Home Login Register

Naw Story Will Update Regularly......

অবহেলিত জীবন [২য় পর্ব]


প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......
Home / Story / অবহেলিত জীবন [২য় পর্ব]

Sanju › 3 months ago

লেখকঃ মেহেদী হাসান

আর আমার পুরানো কথা মনে পড়ে গেল ৷ আর চোখ দিয়ে অঝর ধারাই পানি পড়তে লাগল ৷
কি দোষ করেছিলাম আমি যে আমাকে এত বড় শাস্তি দিল ৷ মা বাবার কাছে আমি একজন অভীশপ্ত ছেলে ছিলাম ৷

যাকোনদিন মা বাবার ভালবাসা পায়নি ৷ শুধু অবহেলা পেয়েছি ৷ শুধু ছোট পিচ্চি বোন টা আমাকে পাগলের মত ভালবাসত ৷ ছোট থেকে মা বাবার অবহেলা নিয়ে বড় হয়েছি ৷ এসব কথা ভাবছি আর চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে ৷

নিজের থেকেও যাকে ভালবাসতাম সেও আমাকে অবহেলা করে কষ্ট দিত ৷ খুব খারাফ লাগত সেই সময় ৷

খুব কষ্ট হয় এসব কথা মনে পড়লে ৷ এই 11 বছর যে পরিমান কষ্ট হয়েছে তা শুধু আমি যানি ৷ প্রতি রাতে মা বাবার কথা মনে পড়লে খুব কান্না আসতো ৷

এভাবে পুরানো কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি নিজেই জানিনা ৷

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে চলে আসলাম অফিসে ৷ আমি নিজের ডেক্সে বসে আছি ৷ তখনি দেখি আমার পিচ্চি বোন টি ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকছে ৷

রিয়াঃ ভাইয়া তুমি আজ কলেজের সামনে আসোনি কেন ৷ তুমি জাননা তোমাকে না দেখলে আমার কত কষ্ট হয় ৷ তুমি তা বুঝবে কেন আমি তোমার কি হই ৷ 【 হালকা কান্না করে】

আমিঃ ওরে আমার পিচ্চি টা বুঝি রাগ করেছে তার ভাইয়ার উপর ৷ আচ্ছা আর ভুল হবে না এখন থেকে প্রতিদিন দাড়িয়ে থাকব ৷

রিয়াঃ হুমমম চল আমাকে কলেজে নামিয়ে 
দিয়ে আসো ৷

আমিঃ হুমমমম চল ৷

আমিঃ আচ্ছা একটা কথা বলব ৷ 【 বাইকে কলেজ যেতে যেতে】

রিয়াঃ হুমমমম বল এতে অনুমিতি চাইছো কেন ৷

আমিঃ কাল দেখলাম তোদের কলেজে রিমি দাড়িয়ে ছিল শাড়ি পড়ে কিন্তু ওর তো কলেজ লাইফ শেষ তাহলে কি করছে ৷

রিয়াঃ তুমি ওই ফালতু মেয়ের কথা একদম বলবেনা ৷ ওই মেয়ের জন্য আমি আমার ভাইকে 11 বছর দূড়ে রেখেছে ৷

আমিঃ আচ্ছা আর বলবনা এখন তো বল রিমি তোদের কলেজে কি করে ৷

রিয়াঃ রিমি আমাদের কলেজে লেকচারার ৷ কিন্তু আমি কোনদিন তার সাথে কথা বলিনি ৷ কিন্তু ভাইয়া তুমি জান প্রায় প্রতিদিন আমার সাথে কথা বলতে আসে ৷ প্রতিদিন তোমার কথা জিজ্ঞাসা করত ৷ কিন্ত আমি কোন উত্তর দিতাম না ৷ কারন ওই মেয়ের জন্য আমি আমার ভাইয়া কে হারিয়ে ফেলেছিলাম ৷ তাই রিমি কে দেখলে আমার ভীষন রাগ হয় ৷ রিমি ক্লাসে ক্লাস নিতে আসলে আমি বাইরে চলে আসি ৷

আমিঃ হুমমমম ভাল করেছিস ওই মেয়ের জন্য আমারো অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে ৷ আর ওই মেয়ের জন্য আমার কলিজার বোনের কাছ থেকে এতদিন দূড়ে ছিলাম ৷

আচ্ছা তোদের রিমি ম্যাডাম এখোনো বিয়ে করেনি ৷

রিয়াঃ না এখনো বিয়ে করেনি কেন বলোতো ৷

আমিঃ না এমনি কিছুনা চল তোকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে আমি একটু কাজে যাব ৷

তারপর আমি রিয়া কে কলেজে নামাতে যেই বাইক থামালাম তখন দেখি রিমি আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ রিমি হয়ত আমাকে কিছুটা চিনতে পারছে ৷ রিন্তু সাহস করে কাউকে বলতে পারছেনা ৷

আমি রিয়া কে নামিয়ে দিয়ে আমার কাজে চলে আসলাম ৷ তারপর কাজ শেষ করে আমি দুপুরে আবার রিয়ার কলেজে চলে আসলাম ৷ এসে দেখি রিয়া কলেজের গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে ৷

আমিঃ আপু চল আমরা ক্যান্টিনে গিয়ে বসি ৷

রিয়াঃ হুমমম চল ভাইয়া ৷

আমরা দুই ভাইবোন ক্যান্টিনে একটা টেবিলে বসলাম ৷ কিছু খাবার অর্ডার করলাম ৷ কিছুক্ষন পর দেখি রিমি ক্যন্টিনে আসছে ৷ আর আমাদের সামনের টেবিলে বসে পড়ল ৷

আমি রিমি কে দেখে খাবার না খেয়ে রিয়ার হাত ধরে টানতে টানতে কলেজের বাইরে চলে আসলাম ৷ তারপর রিয়া বাইকে উঠিয়ে চলে আসলাম আমাদের গ্রামে ৷

আমার মাথায় হেলমেট ছিল সে কারনে হয়ত আমাকে কেউ চিনতে পারিনি ৷ আমি রিয়া কে আমাদের বাসার পাশে নামিয়ে দিয়ে চলে আসলাম ৷

রাস্তায় আবার রিমির সাথে দেখা আমরা যেহেতু সবাই একই এলাকাই থাকি তাই আমাদের যাওয়া আসার রাস্তা টা সব এক ৷

আমি রিমির পাশ কাটিয়ে চলে আসলাম ৷ দেখি রিমি আমারদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ৷ যতদূড় আমাকে দেখতে পাইছে ততক্ষন তাকিয়ে থাকে ৷

এভাবে সারাদিন কেটে গেল বিকালে আমি শাকিল আমার বন্ধুকে ফোন করে থানায় আসতে বললাম ৷

আমিঃ আচ্ছা দোস্ত রিমির ভাই সোহেল এখন কি করে ৷

শাকিলঃ সোহেল তো আর দেশে থাকেনা তুই চলে যাওয়ার কিছুদিন পর সেও বিদেশে চলে যায় ৷ আর কোনদিন আসেনি দেশে ৷

তারপর শাকিলের সাথে আরো কিছু কথা বলে শাকিল কে বাসাই চলে যেতে বললাম ৷ তারপর আমার কাজ শেষ করে আমি আমার কোয়াটারে চলে আসলাম ৷

হঠাং করে আমার ফোন বেজে উঠল ৷ ফোন হাতে নিয়ে দেখি শাকিল ফোন দিছে ৷

আমিঃ হুমমম দোস্ত বল কি কারনে ফোন দিলি ৷

শাকিলঃ একটা ঝামেলা হয়ে গেছে দোস্ত প্লিজ আমাকে মাপ করে দে ৷ আমি বলতে চাইনি কিন্তু এমন ভাবে কান্না কাটি করল আর জোর করল না বলে থাকতে পারলাম না ৷

আমিঃ আচ্ছা কি হয়েছে বলবিতো ৷

শাকিলঃ আমি তোর সাথে কথা বলে আসছিলাম ৷ তখন রিমি তাদের বাসার সামনে থেকে আমাকে ধরল ৷ আর বলল সেদিন তোর যাথে বাইকে একটা ছেলেকে দেখলাম আবার প্রতিদিন রিয়ার সাথে দেখি কে ওই ছেলেটা ৷

শাকিলঃ না আমি চিনিনা তাকে এমনি আমার বন্ধু হয় ৷

রিমিঃ না তুমি মিথ্যা বলছিস ওর চেহারা টা খুব পরিচিত মনে হয় ৷ কিন্তু ঠিক ভাবে চিনতে পারছিনা ৷

তারপর আত্তহত্যা করার হুমকি দেয় ৷ তাই বলে দিয়েছি যে ওটা মেহেদী ৷

শাকিলঃ প্লিজ দোস্ত আমাকে মাপ করে দে তোর কথা আমি রাখতে পারলাম না ৷

আমিঃ আরে ধুড় শালা মাপ চাচ্ছিস কেন কোন একদিন তো জেনেই যাবে ৷ কিন্তু একটু আগে চিনল সমস্যা নেই ৷

শাকিলঃ তুই সাবধানে থাকিস কিন্তু রিমি কে আমার একটু বিশ্বাস হয় না আবার কি মিথ্যা বলে তোকে ফাসিয়ে দিবে ৷

আমিঃ চিন্তা করিস না দোস্ত আমাকে আর কিছু করতে পারবেনা ৷ যা করার এখন থেকে আমি করব ৷

তারপর ফোন রেখে দিলাম আর ভাবতে থাকলাম কাল সকালে কি হতে চলেছে ৷

আমি কিছু না ভেবে ঘুমিয়ে পড়লাম ৷ সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাইক নিয়ে চলে আসলাম রিয়ার কলেজে সামনে ৷

কিছুক্ষন পর রিয়া আসলো ৷

রিয়াঃ ভাইয়া জান কাল কি হয়েছে ৷ কাল রিমি আমাদের এলাকায় এসেছিল ৷ আর আমার সাথে দেখা করেছিল ৷

আমিঃ হুমমম তারপর কি বলল রিমি ৷

রিয়াঃ তোমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিল ৷ বলেছিল প্রতিদিন তোকে বাড়ি নামিয়ে দিয়ে যাই কে ওই ছেলেটা ৷

আমিঃ তুই কি বললি ৷

রিয়াঃ আমি কিছু বলিনি অপমান করে তাড়িয়ে দিছি ৷ আর রিমি কান্না করতে করতে চলে গিয়েছিল ৷

আমিঃ রিমি আমার ব্যপারে সব জেনে গেছে ৷ শাকিল সব বলে দিয়েছে ৷

তখন হঠাং করে পিছন থেকে টান দিয়ে কেউ আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে ৷

আমি নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছি কিন্তু পারছিনা ৷ তারপর জোর করে ছাড়িয়ে দেখি রিমি কান্না করছে আর আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে ৷

কি ব্যাপার আপনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন কেন ৷ আর কে আপনি যে কোন কথা নাই বলা নাই সোজা এসে জড়িয়ে ধরেছেন ৷

রিমিঃ মেহেদী তুমি আমাকে চিনতে পারছোনা ৷ আমি রিমি তোমার রিমি ৷ যাকে তুমি দেখার জন্য প্রতিদিন আমাদের বাড়ির সামনে দাড়িয়ে থাকতে ৷ যাকে তুমি পাগলের মত ভালবাসতে ৷ আমি তোমার সেই রিমি ৷ কোথাই ছিলে তুমি এতদিন ৷ তুমি জান তোমাকে আমি কত খুজেছি ৷ আমিও যে তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি ৷ 【চিৎকার করে কান্না করে বলল】

আমিঃ আমি কোন রিমি কে চিনিনা ৷ আর আপনি যে মেহেদী কে চিনতেন সে আর নেই ৷ সে মারা গেছে আজ 11 বছর আগে ৷ আর কি বললেন প্রতিদিন দাড়িয়ে থাকতাম আপনাকে দেখার জন্য ৷

হুমমমমম দাড়িয়ে থাকতাম আমার প্রিয় মানুষ টাকে একনজর দেখার জন্য ৷ কিন্তু তার মন টা খুব খারাফ ছিল ৷ সে শুধু টাকাপয়সা চিনতো ৷ গরিব বড়লোকোর মধ্যে ভেদাভেদ রাখতো ৷ আর আমি তো একটা ছোটলোক লুইচ্চা ক্ষ্যাত আপনি আমাকে কেন জড়িয়ে ধরেছেন ৷

রিমিঃ প্লিজ মেহেদী আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও তুমি চলে যাওযার পর প্রতিটা রাত আমার নির্ঘুমে কাটিয়েছি ৷ প্রতিটা রাত কান্না করে বালিশ ভিজাইছি ৷ তুমি চলে যাওযার পর তোমাকে অনেক খুজেছি তুমি বিশ্বাস কর ৷ আজো তোমার জন্য আমি অপেক্ষা করছি ৷ 【কান্না করে বলল】

রিয়াঃ এই আপনার সমস্যা কি হুমমম দেখছেন না আমার ভাইয়া আগের সবকিছু ভুলে গেছে ৷ আর আপনার জন্যা আমি আমার ভাইয়াকে 11 বছর দূরে ছিল ৷ আপনি আবার কি করতে আসছেন আমাদের মাঝে ৷ আমার ভাইকে আবার আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে আসছেন ৷ আর কোনদিন যেন আমার ভাইয়ার আশে পাশে না দেখি ৷ যত্তসব ফালতু মেয়ে ৷

তারপর রিয়া আমার হাত ধরে টানতে টানতে ওখান থেকে নিয়ে চলে আসলো

………………….চলবে…………….

About Author


Administrator
Total Post: [358]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy