Home Login Register

Naw Story Will Update Regularly......

অবহেলিত জীবন [৮ম পর্ব]


প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......
Home / Story / অবহেলিত জীবন [৮ম পর্ব]

Admin › 3 weeks ago

লেখকঃ মেহেদী হাসান

\"\"

এসব ফালতু কথা বাদ দিন ৷ আপনার মত মেয়েকে ভালবাসবো তাও আবার আমি ৷ সরে জান সমনে থেকে আমার কাজ আছে ৷ আর কেউ একদিন ছোটলোক ক্ষ্যাত ফকিরের বাচ্চা বলেছিল ৷ আর সেই ছোটলোকের বাচ্চা কে আপনি ভালবাসেন ৷ লজ্জা করেনা আপনার আমাকে ভালবাসার কথা বলতে ৷ দেখি রিমি লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে ৷ তারপর আমাদের কাছে রিয়া আসলো ৷ রিয়াঃ কি ব্যাপার ভাইয়া তুই এই অহংকারি মেয়ের সাথে কথা বলছিস কেন ৷ তোর মনে নেই এই মেয়ের জন্য তোকে কতটা কষ্ট সহ্য কতে হয়েছে ৷ আমি আর কোন মেয়ের জন্য কোরে হারাতে পারব না ভাইয়া ৷ আর আপনি আমার ভাইয়ার আশে পাশে যেন না দেখি ৷ তাই বলে রিয়া আমাকে টানতে টানতে নিয়ে চলে আসলো ৷ আচ্ছা রিয়া রিমি কি এখোনো বিয়ে করেনি ৷ তা জেনে তুই কি করবি বল ৷ আর তুই চলে যাবার পর রিমি প্রতিদিন তোর কথা জানতে চাইতো কিন্তু আমি প্রতিদিন অপমান করে তাড়িয়ে দিতাম ৷ রিয়াঃ আচ্ছা ভাইয়া কাল তো শুক্রবার কলেজ বন্ধ কাল তো তোর সাথে দেখা হবেনা রে ভাইয়া ৷【মন খারাফ করে বলল 】 আমিঃ কে বলল দেখা হবে না কাল তুই বাড়ি থেকে তুই নিজের হাতে রান্না করবি আমি গিয়ে খেয়ে আসব ৷ কিন্তু আমাকে খাইয়ে দিতে হবে নইলে আমি যাবনা ৷ তারপর রিমি ক্লাসে চলে গেল আর আমি ডিউটিতে চলে আসলাম ৷ দুপুর শেষে আমি একটু বাজারের মধ্যে গেলাম কিছু কেনাকাটা করতে আমার পিচ্চি বোনটার জন্য ৷ এখনো কিছু কিনে দেওয়া হয় নি তাই ৷ এক দোকানে ঢুকে কিছু কেনার জন্য চয়েজ করছি ৷ তখন পিছন থেকে কে যেন ডাকদিল আমার নাম ধরে ৷ আমি পিছনে ঘুরে দেখি আমার বড় ভাইয়া ৷ আমি কোন কথা না বলে পাশ কাটিয়ে চলে আসতে যাব তখন ভাইয়া আমার হাত ধরল ৷ ভাই আমার তুই কি এখোনো আমাদের উপর রাগ করে আছিস ৷ আমিঃ আমি কারো উপর রেগে নেই ৷ যেখানে আমাকে ছেলে বলে অস্বসীকার করে তাদের উপর রাগ করে কি হবে বলুন ৷ আর আমার রাগ করা বা না করাই কিছু যায় আসেনা আপনাদের ৷ কারন আমি এখন আর আপনাদের কিছু হই না ৷ আমার এখন একটা পরিবার আছে ৷ মা বাবা আর ছোট একটা বোন ৷ তাদের সাথে আমার কোন রক্তের সম্পর্ক নেই কিন্তু তারা আমাকে নিজের সন্তানের চাইতেও বেশি ভালবাসে আমাকে ৷ ভাইয়াঃ প্লিজ ভাই আমার তুই সব কিছু ভুলে যা চল বাড়ি চল ৷ মা বাবা তোর জন্য প্রতিদিন কান্না করত ৷ তুই চলে আসার পর ৷ চল ভাই বাড়ি চল ৷ আমিঃ আমার কোন বাড়ি নেই ৷ ঐর যে বাড়িতে যেতে বলছেন সেখানে অপমান অত্যচার আর অবহেলা ছাড়া কিছু নেই সেখানে ৷ আর আমাকে যারা রাস্তার কুকুরের মত মারছে তারা কোনদিন আমার মা বাবা হতে পারেনা ৷ এটুকু বলে আমি চলে আসলাম অফিসে ৷ তারপর আমি রিয়া কে ফোন দিলাম ৷ হ্যালো আপু আমি কাল মনে হয় বাড়ি যেতে পারবনা ৷ খুব কষ্ট হবে মা বাবাকে দেখে ৷ তুই রান্না করে নিয়ে চলে আয় থানায় তারপর আমরা দুইভাই বোন মিলে খাবার খাব ৷ রিয়াঃ না ভাইয়া আমি কোন কথা শুনতে চাইনা কাল তুই আসছিস এটাই ফাইনাল ৷ আমিঃ কিন্তু মা বাবা কে দেখে যদি আমি নিজের প্রতি কন্টোল না করতে পারি তখন কি হবে৷ আর মা বাবা তো আমাকে সহ্য করতে পারেনা যদি আবার আগের মতো অপমান করে ৷ রিয়াঃ কিছু হবে না ভাইয়া তুই চলে আই আমি অপেক্ষা করব কিন্তু ৷ তারপর ফোন রেখে দিলাম তারপর আবার অফিসে চলে আসলাম ৷ অফিস শেষে বাসাই গিয়ে আমি আমার মা আর আংকেল কে ফোন দিলাম ৷ তারপর আমার আর একটা বোন আছে আপনারা তো জানেন সবাই ৷ অনিকা নাম আন্টির মেয়ে তার সাথে কথা বললাম ৷ পাগলিটা আমাকে দেখার জন্য কান্না করছে ৷ তারপর রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যাব তখন হঠাং করে ফোনটা বেজে উঠলো ৷ আমি ফোন হাতে নিয়ে দেখি একটা অপরিচিত নাম্বার ৷ আমি রিসিভ করলাম কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ কোন কথা বলছে না ৷ আমিঃ হ্যালো কিছু বলবেন নাকি ফোন রেখে দেব ৷ ওপাশ থেকে ফুফিয়ে কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে ৷ আমিঃ কি ব্যাপার আপনি কান্না করছেন কেন কি হয়েছে আপনার বলবেন তো আমায় ৷ প্লিজ মেহেদী আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও ৷ তোমার প্রতি আমি যা অন্যায় করেছি তা কোনদিন ক্ষমার যগ্য না আমি ৷ কিন্তু শুধু তোমার সাথে একবার কথা বলার জন্য আমি এখোনো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি ৷ তুমি চলে যাওয়ার পর তোমাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে কখন যে তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি জানিনা আমি ৷ তোমাকে আমি পাগলের মত ভালবাসি ৷ তুমি যা বলবে আমি তাই করব প্লিজ মেহেদী আমাকে তুমি ক্ষমা কপে দাও ৷ 【কান্না করে বলল】 আমিঃ আগে বলেন আপনি আমার নাম্বার কোথায়ই পেয়েছেন ৷ রিমিঃ শাকিলের কাছ থেকে নিযেছি ৷ পিল্জ মেহেদী আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও ৷ তুমি চলে যাওয়ার পর শাকিল আমাকে সব বলেছে ৷ তোমার জীবনে এতটা কষ্ট ছিল আমি কোনদিন জানতাম না ৷ আর জানলে কোনদিন তোমার সাথে এমন ব্যাবহার করতাম না ৷ তোমার কথা ভেবে ভেবে প্রতি রাতে আমি কান্না করেছি শুধু তোমার কাছ থেকে ক্ষমা চাইবার জন্য ৷ আমিঃ শেষ হয়েছে আপনার এসব ন্যাকামি কান্না ৷ আর শুনুন আপনার মত একটা অংহকারি বদমেজাজি মেয়ের সাথে কোনদিন ভালবাসা কেন একটু প্রেম করবো না ৷ কেন ভুলেিয়েছেন আপনার সামনে আপনার জন্য আমার বাবা রাস্তার কুকুরের মত মেরেছিল ৷ সেদিন তো আমি বিনাঅন্যায়ে আমি মার খেয়েছিলাম ৷ এখন আবার কি প্লান করছেন আমাকে মার খাওয়ানোর জন্য ৷ আর কোনদিন এই নাম্বারে ফোন দিবেন না ৷ তাই বলে আমি ফোন রেখে ঘুমিয়ে পড়লাম ৷ পরেরদিন অফিস বন্ধ তাই সকাল 10 টা প্রর্যন্ত ঘুমালাম ৷ ঘুম ভাঙতেই দেখি ফোনটা কেপে উঠছে ৷ কাল রাতে ফোন সাইলেন্ট করে ঘুমিয়ে ছিলাম ৷ দেখি পাগলি বোনটা আমাকে 18 বার ফোন দিছে ৷ আমি তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে রওনা দিলাম আমাদের সেই পুরানো বাড়ি ৷ ওহহহ সরি এখন তো আমার আর বাড়ি নেই ৷ আমার পিচ্চি বোনটার বাড়ি ৷ কলিং বেল বাজালাম সাথে সাথে দেখি দড়জা খুলে দিল ৷ সামনে তাকিয়ে দেখি রিয়া ৷ তোর কোন আসতে সমস্যা হয় নিতো ভাইয়া ৷ নারে পাগলি কোন সমস্যা হয়নি ৷ চল ভিতরে যায় ৷ তারপর দুজন মিলে রিয়ার রুমের দিকে যেতে লাগলাম তখন মা পিছন থেকে ডাক দিল ৷ আমি পিছনে ঘুরে দেখি মায়ের চোখে পানি ৷ মায়ের চোখে পানি দেখে আমার খুব কষ্ট হতে লাগলো ৷ মনে হচ্ছে দৌড়িয়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরি কিন্তু তার আগেই রিয়া বলা শুরু করলো ৷ রিয়াঃ এ আপনার ছেলে মেহেদী না ৷ আপনার ছেলেকে তো আপনি আর আপনার স্বামী মিলে সেই 11 বছর আগে মেরে ফেলছেন ৷ এখন যাকে দেখছেন সে হল আমার ভাইয়া ৷ আর যদি আমার ভাইয়া কে আবার অপমান আর অবহেলা করতে চান তাহলে করতে পারেন সমস্যা নাই ৷ আমার ভাইয়ার এটুকু অপমান সহ্য করার শক্তি আছে ৷ তাই বলে রিয়া আমাকে কিছু বলতে না দিযে টেনে তার রুমে নিয়ে গেল ৷ আমিঃ রিয়া তুই মায়ের সাথে এমন ব্যাবহার করলি কেন ৷ রিয়াঃ তুই চলে যাওয়ার পর থেকে আমি কারো সাথে কথা বলিনা ৷ সবসময় এক একা রুমে বসে থাকতাম ৷ দুই একটা গুরুত্বপূর্ন কথা ছাড়া বলতাম না ৷ তারপর রিয়া আমাকে খাইয়ে দিল ৷ আমি রিয়া খাইয়ে দিলাম ৷ দেখি রিয়া কান্না করতেছে ৷ কিরে কি হল তোর কান্না করছিস কেন ৷ ভাইয়া আজ কতদিন পর তোর হাতে খাবার খেলাম ৷ তুই যদি আমাকে রেখে কোনদিন চলে যাস তাহলে আমি বলে দিলাম তোর পাগলি বোনটাকে তুই চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলবি ৷ চুপ পাগলি এ কথা আর বলবিনা ৷ আমার কলিজার টুকরা কে রেখে আমি আর কোন জায়গায় যাব না ৷ আসার সময় মার্কেট থেকে কিছু কেনাকাটা করছিলাম সেগুলো রিয়া কে দিয়ে চলে আসতে যাব ৷ তখন আমার সামনে আবার মা চলে আসলো ৷ মাঃ বাবা আমাকে একবার মা বলে ডাকবিনা ৷ এতটা অভীমান আমাদের উপর যে একবার আমার সাথে কথা বলবিনা ৷ আমাদের তুই ক্ষমা করে দে বাবা তোকে ছাড়া যে আমরা কেউ ভাল নেই ৷ 【 মা কান্না করে বলল 】 মায়ের চোখে পানি দেখে আমার বুকের ভীতপে কেউ যেন আগুন জ্বালাই দিছে ৷ খুব কষ্ট হচ্ছে মায়ের কান্না দেখে ৷ কিন্তু কোন এক চাপা অভীমানের কারনে আমি কিছু মেনে নিতে পারছিনা ৷ আমিঃ তোমরা কেন মাপ চাইছো সব দোষ তো আমার কপালের ৷ তোমরা কেন নিজেদের কে দোষি ভাবছে ৷ আর যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে একটু আদর ভালবাসা পাবার জন্য প্রতিটা মুহুর্ত তোমাদের কাছে ছুটে গেছি ৷ আর তোমরা ততবার আমার সাথে কুকুরের মত আচরন করেছো ৷ শুধু তো একটু ভালাবাসা চেয়েছিলাম আমি ৷ কিন্তু আমার অপরাধ ছিল যে তোমরা আমাকে সহ্য করতে পারতেনা ৷ এখন আর তোমাদের ভালবাসার কোন দরকার নেই ৷ আমার সাথে যার কোন রক্তের সম্পর্ক নেই তারা আমাকে নিজের সন্তানের চাইতেও বেশি ভালবেসেছে ৷ নিজের সন্তানের মত আদর যত্ন করেছে ৷ আর কোনদিন এ বাড়িতে আসবনা এবার ভুল করে চলে এসেছি ৷ মাপ করে দেন এবারের মত ৷ তাই বলে কান্না করতে করতে বাইরে চলে আসলাম ৷ হঠাং করে আমার সেজেআম্মুর কথা মনে পড়ে গেল ৷ আমি বাইক টা একপাশে রেখে সেজেআম্মুর কাছে গেলাম ৷ সেজে আম্মু আমাকে দেখে অনেক খুশি হয়েছে ৷ আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিল ৷ কারন সেজেআম্মুর কোন সন্তান নেই তাই আমাকে খুব ভালবাসতো ৷ তারপর কিছুক্ষন কথা বলে চলে আসলাম ৷ তারপর বাসাই চলে আসলাম আর আজকের সব ঘটনা আমার মা মানে আন্টিকে সব ফোনে বলে দিলাম ৷ আন্টি আমাকে রিতিমত বকা শুরু করে দিছে ৷ কেন আমি মায়ের সাথে খারাফ ব্যবহার করলাম ৷ ……………….চলবে……………

About Author


Administrator
Total Post: [356]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy