অবহেলিত জীবন [৮ম পর্ব]

লেখকঃ মেহেদী হাসান

\"\"

এসব ফালতু কথা বাদ দিন ৷ আপনার মত মেয়েকে ভালবাসবো তাও আবার আমি ৷ সরে জান সমনে থেকে আমার কাজ আছে ৷ আর কেউ একদিন ছোটলোক ক্ষ্যাত ফকিরের বাচ্চা বলেছিল ৷ আর সেই ছোটলোকের বাচ্চা কে আপনি ভালবাসেন ৷ লজ্জা করেনা আপনার আমাকে ভালবাসার কথা বলতে ৷ দেখি রিমি লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে ৷ তারপর আমাদের কাছে রিয়া আসলো ৷ রিয়াঃ কি ব্যাপার ভাইয়া তুই এই অহংকারি মেয়ের সাথে কথা বলছিস কেন ৷ তোর মনে নেই এই মেয়ের জন্য তোকে কতটা কষ্ট সহ্য কতে হয়েছে ৷ আমি আর কোন মেয়ের জন্য কোরে হারাতে পারব না ভাইয়া ৷ আর আপনি আমার ভাইয়ার আশে পাশে যেন না দেখি ৷ তাই বলে রিয়া আমাকে টানতে টানতে নিয়ে চলে আসলো ৷ আচ্ছা রিয়া রিমি কি এখোনো বিয়ে করেনি ৷ তা জেনে তুই কি করবি বল ৷ আর তুই চলে যাবার পর রিমি প্রতিদিন তোর কথা জানতে চাইতো কিন্তু আমি প্রতিদিন অপমান করে তাড়িয়ে দিতাম ৷ রিয়াঃ আচ্ছা ভাইয়া কাল তো শুক্রবার কলেজ বন্ধ কাল তো তোর সাথে দেখা হবেনা রে ভাইয়া ৷【মন খারাফ করে বলল 】 আমিঃ কে বলল দেখা হবে না কাল তুই বাড়ি থেকে তুই নিজের হাতে রান্না করবি আমি গিয়ে খেয়ে আসব ৷ কিন্তু আমাকে খাইয়ে দিতে হবে নইলে আমি যাবনা ৷ তারপর রিমি ক্লাসে চলে গেল আর আমি ডিউটিতে চলে আসলাম ৷ দুপুর শেষে আমি একটু বাজারের মধ্যে গেলাম কিছু কেনাকাটা করতে আমার পিচ্চি বোনটার জন্য ৷ এখনো কিছু কিনে দেওয়া হয় নি তাই ৷ এক দোকানে ঢুকে কিছু কেনার জন্য চয়েজ করছি ৷ তখন পিছন থেকে কে যেন ডাকদিল আমার নাম ধরে ৷ আমি পিছনে ঘুরে দেখি আমার বড় ভাইয়া ৷ আমি কোন কথা না বলে পাশ কাটিয়ে চলে আসতে যাব তখন ভাইয়া আমার হাত ধরল ৷ ভাই আমার তুই কি এখোনো আমাদের উপর রাগ করে আছিস ৷ আমিঃ আমি কারো উপর রেগে নেই ৷ যেখানে আমাকে ছেলে বলে অস্বসীকার করে তাদের উপর রাগ করে কি হবে বলুন ৷ আর আমার রাগ করা বা না করাই কিছু যায় আসেনা আপনাদের ৷ কারন আমি এখন আর আপনাদের কিছু হই না ৷ আমার এখন একটা পরিবার আছে ৷ মা বাবা আর ছোট একটা বোন ৷ তাদের সাথে আমার কোন রক্তের সম্পর্ক নেই কিন্তু তারা আমাকে নিজের সন্তানের চাইতেও বেশি ভালবাসে আমাকে ৷ ভাইয়াঃ প্লিজ ভাই আমার তুই সব কিছু ভুলে যা চল বাড়ি চল ৷ মা বাবা তোর জন্য প্রতিদিন কান্না করত ৷ তুই চলে আসার পর ৷ চল ভাই বাড়ি চল ৷ আমিঃ আমার কোন বাড়ি নেই ৷ ঐর যে বাড়িতে যেতে বলছেন সেখানে অপমান অত্যচার আর অবহেলা ছাড়া কিছু নেই সেখানে ৷ আর আমাকে যারা রাস্তার কুকুরের মত মারছে তারা কোনদিন আমার মা বাবা হতে পারেনা ৷ এটুকু বলে আমি চলে আসলাম অফিসে ৷ তারপর আমি রিয়া কে ফোন দিলাম ৷ হ্যালো আপু আমি কাল মনে হয় বাড়ি যেতে পারবনা ৷ খুব কষ্ট হবে মা বাবাকে দেখে ৷ তুই রান্না করে নিয়ে চলে আয় থানায় তারপর আমরা দুইভাই বোন মিলে খাবার খাব ৷ রিয়াঃ না ভাইয়া আমি কোন কথা শুনতে চাইনা কাল তুই আসছিস এটাই ফাইনাল ৷ আমিঃ কিন্তু মা বাবা কে দেখে যদি আমি নিজের প্রতি কন্টোল না করতে পারি তখন কি হবে৷ আর মা বাবা তো আমাকে সহ্য করতে পারেনা যদি আবার আগের মতো অপমান করে ৷ রিয়াঃ কিছু হবে না ভাইয়া তুই চলে আই আমি অপেক্ষা করব কিন্তু ৷ তারপর ফোন রেখে দিলাম তারপর আবার অফিসে চলে আসলাম ৷ অফিস শেষে বাসাই গিয়ে আমি আমার মা আর আংকেল কে ফোন দিলাম ৷ তারপর আমার আর একটা বোন আছে আপনারা তো জানেন সবাই ৷ অনিকা নাম আন্টির মেয়ে তার সাথে কথা বললাম ৷ পাগলিটা আমাকে দেখার জন্য কান্না করছে ৷ তারপর রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যাব তখন হঠাং করে ফোনটা বেজে উঠলো ৷ আমি ফোন হাতে নিয়ে দেখি একটা অপরিচিত নাম্বার ৷ আমি রিসিভ করলাম কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ কোন কথা বলছে না ৷ আমিঃ হ্যালো কিছু বলবেন নাকি ফোন রেখে দেব ৷ ওপাশ থেকে ফুফিয়ে কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে ৷ আমিঃ কি ব্যাপার আপনি কান্না করছেন কেন কি হয়েছে আপনার বলবেন তো আমায় ৷ প্লিজ মেহেদী আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও ৷ তোমার প্রতি আমি যা অন্যায় করেছি তা কোনদিন ক্ষমার যগ্য না আমি ৷ কিন্তু শুধু তোমার সাথে একবার কথা বলার জন্য আমি এখোনো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি ৷ তুমি চলে যাওয়ার পর তোমাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে কখন যে তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি জানিনা আমি ৷ তোমাকে আমি পাগলের মত ভালবাসি ৷ তুমি যা বলবে আমি তাই করব প্লিজ মেহেদী আমাকে তুমি ক্ষমা কপে দাও ৷ 【কান্না করে বলল】 আমিঃ আগে বলেন আপনি আমার নাম্বার কোথায়ই পেয়েছেন ৷ রিমিঃ শাকিলের কাছ থেকে নিযেছি ৷ পিল্জ মেহেদী আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও ৷ তুমি চলে যাওয়ার পর শাকিল আমাকে সব বলেছে ৷ তোমার জীবনে এতটা কষ্ট ছিল আমি কোনদিন জানতাম না ৷ আর জানলে কোনদিন তোমার সাথে এমন ব্যাবহার করতাম না ৷ তোমার কথা ভেবে ভেবে প্রতি রাতে আমি কান্না করেছি শুধু তোমার কাছ থেকে ক্ষমা চাইবার জন্য ৷ আমিঃ শেষ হয়েছে আপনার এসব ন্যাকামি কান্না ৷ আর শুনুন আপনার মত একটা অংহকারি বদমেজাজি মেয়ের সাথে কোনদিন ভালবাসা কেন একটু প্রেম করবো না ৷ কেন ভুলেিয়েছেন আপনার সামনে আপনার জন্য আমার বাবা রাস্তার কুকুরের মত মেরেছিল ৷ সেদিন তো আমি বিনাঅন্যায়ে আমি মার খেয়েছিলাম ৷ এখন আবার কি প্লান করছেন আমাকে মার খাওয়ানোর জন্য ৷ আর কোনদিন এই নাম্বারে ফোন দিবেন না ৷ তাই বলে আমি ফোন রেখে ঘুমিয়ে পড়লাম ৷ পরেরদিন অফিস বন্ধ তাই সকাল 10 টা প্রর্যন্ত ঘুমালাম ৷ ঘুম ভাঙতেই দেখি ফোনটা কেপে উঠছে ৷ কাল রাতে ফোন সাইলেন্ট করে ঘুমিয়ে ছিলাম ৷ দেখি পাগলি বোনটা আমাকে 18 বার ফোন দিছে ৷ আমি তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে রওনা দিলাম আমাদের সেই পুরানো বাড়ি ৷ ওহহহ সরি এখন তো আমার আর বাড়ি নেই ৷ আমার পিচ্চি বোনটার বাড়ি ৷ কলিং বেল বাজালাম সাথে সাথে দেখি দড়জা খুলে দিল ৷ সামনে তাকিয়ে দেখি রিয়া ৷ তোর কোন আসতে সমস্যা হয় নিতো ভাইয়া ৷ নারে পাগলি কোন সমস্যা হয়নি ৷ চল ভিতরে যায় ৷ তারপর দুজন মিলে রিয়ার রুমের দিকে যেতে লাগলাম তখন মা পিছন থেকে ডাক দিল ৷ আমি পিছনে ঘুরে দেখি মায়ের চোখে পানি ৷ মায়ের চোখে পানি দেখে আমার খুব কষ্ট হতে লাগলো ৷ মনে হচ্ছে দৌড়িয়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরি কিন্তু তার আগেই রিয়া বলা শুরু করলো ৷ রিয়াঃ এ আপনার ছেলে মেহেদী না ৷ আপনার ছেলেকে তো আপনি আর আপনার স্বামী মিলে সেই 11 বছর আগে মেরে ফেলছেন ৷ এখন যাকে দেখছেন সে হল আমার ভাইয়া ৷ আর যদি আমার ভাইয়া কে আবার অপমান আর অবহেলা করতে চান তাহলে করতে পারেন সমস্যা নাই ৷ আমার ভাইয়ার এটুকু অপমান সহ্য করার শক্তি আছে ৷ তাই বলে রিয়া আমাকে কিছু বলতে না দিযে টেনে তার রুমে নিয়ে গেল ৷ আমিঃ রিয়া তুই মায়ের সাথে এমন ব্যাবহার করলি কেন ৷ রিয়াঃ তুই চলে যাওয়ার পর থেকে আমি কারো সাথে কথা বলিনা ৷ সবসময় এক একা রুমে বসে থাকতাম ৷ দুই একটা গুরুত্বপূর্ন কথা ছাড়া বলতাম না ৷ তারপর রিয়া আমাকে খাইয়ে দিল ৷ আমি রিয়া খাইয়ে দিলাম ৷ দেখি রিয়া কান্না করতেছে ৷ কিরে কি হল তোর কান্না করছিস কেন ৷ ভাইয়া আজ কতদিন পর তোর হাতে খাবার খেলাম ৷ তুই যদি আমাকে রেখে কোনদিন চলে যাস তাহলে আমি বলে দিলাম তোর পাগলি বোনটাকে তুই চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলবি ৷ চুপ পাগলি এ কথা আর বলবিনা ৷ আমার কলিজার টুকরা কে রেখে আমি আর কোন জায়গায় যাব না ৷ আসার সময় মার্কেট থেকে কিছু কেনাকাটা করছিলাম সেগুলো রিয়া কে দিয়ে চলে আসতে যাব ৷ তখন আমার সামনে আবার মা চলে আসলো ৷ মাঃ বাবা আমাকে একবার মা বলে ডাকবিনা ৷ এতটা অভীমান আমাদের উপর যে একবার আমার সাথে কথা বলবিনা ৷ আমাদের তুই ক্ষমা করে দে বাবা তোকে ছাড়া যে আমরা কেউ ভাল নেই ৷ 【 মা কান্না করে বলল 】 মায়ের চোখে পানি দেখে আমার বুকের ভীতপে কেউ যেন আগুন জ্বালাই দিছে ৷ খুব কষ্ট হচ্ছে মায়ের কান্না দেখে ৷ কিন্তু কোন এক চাপা অভীমানের কারনে আমি কিছু মেনে নিতে পারছিনা ৷ আমিঃ তোমরা কেন মাপ চাইছো সব দোষ তো আমার কপালের ৷ তোমরা কেন নিজেদের কে দোষি ভাবছে ৷ আর যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে একটু আদর ভালবাসা পাবার জন্য প্রতিটা মুহুর্ত তোমাদের কাছে ছুটে গেছি ৷ আর তোমরা ততবার আমার সাথে কুকুরের মত আচরন করেছো ৷ শুধু তো একটু ভালাবাসা চেয়েছিলাম আমি ৷ কিন্তু আমার অপরাধ ছিল যে তোমরা আমাকে সহ্য করতে পারতেনা ৷ এখন আর তোমাদের ভালবাসার কোন দরকার নেই ৷ আমার সাথে যার কোন রক্তের সম্পর্ক নেই তারা আমাকে নিজের সন্তানের চাইতেও বেশি ভালবেসেছে ৷ নিজের সন্তানের মত আদর যত্ন করেছে ৷ আর কোনদিন এ বাড়িতে আসবনা এবার ভুল করে চলে এসেছি ৷ মাপ করে দেন এবারের মত ৷ তাই বলে কান্না করতে করতে বাইরে চলে আসলাম ৷ হঠাং করে আমার সেজেআম্মুর কথা মনে পড়ে গেল ৷ আমি বাইক টা একপাশে রেখে সেজেআম্মুর কাছে গেলাম ৷ সেজে আম্মু আমাকে দেখে অনেক খুশি হয়েছে ৷ আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিল ৷ কারন সেজেআম্মুর কোন সন্তান নেই তাই আমাকে খুব ভালবাসতো ৷ তারপর কিছুক্ষন কথা বলে চলে আসলাম ৷ তারপর বাসাই চলে আসলাম আর আজকের সব ঘটনা আমার মা মানে আন্টিকে সব ফোনে বলে দিলাম ৷ আন্টি আমাকে রিতিমত বকা শুরু করে দিছে ৷ কেন আমি মায়ের সাথে খারাফ ব্যবহার করলাম ৷ ……………….চলবে……………

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*