অপূর্ণতার মাঝে পূর্ণতায় আমি [৪র্থ অংশ]

লেখিকাঃ আফরোজা আক্তার (মেঘলা)


_হ্যালো মাশফিক (ইমতি)
_হ্যালো , হ্যাঁ বলো (মাশফিক) 
_কোথায় তুমি (ইমতি)
_কেনো (মাশফিক) 
_দেখা করবা না (ইমতি)
_করবো তবে এখন না পরে (মাশফিক) 
_পরে কখন মাশফিক (ইমতি)
_আমি তোমাকে বলতে বাধ্য নই ইমতি , অপেক্ষা করো , যেদিন বলবো দেখা করতে সেই দিন দেখা কইরো ওকে (মাশফিক)
_বাহ , সুস্থ হয়ে তোমার তো দেখছি সুরই পালটে গেছে , কি ব্যাপার বউ খুব ভালো সেবা করছে নাকি এই দুইমাস (ইমতি)
_বিশ্বাস করো তোমার সাথে কথা বলতে আমার একদম ইচ্ছে করছে না , রাখছি , কল দিও না আর অহেতুক আমাকে ফেসবুকে নক দিও না (মাশফিক) 
_বাব্বাহ ভালো ভালো , বউয়ের সুখে মাশফিক পুরাই চেঞ্জ , যে এতো দিনের সম্পর্ক ভুলে যায় (ইমতি)
।।
মাশফিক নিজেকে ঠিক রাখতে পারে নি , এই মুহূর্তে মুখ দিয়ে অন্য কিছু বের করতে ইচ্ছে করতেছে শুধু ড্রাইভার সামনে তাই কিছু বলছে না , ঠাস করে লাইন টা কেটে দেয় মাশফিক । 
বাসায় যায় , অয়নন্দিতাকে দেখেই শান্তি লাগে মাশফিক এর । আগের মতো এখন আর খারাপ ব্যবহার করে না মাশফিক অয়নন্দিতার সাথে । অয়নন্দিতাকে দেখেই জানি মাশফিক এর কেমন সন্দেহ হয় , এতো চুপচাপ হয়ে গেলো কেনো মেয়েটা । বাসায় দুইটা মানুষ , অথচ জনমানবশূন্য মনে হয় । মাশফিক এর ইচ্ছে করে অয়নন্দিতার সাথে গল্প করতে কিন্তু অয়নন্দিতা সে তো অন্য ভাবনায় ব্যস্ত । মাশফিক অবসর সময় পার করে হঠাৎ বৃষ্টির গল্পে মুখ গুজে । নিউজফিডে চোখ বুলায় , ইদানীং হঠাৎ বৃষ্টির প্রবলেম মনে হয় বেশিই , না হলে এতো লেট করে পর্ব আপ দেয় কেনো । হঠাৎ বৃষ্টির আইডি তে গিয়ে ঘুরে দেখছিলো সে , হঠাৎ করেই খেয়াল হলো একটা পোষ্ট এর দিকে , আর এক মাস পর হঠাৎ বৃষ্টির “ভূবন বিলাসী” বই টি বের হচ্ছে । তাও বড় করে ধুমধাম করে আনুষ্ঠানিক ভাবে গল্প মেলায় , যেখানে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্য থেকে সমস্ত লেখক লেখিকারা তাদের লিখা গল্প দিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করবে । সেইখানেই বইটির শুভ উদ্ভোদন হবে । পার্টি অরগানাইজ করবে “আর কে গ্রুপ” । যত টুকু খারাপ লাগা কাজ করছিলো তার থেকে দ্বিগুণ খুশি হচ্ছে মাশফিক । অবশেষে বই টি তাহলে প্রকাশিত হচ্ছে । অনেকেই কন্ট্রিবিউট করতে কমেন্ট করছে । কিন্তু কারো কমেন্টেই রিপ্লাই দিচ্ছে না হঠাৎ বৃষ্টির । 
।।
রাতে খেতে বসে মাশফিক অয়নন্দিতার সাথে কথা বলতে চাইছে । কিন্তু অয়নন্দিতাই জানি কেমন কেমন করে , একটু এড়িয়ে থাকতে চাইছে । 
।।
_কাল আমরা কখন যাচ্ছি অয়নন্দিতা (মাশফিক) 
_তারাতারিই যাবো আমি , মা একা কিছু করতে পারবে না , হাপিয়ে যাবে (অয়নন্দিতা)
_তোমাকে অসুস্থ অসুস্থ লাগছে , কি হয়েছে , (মাশফিক) 
_কিছু না ভালো আছি আমি (অয়নন্দিতা)
_মাহির জন্যে বাবা হঠাৎ অয়ন কে চুজ করলো ? (মাশফিক) 
_কেনো , আমার ভাইয়ের মাঝে কিসের কমতি আছে নাকি , (অয়নন্দিতা)
_তা নয় (মাশফিক)
_তাহলে , এইভাবে বলছেন কেনো (অয়নন্দিতা)
_কথা বাকা করছো কেন আমি এভাবেই বললাম (মাশফিক) 
_…………………..
_কখন যেতে চাচ্ছো (মাশফিক) 
_আমি ১০ টার মধ্যেই চলে যাবো (অয়নন্দিতা)
_আচ্ছা (মাশফিক)
_গুড নাইট (অয়নন্দিতা)
_কোথায় যাচ্ছো (মাশফিক)
_কেনো ঘুমাবো না ? (অয়নন্দিতা)
_হ্যাঁ , তা ওই রুমে কেনো ? (মাশফিক)
_আপনার মে বি মনে নেই এই বাসায় আমার জন্যে ওই রুম টাই বরাদ্দকৃত রাখা হয়েছে , আর তা আপনিই করে দিয়েছিলেন , আসছি , গুড নাইট (অয়নন্দিতা)
।।
অয়নন্দিতা চলে যায় , আর মাশফিক তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে । এখন বুঝতে পারছে আসলেই অনেক বড় ভুল করেছে সে ।
।।
পরদিন সন্ধ্যায় , অয়নরা সবাই এসেছে । কথা বার্তার এক পর্যায়ে মাহিকে নিয়ে আসতে বলা হয় । শাড়ী পরে মাথায় ঘোমটা দিয়ে অয়নন্দিতা মাহিকে নিয়ে আসে । মাহিকে দেখে একটু বিব্রত বোধ করে অয়নন্দিতার মা । 
।।
_একি মাহি এইভাবে আসছো কেন (অয়নন্দিতার মা) 
_কেন আপা কোন সমস্যা হইছে (মাহির মা)
_হ্যাঁ অনেক সমস্যা , আমি কি বউ নিবো নাকি আপা , আমি তো মেয়ে নিবো , তাহলে শাড়ী চুড়ি এতো বড় ঘোমটা দেয়ার কোন মানেই আসে না (অয়নন্দিতার মা)
_বাব্বাহ মা , এখনি ওকে মেয়ে করে নিলা আর আমি বাদ (অয়নন্দিতা)
_তুই ও তো এনাদের মেয়ে হয়ে গেছিস , এখন আমাদের ও মেয়ে হয়ে গেছে (অয়নন্দিতার মা)
_ওহ আচ্ছা , তাই না আমার নাম তাহলে কাটা পরে গেলো (অয়নন্দিতা)
_ভেবে নে তাইইইই , আর মাহি শুন মা তুই এই সব শাড়ী টারি পরিস না আমার বাসায় , তুই আমার মেয়ে , যেইটা পরে কমফোর্ট ফিল করবি সেইটাই পরবি মা (অয়নন্দিতার মা)
।।
সবাই শব্দ করে হেসে উঠে । মাশফিক অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে অয়নন্দিতার মা বাবার দিকে । মানুষ গুলো এতো ভালো কি করে হয় । এতো বড় আত্নার মানুষ কিভাবে হয় । এখন বুঝে গেছে মাশফিক , অয়নন্দিতা এতো ভালো শিক্ষা কোথা থেকে পেয়েছে । যারা বউ না মেয়ে করে নেয় তাদের শিক্ষা টা কত বড় । 
।।
তারপর মাহিকে অয়নন্দিতার মা গোল্ড এর একটা রিং একটা চেইন আর এক জোড়া বালা পরিয়ে দিয়ে দোয়া করে দেয় । তারপর সবাই কথায় মেতে ওঠে । এক পর্যায়ে অয়নন্দিতা তার শ্বশুর কে বলে , 
।।
_বাবা , যেহেতু সব ঠিক তাহলে আপনারা পাকা কথা বলেন (অয়নন্দিতা)
_হ্যা আফজাল , ডেট ফিক্সড কর , আমি আমার লক্ষী নিয়ে যেতে চাই (শফিক সাহেব)
_তুই ই বল (আফজাল সাহেব)
_তুই মেয়ের বাবা , তুই সিদ্ধান্ত নে (শফিক সাহেব)
_বাবা আমি বলি (অয়নন্দিতা) 
_বলো মা (আফজাল) 
_ আজ তো ৩ তারিখ , তাহলে আমরা সামনের ১৫ তারিখ ডেট ফিক্সড করি ? (অয়নন্দিতা)
_হ্যাঁ এই তো আমার মেয়ে সব বুঝে (শফিক সাহেব)
_কিন্তু এত তারাতারি ? (অয়নন্দিতার মা)
_ শুভ কাজে দেরি কিসের মা (অয়নন্দিতা)
_হ্যাঁ তাই তো আমি আমার ঘরের লক্ষীকে যত তারাতারি পারি নিয়ে যেতে চাই (শফিক সাহেব)
_হুম তাহলে সামনের ১৫ তারিখই ডেট ফিক্সড কি বলিস শফিক (আফজাল সাহেব)
_আলহামদুলিল্লাহ (শফিক সাহেব)
_আলহামদুলিল্লাহ (অয়নন্দিতার মা)
_আলহামদুলিল্লাহ (মাহির বাবা , মা)
।।
মাহি উপর থেকে সব দেখতেছে , আসলে ওকে গহনা পরানোর ও চলে গেছিলো উপরে । নিচে সবাই কথা বলছে , হঠাৎ অয়নন্দিতার নজর যায় উপরে । মাহিকে দেখতে পায় সে , আর হুট করেই প্ল্যানিং করে ফেলে । 
।।
_ভাইয়া একটু আমার সাথে আয় তো (অয়নন্দিতা)
_কোথায় (অয়ন)
_তোর জন্যে একটা জিনিস রেখেছি , নিবি আয় (অয়নন্দিতা)
_আচ্ছা চল (অয়ন)
_মাশফিক তুমিও চলো (অয়নন্দিতা)
।।
মাশফিক অয়নন্দিতার কথায় হাক্কা বাক্কা হয়ে ওর দিকে চেয়ে থাকে । অয়নন্দিতার হঠাৎ তুমি বলা তে শুধু অবাক না অনেকটাই অবাক হয় মাশফিক । পরে অবশ্য বুঝতে পারে তুমি বলার কারন । মাশফিক ও কথা না বারিয়ে অয়নন্দিতা আর অয়নের সাথে উপরে যায় , ওদের উপরে আসতে দেখে মাহিও টুক করে নিজের রুমে চলে যায় । 
।।
_কিরে কি জিনিস দিবি (অয়ন)
_মনে হয় অনেক দামী কিছু (মাশফিক) 
_দামী কিছুই তো , অনেক দামী কিছু দিবো (অয়নন্দিতা)
_মাশফিক তুমিও ওর সাথে হেয়ালি করো নাকি , হেয়ালিপনা করা ওর অভ্যাস (অয়ন)
_তাই নাকি , কই আমার সাথে তো কখনো করে নাই (মাশফিক) 
_তুমি হয়তো সুযোগ দাও নাই (অয়ন)
_ওই চুপ থাক , যা ওই রুমে যা (অয়নন্দিতা)
_কেনো (অয়ন)
_আরে এই রুমেই তোর জিনিস রাখা আছে (অয়নন্দিতা)
_হা হা হা , হ্যাঁ ভাই যাও ডেঞ্জার জোনে পা দাও (মাশফিক)
_হাসির কি আছে , আর কিসের ডেঞ্জার জোন , এই ভাইয়া যা তুই তো (অয়নন্দিতা)
_আচ্ছা এইখানে এইভাবে রুমে যাওয়া ঠিক হবে ? (অয়ন)
_হুম হুম হবে যা যা , আমরা আছি পাহারা দিবো , (অয়নন্দিতা)
_আমরা কি তাহলে চৌকিদারি করবো এখন (মাশফিক)
_তা একটু তো করতেই হবে (অয়নন্দিতা) 
_ অয়নন্দিতা একটা কথা বলবা (মাশফিক) 
_জ্বি প্রশ্ন করেন (অয়নন্দিতা)
_এমন হুট করে মাহি আর অয়নের বিয়ে ঠিক করলে ? এতো তারাতারি বিয়ের ডেট ও ফিক্সড করে দিলে , কি ব্যাপার অয়নন্দিতা (মাশফিক)
_ভালোবাসার মানুষ গুলো কে যত তারাতারি সম্ভব মিলে যেতে হয় না হয় ভালোবাসায় জং ধরে যায় , আমি শুধু এক জোড়া ভালোবাসার পায়রা দের মিলিয়ে দিলাম , ব্যাস এই টুকুই (অয়নন্দিতা)
_মানে , ওরা দুইজন রিলেশনে ছিলো ? (মাশফিক)
_সত্যি বলতে হ্যাঁ , ভাইয়া আর মাহি রিলেশনে ছিলো , মাহি ভাইয়াকে অনেক ভালোবাসে আর ভাইয়াও তাই আমিও মিলিয়ে দিলাম , মেলানো সেইদিন স্বার্থক জবে যেইদিন দুইজনেই কবুল আর কাবিননামায় সাইন করবে (অয়নন্দিতা)
_এতো গভীরে কিভাবে ভাবো তুমি অয়নন্দিতা (মাশফিক)
_আচ্ছা ওরা কি কথা বলে , দেখি তো (অয়নন্দিতা)
_ওই কই যাও , এইদিকে দাড়াও , ভাই আর ভাইয়ের হবু বউয়ের কথা শুনতে হয় না (মাশফিক) 
।।
।।
_কি শুরু করলা (মাহি)
_এখন আর বাধা কোথায় মাহি (অয়ন)
_ছাড়ো কেউ দেখে ফেলবে (মাহি)
_কে দেখবে , দরজা তো লাগানো , বাহিরে বাবুইপাখি আর মাশফিক দাঁড়ানো (অয়ন)
_কিহহহ হায় আল্লাহ , মান সম্মান বলে আর কিছুই রইলো না শেষে কিনা ভাইয়াও (মাহি)
_হয়তোবা (অয়ন)
_অয়ন না , অয়ন , দূরে থাকো (মাহি)
_হুসসসসসসস (অয়ন)
।।
অয়ন মাহির একদম কাছে চলে আসে , মাহির কপালে আলতো করে নিজের ঠোঁট ছুইয়ে দেয় অয়ন , তারপর জড়িয়ে নেয় তার বুকে । এর থেকে এতো সুখ মনে হয় না কোথাও আছে । 
।।
_সব কিছুই কেমন স্বপ্নের মতো লাগছে তাই না মাহি (অয়ন) 
_হ্যাঁ অয়ন অনেকটা , আমিও ভাবিও নি যে আমাদের ভালোবাসা টা এতো তারাতারি পরিপূর্ণতা পাবে (মাহি)
_সব টাই সম্ভব হলো বাবুই পাখির জন্যে (অয়ন)
_হুম , আসলেই (মাহি)
_আচ্ছা এখন আসি , রাতে মোবাইলে কথা হবে (অয়ন)
_আচ্ছা , চলে যাবা ? (মাহি)
_রেখে দিতে চাচ্ছো নাকি (অয়ন)
_ঠিক তা না , চলে যেতে চাচ্ছি (মাহি)
_আচ্ছা তাই , আজ তো ৩ তারিখ তার মানে , ৪, ৫, ………… ১০ দিন , হুম আর ১২ টা দিন ধৈর্য ধরেন ম্যাম , তারপর আর এইখানে আসতে দিবো না (অয়ন)
_আচ্ছা তাই (মাহি)
_হুম , আসছি (অয়ন)
_অয়ন দাড়াও (মাহি)
_কি (অয়ন)
।।
তারপর মাহি অয়নের কাছে যায় , অয়ন মোটামুটি ভালোই লম্বা , মাহি পা উচিয়ে অয়নের সামনে দাঁড়ায় , তারপর ঘাড়ের পিছনে হাত নিয়ে অয়নের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট টা আলতো করে ডুবিয়ে দেয় । আর অয়ন ও মাহির মাজার দুই সাইড চেপে ধরে । মাহি একটু আদর করেই সরে আসতে চাইলে অয়ন আরো শক্ত করে ধরে রাখে মাহিকে । 
।।
_আচ্ছা ওরা কি করে এখনো (অয়নন্দিতা) 
_যাও গিয়ে দেখো (মাশফিক) 
_আচ্ছা ঠিক আছে (অয়নন্দিতা)
_আরে আরে , হায়রে মেয়ে , এইখানে দাড়াও চলে আসবে (মাশফিক) 
_হুম (অয়নন্দিতা)
।।
_কিরে আসছিস (অয়নন্দিতা)
_হুম আসলাম (অয়ন) 
_এতোক্ষন কি করছিস , বলছিলাম একটু দেখা করে চলে আয় , পাক্কা ২৫ মিনিট দাড় করিয়ে রেখেছিস তুই (অয়নন্দিতা)
_অয়নন্দিতা কি হচ্ছে এইসব , চলো অয়ন (মাশফিক) 
_তোর এই প্রশ্ন তোর ননদ কে জিজ্ঞাসা কর গিয়ে যা (অয়ন)
_ব্যাঙ যা ভাগ (অয়নন্দিতা)
।।
সবাই খাওয়া দাওয়া করে বিদায় নেয় । রাত বেশি হয়ে গেছে তাই অয়নন্দিতা আর মাশফিক যায় নি , থেকে গেছে এইখানে । রাতে একবার মাশফিক মাহির রুমে যায় । 
।।
_আসবো মাহি (মাশফিক) 
_হ্যাঁ ভাইয়া আয় না (মাহি)
_কি করিস , ঘুমাস না (মাশফিক) 
_প্রস্তুতি নিচ্ছি (মাহি)
_বসি ? (মাশফিক) 
_কি বলিস না বলিস , বস না (মাহি)
_অয়ন কে খুব ভালোবাসিস তাই না (মাশফিক) 
_মা,,,,মা,,,,মানে (মাহি)
_ভয় পাচ্ছিস কেন , অয়নন্দিতা সব বলেছে আমাকে আজ (মাশফিক) 
_ওহ (মাহি)
_ভালোবাসিস তাকে (মাশফিক) 
_অনেক ভাইয়া , অনেক ভালাবাসি তাকে , সে মানুষ টাই ওমন (মাহি)
_দোয়া করি ভালো থাক সব সময় (মাশফিক) 
_একটা কথা বলবো (মাহি)
_হুম বল (মাশফিক) 
_ভাবির মতো মানুষ হয় না জানিস তো , দেখলি কত কিছু চোখের পলকে সামলে নিলো মেয়েটা । আর কত কষ্টে রাখবি মেয়েটা কে , একবারের জন্যেও কাউকেই বুঝতে দিচ্ছে না তার মনে কি আগুন জ্বলে , আর তুই তাকেই এমন কষ্টের মাঝে রাখছিস । এইবার আপন করে নে তাকে ভাইয়া (মাহি)
_কিছুক্ষন চুপ থেকে , আচ্ছা ঘুমা , আসি (মাশফিক) 
_যা বলেছি ভেবে দেখিস ভাইয়া (মাহি)
।।
মাহির রুম থেকে নিজের রুমে এসেছে মাশফিক । অয়নন্দিতা সোফায় ঘুমাচ্ছে , কি ব্যাপার সোফায় কেনো ঘুমালো ? মাশফিক যখন অসুস্থ ছিলো তখন তো পাশেই ঘুমাতো , তাহলে এখন কি হলো । নাকি সুস্থ হওয়াতে বিব্রত বোধ করছে অয়নন্দিতা । খুব খারাপ লাগছে মাশফিক এর৷, কেনো লাগছে সে নিজেই জানে না । বার বার মাহির কথা গুলো কানে বাজছে । একদিকে ইমতি অন্যদিকে অয়নন্দিতা । একদিকে ভালোবাসা অন্যদিকে দ্বায়িত্ব । একদিকে প্রেমিকা অন্যদিকে বউ । কি করবে সে , এইভাবে দুই নৌকায় পা দিয়ে আর কতদিন চলবে৷। অন্যদিকে অয়নন্দিতার পরিবার ফেরেশতা বললেও কম হবে এতো ভালো মানুষ তারা , তার বোন ও যে তাদের ঘরেই যাচ্ছে কিছুদিন পর । তার এইসব আচরণ এর কতগা যদি তারা জানে তাহলে তার প্রভাব তার ছোটো বোন টার জীবনে পরবে । আর যাই হোক সে তার বোনের কষ্ট দেখতে পারবে না । তাহলে অয়নন্দিতা ? সেও তো কারো বোন কারো মেয়ে , তার ও তো অধিকার আছে ভালো লাইফ লিড করার । মাহি পারলে অয়নন্দিতা কি দোষ করেছে । এইসব চিন্তার অতলে ডুবে যাচ্ছে মাশফিক । বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে আর এইসব ভাবছে সে । এতো চাপ সে নিতে পারছে না । মাহির বিয়ের ঝামেলা শেষ হোক । সে ইমতির সাথে বসবে । এর শেষ করে ছাড়বে সে । 
।।
কাল থেকে শুরু হবে বিয়ের প্রস্তুতি । শহরের সনামধন্য বিজনেসম্যান আফজাল চৌধুরীর একমাত্র মেয়ের বিয়ে । ধুমধাম করে মেয়ের বিদায় দিবেন চৌধুরী দম্পতী । কোন কিছুতেই কমতি রাখবে না তারা । আর অন্যদিকে রহমান পরিবার ও মেতে উঠবে তাদের একমাত্র ছেলের বিয়ের প্রস্তুতি তে । তারাও ধুমধাম করে ছেলের বউয়ের আগমনে মত্ত থাকবে । হাসি খুশির মধ্য দিয়ে ছেলের বউ বরণ করবে রহমান দম্পতী । দুই পরিবারের সম্পর্ক টা আরো শক্ত ও মজবুত হলো , শুধুমাত্র অয়নন্দিতার জন্যে । 
।।
পরদিন , 
।।
সমস্ত আত্নীয়-স্বজন সবাইকে ইনভাইট করা শুরু হয়ে গেছে , আর যারা অনেক নামি মানুষ তাদের জন্যে কার্ড ছাপানো হবে , জরুরী ভিত্তিতে ডাবল টাজা দিয়ে প্রায় ৫০০ কার্ড এর অর্ডার দিয়ে ফেলেছে মাশফিক । অয়নন্দিতা ও ব্যস্ত একবার ভাইএর জন্য্র আবার ননদের জন্যে । বিয়ে পর্যন্ত মাশফিক অয়নন্দিতাএই বাসাতেই থাকবে । কাছের আত্নীয় স্বজনরা আসা শুরু করে দিয়েছে । 
অন্যদিকে অয়নের বাড়িতেও ধুম পরেছে , সমস্ত মামা চাচা খালা ফুফু সব কাজিন দের বলা শুরু , তাদেরও কিছু কিছু মেহমান আসা শুরু হয়ে গেছে । অয়নের সমস্ত কলিগ দের ইনভিটেশন দেয়া হয়ে গেছে । 
।।
ছেলের পক্ষে এবং মেয়ের পক্ষের কাজিন দের অভাব নাই , সবাই মিলে ডিসাইড করছে কোন দিন শপিং হবে কোন দিন পার্টি হবে , প্রায় ৫ দিন ব্যাপি পার্টির ব্যবস্থা হবে দুই ফ্যামিলির একত্রে । উৎসবে মেতে উঠেছে দুই পরিবার । কাল শপিং এর পর্ব , সময় নির্ধারণ হয়েছে দুপুর ১২ টা থেকে যত্তক্ষন লাগে আরকি । 
।।
।।
।।
চলবে……………………

পরদিন শপিং এ যায় সবাই । মাশফিক আর অয়ন কেও সাথে নিয়ে যায় । এক গাড়িতে বড় রা আর আরেক গাড়িতে অয়ন-মাহি , অয়নন্দিতা-মাশফিক । অয়ন আর মাশফিক কথা বলছে মাহিও আছে শুধু অয়নন্দিতা চুপচাপ আছে । অয়নন্দিতাকে চুপচাপ দেখে মাশফিক লুকিং গ্লাসে অয়নন্দিতাকে দেখে কেমন হেলান দিয়ে বাহিরে আকাশ দেখছে মেয়েটা । চুপচাপ বসে থাকতে মাহিকে চোখে ইশারা দেয় মাশফিক । মাহি বুঝতে পেরে অয়নন্দিতাকে ডাকে 
।।
_এই বাবুই পাখি কথা বলো না কেনো (মাহি)
_হ্যাঁ , কি , কিছু হয়েছে (অয়নন্দিতা)
_কি হয়েছে তোর এতো চুপচাপ কেন তুই (অয়ন)
_কই আছি তো (অয়নন্দিতা)
_আমরা কি বলেছি তুই নেই , চুপচাপ কেন (অয়ন)
_ওহ , আকাশ দেখছিলাম ভাইয়া , তুই তো জানিসই (অয়নন্দিতা)
_কি জানে , কি জানো তুমি অয়ন (মাহি)
_ওর আকাশ দেখার অনেক সখ , ওর যখন আকাশ দেখতে মন চাইতো জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতো , আমরা শত ডাকলেও শুনতো না , (অয়ন)
।।
অয়নের কথা শুনে মাশফিক আবার তাকায় অয়নন্দিতার দিকে , এখন হাসছে মাহির সাথে । মাশা-আল্লাহ হাসি তো নয় যেনো মুক্ত ঝরে । একরকম ভালো লাগা কাজ করছে তার মাঝে । 
।।
_আচ্ছা বাবুই পাখি আমাদের কেনো আনতে গেলি , শুধু আমার অফিস মিস করালি (অয়ন)
_শুধু কি তোমার ভাই আমারও তো (মাশফিক) 
_আমরা যে এতো এতো শপিং করবো ব্যাগ গুলা কারা নিবে , তাই তোদের এনেছি (অয়নন্দিতা)
_কিহহহহহহহহহ (অয়ন)
_কিহহহহহ না জ্বিহহহহহহহহহহহহহহহহ (মাহি)
_মাহি তুইও , আমার কি তোকে ব্যাগ বহন মনে হয় (মাশফিক) 
_হ্যাঁ (মাহি)
।।
হাসাহাসি মজার মাঝেই সবাই শপিং মলে পৌঁছে যায় । এইখানের কাজ সেড়ে সবাই মিরপুর যাবে বেনারসি পল্লি তে সেইখান থেকে বেনারসি নেয়া হবে । । 
।।
।।
সবার প্রথমে জুয়েলারি কালেকশনে পৌঁছে যায় সবাই । মাহির মা আর অয়নন্দিতার মা দুইজনেই মিলিয়ে গহনার পছন্দ করছে । অয়নন্দিতা মাহিও ছিলো । মাশফিক আর অয়ন তো সো অফ এর জন্য আসছে । মাহির জন্যে দুই পরিবার থেকেই গহনা কেনা হয় । বাকি রয়ে যায় অয়নন্দিতা । এমন বিয়েতে বউ খালি গলায় খালি হাতে থাকবে নাকি , তাই নিজ থেকেই শ্বাশুড়ি পছন্দ করে নিজের ছেলের বউয়ের জন্যে । নিউ মডেলের সিম্পল এর মধ্যে পুরো এক সেট কালেকশন । সেই দোকানেই একটা রিং এর প্রতি নজর যায় মাশফিক এর । গোল্ড এর উপরে ৪ টা ডায়মন্ড বসানো ডিজাইন টাই অসাধারণ । এইটা সে নিবে , কিন্তু এদের সামনে কিভাবে ? আর এখন নিলে অয়নন্দিতা ও সন্দেহ করবে । তাই আগে ভাগেই এক কর্মচারী কে বলে রিং এর কালেকশন গুলো সরিয়ে রাখে । 
।।
_হ্যাঁ রে মাহি আর কিছু নিবি (মাহির মা)
_নাহ মা এই যথেষ্ট (মাহি)
_দেখ তো মা এইগুলি তোর পছন্দ হয়েছে কিনা , আমি তো আমার স্বামর্থ অনুযায়ী কিনলাম (অয়নন্দিতার মা)
_এই গুলি ওইগুলির থেকেও অনেক মা , এইগুলিতে আপনাদের ভালোবাসা আছে , আমার বাবা-মা তো আমাকে দিবেই , কিন্তু আমার শ্বশুর বাড়ি থেকে যা দেবে সেইটাই আমার কাছে কয়েক হাজার গুন উপরে থাকবে মা (মাহি)
।।
খুশিতে অয়নন্দিতার মায়ের চোখে পানি চলে আসে । আসলেই আফজাল সাহেব রতার সন্তানদের সুশিক্ষায় বড় করেছেন । এইদিকে মাহির দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে দেখে অয়ন । সত্যি মাহিকে দেখে কখনই বুঝা যায় নাই যে মাহি এমন হতে পারে । 
।।
_কিরে কি দেখিস (অয়নন্দিতা)
_মাহি অনেকটাই তোর মতো রে বাবুইপাখি (অয়ন)
_আমার মতো না আমার থেকেও ভালো (অয়নন্দিতা)
_এতো টা ভালো আর এতো টা ভদ্র হবে ভাবি নি (অয়ন)
_ওকে সব সময় আগলিয়ে রাখবি ভাইয়া , যেই পরিস্থিতিই আসুক না কেনো , মাহিকে কখনো ছেড়ে দিস না (অয়নন্দিতা)
_প্রশ্নই আসে না (অয়ন)
_ধন্যবাদ , আচ্ছা শুন , বাজেট অনুযায়ী টাকা এনেছিস তো , কারন এখন যা শপিং হবে সব আমাদের মানে তোদের কাছ থেকে যাবে (অয়নন্দিতা)
_এক কাজ কর , গহনার টাকা তো আমি মাকে দিয়ে দিয়েছি , এইখানে বাকি টা আছে , এইসব টাকা তুই রাখ (অয়ন)
_কত আছে এখানে ? (অয়নন্দিতা)
_ ৫ আছে , লাগলে আরো দিবো (অয়ন)
_মনে হচ্ছে হয়ে যাবে , লাগবে না আর (অয়নন্দিতা)
_ তারপরও দেখ , আর শুন , এর ভেতর থেকে তুই কিছু নিয়ে নিস , আর মাশফিক এর জন্যে আমি আলাদা করে নিবো (অয়ন)
_ধুর , আমার কম আছে নাকি , কাবার্ডে কত শাড়ী আছে আমি এখনো হাতই লাগাই নাই , এতো শাড়ী পরবে কে৷, কিছু লাগবে না (অয়নন্দিতা)
_কথা কম , যা করতে বলছি তাই কর (অয়ন)
_এই বাবুইপাখি এইখানে কি করো , চলো মা ডাকে (মাহি)
_চলো (অয়নন্দিতা)
_মাহি দাড়াও (অয়ন)
_হা হা , যাও আমার ভাইয়ের পড়ান জুড়াও (অয়নন্দিতা)
_আরে ধুর , অয়ন পরে কথা বলবো , আম্মু আছে মা আছে কি ভাববে৷, পরে কথা বলবো (মাহি)
।।
এই বলে চলে গেলো ওরা । এতক্ষন ধরে অয়নন্দিতা-অয়নের কথা গুলো শুনছিলো মাশফিক । যত দেখে ততই অবাক হয় এদের ব্যাবহার গুলো দেখে । কারো মনে হিংসে বিদ্বেষ কিছুই নেই । সবাই এতো ভালো কি করে । জুয়েলারি কালেকশন থেকে বের হয়ে তারা কসমেটিকস কালেকশনে যায় আর রি সুযোগে মাশফিক ওই রিং টাও কিনে নেয় । তবে সেইখানেও গন্ডগোল লাগে । খায় ধরা অয়নের কাছে । 
।।
_কি ব্যাপার লুকিয়ে লুকিয়ে রিং কিনো কার জন্যে ভাই (অয়ন)
_তুমিও দেখে ফেললা (মাশফিক) 
_ব্যাংকার তো , নজর তো রাখতেই হয় (অয়ন)
_হা হা হা , এইটা প্যাক করুন আপনি আর রিসিট লিখুন , আর শুনো ভাই অয়ন , এই রিং টা আমার বউয়ের জন্যে (মাশফিক) 
_কালেকশন এর সব থেকে সুন্দর রিং টাই তুমি নিয়ে নিলা আমার বউয়ের জন্যে তো কিছুই পেলাম না (অয়ন)
_অভাব নাই চুজ করো , (মাশফিক) 
।। 
মাশফিক এর কথায় অয়নও মাহির জন্যে একটা রিং পছন্দ করে । মাহির রিং টাও অনেক সুন্দর । যাক এই উপলক্ষে মাহির জন্যেও কিছু নিয়ে নেয় অয়ন 
।।
।।
সব কেনাকেটা সেড়ে সবাই রওনা দেয় বাসার দিকে । প্রায় অনেকটাই সময় ব্যয় হয়ে গেছে । বিয়ের শপিং বলে কথা । গাড়িটা মাঝারি স্পিডে চলছিলো , হঠাৎ অয়নন্দিতা চিৎকার করে , 
।।
_গাড়ি থামান , গাড়ি থামান (অয়নন্দিতা)
_কি হলো রে তোর আবার (অয়ন)
_ভাইয়া দেখ (অয়নন্দিতা)
।।
সবাই অয়নন্দিতার ইশারা অনুযায়ী তাকায় । হা হা দেখে ফুচকাওয়ালা বসে আছে ফুচকা নিয়ে । 
।।
_তোর এই অভ্যাস টা গেলো না বাবুইপাখি (অয়ন)
_এই আমিও খাবো (মাহি)
_মাশফিক , ও তোমাকে এই জিনিস টার জন্যে অনেক বিরক্ত করে তাই না (অয়ন)
_মানে (মাশফিক)
_আরে আর বলো না ও যে কি পরিমাণ ফুচকা পাগলী কি বলবো (অয়ন)
_এই আমি ফুচকা খাবো ভাইয়া (অয়নন্দিতা)
_হ্যাঁ আমিও খাবো (মাহি)
_আর বলো না ভাই রাস্তায় যতবার ওকে নিয়ে বের হতাম ফুচকাওয়ালা দেখলেই চলতো ইচ্ছামতো ফুচকা খেতে শুরু করে ও (অয়ন)
৷। 
মাশফিক অবাক নয়নে অয়নন্দিতার দিকে তাকায় । এই মুহুর্তে অয়নন্দিতা বাচ্চাদের মতো আচরণ করছে । বিয়ের ৫ মাসে একবারের জন্যেও মাশফিক টের ও পায় নি যে অয়নন্দিতার ফুচকা এতো প্রিয় । 
।।
_ভাইয়া চলে গেলে খাবো নাকি (অয়নন্দিতা)
_হুম তাই তো (মাহি)
_আচ্ছা যা (অয়নন্দিতা)
_তাহলে আমরা ও যাই , চলো অয়ন (মাশফিক) 
_হুম চলো , দেখছো কি পাগল , আমাদের না নিয়েই চলে গেলো (অয়ন)
_হা হা হা চলো (মাশফিক) 
।।
_মামা ভালো করে দুই প্লেট ফুচকা বানাও তো (অয়নন্দিতা)
_ওই পেটুক আমরা কি বাদ নাকি , মামা আরো দুই প্লেট বানাও , মাশফিক খাবা তো (অয়ন)
_কখনো ট্রাই করি নি , তবে খেতেই পারি (মাশফিক) 
।।
সবাই মিলে ফুচকা খাচ্ছে , অয়নন্দিতাকে বার বার দেখছে মাশফিক । একদম বাচ্চাদের মতো হয়ে গেছে । একবার মাহি অয়নকেও দেখছে সে । মাহি অয়নকে খাইয়ে দিচ্ছে অয়ন ও মাহিকে খাইয়ে দিচ্ছে । এই দৃশ্য গুলো আসলেই সুখের হয় । আর অয়নন্দিতা সে তো আপন মনে ফুচকা গিলেই যাচ্ছে তো গিলেই যাচ্ছে । 
সবাইকে অবস্ক করে দিয়ে ৫ প্লেট ফুচকা অলরেডি সাবার অয়নন্দিতার । সাধ না মেটা পর্যন্ত সে খাবেই । মাহি মাশফিক অয়ন হা হয়ে আছে
।।
_ওই পেটুক , আর কতো খাবি (অয়ন)
_তাতে তোর কি তুইও খা (অয়নন্দিতা)
_বাবুইপাখি হয়েছে আর না (মাহি)
_চুপ থাকো তো (অয়নন্দিতা)
_ভাইয়া কিছু বল (মাহি)
_হ্যাঁ মাশফিক কিছু বলো , (অয়ন)
_অয়নন্দিতা , হয়েছে আর না (মাশফিক) 
_আপনার হিংসে হয় নাকি (অয়নন্দিতা)
_কেনো হিংসে হবে কেন (মাশফিক) 
_এই যে আমি খাচ্ছি (অয়নন্দিতা)
।।
এই মুহূর্তে কি বলা উচিত ভেবে পাচ্ছে না মাশফিক । অয়ন মাহিও হেসে দেয় অয়নন্দিতার কান্ড দেখে । তারপর ও চুপচাপ আছে । বহু কষ্টে রাজি করিয়ে ৬ প্লেটে শেষ হয় অয়নন্দিতার খানা । মাশফিক বিল দিতে যায় । তখনই পাশে দুইজন ছেলের কনভারসেশনগুলো কানে যায় মাশফিক এর । 
।।
_মামা মাল গুলা কি জটিল তাই না (১ম জন)
_ওই টারে ছার সাদা পরী টা দেখ , উফফফফফ উপরে নিচে পুরা সমান , (২য় জন)
_আজকে ফাকা পাইলে খাইয়া দিতাম মাল টারে (১ম জন)
_উফফফফফফ বুকের সাইজ দেখছিস , (২য় জন)
_হুম পুরাই খাই খাই (১ম জন)
।।
এই কথা টাই মাশফিক এর ব্রেইন কে নাড়িয়ে দেয় । দ্রুত গতিতে অয়ন কে গিয়ে বলে অয়নন্দিতা আর মাহিকে নিয়ে গাড়িতে যাওয়ার জন্যে । মাশফিক এর মাথার তার গুলো একটা আরেকটার সাথে মারামারি করছে । এই বিশ্রী মন্তব্য টা সে আশা করে নি । মাশফিক গাড়ি চালিয়ে একটু দূরে গিয়ে গাড়ি টাকে ব্রেক করায় 
।।
_একটু বসো আমি আসতেছি (মাশফিক) 
_কই যাও (অয়ন)
_আসতেছি , বসো , আর আমি না আসা অবদি গাড়ি থেকে নামবা না (মাশফিক)
।।
মাশফিক গাড়ি থেকে নেমে , শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে সেই ফুচকার দোকানের কাছে যায় 
।।
_দাড়া (মাশফিক) 
_কে আপনি (১ম জন)
_দাড়াইতে বলছি দাড়া (মাশফিক) 
_ওই মিয়া দাড়ামু কা , কে আপনি সেইটা কন (২য় জন)
_কুত্তারবাচ্চা আমি তোর বাপ , এইবার দাড়া (মাশফিক)
।।
এইটা বলে , ওরে মাইর শুরু , দোকানের পাশে একটা বড় বাশের লাঠি ছিলো । সেইটা অবশ্য দোকানদার এর , জেদের বসে হুস ছিলো না৷, সেইটা দিয়ে ইচ্ছামত মারতে থাকে দুইজন কে । 
।।
_জানোয়ারের বাচ্চা ওই মেয়েটা তোর বোনের মত, আর তুই কি বললি ওকে (মাশফিক) 
_ভাই ভাই ছাইড়া দেন ভাই৷, আর কমু না ভাই (২য় জন)
_সাদা পরী , হ্যাঁ সাদা পরী , কুত্তারবাচ্চা ওই সাদা পরী আমার বউ হয় জানোয়ার কোথাকার (মাশফিক) 
_ভাই ভাই কার করমু না (১ম জন)
_এতো লেইম ল্যাংগুয়েজ ইউজ করস কেন , পড়াশোনা করস নাই জীবনে (মাশফিক)
_ভাই আর কমু না ভাই (১ম+২য় জন)
_মনে যাতে থাকে আজকের মার জীবনে ভুলবি না , আর কখনো কোন মেয়ের সাথে এইভাবে কথা বলতে দেখলে জিভ কেটে হাতে দিয়ে দিবো (মাশফিক) 
_এই ভাই ধরো তোমার লাঠির মূল্য (মাশফিক) 
।।
এই বলে মাশফিক ফুচকাওয়ালা কে ৫০০ টাকার নোট ধরিয়ে দিয়ে চলে যায় , যতই গাড়ির কাছে নিজের মুডকে আয়ত্বে আনার চেষ্টা করে সে । গাড়িতে গিয়ে ঠিকঠাক মতো কথা বলে । 
অয়ন কে নামিয়ে দিয়ে ওরা সবাই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় । বাসার সামনে এসে অয়নন্দিতা আর মাহি আগেই নেমে ভেতরে চলে যায় আর মাশফিক গাড়ি লক করে । লক করে আসার সময় হঠাৎ একটা ম্যাসেজ টোন বেজে ওঠে তার মোবাইলে । 
।।
“আজ মনে হয়েছে আমি আমার বোন কে ভুল মানুষের হাতে তুলে দেই নি । আমার বাবা মা তাদের মেয়েকে ভুল পাত্রে সম্প্রদান করে নি । আজ আমি নিশ্চিন্ত । আমার বোন কে এইভাবেই আগলে রেখো মাশফিক । জীবনের কোন ক্ষেত্রেই তার হাত টা ছেড়ে দিও না । আমার বোন টা বড় একা হয়ে যাবে না হলে 
অয়ন “”
।।
।।
তার মানে অয়ন সব দেখে নিয়েছে । মাশফিক এর ঠোঁটের কোনে মিষ্টি একটু হাসি এলো । সেও রিপ্লাই ম্যাসেজ দিয়ে দিলো 
“” দোয়া করো , যাতে সারাজীবন আগলে রাখতে পারি তোমার বাবুইপাখি কে , মাশফিক “”

আনন্দের বন্যা বইছে চৌধুরী নিবাসে । টানা তিন দিন ফাংশন করে সবাই এখনো আমেজে মজে আছে । পুরো বাড়ির এরিয়া লাইটিং করে ভরাট করানো হয়েছে । ওইদিকে রহমান নিবাসেও আনন্দ কোন অংশে কম হচ্ছে না । সব দিকে শুধু খুশির বন্যা । অয়নন্দিতাও অনেক ব্যস্ত , একবার এই বাড়ি তো একবার ওই বাড়ি । ভাগ্যিস গাড়ি ছিলো । আর মাশফিক তো আছেই ড্রাইভার । 
।।
পরদিন হলুদ আছে , অনেক আয়োজন । কমিউনিটি তেই হলুদ পার্টি রাখা হয়েছে । দুই ফ্যামিলি এক সাথেই হলুদ টা সেড়ে নেবে । বিয়ে আর রিসিপশন আলাদা আলাদা দিন হবে । অনেক ব্যস্ত সবাই । ইদানীং অয়িনন্দিতা কে অনেক সুন্দর লাগে । দিন দিন যেনো রূপ বেরেই চলে তার । 
।।
আজ মাহির হলুদ সন্ধ্যা , 
।।
রয়েছে । সনামধন্য ব্যবসায়ী আফজাল চৌধুরীর একমাত্র মেয়ের বিয়ে বলে কথা । হুল্লোড় তো হবেই । মাহিকে নিয়ে অয়নন্দিতা পার্লারে বসা । অনেক সুন্দর করে সাজিয়েছে মাহিকে তারা । সব ইন্সট্রাকশন অয়নন্দিতার। অয়নন্দিতার ইন্সট্রাকশনে সাজানোর পর পার্লারের মেয়ে গুলাও অবাক । আসলেই খুব সুন্দর লাগছে মাহিকে । তাদের মধ্যে একজন বলে , হলুদেই যদি এতো সুন্দর লাগে তাহলে কাল কেমন লাগবে আপু । 
অয়নন্দিতা ও সেজেছে । সবুজ শাড়ী তে খোপায় ফুল নাকে নথ হাত ভর্তি চুড়ি , বাঙালী স্টাইলে ললনা দের মতো লাগছে অয়নন্দিতা কে । যে কেউ দেখলে ভিমরি খেয়ে যাবে । আর মাশফিক তো আবার ক্রাশ খাবে । 
।।
মাহিকে নিয়ে অয়নন্দিতা রওনা হয় সেন্টারের দিকে । মাহিকে দিয়ে অনেক ফোটোসুট আর ভিডিও করে ভিডিও ম্যান রা । মাশফিক এখনো অয়নন্দিতাকে দেখে নি মাশফিক অন্য দিকে বিজি । তারপরও তার নজর খুজে অয়নন্দিতা কে । এরই মাঝে অয়নরাও চলে আসে । মাহিকে আরেক রুমে রাখা হয়েছে । অয়ন বসলে পরে মাহিকে আনা হবে । অয়নকে আপ্যায়নে মেতে ওঠে সবাই । মাশফিক আর তার সব বন্ধুরাও আছে । স্টেজ করা হয়েছে তিন টা , দুইপাশে দুইটা মাঝে একটা । মাঝের টায় ওরা দুইজন বসবে , এক সাইডে ডি জে গান চলবে , আরে স্টেজে নাচ গান হবে । সব প্ল্যান মাশফিক এর । নিজের ছোট বোনের বিয়েতে কোম ইচ্ছেই অপূর্ণ রাখতে চায় না মাশফিক । অতিথি আপ্যায়ণে ব্যস্ত সবাই । হঠাৎ মাশফিক এর ফোন বেজে ওঠে । 
।।
_হ্যালো কে ? (মাশফিক) 
_বাব্বাহ , এখন চিনতেও পারো না (ইমতি)
_ওহ তুমি , হ্যাঁ বলো (মাশফিক) 
_কি ব্যাপার খুব ব্যস্ত মনে হচ্ছে (ইমতি)
_বলেছিলাম তো তোমাকে , মাহির বিয়ে (মাশফিক) 
_বলেছিলে কিন্তু ইনভাইট করো নি (ইমতি)
_আচ্ছা পরে কথা বলি , বিজি আছি (মাশফিক) 
_এতো বিজি তুমি , (ইমতি)
_তুমি ফোন রাখবা , আজকে মাহির হলুদ , সবাই এইখানে আছে (মাশফিক) 
_আমি তোমার সাথে এক্ষুনি দেখা করতে চাই (ইমতি)
_আর ইউ ম্যাড ইমতি (মাশফিক) 
_no i am not , i am waiting for u so plz come (ইমতি)
_shut up , jst keep ur mouth shut , ok ? (মাশফিক) 
_কিরে আয় কি করিস এইখানে (মুরাদ)
_হ্যা হ্যা চল (মাশফিক) 
_দাড়া , ইমতির ফোন ছিলো ? (মুরাদ)
_হ্যাঁ , (মাশফিক) 
_এখনো ? মাশফিক এখনো তুই ইমতির সাথে কন্টাক্ট করিস ? (মুরাদ)
_করি নাই , নিজ থেকে কল দিচ্ছে , জানে এখন আমি বিজি তারপরও কল দিচ্ছে (মাশফিক) 
_বিষয় টা ভাবির কানে গেলে কি হবে , ভাবতে পারিস (মুরাদ)
_হুম , মাহির বিয়ে টা ভালোয় ভালোয় মিটুক , তারপর না হয় আমি বসবো (মাশফিক) 
_যত তারাতারি সম্ভব এই ভেজাল মিটিয়ে ফেল , ভাবি এইসব একদম ডিজার্ভ করে না খেয়াল রাখিস , আর মুড ঠিক কর (মুরাদ)
।।
মুরাদের কথায় মুড কে আয়ত্ত্ব করে মাশফিক । হাসি মুখে সবাইকে আপ্যায়ন করছে সে । পার্টি হোস্ট করছে মাশফিক এর ফ্রেন্ড আবির । সময় হয়ে গেছে এইবার কনে কে আনার । ভিডিও ম্যান কে সাথে নিয়ে অয়নন্দিতা আর ওর বাকি চাচাতো-ফুফাতো-মামাতো ননদ দেবর রা মাহিকে নিয়ে আসছে । সেইখানেই মাশফিক অয়নন্দিতা কে দেখে । আর সাথে সাথে ১০০০ ভোল্ট শক খায় । এ কাকে দেখছে সে । এ কি অয়নন্দিতা ? মাশা-আল্লাহ , এতো রূপ বেরে গেলো কিভাবে । {বি:দ্র:→ অয়নন্দিতা কিন্তু আটা-ময়দা-সুজি এইসব মাখে নি বললেই চলে , সে নেচারাল বিউটি}। সেই মাপের ক্রাশ খায় মাশফিক । আর মাহিকে দেখে অয়ন । অয়নন্দিতা তার ভাইকে দেখেও অবাক , একদম রাজকুমারের মতো লাগছে তার ভাইকে । 
।।
অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যায় । মাশফিক এর নজর অয়নন্দিতা কে দেখছে । এক এক করে আত্নীয়রা সবাই হলুদ পরাচ্ছে । অন্য দিকে ফোটোসুট ও হচ্ছে দারুন দারুন । মাশফিক ক্যামেরা-ম্যান কে বললো অয়নন্দিতার কিছু পিক তুলতে । মাশফিক এর কথায় ক্যামেরা-ম্যান যায় অয়নন্দিতার কাছে । 
।।
_ আসসালামু আলাইকুম ভাবি (ক্যামেরা-ম্যান)
_জ্বি ওয়ালাইকুম আসসালাম , কিছু বলবেন ভাইয়া কিছু লাগবে ? (অয়নন্দিতা) 
_ভাবি মাশা-আল্লাহ আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে , তা এই সুন্দর মানুষ টা কি ছবি তুলবে না (ক্যামেরা-ম্যান)
_ছবি তুলতেই হবে (অয়নন্দিতা)
_জ্বি স্মৃতি হিসেবে রেখে দিবেন (ক্যামেরা-ম্যান)
_আচ্ছা ঠিক আছে (অয়নন্দিতা)
।।
অয়নন্দিতার রাজি হয়ে যাওয়ায় বেশ খুশি হয় মাশফিক । দূর থেকে অয়নন্দিতার ছবি তুলার ঢং দেখছে মাশফিক । অত্যন্ত আনন্দের মধ্য দিয়ে অয়ন-মাহির হলুদ শেষ হয় । 

 

রাত ১২ টায় সবাই অনুষ্ঠান শেষ করে সবাই বাসায় চলে আসে । শুক্রবার বিয়ে মাঝে একদিন সময় দেয় । পুরো বাসা ভর্তি মেহমান । সব আত্নীয়রা এসেছে । এদের সব একা হাতে হ্যান্ডেল করছে অয়নন্দিতা । যেমন রূপের তেমন গুনের । মামী-শ্বাশুড়ি , চাচি-শ্বাশুড়ি , খালা-শ্বাশুড়ি , ফুফি-শ্বাশুড়ির মুখ থেকে তো অয়নন্দিতা নামই পরে না । তেমনি ননদ-দেবররাও সবাইকে মাথায় করে রেখেছে এই মেয়েটা । মাশফিক অয়নন্দিতা কে যত দেখে ততই অবাক হয় । একটা মেয়ে একা হাতে এতো কিছু সামলায় কিভাবে । ফিরে এসেও দুই দন্ড জিরোয় নি মেয়েটা কাজ করেই যাচ্ছে অনবরত । সবাই মিলে কথা বলছে মাহিকে তেল পরানোর বিষয় নিয়ে । কিন্তু অয়নন্দিতা এতে নারাজ । 
।।
_মাহির মা শুনো (ফুফী)
_জ্বি আপা বলেন (মাহির মা)
_মাহিকে তেল টা পরিয়ে দেও (ফুফী)
_হ্যাঁ আপা মাহিকে তেল পরিয়ে দেও (খালা)
_কিন্তু এতো রাতে , মাহির তো এমনিই মাথা ব্যাথা (মাহির মা)
।।
_ফুফী একটা কথা বলি (অয়নন্দিতা)
_হ্যাঁ মা বলো (ফুফী)
_ফুফী কাল তো পুরো দিন টাই আছে কাল না হয় তেল পরিয়ে হলুদ পরিয়ে গোসল করিয়ে দিয়েন (অয়নন্দিতা)
_আজ হলেই ভালো হতো (খালা)
_আন্টি রাত ১ টার মতো বাজে , এখন তেল , সোতা-মেথী মাথায় দিলে ও মাথার যন্ত্রনায় মরে যাবে পরে আর বিয়েও করবে না জেদের বসে (অয়নন্দিতা)
_তাও ঠিক (খালা)
_আচ্ছা , তাহলে থাক , কালকেই করাবো (ফুফী)
_আর বউমা কাল তুমি থাকবা , সাত জন লাগবে , আর তুমি তো বড় ভাবি (চাচী)
_আচ্ছা কাকিমনি আমিও থাকবো , আপনারা কি কিছু খাবেন এখন (অয়নন্দিতা)
_আরে না মাথা খারাপ নাকি , নাগো বউমা এখন আর কিছু খাবো না , এখন ঘুমাবো সবাই (ফুফী)
_আচ্ছা তাহলে সবাই ঘুমিয়ে পরেন , আমিও যাই দেখি মাহি কি করে (অয়নন্দিতা)
।।
মাহির রুমে , 
।।
_কি ব্যাপার এতো টেনশন দেখাচ্ছে কেনো (অয়নন্দিতা)
_খুব ভয় করে বাবুইপাখি (মাহি)
_কিসের ভয় , ও মা কি বলো (অয়নন্দিতা)
_হ্যাঁ কেমন জানি লাগছে , বুঝতেও পারি না (মাহি)
_অন্যরকম অনুভূতি, তাই না ? (অয়নন্দিতা)
_একদম অন্যরকম ভাবি , কারো বউ , কারো স্ত্রী (মাহি)
_কারো মাম্মাম , হা হা হা (অয়নন্দিতা)
_নাহহহহহহহহহ , ওই কি বলো , উলটাপালটা যা তা , এখন এইসব না (মাহি)
_হা হা হা , আচ্ছা বাদ দাও , এখন বলো এতো কিসের ভয় (অয়নন্দিতা)
_জানি না ভাবি (মাহি)
_মাহি , শুনো , একটা কথা বলি , আমাদের মেয়েদের জীবন টাই এমন , কখনো বাবার ঘর , কখনো স্বামীর ঘর , কখনো সন্তানের ঘর । কিন্তু এইসবের মাঝেও একটা শান্তি থাকে কি জানো ? স্বামী , হ্যাঁ মাহি স্বামী । জানো সব সহ্য করা যায় শুধু স্বামীর দেয়া কষ্ট গুলো সহ্য করা যায় না । মাহি অনেক কষ্ট হয় জানো যখন দেখা যায় ভালোবাসার মানুষ টা দিনের পর দিন অন্য কাউকে ভালোবাসে , ভালোবাসার মানুষ টা দিনের পর দিন ইগনোর করে । সেইদিক থেকে তুমি অনেক ভাগ্যবতী গো , আমার ভাইয়া টা খুব ভালো । নিজের ভাই বলে বলছি না , তুমি তাকে ভালোবেসেছো হয়তো তার গুন তার ক্যাপাবিলিটি দেখেছো তাই ভালোবেসেছো । আমার ভাইয়া টা হয়তো এতো বড় লোক না তবে তার মন টা অনেক বড় সে তোমাকে রানী করে রাখবে । জানো তো মাহি সেই সুখের দামই নাই যেইখানে ভালোবাসা নেই । টাকার বিছানায় শুয়ে কি করবে যদি সুখ টাই না পাও । আমি সারাজীবন দোয়া করে যাবো দুইজন এমন ভাবেই ভালো থাকো । সুখে থাকো । সুখ নামের সোনার হরিণ টা যাতে তোমার আর আমার ভাইয়ের হাতেই ধরা দিতে বাধ্য হয় সেই ব্যবস্থা করো বোন , হয়তো আমার কথা গুলো শক্ত লাগবে , হয়তো বুঝতে পারছো না , কিন্তু আজ থেকে এক বছর পর ঠিক বুঝবে অয়নন্দিতা ভুল কিছু বলে নি রএই নতুন বউ কে (অয়নন্দিতা)
_…………………………….
_একি কাদছো কেনো , আল্লাহ , কেদো না , নতুন বউকে কাদতে নেই , চুপ করো তো (অয়নন্দিতা) 
_তুমি কি দিয়ে তৈরি বলতে পারো বাবুইপাখি , আল্লাহ তোমায় কি দিয়ে গড়েছেন , এতো কিছু বুঝো কিভাবে তুমি (মাহি)
_দুনিয়ায় আসার আগে বলেছিলাম আল্লাহ আমায় বুদ্ধি দিবা , তাই দিছে হি হি (অয়নন্দিতা)
_হা হা হা যাহ ফাযিল (মাহি)
_যাক তাও ভালো , হেসেছো (অয়নন্দিতা)
_আচ্ছা একটা কথা বলো তো (মাহি)
_বলো (অয়নন্দিতা)
_ভাইয়ার সাথে সব মিটেছে তোমার (মাহি)
_কিছু হয়েছিলো নাকি যে মিটবে (অয়নন্দিতা)
_মজা নিচ্ছো তুমি , নাকি আমায় তোমার জোকার বা প্রতিবন্ধী টাইপ কিছু মনে হয় (মাহি)
_ওই কি বলো এইসব (অয়নন্দিতা)
_তাহলে , বলো যা আস্ক করছি উত্তর দেও (মাহি)
_মাহি , আজ পাচ টা মাস ধরেই তো পরে আছি তাই না , দেখি র কত দিন পরে থাকা যায় (অয়নন্দিতা)
_মানে (মাহি)
_সব মানের উত্তর হয় না , কিছু মানের উত্তর অজানা থাকাই ভালো । আর তোমার ভাই ইমতিকে চায় আমায় নয় , আমি ইমতির হাতেই তাকে তুলে দিবো (অয়নন্দিতা)
_আর তুমি (মাহি)
_আগের চিন্তা করাই ভালো , কি করবো না করবো পরে দেখা যাবে (অয়নন্দিতা)
_আচ্ছা শুনো (মাহি)
_আর শুনা শুনির দরকার নাই , এইবার রেষ্ট করো , কাল কে তোমাকে ধোয়ার প্ল্যানিং হয়েছে (অয়নন্দিতা)
_কিহহহহহহহহহ কিসের ধোয়ার প্ল্যানিং (মাহি)
_হা হা হা আই মিন গোসল করাবে তেল পরিয়ে (অয়নন্দিতা)
_উফফফফফফ যাতা একেবারে ভাবি এইসব আমার একদম পছন্দ না (মাহি)
_একটা দিনই তো সর্বোচ্চ ২ ঘন্টা , ম্যানেজ করে নাও (অয়নন্দিতা) 
_ধুর (মাহি)
_হা হা , আচ্ছা ঘুমাও , আমিও যাই , একটু শুই , শরীর মনে হচ্ছে আর চলছে না , খুব খারাপ লাগতেছে (অয়নন্দিতা) 
_খারাপ তো লাগবেই , সবার দ্বায়িত্ব নিয়ে বসে আছো না , যত্তসব , সব এল সাথে হাতে নেয়ার কি আছে , বাকিরা কি মরে গেছে নাকি (মাহি)
_বাড়ির বউ আমি মাহি , এইসব বলে না , তুমি বউ হও তাহলে তুমিও বুঝবা(অয়নন্দিতা) 
_ হা হা হি হি হু হু , আমার তো দেবর বা ননদ নাই যে ছিলো সে এখন আমায় সামলায় (মাহি)
_হা হা পাজির হাড্ডি রে , আচ্ছা যাই আল্লাহ হাফেজ , শুভ রাত্রি (অয়নন্দিতা) 
।।
মাশফিক ও অনেক ক্লান্ত তাই আগেই শুয়ে ঘুমিয়ে আছে । অয়নন্দিতা রুমে এসে দেখে মাশফিক ঘুমিয়ে আছে । অয়নন্দিতা এক নাগারে অনেক্ষন তাকিয়ে আছে মাশফিক এর দিকে । একটা ছেলে কতটা সুদর্শন হতে পারে । clean shave এ করায় মাশা-আল্লাহ অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে মাশফিক কে আজ । হলুদের ফাংশনেও দারুন লাগছিলো , আর যখন নাচলো , মাশা-আল্লাহ নায়কের থেকে কম অংশে দেখা যাচ্ছিলো না । তার বর টা আসলেই ক্রাশ খাওয়ার মতো কিন্তু প্রবলেম একটাই এই বর টা তার না । বর নামের এই লোক টাকে ছেড়ে চলে যেতে হবে খুব শীঘ্রই । এইসব ভাবতে ভাবতে কখন যে দুই চোখ ভিজে গেছে বলতেও পারবে না অয়নন্দিতা । চোখ দুটো মুছে নিজের মনেই তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে ঘুমাতে যায় অয়নন্দিতা ।
।।
পরদিন সকাল থেকেই চৌধুরী নিবাসে হৈচৈ পরে আছে । সবাই আনন্দে মেতে আছে । মাহিকে ছাদে নিয়ে যাওয়া হবে এখন । ওইখানেই গোসল করানো হবে , হলুদ জমিন লাল পার এর জামদানি শাড়ী টায় বেশ মানিয়েছে মাহিকে । নিজেকে আয়নায় দেখছে আর স্বপ্ন বুনছে তার ভালোবাসার মানুষ টিকে নিয়ে । চট করেই কয়েকটা ছবি তুলে নিলো নিজের , ম্যাসেঞ্জারে সেন্ড করে দেয় অয়ন কে । ওইদিকে অয়ন ছবি পেয়ে খুশিতে পাগল হয়ে যায়৷। সত্যিই সে বউ পাচ্ছে দারুন । বাচ্চাদের মতো কিউট একটা হাসি মুখে সব সময় লেগেই আছে । সাথে সাথে ইমো তে কল দিয়ে বসে অয়ন । আর মাহি তারাতারি দরজা লাগিয়ে কল টা রিসিভ করে । 
।।
_হ্যালো (মাহি)
_কি ব্যাপার মারার প্ল্যান চলে নাকি (অয়ন)
_কেনো কি হলো (মাহি)
_এমন সব পিক দিলে তো মরেই যাবো (অয়ন)
_ইসসসসস ঢং (মাহি)
_হুম্মম্মম্মম্মম্ম ঢং (অয়ন)
_আচ্ছা এখন বলো তো এতো ইনোসেন্ট একটা লুক দিয়ে কোথায় যাচ্ছো (অয়ন)
_গোসল করাতে নেবে এখন , হলুদ তেল মেথী কি কি বাজে জিনিস এইগুলা নাকি দিবে , অসহ্য লাগতেছে এসব (মাহি)
_আর বলো না এই মাত্র আমি সেড়ে এলাম (অয়ন)
_হ্যাঁ , তুমিও (মাহি)
_হ্যাঁ , তা নয়তো কি , আমার একটা খালামনি চিনে বাবুইপাখি কে জিজ্ঞেস কইরো মনি খালার কথা দেখবা ও ওইখানেই দশ টা লাফ দিবে (অয়ন)
_কেনো কেনো দশ টা লাফ কেনো দেবে (মাহি)
_এই খালামনি একটু বেশিই বলে , আজকেই আসছে , জোড় করে আমায় কি সব দিলো পান পাতা হাবি জাবি যত্তসব আজগুবি জিনিস (অয়ন)
_এই অয়ন , তেলে চুবাবে না তো আবার , না হয় কাল কালো পেত্নী লাগবে (মাহি)
_আমার কালো পেত্নীই ভালো , বুঝলা জান (অয়ন)
_হইছে , আচ্ছা শুনো ওরা মে বি চলে আসছে রাখছি এখন (মাহি)
_এই শুনো , গোসল করে ভেজা শরীরে পিক দিবা (অয়ন)
_কিহহহহ (মাহি)
_হুম ভেজা শাড়ী তে দেখবো তোমাকে আমি (অয়ন)
_আচ্ছা দেবো রাখি (মাহি)
_ওই (অয়ন)
_উফফফফফ কি (মাহি)
_উম্মাহহহহহহহহহ (অয়ন)
_হা হা উম্মাহহহহহহহহহহহহ (মাহি)
_কাল কের জন্যে রেডি থাকেন ম্যাডাম (অয়ন)
_yes , i am ready for tomorrow (মাহি)
_তাইইইইইই , তাহলে কাল রাতের জন্যেও রেডি থাকবেন , কেমন (অয়ন)
_কিহহহহ , ফাযিল , রাখি বাই (মাহি)
।।
ভালোবাসার মানুষ গুলোর ভালোবাসা গুলো হয়ও এইরকম । যা শুধু দেখেই যেতে ইচ্ছা করে । অয়নন্দিতা ও হলুদ শাড়ী পরেছে । বেশি একটা সাজে নি । এমনিতেই নরমাল স্নো আর লিপস্টিক দিয়েছে । আর গলায় একটা চেইন , কিন্তু প্রবলেম হলো ব্লাউজ । ব্লাউজের পিছনের ফিতা টা লাগাতে পারছে না । ফিতা টা বাধতে বাধতে সেই রাতের কথা মনে পরে যায় অয়নন্দিতার । সেইদিন ভাঙা হাতে অনেক্ষন ট্রাই করে মাশফিক তার জামার ফিতা টা বেধে দিয়েছিলো । সেই কথা ভাবছে আর বার বার ফিতা বাধার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না আজকেও । হঠাৎ মাশফিক এর দুইটা হাত অয়নন্দিতার পিঠ স্পর্শ করে । 
।।
_can i ? (মাশফিক) 
_আ,,,,,আ,,,,আপনি (অয়নন্দিতা) 
_অয়নন্দিতা আমি ভূত না এইভাবে চমকানোর কিছু হয় নি(মাশফিক) 
_নাহ মানে আসলে (অয়নন্দিতা) 
_বেধে দেই ? (মাশফিক) 
_হুম (অয়নন্দিতা) 
।।
মাশফিক অয়নন্দিতার ব্লাউজের ফিতা বেধে দেয় । কেমন যেনো একটা টান অনুভব করছে মাশফিক । যেই টান এর থেকে দূরে সরে যেতে পারছে না মাশফিক । অয়নন্দিতা ও চুপচাপ । মাশফিক আচমকাই অয়নন্দিতার ঘাড়ের কাছে মুখ বাড়িয়ে দেয় । অয়নন্দিতা আয়নায় দেখছে নিজেকে আর মাশফিক কে । হলুদ পাঞ্জাবি তে তার বর কে দারুন লাগছিলো তখন । মাশফিক অয়নন্দিতার একদম কাছে তারপরও সরতে পারছে না অয়নন্দিতা । আস্তে করে নিজের ঠোঁট ডোবালো অয়নন্দিতার ঘাড়ে । এই প্রথম অয়নন্দিতা তার বরের স্পর্শ পেলো , পুরো ফ্রিজড হয়ে গেছে সে । ঘাড়ে কিস করে সামনে নিজের দিকে ঘোরায় অয়নন্দিতা কে । অয়নন্দিতা ফ্যাল ফ্যাল নয়নে তাকিয়ে আছে মাশফিক এর দিকে মনে হচ্ছে এখনি কেদে দেবে । তারপর ওর দুইগালে ধরে ঠোঁটের দিকে এগিয়ে যায় মাশফিক । আর অয়নন্দিতা চোখ মুখ খিটে দাঁড়িয়ে থাকে । এক ইঞ্চি ফাকা দুইজনের ঠোঁট এক হতে । হঠাৎ করেই দরজায় কড়া পরে , 
।।
_ভাবি যাবা না , মাহিকে নিয়ে যেতে হবে (ননদ)
।।
কারো কথায় ঘোর কাটে দুইজনের । মাশফিক এর কাছ থেকে একটু পিছিয়ে যায় অয়নন্দিতা । 
।।
_আমায় যেতে হবে (অয়নন্দিতা) 
_হুম , শুনো (মাশফিক) 
_জ্বি (অয়নন্দিতা) 
_তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে (মাশফিক) 
।।
মৃদু হাসি দিয়ে বেরিয়ে যায় অয়নন্দিতা । 
।।
মাহিকে নিয়ে যাওয়া হয় ছাদে । সব মহিলা রা মিলে মাহিকে হলুদ পরাচ্ছে , আর তারপর মাহির মা মাহির মাথায় তেল দিয়ে দেয় । অয়নন্দিতা কে একা পেয়ে সবাই মিলে হলুদ দিয়ে দিয়েছে । 
।।
_ধুর কি করলা , হলুদ দিয়ে দিলা (অয়নন্দিতা) 
_সুন্দর মানুষ কে সুন্দর করে দিলাম , হলুদ দিলে আরো সুন্দর লাগে (ননদ)
_কচু লাগে , এখন তো হলুদ দেখাবে , মা আমি সাওয়ার নিতে যাই , আপনারা মাহিকে গোসল করিয়ে দিয়েন (অয়নন্দিতা) 
।।
অয়নন্দিতা হলুদ মুছতে মুছতে রুমে আসে । দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতে যাবে ওমনি কে যেনো হ্যাচকা টান দিয়ে অয়নন্দিতা কে নিজের বুকে টেনে নেয় । তাল সামলাতে না পেরে ধুম করে তার বুকে পরে যায় অয়নন্দিতা । মুখ উঠিয়ে দেখে মাশফিক । মাশফিক কে দেখে বুকের ভেতরে কেমন যেনো হচ্ছে অয়নন্দিতার । ধুকপুকানি টা বেড়ে গেছে দ্বিগুন । কিন্তু কথা আসছে না মুখ দিয়ে । মাশফিক এক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে অয়নন্দিতার দিকে ।অয়নন্দিতার কিছু চুল সামনে এসে গেছিলো , চুল গুলো কানের পিছনে গুজে দেয় মাশফিক । 
।।
_ছাড়ুন আমি সাওয়ারে যাবো (অয়নন্দিতা)
_যেও (মাশফিক) 
_আমার শরীর চুলকাচ্ছে (অয়নন্দিতা)
_কেনো (মাশফিক) 
_ওয়া হলুদ মাখিয়ে দিছে , এখন চুলকায় , ছাড়ুন তো (অয়নন্দিতা)
_তোমাকে এখন কেমন লাগে , জানো (মাশফিক) 
_কেমন (অয়নন্দিতা)
_পুরো হলুদ পরীর মতো (মাশফিক) 
।।

অয়নন্দিতা অবাক চোখে তাকিয়ে আছে মাশফিক এর দিকে । এ কোন মাশফিক কে দেখছে সে । এতো কাছে আসছে কেনো । মাশফিক তো ইমতি কে ভালোবাসে , তাহলে ? কথায় আছে পুরুষ মানুষ সৌন্দর্যের পূজারী । সৌন্দর্য দেখলে নিজেকেও ঠিক রাখতে পারে না । মাশফিক এর এই কাছে আসা টা কি ভালোবাসা নাকি নেহাৎই সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কাছে আসা মাত্র । অনেক ভাবাচ্ছে অয়নন্দিতাকে । নিজ থেকেই সরে গেলো অয়নন্দিতা । 
।।
_আমি সাওয়ারে যাবো (অয়নন্দিতা)
।।
এই বলে অয়নন্দিতা তারাতারি ওয়াসরুমে চলে যায় । আর মাশফিক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসে ওর কান্ড দেখে ।
।।
গোসল সেরে বেরিয়ে আসে অয়নন্দিতা । রুম ফাকা মাশফিক নেই । তাই ফ্রী ভাবে নিজেকে রেডি করছে সে । হঠাৎ কিছু মনে পরে যায় , চট করেই কল দিয়ে বসে বাসায় । 
।।
_হ্যালো (মা)
_ আসসালামু আলাইকুম , মা কেমন আছো (অয়নন্দিতা)
_ ওয়ালাইকুম আসসালাম , এইতো মা ভালো আছি , তুই কেমন আছিস৷, জামাই কেমন আছে (মা)
_আমিও ভালো আর তোমার জামাইও ভালো , মা শুনো (অয়নন্দিতা)
_হ্যাঁ বল (মা)
_মা তুমি একটু রুমে যাও তো , এইখানে অনেক চিল্লাপাল্লা , রুমে যাও কথা আছে (অয়নন্দিতা)
_হ্যাঁ মা বল , কি হইছে (মা)
_মা কিছু কথা বলবো তোমাকে (অয়নন্দিতা)
_হ্যাঁ মা বল , কি হইছে৷, কিছু হইছে নাকি ? (মা)
_আরে না , কি হবে কিছুই হয় নাই , আমি কিছু কথা বলবো তোমাকে , (অয়নন্দিতা)
_ওহ , আচ্ছা বল , কি বলবি (মা)
_মা , আমি জানি আমার মা বেষ্ট মা । তবুও বলি , মা তুমি যেমন তোমার মেয়েকে এক জনের ঘরে দিয়েছো তেমনি অন্য কেউও তোমার ঘরে তার মেয়েকে পাঠাচ্ছে । মা আমি যেমন তোমার মেয়ে সেও তোমার মেয়ে । কখনো বউ আর মেয়ের মাঝে ফারাক খুজতে যেও না । তোমার মেয়ে যেমন সুখে আছে তেমনি পরের মেয়েও সুখে থাকার অধিকার রাখে তোমার ছেলের ঘরে । তুমি মা , তুমি ঘরে থাকবে , মাহিকে সব সময় আগলে রাখবে । তোমাদের চোখের মনিকে যেমন এইখানে আদরের মাঝে রাখা হয় তেমনি তাদের চোখের মনিকেও তোমাদের আদরের মাঝে রাখতে হবে । মা যেমন মা হয় , আমি মনে করি শ্বাশুড়ি ও মা হতে পারে যেমন আমার শ্বাশুড়ি । হয়তো মাহির বাবার বাসার থেকে আমাদের বাসায় বিলাসিতা কম কিন্তু মাহি সব মেনে গুছিয়ে সংসার করতে পারবে এইটা আমার বিশ্বাস । শুধু তোমাকে ওর পাশে থাকতে হবে । কথা দাও মা ওকে বউয়ের মতো না মেয়ের মতো ভালোবাসা দেবে । ও এদের চোখের মনি । তুমি মাথায় করে রাখবে তাকে কথা দাও (অয়নন্দিতা)
।।
মেয়ের কথায় চোখের পানি ধরে রাখতে পারে নি অয়নন্দিতার মা । মেয়ে যে তার কবে এতো বড় হয়ে গেলো বুঝতেই পারে নি সে । চোখের পানি মুছে নেয় 
।।
_কথা দিলাম এক মেয়েকে বিদায় দিয়ে আরেক মেয়ে আনতেছি , এইটা কে নিজের কলিজার ভেতরে রেখে দেবো (মা)
_এইতো , এই না হলে অয়ন অয়নির মা , আমার মা বেষ্ট মা (অয়নন্দিতা)
_তুই ভালো আছিস তো মা (মা)
_আলহামদুলিল্লাহ আমি খুব ভালো আছি মা খুব ভালো আছি (অয়নন্দিতা)
_আমার লক্ষী মেয়েটা কবে যে বড় হয়ে গেছে বুঝতেও পারলাম না (মা)
_যেইদিন বিয়ে দিয়েছিলে সেইদিন থেকে (অয়নন্দিতা)
_হুম , (মা)
_আচ্ছা মা রাখি , দুপুরের খাবারের দিক টা দেখতে হবে , বুয়া বাবুর্চি কি রান্না করছে দেখতে হবে , রাখি মা (অয়নন্দিতা)
_আচ্ছা মা রাখ ভালো থাক (মা)
_বাই (অয়নন্দিতা)
।।
ফোন কেটে হাফ ছেড়ে বাচলো অয়নন্দিতা । নিজের মাকে ও বুঝিয়ে দিয়েছে ওইদিকে মাহিকেও এখন বাকি অয়ন । নিজের ভাইকেও কিছু বলে দেবে । মাহির ভবিষ্যত পুরো পুরি সিকিউরড করে দিতে চাচ্ছে অয়নন্দিতা । যাতে মাশফিক আর তার সেপারেশনের পর ওর লাইফে প্রবলেম না হয় । অয়নন্দিতার কথা গুলো আজ দুইজন মানুষ শ্রবণ করলো । এক হচ্ছে মাশফিক আর দুই হচ্ছে মাশফিক এর মা । মাশফিক আগেই রুমে চলে এসেছিলো আর পরে মাশফিক এর মা এসেছিলো তার ছেলের বউকে স্বর্নলংকার দিতে আর এসেই দুইজনেই একত্রে অয়নন্দিতার কথা গুলো শুনে নেয় । অয়নন্দিতা বারান্দায় কথা বলেছিলো । কথা শেষ করে সেইখানেই দাঁড়িয়ে ছিলো । আর মাশফিক এর মা দুই চোখে পানি নিয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে আছে । তখম ছেলে কে শুধু একটাই কথা বলে “বাবারে আমরা ভুল করি নি একে ঘরে এনে ” , “আমরা ভুল করি নি একে তোর জীবনে এনে” । এই কথা বলে মা চলে যান রুম থেকে । আর মাশফিক সেইখানে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে । 
মাশফিক এর মাথায় তেই আসে না অয়নন্দিতা কি জিনিস । এর মাঝে কি আছে । এ কি আসলেই রক্তে মাংসে গড়া মানুষ নাকি কোন এক ফেরেশতা । নাকি অন্যকিছু , এর মাঝে নেই কোন কষ্ট নেই কোন অনুভূতি । অন্যের জন্যে এতো ভাবে আর নিজের কাছে কিছুই নেই । অন্যের জন্যে যার সব সময় চিন্তা আর নিজের জন্যে থালা শূন্য । এমনো বুঝি মানুষ হয় ? 
এইসব ভেবেই যাচ্ছে মাশফিক । আর ওইদিকে অয়নন্দিতা ভেবে যাচ্ছে 
।।
_আল্লাহ কাল কের দিন টা যেনো ভালোয় ভালোয় পার হয় । ভাইয়া আর মাহির শুভ বিবাহ টা যেনো ভালোয় ভালোয় মিটে যায় (অয়নন্দিতা)
।।
দূর থেকে মাশফিক অয়নন্দিতার কথা শুনে নেয় । 
।।
_আমিন (মাশফিক) 
_তোমার সব মনের আশা পূরণ হবে । সব আমি পূরণ করবো অয়নন্দিতা । শুধু একটা বার সব সেটেল করি তারপর (মাশফিক) 

আজ মাহি-অয়ন এর বিয়ে । সব কিছু রেডি । কমিউনিটি সেন্টারে সবাই চলে গেছে । রাত ৮ টায় অনুষ্ঠান শুরু হবে , দুপুরেই মাহিকে নিয়ে অয়নন্দিতা পার্লারে চলে যায় । আজকে সব থেকে সুন্দর দেখাতে হবে মাহিকে । কারন আজ মাহি কারো ঘরের বউ হতে যাচ্ছে । অয়নন্দিতার ইচ্ছা পূরন হতে যাচ্ছে আজ । 
।।
সন্ধ্যা ৬ টা ৪০ নাগাদ অয়নন্দিতা মাহিকে নিয়ে সেন্টারে চলে যায় । মাশা-আল্লাহ আজ বিয়ে বাড়িতে সবার নজর দুইজনের দিকে । নববধূ মাহি আর অয়নন্দিতার দিকে । তবে সবাই মাহির থেকে অয়নন্দিতাকে বেশি দেখছে । কোন মেয়ে কে এতো সুন্দর লাগে বুঝা সত্যি বড় দায় । 
।।
কমলা কালারের মিহি-নেট এর শাড়ী , ফুল-হাতা ব্লাউজ , সাথে স্বর্নের জুয়েলারি পড়া । দুই হাত ভর্তি চুড়ি নাকে , সিম্পল নথ , আর চুল টা বেধেওছে সেই ভাবে সবাই তো চুলের দিকে তাকিয়ে থাকতে ব্যস্ত নিচে দিয়ে ছেড়ে মাথার ঠিক উল্টো সাইডে গাজরার মালা দেয়া । সব মিলিয়ে একদম পরী । অন্য দিকে মাহি । বউ তো , বউয়ের মতই লাগছে থাকে । অয়নন্দিতাকে দেখে মাশফিক হা হয়ে থাকে । মাশফিক কাজ করবে কি সে তো অয়নন্দিতাকে দেখতেই ব্যস্ত । শুধু মাশফিক কেনো , বিয়ে বাড়ির সব ছেলেদের নজর কাড়ছে অয়নন্দিতা আজ । 
।।
৭ টা বেজে ২০ মিনিট বরের গাড়িও চলে আসছে । হৈ হাল্লা পরে গেছে চারপাশে । মাহিকে VIP জোনে রাখা হয়েছে । মনের মাঝে অজানা ভয় কাজ করছে তার । এক অন্যরকম অনুভূতি । এ যেনো বাধিয়ে রাখার মতো । সব কিছু মিলিয়ে এই সময় টা তার খুব ভয়ের মাঝে কাটছে । অপরদিকে বর কে গাড়ি থেকে নামানো হবে । মাহির বাবা গিয়ে স্বর্নের চেইন দিয়ে জামাইকে জামায় গাড়ি থেকে । 
।।
নিজের ভাইকে দেখে চোখের পানি আটকাতে পারে নি অয়নন্দিতা । মাশা-আল্লাহ রাজপুত্রের থেকে কম লাগছে না তার ভাইকে আজ । ছল ছল চোখে ভাইয়ের সামনে দাড়ায় সে । একটু মিষ্টি খাবিয়ে জড়িয়ে ধরে ভাইকে আর ভাইও পরম আদরে ছোট বোন টাকে জড়িয়ে ধরে । বিয়ে বাড়িতে ছেলেরা অয়নন্দিতার দিকে তো মেয়েরা মাশফিক আর অয়নের দিকে । মাশফিক কেও অনেক সুন্দর লাগছে , ব্ল্যাক কালারের পাঞ্জাবি সাথে রেড স্টোনের কাজ করা বুকের সাইডে । সব মিলিয়ে অনেক সুন্দর । 
।।
কাজী ও হাজির এখন বিয়ে পরাবে , তার আগে মাহিকে কিছু দিবে অয়নের মা । তাই সব মহিলারা মিলে VIP জোনে গেলো । সবাই তো বউ দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ । অয়নের মা গহনার বক্স টা মাহির মায়ের হাতে তুলে দেয় আর বলে মেয়েকে পরানোর জন্যে । কিন্তু মাহির মা সেই বক্স টা তুলে দেয় অয়নন্দিতার হাতে । অয়নন্দিতা তো ননদ ও লাগে মাহির , তাই অয়নন্দিতাই পরাবে সেই হিসেবেই দেয় বক্স টা । ৫ ভরির নেকলেস টা মাহির গলায় অয়নন্দিতা পরিয়ে দেয় । সাথে আরেক জোড়া বালাও । 
।।
ওইদিকে বিয়ের আচার বিধি শুরু হয়ে যায় । অয়ন কে বিয়ে পড়ানোর পর কাজী মাহির কাছে আসে । 
“” ঢাকার মোহাম্মদপুর নিবাসি জনাব শফিক সাহেবের একমাত্র পুত্রের সহিত ঢাকার সনামধন্য ব্যবসায়ী জনাব আলফাজ চৌধুরীর একমাত্র কন্যা মাহিয়া চৌধুরী মাহির ১৫ লক্ষ ১ টাকা ধার্য করিয়া পুরো টাকা উসিল করিয়া শুভ বিবাহ ধার্য করা হইলো , রাজি থাকলে বলেন আলহামদুলিল্লাহ কবুল “” 
বলেন মা আলহামদুলিল্লাহ কবুল । অনেক্ষন পর কাজীর পিরাপিরিতে মাহি কবুল বলে । কাজী সাহেব বিরক্ত হয়ে বলেন জীবনে এই একটা মাত্র বিয়ে দেখলাম কনে পাক্কা আধা-ঘন্টা সময় নিলো , আর জামাই বাবা জীবন ১ মিনিটের মাথা তেই আলহামদুলিল্লাহ বইলা আজির । এতেই বোঝা যায় জামাই বাবা জীবন দেরি করতে চায় নাই 
।।
কাজীর কথায় সবাই জোড়ে জোড়ে হেসে উঠে । বিয়ের পড়ে এজেন দলিলে সাইন করানো হয় । আর অয়নন্দিতা হাফ ছেড়ে শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে । অবশেষে সে চার হাত এক করতে সক্ষম হয় । শুভ পরিনয় ঘটে অয়ন-মাহির জীবনে । একটা চাপ কমে তার মাথা থেকে । অতিথিদের আপ্যায়ণে কোন ত্রুটি আছে কিনা দেখছে অয়নন্দিতা । হঠাৎ পেছন থেকে একজন বলে ওঠে , 
।।
_এক্সকিউজ মি ম্যাম 
_জ্বি , আমায় কিছু বলবেন (অয়নন্দিতা)
_হ্যালো আই এম আকাশ (আকাশ)
_হাই (অয়নন্দিতা)
_এই টা কি আপনার বাড়ির কারো বিয়ে (আকাশ)
_কেনো ? (অয়নন্দিতা)
_নাহ মানে আমি তো চৌধুরী আংকেল কে ছাড়া কাউকে চিনি না , আমি ওনার বিজনেস পার্টনার আসাদুজ্জামান এর ছেলে । বাবা আসতে পারেন নি তাই আমায় পাঠালেন (আকাশ)
_ওহ আচ্ছা আচ্ছা আসাদ আংকেল এর ছেলে আপনি (অয়নন্দিতা)
_জ্বি (আকাশ)
_আচ্ছা তা দাঁড়িয়ে কেনো বসুন (অয়নন্দিতা)
_আংকেল এর সাথে দেখা করলে ভালো হতো (আকাশ)
_আচ্ছা বাবা তো ওইদিকে আপনি আসুন আমার সাথে (অয়নন্দিতা)
_জ্বি ধন্যবাদ (আকাশ)
।।
দূর থেকে মাশফিক সব টা লক্ষ করলো। তার মোটেও ভালো লাগে নি এইসব । ছেলেটা কে সুবিধার মনে হচ্ছে না তার । তবুও চুপচাপ আছে সে । 
।।
_বাবা , বাবা , (অয়নন্দিতা)
_হ্যাঁ রে মা বল (আফজাল সাহেব)
_আসাদ আংকেল এর ছেলে এসছেন (অয়নন্দিতা)
_আরে আকাশ , কেমন আছো বাবা , (আফজাল সাহেব)
_জ্বি ভালো আছি , আংকেল বাবা আসতে পারেন নি তাই আন্তরিক ভাবে দুঃখিত (আকাশ)
_কথা হয়েছে আমার সাথে , তুমি আসছো তো , এই অনেক (আফজাল সাহেব)
_ আচ্ছা কথা বলুন আপনারা আমি আসছি (অয়নন্দিতা)
_অয়নন্দিতা মা শুন , (আফজাল সাহেব)
_জ্বি বাবা (অয়নন্দিতা)
_আকাশ কে খেতে বসা , অনেক খাতির যত্ন কর তার (অয়নন্দিতা)
_আচ্ছা বাবা (অয়নন্দিতা)
_যাও বাবা ওর সাথে যাও (আফজাল সাহেব)
_জ্বি আংকেল (আকাশ)
।।
_নাম টা অনেক সুন্দর (আকাশ)
_জ্বি ? (অয়নন্দিতা)
_অয়নন্দিতা , একদম আনকমন (আকাশ)
_ওহ আচ্ছা , তাই ? (অয়নন্দিতা)
_হুম তাই (আকাশ)
_ধন্যবাদ (অয়নন্দিতা)
_নাম টার সাথে কিন্তু আপনি দেখতেও অনেক সুন্দর (আকাশ)
_হা হা ধন্যবাদ (অয়নন্দিতা)
_হাসছেন কেনো (আকাশ)
_এমনি , বসুন , প্লিজ , ওয়েটার এইখানে খানা দেন (অয়নন্দিতা)
_ধন্যবাদ (আকাশ)
_এতো ধন্যবাদ কোথায় পান (অয়নন্দিতা)
_same question you (আকাশ)
_nothing , বসুন প্লিজ , আমি একট আসছি (অয়নন্দিতা)
।।
ওইদিকে সবাই ফটোশুটে ব্যস্ত । জামাই-বউ বিভিন্ন পোজে ছবি তুলছেন । ক্যামেরা-ম্যান + ফটোগ্রাফার জ্বালিয়ে খাচ্ছে এদের । একবার এই পোজ তো আরেকবার সেই পোজ । মাহি বিরক্ত হলেও অয়ন বেশ এনজয় করছে ব্যাপার টা । অয়নন্দিতা আসায় তারও নিস্তার নেই তাকেও ছবি তুলতে হচ্ছে এদের সাথে । পরে মাশফিক আর অয়নন্দিতা ছবি তুলে সবাইকে দেখানোর জন্যে তারা কতো সুখে আছে । আসলে যে সুখ টা কোথায় আছে ? কে বলতে পারবে । তার কিছুক্ষন পরেই সবাই আয়না নিয়ে বসে যায় । এখন আয়না দেখানোর পালা । 
।।
সবাই এক সাথে বলে উঠে , অয়ন ভাইয়া আয়নায় কাকে দেখতে পাও ? অয়নের উত্তর “”আমার মনের রানীকে”” । সবাই একসাথে চিৎকার দিয়ে উঠে । সবাই আবার এক সাথে বলে উঠে , মাহি আয়নায় কাকে দেখতে পাও ? মাহির উত্তর “”আমার মনের রাজাকে”” । এইবারো সবাই একসাথে চিৎকার দিয়ে উঠে । অনেক মজা মাস্তির মধ্য দিয়ে বিয়ে টা সম্পন্ন হয় । অয়নন্দিতার এই আশা টা পূর্ণ হয় । 
।।
রাত ১১ টা বেজে ৪৫ মিনিট , বিদায়ের পালা ।
।।
চৌধুরী দম্পতী অশ্রুসিক্ত চোখে একমাত্র মেয়ে কে বিদায় দিলেন । আসলেই খুব কষ্টের হয় নিজের নাড়ীছেড়া ধন টাকে এতো বড় করে অন্যের হাতে তুলে দিতে । মাশফিক ও অনেক সহ্য করে আছে । নিজের বোন টাকে পরের হাতে তুলে দিতে । তবুও সমাজের নিয়ম মেনে নিতেই হবে । 
।। 
মাহিকে নিয়ে সবাই রওনা করে মোহাম্মদপুর এর দিকে । অয়নন্দিতা ও আসছে সাথে । মাহির সব ঠিক করে দিয়ে আবার চলে আসবে সে । সাথে মাশফিক ও আসছে । অয়ন ফ্ল্যাট কেনার পরে এই প্রথম মাশফিক এসছে এই বাসায় । 
।।
মাহিকে বাসায় বরন করে নেয়া হয় । সব ফর্মালিটি করে মাহিকে ভেতরে নিয়ে যায় অয়নন্দিতা । অয়নের রুমে না নিয়ে অন্য রুমে বসানো হয় তাকে । কারণ তখন অয়নের রুম ফুলে ফুলে সজ্জিত ছিলো । 
।।
_ফ্রেশ হবা এখন (অয়নন্দিতা) 
_নাহ ঠিক আছি (মাহি)
_আচ্ছা , অনেকেই আসবে দেখতে , সালাম দিও , (অয়নন্দিতা)
_পা ধরে ? (মাহি)
_দরকার নাই মুখে দিলেই হবে তবে যাদের দেখবে একদম বেশি মুরুব্বী তাদের পা ধরে দিও তা না হলে বদনাম করতে পিছুপা হবে না (অয়নন্দিতা) 
_আচ্ছা (মাহি)
_একটু বসো এখানে , আমি আসতেছি (অয়নন্দিতা) 
_আচ্ছা (মাহি)
।।
_ভাইয়া আছিস (অয়নন্দিতা)
_হ্যাঁ , আয় (অয়ন)
_একটু পরেই চলে যাবো , তাই দেখা করতে এলাম (অয়নন্দিতা)
_থেকে যা (অয়ন)
_নাহ আজ না আরেকদিন আসবো , আচ্ছা কিছু কথা ছিলো (অয়নন্দিতা)
_হ্যাঁ বল (অয়ন)
_অনেক বিশ্বাস করে মাহিকে তোর হাতে দিলাম ভাই , দেখে রাখিস (অয়নন্দিতা) 
_তোর বিশ্বাসের মান রাখবো (অয়ন)
_তাহলে আজ আসি , ভাইয়া (অয়নন্দিতা) 
_আচ্ছা (অয়ন)
।।
মাহিকে সব বুঝিয়ে দিয়ে , ভাইকেও বুঝিয়ে দিয়ে নিজের বাবা মায়ের হাতে নিজের ননদ কে তুলে দিয়ে অয়নন্দিতা আর মাশফিক চলে আসে । বাসায় এসে দেখে শ্বাশুড়ি কাদছে , বুঝতে পেরেছে মেয়েকে বিদায় দিয়ে মাও ভালো নাই । প্রত্যেক মায়ের ঠিক এই কষ্ট টাই হয় । 
।।
মাহিকে বাসরে বসানো হয় । এক অজানা ভয়ে তার বুক ও দুরু দুরু কাপছে । কি জানি হয় । সব ভয়ের মাঝে আরেক ভয়ের সৃষ্টি , হ্যাঁ অয়ন এসেছে রুমে । অয়নকে দেখে মাহির ভয় আরো বেড়ে যায় । তারপরও বিছানা থেকে নেমে এসে সালাম দেয় । অয়ন সালাম নেয় । 
।।
_বসো (অয়ন)
_…………………
_খারাপ লাগছে ? (অয়ন)
_নাহ (মাহি)
_ফ্রেশ হইলা কখন (অয়ন)
_ভাবি যখন ছিলো তখন (মাহি)
_ ওহ , আচ্ছা এইটা নাও (অয়ন)
_কি এটা (মাহি)
_চেক (অয়ন)
_কিসের (মাহি)
_কাবিনের টাকার চেক (অয়ন)
_তা আমায় দিচ্চো যে (মাহি)
_মাহি আমি কাবিনের একটা টাকাও বাকি রেখে তোমার গায়ে হাত দিতে পারবো না , তাই বলছি রাখো নিজের কাছে (অয়ন)
_ব্যাংকার মানুষ , হিসাব ভালোই বুঝো (মাহি)
_হা হা হা তা বলতে পারো (অয়ন)
_আবার হাসে (মাহি)
_তো কি করবো (অয়ন)
_অয়িন সব কিছু কেমন যেনো স্বপ্নের মতো লাগে তাই না (মাহি)
_হুম , আসলেই (অয়ন)
_সব ভাবির জন্যে (মাহি)
_হুম (অয়ন)
_আচ্ছা আমরা কি করবো এখন (মাহি)
_কি করবা , দাড়াও ভাবি (অয়ন)
_হুম ভাবো (মাহি)
_ভাবা শেষ (অয়ন)
_তাই , এক পলকেই ভাবা শেষ , তা কি ভাবলা (মাহি)
_বলবো ? (অয়ন)
_হুম (মাহি)
_ওইদিকে দেখো (অয়ন)
_কি ওইদিকে , কিছুই তো নাই 
আউউউউউউচচচচচ অয়ন (মাহি)
_হুসসসসসসসসসসসস (অয়ন)
।।
।।
অতঃপর লাইট অফ । দুইজন ভালোবাসার মানুষ ডুব দেয় ভালোবাসার অথৈ সাগরে । 
।।
আর কি আছে অয়নন্দিতার কপালে । নাকি শুধু সব মেনে নিয়ে নিয়ে তার জীবন টা কেটে যাবে । মাশফিক কি কখনো মেনে নিবে না তাকে । সুখ কি কখনোই আসবে না তার কাছে । 
।।
দেখাই যাক না কি হয় । কোথাকার পানি কোথায় যায় ।

আস্তে আস্তে সব আত্নীয়-স্বজন রা চলে গেছে । পুরো বাড়ি ফাকা হয়ে গেছে । এখন তো বাড়ি এমনিই ফাকা থাকবে কারন মাহি তো নেই । আর আরো ফাকা হবে যখন মাশফিক আর অয়নন্দিতাও চলে যাবে তখন । অয়নন্দিতা ডিসিশন নিয়ে নিয়েছে সে এই বাড়িতেই থাকবে ওইখানের সব জিনিস পত্র এইখানে নিয়ে আসবে সে তার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ককে একা থাকতে দিতে পারে না 
।।
অপর দিকে অয়নের বাসায় 
।।
সকাল বেলা মাহি আর তার শ্বাশুড়ি মানে অয়নের মা এক সাথে কিচেনে নাস্তা বানায় । মাহিকে কোন কিছু তেই হাত লাগাতে দেয় না উনি । খুব ভালোবাসা জন্মে গেছে মেয়েটার প্রতি । এতো ভালো মেয়ে সত্যি কয়জনের ভাগ্যে জোটে 
।।
_মা এইটা আমি করি দেন (মাহি)
_লাগবে না মা তুমি দেখো (মা)
_মা আমি কানা মৌফিজ কিছুই দেখি না (মাহি)
_কিহহহহ হা হা হা এইটা আবার কি (মা)
_হি হি ভার্সিটিতে ফ্রেন্ডস দের বলি আর কি , এখন আমাকেও দেন আমিও করি আর ভয় নাই মা আমি এইসব পারি (মাহি)
_আচ্ছা নাও , করো (মা)
_ধইন্যাপাতা (মাহি)
_হা হা হা , সেইটা কি আবার (মা)
_মানে ধন্যবাদ আর কি (মাহি)
_কলেজের সব এইদিকে ছাড়ো নাকি (মা)
_হ্যা , হি হি (মাহি)
_আচ্ছা মাহি (মা)
_জ্বি মা বলেন (মাহি)
_এই বাসায় তোমার কোন অসুবিধা হচ্ছে না তো (মা)
_এতো সুন্দর আর নিরিবিলি বাসা কি শান্ত পরিবেশ আমার খুব ভালো লাগে মা , আর আপনি ও তো থাকেন আপনার কি অসুবিধা হয় নাকি , তাহলে আমার কেনো হতে যাবে মা (মাহি)
_হয়তো অনেক কিছু এডযাষ্ট করতে তোমার কষ্ট হবে (মা)
_কোন কষ্টই হবে না মা , (মাহি)
_আচ্ছা তোমরা ইয়েতে যাবা না (মা)
_কোথায় মা (মাহি)
_ওইযে হানিমুনে , হানিমুনে যাবা না (মা)
_হা হা হা , আপনি কি বলেন যাবো ? (মাহি)
_হ্যাঁ অবশ্যই , ছেলেদের আচলে বেধে রাখতে হয় দেখো না তোমার শ্বশুর কে আমি কিভাবে টাইটে রাখি তুমিও রাখবা অয়নকে তাহলে আর এদিক সেদিক করবে না (মা)
_মা এদিক সেদিক মানে (মাহি)
_মানে পরনারী আসক্ত আর হবে না (মা)
_ হা হা হা মা কি বলেন এইসব (মাহি)
_হ্যাঁ সত্যি কথা , আচ্ছা এখন বলো যাবা কবে (মা)
_ইচ্ছা নাই মা , আমার এতো হানিমুনে গিয়ে আদিক্ষেতা করে পিক তুলে এফ বি তে আপলোড করার ইচ্ছা নাই (মাহি)
_হায় হায় মেয়ে বলে কি , এই মেয়ে চুলে পাক আমার ধরছে তোর না বুঝলি , ঘুরে আয় ভালো লাগবে আর হ্যাঁ আমি আর তোর শ্বশুড় কত ঘুরেছি , আর তুই কি বললি এইটা (মা)
_তা কই কই যেতেন মা (মাহি)
_শান্তিনিকেতন গেছিলাম , ধানমন্ডি লেকে গেছিলাম , রমনায় যেতাম , আহসান মঞ্জিল ও গেছি তবে আগে এইগুলা অন্য রকম ছিলো , এখন তো কত উন্নত করে ফেলছে এইগুলা (মা)
_ঢাকার মধ্যেই ঘুরতেন মা ঢাকার বাহিরে যান নি কখনো (মাহি)
_তত টাকা ছিলো না তো মা , বলতে পারো অভাবের মাঝে ছিলাম তাই এইগুলাই ঘুরার জায়গা ছিলো , বলতে পারো স্বাধ্যের মাঝে সব টুকু সুখ পাওয়া যায় আর কি , এখন তো ছেলে টাকা পয়সা রোজগার করে তাই আমি চাই না আমার বউমা আমার মতো কষ্ট পাক , যখন যা লাগবে বেশি বেশি করে কিনে রাখবি ওর এতো টাকা খাবে কে , আমরা এই আছি তো এই নেই (মা)
_এই গুলা কি বলেন মা , আমরা সবাই এক সাথে থাকবে , সারাজীবন (মাহি)
।।
মাহি রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে একটু সাইডে এসে চোখের পানি ছেড়ে দেয় । আসলেই মানুষ গুলো খুব ভালো । সাধ্যের মাঝে সব টুকু সুখ কথা টা মাহির মন কে ছুয়ে নেয় । সে বড় লোক ঘরের মেয়ে হতে পারে কিন্তু সেও জানে কিভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হয় । 
।।
এইদিকে সকালেই এই বাসায় চলে আসছে মাশফিক অয়নন্দিতা । বাসা টা অনেক টাই অগোছালো সব গুছাচ্ছে অয়নন্দিতা । হঠাৎ শরীর টা কেমন জানি করে উঠে তার , নিজেকে সামলানোর পুরো চেষ্টা করে সে কিন্তু ব্যর্থ হয় । তাল সামলাতে না পেরে ফ্লোরে মাথা ঘুরে পরে যায় মেয়েটা । সুমিও নেই যে ধরবে সুমিকে ওই বাসায় রেখে আসছে অয়নন্দিতা । এমন সময় মাশফিক ডাইনিং এ যায় আর দেখে অয়নন্দিতা নিচে ফ্লোরে পরে আছে । 
।।
_ওহ সীট অয়নন্দিতা (মাশফিক)
_অয়নন্দিতা , কি হয়েছে , অয়নন্দিতা (মাশফিক) 
_এই কথা বলো , অয়নন্দিতা , অয়নন্দিতা (মাশফিক) 
।।
কিন্তু অয়নন্দিতা কথা বলে না । তারাতারি করে অয়নন্দিতা কে কোলে তুলে রুমে নিয়ে যায় মাশফিক । মাথা কাজ করা অফ করে দেয় মাশফিক এর । তারাতারি ডক্টর কে খবর দেয় মাশফিক । ভাগ্যিস আজ মাশফিক বাসায় ছিলো । নয়তো এইভাবেই পরে থাকতে হতো অয়নন্দিতা কে । 
।।
_কি বুঝলেন ডক্টর (মাশফিক) 
_প্রেসার তো একদম লো , কি করে ? (ডক্টর) 
_বুঝতে পারলাম না (মাশফিক) 
_উনি কি খুব চিন্তিত থাকেন , ওনার কন্ডিশন তো ভালো না , অনেক চিন্তা করেন উনি আর খাওয়া দাওয়াও ঠিক মতো করে না উনি (ডক্টর) 
_…………………….
_এখন চুপচাপ না থেকে ওনাকে হাসিখুশি রাখবেন কেমন , খাওয়ক দাওয়াও ঠিক মতো করাবেন (ডক্টর) 
_জ্বি (মাশফিক) 
_আচ্ছা আজ তাহলে আসি (ডক্টর) 
_জ্বি , ধন্যবাদ (মাশফিক) 
।।
কয়েক মিনিটের মধ্যে এতো কিছু হয়ে গেলো । বুঝাই গেলো না । একদিকে খুশির বন্যা তো অন্যদিকে বিষাদের কষ্ট । একদিকে ভালোবাসা তো অন্যদিকে দ্বায়িত্ব , এই হচ্ছে মাহি-অয়ন আর অয়নন্দিতা-মাশফিক 
।।
।।
_may i come in sir (রুমেল)
_yea come (আকাশ)
_স্যার কন্ট্রিবিউশন এর টাকা টা কি আজ করে পাঠিয়ে দেবেন (রুমেল)
_কোন কন্ট্রিবিউশনটা যেনো (আকাশ)
_স্যার বইমেলা প্রজেক্ট টার , যেইখানে ৬৪ জেলার প্রতিযোগিতা হবে আর একটা বই এর শুভ উদ্ভোদন হবে (রুমেল)
_ওহ আচ্ছা আচ্ছা , হঠাৎ বৃষ্টির লেখা গল্পের বই “ভূবন বিলাসী ” (আকাশ)
_জ্বি স্যার (রুমেল)
_প্রোগ্রাম কবে যেনো (আকাশ)
_স্যার ২৫ তারিখ (রুমেল)
_ওকে ভ্যানু ঠিক হয়েছে ? (আকাশ)
_জ্বি স্যার (রুমেল)
_হঠাৎ বৃষ্টির সাথে কন্টাক্ট হয়েছে ? (আকাশ)
_স্যার উনি মে বি ডিরেক্ট ২৫ তারিখ ভ্যানু তেই সবার সাথে দেখা করবেন স্যার (রুমেল)
_ওকে , তাহলে তুমি টাকা টা পেমেন্ট করে দেও (আকাশ)
_কিন্তু স্যার , উনি নাকি অথোরিটি কে জানিয়েছেন উনি কারো কন্ট্রিবিউশন চান না , (রুমেল)
_আমি দিচ্ছি উনার প্রবলেম হবে না (আকাশ)
_ওকে স্যার (রুমেল)
।।
।।
রাত , 
।।
_অয়নন্দিতা (মাশফিক) 
_জ্বি (অয়নন্দিতা)
_উঠো কিছু খেয়ে নেও (মাশফিক) 
_হুম খাবো পরে (অয়নন্দিতা)
_পরে না এখনি খাবে তুমি উঠো (মাশফিক) 
_এখন ভালো লাগছে না পরে খাবো (অয়নন্দিতা)
_উঠো দেখি (মাশফিক) 
_উফফফফফফফফ (অয়নন্দিতা)
।।
মাশফিক নিজ হাতে তুলে খাইয়ে দেয় অয়নন্দিতাকে আর অয়নন্দিতাও বাধ্য মেয়ের মতো খেয়ে নেয় । অয়নন্দিতা খাচ্ছে আর ভাবছে , আর মাত্র কয়েকটা দিন তারপর এই মানুষ টা অন্য কারো হবে আমি হয়তো আর তার লাইফে থাকবো না । নিজের সব ছেড়ে দিতে হবে । কষ্টের মাঝেই আমায় বিচরণ করতে হবে । আর মাশফিক ভাবছে , আর মাত্র দুইটা দিন ইমতির সাথে সব মিটিয়ে তোমায় আপন করে নেবো । আমার পক্ষে তোমাকে ছাড়া সম্ভব না । দুইজন মানুষ সামনাসামনি বসা কিন্তু দুইজনের মনেই তুমুল ঝড়ের সৃষ্টি । কি জানি এর শেষ কোথায় । 
।।
_নাও শুয়ে পরো (মাশফিক) 
_হুম , দেখি সরুন (অয়নন্দিতা)
_আরে কোথায় যাচ্ছো (মাশফিক) 
_ওই রুমে (অয়নন্দিতা)
_এইখানেই ঘুমাবে তুমি , ঘুমাও (মাশফিক) 
।।
শরীরের অবস্থা সুবিধার লাগছে না তাই কথা না বাড়িয়ে শুয়ে গেছে অয়নন্দিতা । 
।।
_অয়নন্দিতা (মাশফিক) 
_হ্যাঁ (অয়নন্দিতা)
_তোমাকে একটা জিনিস দেয়ার আছে (মাশফিক) 
_কিহ (অয়নন্দিতা)
_দেখি তোমার হাত টা (মাশফিক) 
_হঠাৎ হাত কেনো (অয়নন্দিতা)
_দাও আগে তারপর দেখবা (মাশফিক)
।।
হাত নিজের কাছে নিয়ে সেইদিনের কেনা সেই রিং টা পরিয়ে দেয় অয়নন্দিতার আংগুলে । অয়নন্দিতা অবাক নয়নে মাশফিক এর দিকে তাকিয়ে থাকে । 
।।
_কেনো দিলাম তাই ভাবছো তো (মাশফিক) 
_……………………
_নিজ থেকে দিয়েছি , রিং টা দেখে মনে হলো এইটা আর অন্য কারো আংগুলে মানাবে না এই আংগুল ছাড়া (মাশফিক)
।।
এই মুহুর্তে অয়নন্দিতার খুব ইচ্ছে হচ্ছে মাশফিক কে জড়িয়ে নিতে । কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই যে তার । কারন সে কারো ভালোবাসায় ভাগ বসাতে চায় না ।
।।
।।
পরদিন টা যে এতো খারাপ হবে অয়নন্দিতার জন্যে সে নিজেও জানে না । 
।।
পরদিন সকালে ,
।।
মাশফিক অফিসে আর অয়নন্দিতা সব গুছাচ্ছে সে তার শ্বশুরবাড়িতেই যাবে । হঠাৎ কলিংবেল এর আওয়াজ পায় অয়নন্দিতা । হাতের কাজ রেখে দরজায় যায় সে । খুলেই স্বব্ধ হয়ে যায় অয়নন্দিতা । 
।।
_তুমি ? (অয়নন্দিতা) 
।।
।।


চলবে………………….

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*