ওলাইকুম ৷ স্যারঃ ওলাইকুম আসসালাম ৷ আমিঃ কেমন আছেন স্যার ৷ স্যারঃ ভাল বাবা কিন্তু আমি তো তোমাকে ঠিক চিনতে পারলাম না ৷ আমিঃ স্যার আমি মেহেদী 11 বছর আগে একটা চিঠির জন্য আমার বাবা আমাকে অনেক শাস্তি দিয়েছিল মনে আছে স্যার ৷ স্যারঃ হুমমমমন মনে আছে বাবা সেদিন ভুলটা আমারই ছিল বাবা আমি যদি একটু বিষয় টা ভালভাবে দেখতাম তাহলে তোমাকে এত কষ্ট সহ্য করতে হত না ৷ পরেরদিন এসে সেই মেয়ে আমাদের কাছে সব খুলে বলে ৷ যে তোমার কোন দোষ নেই ৷ তারপর থেকে তোমাকে আর স্কুলে খুজে পাইনি বাবা ৷ তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও বাবা ৷ আমিঃ না স্যার এতে ক্ষমা চাওয়ার কি আছে ৷ আর আপনি তো জেনে শুনে ভুল করেন নি ৷ তারপর স্যারের কিছু চা বিস্কুট খাইয়ে আবার অফিসে চলে আসি ৷ কিন্তু অফিসে এসে দেখি মা বাবা আর ভাইয়া সেখানেই বসে আছে আমার জন্য ৷ আমিঃ কি ব্যপার আপনারা এখনো যান নি কেন ৷ আমি বলেছি না আপনাদের ছেলে এখানে থাকেনা ৷ যদি না মানতে চান তাহলে একটা মিসিং কমপ্লেন করে যান ৷ কবে হারিয়েছে ৷ কি কারনে নিখোজ হয়েছে ৷ সব ডিটেলস দিয়ে যান যদি সে বেচে থাকে তাহলে আপনাদের ছেলে আপানার কাছে ফিরে আসবে ৷ মাঃ বাবা আর কত কষ্ট দিবি আমাকে বল ৷ তোর জন্য এমন কোনদিন নেই যে কাদিনি ৷ এখন তোকে কাছে পেয়েও তোর সাথে ঠিকমত কথা বলতে পারছিনা ৷ আমিঃ আমিও তোমদের সাথে একটু কথা বলার জন্য সবসময় তোমাদের কাছে ছুটে যেতাম ৷ কিন্তু তোমরা আমাকে অপমান ছাড়া কীছুই পাই নি ৷ রিয়াঃ ভাইয়া এরা এখানে কেন তোর কাছে কি চাই এরা ৷ নাকি তুই এখানে আছিস বলে এদের সহ্য হচ্ছে না ৷ নাকি আবার তোকে আপমান করতে এসেছে ৷ হঠাং করে রিয়া আর রিমি এসে রিয়া উপরের কথা গুলো বলল ৷ আমিঃ রিয়া বোন আমার চুপ কর তুই ৷ এরা তাদের ছেলের মিসিং কমপ্লেন করতে এসেছে ৷ তাদের ছেলে নাকি 11 বছর আগে নিখোজ হয়ে গেছে ৷ তুই একটু অপেক্ষা কর ৷ আমি এদের কাজ টা শেষ করে আসছি ৷ আপনাদের আর কিছু বলার আছে ৷ যদি না থাকে তাহলে এখন আসতে পারেন ৷ আমি আবার আমার বোন কে একটু বাসাই পৌছায়ে দিতে যাব ৷ কারন এই বোনটি ছাড়া আমার যে এই পৃথীবিতে কেউ নেই ৷ মা আমার কথা শুনে কান্না করেই যাচ্ছে ৷ মায়ের কান্না দেখে আমার ভীষন কষ্ট হতে লাগলো ৷ একদমই সহ্য হচ্ছে না মায়ের কান্না ৷ কিন্তু আমি কিছু না বলে রিয়া আর রিমি কে নিয়ে চলে আসলাম তাদের বাসাই পৌছায়ে দিতে ৷ আমাদের বাসা আর রিমির বাসা একই এলাকাতে তাই তিনজন একসাথে চলে আসলাম ৷ রিয়াঃ ভাইয়া তুই কি মনে করবি আমি জানিনা ৷ কিন্তু তুই চলে যাওয়ার পর মা তোর জন্য খুব কান্না করত ৷ সবসময় নিজেকে দোষরোপ করতো ৷ আমি মাকে প্রাই কান্না করতে দেখতাম ৷ আমিঃ আমারো মায়ের কান্না দেখে আমারো খুব কষ্ট হচ্ছে রে কিন্তু কোন এক চাপা রাগ আর অঊীমানে আমি তাদের থেকে দূড়ে সরে আছি ৷ আপনাদের আর কিছু বলার আছে ৷ যদি না থাকে তাহলে এখন আসতে পারেন ৷ আমি আবার আমার বোন কে একটু বাসাই পৌছায়ে দিতে যাব ৷ কারন এই বোনটি ছাড়া আমার যে এই পৃথীবিতে কেউ নেই ৷ মা আমার কথা শুনে কান্না করেই যাচ্ছে ৷ মায়ের কান্না দেখে আমার ভীষন কষ্ট হতে লাগলো ৷ একদমই সহ্য হচ্ছে না মায়ের কান্না ৷ কিন্তু আমি কিছু না বলে রিয়া আর রিমি কে নিয়ে চলে আসলাম তাদের বাসাই পৌছায়ে দিতে ৷ আমাদের বাসা আর রিমির বাসা একই এলাকাতে তাই তিনজন একসাথে চলে আসলাম ৷ রিয়াঃ ভাইয়া তুই কি মনে করবি আমি জানিনা ৷ কিন্তু তুই চলে যাওয়ার পর মা তোর জন্য খুব কান্না করত ৷ সবসময় নিজেকে দোষরোপ করতো ৷ আমি মাকে প্রাই কান্না করতে দেখতাম ৷ আমিঃ আমারো মায়ের কান্না দেখে আমারো খুব কষ্ট হচ্ছে রে কিন্তু কোন এক চাপা রাগ আর অভীমানে আমি তাদের থেকে দূড়ে সরে আছি ৷ প্রথমে রিমি কে পৌছায়ে তারপর রিয়া কে পৌছায়ে আমি চলে আসলাম সেখান থেকে ৷ রিয়ার কথা শুনে ভীষন কষ্ট হচ্ছে ৷ তাহলে কি মা বাবা তাদের ভুল বুঝতে পারছে ৷ দূর আমি এত চিন্তা কেন করছি ৷ আমি আর কোনদিন তাদের কাছে যাব না ৷ আমার শৈশব কাল সবচেয়ে কষ্টে কেটেছে শুধু তাদের জন্য ৷ তারা ইচ্ছা করলে আমার জীবন টা সুন্দর হত ৷ কিন্তু তারা আমার সাথে অমানুষের মত আচরন করেছে ৷ রিয়া ও রিমি কে পৌছায়ে আমি আবার অফিসে চলে আসলাম ৷ বিকালের রিমি আমার কাছে ফোন দেয় ৷ রিমিঃ আচ্ছা বিকালে আমাকে একটু ঘুরতে নিয়া যাবে ৷ তুমি চলে যাওয়ার পর আজ প্রর্যন্ত কারো সাথে ঘুরতে যাইনি ৷ মানে রুম থেকে বেশি বের হতাম না ৷ প্লিজ বিকালে নিয়ে চল আমাকে ৷ আমিঃ বিকালে যে আমার একটা কাজ আছে ৷ খুবই গুরুত্বপূর্ন কাজ ৷ তুমি রাগ করনা কাল বিকালে তোমাকে সিউর বেড়াতে নিয়ে যাব ৷ প্লিজ লক্ষিটি আমার রাগ করেনা ৷ রিমিঃ থাক তার আর দরকার নাই ৷ আমার ঘুরতে যাওয়ার আর ইচ্ছা নাই ৷ এই 11 বছর যখন একা একা থাকতে পেরেছি ৷ তখন সারাজীবন রুমের মধ্যে একা থাকতে পারব ৷ তুমি থাক তোমার কাজ নিয়ে ৷ 【 রেগে বলল】 আমার কিছু বলার আগেই রিমি ফোন কেটে দিল ৷ পাগলি টা মনে হয় অনেক রেগে আছে ৷ কিন্তু আমার এই কাজ টা আগে করতে হবে ৷ সত্যিই রিমি একা একা কোনদিন বের হয়নি ৷ আজ কত আশা নিয়ে বলল কিন্তু আমি তার ইচ্ছা টা মাটিচাপা দিয়ে দিলাম ৷ তারপর বিকালে সেই কাজে গেলাম ৷ কাজটা শেষ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে ৷ কাজে এত ব্যাস্থ ছিলাম যে রিমিকে একটা ফোন দেওয়ার সময় পাইনি ৷ বাসাই এসে ফ্রেশ হয়ে যেই একটু বিশ্রাম নিতে যাব ৷ তখনি আবার কলিং বেল বেজে উঠল ৷ আমি বিরক্ত ভাব নিয়ে দড়জা খুলে দিলাম ৷ সামনে তাকিয়ে দেখি রিমি দাড়িয়ে আছে ৷ চোখদুইটা রাগের কারনে লাল হয়ে আছে ৷ মনে হয় পাগলি টা খুব রেগে আছে ৷ রিমি হঠাং করে আমায় জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিল ৷ কুত্তা তোকে আজ গলা চেপে মেরে ফেলব ৷ হারামী একটা বানর ফাজিল আমি রাগ করে আছি সেটা জেনেও তুই কেন আমাকে ফোন দিলিনা ৷ তুই জানিস না তোরে আমি পাগলের মত ভালবাসি ৷ কুত্তা তুই আমার রাগ না ভাঙিয়ে আরামে ঘুমাচ্ছিস তাই না ৷ 【 কান্না করে বলল】 আমি রিমিকে আর একটু শক্ত করে জড়িয়ে আমার বুকের সাথে মিশিয়ে দিলাম ৷ আর রিমি আমার বুকে মুখ গুজে দাড়িয়ে আছে ৷ আর আমার টি শার্ট ভিজাচ্ছে কান্না করে ৷ আমিঃ এই পাগলি আমার কান্না করে না প্লিজ কান্না থামাও ৷ তোমাকেও যে আমি পাগলে মত ভালবাসি ৷ তুমি বুঝনা ৷ আসলে অনেক ব্যাস্থ ছিলাম তাই ফোন দিতে পারিনি ৷ আর আমি এইমাত্ত বাসাই এসে ফ্রেশ হলাম এই দেখ আমার চুলে এখনো পানি লেগে আছে ৷ রিমিঃ না আমি কোন কথা শুনবনা তুমি অনেক খারাফ ৷ তুমি জান আমি কতটা কষ্ট পেয়েছি তুমি ফোন দাওনি বলে ৷ সেই বিকাল থেকে মন খারাফ করে বসে আছি ৷ 【 কিছুটা আল্হাদী সুরে বলল】 আমিঃ আচ্ছা লক্ষীটি আমার এই বারের মত আমাকে মাপ করে দাও ৷ আর কোনদিন তোমার কথার অমন্যা হব না ৷ তুমি যা বলবে তাই শুনব ৷ 【রিমির কপালে একটা চুমু দিয়ে বললাম】 রিমিঃ তোমার একটায় শাস্তি আমাকে সারারাত তোমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে রাখতে হবে ৷ আর 1 মিনিট পর পর আমাকে কিস করতে হবে ৷ যদি পার তাহলে তোমাকে আমি ক্ষমা করে দেব ৷ আমিঃ কিহহহহহ 1 মিনিট পর পর চুমু দিতে হবে ৷ আমি পারবনা আর তুমি আমার বুকে সারারাত থাকবে মানে ৷ তুমি আজ রাতেও আমার সাথে ঘুমাবে ৷ রিমিঃ হুমমমমন কেন কোন সমস্যা আমি আমার স্বামীর সাথে থাকবো কার কী সমস্যা হবে ৷ আর যদি বেশি কথা বল ৷ তাহলে 30 সেকেন্ড পর পর চুমু খেতে হবে কিন্তু ৷ আমিঃ না না না আগের টাই ঠিক আছি ৷ আমি রাজি আছি ৷ তারপর রিমি আমার দিকে মাথা উচু করে সোজা আমার ঠোটে তার ঠোট লাগিয়ে দিল ৷ তারপর আমাদের কারো হুশ নেই ৷ রিমি কিস করতে করতে আমার মাথাটা এমন ভাবে তার ঠোটের সাথে চেপে ধরেছে ৷ মনে হচ্ছে আমার ঠোট দুটি ছিড়ে খেয়ে ফেলবে ৷ তারপর আমি রিমি কে জোর করে ছাড়িয়ে দিলাম ৷ রিমি হাপাচ্ছে একভাবে ৷ তারপর আমি রিমি কে কোলে তুলে নিলাম ৷ নিয়ে বিছানায় ফেলে দিলাম ৷ আমি রিমির পাশে শুয়ে পড়লাম ৷ রিমি আমার বুকের উপর উঠে আমার গলা জড়িয়ে ধরে আমার চোখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ৷ আমিও রিমির চোখের দিকে তাকিয়ে আছি ৷ এইবার রিমি আস্তে আস্তে তার ঠোট নচে নামাতে লাগলো ৷ রিমির ঠোট দুইটা ক্রমেশই কাপছে ৷তারপর আস্তে আস্তে রিমি তার ঠোট আমার ঠোটের সাথে মিশিয়ে দিল ৷ এভাবে কিছুক্ষন চলার পরে আমি রিমি কে একঝাটকায় সরিয়ে দিলাম ৷ রিমিঃ কি হল তুমি আমাকে সরিয়ে দিলে কেন ৷ আমিঃ আগে আমাদের বিয়ে হবে তারপর আমাদের মাঝে অন্যকিছু হবে ৷ আর বিয়ের আগে এসব সব হারাম জিনা হয় ৷ রিমিঃ তাহলে আমরা কবে বিয়ে করব জানু ৷ আমিঃ খুব শিঘ্রই করব সোনা আর কিছুদিন যাক তারপর ৷ রিমিঃ তোমাকে ছাড়া যে আমার এক মূহুর্ত ভাল লাগেনা ৷ খুব ভালবাসি যে তোমায় ৷ আমিঃ কেন আমি কি তোমাকে কম ভালবাসি নাকি হুমমমম ৷ রিমিঃ আচ্ছা এখন থেকে প্রতিদিন তোমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে থাকবো ৷ আমিঃ কি বল তুমি পাগল হলে নাকি কেউ যদি দেখে ফেলে তাহলে তোমার মানসম্মান যাবে সাথে আমারো যাবে ৷ আর আমি আমার ক্যারিয়ারে কোন দাগ লাগাতে চাই না ৷ রিমিঃআচ্ছা ঠিক আছে প্রতিদিন আসব না মাঝে মাঝে আসবো ৷ আর এখন আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে ৷ যদি সকালে উঠে দেখি তুমি আমাকে ছেড়ে এক ঘুমিয়ে আছো ৷ তাহলে তুমি শেষ বুঝলা ৷ তারপর আমি রিমিকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লাম ৷ সকালে কারো কান্নার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল আমার ৷ আমি তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে দেখি রিমি পাশে বসে কান্না করছে ৷ আমিঃ কি হল তুমি কান্না করছো কেন কি হয়েছে তোমার ৷ রিমিঃ আমি বালিশে কীভাবে আসলাম তোমাকে না বলেছিলাম আমাকে ছেড়ে একা ঘুমালে তোমাকে অনেক বড় শাস্তি পেতে হবে ৷ আমিঃ তো বলেন মহারানী আমাকে কি শাস্তি দিবেন ৷ রিমিঃ এখন আমাকে 10 মিনিট জড়িয়ে ধরে রাখতে হবে আর 3 মিনিট কিস করতে হবে ৷ কি আর করার রিমির শাস্তি মাথা পেতে নিলাম ৷ নইলে আবার যদি শাস্তি বাড়িয়ে দেয় ৷ তারপর দুজনে ফ্রেশ হয়ে রিমি কলেজ চলে গেল ৷ আর আমি অফিসে চলে আসলাম ৷ আজ আর কলেজে রিয়ার সাথে দেখা করতে যাই নি ৷ কারন আজ একটা মিশন আছে তাই যেতে পারিনি ৷ আমার মিশন শেষ করে একটু রেস্ট নিচ্ছি তখন ফোন টা বেজে উঠল ৷ তাকিয়ে দেখি আমার আর একটা বোন অনিকা ৷ আমি কল রিসিভ করলাম ৷ আমিঃ কি রে এই অসহায় ভাই টাকে একদম ভুলে গেছিস ৷ কোন খোজ খবর নিস না ৷ অনিকাঃ ভাইয়া তুই তাড়াতাড়ি চাদপুর চলে আয় আব্বুর শরীর ভীষন খারাফ ৷ তোকে দেখতে চাইছে একবার ৷ 【 কান্না করে বলল】 আমিঃ কি হয়েছে আব্বুর আর তুই আগে কেন বলিস নি ৷ আমি এখনি রওনা দিচ্ছি তুই কোন টেনশন করবি না ৷ আমি এখনি আসছি ৷ তারপর আমি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বাসাই এসে ড্রেস চেন্জ করে ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে পড়লাম চাদপুরের উদ্দেশ্য ৷ বাসে উঠে ভাবলাম একটু রিমিকে ফোন দিয়ে বিষয় টা বলে দিই নইলে আবার টেনশন করবে ৷ কিন্তু পকেটে হাত দিয়ে দেখি পকেটে ফোন নাই ৷ মনে হয় বাসায় রেখে এসেছি ৷ কিন্তু এখন কিছু করার নাই ৷ আমাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চাদপুর পৌছাতে হবে ৷ কিন্তু রিমি রিয়া আমাকে না পেলে খুব টেনশন করবে আর রিয়া বা রিমির কোন নাম্বার আমার মুখস্থ নাই ৷ রাত 3 টার সময় চাদপুর পৌছালাম ৷ বাসাই গিয়ে দেখি আংকেল তার বিছানায় শুয়ে আছে মুখে অক্সিজেন মাক্স লাগানো ৷ মা আর অনিকা আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিল ৷ আমি তাদের শান্ত করে আংকেলের কাছে গেলাম ৷ আমি অফিস থেকে ছুটি নিয়েছি ঠিকই কিন্তু কোথায় গেছি আর কি কারনে ছুটি নিয়েছি কেউ জানেনা ৷ সবাই হয়তো টেনশন করবে ৷ এভাবে আমি আরো 5 দিন থাকলাম ওখানে ৷ আংকেল এখন একটু সুস্থ তাই আমি চলে আসলাম ৷ নিজের শহর যশোরে আসতে আসতে রাত হয়ে গেছে ৷ আর এসে দেখি ফোনে চার্জ না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে ৷ আমি ফোনটা চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম ৷ সকালে হঠাং করে কলিংবেলের আওয়াজে ঘুম ভেঙে ৷ আমি ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে দড়জা খুলে দেখি রিয়া রিমি মা বাবা ভাইয়া ভাবি আর শাকিল সবাই দাড়িয়ে আছে ৷ দড়জা খুলার সাথে সাথে রিয়া পাগলি বোন আমার আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ৷ আর চিৎকার করে কান্না করছে ৷ রিয়াঃ ভাইয়া কোথাই ছিলি তুই এই 6 দিন ৷ জানিস তোকে না পেয়ে আমি কত কান্না করেছে ৷ তুই ফোন রিসিভ করিস না ৷ আবার পরেরদিন ফোন বন্ধ বলছে ৷ তুই জানিস কত টেনশন হয়েছিল আমার ৷ আমি তো মনে করেছি তুই আমাকে ছেড়ে আবার চলে গেছিস ৷ আমিঃ দূড় পাগলি তোকে ছেড়ে আমি কোথাই যাব ৷ আমি একটু চাদপুর গিয়েছিলাম আংকেলের শরীর খারাফ তাই আর ফোনটা বাসাই ফেলে গিয়ে ছিলাম ৷ মাত্ত তো ছয় দিন বাইরে ছিলাম তাই এত কিছু ৷ এবার সামনে তাকিয়ে দেখি মা কান্না করছে ৷ আর বাবা আমাদের দুই ভাই বোনের ভালবাসা দেখছে ৷ আর রিমির দিকে তাকিয়ে দেখি আমি তো অবাক ৷ এই ছয় দিনে কি করেছে পাগলিটার চেহারা ৷ রিমির চোখ দিয়ে টপটপ করে পাৱি পড়ছে ৷ শুধু মা বাবা আছে তাই কিছু বলতে পারছেনা ৷ যদি মা বাবা না থাকতো তাহলে হয়ত এতসময় আমার মুখের বারটা বাজাই দিত চুমু খেয়ে ৷ মাঃ তুই চাদপুর গিয়েছিলি তা আমাদের একটু বলে যাবিনা ৷ জানিস কত চিন্তা হয়েছিল তোর জন্য ৷ আমিঃ তোমরা আবার আমার কথা কবে থেকে ভাবা শুরু করলে ৷ যে বাবা তার মায়ের সামনে নিজের পেটের সন্তান কে মারতে মারতে রক্ত বের করে দিচ্ছে ৷ আবার মারতে মারতে অজ্ঞান করে ফেলছে ৷ সেই মায়ের মুখে মায়া মমতা না দেখে ৷ একরাশ হাসি দেখেছি ৷ সেই মা আবার আমার জন্য টেনশন করে জানা ছিলনা তো ৷ তোমাদের থেকে 11 টা বছর দূড়ে থেকেছি ৷ তোমরা আমার কোন খোজখবর নাওনি ৷ আর আজ মাত্ত ছয় দিন বাইরে ছিলাম ৷ তাই আবার এত দরদ আবার টেনশন করছো তোমরা ৷ তোমাদের কোন টেনশন করতে হবেনা ৷ এতোদিন যেভাবে ছিলাম ৷ আর এখনো সারাজীবন এভাবে থাকতে পারবো ৷ আমার পাশ তোমাদের কারো লাগবেনা ৷ শুধু এই পিচ্ছি বোন টা আমার পাশে থাকলেই হবে ৷ আমিঃ রিয়া তোর মা বাবা কে ভীতরে আসতে বল আমি চা বানিয়ে আনছি ৷ নইলে যদি আবার তোর কাছে আমার নামে যদি বদনাম করে ৷ তাই তোর মা বাবা কে ভীতরে বসতে বল ৷ আমার কথা শুনে মা জোড়ে জোড়ে কান্না করে দিছে ৷ তারপর বাবা মাকে টানতে টানতে বাইরে তলে গেল ৷ মা বাবা আগে আগে যাচ্ছে তারপর ভাইয়া আর সবার পরে ভাবি ৷ আমি ভাবি কে আস্তে করে ডাক দিলাম ৷ ভাবি আমার কাছে আসলো ৷ আমিঃ ভাবি আপনি হয়তো সবকিছু জানেন আমার বিষয়ে ৷ মা মনে হয় আমাকে নিয়ে টেনশন করে ৷ আপনি একটু মাকে দেখে রাখবেন ভাবি ৷ ভাবিঃ তুমি কোন চিন্তা করনা ছোটভাই আমি সব দেখে রাখবো ৷ ভাবি চলে যাওয়ার পর আমি ফ্লোরে বসে জোরে জোরে কান্না করতে লাগলাম ৷ যেই মাযের কষ্ট আমি সহ্য করতে পারিনা ৷ আজ আমি মায়ের কান্না করতে বাধ্য করালাম ৷ মা আমার জন্য কান্না পাচ্ছে ৷ মায়ের কান্না দেখে বুকটা একদম ফেটে যাচ্ছে কষ্টে ৷ রিয়া আর শাকিল আমাকে শান্ত করল তারপর শাকিল একটু বাইরে গেল কিছু খাবার আনতে আর রিয়া চা বানাতে গেল ৷ আর আমি প্রথমে যা বলেছিলাম তাই হল ৷ পগলিটা আমাকে একা পেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে কপালে মুখে নাকে ঠোটে দাড়িতে অসংখ্যা চুমু খেতে লাগলো ৷ একদম পাগলের মত করছে রিমি ৷ মনে হচ্ছে আমি 6 দিন না 6 বছর পর বাড়ি আসলাম ৷ রিমি কোন কথা বলছেনা আমার বুকে মাথা গুজে ফুফিয়ে ফুফিয়ে কান্না করছে ৷ আমিঃ এই পাগলি আর কান্না করতে হবেনা আমি চলে এসেছি তো ৷ রিমিঃ তুই কোন কথা বলবিনা কুত্তা হারামি বানর ফাজিল শিয়াল বনবিড়াল ৷আমাকে বলে যাবিনা তুই ৷ চল আমরা এখনি বিয়ে করব ৷ আমি কোন কথা শুনব না ৷ এখনি কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে করব ৷ 【রেগে চিৎকার করে বলল】 আমিঃ প্লিজ শান্ত হও পাগলামি করনা ৷ আমাদের বিয়ের সময় মা বাবা ভাইয়া ভাবি সবাই উপস্থিত থাকবে ৷ তারপর বিয়ে করব ৷ রিমিঃ মনে থাকে জেন আর কোনদিন আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবলে একবারে খুন করে ফেলব ৷ 【 জড়িয়ে ধরে বলল】 রিয়াঃহুমমননন হুমমমমম হালকা কাশি দিয়ে ৷ রাগ পরে ভাঙায়েন আগে নাস্তা করে নাও ৷ কোন লজ্জা নাই তোমাদের সাত সকালে রোমান্স করছো ৷ রিমিঃ তাহলে তোমার ভই আমাকে কষ্ট কেন দিল ৷ আমাকে কষ্ট দিতে মানা করবে তাহলে আর সবার সামনে রোমান্স করব না ৷ আমিল হা হা হা ঠিক আছে পাগলি আর কষ্ট দেবনা ৷ কিছুক্ষন পর শাকিল কিছু নাস্তা কিনে আনলো তারপর সবাই মিলে নাস্তা করে নিলাম ৷ প্লিজ শান্ত হও পাগলামি করনা ৷ আমাদের বিয়ের সময় মা বাবা ভাইয়া ভাবি সবাই উপস্থিত থাকবে ৷ তারপর বিয়ে করব ৷ রিমিঃ মনে থাকে জেন আর কোনদিন আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবলে একবারে খুন করে ফেলব ৷ 【 জড়িয়ে ধরে বলল】 রিয়াঃহুমমমমম হুমমমমম হালকা কাশি দিয়ে ৷ রাগ পরে ভাঙায়েন আগে নাস্তা করে নাও ৷ কোন লজ্জা নাই তোমাদের সাত সকালে রোমান্স করছো ৷ রিমিঃ তাহলে তোমার ভই আমাকে কষ্ট কেন দিল ৷ আমাকে কষ্ট দিতে মানা করবে তাহলে আর সবার সামনে রোমান্স করব না ৷ আমিঃ হা হা হা ঠিক আছে পাগলি আর কষ্ট দেবনা ৷ কিছুক্ষন পর শাকিল কিছু নাস্তা কিনে আনলো তারপর সবাই মিলে নাস্তা করে নিলাম ৷ তারপর সবাই একসাথে বাইরে বের হলাম ৷ রিয়া রিমি আর শাকিল বাসাই চলে গেল ৷ আর আমি অফিসে চলে আসলাম ৷ স্যার আপনি এসেছেন আপনার খোজ করতে প্রতিদিন দুইটা মেয়ে আসতো ৷ আর সেই দিন যে দুইটা মানুষ এসেছিল একটা মহিলা আর একটা পুরুষ তারা ও প্রতিদিন আসতো আপনার খোজ করতো ৷ হুমমমম বুঝেছি আপনি যান আমি দেখছি ৷ মেহেদী ভাই নিজেকে আর কত কষ্ট দেবেন বলেন ৷ আর তা ছাড়া আপনার মা বাবা আপনার থেকে বেশি কষ্ট পাচ্ছে ৷ তাই সব কিছু মান অভীমান ভুলে গিয়ে আপনি মা বাবার কাছে ফিরে যান ৷ 【 শফিক ভাই বলল তিনি আমার সাথে চাকরি করে】 হুমমমম দেখি কি করা যায় ৷ মায়ের কান্না আর বাবার চাপা কষ্ট আমারো সহ্য হচ্ছে না ৷ আমারো খুব ইচ্ছা করে বাবা মায়ের ভালবাসা পেতে ৷ কিন্তু কি করব বলেন ভাই আমার জীবনের সব ঘটনা সব তো আর জানেন না ৷ তাই এই কথা বলছেন আমার জাইগায় আপনি হলে সব বুঝতেন ৷ তারপর আমি অফিসের কিছু কাজ করতে লাগলাম ৷ তখনি আমার ফোনটা বেজে উঠল ৷ আমি ফোন হাতে নিয়ে দেখি রিয়া ফোন দিছে ৷ রিয়াঃ ভাইয়া তুই তাড়াতাড়ি বাসাই আই মা সেই সকাল থেকে কান্না করছে ৷ কিছু খাইনি এ পর্যন্ত তোর জন্য ৷ মায়ের পেশার বেড়ে গেছে তুই তাড়াতাড়ি চলে আয় ৷ আমিঃ কি বলিস তুই একটু ওয়েট কর আমি এখনি আসছি ৷ আমি তাড়াতাড়ি বাইক নিয়ে চলে আসলাম মায়ের কাছে ৷ দেখি মায়ের কাছে রিয়া বাবা ভাবি সব বসে আছে ৷ আমি আসা মাত্ত রিয়া আমার কাছে আসল ৷ ভাইয়া তোর কাছ থেকে আসার পর মা কিছু মুখে দেয়নি ৷ সারাক্ষন কান্না করছে ৷ তুই একটু দেখ ভাইয়া নইলে তোর জন্য আমরা যে মাকে হারিয়ে ফেলব 【 রিয়া কান্না করে বলল】 আমিঃ মায়ের কিছু হবে না আমি চলে এসেছি আর কিছু হবে না মায়ের ৷ আমি গিয়ে মায়ের মাথার কাছে বসে মায়ের মাথায় হাত রাখলাম ৷ মা আমার স্পর্শ পেয়ে চোখ খুলল ৷ আর তাকিয়ে দেখে আমি বসে আছি ৷ মা মনে হয় আমাকে তার পাশে আশা করিনি ৷ তাই অশ্র ভরা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে ৷ মাঃ কেন এসেছিস তুই যা তোর আসা লাগবেনা ৷ আমি মরে গেলে তোর শান্তি হয় তাই না ৷ তুই আমাদের ভুলের জন্য ক্ষমা করবিনা যখন তখন আর বেচে থেকে লাভ কি বল ৷ যা তুই চলে যা আমি মারা গেলে তখন এসে জানাযা দিয়ে যাস ৷ তুই আমাকে আর কাদাস না বাবা ৷ তোর জন্য আমি 11 বছর কেদেছি ৷ আমি আর পারছিনা বাবা আমাকে তুই মাপ করে দে ৷ তবুও তুই আমাদের ছেড়ে দূড়ে থাকিস না বাবা ৷ 【 মা কান্না করে বলল】 আমি মায়ের চোখের পানি মুছে দিয়ে বললাম ৷ না মা আমি আর যাব না তোমাদের ছেড়ে ৷ তোমাকে আর কান্না করতে হবে না ৷ কিন্তু যদি আবার আমাকে অপমান আর কষ্ট দাও আমি আবার চলে যাব ৷ আর এবার চলে গেলে কিন্তু আমি আর কোনদিন আসবনা ৷ আর আমাকে অনেক আদর করতে হবে কিন্তু ৷ মা কোন কথা না বলে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিল ৷ বাবাঃ আমাকে কি ক্ষমা করে দিছ নাকি আমাকেও আবার খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ব ৷ তারপর আমি বাবা কে জড়িয়ে ধরলাম ৷ না বাবা তোমাদের তো সেই মাপ করে দিছি ৷ শুধু তোমাদের উপর আমার একটু চাপা অভীমান ছিল ৷ তাই তোমাদের থেকে দূড়ে ছিলাম ৷ তারপর ভাবিকে খাবার আনতে বললাম ৷ মাকে খাবার খাইয়ে দিয়ে ওষুধ খাইয়ে দিয়ে ৷ আমি চলে আসতে যাব তখন বাবা বলল ৷ বাবাঃ কোথায় যাচ্ছিস তুই ৷ আমিঃ আমি একটু পুলিশ স্টেশন যাব তারপর কাজ শেষ করে বাসাই চলে যাব ৷ বাবাঃ কেন তুই আবার কোন বাড়িতে যাবি ৷ তুই অফিস শেষ করে তোর সব জিনিস পত্র নিয়ে আজই তোর এই বাড়িতে চলে আসবি ৷ আমিঃ কিন্তু বাবা ………… বাবাঃ কোন কিন্তু না এইটা তোর বাড়ি আর তোর বাড়িতে তুই থাকবি আমি কোন কথা শুনতে চাই না ৷ আমিঃ ঠিক আছে বাবা আমি সময় মত চলে আসব ৷ তারপর আমি অফিসে চলে আসলাম ৷ সব কাজ শেষ করে আমার কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র নিয়ে চলে আসলাম নিজের বাড়িতে ৷ বাড়ি এসে দেখি বাবা মা ভাইয়া সব আমার জন্য অপেক্ষা করছে ৷ আমি আসা মাত্র ভাইয়া আমার কাছ থেকে ব্যাগ টা নিয়ে নিল ৷ আমিঃ আহহহহ ভাইয়া কি করছো আমি পারবো নিতে ৷ ভাইয়াঃ না তুই দে আমার কাছে ৷ তারপর ভাইয়ার সাথে রুমে চলে আসলাম আমার সেই পুরানো রুম ৷ যেখানে আমার শৈশব কেটেছে ৷ রুম টা বেশ পরিষ্কার করে রেখেছে ৷ হয়তো আমি এসেছি বলে রুম টা পরিষ্কার করেছে ৷ নইলে আমার মত একটা ছেলের রুম কে গোছাবে ৷ রুমে কিছুক্ষন বসে জিনিস পত্র গুলো বের করলাম ৷ তারপর রিমির কাছে ফোন দিলাম আর সব খুলে বললাম রিমি কে ৷ রিমি শুনে খুব খুশি হল ৷ মনে হয় আমার থেকে রিমি বেশি খুশি হল ৷ কারন এবার আমার আর রিমির বিয়ে হবে সেই জন্য ৷ তারপর আমি বাইরে আসলাম এসে দেখি রিয়া মা বাবা সব একজায় বসে গল্প করছে ৷ আমি রিয়া কে বললাম ৷ আমিঃ রিয়া আমি রুমে আছি আমার খাবার টা দিয়ে যাস ৷ রিয়াঃ আচ্ছা ভাইয়া তুই রুমে যা মা বাবার খাওয়া হয়ে গেলে ৷ আমি তোর জন্য খাবার নিয়ে আসছি ৷ মাঃ কেন মেহেদী রুমে খাবে কেন মেহেদী আমাদের সাথে খাবার টেবিলে বসে খাবে ৷ বাবাঃ হুমমমমন তোর মা তো ঠিকই বলেছে তুই আয় আমাদের সাথে খাবার খাবি ৷ আমিঃ না মানে এ বাড়িতে কোনদিন একসাথে খাইনি ৷ সবসময় রুমে বসে একা একা খাবার খেয়েছি ৷ তাই ভাবলাম আজো রুমে খাবার খাব ৷ মাঃ বাবা তোর কি আমাদের উপর এখনো অভিমান আছে ৷ যে আমাদের সাথে না বসে রুমে গিয়ে খাবি ৷ আমিঃ অভিমান থাকলে কি আর এ বাড়িতে আসতাম ৷ আচ্ছা ঠিক আছে তোমাদের সাথে বসে খাব ৷ তারপর সবাই মিলে খেতে বসলাম মা আমার পাশে বসে আছে ৷ হঠাং করে মা আমার দিকে এক লোকমা খাবার এগিয়ে দিল আমাকে খাইয়ে দেওয়ার জন্য ৷ আমি কোন কিছু না ভেবে ছলছল চোখে খেয়ে নিলাম ৷ এই প্রথম মায়ের হাতে খাবার খাচ্ছি ৷ আজ আমি অনেক খুশি আমার পরিবার কে আমি আবার ফিরে পেয়েছি ৷ আমরা খাবার শেষ করে যখনি উঠতে যাব তখনি কলিং বেল বেজে উঠল ৷ রিয়া গিয়ে দড়জা খুলে দিল ৷ আর সামনে দড়িয়ে আছে রিমি ৷ রিয়াঃ কি ব্যাপার ভাবি এত রাতে শশুর বাড়ি কি জন্য এসেছেন ৷ নাকি আমার ভাইয়া কে ছাড়া একা থাকতে ভাল লাগছেনা ৷ রিমি বেশ লজ্জা পেল রিয়ার কথায় ৷ মাঃ রিয়া কে এসেছে রে রিয়া ৷ রিয়াঃ তোমাদের ছোট বৌমা এসেছে তার বরের সাথে দেখা করতে ৷ আমিঃ এই পিচ্চি খুব পেকেগেছিস তাই না ৷ দ্বাড়া কাল তোর জন্য একটা রিক্সাচালক ধরে নিয়ে এসে বিয়ে দিয়ে দেব ৷ রিয়াঃ হুমমমমম বললেই হল তাই না আমার জন্য আমার ভাইয়া একটা রাজকুমার নিয়ে আসবে আমি জানি ৷ মাঃ মা রিমি এদিকে আস আর আমাদের সাথে খাবি আয় ৷ রিমিঃ না আম্মু আমি খেয়ে এসেছি এখন আর খাবনা ৷ তারপর আমরা কিছুক্ষন মিলে গল্প করলাম তারপর যে যার রুমে চলে গেল ৷ আর রাত অনেক হয়েছে বলে রিমি এখানে থেকে গেছে ৷ রিমি রিয়ার কাছে থাকবে তাই তারা দুজনে রিয়ার রুমে চলে গেল ৷ আমি রুমে এসে আমার আর এক মাকে ফোন দিলাম ৷ 【চাদপুর বাড়ি আপনারাতো সব জানেন】 তারপর মাকে সব কিছু খুলে বললাম ৷ মা অনেক খুশি হল আমার কথা শুনে ৷ কিন্তু সাথে সাথে কান্না করে দিল ৷ আমিঃ মা তুমি কান্না করছো কেন ৷ মাঃ তুই তোর আসল মা বাবা পেয়ে গেছিস ৷ এখন কি আর এই হতভাগা মাকে তোর মনে পড়বে ৷ তুই আমার নিজের ছেলে না হলেও আমি তোকি নিজের ছেলের মত মানুষ করেছি ৷ আমাদের ভুলে যাবিনা তো বাবা ৷ 【কান্না করে বলল 】 আমিঃ মা কি বলছো এসব তোমাদের কেন ভুলে যাব আমি ৷ তোমরা না থাকলে হয়ত আমি এতদিনে মারা যেতাম ৷ তোমরাই তো একটা অসহায় ছেলেকে লালন পালন করে মানুষ করছো ৷ তোমাদের ভুলে গেলে যে আল্লাহ আমাকে কোনদিন ৰমা করবে না ৷ তুমি একদম কান্না করবে না মা ৷ আমি প্রতি একমাসে একবার করে তোমাদের ওখানে যাব ৷ ঠিক আছে মা এবার শান্ত হও প্লিজ ৷ মাঃ ঠিক আছে বাবা আর কান্না করব না ৷ তোর শরীরের যন্ত নিস ঠিক আছে এখন রাখছি ৷ আমিঃ বাইইই ৷ নিজের মা বাবা অপমান অবহেলা করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল ৷ আর যাদের সাথে আার কোন সম্পর্ক নেই তারা আমাকে নিজের সন্তানের মত মানুষ করছে ৷ কোনদিন মা বাবার কষ্ট টা বুঝতে দেয়নি ৷ এসব ভাবছি আর চোখ দিয়ে দুই ফোটা নোনা জল গড়িয়ে পড়ল ৷ হঠাং করে দড়জা খোলার শব্দ পেলাম কানে ৷ মনে হল কেউ আমার রুমে এসেছে ৷ রুমের লাইট বন্ধ ছিল তাই হয়তো দেখা যাচ্ছেনা ৷ আমি চুপ করে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছি ৷ আমার কাছে আসতেই তাকে আমি শক্ত করে দেয়ালের সাথে ঠেসে ধরলাম ৷ তারপর লাইট টা অন করে দেখি রিমি ৷ রিমিকে দেওয়ালের সাথে ঠেসে ধরাই রিমির হাতে বেশ খানিক ছুলে গেছে ৷ আসলে আমাদের পুলিশ ট্রেনিংয়ে এভাবে ধরা শিখাই ৷ আর আমি চোর মনে করে রিমির উপর প্রয়োগ করলাম ৷ আমি রিমির দিকে তাকিয়ে দেখি রিমির হাতের ব্যাথার কারনে চোখ দিয়ে পানি বের হল ৷ আমার মূহুর্তের মধ্যে কেন কষ্ট লাগলো রিমির চোখে পানি দেখে ৷ আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে রিমির হাত ধরে বিছানায় বসালাম ৷ রিমিকে দেখে ভীষন কষ্ট হচ্ছে আমার ৷ আমার জন্য রিমির হাত কেটে গেছে ৷ আমি রিমির চোখের পানি মুছে দিলাম তারপর কাটা জাইগাটা পরিষ্কার করে দিলাম ৷ আমিঃ রিমি আমি বুঝতে পারিনি যে ওটা তুমি হবে ৷ সত্যি বলছি জানলে আমি এমন ভাবে ধরতাম না ৷ আমাকে মাপ করে দাও তুমি ৷ রিমিঃ নারে পাগল তুমি কেন মাপ চাইছো ৷ তুমি তো আর ইচ্ছা করে করনি ৷ তবে একটা জিনিস করলে আমি তোমাকে মাপ করতে পারি ৷ আমিঃ বলেন কি করতে হবে আমাকে ৷ রিমিঃ তোমাকে ছাড়া আার রাতে ঘুম হয় না ৷ কিছু ভাল লাগেনা তোমাকে ছাড়া ৷ তাই তো তোমার বাড়ি চলে আসলাম তোমার বুকে ঘুমাব বলে ৷ তাই তুমি কালকেই আমার বাড়ি বিয়ার প্রস্তাব নিয়ে যাবা ৷ আমি কিছু শুনতে চাইনা ৷ আর যদি তুমি দেড়ি করবে ততোদিন আমি এভাবে তোমার বাড়ি এসে তোমার বুকে মাথা দিয়ে ঘুমাব ৷ আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে কালকেই আমি বাবা কে সব বলব ৷ ঠিক আছে এখন যাও রিয়ার রুমে যাও রিয়ে টের পেলে আবার প্রবলেম হবে ৷ রিমিঃ না আমি যাবনা আমি এতদূড় এসেছি রিয়ার কাছে ঘুমাতে নাকি ৷ আমি এসেছি তোমার সাথে ঘুমাব বলে ৷ আমিঃ কিন্তু রিয়া যদি জেগে যায় তখন কি হবে ৷ রিমিঃ কিছু হবেনা কারন রিয়া জানে আমি তোমার কাছে এসেছি তা ৷ আমিঃ রিয়া কিছু বলেনি তোমায় ৷ রিমিঃ রিয়াই তো তোমার রুম দেখিয়ে দিল আমাকে ৷ তাহলে আর কি করা আস কাছে আস আজ তোমাকে অনেক আদর করব ৷ রিমিঃ না একদমই না যা হবে সব বিয়ের পর বুঝলে ৷ হুমমমম বুঝলাম কিন্তু তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরলে নিজেকে কন্টোল করতে খুব কষ্ট হয় ৷ রিমিঃ এই একদম কোন ফালতু কথা বলবেনা বুঝলে ৷ তুমি শুধু আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে তার বেশি কিছু করলে ………………… করে দেব ৷ আমিঃ কীহহহহহহ ডাকাত মেয়েরে বাবা নিজের স্বামীকে কেউ এসব কথা বলে ৷ অবশ্য এই কাজ করলে আমার থেকে তুমি বেশি পস্তাবে বুঝলে ৷ তারপর আমি আর রিমি দুজন দুজনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লাম ৷ আমিঃ রিয়া কিছু বলেনি তোমায় ৷ রিমিঃ রিয়াই তো তোমার রুম দেখিয়ে দিল আমাকে ৷ তাহলে আর কি করা আস কাছে আস আজ তোমাকে অনেক আদর করব ৷ রিমিঃ না একদমই না যা হবে সব বিয়ের পর বুঝলে ৷ হুমমমম বুঝলাম কিন্তু তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরলে নিজেকে কন্টোল করতে খুব কষ্ট হয় ৷ রিমিঃ এই একদম কোন ফালতু কথা বলবেনা বুঝলে ৷ তুমি শুধু আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে তার বেশি কিছু করলে ………………… করে দেব ৷ আমিঃ কীহহহহহহ ডাকাত মেয়েরে বাবা নিজের স্বামীকে কেউ এসব কথা বলে ৷ অবশ্য এই কাজ করলে আমার থেকে তুমি বেশি পস্তাবে বুঝলে ৷ তারপর আমি আর রিমি দুজন দুজনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লাম ৷ সকালে দড়জার কেউ নক ৷ তাই তার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল ৷ আমি উঠতে যাব তখন দেখি রিমি আমাকে এখনো জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে ৷ আমি রিমিকে ছাড়িয়ে নিলাম ৷ এখন যদি মা বাবা দড়জার ওপাশে থাকে তহলে কি হবে ৷ আমি আস্তে আস্তে দড়জার কাছে গেলাম ৷ কে দড়জার ওপাশে ৷ ভাইয়া আমি তাড়াতাড়ি দড়জা টা খোল ৷ আমি এবার একটু সস্তির নিশ্বাস নিলাম ৷ তারপর দড়জা খুলে দিলাম ৷কিরে এত চিল্লাচ্ছিস কেন কি হয়েছে ৷ মা আমার রুমে গিয়ে দেখে রিমি নেই ৷ মা জিজ্ঞাসা করলে বলেছি ওয়াশরুমে গেছে ৷ মাকে কোনরকম বুঝিয়ে নিচে পাঠাই ছি ৷ এখন তাড়াতাড়ি ভাবি ডেকে দে ৷ এক সাথে নিচে যাব ৷ তারপর আমি রিমি কে ডাকতে লাগলাম রিমি আমার গলা ধরে টান দিয়ে তার মুখের কাছে নিয়ে গিয়ে অনবরত চুমু খাচ্ছে ৷ এটা দেখে রিয়া চুপি চুপি হাসছে ৷ ওই এখানে দাড়িয়ে কি দেখছিস যা এখান থেকে ৷ হুমমমম যাচ্ছি বৌয়ের ভালবাসা দেখেলে আর বাচিনা তাই বলে একটা ভেংচি কেটে চলে গেল ৷ আমিঃ রিমি এই রিমি উঠো মা তোমাকে নিচে ডাকছে ৷ কিহহহহ আজ আমার এত দেড়ি হল কেন ঘুম থেকে উঠতে ৷ 【 ঘুম থেকে এক লাফে】 হুমমমম নিচে মা ডাকছে ফ্রেশ হযে যাও কি বলে শোন ৷ হুমমমম যাচ্ছি তাই বলে আমার গালে একটা চুমু দিয়ে লাফাতে লাফাতে চলে গেল ৷ পাগলি একটা কত ভালবাসে আমাকে কোন স্বার্থ ছাড়া আমাকে ভালবাসে ৷ তারপর রিমি নিচে চলে গেল মা বাবার সামনে ৷ বাবাঃ মা রিমি শোন আজকেই তোমার মা বাবা কে একবার আমাদের বাড়ি আসতে বলবে ঠিক আছে ৷ রিমিঃ ঠিক আছে আংকেল ৷ বাবাঃ অংকেল কেন বাবা বলবে ৷ তারপর বিকালে রিমির মা বাবা বিকালে আসলো আমাদের বাসাই ৷ আমার আর রিমির বিয়ে ঠিক হল ৷ সামনের শুক্রবার বিয়ে ঠিক করা হল ৷ আমাদের সব আত্বীয় দের ইনভাইট করা হল ৷ আমি শুধু আমার মা অনিকা আর আংকেল কে ইনভাইট করলাম ৷ যেন বিয়ের আগে চলে আসে ৷ রাতে শুয়ে শুয়ে একটু ফেসবুকিং করছি তখনি আমার ফোনটা বেজে উঠল ৷ ফোন হাতে নিয়ে দেখি রিমি ফোন দিছে ৷ আমিঃ হ্যালো রিমিঃ এই তুমি কেমন প্রেমিক হুমমম সারাদিনে আমার কথা তোমার একবারো মনে পড়নি ৷ এমনকি সারাদিনে এতবারো ফোন দাওনি ৷ আমিঃ সরি বাবু সারাদিন এত বিজি ছিলাম যে আমার একদমই মনে নাই ৷ রিমিঃ হুমমমম জানি কিরকম বিজি থাক তুমি ৷ শোন তুমি এখন আমাদের বাড়িতে আসবে ৷ আসার সময় আমার জন্য আইসক্রিম আনবে ঠিক আছে ৷ আমিঃ কিহহহহহ এত রাতে আমি কোথায় যেতে পারব না ৷ রিমিঃ তুমি না আসলে কিন্তু আমি তোমার বাড়ি চলে আসব ৷ আর আমি আসলে তুমি ভালভাবেই বুঝতে পারছো আমি কি করব তোমাকে ৷ আমিঃ হুমমমম জানি তুমি কি করতে পার ৷ তুমি একটু বস আমি আসছি ৷ রিমিঃ হুমমম তাড়াতাড়ি আস বাবু আজ সারাদিন তোমাকে দেখেনি ৷ আমি ফোন কেটে বাইক নিয়ে চলে আসলাম রিমিদের বাড়ির সামনে ৷ তারপর আমি রিমিকে ফোন দিলাম ৷ রিমি ফোন কেটে দিল ৷ কিছুক্ষন পর দেখি রিমি গেট খুলে আমার কাছে আসলো ৷ আমিঃ এই নাও তোমার আইসক্রিম এখন আমি যাই মহারানি ৷ রিমিঃ আমি তোমাকে যেতে বলেছি হুমমমম ৷ চুপ করে দাড়াও এখানে ৷ বাইক থেকে নাম তুমি ৷ হুমমমম চল আমার সাথে ৷ তাই বলে আমার হাত ধরে টানতে টানতে রিমিদের বাড়ির ভিতরে নিয়ে গেল ৷ সোজা রিমির রুমে গিয়ে আমাকে ছেড়ে দিল ৷ আমিঃ এত রাতে তুমি আমকে রুমে কেন আনলে ৷ কেউ দেখে ফেললে খুব খারাফ হবে কিন্তু ৷ রিমিঃ চুপপপপপপ ধমক দিয়ে বলল কোন কথা বলবেনা তুমি এখনে বস আমি আসছি ৷ তারপর রিমি চলে গেল একটু পর রিমি একটা বাটি হাতে নিয়ে রুমে আসলো ৷ দেখি রিমি বাটিতে আমার জন্য পায়েস নিয়ে আসছে ৷ এই নাও তোমার জন্য পায়েস আনছি খেয়ে নাও ৷ আমিঃ না তুমি আমাকে খাইয়ে দাও ৷ তারপর রিমি আমাকে খাইয়ে দিতে লাগলো ৷ তখনি আমার ফোনে একটা ম্যাসেজ আসলো ৷ আমি ম্যাসেজ টা দেখার জন্য ফোন হাতে নেব ৷ তখনি রিমি ফোনটা নিয়ে নিল ৷ আর রিমি ম্যাসেজ টা সিন করল ৷ রিমিঃ কুত্তার বাচ্চা তোকে আমি পাগলের মত বিশ্বাস করতাম আর তুই তার এই প্রতিদান দিলি ৷ তোর মত ছোটলোকের সাথে প্রেম করে আমি সবচেয়ে বড় ভুল করেছি ৷ তোর মত লুইচ্চা ছেলের সাথে আমি রাতে ঘুমিয়েছি আমার এখন মরে যেতে ইচ্ছা করছে ছি ছি ছি তুই এতটা খারাফ তোর বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ার পরেও তুই অন্য মেয়ের সাথে প্রেম করিস লজ্জা করেনা তোর ৷ 【 রেগে চিৎকার কে বলল】 আমিঃ কি বলছো রিমি এসব আমিতো কিছুই বুঝতে পারছিনা ৷ আমি আবার কার সাথে প্রেম করলাম ৷ রিমিঃ ঠাসসসসসসসসস, ঠাসসসসসসসস আমাকে দুইটা চড় মারলো ৷ চুপপপপ কোন কথা বলবিনা তুই বিশ্বাস ঘাতক একটা ৷ তুই এখনি বের হয়ে যা আমার সামনে থেকে ৷ আর কোনদিন যেন তোর এই লুইচ্চা মার্কা চেহারা আমাকে দেখাবিনে ৷ রিমির মারের কারনে আমার ঠোট টা অনেক খানিক কেটে গেছে রক্তে লাল হয়ে গেছে পুরো মুখ টা ৷ আর কোনদিন আমার সামনে আসবিনা তুই ৷ রিমিঃ এই দেখ তোর প্রেমিক ম্যাসেজ দিছে ৷ আমার সামনে থেকে দূড় হ তোর চেহারা আমার সহ্য হচ্ছে না ৷ আমি ম্যাসেজ টা পড়লাম ৷ ( বাবু কই তুমি আর কতক্ষন অপেক্ষা করব তোমার জন্য ৷ তাড়াতাড়ি আস বাবু i love u sona) ম্যাসেজ টা এরকম ছিল ৷ আমি ভাবলাম কে এই ম্যাসেজ দিছে ৷ আমিঃ রিমি তুমি বিশ্বাস কর আমি এই মেযেকে চিনিনা ৷ আমি শুধু তোমাকে ভালবাসি ৷ রিমিঃ ছোটলোক তোর ওই মুখ দিয়ে আমাকে আর ভালবাসার কথা বললে জুতা দিয়ে তোর মুখ ভেঙে দেব কুত্তা একটা ৷ যা বের হয়ে যা আমার সামনে থেকে ৷ রিমির কথা শুনে আমার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগলো ৷ রিমি আমাকে এই বিশ্বাস করে ৷ আমাকে চড় মাড়লো রিমি যে কিনা আমার ভালবাসা পাওয়ার জন্য সবসময় আমার পিছনে পড়ে থাকতো ৷ আর সেই কিনা আমাকে কুত্তার বাচ্চা ছোটলোক বলে গালাগালি করল ৷ আমি মাথা নিচু করে রিমিরসামনে বসে আছি ৷ আর তখনি ফোনে আর একটা ম্যাসেজ আসলো ৷ আমি ম্যাসেজ চেক করলাম ৷ ম্যাসেজে লেখা আছে ৷ 【 সরি ম্যাসেজ টা ভুল করে আপনার নাম্বারে চলে গেছে ৷ প্লিজ কিছু মনে করবেন না 】 রিমি আবার আমার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে ম্যাসেজ পড়তে লাগলো ৷ এবার আমি রিমির দিকে তাকিয়ে দেখি ৷ রিমির চোখ দুইটা অঝর ধারাই পানি পড়ছে ৷ আর চোখ দুটো অপরাধীর মত আমার দিকে তাকিয়ে আছে ৷ আমি কোন কথা না বলে রিমির কাছ থেকে ফোন নিয়ে বাইরে চলে আসি ৷ রিমি অনেকবার আমাকে ডাকলো কিন্তু আমি কোন কথা বলিনি ৷ চলে আসলাম বাড়িতে এসে রুমের দড়জা লাগিয়ে দিয়ে চিৎকার কান্না করতে লাগলাম ৷ আমার সাথেই কেন এগুলো হয় ৷ আমার কপাল টায় এরকম পোড়া কপাল ৷ আর এদিকে রিমি ফ্লোরে বসে চিৎকার করে কান্না করছে ৷ আমি এ কি করলাম যাকে এত ভালবাসি তাকে আমি কীভাবে সন্দেহ করলাম ৷ আবার দুইটা চড় মেরেছি ৷ ইশশশ পাগলটার ঠোট দিয়ে কত রক্ত বের হচ্ছিল ৷ যেভাবেই হোক পাগসটার কাছে আমার মাপ চাইতে হবে ৷ আমি যে মেহেদী কে ছাড়া বাচতে পারবনা ৷ 【চিৎকার কান্না করে বলল】 পরেরদিন সকালে রিমি হাটতে হাটতে মেহেদীর বাসাই চলে আসে ৷ মাঃ কি ব্যাপার মামনি নিজের জামাই কে ছাড়া কিছু ভাললাগছেনা বুঝি ৷ রিমিঃ মা আপনার ছেলে আমার উপর রাগ করে আছে ৷ তাই রাগ ভাঙাতে এসেছি ৷ মাঃ যাও মা পাগল টা উপরে ঘুমিয়ে আছে ৷ রিমি সোজা উপরে চলে আসলো কিন্তু দেখে দড়জা ভিতর থেকে লক করা রয়েছে ৷ রিমি দড়জায় নক করতে থাকে ৷ আমি বিরক্ত হয়ে এক প্রোকার দড়জা খুলে তাকিয়ে দেখি রিমি ৷ দড়জা খুলার সাথে সাথে রিমি আমার উপর ঝাপিয়ে পড়লো ৷ আর পাগলে মত মুখে সব জায়গায় কিস করতে লাগল ৷ আমিঃ রিমি কে ছাড়িয়ে নিলাম ৷ কি ব্যপার আপনি এভাবে কিস করছেন কেন ৷ প্রবলেম কি আপনার ৷ রিমিঃ মেহেদী আমাকে শেষবারের মত ক্ষমা করে দাও ৷ কথা দিচ্ছি আর কোনদিন তোমাতে সন্দেহ করব না ৷ তোমাকে অনেক ভালবাসবো তোমাকে ৷ আমাকে প্লিজ তুমি মাপ করে দাও ৷【কান্না করে বলল】 আমিঃ সরি তা আর সম্ভব না ৷ মানুষ ভুল একবারই করে ৷ আর তাকে মাপ একবারই করতে হয় ৷ আর আপনি ছোটলোকের কাছে কেন মাপ চাইছেন ৷ আপনার মানসম্মান সব চলে যাবে যে ৷ আর একটা কুত্তার বাচ্চার সাথে কথা বলছেন কেন ৷ রিমিঃ না আমি তোমাকে ছাড়ব না তোমাতে আমি যে অনেক ভালবাসি ৷ তোমাকে ছাড়া যে আমি বাচতে পারবনা ৷ আমিঃ হা হা হা ভালবাসা বুঝেন আপনি ৷ যদি সত্যিই আমাকে ভালবাসেন তাহলে আমাকে ওভাবে সন্দেহ করার আগে একটি বার যাচাই করে দেখতেন ৷ ভালবাসার মানুষের উপর বিশ্বাস রাখতে হয় ৷ যা আপনার মাঝে তা একটুকু নেই ৷ আপনি কাল বললেন যে আমি যেন আপনার সামনে আর কোনদিন না আসি তাহলে আপনি কেন এসেচেন এখানে ৷ আর আমার চেহারা আপনার সহ্য হয় না তাই না ৷ আচ্ছা সেই ব্যবস্থা করব যেন আমার চেহারা আর কোনদিন আপনাকে দেখতে না হয় ৷ আমি এখনি বাবা কে বলব এই বিয়েটা ভেঙে দিতে ৷ আর আপনি কোন চিন্তা করবেন না ৷ আমি আবার এখান থেকে ট্রন্সফার নিয়ে অন্য জায়গায় চলে যাব ৷ তাহলে আর আমার বিরক্তিকর চেহারা দেখতে হবে না ৷ রিমি আমার পা জড়িয়ে চিৎকার করে মাপ চাইতে লাগলো ৷ কিন্তু রিমির কাল রাতে বলা কথা গুলো শুনে ভীষন রাগ হল আমার ৷ আমি রিমিকে ছাড়িয়ে ওয়াশ রুমে চলে গেলাম ৷ ওয়াশ রুম থেকে বের হযে দেখি রিমি সেখানে বসে কান্না করছে ৷ আমিঃ কি হল আপনি এখনো যান নি ৷ আপনাকে দেখলে আমার ভীষন রাগ হচ্ছে বেড়িয়ে যান আমার রুম থেকে ৷ আর আমি এখনি বাবার সাথে বলে বিয়েটা ভেঙে দিচ্ছি কোন চিন্তা করবেন না আপনি ৷ রিমি উঠে গিয়ে একটা ফলকাটা ছুড়ি এনে বলল ৷ এইবার বল তুমি আমাকে মাপ করবে কিনা ৷ যদি মাপ কর তাহলে তোনার রিমিকে তুমি পাবে ৷ আর যদি না মাপ কর তাহলে সারাজীবনের জন্য রিমিকে হারিয়ে ফেলবেন ৷ আমিঃ আমার রিমি মানে আমার কোন রিমি নেই ৷ আমি রিমি নাম কে ঘৃনা করি ৷ আর তুমি যা খুশি তাই কর আমার কিছু যায় আসেনা ৷ তাই বলে আমি বাইরে চলে আসলাম ৷ আমি জানি রিমি আমাকে ভয় দেখিয়ে আমার কাছে আসতে চাইছে ৷ রিমির কোনদিন সাহস নেই হাত কাটার ৷ তারপর আমি নাস্তা করে আবার রুমে গেলাম কিন্তু রুমের ডুকার আগেই দেখি রক্ত চুইয়ে দড়জার বাইরে চলে এসেছে ৷ আমি দৌড়িয়ে রুমের ভিতর গিয়ে দেখি পুরো ফ্লোর রক্তে লাল হয়ে আছে ৷ আর আমার পাগলিটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে ৷ আমি চিৎকার করে রিমি কে তুলে ডাকতে লাগলাম কিন্তু কোন লাভ হল না ৷ রিমি অজ্ঞান হয়ে গেছে ৷ আমি তাড়াতাড়ি রিমিকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম ৷ কিছুক্ষন পর মা বাবা রিয়া ভাইয়া সবাই আসলো হাসপাতালে ৷ একটু পর ডাক্তার বের হল ৷ ডাক্তারের মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে আমার রিমির সাথে খারাফ কিছু হয়েছে ৷ আমি দৌড়িয়ে ডাক্তারের কাছে গেলাম ৷ আমার রিমি কেমন আছে এখন সব ঠিক আছে তো এখন ৷ ডাক্তারঃ দেখুন ক্ষত টা অনেক গভীরে চলে গেছে ৷ আর রক্ত ক্ষরন অনেক হয়েছে ৷ এখন রত্ত দিলে আর শরীরে কোন রক্ত থাকবেনা ৷ সরি আমাদের আর কিছু করার নেই ৷ রোগীর হাতে আর বেশি সময় নেই ৷ আপনাদের মধ্যে মেহেদী কে তাকে ভীতরে যেতে বলল ৷ আমি দৌড়িয়ে ভিতরে গেলাম দেখি রিমি বেডে শুয়ে আছ ৷ আমি গিয়ে রিমির মাথার কাছে বসলাম ৷ তুমি কেন এমন করলে ৷ তুমি যান না তোমাকে আমি কত টুকু ভালবাসি আমি তো তোমার সাথে মজা করছিলাম ৷ কারন আমি জানি ভালবাসার মানুষের সাথে কোন মেয়েকে সহ্য করতে পারেনা তার হবু বৌ ৷ আমি তো তখন এমনি বলেছি আর তুমি সত্যি নিজের এত বড় ক্ষতি করলা ৷ উঠো দেখ তোমার মেহেদী তোমার কাছে এসেছে ৷ তোমাকে মাপ করে দিছে ৷ আর কোনদিন তোমাকে ছেড়ে যাব না ৷ 【কান্না করে রিমিকে জড়িয়ে ধরলাম】 রিমিঃআমি জানিতো আমার পাগল টা আমাকে অনেক ভালবাসে ৷ তাই তাকে ছেড়ে চলে গেলে যে আমার পাগলটা অনেক কষ্ট পাবে ৷ আমিঃ এই তুমি ঠিকআছো তোমার কিছু হবেনা দেখে নিও ৷ রিমিঃ আরে পাগল আমার কিছু হয়নি আমি ঠিক আছি ৷ তুমি আমার সাথে তখন এমন করলা তাই আমিও একটু ডাক্তার কে দিয়ে অভিনয় করলাম ৷ তারপর আমি রিমিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম ৷ এমন পাগলামি আর করবা না ৷ তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবনা ৷ খুব ভালবাসি তোমাকে ৷ রিমিঃ আমিও আমার পাগল টাকে অনেক ভাল বাসি যে ৷ আর কোনদিন তোমাকে সন্দেহ করব না ৷ অনেক আদর করব তোমায় আর কষ্ট দেব না তোমাকে ৷ তারপর মা বাবা রুমে প্রেবশ করল ৷ আমরা আলাদা হয়ে গেলাম ৷ একদিন পর রিমি কে বাসাই নিযে গেল ৷ রিমি সুস্থ হলে আমাদের বিয়েটা হবে ৷ আজ আমার বিয়ে সব নিয়মকানুন মেনে রিমিকে বিয়ে করে আমাদের বাড়িতে আনলাম ৷ রিমি এখন বাসর ঘরে বসে আছে ৷ আর আমার বন্ধুরা আমাকে জোর করে ঘরে ডুকাই দিল ৷ রিমি এসে আমাকে সালাম করল ৷ আমি রিমি ধরে বুকে জড়িয়ে নিলাম ৷ এই রিমি আমার না এখন বিড়াল মারতে ইচ্ছা করছে ৷ রিমিঃ যাহহহহহ দুষ্টু তোমার কোন লজ্জা নাই পাঠক পাঠিকা রা সবাই শুনছে তো ৷ ওহহহহহহ সরি ভাইয়া ও আপুরা আপনারা এবার যান ৷ আর আমি বিড়াল মারার জন্য লাঠিটা একটু পলিশ করে নিই ৷ …………সমাপ্ত………………….

About Author


Administrator
Total Post: [358]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy