Home Login Register

Naw Story Will Update Regularly......

অবহেলিত জীবন [৪র্থ পর্ব]


প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......
Home / Story / অবহেলিত জীবন [৪র্থ পর্ব]

Sanju › 3 months ago

লেখকঃ মেহেদী হাসান

আমি এই বলে কান্না করতে করতে চলে আসলাম ৷ বাইরে এসে দেখি আমার এক চাচি দাড়িয়ে আছে ৷ আমি তাকে সেজে আম্মু বলে ডাকতাম ৷ আমার কেউ ভাল নাবাসলেও সেজে আম্মু আমাকে অনেক ভালবাসতো একদম নিজের ছেলের মত ৷ কারন তাদের কোন সন্তান ছিল না ৷

আমি সেজেআম্মুর কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম ৷ সেজেআম্মু আমাকে চিনতে পারিনি ৷ পরিচয় দেওয়ার পর সেও আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিল ৷ আমার কপালে মুখে নাকে অসংখ্যা চুমু দিতে লাগল ৷

আমি মাঝে মাঝে খুব অবাক হই যে নিজের অাপনজন মানুষ গুলো কত বিশ্বাস ঘাকতক হয় ৷ আর যাদের সাথে কোন রক্তের সম্পর্কে নেই তারা অপনজনের চেয়ে বেশি ভালবাসে ৷

তারপর আমি আমার ডিউটিতে চলে আসি কিন্তু কাজে মন বসছেনা ৷ তাই কোয়াটারে চলে আসলাম ছুটি নিয়ে ৷ আর পুরানো কথা ভাবতে লাগলাম ৷ আজ থেকে 11 বছর আগে আমি তখন ক্লাস 7 পড়ি ৷

আগোছালো একটা ছেলে আমি সবসময় সাধারন শার্ট প্যান্ট পড়ে থাকতাম ৷ এক কথায় আমি একটা ক্ষ্যাত ছেলে ৷ চুলটা সবসময় এক পাশে সিথি দিয়ে রাখতাম ৷

আমার জন্মের পর থেকে মা বাবার আদর পাইনি তাই আমি সবসময় কেমন একা একা থাকতাম ৷ আর আগোছালো হয়ে থাকতাম ৷ আমি চাইলেও নিজেকে গোছাতে পারতাম না ৷ কারন যেখানে আমার মা বাবা ঠিকমত আমার সাথে কথা বলেনা ৷ আর কিছু বললে আমার সাথে খুব খারাফ আচরন করত ৷ আর সাথে অবহেলা আর মাইর ফ্রি তো আছেই ৷

আমার কষ্ট টা বোঝার মত কোন মানুষ নেই ৷ তবে একজন আছে যে আমাকে তার জীবনের চাইতেও বেশি ভালবাসে ৷ সে আমার কলিজার টুকরা বোন ৷ তার বয়স মাত্ত 7 বছর ৷সে আমাকে প্রচুর পরিমানে ভালবাসে ৷ আমার বড় ভাই আমাকে একদম সহ্য করতে পারেনা ৷ কেন সহ্য করতে পারেনা তা আমি জানিনা ৷

রিয়াঃ ভাইয়া এই ভাইয়া উঠ কত বেলা হয়ে গেছে দেখ তাড়াতাড়ি ওঠ নাস্তা করে স্কুলে যা ৷

আমিঃ মা বাবা আর ভাইয়া সবাই নাস্তা করেছে ৷

রিয়াঃ হুমমম সবাই নাস্তা করেছে ৷ শুধু তুই বাকি আছিস ৷

আমিঃ তুই নাস্তা করেছিস ৷

রিয়াঃ তোকে ছাড়া কোনদিন খেয়েছি আমি ৷ তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠ ৷

আমিঃ আচ্ছা আপু সবাই এমন কেন ৷ আমি কি মা বাবার ছেলে না ৷ মা বাবা তোকে কত সুন্দর করে আদর করে ডাকে খাইয়ে দেয় ৷ আমার সাথে কেন এমন খারাফ আচরন করে ৷ আমি কি তাদের ছেলে না ৷ আমারো তো ইচ্ছা করে মা বাবার আদর পেতে ৷

রিয়াঃ মন খারাফ করিস কেন দেখবি একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে ৷ আর আমি আছি তো তোর দেখাশুনা করার জন্য ৷

আমিঃ হুমমমম আপু তুই না থাকলে আমি যদি সারাদিন না খেয়ে থাকি ৷ তাহলে এ বাড়িতে দেখার মত কেউ নাই ৷

রিমিঃ হুমম অনেক হয়েছে চল আমার প্রচুর ক্ষুদা পেয়েছে ৷

হুমম চলেন আপু ৷ আমি ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি রিয়া নাস্তার টেবিলে বসে আছে ৷ আমি গিয়ে রিয়ার পাশে বসলাম দেখি নাস্তা এক প্লেট রয়েছে ৷ নাস্তা এক প্লেট দেখে আমার মন টা খারাফ হয়ে গেল ৷ কারন আজও আমার জন্য নাস্তা তৈরি হয় নি ৷ রিয়ার নাস্তা আমার জন্য রেখে দিয়েছে ৷

অজান্তে আমার চোখ দিয়ে পানি চলে আসলো ৷ আচ্ছা আপু আমার জন্মের সময় কেন আমাকে গলা টিপে মেরে ফেলল না কেন ৷ 【কান্না করে】

রিয়াঃ ভাইয়া তুই কাদিস না তোর কান্না আমার একদম সহ্য হয় না তুই জানস না ৷ তুই কাদলে কিন্তু আমিও কান্না করে দেব ৷

তারপর রিয়া আমাকে খাইয়ে দিল আর আমি আমার পাগলি বোন টাকে খাইয়ে দিলাম ৷ তারপর আমি গুছিয়ে স্কুলে চলে আসলাম ৷

স্কুলে এসে ক্লাস রুমে গিয়ে দেখি পিছনে একটা সিট ফাকা আছে ৷ আমি যেই বসতে যাব তখন একটা মেয়ে বলল ওই দেখ আমাদের ক্ষ্যাত বাবু চলে আসছে সবাই সাইড দে ৷

আমি তাকিয়ে দেখি রিমি এই কথা বলল ৷ হ্যা রিমির পরিচয় টা দিয়ে নিই ৷ রিমি হল এই স্কুলের সভাপতি সাহেবের মেয়ে ৷ তাই তার কথায় সবাই উঠে বসে ৷ এমনকি স্যার তাকে কিছু বলার সাহস হয় না ৷ রিমি যেমন সুন্দরি তেমন বদমেজাজি অহংকার ৷

রিমি কে যেই দেখবে প্রথম বারে ক্রাশ খাবে ৷ তারপর আমি ক্লাসে মনোযোগ দিলাম ৷ ক্লাস শেষে যখন বাড়ির জন্য রওনা হয়েছি তখনি দেখি রিমি আমাকে ডাকছে ৷ আমি আস্তে আস্তে রিমির কাছে গিয়ে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকলাম ৷

রিমিঃ ওই মিঃ ক্ষ্যাত এরকম ছোটলোকের মত মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছিস কেন ৷ যত্তোসব কোথা থেকে যে এসব ছোটলোক ফইন্নি ঘরের পোলাপান আমাদের স্কুলে ভর্তি হয় বুঝিনা ৷

আমিঃ কোন কথা না বলে চুপ করে মাছা নিচু করে দাড়িয়ে থাকলাম ৷

রিমিঃ এই ছোটলোক এখানে দাড়িয়ে কি করছিস যা সামনে থেকে সর ৷

আমি চুপচাপ চলে আসলাম ওখান থেকে ৷ কারন রিমির উপরে কথা বলতে গেলে খুব খারাফ অবস্থা করবে আমায় ৷ তাই কথা না বলে চলে আসলাম ৷

সবাই কেন আমার এমন ব্যবহার করে জানিনা ৷ বাড়িতে মা বাবা আর স্কুলে রিমি সবাই আমার সাথে খারাফ ব্যবহার করে ৷

তারপর বাসাই চলে আসলাম ৷ বাসাই এসে ফ্রেশ হয়ে মায়ের কাছে গেলাম ৷

আমিঃ মা কিছু খেতে দাও খুব ক্ষুদা লাগছে ৷

মাঃ দেখছিস না কাজ করছি ৷ আমি এখন খাবার দিতে পারবনা যত্তোসব কোন কাজ নেই শুধু খাই আর খাই ৷ জমিদারের বাচ্চা যা তো এখান থেকে তোর সহ্য হচ্ছে না ৷

আমি মাথা নিচু করে চলে আসলাম মায়ের কথা শুনে খুব কষ্ট হচ্ছে ৷ কিন্তু আমার অভ্যাস হয়ে গেছে এরকম কথা শুনতে শুনতে ৷

আমার তো ইচ্ছা হয় মা আমাকে নিজে খাবার বেড়ে দেবে কিন্তু আমার বেলায় পুরো উল্টা আমার জন্য এ বাড়িতে কোন রান্না হয় না ৷

তাই নিজের রুমে চলে আসলাম আর একা বসে ভাবছি ৷ কি দোষ ছিল আমার যে মা বাবা আমাকে সহ্য করতে পারেনা ৷ সবসময় আমাকে অবহেলা করে ৷ কেন আমার সাথে খারাফ ব্যবহার করে ৷ যদি আমার জন্ম দেওয়াটায দোষ ছিল তাহলে কেন আমাকে জন্মের সময় মেরে ফেলল না কেন ৷ এসব ভাবছি আর চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝড়ছে ৷

কিছুক্ষন পর দেখি আমার পিচ্চি বোন টা আমার জন্য এক প্লেট খাবার আনছে ৷ আমি জানি এটা রিমির খাবার সে না খেয়ে আমার জন্য নিঞে আসছে ৷

এই পুরো পৃথিবীতে শুধু একজনেরই আমাকে ভালবাসে সে হল এই পিচ্চি বোন টা ৷

রিয়াঃ নে ভাইয়া খেয়ে নে আর আমাকে খাইয়ে দে ৷

আমিঃ আচ্ছা আপু মা বাবা তোকে আর ভাইয়ারকে কত সুন্দর আদর করে ৷ আমিও তো তাদের সন্তান তাহলে কেন আমাকে এমন অবহেলা করে জানিস ৷ খুব কষ্ট হয় রে আপু ৷【কান্না করে】

রিয়াঃ কাদিস কেন ভাইয়া আমি আছিনা তোকে দেখেশুনা করার জন্য ৷ আর দেখবি একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে ৷

আমিঃ আচ্ছা আপু আমি যদি কোনদিন হারিয়ে যায় তাহলে আমাকে তুই মিস করবি তাইনা ৷ যদি তোকে ছেড়ে আমি কোনদিন চলে যায় তাহলে আমাকে মাপ করে দিবিতো আপু ৷

রিয়াঃ তুই আমাকে ছেড়ে কোথায় যাবি হুমমম তোকে কোথাও যেতে দেব না আমি ৷ 【জড়িয়ে ধরে 】

আমিঃ আচ্ছা যাবনা তোকে ছাড়া নে এবার হা কর ৷

তারপর আমি রিয়া কে খাইয়ে দিলাম ৷ আর আমি নিজে খেয়ে নিলাম ৷

তারপর একটা ঘুম দিয়ে বিকালে একটু ঘুরাঘুরি করে ৷ সন্ধ্যার সময় বাসাই এসে পড়তে বসলাম ৷ পড়া শেষে রুমের বাইরে গিয়ে দেখি সবাই রাতের খাবার খাওয়ার জন্য টেবিলে বসে আছে ৷

আমি গিয়ে একটা টেবিলে বসে পড়লাম খাবার খাওয়ার জন্য ৷

বাবাঃ হারামজাদা ওঠ এখান থেকে তোকে বলিছি না আমার সামনে তুই আসবিনা ৷ তোকে দেখলে আমার মাথায় রাগ উঠে যায় ৷ আর এই টেবিলে তোর ভাই বসে তুই জানিস না ৷

আমি আর কিছু না বলে রুমে চলে আসলাম এসে দড়জা বন্ধ করে দিলাম ৷ আর চিৎকার করে কান্না করতে থাকলাম ৷ যখন আমাকে সহ্য করতে পারেনা তাহলে কেন আমাকে জন্ম দিল ৷ কেন জন্মের সময় মেরে ফেলল না ৷

কিছুক্ষন পর রিয়া দড়জায় টোকা দিচ্ছে ৷ ভাইয়া এই ভাইয়া ওঠ নে খাবার খেয়ো নে তোর জন্য খাবার আনছি ৷

আমিঃ …………【চুপ করে আছি】

রিয়াঃ ভাইয়া দড়জা খুল না হলে কিন্তু আমি কান্না করব ৷ আর আমি কিন্ত না খেয়ে আছি তোর জন্য৷

আমিঃ তুই এখান থেকে যা আমি খাবার খাব না ৷

রিয়াঃ ভাইয়া দড়জা খুলে দে তুই না খেলে কিন্তু আমি খাবনা ৷

আমিঃ তুই যা তো এখান থেকে ৷

তারপর আমি ঘুমিয়ে পড়লাম ৷ সকালে দড়জা নক করার শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেল ৷ আমি দড়জা খুলে দিলাম ৷ তখনি দেখি বাবা একটা লাঠি হাতে নিয়ে আমাকে মরতে লাগলো ৷

হারামজাদা তোর জন্য আমার মেয়ের আজ এই অবস্থা তোকে আজ মেরে ফেলব ৷ তোর কারনে মেয়েটা কান্না করতে করতে অজ্ঞান হয়ে গেছে ৷তাই বলে বাবা আমাকে শরীরের সর্ব শক্তি দিয়ে আমাকে মারতে লাগল ৷

আমি চিৎকার করে কান্না করতে লাগলাম আর বাবার পা জড়িয়ে ধরলাম ৷ প্রচন্ড ব্যথা লাগছে ৷ বাবা আমাকে একটা লাথি মেরে দূড়ে সরিয়ে দিল ৷ আর ওমনি আমার মাথাটা টেবিলের কোনায় লেগে মাথাটা ফেটে গেল ৷ রক্তে আমার পুরো মাথা লাল হয়ে গেছে ৷ একসময় লাঠি টা ভেঙে গেল ৷

তারপর বাবা আমাকে চড় থাপ্পড় আর ঘুষি মারতে থাকল ৷ আমার নাক আর ঠোট দিয়ে রক্ত বের হতে লাগল ৷

আমি ব্যাথার কারনে ছটপট করতে থাকলাম আর সহ্য করতে পারছিনা ৷ তারপর কখন যে অজ্ঞান হয়ে গেছি নিজেই জানিনা ৷ হয়ত অজ্ঞান অবস্থায় বাবা আমাকে কুকুরের মত মেরেছে ৷

আমার যখন জ্ঞান ফিরল তখন আস্তে আস্তে চোখ টা মেলানোর চেষ্টা করলাম ৷ অনেক কষ্ট হচ্ছে চোখ খুলতে ৷ হাত পা নাড়াতে পারছিনা শরীরে কোন শক্তি নেই প্রচন্ড ব্যাথা ৷ আমি চোখ দুটো খুলে দেখি বিকাল হয়ে গেছে ৷

কাল রাতে কিছু খাইনি সারাদিন না খেয়ে শরীরে কোন শক্তি নেই ৷ আর শরীরে প্রচন্ড ব্যাথ ৷ আস্তে আস্তে মাথায় হাত দিলাম ৷ দেখি রক্ত শুখিয়ে গেছে ৷ আর ঠোট ফুলে গেছে ৷

যখনি শোয়া অবস্থা থেকে উঠতে যাব তখনি আবার মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করলাম ৷ আবর জ্ঞান হারালাম ৷

আমার মুখে কেউ পানির ছিটা দিল আর তখনি আমার জ্ঞান ফিরলো ৷ আস্তে আস্তে তাকিয়ে দেখি ৷ আমার পাশে রিমি বসে কান্না করছে ৷ আর সেজে আম্মু আমার মাথায় পানি ডালছে ৷

…………….চলবে……………

About Author


Administrator
Total Post: [358]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy