Home Login Register

Naw Story Will Update Regularly......

অবহেলিত জীবন [৬ষ্ঠ পর্ব]


প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......
Home / Story / অবহেলিত জীবন [৬ষ্ঠ পর্ব]

Sanju › 2 months ago

লেখকঃ মেহেদী হাসান

চিঠিটা পড়ে স্যার আমর দিকে রাগে কটমট করতে লাগল ৷ আমি তো কিছুই বুঝতে পারছিনা কেন স্যার আমার দিকে তাকাচ্ছে ৷

স্যার সোজা এসে আমাকে দুইটা চড় মারলো ৷ তোমাকে ভাল ছেলে মনে করতাম আমি কিন্তু তুমি এমন বাজে ছেলে আমি কোনদিন ভাবতেও পারিনি ৷

স্যার আমি কি করেছি যে বাজে ছেলে বলছেন ৷

চুপপপপপপ তুমি রিমিকে এইচিঠি টা কেন দিছো ৷ আর কি সব বাজে কথা লিখছো ৷

স্যার বিশ্বাস করেন আমি কোন চিঠি দিইনি ৷ আমিতো আপনার ক্লাসে মনোযগী ছিলাম ৷

চুপ বেয়াদব ছেলে তোমাকে আজ অনেক বড় শাস্তি ভোগ করতে হবে বেয়াদবের জন্য ৷

রিমিঃ স্যার এর উপোযুক্ত বিচার করতে হবে আর যদি এর বিচার না করেন আমি আমার আব্বুকে খবর দেব কিন্তু ৷

রিমির বাবা স্কুলে সভাপতি তাই সবাই ভয় পাই রিমি কে ৷

তারপরে আমাকে আর রিমি কে স্যার হেডমাস্টারের রুমে নিয়ে গেল ৷ আর আমার মা বাবা কে আর রিমির বাবা কে খবর দিয়ে ডেকে পাঠাল ৷

খুব ভয় হচ্ছে যে বাবা এসে আমাকে এই অবস্থায় দেখে আমাকে খন করে ফেলবে ৷ আমি হেডস্যার কে অনকে মিনতি করলাম যে স্যর আমি কিছু করিনি ৷ কিন্তু আমার কথায় কিছুই শুনলা না ৷

কিছুক্ষন পর মা বাবা ভাইয়া আর রিয়া আসলো ৷ বাবাকে দেখৈ মনে হল বেশ রেগে আছে ৷ আমি বাবাকে দেখে অনেক ভয় পেতে লাগলাম ৷

আমি বাবার ভয়ে মায়ের পিছনে লুকানোর চেষ্টা করলাম ৷ কারন কিছুদিন আগে বাবার হাতে মার খাওয়ার কারনে শরীরে অনেক জায়গায় এখোনো প্রচুর ব্যাথা রয়ছে ৷ আবার যদি মারে তাহলে তো আমি মরেই যাব ৷ কিন্তু কোন লাভ হল না ৷ মা সরে গেল আমার সামনে থেকে আর বলতে লাগলো ৷

তোকে মেরে ফেলা উচিত কোর মত শয়তান ছেলে বেচে থাকার চেয়ে মরে গেলে অনেক ভাল হয় ৷ তুই স্কুলে পড়াশুনা করতে না এসে তুই এসব কাজ করতে আসিস ৷ তোকে তো মেরে ফেলা উচিত ৷

মায়ের কথা শুনে মনটা ভীষন খারাফ হয়ে গেল ৷ খুব কষ্ট পেলাম মায়ের কথাই ৷ নিজের ছেলেকে মেরে ফেলতে বলে ৷ আমি মায়ের কথা শুনে চুপ করে দাড়িয়ে থাকলাম ৷

আর বাবা হেডস্যারের রুম থেকে একটা লাঠি খুজে আমাকে শরীরের সব শক্তি দিয়ে জোড়ে জোড়ে মারতে থাকল ৷ আমি প্রচন্ড ব্যাথায় ছটপট করতে লাগলাম ৷ কিন্তু বাবার মনে আমার জন্য কোন দয়া মায়া হল না ৷

একভাবে আমাকে মারতে লাগল ৷ আগের মার খাওয়ার কারনে শরীরে প্রচন্ড ব্যাথা ছিল ৷ আজ বাবা আবার সেই ব্যাথার পরে ইচ্ছা মত মারতে থাকলো ৷

খুব কষ্ট হচ্ছে যে একবারো সত্যিটা কেউ জানার চেষ্টা করল না ৷ বিনা অপরাধে আজ আমি আবার বাবার হাতে মার খেলাম ৷ কেউ বাবাকে আটকালোনা ৷ বাবা আমাকে একভাবে মারতে লাগল ৷ আর আমি শুধু ছটপট করছি ৷ আমি আর সহ্য করতে পারছিনা ৷ হঠাৎ করে রিমির দিকে চোখ গেল ৷

দেখি রিমির চোখে পানি টলমল করছে ৷ হয়তো রিমি বুঝতে পেরেছে তার ছোট একটা দেদের কারনে একটা ছেলেকে কতটা কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে ৷ রিমি হয়ত ওটা কোনদিন আশা করেনি ৷

আমি মায়ের দিকে তাকালাম হয়তো আমার কষ্ট দেখে মা বাবাকে হয়তো আটকাবে ৷ কিন্তু আমি মায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি মায়ের কোন রিয়েক্ট নেই ৷ মনে হচ্ছে মা শুধুমাত্ত একটা দর্শক ৷

মা বাবার এমন করুন অপমান আর অবহেলা আমি আর সহ্য করতে পারছিনা ৷ বাবা আমাকে একভাবে মারতে থাকলো ৷ আমি আর পারকেছিনা ৷ তাই ছটপট করা কিছুটা কমে গেছে ৷ শরীরে আর একবিন্দু শক্তি নেই ৷ তাই স্কুলের ফ্লোরে আমি শুয়ে পড়লাম ৷

কোনরকম নড়চড়া করতে পারছিনা আমি ৷ কিন্তু বাবার মনে আমার জন্য কোন দয়া হল না একভাবে মারতে থাকলো ৷ মার খেতে খেতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে গেছি নিজেই জানিনা ৷

হয়তো অজ্ঞান হওয়ার পরেও আমাকে ইচ্ছা মত মেরেছে ৷ বিনাদোষে আমি আবার মার খেলাম ৷ কেউ আমার কথা বিশ্বাস করল না ৷ বিনা অপরাঘে আমি রাস্তার কুকুরের মত মাইর খেলাম ৷ আমার এই অবহেলিত জীবন আর নিতে পারছিনা ৷ আমি যদি মারা যাই তাহলে হয়তো আমার মা বাবা সবচেয়ে বেশি খুশি হবে ৷

আমার যখন জ্ঞান ফিরলো তখন তাকিয়ে দেখি আমার রুমের ফ্লোরে শুয়ে আছি ৷ কতক্ষন অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম জানিনা ৷ কারন রুমের দড়জা জালানা সব বন্ধ ছিল ৷

হঠাং করে কিছুক্ষন আগে আমার সাথে ঘটে যাওয়া মনে হল ৷ চোখদিয়ে অঝর ধারায় পানি পড়ে লাগলো ৷

দড়জার ওপাশ ছেকে মনে হল কেউ চিৎকার করে কান্না করছে ৷ আর বলছে আমি ভাইয়ার কাছে যাব দড়জা খুলে দাও ৷

তাহলে বুঝতে পারলাম আমাকে এই অবস্থায় তারা ফেলে রেখে রুমের দড়জায় তালা দিয়ে দিছে ৷ আর রিয়া দড়জার ওপাশ থেকে চিৎকার করে কান্না করছে ৷

আজ প্রচুর পরিমানে কষ্ট হচ্ছে একটুও উঠার শক্তি নাই ৷ আজকে মারতে মারতে মরন হলে মা বাবা হয়ত অনেক খুশি হত ৷ কারন আমি যদি তাদের সামনে যাই তাহলে তাদের বিরক্তি বেড়ে যেত ৷ আর সারাদিন যদি তাদের সামনে না যায় তাহলে তারা সবসময় খুশি থাকে ৷

এসব ভাবতে ভাবতে হঠাং করে মাথায় প্রচন্ড যন্তনা অনুভব করলাম ৷ তারপর আর কিছু মনে নেই ৷ যখন ঘুম ভাঙল তখন আমার কপালে কিছু ঠান্ডা অনুভব করলাম ৷

চোখ খুলে দেখি রিয়া আমার মাথায় জলপট্টি দিচ্ছে ৷ বুঝতে পারলাম আমার ভীষন জ্বর এসেছে ৷ এবার রিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখি রিয়ার চোখ লাল হয়ে গেছে কান্না করতে করতে ৷

রিয়াঃ আমি জানি ভাইয়া তুই কোন অপরাধ করিস নি ৷ আমার ভাইয়া এরকম কাজ কোনদিন করতে পারেনা ৷

আমি কোন কথা বলছিনা চুপ করে রিয়ার কথা শুনছি ৷ আর রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছি ৷ পিচ্ছি টা কত ভালবাসে আমাকে ৷ এমন ভাবে যদি মা বাবা আমাকে ভালবাসতো তাহলে আমার কিছু চাওয়ার থাকত না ৷

আমিঃ আমি আজ মরে গেলে খুব ভাল হত তাই না রে পাগলি ৷ 【আস্তে আস্তে বললাম】

রিয়াঃ চুপ কোন কথা বলবিনা চুপ করে শুয়ে থাক ৷

আজ মা বাবা আমাকে যেভাবে অত্যাচার করছে ৷ এমন ব্যাবহার কোন পিতা মাতা তাদের সৎ সন্তানের সাথেও করেনা ৷ আর আমি তো তাদের নিজের সন্তান তাহলে কেন আমার সাথে এমন ব্যাবহার করে ৷ আমি এখানে থাকলে হয়তো কোনদিন এভাবে মার খেতে খেতে কোনদিন মারা যাব ৷

তাই আমি চলে যাব এ বাড়ি ছেড়ে ৷ অনেক দূড়ে চলে যাব ৷ এই অবহেলিত জীবন আমি আর সহ্য করতে পারছিনা ৷ তাই আমি সবাই কে ছেড়ে চলে যাব ৷ আমার এই বিরক্তকর চেহারা আর কারো দেখতে দেবনা ৷ মা বাবা আমার জন্য আর কারো সামনে মাথা নিচু করতে হবেনা ৷

কিন্তু সবাই কে ছেড়ে থাকতে আমার কষ্ট হবে ৷ বেশি কষ্ট হবে পিচ্ছি টার জন্য ৷ রিয়া কে না দেখে আমি একমুহুর্ত থাকতে পারিনা ৷ কীভাবে থাকবো পাগলি বোনটাকে ছাড়া ৷ খুব কষ্ট হবে তাকে থাড়া থাকতে ৷ এসব ভাবছি আর চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল ৷

রিয়াঃ ভাইয়া তুই কাদছিস কেন ৷ তোর চোখে পানি কেন ৷

আমিঃ আচ্ছা আপু আমি যদি কোনদিন তোকে না বলে চলে যায় তাহলে তোর কষ্ট হবে ৷ আমার কথা তোর মনে পড়বে কোনদিন ৷ যদি কোনদিন হারিয়ে যায় তাহলে আমাকে মাপ করে দিস বোন ৷ 【 আস্তে আস্তে বললাম】

রিয়াঃ কোথায় যাবি তুই আমাকে রেখে কোথায় যেতে দেব না তোকে ৷ তাহলে আমিও তোর সাথে যাব ৷ 【জড়িয়ে ধরে কান্না করে বলল】

আমি আর কোন কথা বললাম না ৷ চুপ করে রিয়া কে জড়িয়ে শুয়ে থাকলাম ৷ কারন আজকেই আমার শেষ রাত ৷ আজ রাতে সবাইকে রেখে চলে যাব অনেক দূড়ে তাই পাগলি বোন টাকে শেষ বারের মত জড়িয়ে শুয়ে থাকলো ৷

রাতে রিয়া আমাকে খাবার খাইয়ে দিল ৷ খাবার খেয়ে রিয়া আমার পাশে শুয়ে পড়ল ৷

আমিঃ কি হল তুই এখানে কেন শুয়ে পড়লি ৷

রিয়াঃ আজ তোর পাশে ঘুমাব ভাইয়া তুই মানা করিস না ভাইয়া ৷

আমিঃ তাহলে কি রিয়া কিছুটা বুঝতে পারলো নাকি যে আমি আজ সবাইকে ছেড়ে চলে যাব ৷

তারপর রিয়া আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ল ৷ এমন ভাবে জড়িয়ে আছে মনে হচ্ছে ছেড়ে দিলেই আমি হারিয়ে যাব ৷

আজ যদি আমি চলে যায় তাহলে রিয়া কাল সকালে আমাকে না পেয়া কান্না করবে ৷ কিন্তু আমার মা বাবা আমি চলে যাওয়ার 1 মাস পর হয়তো খোজ পাবে যে আমি চিরদিনের জন্য এ বাড়িতে থেকে চলে এসেছি ৷

আজ পাগলি বোন টাকে শেষ বারের মত দেখে নিই ৷ আর কোনদিন দেখতে পাব কিনা জানিনা ৷ যদি কোনদিন বেচে থাকি তাহলে আমি আবার আসবো পাগলিটাকে দেখতে ৷

এভাবে আস্তে আস্তে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ল ৷ তখন আমি রিয়া কে ছাড়িয়ে নিয়ে ৷ আমি কিছু জামা প্যান আর রিয়ার একটা ছবি ব্যাগে নিয়ে রিয়ার কপালে একটা চুমু খেয়ে বেড়িয়ে পড়লাম ৷

রুম থেকে বেড় হয়ে মা বাবার রুমে গিয়ে মা বাবা কে একবার দেখে বেড়িয়ে পড়লাম ৷ খুব কষ্ট হচ্ছে হাটতে শরীরে এখোনো হালকা হালকা জ্বর আছে ৷

খুব কষ্ট হচ্ছে পিচ্ছি টার জন্য কাল যখন জানতে পারবে আমি তাকে রেখে চলে এসেছি অনেক দূড়ে তখন পিচ্ছিটা কীভাবে কান্না করবে ৷ আর কতটা কষ্ট পাবে ৷

আমি হাটতে হাটতে রেল স্টেশনে চলে আসলাম রাত 2:30 একটা ট্রেন দেখি দাড়িয়ে আছে ৷ আমি ট্রেনে উঠে পড়লাম ৷ শরীরে জ্বর থাতার কারনে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি জানিনা ৷

এদিকে সকালে রিয়া ঘুম থেকে উঠে দেখে আমি নেই পাশে ৷ রিয়া তাড়তাড়ি উঠে দেখে ৷ আমার কোন জামাকাপড় কিছুই নেই ৷ তখন রিয়ার মনে পারলো কাল রাতের কথা ৷ যে ঐমি যদি কোনদিন তোকে ছোড়ে চলে যায় তাহলে তুই খুব কান্না করবি তাই না ৷

রিয়া চিৎকার করে কান্না করতে লাগলো ৷ তখন রিয়ার মা বাবা দৌড়িয়ে রিয়া কাছে আসলো ৷

মাঃ কি হয়েছে রিয়া চিৎকার করে কান্না করছিস কেন ৷ কি হয়েছে তোর ৷ 【রিয়াকে জড়িয়ে ধরে】

রিয়াঃ তোমরা আমাকে একদম ছুবে না তোমরা আমার মা বাবা হতে পারনা ৷ তোমরা বিনা অপরাধে আমার ভাইয়েকে মেরে তাকে ফেলে দিছো ৷ প্রতিদিন তোমারা তাকে অপমান অবহেলা করতা ৷ কিন্তু আমার ভাইয়া সবসময় তোমাদের একটু আদর নেওয়ার আশায় সবসময় তোমাদের কাছে ছুটে যেত ৷ কিন্তু আদরের জাইগায় অবহেলা পেত ৷ তোমাদের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে শরীরে প্রচন্ড জ্বর থাকা অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে এবার খুশি হযেথে তো তোমরা ৷

তোমাদের আর কারো ডিস্টার্ব করবে না সে ৷ তার জন্য তোমাদের আর কারো সামনে মাথা নিচু হতে হবেনা ৷ আচ্ছা বলতো কোনদিন ভাইয়ার সাথে একটুও ভালভাবে কথা বলেছো তোমরা ৷ কোনদিন একবেলা খাবার খাওয়ার জন্য ডেকেছো তাকে ৷ তোমরা আমার মা বাবা হতে পারনা ৷

আজ থেকে আমি তোমাদের মেয়ে না ৷ কোনদিন আবার আমাকে অবহেলা করতে শুরু করে দাও ৷ 【চিৎকার করে কান্না করে বলল】

এদিকে আমি চাদপুর শহরে ট্রেন থেকে নেমে সোজা হেটে চলে যাচ্ছি ৷ কোন নির্দিষ্ট জাইগা নেই যাওয়ার ৷ আনমনে একভাবে পথ হেটে চলে যাচ্ছি ৷

খুব কান্না পাচ্ছে আমার পাগলিটা সকালে আমাকে না দেখে হয়তো কান্না কাটি শুরু করে দিছে ৷ খুব খারাফ লাগছে রিয়া কে ছাড়তে ৷.

…………………….. চলবে …………………



About Author


Administrator
Total Post: [358]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy