অবহেলিত জীবন [7th পর্ব]

লেখকঃ মেহেদী হাসান

আমি চাদপুর শহরে ট্রেন থেকে নেমে সোজা হেটে চলে যাচ্ছি ৷ কোন নির্দিষ্ট জাইগা নেই যাওয়ার ৷ আনমনে একভাবে পথ হেটে চলে যাচ্ছি ৷ খুব কান্না পাচ্ছে আমার পাগলিটা সকালে আমাকে না দেখে হয়তো কান্না কাটি শুরু করে দিছে ৷ খুব খারাফ লাগছে রিয়া কে ছাড়া ৷ এভাবে হাটতে হাটতে হঠাং খেয়াল করি একটা বাচ্চা মেয়ে খেলতে খেলতে রাস্তার উপর চলে আসছে ৷ আশে পাশে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই ৷ আর সামনে প্রচন্ড গতিতে একটা ট্রাক আসছে ৷ আমি তাড়াতাড়ি দৌড়ে মেয়েটার দিকে গেলাম ৷ আমি বাচ্চা টাকে কোলে নিয়ে দ্রত সরে গেলাম ৷ কিন্তু আমি বাচ্চা টাকে নিয়ে সরে যেতে অপর পাশ থেকে আসা এক সিনজি এর সাথে ধাক্কা লাগে ৷ আর আমার মাথায় একটু বাড়ি লেগে মাথাটা কেটে যায় ৷ কিন্তু বাচ্চাটার কিছু হয় নি ৷ কিছুক্ষন পর একটা মহিলা অনিকা অনিকা বলে চিৎকার করে দৌড়ে আসছে ৷ মনে হয় এই বাচ্চাটার মা ইনি ৷ তিনি দৌড়ে এসে বাচ্চাটাকে আমার কোল থেকে নিয়ে কান্না করতে থাকলো ৷ তারপর আমার কাছে এসে বলল বাবা তোমার তো অনেক কেটে গেছে চল হাসপাতালে যায় তোমাকে আগে টিট্টমেন্ট করে আসি ৷ তোমাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দেব বাবা ৷ তোমার কাছে যে আমি চির কৃতঙ্গ রয়ে গেলাম ৷ আমিঃ না আন্টি এখানে ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই ৷ আর হাসপাতালে নিতে হবে না ৷ এটুকু আঘাতে আমার কিছু হবেনা ৷ এর থেকে বড় আঘাত আমার সহ্য করা আছে ৷ তাই কিছু হবে না আমার দুইদিন পরে সব ঠিক হয়ে যাবে ৷ আন্টিঃ চুপ কোন কথা বলবেনা আমি যা বলছি তাই হবে ৷ চুপচাপ চল আমার সাথে ৷ আর এর থেকে বড় আঘাত সহ্য করছো মানে ৷ আর তোমার শরীরে এমন দাগ কেন ৷ মনে হচ্ছে কেউ তোমাকে খুব মারছে ৷ আমিঃ না কিছু হয় নি আন্টি এমনি সব ঠিক হয়ে যাবে ৷ আন্টিঃ চুপ কোন কথা না চল আমার সাথে ৷ তারপর আন্টি আমাকে জোর করে গাড়িতে বসে নিয়ে চলে গেল হাসপাতালে ৷ আমাকে ডাক্তার মাথায় কিছু ওষুধ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিল ৷ আন্টিঃ ডাক্তার সাহেব আমি কি এখন ওকে নিয়ে যেতে পারি ৷ ডাক্তারঃ হুমমম কিন্তু এই ছেলে কে হয় আপনার ৷ আর এই ছেলের শরীরে প্রচন্ড মারের দাগ রয়েছে ৷ মনে হয় কেউ তাকে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে মারছে ৷ আমি কিছু ঔষুধ লিখে দিচ্ছি ৷ আপনি সময় মত তাকে খাইয়ে দেবেন ৷ তারপর ডাক্তার চলে গেল আর আন্টি বিল পেমেন্ট করে আমাকে নিয়ে গাড়িতে করে চলে আসলো ৷ গাড়ি থামল একটা দোতালা বাড়ির সামনে ৷ বাড়িটা খুব সুন্দর মনে হয় বেশ ধনী পরিবার এরা ৷ বাড়ির মধ্যে ডুকে আমাকে বাথরুম দেখিয়ে দিলআর ফ্রেশ হয়ে নিতে বলল ৷ আমি ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি আন্টি খাবার টেবিলে খাবার নিয়ে বসে আছে ৷ সত্যি বলতে কি আমিও কিছু খাইনি কাল রাত থেকে তাই খুহ ক্ষুদা লেগেছিল ৷ আমি খাবার খেয়ে উঠতে যাব তখন আন্টি বলল ৷ আন্টিঃ বাবা তোমার নাম কি ৷ আমিঃ মেহেদী হাসান আন্টিঃ একটা কথা বলব তুমি যদি কিছু মনে না কর ৷ আমিঃ না আপনি বলেন এতে আবার অনুমতি নিচ্ছেন কেন ৷ আন্টিঃ তোমার শরীরে এমন আঘাতের দাগ কেন বলবে আমায় ৷ আমি আন্টির কথা শুনে মাথা নিচু করে ফেললাম ৷ আন্টিঃ কি হল বলবেনা যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে বলার দরকার নেই ৷ না আন্টি কোন সমস্যা নেই তারপর আমার জীবনের যা কিছু ঘটে গেছে সব বললাম ৷ আর আমার চোখ দিয়ে অধর ধারাই পানি পড়তে লাগলো ৷ আন্টির দিকে তাকিয়ে দেখি আন্টি ও কান্না করছে ৷ আমিঃ আপনি কান্না করছেন কেন আমার জীবন টায় এরকম সবই আমার কপালের লিখন ৷ আন্টিঃ তুমি এই বয়সে এত অত্যচার আর অবহেলা সহ্য করছো ৷ তোমার মা বাবা খুব অন্যায় করেছে তোমার সাথে ৷ তোমার এখানে অন্যায় আছে কিনা না দেখে তোমার উপর এমন অত্যচার কীভাবে করলো ৷ আমিঃ মা বাবা যা করে সন্তানের জন্য ভালই করে ৷ সবই আমার কপাল এখানে কারো দোষ দেব না আমি ৷ আন্টিঃ তোমার মত ছেলে পাওয়া ভাগ্যোর ব্যাপার ৷ তা বল এখানে কার বাড়ি উঠেছো ৷ এখানে কোন আত্বীয় আছে ৷ আমিঃ না কেউ নেই এখানে থাকবো কোথাও রাস্তায় এমনি আর এ জীবন রেখে কি হবে ৷ যদি চলে না আসতাম বাড়ি থেকে ৷ তাহলে হয়তো এতোদিন এমনি মরে পড়ে থাকতাম রুমে ৷ আন্টিঃ চুপ একদম চুপ আর কোনদিন মরার কথা বলবেনা ৷ আর তুমি আজ থেকে এ বাড়িতে থাকবে ৷ আর আমাকে মা বলে ডাকবে আর অনিকা আজ থেকে তোমার বোন ৷ রিয়া কে যেভাবে ভালবাসতে সেভাবে অনিকাকে ভালবাসবে ৷ আমিঃ কিন্তু কীভাবে ……… আন্টিঃ কোন কিন্তু না তুমি আজ থেকে এবাড়িতে থাকবে আর তুমি আবার পড়াশুনা করবে ৷ তারপর আন্টি আমাকে একটা রুম দেখিয়ে দিল ৷ আমি রুমে শুয়ে আছি ৷ কিছুক্ষন পর অন্টির মেয়ে অনিকা আসলো রুমে ৷ আস্তে হেটে বিছানায় উঠে আমার পেটের উপর বসে পড়ল ৷ তুমি কি আমার ভাইয়া আম্মু বলল তুমি আমার আজ থেকে ভাল ভাইয়া ৷ অনিকার কথা শুনে রিয়ার কথা মনে পড়ে গেল ৷ চোখ দিয়ে পানি ঝড়তে লাগলো ৷ অনিকাঃ ভাইয়া কি হল তুমি কাদছো কেন আম্মু বলল যে তুমি আমার ভাল ভাইয়া তাহলে তুমি কেন কান্না করছো ৷ আমিঃ না আপু কান্না করছি না ৷ আমি তো তোমার ভাল ভাইয়া তাই আর কান্না করব না ৷ 【 গালে একটা পাপ্পি দিয়ে】 তারপর অনিকা আমার পাশে শুয়ে পড়ল ৷ তারপর শরীর ক্লান্ত থাকায় আমি ঘুমিয়ে পড়লাম ৷ হঠাং করে নাকে কিছু সুরসুরি কারনে ঘুমটা ভেঙে গেল ৷ তাকিয়ে দেখি অনিকা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে ৷ অনিকা একদম রিয়ার মত হাসে ৷ খুব মনে পড়ছে পাগলিটার কথা ৷ তারপর অনিকার সাথে একটু দুষ্টামি করলাম ৷ কিছুক্ষন পর আন্টি রাতের খাবারের জন্য ডাক দিল ৷ আমি অনিকাকে কোলে নিয়ে খাবার ডেবিলে গেলাম ৷ আচ্ছা আন্টি আংকেল তো দেখছিনা কোথায় থাকে আংকেল ৷ আন্টিঃ আর একবার আন্টি বললে কিন্তু যেখান থেকে নিয়ে এসেছিলাম সেখানে দিয়ে আসব ৷ আর অনিকার বাবা পুলিশের চাকরি করে ফোন দিয়েছি এখনি চলে আসবে ৷ আর হবে না মা ৷ তারপর খাবার খেতে লাগলাম আর মা আমাকে খাবার বেড়ে দিচ্ছে ৷ হঠাং করে মায়েরকথা মনে পড়ে গেল ৷ আমি খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিয়ে খাবারের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি ৷ মাঃ কি হল খাবার খাচ্ছ না কেন ৷ আমিঃ না মানে বাড়িতে যে কতদিন একসাথে মা বাবার সাথে খাবার খাইনি ঠিক মনে পড়ছেনা ৷ আন্টিঃ এখানে মন খারাফ করছো কেন আমি তো আছি ৷ এখন থেকে আর আর মন খারাফ করবে না ৷ আস এদিকে আস আমি খাইয়ে দিচ্ছি ৷ তারপর মা আমাকে আর অনিকা কে নিজের হাতে খাইয়ে দিল ৷ অনেক ভাল লাগছে অনেক দিন পর মায়ের হাতে ভাত খাচ্ছি ৷ পৃথীবি কত নিষ্টুর যেখানে নিজের মা বাবার কাছ থেকে অবহেলা আর অপমান ছাড়া কিছু পাইনি ৷ আর এখানে নিজের মা না হওয়া সত্বেও কত ভালবাসে আমাকে ৷ কিছুক্ষন পর অনিকার বাবা আসলো আর আমাকে দেখে বলল ৷ তাহলে তুমি মেহেদী হাসান ৷ তোমার প্রতি আমরা চির কৃতজ্ঞ থাকব বাবা ৷ আমিঃ কি বলছেন আংকেল বাবা কোনদিন ছেলের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকেনা ৷ আর অনিকা তো আমার বোনের মত ৷ আংকেলঃ হুমমম অনিকার মা সব বলেছে আমাকে ৷ তুমি সুস্থ হয়ে নেও তারপর তোমাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেব আর আজ থেকে তুমি এ বাড়ির ছেলে ৷ মনে থাকবে তো যখন যা লাগে বলবে তোমার মাকে সব পেয়ে যাবে তুমি ৷ এভাবে আমি ssc পরীক্ষা দিলাম ৷ মা আমাকে প্রচন্ড ভালবাসে ৷ আর আংকেল আমাকে তার নিজের ছেলের মত ভালবাসে ৷ আর অনিকা আমাকে তার আপন ভাইয়ের মত ভালবাসে ৷ এভাবে আরো কয়টি বছর পার হয়ে গেল ৷ আমি আজ পুলিশ চাকরির জন্য এপ্লাই করেছি তাই পুলিশ লাইনে দাড়িয়ে আছি ৷ অবশ্য আংকেল আমাকে পুলিশে লাইনে দাড়াতে সাহায্য করেছে ৷ আর পুলিশের চাকরি টা হয়ে গেল আংকেলের জন্য ৷ তারপর S I পদে চাকরি টা হয়ে গেল ৷ তারপর আংকেলের সাহায্য নিয়ে ট্রান্সফর নিয়ে এখানে নিজের শহরে চলে আসি ৷ নিজের শহরে চলে আসার সময় মা অনিকা আর আংকেল অনেক কান্না করেছে ৷ বিশেষ করে মা আর অনিকা আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্না করেছে ৷ আমারো আসতে ইচ্ছা করছিল না ৷ কিন্ত আমার পাগলি বোনটাকে অনেক দিন দেখিনি ৷ তাই এই শহরে চলে আসলাম ৷ \ \ \ \ \ \ এবার ভবিৎষতে চলে আসা যাক ৷ পুরানো কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি জানিনা ৷ সকালে হঠাং করে দড়জার নক করার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল ৷ আমি দড়জা খুলে দেখি পাগলি বোন টা দাড়িয়ে আছে ৷ আমিঃ কি ব্যাপার আপু এত সকালে এখানে কি করা হচ্ছে ৷ রিয়াঃ তুমি খুব খারাফ ভাইয়া তোমাকে কতদিন পর পেয়েছি ৷ আর তুমি আমার কোন খোজ নেওনা ৷ যদি আমাকে তুমি ভালবাসতে তাহলে আমাকে দেখার জন্য আমার কাছে চলে আসতে ৷ আমিঃ ওরে আমার পিচ্চি বোনটি তোমাকে কি ভুলে থাকা যাই বল তুমি তো আমার কলিজার টুকরা তোকে ছাড়া থাকতে আমারো যে খুব কষ্ট হয় রে পাগলি ৷ রিয়াঃ থাক আর দরদ দেখাতে হবে না তুই আমাকে কতটুকু ভালবাসিস আমার জানা আছে ৷ এখন চল আমার খুব ক্ষুদা পেয়েছে চল কিছু খাব ৷ আমিঃ হুমমমম একটু বস আমি ফ্রেশ হয়ে আসি ৷ তুই ভিতরে গিয়ে বস ৷ আমি আসছি ৷ তারপর আমি ফ্রেশ হতে গেলাম ৷ ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি পাগলিটা আমার রুমের নকশা পাল্টায়ে ফেলে দিছে ৷ সুন্দর করে গুছিয়ে ফেলছে রুম টা ৷ তারপর নাস্তা করে রিয়াকে কলেজে নামিয়ে দিতে আসলাম ৷ তখন রিয়ার কিছু বান্ধবী আসলো আমাদের কাছে ৷ রিয়া সবার সাথে আমার পরিচয় করে দিল ৷ তারপর সবাই ক্লাসে চলে যাওয়ার জন্য চলে যেতে লাগলো তখন রিয়ার এক বান্ধবী আমার কাছে আবার আসলো ৷ আসলে ভাইয়া আপনার সাথে একটা কথা আছে ৷ আমিঃ হুমমম বল কি বলবা ৷ রিয়ার বান্ধবীঃ চলেন ওই ক্যানটিনে বসে বসে কথা বলি ৷ তারপর ক্যান্টিনে এসে দুইটা কফি আর্ডার করলাম ৷ তারপর রিয়ার বান্ধবী বলতে লাগলো ৷ রিয়ার বান্ধবীঃ আমি যখন কলেজে আসি তখন আমাদের গ্রামের পাশে কিছু ছেলে আমাকে প্রতিদিন খারাফ ভাষায় কথা বলে ৷ একদিন শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে ৷ আপনি তো পুলিশ কিছু করেন ভাইয়া ৷ আমিঃ আচ্ছা কাল সকালে তুমি যখন কলেজে আসবা তখন আমাকে ফোন দেবা ৷ ৷ তারপর আমি নাম্বার দিয়ে চলে আসতে যাব তখন দেখি ৷ রিমি আমাদের দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ৷ আমি রিমি কে পাশ কাটিয়ে চলে আসতে যাব তখন রিমি বলল ৷ রিমিঃ কি ব্যাপার তুমি ওই মেয়ের সাথে এতক্ষন কি কথা বলছিলা ৷ আর তুমি ওর নাম্বার কেন দিলা ৷ 【রাগূ সুরে বলল】 আমিঃ আমি যার সাথে কথা বলিনা কেন তাতে আপনার কি ৷ আমার ইচ্ছা যার সাথে কথা বলব তাতে আপনার কি আমিতো কিছুই বুঝতে পারছিনা ৷ রিমিঃ কারন তোমাকে যে আমি ভালবাসি ৷ অনেক ভালবাসি তোমাকে ৷ আর তোমার জন্য আমি এতোদিন অপেক্ষা করেছি শুধু তোমার জন্য ৷ তুমি চলে যাওয়ার পর তোমার বন্ধু শকিল আমাকে সব বলেছে ৷ তুমি জীবনে এতটা কষ্ট করেছে আমি জানিনা ৷ তারপর তোমার অনুপ্স্থিতে আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলি ৷ আমিঃ হা হা হা এসব ফালতু কথা বাদ দিন ৷ আপনার মত মেয়েকে ভালবাসবো তাও আবার আমি ৷ সরে জান সমনে থেকে আমার কাজ আছে ৷ তারপর আমাদের কাছে রিয়া আসলো ৷ রিয়াঃ কি ব্যাপার ভাইয়া তুই এই অহংকারি মেয়ের সাথে কথা বলছিস কেন ৷ তোর মনে নেই এই মেয়ের জন্য তোকে কতটা কষ্ট সহ্য কতে হয়েছে ৷ আমি আর কোন মেয়ের জন্য কোরে হারাতে পারব না ভাইয়া ৷ আর আপনি আমার ভাইয়ার আশে পাশে যেন না দেখি ৷ তাই বলে রিয়া আমাকে টানতে টানতে নিয়ে চলে আসলো ৷ …………………চলবে……………………

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*