Home Login Register

সুপ্রিয় পাঠক বিশেষ কারণবসত আগামী কিছুদিন গল্প নিয়মিত আপডেট বন্ধ থাকবে, সাময়িক এই সমস্যার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি ।

অবহেলিত জীবন [১ম পর্ব]


প্রিয় পাঠক আমাদের টিম বিনা স্বার্থে আপনাদের জন্য গল্প আর্কাইভ করে, আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ যে, বিডিস্টোরি২৪ ডটকম এর স্বার্থে আপনারা এডগুলোতে ক্লিক করবেন, তবে দিনে একবারের বেশী না, যদি আমাদের সাইটকে ভালোবেসে থাকন তো.......
Home / Story / অবহেলিত জীবন [১ম পর্ব]

Admin › 2 weeks ago

লেখকঃ মেহেদী হাসান

আজ দীর্ঘ 11 বছর পর আমি নিজের শহরে যাচ্ছি ৷ নিজের মনের ভীতর কেমন একটা আলাদা ফিলিংস কাজ করছে আবার কেমন একটা ভয় কাজ করছে৷ অনেক বছর পর নিজের শহরে যাচ্ছি ৷ যেখানে আমার শৈশব কেটেছে ৷ আমার মা বাবা ভাই বোন সবাই আছে ৷ কিন্তু আজ কোন কারনে সবার থেকে আমি আজ আলাদা ৷

এবার আমার পরিচয় টা দিয়ে নিই ৷ আমি মেহেদী হাসান ৷আমি এখন পুলিশে চাকরি সাবেক ইন্সেপেক্টার পদে চাকরি করি ৷ আমার ট্রনস্ফারের কারনে আজ নিজের শহরে আসা ৷

অবশ্য আমি নিজেই এখানে ট্রন্সফার নিয়েছি ৷ শুধু মাত্ত আমার ছোট বোনের জন্য যাকে আমি নিজের থেকেও বেশি ভালবাসতাম ৷ যাক এবার গল্পে আসা যাক ৷

আমার পরিচয় দিতে দিতে (…………….) মডেল থানায় চলে আসলাম ৷ তারপর সবাই আমাকে স্বাগতম জানালেন ৷ তারপর কিছু কথাবার্তা বলে নিজের কেবিন আর সব কাজ বুঝে নিলাম ৷

এখন আর বাইরে যাবনা জার্নি করে শরীর ক্লান্ত হয়ে আছে তাই এখন ঘুমাব কাল সকালে নিজের এলাকায় যাব ঘুরতে ৷

পরেরদিন সকালে একটা সিভিল ড্রেস পড়ে বাইক নিয়ে রওনা দিলাম ৷ থানা থেকে আমাদের গ্রামে পৌছাতে 20 মিনিট সময় লাগে ৷

আমাদের গ্রামের ভিতর প্রবেশ করলাম ৷ গ্রামটা অনেক চেন্জ হয়ে গেছে এই 11 বছরে ৷ কিছুদূর আসতেই একটা বড় বাড়ি চোখে পড়ল ৷ আর আমার মনের ভীতর যে পুরানো কষ্ট লুকিয়ে আছে সেগুলো আবার মনের অজান্তে বের হয়ে আসল ৷ এভাবে কিছুক্ষন দাড়িয়ে থেকে যেই চলে আসতে যাব তখনি আমার চোখ গেল ছাদের উপর ৷

দেখি একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে সাদা একটা ড্রেস পড়ে ৷ চেহারাটা ভালভাবে বুঝা যাচ্ছে না ৷ দেখি মেয়েটাও আমার দিকে তাকিয়ে আছে ৷ আমি আর কিছু না ভেবে বাইক নিয়ে ওখান চলে আসলাম ৷

কিছুদুর আসতেই আমার এক চাচাত ভাইয়ের সাথে দেখা ৷ আমি সাথে সাথে ব্রেক করলাম ৷ সে মনে হয় আমাকে চিনতে পারেনি ৷ আমি তাকে ডাক দিলাম ৷

আমিঃ এই যে ভাইয়া একটু শুনেন ৷

রাজুঃ জ্বী বলেন কি সাহায্য করতে পারি ৷【আমার চাচাত ভাইয়ের নাম】

আমিঃ ভাইয়া কেমন আছো ৷

রাজুঃ জ্বী ভাই ভাল আছি কিন্তু আপনাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না ৷

আমিঃ ভাইয়া আমি মেহেদী ৷

তারপর রাজু ভাই আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইল ৷ তারপর সোজা আমার কাছে এসে জড়িয়ে ধরল ৷

রাজুঃ কোথাই ছিলি ভাই আমার তোকে আমরা কত খুজেছি ৷ তোর জন্য চাচা চাচি কত কান্না করেছে জানিস ৷ তোর জন্য এখোনো তারা চোখের পানি ফেলে ৷

আমিঃ সে অনেক কথা ভাইয়া পরে একদিন বলব ৷ আগে বল আমার মা বাবা কেমন আছে ৷ আর ভাইয়া কেমন আছে ৷

রাজুঃ হুমমম সবাই ভাল আছে কিন্তু তারা তোর জন্য এখনো কষ্ট পাই ৷

আমিঃ ভাইয়া আমার কলিজার টুকরা টা কেমন আছে ৷ 【আমার পিচ্চি বোনের কথা বলছি】

রাজুঃ হুমমম তোর পিচ্চিটা এখন আর আগের মত নেই ৷ সবসময় চুপ করে রুমে থাকে ৷ আর তোর পিচ্চি বোন টা অভীমান করে তোর মা বাবা আর ভাইয়ার সাথে কথা বলেনা ৷ তুই চলে যাওয়ার পর কারো সাথে কথা বলেনা ৷ সবসময় মন মরা হয়ে থাকে ৷

ভাইয়ার কথা শুনে খুব খারাফ লাগলো যে পাগলি টা কত ভালবাসে আমাকে ৷

ওহহহহ আমার পিচ্চিটার নাম টাই তো বলা হয়নি ৷ আমার পিচ্চি বোন টার নাম রিয়া ৷

রাজুঃ চল মেহেদী বাসাই চল তোকে দেখে চাচা চাচি অনেক খুশি হবে ৷

আমিঃ না ভাইয়া আমি যাব না যেখানে আমাকে বিনা দোষে আমাকে তাড়িয়ো দিয়েছে সেখানে আমি যাব না ৷ আমাকে ভুল বুঝে আমাকে বাসা থেকে তাড়িয়ে সেখানে গিয়ে আমি কি করব ৷ আর এমনি তে মা বাবা আমাকে ভালবাসেনা সবসময় অবহেলা করত ৷

তুমি তো সব জানতে ভাইয়া যে আমার মা বাবা ভাইয়া আমার সাথে কেমন ব্যবহার করত ৷ কিন্তু এখন আমি নিজের পায়ো দাড়িয়েছি ভাইয়া ৷

রাজুঃ হুমমম ভাই সব জানি তুই কত কস্ট করেছিস ৷ তা তুই এখন কি করিস কোন চাকরি করিস নাকি ৷

আমিঃ হুম ভাইয়া আমি পুলিশে চাকরি করি ৷ তোমাদের এই থানায় ট্রান্সফার হয়ে এসেছি ৷

রাজুঃ কি বলিস ভাই তুই চাকরি কীভাবে পেলি আর কিভাবে সম্ভব ৷

আমিঃ হুমমম ভাই পরে বলব সব কাহিনি ৷ এখন একটু আমাদের বাড়ি থেকে ঘুরে আসি ৷ আর ভাইয়া আমি যে এসেছি আপনি কাউকে বলবেন না ৷ আমি এসেছি তা কাউকে বলবেন না ৷ আমি আস্তে সবাই কে জানিয়ে দেব ৷প্লিজ আপনি কাউকে বলবেন না ৷

আর ভাইয়া যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে আমাকে বলবেন আর আমার নাম্বার টা রাখেন যখন কোন দরকার হয় আমাকে বলবেন ৷

তারপর আমার নাম্বার দিয়ে তলে আসলাম আমাদের বাসার দিকে ৷ দূড় থেকে দেখছি আমাদের বাসাটা অনেক চেন্জ হয়েছে বাসাটা ৷

বাসাটা ছাদ করেছে রং করেছে অনেক উন্নতি হয়েছে বাড়িটার ৷

তারপর চলে আসতে তখন দেখি আমার ছোটবেলার বেস্ট ফ্রেন্ড শাকিল দাড়িয়ে আছে ৷ আমি তার পাশে গিয়ে বললাম ৷

আমিঃ আপনার নাম শারিল তাই তো ৷

শাকিলঃ জ্বী কিন্তু আপনি কে ৷

আমিঃ পুলিস চল আমার সাথে তোর নামে এরেস্ট ওয়ারেন্ট রয়েছে ৷

শাকিল আমার দিকে তাকিয়ে দেখে আমার কোমরে একটা বন্ধুক দেখে ভয় পেয়ে কোন কথা না বলে সোজা বাইকে উঠে বসল ৷

আমি শাকিল কে নিয়ে সোজা একটা চায়ের দোকানে দাড়ালাম ৷

শাকিলঃ কি ব্যাপার আপনি এখানে কেন দাড়ালেন ৷

আমি কোন কথা না বলে শাকিল কে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম ৷

কি রে ভাই আমাকে চিনতে পারলিনা ৷ আমি মেহেদী তোর বন্ধু ৷

তারপর আমার দিকে তাকিয়ে তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিল ৷ তারপর তাকে সবকিছু খুলে বললাম ৷

আমিঃ আচ্ছা একটা কাজ করে দিতে পারবি ৷

শাকিলঃহুমমম বল এতে অনুমতি নিচ্ছিস কেন ৷

আমিঃ ভাইয়া কি করে আমার পাগলি বোন টা কোথায় পড়ে কি করে সবকিছু আমাকে বলবি ৷ আর আমি এসেছি তা কেউ যেন না যানে ৷

তারপরে তার সাথে আরো কিছু কথা বলে আমি তাকে বাসাই নামিয়ে দিয়ে আবার অফিসে চলে আসলাম ৷ এভাবে চলে গেল দুইদিন ৷

তারপর শাকিল আমার মা বাবা ভাইয়া পিচ্চি বোন টার সব খোজ দিল কোন কলেজে পড়ে সব খোজ খবর দিল ৷

পরের দিন আমি কলেজ ছুটির টাইমে কলেজের সামনে চলে গেলাম আমার পিচ্চি বোন টারে দেখব বলে ৷ কিছুক্ষন পরে কলেজ ছুটি হল আমি আর শাকিল দাড়িয়ে আছি কলেজের সামনে ৷

তারপর শাকিল রিয়া বলে ডাক দিল একটা মেয়ে আমাদের দিকে আসল ৷ আমি একভাবে তাকিয়ে আছি ৷ আমার পিচ্চি বোন টা অনেক বড় হয়ে গেছে ৷ আর অনেক সুন্দর হয়েছে ৷

রিয়া আমার দিকে কেমন করে তাকিয়ে আছে মনে হয় আমাকে অল্প অল্প চিনতে পারছে ৷

রিয়াঃ হ্যা শাকিল ভাই কি করতে ডাকছো ৷ আর ইনি কে ৷

শাকিলঃ দেখোতো চিনতে পারিস কিনা ৷

রিয়াঃ চেহারাটা কেমন পরিচিত লাগছে কিন্তু মনে করতে পারছিনা ৷

আমিঃ ওই পিচ্চি তোর ভাইয়া কে চিনতে পারছিস না ৷ এতটা পরিবর্তন হয়ে গেছি আমি যে তোর পাগল ভাইটাকে চিনতে পারছিস না ৷ 【কান্না করে】

রিয়া আমার কথা শুনে আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার দেখল ৷

তারপর রিয়া ভাইয়া বলে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিল ৷

রিয়াঃ ভাইয়া তুমি এতোদিন কোথায় ছিলা ৷ তোমার এই পিচ্চি বোনটার কথা একবারো মনে পড়েনি ৷ তুমি আমাকে না বলে কেন চলে গিয়েছিলা ৷ তুমি যান তুমি চলে যাওয়ার পর আমি খুব একা হয়ে গিয়েছিলাম ৷

তুমি যান তোমার জন্য আমি মা বাবা আর ভাইয়ার সাথে ঠিকমত কথা বলিনা ৷

আমিঃ আপুরে তোর ভাইকে তুই মাপ করে দে তোকে কষ্ট দেওয়ার জন্য ৷ তোকে ছেড়ে আর কোন জাইগায় যাবনা ৷

রিয়াঃ হুমমম তুমি আমাকে ছেড়ে আর যাবেনা আর চলে গেলে আমাকে সাথে করে নিয়ে যাবে ৷ আমি থাকতে চাইনা মা বাবার সাথে ৷ যারা বিনা দোষে আমার ভাইয়াকে আঘাত করে ৷ বিনা অপরাধে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তাদের সাথে আমি থাকবনা ৷ আমি তোমার সাথে চলে যাব ভাইয়া ৷

আমিঃ ধুর পাগলি আমার কোন কষ্ট হয়নি তারা তো আমাদের মা বাবা যতই অন্যয় করুক সেটা তো আর জেনেশুনে করিনি ৷

রিয়াঃ ভাইয়া চল বাড়ি চল ৷

আমিঃ না পাগলি ওখন যাবনা আর কি করতে যাব বল ৷ আমার চেহারা দেখলে তো মা বাবা মরা মুখ দেখতে হবে ৷ আমার চেহারা তাদের দেখাবনা ৷ আর তুইও তাদের বলবিনা যে আমি এসেছি ৷

শাকিল তুই রিয়া কে বাড়ি পৌছায়ে দিয়ে আয় ৷ আমি পরে তোর সাথে দেখা করব ৷

রিয়াঃ ভাইয়া তুমি কোথায় থাক আর কি কর তুমি ৷

আমিঃ সেইটা যাওয়ার সময় শাকিলের কাছ থেকে শুনে নিস ৷

তারপর যেই চলে আসতে যাব তখন শাকিল বলল মেহেদী ওই দেখ রিমি চিনতে পারছিস ৷

আমি এবার রিমির কথা শুনে আমার বুকের মধ্যে একরকম ব্যাথা টের পেলাম ৷

এই সেই মেয়ো যার জন্য আমার জীবন থেকে 11 টা বছর জীবন থেকে হারিয়ে গেছে ৷

এবার আমি রিমির দিকে তাকিয়ে দেখি রিমি অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে ৷ আগের থোকে সুন্দর হয়েছে আর কিছুটা চিকন হয়ে গেছে ৷

তারপর রিমির সাথে আমার চোখাচোখি হল আর আমি চোখ নামিয়ে নিলাম ৷ রিমি আমার দিকে তাকিয়ে আছে হয়ত কিছুটা চেনার চেষ্টা করছে ৷

রিমিকে দেখে আমার ভীষন রাগ হতে লাগল ৷ আমি ওখান থেকে চলে আসলাম ৷

আর আমার পুরানো কথা মনে পড়ে গেল ৷ আর চোখ দিয়ে অঝর ধারাই পানি পড়তে লাগল ৷

কি দোষ করেছিলাম আমি যে আমাকে এত বড় শাস্তি দিল ৷ মা বাবার কাছে আমি একজন অভীশপ্ত ছেলে ছিলাম ৷

যাকোনদিন মা বাবার ভালবাসা পায়নি ৷ শুধু অবহেলা পেয়েছি ৷ শুধু ছোট পিচ্চি বোন টা আমাকে পাগলের মত ভালবাসত ৷ ছোট থেকে মা বাবার অবহেলা নিয়ে বড় হয়েছি ৷ এসব কথা ভাবছি আর চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে ৷

নিজের থেকেও যাকে ভালবাসতাম সেও আমাকে অবহেলা করে কষ্ট দিত ৷ খুব খারাফ লাগত সেই সময় ৷

খুব কষ্ট হয় এসব কথা মনে পড়লে ৷ এই 11 বছর যে পরিমান কষ্ট হয়েছে তা শুধু আমি যানি ৷ প্রতি রাতে মা বাবার কথা মনে পড়লে খুব কান্না আসতো ৷

এভাবে পুরানো কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি নিজেই জানিনা ৷

…………………..চলবে ……………………

About Author


Administrator
Total Post: [352]

Leave a Reply




Comment: (Write Something About This Post..)

সম্পর্কযুক্ত গল্প

 
© Copyright 2019, All Rights Reserved By BdStory24.Com
About Us || Copyright Issues || Terms & Conditions || Privacy Policy